ফেসবুক গ্রুপ বইপোকাতে এই লেখা আমি দিয়েছিলাম, এখানে আবার দিলাম
সুলতান জালালউদ্দিনের ছোটভাইয়ের ছেলে আলি, বিদ্যার জোর না থাকলেও বুদ্ধি ও বীরত্ব দেখিয়ে সুলতানের মন জয় করে ফেলেছেন, ইতিমধ্যে তার বড় মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে প্রকাশ করেছেন আলির প্রতি তার দুর্বলতা। কিন্তু আল্লাউদ্দিন গোপনে বিয়ে করে ফেলেন মালিক সানজারের ভগিনী মাহরুকে, সুলতাননন্দিনীর কাছে ২য় বিয়ে ধরা পড়ার পর সুকৌশলে সুলতানকে বশে আনে,পরবর্তীতে কারা প্রদেশের শাসনকর্তার দায়িত্ব পান আলী।
নারী তো জীবনের সবকিছু নয়, আলীর প্রয়োজন রাজ্য, অগাধ ধনদৌলত আর নামধাম, প্রথমে সুলতানের সম্মতিতে সুলতানতয়নাকে নিয়ে যান বিদিশা অভিযানে, নিয়ে আসেন অটেল রত্ন যা ধনলোভী সুলতানের মন যোগাতে প্রয়োজন ছিলো, পরবর্তীতে চান্দেরী অভিযানের সাথে সুলতানকে গোপন করে যাত্রা করেন দক্ষিণের দেবগিরিতে, ধনজহরতের সাথে নিয়ে আসেন দেবগিরির রাজকন্যা চিত্তলদেবীকে। আলীর সুদূরপ্রসারী চিন্তায় হাতছানি দেয় দিল্লির সিংহাসনের দিকে, কৌশলে হত্যা করেন জালালউদ্দিনকে। নাম ধারণ করেন আল্লাউদ্দিন খিলজী।
পরবর্তীতে অভিযান শুরু চালালেন গুজরাটে, রাজা করণ বাঘেলা নিজকন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যান কাপুরুষের মত, রানী কমলাদেবীর স্থান হয় হারেমে কিন্তু চিতোরগড়ে্র অসামান্য রমনী পদ্মিনীর পাবার জন্য অভিযান সফল হয় নি, পদ্মিনী আত্মহত্যা করলেন চিতোরগড়ের সকল নারীদের নিয়ে, চিতার আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো চিতোরগড়। চিতার আগুন দেখে রাজপুতরা দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে লড়াই করেন দিল্লিরাজের সেনাবাহিনীর সাথে কিন্তু বিজয় হয় আল্লাউদ্দিনের।
কিন্তু সহযোগী মালিক খোঁজা কাফুর চক্রান্তে কাবু হয় আল্লাউদ্দিন, তিল তিল করে বিষমেশানো খাবার খেয়ে দুর্বল হয়ে দুনিয়া নিয়ে বিদায় নেয় খিলজী বংশের সেরারাজ।