Helal Hafiz was a Bangladeshi poet. He is considered a true representative of poets of his generation having certain creative traits in an age when his nation and countries in the neighbourhood witnessed dramatic transitions particularly in the arena of politics. He won Bangla Academy Literary Award (2013).
বেচারা হেলাল হাফিজ পড়ে গেছেন আচ্ছা গ্যাঁড়াকলে। এক বই লিখে মোটামুটি অমর হয়ে যাওয়া চাট্টিখানি কথা না। ভক্তদের চাপে পড়ে যাও লিখলেন, না লিখলেই বোধ হয় ভালো হতো। (আমার কথা না, রেটিংই বলে দিচ্ছে 😂 নেহায়েত নামটা হেলাল হাফিজ তাই বইটা খুব চলছে) আসলে সবাই তুলনা করছে প্রথমটার সাথে দ্বিতীয় বইটার। যদিও এরকম তুলনা করা ঠিক না, কিন্তু বইয়ের লেখক যখন একজন কিংবদন্তি না চাইলেও আপনা হতেই তুলনা চলে আসে। রেটিং দিব না থাক। 🐸
হেলাল হাফিজের সাথে আমার পরিচয় ঘটে "যে জলে আগুন জলে" দিয়ে। বইটা আমার এত ভালো লেগেছিলো, নিজে তো বেশ কয়েক বার পড়েছি,সাথে অনেক পরিচিত মানুষ কে এই বইয়ের সন্ধান দিয়েছি।
হাফিজ সাহেবের দ্বিতীয় কাব্য "বেদনাকে বলেছি কেঁদো না"। ছোট ছোট কবিতা। বেশি ভাগ তিন/চার লাইনের এবং অবধারিতভাবে প্রেমের কবিতা সব-ই। ছোট হওয়ার কারণে পড়তে সময় লাগে কম এবং একেকটা লাইন অনেক বার করে পড়া যায়,প্রতিটা বাক্য যেন নতুন ভাবনার জন্ম দেয়। প্রেম সুন্দর, শ্বাশত আবার প্রেম বেদনার উদ্রেকারী। কবি লিখেছেন তুমি আমার নিঃসঙ্গতার সতীন হয়েছ।
বই ভালো। তবে কবি যখন হেলাল হাফিজ, তখন আরো ভালো কিছু চাইতে বাসনা জাগে। যতদূর জানি কবি তেমন সুস্থ না ,স্রষ্টা তাঁকে ভালো রাখুন।
বিদুষী আনিকা, তুমি আমার মা, মেয়ে, বোন ও প্রেমিকা।
কিংবা,
আজন্ম মানুষ আমাকে পোড়াতে পোড়াতে কবি করে তুলেছে, মানুষের কাছে এও তো আমার এক ধরনের ঋণ। এমনই কপাল আমার অপরিশোধ্য এই ঋণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
কিংবা,
তোমার সুন্দরে পুড়ে অঙ্গার হয়েছি। ভেবো না লক্ষ্মীটি, না কেঁদে বরং তুমি কুলকুল নদী হয়ে যাও, তোমার পবিত্র জলে স্নান করে শুদ্ধ ও শীতল হবো, তারপর মিলেমিশে যুগল উল্লাসে, শ্রমে প্রণয়ের মনোরম আশ্রম বানাবো।
হেলাল হাফিজের কবিতার সঙ্গে পরিচিতি খুব অল্পকদিন ধরেই, যদিও সেই ছোটবেলা থেকেই হেলাল হাফিজের নাম শুনেছি ও শ্মশ্রূমন্ডিত তাঁর যৌবনের ছবিটি পত্রপত্রিকায় বেশকয়েকবার দেখেছি। "এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়" এই লাইনটি আমার মা প্রায়শ:ই আবৃত্তি করতেন। আশির দশকের শেষে (১৯৮৮!) বা নব্বইয়ের শুরুর দিকে শেষবার মনে হয় আম্মার মুখে এই কবিতার লাইন শুনি! বোধ করি অতি যান্ত্রিক জীবনের চাপে পড়ে, আর পঞ্চাশ বছরের অতি কেজো আর রোমান্সবিহীন জীবনের দশক শুরু হওয়াতে সমস্ত কবিতা ভাবনাও আমার মা এর জীবন থেকে সেসময় তিরোহিত হয়! যা হোক, অনেক পরে জানতে পেরেছি যে এই অমর কবিতার (যা "নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়" নামে প্রকাশিত) জনক হেলাল হাফিজ। একটি মাত্র কবিতার বই রচনা করে বাংলাদেশের কবিতাভুবনে এক উঁচু স্থান দখল করে বসে আছেন তিনি। কবির জীবনও বড় বিচিত্র। অবিবাহিত ও সত্তরউত্তীর্ণ কবি আজও বসবাস করেন একটি আবাসিক হোটেলে সম্পূর্ণ একা ! তাঁর চিন্তার জগৎ আর প্রেমের ভুবনটিও অনবদ্য! "বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা"'র কবিতায় আছে অপ্রাপ্তির বেদনা, কিন্তু নেই কোনো অভিযোগ। মাঝে মাঝে তিনি বড়ই wistful, ইংরেজিতে longing বলতে যা সেটি সাংঘাতিকভাবে তাঁর ভাবকল্পে উৎকীর্ণ। সুদীর্ঘ চৌত্রিশ বছর পরে বের হলো হেলাল হাফিজের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা" । আর এই বইটিতে হেলাল হাফিজের ভক্তদের যে আছে দারুন আগ্রহ তা দু' সপ্তাহ আগে প্রকাশিত সমকাল পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকী "কালের খেয়া" তে বেশ বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে। আমি সেদিন শাহবাগ থেকে বইটি কিনে নিয়ে এসে বেশ ভালো করে পড়লাম। আঃ! কি অসাধারণ চিন্তাভাবনা, কি সুন্দর ভাবকল্প, আর আবেগের বহিঃপ্রকাশ! কোনো কোনো কবিতায় কবি যেন বিদ্রোহ প্রকাশ করেছেন, আবার সুক্ষভাবে ব্যঙ্গও যেন করেছেন তাঁর নিষ্ফল কামনা বাসনা আর তাদের অপূর্ন থেকে যাবার বিড়ম্বনাকে। "ভালোবাসার খালা" কবিতাটি তেমনি এক সৃস্টি! এটি আপাতঃদৃষ্টিতে irreverent মনে হলেও আসলে বেশ মৌলিক একটি কবিতা! বইটিতে যে অঙ্গসজ্জা বা artwork করেছেন ধ্রুব এষ তা প্রতিটি কবিতাকেই দিয়েছে স্বতন্ত্র এক বহিঃপ্রকাশ যা ভাষাবিহীন মাত্রায় (visually) উপভোগ করা যেতে পারে। বইয়ের artwork বেশ ভালো কাজ, এবং ধ্রুব এষ সফলI আমি বইটি পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করেছিI আর তাই এটি সকল কবিতাপ্রেমিকে পাঠ করবার জন্য অনুরোধ করবো।
হেলাল হাফিজকে আমি চিনলাম উনার মৃত্যু সংবাদ জানার পর। এ বড়ই দুঃখের কথা! হেলাল হাফিজের এই বইটাই আমি প্রথম পড়লাম। ছোট বই, ছোট কবিতা, ছোট লাইন৷ কিন্তু তবু মন ছুঁয়ে গেছে।
