আহমেদ করিম একজন সাইকোলজিস্ট। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা শিক্ষক ছিলেন। পুরানা পল্টন এলাকায় থাকেন। একতলা একটা বাড়িতে। একা। অদ্ভুত সব কেস নিয়ে তার কাজকারবার। এবারও তেমন একটা কেস এসে হাজির। বয়স্ক একজন মানুষ ছুটে এসেছেন তার কাছে, অদ্ভুত স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্নের ব্যাখা চাইতে। সহকারী সোহেলকে নিয়ে তিনি হাজির হলেন নেত্রকোণায়। এক পুরনো কাঠের দোতলা বাড়িতে। যেখানে মুখোমুখি হলেন অদ্ভুত কিছু অভিজ্ঞতার, কিছু স্বপ্নের আর রূপকুমারীর। আহমেদ করিমের সাথে আপনিও সঙ্গী হোন সেই অভিজ্ঞতার, স্বপ্নকুহকের।
Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.
Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.
Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.
Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'
বাংলায় বয়স্ক, ব্যাচেলর, সাইকোলজিস্ট মানেই মিসির আলী। এই লোকটাও বয়স্ক, ব্যাচেলর, সাইকোলজিস্ট। তবে তিনি মিসির আলী নন। তিনি আহমদ করিম। দু'জন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাতে গড়া। তাদের কেস সলভিং এর পদ্ধতিও আলাদা। দারুণ বুনটের গল্পের পাশাপাশি শরীফ ভাইয়ের লেখনীর বুনটও জমজমাট রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহকে।
আমার মতে কিছু উপাদান না থাকলে একটা সাইকোলজিকাল হরর বইকে ভালো বলা যায় না। প্রথমত: গল্পের যে রহস্য, তার উৎস হতে হবে মানুষের অবচেতন মন, বা মানসিক সমস্যা। তার মানে এই না যে সবসময় টুইস্টে দেখাতে হবে পুরোটাই কারো ভ্রম ছিলো, বা স্বপ্ন ছিলো, বিভ্রান্তি ছিলো। তবে রহস্যের শেষ সেখানে না হলেও, শুরুটা অবশ্যই হবে মানসিকতায়। সমস্যা হতে হবে জটিল, কারণ সব মানুষের মনই জটিল। সমস্যাটা হতে হবে এমন যা দেখে মনে হয় অস্বাভাবিক, কিন্তু অসম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত: বাস্তবতা এবং অবাস্তবের সীমানা দুর্বল করে দিতে হবে। ভালো সাইকোলজিকাল হরর গল্পে যেকোনো একজন প্রধান চরিত্রের অন্তত এমন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে যেটা ‘সাধারণ’ নয়। ব্যক্তিগত জীবনে আমরা সবাই পাগল, কিন্তু একজন চরিত্র থাকবে যার মানসিকতাকে আচ্ছন্ন করে দিয়েছে তার ব্যাধি। অন্য সবাই যে পৃথিবীকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে, এই চরিত্র সেই পৃথিবীর ছায়াতে হাঁটে, তার মুখোশের আড়ালে দেখতে পায়। খুব ভালো সাইকোলজিকাল হরর গল্পে পাঠক এমন চরিত্রের চোখ দিয়ে কিছুক্ষণ হলেও পৃথিবীকে দেখতে পান, তার মতো চিন্তা করবার সুযোগ পান। তৃতীয়ত: ভয়ের ঘটনাগুলো যেন আবছা থাকে, অস্পষ্ট থাকে। দরজার ফাঁকে উঁকি দিয়ে মেঝেতে রক্তের ছিটে দেখার মতো। চোখের সামনে গরুর গলায় ছুরি চালানো দেখার মতো নয়। মানুষের মনে বেশিরভাগ ভয় জন্মায় অনিশ্চয়তা থেকে। ভালো লেখকেরা পাঠকের মনে এই অনিশ্চয়তা তৈরি করতে জানেন, সেটাকে ধরে রাখতে জানেন। আর শেষের উপাদানটা হচ্ছে মনুষ্যত্ব। খেয়াল রাখতে হবে যেন অস্বাভাবিকের ভীড়ে পাঠক হারিয়ে না যায়। চরিত্রদের মধ্যে যেন মানবিক সম্পর্ক থাকে, অসম্ভব পরিস্থিতিতে তারা যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে সেগুলো যুক্তিসঙ্গত না হলেও, যেন বোধগম্য হয়। শরীফুল হাসানের বই রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহকে এই সবগুলো বৈশিষ্ট্য আছে। বইটা পড়া শুরু করেছিলাম গতকাল রাতে। আজ সকালে শেষ করলাম। চমৎকার সহজ লেখার ভঙ্গি। না, শুধু সহজ বললে বোধহয় ঠিক হবে না। শরীফ ভাই এমন ভঙ্গিতে লেখেন যেন ঘটনাগুলো অনেক আগে তিনি নিজের চোখে ঘটতে দেখেছেন। এখন শ্রোতা পেয়ে খুলে বলছেন সবকিছু। তার লেখা পড়লে মনে হয় ঠিক এভাবেই সব হবার কথা ছিলো, আর এভাবেই হয়েছে। এবার একটু কথা বলি কামরার কোণায় দাঁড়ানো হাতিটাকে নিয়ে। শুরুর দিকে ফেলুদার গল্প পড়তে গিয়ে মানুষ যেমন বার বার শার্লক হোমসের সাথে তুলনা করেছে, আহমেদ করিমের সাথে মিসির আলির তেমন তুলনা আসবেই। আর কিছু না হলেও তাদের পেশার কারণে আসবে। তবে আমার ধারণা সময়ের সাথে ফেলুদা যেমন হোমসের ছায়া পেরিয়ে নিজেই আইকনে পরিণত হয়েছে, হোমস যেমন পেরিয়েছে দুপঁ’র ছায়া, তেমনি সহজেই করিম সাহেব মিসির আলির ছায়া থেকে বেরিয়ে আসবেন। এবং সে কারণেই এই চরিত্রকে নিয়ে আরো বই দরকার। আমি আরো জানতে চাই আহমেদ করিমের ব্যাপারে, তার অতীতের ব্যাপারে। কেন সে এই নিঃসঙ্গ জীবন কাটায়? কী ভয়াবহ, অবিশ্বাস্য সব ঘটনা তাকে নিয়ে এসেছে বর্তমান পেশায়? কোনটা হবে তার সবচেয়ে কঠিন কেস? উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম। লেখক যে রহস্যময় জগৎ তৈরি করেছেন, সেখানে প্রথম ভ্রমণটা শ্বাসরুদ্ধকর ছিলো। পরেরগুলো নিশ্চয়ই হবে আরো চমৎকার।
পাঠক আসলে বিষম এক ফ্যাঁকড়ায় পড়েছে। হুমায়ুন আহমেদ নামের একজন জাদুকর এমনই একজন মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে গিয়েছেন যে সাইকোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট এমন কোনো চরিত্র বইয়ের পাতায় পেলেই না চাইতেও ওই চরিত্রটার সাথে তুলনা শুরু করে দিই। মিসির আলির কথা বলছিলাম আর কি। নতুন চরিত্রটা কদ্দূর কী করতে পারল, মিসির আলির সাথে তুলনা করলে কোন দিকগুলো ভালো হয়েছে, কোনগুলো খারাপ হয়েছে সেগুলো নিয়ে তুলনা শুরু করে দিই। বিষয়টা একচুয়ালি বাকি লেখকদের জন্য কিছুটা অপমানজনক। অন্তত আমি হলে তো অপমানবোধ করতামই বাবা! আমার তৈরি চরিত্র, আমার কাহিনী, আমার গল্প, তোমরা কে রে বাবা তুলনা করার?! সে যাই হোক, শরীফুল ভাই নতুন একজন চরিত্র নিয়ে এসেছেন পাঠকদের সামনে। কিছু কিছু লেখক আছেন যারা তাদের সৃষ্টির কাছেই নত হয়ে যান পাঠকদের কাছে। শরীফুল হাসান এমনই একটি নাম। "সাম্ভালা" ট্রিলজির কথা কে না জানে? কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে সাম্ভালা পৌঁছে গিয়েছে পাশের দেশেও। সাহিত্যে অবদান রাখতে চাইলে এভাবেই তো রাখা উচিত, তাই না? সে যাই হোক, এবার চলে আসি রুপকুমারী ও স্বপ্নকুহকের কথায়। লেখক প্রথমেই বলেছেন আহমেদ করিম চরিত্রটি মিসির আলির মতো কেউ নয়। একদম স্বতন্ত্র একটি চরিত্র। তবুও পড়ার সময় মিসির আলির সাথে আহমেদ করিমকে পাশাপাশি রেখে কিছুটা জাজমেন্ট আমার মতো সাধারণ পাঠকদের মনে অনায়াসেই চলে আসে।
কাহিনী যেমন ছিলঃ আহমেদ করিম নামের একজন মনোবিদের কাছে এক অদ্ভুত কিসিমের লোক এলো। সে সপ্তাহের সাত দিন সাতটা স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নগুলো ভিন্ন ভিন্ন। চৌধুরি আজিজুল গণির নিমন্ত্রণে আহমেদ করিম তার সহযোগী সোহেলকে নিয়ে পৌঁছে গেল নেত্রকোণার এক দোতলা কাঠের বাড়িতে। আজিজুল করিমের মেয়ে এষা খুব স্বাভাবিক চরিত্রের কেউ নয়। তার মাঝেও নানা ধরনের অস্বাভাবিকতা খেলা করে। রুপকুমারী আসলে কে? চৌধুরি আজিজুল গণির সাতটি স্বপ্নের মানে কী? তারচেয়েও বড় কথা, যে কুহকের মাঝে লেখক আমাদের নিয়ে গিয়েছেন, সে কুহক থেকে মুক্তি পাবার উপায় আদৌ আছে কি?
