আওরঙ্গজেবের আমল, যখন দাক্ষিণাত্যের আদিল শাহ, দিল্লিশ্বর আওরঙ্গজেব আর মারাঠা শিবাজী রাও এর তিন-মুখী খুনসুটি চলছে, ওইসময়টাতেই 'সদাশিব' নামের এক চরিত্রকে পেড়ে বসেছেন শরদিন্দুবাবু। তাও কি না রাজশেখর বসু তাঁকে শিবাজীকে নিয়ে গল্প লিখতে বলেছিলেন বলে। তা সদাশিব এক খাসা চরিত্র। যার বয়স কম কিন্তু সাহসের কমতি নেই, কার্যপটু কিন্তু মুখ্য-চরিত্র-সুলভ বাড়াবাড়ি রং চড়ানো নেই। পাঁচ গল্পের কাহিনীতে বেশ একটা চরিত্রোন্নয়ন বা ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টও দেখা যায়নি, পয়লা গল্পে তাকে গ্রামের গোবেচারা কিশোর থেকে শিবাজীর সিপাহী করে দেবার পর আর তেমন পরিবর্তনও নেই, গল্পের পথচলা ছাড়া।
তা গল্পগুলো বেশ উপভোগ্য। শিবাজী রাওয়ের একে একে প্রখর কৌশলে বিজয়, আর সেসবে সদাশিবের মুখ্য ভূমিকা রেখে চলা। মোঘলদের সাথে বিজাপুরের সুলতানী বাহিনীর যুদ্ধ চলছে আর তার মাঝে দেশকে 'বিদেশী'মুক্ত করতে শিবাজী একে একে দুর্গ দখল করে শাসনের পরিধি বাড়াচ্ছেন। শরদিন্দুর মুনশিয়ানায় পাঠক একেবারে ওই সময়ে ফিরতে বাধ্য।
গভীরে যাব না। হালকা পঠনের বই, পড়ে আনন্দ পাবেন, শরদিন্দুর গুটিকয় ঐতিহাসিকের মতো হয়তো দাগ কাটবে না। কিন্তু সাক���ষাৎ ইতিহাসের সাথে কারচুপি দেখলে বিরক্তির উদ্রেক হয়। শরদিন্দুবাবু শিবাজীর বাহিনীতে যতো ধনাত্নক চিত্র চিত্রিত করেছেন, বলেছেন "শিবাজী গ্রাম লুঠ করেন না, সাধারণ কৃষকের ক্ষতি করেন না, তার ক্ষোভ রাজাদের ওপর", ইতিহাস তা বলে না। খোদ বাংলায় প্রচলিত "খুকু ঘুমালো পাড়া জুড়ালো" গানের 'বর্গী' এই মারাঠারাই, পলাশীর যুদ্ধের কিছুকাল আগেও যারা গৌড় অব্দি এগিয়ে এসে লুঠপাট আর হত্যাকান্ড করে গেছেন।
আমোদপ্রদানের বিচারে পাঁচে চার ('I liked it') তারা পাবে 'সদাশিবের অভিযান'। শেষ প্যারাটুকু বিবেচনায় না এনেই।