আমার কাজিন ও বন্ধু আদিব যদি এ বইটির কয়েক পাতা উল্টাতো আমি হলফ করে বলতে পারি, বলতো "ক্যাপশন কবিতা" এবং তার এ কথার বিপরীতে কোনো শক্তপোক্ত যুক্তিও অবশ্য নেই। কলেজ ভার্সিটি পড়ুয়া যুবক যুবতীরা তাদের প্রোফাইল পিকচারের ক্যাপশনে এ বই থেকে দুই এক লাইন তুলে দিতে বেশ আরামই বোধ করবে। রাজশাহীর বিদ্যাসাগর লাইব্রেরীতে বসে মিনিট বিশেকের মধ্যেই পড়ে শেষ করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেম ভালোবাসায় অবিশ্বাসী একজন মানুষ। তাই সঙ্গত কারণেই এই রোমান্টিক বইয়ের বেশ কিছু রোমান্টিক লাইন আমার কাছে হাস্যকর লেগেছে। তবে খুব যে খারাপ লেগেছে তা বলবো না। আবার বেশ কিছু লাইন গভীর চিন্তার উদ্বেগ ঘটায়। কবির 'যে জলে আগুন জলে' বইটার অনেক নাম ডাক শুনেছি তবে পড়া হয়নি। তাই তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'বেদনাকে বলেছি কেঁদো না ' বইটা সম্পর্কে সঠিক মূল্যায়ন করতে পারছি না। অনেকে বলছে এই বইটি প্রকাশ করাই উচিত হয়নি।
কিছু লাইন ( কবিতা একচুয়ালি ) :
" তোমার বুকের ওড়না আমার প্রেমের জায়নামাজ। "
"রোদ্দুরে ভেজাবো তোকে শুকাবো বৃষ্টিতে !"
"তুমি আমার নিঃসঙ্গতার সতীন হয়েছো!"
" সন্ধ্যা নামছে গাঢ় সন্দেহের মতো!"
" আসবো বলেই আমি এত���িন কখনো আসিনি। "
" আমি তো কাচের নই তবুও চৌচির হয়ে গেছি! "
" সবাই জমায় টাকা, আমি চাই মানুষ জমাতে! "
" বিদুষী আনিকা, তুমি আমার মা, মেয়ে, বোন ও প্রেমিকা!"
"আজন্ম মানুষ আমাকে পোড়াতে পোড়াতে কবি করে তুলেছে, মানুষের কাছে এও তো আমার এক ধরনের ঋণ। এমনই কপাল আমার অপরিশোধ্য এই ঋণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।"
"হয়তো তোমাকে হারিয়ে দিয়েছি নয়তো গিয়েছি হেরে, থাক না ধ্রুপদী অস্পষ্টতা কে কাকে গেলাম ছেড়ে।"
"কে আছেন? দয়া করে আকাশকে একটু বলেন- সে সামান্য উপরে উঠুক, আমি দাঁড়াতে পারছি না।"
"আপনি আমার এক জীবনের যাবতীয় সব, আপনি আমার নীরবতার গোপন কলরব।"
"তোমার জন্যে সকাল, দুপুর তোমার জন্যে সন্ধ্যা, তোমার জন্যে সকল গোলাপ এবং রজনীগন্ধা।"
এই বইটি প্রকাশ করার কি দরকার ছিল? কবিসাহিত্যিকদের অগ্রন্থিত অনেক লেখালিখি কাটাকুটি থাকতেই পারে তাই বলে ছালবাকল একত্র করে ধরে প্রকাশ করে দিতে হবে এমন তো কোন কথা নাই।
হেলাল হাফিজের লিখা বাইবেল যে জলে আগুন জ্বলে সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতার বই। কবির এমন অনেক ভক্ত পাঠক আছে যারা কবির পা ছুয়ে এক নিঃশ্বাসে এই বইয়ের সকল কবিতা মুখস্থ আবৃত্তি বলে দিতে পারতো। বাইবেল বলছি এ কারনে ঐশী কিতাব তো একটাই হয় আর যে জলে আগুন জ্বলে ছিল সমকালীন প্রেমের কবিতার বাইবেল এবং হেলাল হাফিজের একমাত্র বই। সেই বইটিকে ওভাররাইড করে আর কবির জনপ্রিয়তাকে পুজি করে এরকম একটা বই প্রকাশ করার দরকার ছিলনা।
কবি হেলাল হাফিজের মৃত্যুতে ব্যথিত হয়ে ভেবেছিলাম তার অপর কবিতার বইটি পড়বো কিন্তু হায় ব্যথিত হৃদয়ে আরো ব্যথিত হলাম।