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ গল্পের শুরুতেই কেমন যেন একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় পড়ে গেলাম। খুব সম্ভবত মিসির আলির সাথে শুরু থেকেই অবচেতন মনে তুলনা করার প্রবৃত্তি থেকে এটা তৈরি হয়েছে। মিসির আলির অমীমাংসিত রহস্যে যেমন তার কাছে একজন ব্যক্তি ভূতের গল্প নিয়ে আসে, এখানেও দেখতে পেলাম চৌধুরী আজিজুল গণি নামক চরিত্রটি একটি গল্প নিয়ে এসেছেন। সে গল্পের সমাধান ও প্রকৃতি জানতে হলে যেতে হবে নেত্রকোণায়। আবারও এখানে কেন যেন মনে হলো হুমায়ুন আহমেদের অন্যভুবন গল্পটার একটা ফ্লেভার পাচ্ছি। জোর করে মাথা থেকে তাড়াতে চাইলাম। হুমায়ুন স্যার আমাদের মাঝে আর নেই, মিসির আলিও আর আসছে না। তবুও... গল্পের শেষে পেলাম দেবী আর নিশীথিনীর ফ্লেভার। সবকিছু বাদ রেখে এবার চলে আসি আহমেদ করিমের (আমার ব্যক্তিগত) ব্যবচ্ছেদে। ১) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক অধ্যাপক প্রচার-প্রসার পছন্দ করেন। চেতন হোক, কিংবা অবচেতন মনেই হোক, তিনি প্রচার পছন্দ করেন। তা নইলে নিশ্চয়ই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজের কর্মের কথা সাধারণের কাছে জানান দিতেন না। ২) মিসির আলি এবং আহমেদ করিম দুজন সম্পূর্ণ এনটিটি, লেখক এটা বলেছেন। করেও দেখিয়েছেন। কিছুটা খামখেয়ালি স্বভাবের। তাকে নিয়ে কেউ কী ভাবল, সেটা নিয়েও কর্ণপাত করার প্রয়োজন নেই আহমেদ করিমের। তাই বলেই হয়ত নেত্রকোণায় গিয়ে স���হেলের চেয়ে ভালো ঘরটা নিজেই দখল করলেন। আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ হলে কিন্তু অতিথিকেই ভালো ঘরটা নেবার জন্য পীড়াপীড়ি করত। আহমেদ করিম একেবারেই তা করেননি। নিজেই দখল করেছেন ভালো ঘরটা। আবার সুবোধ বসাকের বাড়ি দেখা করতে গিয়ে এতিম একটা ছেলের প্রতি মায়া প্রদর্শন করে কিছু টাকাও হাতে দিয়ে এসেছেন। মানবিকতার পরিচয়ও পাই আহমেদ করিমের মাঝে। ৩) সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে সাধারণত শুরু হয় একটা রহস্যের সূচনা, এরপর ধীরে ধীরে সেটার বিস্তার এবং সবশেষে যবনিকাপাত। গল্পের বাকি এলিমেন্টগুলো এর মাঝেই ডালপালা ছড়াতে শুরু করে। রুপকুমারীতে সেটাই হয়েছে। ভৌতিক বিষয়গুলোর বর্ণনায় লেখকের প্রশংসা সত্যিই করতে হবে। ভয় জাগানিয়া কিংবা আগ্রহ ধরাবার মতো যা যা দরকার, সবকিছুই তিনি তুলে ধরেছেন পাঠকের কাছে। বইটা এক বসাতেই শেষ করার মতো। ৪) গল্পের সবচেয়ে দুর্বল চরিত্র লেগেছে সোহেল আহমেদকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন লেকচারার এভাবে স্রেফ সিঁড়ি দিয়ে আছাড় খেয়ে আর জ্বরে ভুগে গোটা গল্পটা শেষ করল, এটা কেন যেন একদম মানতেই পারিনি। ৫) সাতদিন সাতটা স্বপ্ন কী ছিল, কেন এই স্বপ্নগুলো দেখা হতো, স্বপ্নগুলোর শেষটা আসলে কী, এটা জানতে মনটা খুব আইঢাই করছিল। উত্তর পাইনি। গল্পের এন্টাগনিস্টকে নিয়ে লেখক অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং করিয়েছেন। তবে রুপকুমারীকে নিয়ে আমার আরও অনেক কিছু জানার ছিল। ক্লাইম্যাক্সে লেখক এদিকটা কেন যেন একটু এড়িয়ে গিয়েছেন বলে মনে হলো। ৬) এষা চরিত্রটা স্বতন্ত্র এবং শক্তিশালী একটা চরিত্র হয়ে উঠতে পারত। লেখকের সুবোধ বসাক এবং চৌধুরী আজিজুল গণিকে নিয়ে নাড়াচাড়াটা বেশি হয়ে যাবার ফলে রুপকুমারি একটু আড়ালেই চলে গেল। ৭) ক্লাইম্যাক্স ভালো লেগেছে। আহমেদ স্রেফ কেবল পাজলটাই সলভ করেছেন। নাটাইটা রুপকুমারি কিংবা স্বপ্নকুহকের চরিত্রদের কাছে চলে যাওয়ায় ভালো লেগেছে। তবে নাটাইটা শেষ মুহূর্তের জন্য না রেখে সুতোটা আরও আগে ছাড়লে গল্পটা আরও বেশি ভালো লাগত।
মিসির আলিকে আহমেদ করিম ছাপিয়ে যেতে পারবেন? সেটা সময় বলে দেবে। শরীফুল হাসান চমৎকার লেখেন। একেবারে দৃশ্য দেখিয়ে দিতে জানেন। আর জানেন পাঠক আটকে রাখতে। আহমেদ করিম মাত্র শুরু করল তার যাত্রা। আশা করি সামনে আরও জমজমাট কোনো রহস্যের সামনে তাকে হাজির করবেন লেখক। সোমা আহমেদ করিমের জীবনে কে, সে প্রশ্নের উত্তরও সামনে আসবে আশা করি। এই বইতে আহমেদ করিম মিসির আলিকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন? না, পারেননি। মিসির আলির ছায়া কিছুটা এই বইতেও আছে। হয়ত আমি মিসির আলির সাথে তুলনা করতে করতে পড়ছিলাম বলেই ছায়াটা আরও বেশি দৃশ্যমান হিসেবে পেয়েছি। তবে আমার বিশ্বাস আহমেদ করিম মিসির আলিকে একদিন হয়ত টেক্কা দিতে পারবেন। লেখককে সাধুবাদ জানাই আহমেদ করিমকে নিয়ে আসার জন্য।
টুকিটাকিঃ ব্যক্তিগতভাবে প্রচ্ছদটা আমার কাছে ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদশিল্পী সজল চৌধুরিকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। যত্নের সাথে সম্পাদনা করা হয়েছে। বানান ভুল খুবই কম। বইয়ের বাইন্ডিং নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই।
মনোবিজ্ঞানী আহমেদ করিমের কাছে একদিন এক লোক এসে জানান তার স্বপ্নের কথা। লোকটা সপ্তাহের সাতদিনই ক্রমানুসারে একই স্বপ্ন দেখছেন। সমস্যাটা নিয়ে বিস্তারিত কাজ করার জন্য আহমেদ করিম সহকারী সোহেলকে নিয়ে চলে গেলেন নেত্রকোনা। ঐ লোকের বাড়িতে। গিয়ে জানলেন লোকটা নাকি তার কাছে আদৌও যায়নি। তাহলে কে গিয়েছিল আহমেদ করিমের কাছে? আহমেদ করিম ঐ বাড়িতে কয়েকদিন থাকার সময় লক্ষ করলেন বাড়িতে ঘুরে বেড়ায় অশুভ কোনো অস্তিত্ব আর ঐ ব্যক্তির মেয়ে এশাও খুব একটা স্বাভাবিক নয়। অশুভ অস্তিত্ব কি আহমেদ করিমের কল্পনা নাকি সত্যি কোনো অস্তিত্ব রয়েছে এসবের? অদ্ভুত ব্যক্তির কন্যা এশার রহস্য কি?
