একটু ভিন্নধরনের বই। হ্যাঁ, গল্পের বই। ছোটদের গল্পের বই। ছেলেদের গল্পের বই। মেয়েদের গল্পের বই। ছাত্রদের গল্পের বই। নাতিদের গল্পের বই। গল্পগুলো ঠিক আমাদের সমাজ-জীবনের না, তবুও কী মিল! আমাদেরকে টানে, যেনো খুব শক্তিশালী কোনো চুম্বক!
বনের প্রাণিরা কেনো এতো ভালো? কিংবা এতো খারাপ?! কখনো এতো বজ্জাত—ঘাড়তেরা? আচ্ছা, বনের ভেতরের জীবন অমন সুন্দর কেনো? হরিণ-জিরাফ-বানর এবং তাদের বন্ধুরা এতো ভালো কেনো? চোখের আড়ালে—ওই গহীন বনে, আমাদের জন্যে—এত্তো হাতছানি! নাহ, ঘরে আমার মন টেকে না! যাবো একটু বনে? ঘুরতে? দেখতে? গাছগাছালির ছায়ায়? সবুজের ছোঁয়ায়? প্রকৃতির অপরূপ রূপময়তার পরশে? ...
প্রিয় পাঠক, বইটি পড়তে পড়তে এমন অনেক ভাবনা তোমাকে ব্যাকুল অস্থির করে তুলবে! আসলে কেমন এই বইটি? এক কথায় বলা তো মুশকিল! সামান্য লম্বা করে বলতে পারি— দাদির হাতে এ বই থাকলে—নাতিরা এসে ভিড় করবে। বলবে, ‘দাদু একটা গল্প বলো!’ বাবার হাতে এ বই থাকলে—বাচ্চারা ঘুমোতে যেতে চাইবে না। বলবে, ‘আব্বু, তুমি কিন্তু ‘না’ বলবে না! আজ গল্প হবে, হবেই! নইলে ঘুমোতে যাবো না!’ মায়ের হাতে এ বই থাকলে—‘ছোট্ট মেয়েটা’ একটু বেশিই জ্বালাতন করবে—গাল ফুলিয়ে বায়না ধরবে। বলবে, ‘ভাত খাবো না! গোসলও করবো না! আগে বলতে হবে—একটা গল্প বলবে!’ এদিকে ভাইয়ার হাতে এ বই থাকলে—পিচ্চিরা সব অস্থির করে ফেলতে পারে ‘কিচিরমিচির’ গলায়— ‘ভাইয়া, ভাইয়া, একটা গল্প বলো! বলো-না—একটা গল্প বলবে! নইলে এই ধরেছি তোমার হাত, ছাড়বো না! লটকে থাকবো! ঝুলে থাকবো!’ আমি নিশ্চিত, সবাই এই শক্ত বায়নার সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বলবে— ‘আহ্ হা! এ কি কথা! গল্প, গল্প আর গল্প! আচ্ছা এখন যাও, হবে একটা গল্প, রাতে! ঘুমোতে যাওয়ার আগে! এবার হলো?!’ বাচ্চারা সোল্লাসে ছাদ ফাটিয়ে ফেলবে আনন্দ চিৎকারে— ‘হ্যাঁ, হয়েছে! হবে না কেনো? হবে! অবশ্যই হবে! সব হবে—যদি গল্প হয়! কিছুই হবে না—যদি গল্প না হয়! সব বন্ধ! ঘুম বন্ধ! খাওয়া বন্ধ! নাওয়া বন্ধ! সব বন্ধ! হাসিও বন্ধ!’ * * * তারপর সময় হলে—বসবে সবাই গল্পের আসরে। একটা গল্প শেষ হলে—ওরা নতুন করে বায়না ধরবে! মাত্র একটা গল্প শোনার প্রতিশ্রুতির কথা—বেমালুম ভুলে যাবে! ছেলেদের বায়না বেড়ে যাবে। মেয়েদের বায়না তো মাটি থেকে আকাশেই বুঝি উঠে যাবে। তখন ‘না! না!’-এর ভেতরেও আবার গল্প বলতে হবে! তখন পরিবেশটা খুব সুন্দর হয়ে উঠবে! বসার ঘরটাই হয়ে উঠবে চাঁদনি রাতের আবহে— মায়া-মায়া .. ছায়া ছায়া! শক্ত কাঠের সোফাটাকেই মনে হবে—দাদুর গল্পের আসরের পুরোনো সেই মাদুরটা! এলইডি বাল্বটাই ঝরাতে থাকবে—পূর্ণিমার আলোকবৃষ্টি! সোনামণিদের ঘুমঘুম চোখেই নেমে আসবে—স্বপ্ন-স্বপ্ন দ্যুতি, আনন্দ-বেদনার বিচিত্র ছাপ! ........
*** প্রতিটি গল্পের শেষে আছে 'দাদুর উপদেশ' নামে গল্পটির নৈতিক শিক্ষা সম্পর্কিত আলোচনা ***
ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী। সময়ের ইসলামি ধারার অন্যতম সেরা লেখক। যিনি লিখছেন প্রায় তিন দশক ধরে। লিখেছেন ইসলামি সাহিত্যের নানা বিষয়ে। তবে তিনি প্রধানত একজন শিশু সাহিত্যিক ও সিরাত লেখক। তার লেখায় সিরাত ও শিশু সাহিত্যের সন্নিবেশ ইসলামি সাহিত্যচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সাথে সাথে তিনি গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বাক্যশৈলীও।
বাংলা সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি আরবির প্রতিও রয়েছে তার গভীর মনোযোগ ও মমত্ববোধ। তাই চেষ্টা করছেন আরবি ও বাংলা ভাষার মধ্যে একটি কল্যাণের সেতুবন্ধন তৈরি করতে।
১৯৬৮ সালে কিশোরগঞ্জে জন্ম নেয়া এই মধ্য বয়সী লেখকের মুদ্রিত বইয়ের সংখ্যা ২০টি-র বেশি। কামরাঙ্গীরচর মাদরাসায় পড়ার সময় আল আশরাফ দেয়াল পত্রিকায় প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় আজকের ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভীর। তার লেখা প্রথম বই ‘আলোর দিগন্ত হজরত ওমর রা.’ এবং প্রকাশিত প্রথম বই ‘তোমার স্মরণে হে রাসুল’ । সূত্র: ইসলাম টাইমস