তারপরও অনুকাব্য হিসেবে হলেও এ বইয়ের দু'একটা পঙক্তি এত দারুণ যে হেলাল হাফিজের তারিফ করতেই হয়।
কবির " যে জলে আগুন জ্বলে " যদি 5 Star পায়, এই বইয়ের প্রাপ্য -5 Star .. দুঃখজনক বই । এর কোন প্রয়োজনই ছিল না । হেলাল হাফিজ তার একমাত্র কবিতার বইটা দিয়েই আমাদের কাব্য সাহিত্যে নিজেকে অমর করে রাখতে পারতেন । তার নামের পাশে এই বই লেখকের তো বটেই, তার ভক্ত পাঠকদের জন্যেও অপমানজনক ।
" যে জ্বলে আগুন জ্বলে" পড়েছিলাম দু বছর আগে, স্পষ্ট মনে আছে বেশ ভালো ছিল। এই বইটা নিত্যান্ত অখাদ্য লাগলো। আর আলাদা করে এইটাকে কাব্যগ্রন্থ কিভাবে বলা যায় ভাই ;-;
কবিতার বইয়ে আমার হাত দেয়া হয় না বহুদিন, পাননার আবার ইদানীং খুব আগ্রহ দেখি এদিকে। গত শুক্রবারে মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার পথে গাড়িতে বসে কোনো কাজ পাচ্ছিলাম না; পাননা ( ছোট ভাই ) নিয়ে আসায় এই বইটা গাড়িতেই ছিলো। তাই সময় কাটাতে এটাই হাতে তুলে নিলাম।
বই - বেদনাকে বলেছি কেঁদো না লেখক - হেলাল হাফিজ প্রকাশনী - দিব্যপ্রকাশ প্রচ্ছদ মূল্য - ২০০৳ পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৭৯
আমি এ যাবৎ যতগুলো বুক রিভিউ লিখেছি, তাতে কবিতার বই ছিলো না। তাছাড়া একেকটা কবিতা একেক রকম হওয়ায় গল্প/উপন্যাসের মত কাহিনী সংক্ষেপণেরও উপায় দেখি না। তাই কবিতার বইয়ের রিভিউ লেখার বিষয়টা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত আমি।
বইটিতে কবিতা আছে মোট ৩৫ টি। আসলে এগুলোকে ঠিক কবিতা না বলে অণুকাব্য বলাই শ্রেয়। কারণ বেশির ভাগ কবিতার ব্যাপ্তি ২/৪ লাইন,এমনকি ১লাইনেরও একটি কবিতা আছে; সর্বোচ্চ ১০/১২ লাইন।
মোটামুটি সবগুলো কবিতাই রোমান্টিক ধাচের। তবে আকারে ছোট বলেই মনে করার কারণ নেই যে, কবিতাগুলো ঠিকঠাক ভাব প্রকাশে অক্ষম। বরং এত স্বল্প সংখ্যক শব্দ ব্যবহার করে এত দৃঢ়ভাবে মনের ভাব প্রকাশ হয়তো খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে সবচেয়ে ছোট্ট, ১লাইনের যে কবিতাটা আছে, সেটি উদ্ধৃত করছি : #থুতু "থুতুও অমৃত হয় চুম্বকীয় চিকন চুম্বনে।" - থুতুকে এত সুন্দর উপমা আর কোনো কবি-সাহিত্যিক দিয়েছেন বলে জানা নেই আমার।
হাস্যকর হলেও আরেকটা কথা না বলে পারছি না, আমাদের এই জেনারেশনের অনেকেরই স্বভাব ছবির সাথে ২/৪ কবিতা জুড়ে দেয়ার, হোক তা প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক! 🤣তাদের জন্য বইটি খুবই উপকারী হবে।😜
মোটকথা, যারা রোমান্টিক কবিতা ভালোবাসেন কবিতাগুলো তাদের জন্য সুখপাঠ্য, বইটা কিনে হতাশ হতে হবে না আপনাকে।😊