জনপ্রিয়,সুলেখক শরীফুল হাসানের অতিপ্রাকৃত উপন্যাস রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক। বইয়ের প্রধান চরিত্র সাইকোলজিস্ট আহমেদ করিম। একা মানুষ, কাজ করেন মানুষের মানসিক সমস্যা নিয়ে। লেখক অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন চরিত্রটিকে। মিসির আলির মত চরিত্র যেখানে রয়েছে সেখানে একজন স্বতন্ত্র সাইকোলজিস্টকে পাঠকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া সহজ নয়। মানুষ স্বভাবত-ই মিসির আলীর সাথে আহমেদ করিমের মিল খুঁজবে। কিন্তু লেখক খুব সফলভাবেই আহমেদ করিমকে স্বতন্ত্র একজন সাইকোলজিস্ট হিসেবে দেখাতে পেরেছেন। এবার আসা যাক উপন্যাস প্রসঙ্গে। প্লট,লেখনি ছিল অসাধারণ। শরীফুল হাসান ভাইকে নিয়ে কিছু বলার নেই। উনার সামাজিক, ফ্যান্টাসি, থ্রিলার সব ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতা। এবার অতিপ্রাকৃত ব্যাপারেও সমান দক্ষতার।পরিচয় দিয়েছেন। রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহকে বর্ণিত অতিপ্রাকৃত পরিবেশ ও সত্ত্বাগুলোর বিবরণ ও বর্ণনা ছিল ভয়ানক ও গা ছমছমে। আপনি ভয় পেতে বাধ্য। মনে হবে আপনার পাশেই ডিস্টার্বেন্সগুলো ঘটছে। কাহিনী যথেষ্ট গ্রিপিং। শেষ না করে ওঠার উপায় নেই। বিরক্তির উদ্রেক ঘটেনি বললেই চলে। শেষে দারুণ একটা টুইস্ট দিয়ে কাহিনীর পরিণতি টেনেছেন লেখক।
হরর বা থ্রিলার গল্পের ভক্ত হলে শীতের সন্ধ্যায় রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক নিয়ে বসে পড়ুন। নাহলে মারাত্মক মিস। সবচেয়ে উপভোগ্য হয় রাতে পড়লে। অতিপ্রাকৃত ব্যাপারগুলো বাস্তব মনে হবে সেক্ষেত্রে।
শ'দেড়েকের সামান্য বেশি সংখ্যক পাতার একটা বই শেষ করতে শেষ কবে এতটা হিমসিম খেয়েছি, তা মনে করতে পারছি না। অথচ বইটা দুর্বোধ্য, বিরক্তিকর, বা ভুলে-ভরা ছিল না। তাহলে কেন এত সময় লাগল? বলছি; আগে গল্পটার সঙ্গে আপনাদের অল্প করে পরিচয় করিয়ে দিই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আহমেদ করিম মানবমনের নানা ধরনের বিচিত্র সমস্যার সমাধান করেন। একদিন নেত্রকোনা থেকে তাঁর কাছে এলেন চৌধুরী আজিজুল গণি নামের এক ব্যক্তি৷ কিন্তু তাঁর পুরো সমস্যাটা না বলেই তিনি বিদায় নিলেন। শর্ত হল, আহমেদ করিম নেত্রকোনা এলে তিনি বাকিটা বলবেন। করিম এবং তাঁর সহকারী সোহেল আহমেদ এলেন নেত্রকোনা। তারপরেই তাঁরা এবং আমরা ডুবলাম এক গভীর রহস্যে— যার মধ্যে জড়িয়ে আছে এষা ওরফে রূপকুমারী, চৌধুরীদের কাঠের বাড়ি, কিছু অনুভূতি, আর অনেকটা ভ্রম... নাকি সত্যি?
এই রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করার জন্য লেখক যে গথিক আবহটি ফুটিয়ে তুলেছেন, তার মতো ভয়োৎপাদক বিবরণ আমি সাম্প্রতিককালে কমই পড়েছি। চরিত্রদের তিনি যতটা রহস্য আর রূপ, যত্ন আর দুর্জ্ঞেয়তা দিয়ে গড়েছেন, তাও একেবারে সেরা ফর্মের মিশির আলী-কে মনে করিয়ে দেয়। এই লেখার একমাত্র দুর্বলতা এর শেষে। গল্পটা সম্ভাব্যতা আর কল্পনা নিয়ে খেলতে-খেলতে শেষটায় এসে ব্যাখ্যাহীন ভুতুড়ে কারবার হয়ে গেল৷ প্যারাসাইকলজি আর একাকিত্বের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ভয়ের প্রাসাদটিও ভেঙেচুরে গেল তখনই। কিন্তু তার আগে অবধি তিল-তিল করে লেখক যে ভয়াল কাহিনিটি পরিবেশন করেছিলেন, তা রীতিমতো বুকে চাপ ধরানো। সেজন্যই লেখাটা অনেকখানি সময় নিল।
মিশির আলী'র নতুন কাণ্ডকারখানা যাঁরা পড়তে চান, তাঁরা আহমেদ করিম-কে দেখে খুশি হবেন৷ এই চরিত্রটি সেই কিংবদন্তির আদলেই গড়া— তবে অতটা নৈর্ব্যক্তিক মানুষ ইনি নন। জনাব করিমের পরবর্তী আখ্যান ইতিমধ্যেই ওপারে প্রকাশিত হয়েছে। সেটিও অনতিবিলম্বে এপারে পড়তে পাওয়ার আশা রাখি। তাঁকে নিয়ে লেখা ছোটোগল্পগুলোও পড়ার অপেক্ষায় রইলাম। বইটির ছাপা, বাঁধাই খুব ভালো। বানান-ভুল খুব বেশি চোখে পড়েনি।
সামগ্রিকভাবে, যদি আপনি মনস্তত্ত্ব-আধারিত ভয়ের গল্প (সাদা বাংলায় যাকে সাইকোলজিক্যাল হরর বলা হয় আর কি) পড়তে চান, তাহলে এই বইটি আপনার পড়া উচিত। ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস। অলমিতি।
দিনকে দিন শরীফুল হাসান ভাই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন যেন। দুর্দান্ত সাইকোলজিক্যাল হরর বই। বাংলায় অনেকেই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার/হরর বই খোঁজে। শেষমেষ মিসির আলি ছাড়া আর কিছুই খুঁজে পায় না। ��েসব সাইকোলজিক্যাল বইপ্রেমীদের জন্য দারুণ একটা বই। রক্তারক্তি, নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাওয়া। চ্যাংদোলা করে উস্টা দেওয়া টাইপের হরর আমার জুতের লাগে না। বরং স্টিফেন কিং ধরণের, অজানার ভয়, অতি প্রাকৃত ধরণের বই আমার ভালো লাগে। এই বইটি সেই ধরণের। কোথায় পরিস্কার করে কিছু বলা নেই তবুও ভয়ে গা ছমছম করে উঠবে। পুর বই জুড়ে এত এত বৃষ্টি পড়েছে যে মুহূর্তেই হরর আবহ তৈরি করতে কোন সমস্যাই হয়নি। দারুণ !! অসাধারণ একটা বই। শরীফুল হাসান ভাইকে টুপি খোলা অভিবাদন রইলো। আশা করবো তিনি এই সিরিজটা কন্টিনিউ করবে।
এতোটা এক্সপেকটেশন নিয়ে আর বই শুরু করা যাবে না :/ বেশ ভালো রকমের হতাশ আমি।
প্রথমত, হরর উপাদান কম। বইয়ের মেজর অংশ রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে পড়া, তবুও ভয় লাগে নি। দ্বিতীয়ত, শেষ পর্যন্ত কোনো সলভড মিস্ট্রির দিকে যায় নি। এন্ডিং ভালো লাগে নি।
তৃতীয়ত, মিসির আলির ছায়া থেকে আহমেদ করিম বের হতে পারে নি।
পুরো গল্পে মিসির আলির প্রভাব স্পষ্ট। এটা দোষের নয়। সাহিত্যবোদ্ধারা যতোই হুমায়ুন আহমেদের অবদান অস্বীকার করুক, হুমায়ূন এর সাহিত্য যে কয়েক প্রজন্মের সাহিত্যে প্রভাব রেখে যাবে এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
মিসির আলি সমগ্রে "রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক" থাকলে আমি বাকিগুলো থেকে আলাদা করতে পারতাম না। তবে সমগ্রের সবচেয়ে দুর্বল বই হতো সম্ভবত এটি।
বইটির ভালো দিক হলো, এক বসায় পড়ে যাওয়ার মত। শরীফুল হাসানের বাকি বইগুলোর মতো, লেখনী বরাবরই সাবলীল।
বইটি অনেক প্রশংসিত হচ্ছে সব জায়গায়। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে কেনো জানি ভালো লাগলো না।
শরীফুল হাসান আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম বিধায় ২ তারা না দিয়ে, ৩ তারা দেয়া, একই কারণে লেখকের কাছে প্রত্যাশার পারদও অনেক উচুতে ছিল।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ 2.5 / 5
বইটির প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং, পেজ কোয়ালিটি সুন্দর। বানান ভুল, টাইপিং মিস্টেক - এসব তেমন চোখে পড়ে নি। এজন্য অবসর প্রকাশনী কে ধন্যবাদ।
এককথায় আনপুটডাউনেবল একটা বই। এমনি কেমন দেখার জন্য শুরু করে শেষ না করে রাখতে পারলাম না। বইয়ের মূল চরিত্র অবশ্যই মিসির আলী দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। কিন্তু আমি কেয়ার করি না। এমন জটিল একটা চরিত্র লেখক মারা যাবার কারণে আর লেখা হবে না, এইটা আমি মানতেই পারি না। গল্পটা এক পড়ন্ত জমিদারকে নিয়ে। জটিল আর আজব কিছু স্বপ্নের ব্যাখা জানতে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আহমেদ করিমের কাছে। তিনি সাতদিনে সাতটা স্বপ্ন দেখেন। কথা হয় তার সমস্যা সমাধান করতে আহমেদ করিম যাবেন তার বাড়ী নেত্রকোনায়। কিন্তু নেত্রকোণায় যাবার পরে আহমেদ করিমকে চিনতে অস্বীকার করে বসেন সাবেক জমিদার৷ তাও তার মেয়ে এষার মানসিক চিকিৎসার দায়িত্ব দেন। অদ্ভুত এই বাড়ীতে আলী আহমেদ আর তার সংগী সোহেলের বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়। এ অভিজ্ঞতা আতংকের। ভয়াবহ সব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে থাকে করিম আর সোহেল, যার কোন লৌকিক ব্যাখা কেউই দাড়া করাতে পারেন না। এ বাড়ীর বাসিন্দারা কেউই টের পান না যে তারা এগিয়ে যাচ্ছে জীবনের অন্তে।
বইটা যথেষ্ট ভাল। চরিত্র মিল হলেই লেখা খারাপ হবে তা হতেই পারে না। এমনেই এমন জনরার বই আমি খুব পছন্দ করি। তার উপরে লেখকের পরিস্থিতির বর্ণনায় দিনের বেলাতেও গায়ে কাটা দিচ্ছিল। নেত্রকোণায় বাড়ী হবার সুবাদে সেখানকার বৃষ্টি নিয়ে আমার জ্ঞান ভাল। সেটাও অতি দক্ষতায় লেখক কাজে লাগিয়েছেন। গল্পের শেষের টুইস্টও বেশ ভাল। একটাই দুর্বলতা লাগল, সাইকোলজিক্যাল টার্মগুলা হুমায়ুন আহমেদ খুব ভালভাবে ব্যাবহার করতেন। সেগুলা নিয়ে পড়াশুনা করেই যে তিনি লিখতেন তাতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু শরীফুল হাসান সেই কষ্টটা বেশি করেন নাই বলে মনে হল। ভবিষ্যতে এই ব্যাপারটা থাকলে খুব ভাল হয়।
কিন্তু সোমা কে? লেখক এর উত্তর লেখা দিয়ে দিবেন আশা রাখি।
"আর নয় ঝাড়ফুঁক, তুকতাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, বিখ্যাত সাইকোলোজিস্ট ড.আহমেদ করিম এবার আপনার যাবতীয় সমস্যার সমাধান করবেন। মানসিক/আধিভৌতিক/ভৌতিক সমস্যা নিয়ে চলে আসুন। সমাধান নিশ্চিত। বিফলে মূল্য ফেরত।"
- রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক - ড.আহমেদ করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা শিক্ষক ছিলেন একসময়। বর্তমানে পুরোনো পল্টন এলাকায় একাই থাকেন এবং মানুষের বিভিন্ন ধরনের সাইকোলোজিক্যাল সমস্যার সমাধান নিয়েই ব্যস্ততা তার।মুলত আধিভৌতিক/ভৌতিক সমস্যা নিয়েই তার কাজ কারবার। তেমনই এক কেসে এক অদ্ভুত রহস্যের ভিতরে আটকে পড়েন তিনি। সোহেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তার সহকারীও জড়িয়ে পড়েন এই কেসে। - চৌধুরি আজিজুল গণি, নেত্রকোনায় বসবাস করা এক মানুষ হঠাৎই বিনা এপয়েন্টমেন্টে হাজির হয় তার কাছে। তার বক্তব্য অনুসারে সে সাতদিন সাত ধরণের দু:স্বপ্ন দেখে এবং এটি নিয়মমাফিক চলছে গত চার বছর। এদিকে তার মেয়ে এষারও রয়েছে আরেক ধরনের অদ্ভুত সমস্যা। - এখন চৌধুরি আজিজুল গণি এর সাত দিনে দেখা সাত স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি? তার মেয়ের ভিতরে কি ধরণের সমস্যা রয়েছে? ড.আহমেদ করিম এবং তার সহকারী সোহেল কি পারবে এই সমস্যার সমাধান করতে? তা জানার জন্য পড়তে হবে জনপ্রিয় লেখক শরীফুল হাসানের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার গল্প "রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক"। - "রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক" মূলত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার কাহিনী। গল্পটি একদম শুরু থেকেই ইন্টারেস্টিং এবং শেষ পর্যন্ত পাঠককে ধরে রাখে। এই গল্পের সবচেয়ে বড় প্লাসপয়েন্ট এর লেখনী, চমৎকার লেখনীর কারণে গল্পের কিছু সাধারণ ঘটনাও অসাধারণ হয়ে উঠে। পরিমিত পরিমানের ভয়ের আবহ সৃষ্টি করতে এই গল্প পুরোপুরি স্বাৰ্থক।গল্পের ঘটনাপ্রবাহ এত দারুন ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে পুরো বই এক বসায় শেষ করার মতো। - "রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক" এর ক্যারেক্টারের ভিতরে সবচেয়ে ভালো লেগেছে আহমেদ করিমকে, বিশেষ করে তার কেস সলভিং এর পদ্ধতি। লেখক চেষ্টা করেছেন মিসির আলির ছায়া ছেড়ে স্বতন্ত্র এক চরিত্র দাঁড়া করাতে। চৌধুরী আজিজুল গনি এবং রূপকুমারী সম্পর্কে আরো ডিটেলিং আশা করেছিলাম। আর সহকারী হিসেবে সোহেল খুব একটা কার্যকরী হতে পারেনি। কাহিনীর প্রথমভাগ একেবারেই দুর্দান্ত, শেষে এসে মনে হয়েছে কিছু সুতো মিলেনি, সেগুলো মিললে আরো দারুণ হতো। - "রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক" এর আরেক ভালো দিক বইটির সম্পাদনা ,পুরো বইতে বানান এবং তথ্যগত ভুল বলতে গেলে চোখেই পড়েনি। দামের তুলনায় বাইন্ডিং এবং কাগজের মান আরো ভালো হতে পারতো। প্রচ্ছদ মানানসই গল্পের কাহিনীর জন্য। - এক কথায়, এক বসায় শেষ করার মতো টানটান এক বই "রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক"। যাদের সাইকোলোজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার গল্প পড়তে পছন্দ তারা গল্পটি পড়ে আশা করি নিরাশ হবেন না। মিসির আলীর ফ্যানদের জন্য মাস্ট রিড।সামনে এই সিরিজের আরো বই পাবার আশায় রইলাম।
গল্পটা সারতে ঠিক বেগ পাচ্ছিলাম না। 168 পাতার ছোট বই। আদতে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। এখানে সাইকোলজিটাই প্রধান। হ্যালুসিনেশন এর এত পরত আছে যে আসল গল্পে আছেন, না ভ্রম বুঝতে পারবেন না। আর গোটা বই ধরে প্রায় এই চলেছে। আর শেষে ঠিক তেমনি একটি সাধারণ পরিনতি।
কিছু ক্ষেত্রে লেখকরা করেন, যেটা হল তুরুপের তাস টা লুকিয়ে রাখা। ফেলুদা লাস্টে সব গল্প জুড়ে ফেলার সময় দুম করে বলল যে আমি আগে অমুক জায়গায় গিয়ে খবর নিয়ে এসেছি, আসলে ব্যাপার এই। সেই ছোট্ট তথ্যের ভিত্তিতে আপনি দেখলেন সব লিংক কমপ্লিট হয়ে যাচ্ছে আর আপনি আনন্দে নেচে উঠলেন। এরকম লেখা আমার খুব ভালো না লাগলেও উপভোগ্য বটে।
কিন্তু বইয়ে তুরুপ কেনো গোটা ডেকটাই লেখক বলেছেন দেখাবো না। এক ফোঁটা তথ্য নেই, প্রথম থেকে আমাদের প্রফেসর "পড়ে বলব," "এখন না," "সময় এলে জানতে পারবে," "আমি ঠিক জানি না, ওখানে গেলেই সব জানতে পারবে।" করে বেড়িয়েছেন।
হ্যাঁ কিছু চরিত্র হয় যারা হেঁয়ালি করে রহস্যময় থেকে আমাদের মন জয় করে নেন। কিন্তু এই প্রফেসর বিরক্তিকর। মানে আসলেই বিরক্তিকর। ওই শার্লক গোছের ওয়াটসনকে অন্ধকারে রেখে ওয়াটসনের কাছে বিরক্তিকর হওয়া গোছের না, বরং সত্যিকারের বিরক্তিকর।
পুনশ্চ: গল্পটি ছোট গল্প হলে বেশি উপভোগ্য হত। জল ঢেলে তরকারির পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা হয়ছে মনে হল। হতাশ।
মনোবিজ্ঞানী আহমেদ করিমের কাছে একদিন এক লোক এসে জানান তার স্বপ্নের কথা। লোকটা সপ্তাহের সাতদিনই ক্রমানুসারে একই স্বপ্ন দেখছেন। সমস্যাটা নিয়ে বিস্তারিত কাজ করার জন্য আহমেদ করিম সহকারী সোহেলকে নিয়ে চলে গেলেন নেত্রকোনা। ঐ লোকের বাড়িতে। আহমেদ করিম ঐ বাড়িতে কয়েকদিন থাকার সময় লক্ষ করলেন বাড়িতে ঘুরে বেড়ায় অশুভ কোনো অস্তিত্ব আর ঐ ব্যক্তির মেয়ে এষাও খুব একটা স্বাভাবিক নয়। অশুভ অস্তিত্ব কি আহমেদ করিমের কল্পনা নাকি সত্যি কোনো অস্তিত্ব রয়েছে এসবের? এষা যে কিনা নিজেকে রূপকুমারী হিসেবে পরিচয় দেয়, তার রহস্য কী?
বইটি মূলত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবেই সার্থক। অনেকে এটাকে হরর জনরার মধ্যে ফেলতে চাইবে, তবে আমি বলবো এটা অতিপ্রাকৃত ঘরানার গল্প হিসেবেই উপভোগ্য। বই পড়ে তেমন ভয় পাই নি। তবে রহস্যের ঘনঘটা বেশ উপভোগ করেছি। শেষের দিকে টুইস্ট বেশ অপ্রত্যাশিত ছিল। একটা জিনিস বেশ খেয়াল করছি যে বেশির ভাগ পাঠকই আহমেদ করিম চরিত্রের সাথে মিসির আলীর চরিত্র মিলিয়ে ফেলছে। কিন্তু আমার কাছে দুটো চরিত্র স্বতন্ত্র মনে হয়েছে। শরীফুল ভাইয়ের গল্প বলার ক্ষমতা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। বইয়ের শেষ পর্যন্ত পাঠকের মনযোগ ধরে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা রাখেন তিনি। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে শেষের দিকে রহস্যের সমাধান অতিপ্রাকৃতের ওপর ছেড়ে না দিয়ে বিজ্ঞানের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলে আরও ভাল হতো। আশা করি লেখকের কাছ থেকে আহমেদ করিমকে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও গল্প উপহার পাবো। বৈজ্ঞানিক যুক্তি আর অতিপ্রাকৃতের লড়াইয়ে কে জয়ী হয়, পাঠক হিসেবে সেই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।
"আর নয় ঝাড়ফুঁক, তুকতাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, বিখ্যাত সাইকোলজিস্ট, ড. আহমেদ করিম এবার আপনার যাবতীয় সমস্যার সমাধান করবেন। মানসিক/আধিভৌতিক/ভৌতিক সমস্যা নিয়ে চলে আসুন। সমাধান নিশ্চিত। বিফলে মূল্য ফেরত।"
উপরের বিজ্ঞাপনটি একটি পত্রিকায় দেওয়া। বিজ্ঞাপনটি যিনি দিয়েছেন তার নাম আহমেদ করিম।আহমেদ করিম একজন সাইকোলজিস্ট। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা শিক্ষক ছিলেন। পুরানা পল্টন এলাকায় থাকেন। একতলা একটা বাড়িতে। একা। অদ্ভুত সব কেস নিয়ে তার কাজকারবার। এবারও তেমন একটা কেস এসে হাজির। বয়স্ক একজন মানুষ ছুটে এসেছেন তার কাছে, অদ্ভুত স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্নের ব্যাখা চাইতে। সহকারী সোহেলকে নিয়ে তিনি হাজির হলেন নেত্রকোণায়। এক পুরনো কাঠের দোতলা বাড়িতে। যেখানে মুখোমুখি হলেন অদ্ভুত কিছু অভিজ্ঞতার, কিছু স্বপ্নের আর রূপকুমারীর। আহমেদ করিমের সাথে আপনিও সঙ্গী হোন সেই অভিজ্ঞতার, স্বপ্নকুহকের।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বেশ কিছুদিন আগে টিপিএ বৈঠকি আড্ডায় সেরা আলোচক হওয়ায় পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলাম রুপকুমারী ও স্বপ্নকুহক বইটি। হাতে পাওয়ার পরপরই কিছুটা পড়েও ফেলেছিলাম কিন্তু তখন অন্য আরেকটি বইয়ের মাঝপথে থাকায় আর আগাইনি। এর আগে শরীফুল হাসানের দুটি বই পড়েছিলাম- মার্ডার মিস্ট্রি ঘরানার বই রাত্রি শেষের গান ও মিডল গ্রেড ফ্যান্টাসি অদ্ভুতুড়ে বইঘর । দুটো বইতেই লেখকের যেই দিকটা সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তা হচ্ছে উনার অসাধারণ বর্ণনাভঙ্গি। রুপকুমারী ও স্বপ্নকুহক বইটিতেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। শুরু থেকে শেষ অবধি শরীফুল হাসানের গল্প বলার ভঙ্গি মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। বইয়ের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনায় দারুণ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন লেখক। ভৌতিক আবহ সৃষ্টি করতেও লেখক শতভাগ সফল ছিলেন। কোথাও জোর করে পাঠককে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেননি তিনি। এরকম লেখনী পড়তে অনেক আরাম লাগে , কোথাও আটকে যেতে হয় না।
রাত্রি শেষের গান পড়েই বুঝেছিলাম সাদামাটা প্লটকেও উপভোগ্য করে তোলার সহজাত প্রতিভা আছে শরিফুল হাসানের মধ্যে। কিন্তু রুপকুমারী ও স্বপ্নকুহক বইটির প্লট সাদামাটা ছিল না বরং বেশ ইন্টারেস্টিং ও গ্রিপিং ছিল । এক্সিকিউশন ও একদম পারফেক্ট মনে হয়েছে। একদম শুরু থেকে শেষ অবধি বইটি আমাকে ধরে রেখেছিল। গতকাল এক বসায়ই ৭০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়ে ফেলি। ব্যস্ততা না থাকলে যে একটানেই পুরোটা পড়ে ফেলতাম এ ব্যপারে কোন সন্দেহ নেই। মোট বাইশটি অধ্যায়ে ১৬০ পৃষ্ঠার বইটিকে ভাগ করেছেন লেখক। প্রতিটি অধ্যায়ে এমনভাবে সমাপ্তি টেনেছেন যে সামনে কি হবে তা জানার জন্য আমাকে পাতা উলটাতে বাধ্য হতে হচ্ছিল। অতিপ্রাকৃত উপাদা্নের উপস্থিতিও একদম যথার্থ ছিল।
রুপকুমারী ও স্বপ্নকুহক বইয়ের চরিত্রগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আহমেদ করিমকে। এখন পর্যন্ত এই বইয়ের যতগুলি রিভিউ চোখে পড়েছে সবগুলিতেই ‘মিসির আলি’ উপস্থিত ছিলেন। মিসির আলি আমার অন্যতম প্রিয় চরিত্র, সিরিজের প্রায় প্রতিটি বই-ই অনেক প্রিয় এবং কিছু কিছু বই একাধিকবারও পড়া হয়েছে। কিন্তু আহমেদ করিম মিসির আলীর মতো নন । শরীফুল হ��সানের সৃষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এই প্রফেসর সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি চরিত্র হউএ উঠতে সক্ষম হয়েছে। বইতে আহমেদ করিমের রহস্য সমাধানের পদ্ধতি, তার কথাবার্তা, লা পরোয়া ভাব , উদ্ভট আচরণ সবকিছুই ভাল লেগেছে। কিন্তু তার সহকারী সোহেল তেমন ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়নি। সোহেলের চরিত্রটিকে ভালো লাগছিল ঠিকই এবং ভবিষ্যতেও আহমেদ করিমের পাশাপাশি নতুন কোন রহস্য সমাধানে তাকে অবশ্যই দেখতে চাইবো কিন্তু এই বইতে তার উপস্থিতি কম না হলেও ইনভল্বমেন্ট কিছুটা কম মনে হয়েছে। আজিজুল গণির চরিত্রটা ভালো লেগেছে। রূপকুমারীর চরিত্রটিকে আরও এক্সপ্লোর করার সুযোগ ছিল এবং করলে গল্পটা আরও বেশি জমজমাট হতো বলেই আমার ধারণা।
রুপকুমারী ও স্বপ্নকুহক বইয়ের এন্ডিংটা ভালো লাগলেও খানিকটা অতৃপ্তি রয়ে গিয়েছে। আহমেদ করিমের থেকে শেষে আরও বিস্তৃত ব্যখ্যা আশা করেছিলাম। সাতদিনের সাতটি স্বপ্নের সবগুলি জানার জন্য এখনো মন উশখুশ করছে। রুপকুমারীকে নিয়েও কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
বইটির ডিটেইলিংয়ে ছোটখাট দুটি ভুল চোখে পড়েছে কিন্তু সেগুলো তেমন কিছু নয়। বইতে প্রিন্টিং মিস্টেক নেই বললেই চলে। বাইন্ডিংও বেশ ভালো। সজল চৌধুরীর করা প্রচ্ছদটা এক কথায় দারুণ এবং গল্পের সাথে পুরোপুরি মানানসই। ফ্রন্ট কভারের পাশাপাশি ব্যাক কভারটাও বেশ ভালো লেগেছে।এই প্রথম অবসর প্রকাশনীর কোন বই পড়লাম। প্রোডাকশন সব দিক দিয়েই বেশ সন্তোষজনক।
সর্বোপরি , রুপকুমারী ও স্বপ্নকুহক অনেক উপভোগ্য ও গতিশীল একটি বই ছিল। আহমেদ করিমকে নিয়ে সামনে আরও বই আশা করছি লেখকের কাছ থেকে। আহমেদ করিম নিয়ে একটা সিরিজ করা হলে দারুণ হবে। লেখকের জন্য অনেক শুভকামনা। রেটিং -৪.৫
বয়স হয়েছে,নেই কোনো বন্ধু কিংবা আত্মীয়, সাইকোলজিস্ট - এই তিনটা উপাদান কোনো চরিত্রের মধ্যে দেখলেই সবার আগে মাথায় আসে মিসির আলি'র কথা। আমার মতে 'রূপকুমারি ও স্বপ্নকুহক' বইটা শুরু করেছেন মাত্র এবং আহমেদ করিম চরিত্রটা দেখে মিসির আলির কথা মনে পড়েনি এমন মানুষ খুব কম-ই আছেন। তবে আহমেদ করিম যে সম্পূর্ণ আলাদা একটি চরিত্র তা বইটা কিছুদূর পড়লেই পাঠক উপলব্ধি করতে পারবে।
কাহিনী সংক্ষেপ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আহমেদ করিম, যার আরেক পরিচয় সাইকোলজিস্ট। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে বর্তমানে পুরোনো পল্টনে একটি চেম্বার দিয়ে বসেছেন। প্রায় নানা শ্রেণীর মানুষ আসছেন তার কাছে নিজেদের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে। এমনই একজন হলেন আব্দুল গণি। তার সমস্যা ছিল অদ্ভূত কিছু স্বপ্ন এবং তার মেয়ে। সমস্যার সমাধানের আমন্ত্রণ জানান তার নেত্রকোনার পৈতৃক ভিটায়। বেড়িয়ে পরেন আহমেদ করিম সঙ্গে তার সঙ্গী সোহেলকে নিয়ে,ছুটে যান নেত্রকোনা। সেখানে গিয়ে দেখেন ভদ্রলোক তাকে চিনতেই পারছেন না, পুরোই পাল্টি খেয়েছেন এমন! সে বাড়ির মেয়ে এষা, যে নিজেকে রূপকুমারী বলে দাবী করে। আরেক রহস্যময় মানবী। রহস্যের অতল গহ্বরে পড়েন আহমেদ করিম। ভয়ংকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হোন তিনি ও তার সঙ্গী।
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ
জনপ্রিয় লেখক শরীফুল হাসানের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার 'আহমেদ করিম' সিরিজের প্রথম বই 'রূপকুমারী ও স্বপ্ন কুহক'। গল্পের প্রধান চরিত্র ছিলেন আহমেদ করিম। এই চরিত্রটি লেখক বেশ ভালোভাবে গড়েছেন, তার কেস সলভিং প্রক্রিয়াও ছিল ভিন্ন ধাঁচের। গল্পের আরেক চরিত্র ছিল সোহেল, চরিত্রটি আরেকটু সক্রিয় হলে ভালো হতো। আহমেদের করিমের সহকারী হিসেবে সোহেলের ভূমিকা গল্পে কিছুটা কম ছিল।
গল্পে অতিপ্রাকৃত দৃশ্যের বর্ণণা গুলো ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। গা ছমছমে কিছু দৃশ্য, প্রাচীন বর্বরতার কাহিনী মিলেমিশে এমন এক গল্প হয়েছিল যা আপনাকে এক টানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে বাধ্য করবে। টানটান উত্তেজনা নিয়ে বইটি এক বসায় শেষ করেছি, সারাক্ষণই মাথায় ঘুরছিলো 'এরপরে কী হবে?'
যেসব পাঠকেরা বাংলায় সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার খুঁজছিলেন এতকাল, কিন্তু মিসির আলী বাদে আর কিছু পাননি তাদের জন্যই শরীফুল হাসান নিয়ে এলেন আহমেদ করিম। প্রতিবারের মতোই লেখক এই জনরাতেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। লেখকের কাছে অনুরোধ, প্রতি বছরই যেন এই সিরিজের একটি করে বই আমাদের পাঠকদের উপহার দিন উনি।
কী কারণে আহমেদ করিম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লো, সোমার সাথে বিচ্ছেদের কারণ কী, কেন তার এরকম নিঃসঙ্গ জীবন এমন শ'খানেক প্রশ্ন নিয়ে এই সিরিজের বাকি বই গুলোর অপেক্ষায় রইলাম।
প্রথমেই বলে নেই, আমি শরীফুল হাসানের একজন ভক্ত। গতবছর তার 'ছায়া সময়' পড়ে একটা ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিলাম। বইটা শেষ করে তাকে এসএমএস করে জানিয়েও ছিলাম ব্যাপারটা। শরীফ ভাই এমন এক সহজ-সাবলীল ভাষা আয়ত্ত করে নিয়েছেন যে তার বইগুলো পড়তে একেবারেই সময় লাগে না। তরতর করে কাহিনী আগাতে থাকে, বই শেষ না করে উঠা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। রুপকুমারীতেও শরীফ ভাই তার এই ফর্ম জারি রেখেছেন।
রুপকুমারীতে সাইকোলজিস্ট আহমেদ করিমকে হাজির করেছেন লেখক। এর আগেও করিম সাহেবের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে, তবে তা স্বল্প পরিসরে। ছোট গল্পের মাধ্যমে। এবার পরিসর বড়। কাহিনীও জটিল। রহস্য সমাধানে তাকে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ দৌড়াদৌড়ি করা লাগে বারকয়েক, মুখোমুখি হওয়া লাগে নিশ্চিত মৃত্যুর। তারপর, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বইটা কাঙ্খিত সমাপ্তির দিকে এগোয়।
বইটা উপভোগ্য। থ্রিল, সাসপেন্স, হরর এলিমেন্ট সবই ছিল পরিমিত পরিমাণে। এটা লেখক শরীফুল হাসানের আরেকটা বড় গুণঃ তার পরিমিতিবোধ প্রশংসনীয়।
এন্ডিং নিয়ে কিছুটা খটকা রয়ে গেছে আমার। করিম সাহেব কোন তরিকায় সমাধানে পৌছালেন এটা বিস্তারিত ভাবে দিলে বুঝতে সুবিধা হতো। রুপকুমারীকে নিয়েও ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটেনি আমার।
আহমেদ করিম চরিত্রটি সাথে মিসির আলীর মিল অনেক খুঁজে নিতে পারে কিন্তু বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে সম্পুর্ণ ভিন্ন ২টা চরিত্র। উপন্যাসে ভৌতিক বর্ণনাগুলো জমিয়ে দেওয়ার মত, কোন হাস্যকর বা অতিনাটকীয় কিছু ছিল না। মন নিয়ে এমন খেলা বাস্তবে অনেক খেলতে পারে শুনেছি। শরীফুল ভাইয়ের ভক্ত সাম্ভালা থেকে। উনার বইয়ের একটা গুণ হচ্ছে খুব দ্রুত পড়া যায়। ভাষা খুব সরল হয় এর কারনে পড়তে কোন বেগ পেতে হয় না। ২০২০ মেলাতে শরীফুল ভাইয়ের ২টা বই বেড় হয়। একটা বাতিঘর থেকে আর এইটা অবসর প্রকাশনা সংস্থা থেকে, কিন্তু লক্ষ্য করার ব্যাপার হচ্ছে বাতিঘরের বইটাতে বেশ কিছু বানান ভুল ছিল (তাদের সব বইয়ে থাকে) কিন্তু এই বইটা একবারে পরিষ্কার। বইয়ের কাগজ, বাঁধায় সব কিছু ১০/১০। কিন্তু বুকমার্ক ফিতে ছিল না :( এইটা দিতে পারত।
আহমেদ করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির প্রাক্তন অধ্যক্ষ । মানব মনের ধোঁয়াশা জগতের কূলকিনারা করা তার বর্তমান পেশা। তার সাথে আছে এসিস্ট্যান্ট সোহেল আহমেদ। আহমেদ করিমের কাছে চৌধুরী আজিজুল গণি আসে এক অদ্ভুত সমস্যা নিয়ে, তিনি সপ্তাহের সাতদিন ভিন্ন ভিন্ন সাতটি স্বপ্ন দেখেন যা প্রতি সপ্তাহে ঘুরেফিরে বারবার দেখেন। এছাড়া তার মেয়ে রূপকুমারীরও কিছু সমস্যা আছে। সমস্যা সমাধানে সোহেলকে নিয়ে নেত্রকোনায় চলে যান আহমেদ করিম। কিন্তু চৌধুরী আজিজুল গণি অস্বীকার করে বসেন আহমেদ করিমের সাথে সাক্ষাৎকারের বিষয়টি। এরপরই ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা। তারা চোখের সামনে সব আবছা অবয়ব , অশরীরী দৃষ্টিভ্রম দেখতে থাকেন। রূপকুমারীকে দেখা যায় মানসিক অবস্থা নিয়ে অদ্ভুত সব খেলা খেলতে। রহস্য সমাধান করতে এসে নিজেরাই বিভ্রমের জালে আটকে পড়ে। বের হতে পারবে তো ?
এই বইটি পড়ে অনেকেই মিসির আলিকে মিস করবেন হয়ত। প্রচুর উপাদান আছে যা হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলিতেও ছিল। কিন্তু এই বইতে সাইকোলজির ভারী সব শব্দগুচ্ছ ব্যবহার না করেই সহজ স��ল ভাবেই রহস্যের জট খোলার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া একটা ক্ষেত্রে রহস্য আমার কাছে অনুমিত লেগেছে।
লেখক আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন একটা ' মিসির আলী লাইট' লেখার। না পারসে আহমেদ করিমরে ভালো একটা পার্সোনালিটি দিতে, না পারসে ভালো একটা রহস্য আনতে। ঘটনা অমিতের বাসায় যাওয়ার সাথেই সাথেই পরিষ্কার ছিল ৷ হুটহাট সোহেলরে না বলে এদিক ওদিক যাওয়া , মেকি গাম্ভীর্য, বিরহে কাতর প্রেমিক ______ সবমিলায়ে বানোয়াট ন্যাকামি ছাড়া কিছু লাগে নাই। শরীফুল হাসানকে কেন সবসময় হুমায়ুন আহমেদকেই ফলো করতে হবে? প্রত্যেকটা বইয়ে একই কাজ। নিজে কিছু লিখুক। ১ তারা রেটিংটা দিলাম না, বইটা নিজের ছিল না তাই। রোজার মাসে ইনসাফ বজায় রাখার চেষ্টা।
পরিচিতদের কাছ থেকে মোটামুটি আশাহত রিভিউ এবং লেখকের উপরে নিজের একরকম অন্ধবিশ্বাস নিয়ে কিঞ্চিৎ পেন্ডুলামময় দোলাচলে ছিলাম এই ভেবে যে - বইটা এখনই পড়বো নাকি দূর ভবিষ্যতে সুযোগ বুঝে পড়ে নিবো! শেষমেশ অন্ধবিশ্বাস জিতলো।
পরিচয় হলো আপাতদৃষ্টিতে মিসির আলীর মতো দেখতে একজন পৌড় সাইকোলজিস্টের সাথে। উনার নাম আহমেদ করিম। কাজকর্ম মিসির আলীর মতো হলেও, কিছুদূর যাওয়ার পর আহমেদ করিম সাহেব বুঝিয়ে ছাড়লেন যে উনি অাদৌতে মিসির আলী নন। পুরোপুরি স্বতন্ত্র চরিত্র। রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে চেম্বারে বসেন। মানসিক রোগীর আশায় রোজ সন্ধ্যায়।
এভাবেই একদিন তার চেম্বারে এসে হাজির হলেন চৌধুরি আজিজুল গণি। শোনালেন তার দেখা অদ্ভূত দু'টি স্বপ্নের কথা। তিনি নাকি সপ্তাহের সাত দিনে সাতটা ভিন্ন স্বপ্ন দেখেন! হুবহু একই স্বপ্নগুলো পরবর্তী সপ্তাহেও পর্যায়ক্রমে পুনরাবৃত্ত হতে থাকে। স্বপ্নে একটি নদী আছে। নাম রুপকুমারী। স্বপ্নগুলো এবং রুপকুমারী যৌথভাবে উনাকে প্রচন্ড ঝামেলায় ফেলে দিয়েছে। সেজন্যই এখানে আসা। আহমেদ করিম এডভান্স কিছু টাকা নিলেন এবং সহকারী সোহেলকে নিয়ে নেত্রকোনায় ছুটলেন। প্রধান উদ্দেশ্য চৌধুরি সাহেবের সমস্যার সমাধান করা না, বাকি পাঁচটা স্বপ্নের গল্প শোনা।
বিপত্তি বাধলো চৌধুরি বাড়িতে পৌঁছানোর পর। চৌধুরি সাহেব নাকি ঢাকাতেও যাননি, কোন সাইকোলজিস্টও খোঁজেননি! মিসির আলীর মতো গোঁ ধরে বসে না থেকে, আহমেদ করিম ঢাকায় ফিরতে চাইলেন। ফিরতে দিলো না চৌধুরি-কন্যা এষা। মেয়েটা অস্বাভাবিক। ইন ফ্যাক্ট, এ বাড়ির সবকিছুই অস্বাভাবিক। অতঃপর অস্বাভাবিকতার সমাধানে ভয়ংকর এক খেলা শুরু হলো।
এই হচ্ছে কাহিনী। বইটি অতিপ্রাকৃত উপন্যাস হিসেবে যথেষ্ট সফল। এসময়ের বিচারেও অনেক এগিয়ে। কিন্তু ঝামেলাটা মনে হয় অতি লোভে। লেখক লাগাতার কিছু অতি চমৎকার বই লিখে, পাঠকদের প্রচন্ড লোভী বানিয়ে ফেলেছেন। সেই স্ট্যান্ডার্ডে এ বইটি তুলনামূলক কম ভালো লেগেছে। উনার লেখা খুবই সাবলীল। কখন কোন টনিক দিতে হয়, উনি বুঝেন। কিভাবে পাঠকদের এক বসাতে বই পড়ে শেষ করাতে হয় এটাও উনি বেশ ভালো জানেন। এগুলো নিয়ে কোন সমস্যা নাই। মুখ্য সমস্যা যা নিয়ে আছে, তা হচ্ছে উনার লেখা শেষ বই 'ছায়া সময়'-এর অতি কারুকার্য, যা এক্সপেক্টেশনরে সাধারনের কাতারে আর রাখেনি। এবং গৌণ সমস্যা হচ্ছে- 'রুপকুমারী ও স্বপ্নকুহক'-এর ছোটখাটো কিছু অসংগতি। খালি চোখে কম দেখা গেলেও, একটু মনযোগ দিলে মনে কিছু 'স্পয়লারময়' যৌক্তিক প্রশ্ন উদয় হয়। অন্য কোন জনরা হলে, হয়তো সমস্যা ছিল না। কিন্তু বিশেষ করে সাইকোলজিকাল ইস্যু নিয়ে লেখা বইতে, সম্ভবত ছোটখাটো অসংগতিও বড় ঝামেলা তৈরি করে। ধারণা করছি, বইটার 'প্যাঁচ খোলা' অংশ লিখতে, লেখক মস্তিষ্ককে অপেক্ষাকৃত কম সময় দিয়েছেন।
তিনি সপ্তাহে সাত দিন সাতটি স্বপ্ন দেখেন। বীভৎস, ভয়ংকর, ছটফট করে ঘুম ভাঙ্গাতে চাওয়া সব স্বপ্ন! আশ্চর্য ব্যাপার, পরের সপ্তাহে সেই একই স্বপ্নগুলো আবারও দেখেন, একই ক্রমানুসারে।
আহমেদ করিম চোখ বন্ধ করে লোকটির সমস্যা শুনলেন। সমস্যা শোনাই তার পেশা, আহমেদ করিম একজন মনোবিজ্ঞানী। মানুষ হিসেবে খুবই বিরক্তিকর, সহকর্মীর সাথে ঝগড়ার জের ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির শিক্ষক পদটি হারিয়েছেন। নিকট লোক বলতে রয়েছে শুধু সোহেল, সে-ও একই বিভাগে নতুন যোগ দিয়েছে। সন্ধ্যার পর আহমেদ করিমের চেম্বারে বসে গল্পগুজব করে, তার নানারকম খারাপ ব্যবহার স্বত্ত্বেও।
চৌধুরী আজিজুল গণি ময়মনসিংহের নেত্রকোনা অঞ্চলের নামকরা পরিবারের সন্তান। স্ত্রী মারা গেছেন চার বছর হলো, একমাত্র মেয়ে এষাকে রেখে। আজিজুল গণির মতে, এষা ঠিক স্বাভাবিক নয়, বিশেষ কোনো ক্ষমতা আছে তার।
আহমেদ করিম ও সোহেল নেত্রকোনায় হাজির হলেন আজিজুল গণির আমন্ত্রণে। বৃষ্টিতে ভেজা বিশাল পুরনো একটি কাঠের দোতলা বাড়ি। তারপাশেই নতুন একটি ইঁটের দালান। স্যাঁতস্যাতে বাড়িটার যেন কিছু একটা ঠিক নেই। লম্বা থামগুলোর আশেপাশে মনে হচ্ছে লুকিয়ে আছে কালো কালো ছায়া। মনে হচ্ছে চারপাশ থেকে কারা যেন সব দেখছে। কুয়োর মুখটা পাথরের ভারী স্ল্যাব দিয়ে আটকানো। উঠোনে সবুজ শাড়ি পরে নিশ্চল, অপলক দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে।
আজিজুল গণি তাদের চিনতে পারলেন না, তিনি ক'মাসের মধ্যে ঢাকাই যাননি! আহমেদ করিম জানতে পারলেন, যে লোকটি স্বপ্ন-সমস্যা নিয়ে তার কাছে গিয়েছিল সে ট্রেনে��� নীচে পরে মারা গিয়েছে, পরিচয়পত্র বলছে তার নাম সুবোধ বসাক। তাহলে একই চেহারায় যে লোকটি চৌধুরী মঞ্জিলের বৈঠকখানায় বসে রয়েছে, সে কে? এষা আহমেদ করিমকে যা দেখালো সেসব কি সত্যি?
সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেই, জানতেন না আহমেদ করিম। বিশেষ করে সেইসব প্রশ্নের, যার উত্তর প্রোথিত আছে এক অভিশপ্ত বংশের ইতিহাসে।
কিছু বই আছে, কোনোরকম চিন্তাভাবনা ছাড়াই ঠিক করে নেওয়া যায় - এটা পড়তেই হবে। 'রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক'র ব্যাপারটাও ছিল তেমন। বইটি প্রি অর্ডারের পর বিভিন্ন আলোচনায় দেখলাম এটিকে মিসির আলীর সাথে তুলনা করা হচ্ছে। পড়া শুরু করতে নিজেরও মাথায় তাই তেমনটাই খেলা করছিল। একজন আত্মীয় পরিজনহীন মনোবিজ্ঞানী, নেত্রকোনা শহরে পুরনো বাড়ি, মা মরা বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মেয়ে আর তার বাবা - এটুকু পড়লে যে কারো হুমায়ূন আহমেদের 'অন্যভুবন' উপন্যাসের কথা মনে হবে।
কিন্তু কয়েক পাতা পরেই সেসব ভুল ধারণা কেটে গেল। সত্যি বলতে কী, এতোটাই জমে গেলাম যে অন্য কোনো ধারণা করার সুযোগ ছিল না। শুরুটা বাদে, গল্পের আবহে, প্লটে বা গল্প বলায়, কোনোভাবেই অন্য কোনো উপন্যাসের সাথে মিল খোঁজার সুযোগই নেই। আহমেদ করিমের চরিত্রটি নিঃসন্দেহে মিসির আলীর চাইতে বৈশিষ্ট্যগত দিক গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। উপন্যাসের ভৌতিক বর্ণনাগুলো জমিয়ে দেওয়ার মতোই, মনের উপর চাপ ফেলে, কোনো হাস্যকর অতি-নাটকীয়তা নেই তার মাঝে। কাঠের বাড়ি, বৃষ্টি, ছায়াময় উপস্থিতি আর রহস্যের ধূম্রজাল তাতে এনেছে বাড়তি মাত্রা। লেখক শরীফুল হাসানের 'ছায়াসময়' পড়ে আগেই তাঁর ভক্ত হয়েছিলাম, সেই মুগ্ধতার মাত্রা বাড়লো আরো এ যাত্রায়।
বইটির আরো সম্পাদনার প্রয়োজন ছিল। ছাপার ভুল চোখে পড়েছে বেশ কিছু। সজল চৌধুরীর করা প্রচ্ছদ এক কথায় 'ক্লাসি' বলা চলে। নামলিপিটিও খুব ভালো লেগেছে।
যুক্তি, রহস্য আর ভয়ের সংমিশ্রণের বইটি দিয়ে সার্থকভাবে শুরু করলাম এবারের বইমেলা।
আহমেদ করিম একজন সাইকোলজিস্ট, একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে পুরানো পল্টন এলাকায় একতলা একটা বাড়িতে একাই থাকেন। সপ্তাহে দু-তিনটে কেসও জুটে যায়। তা একদিন বিনা অ্যাপয়েন্টমেন্টে চৌধুরী আজিজুল গণি নামে জনৈক এক ব্যক্তি তার কাছে আসেন। তার সমস্যাটি হচ্ছে.. তিনি সপ্তাহের সাতদিন সাতটি স্বপ্ন দেখেন। প্রতিটা স্বপ্নই একে অপরের থেকে আলাদা। সবথেকে বড় কথা চার বছর ধরে এটা সগৌরবে চলছে। ভাবুন অবস্থাটা! যাই হোক, দুটি স্বপ্নের কথা আহমেদ করিমকে সেইসময় বললেও বাকি পাঁচটি স্বপ্ন শুনতে ও তার মেয়ের কয়েকটি সমস্যার সমাধান করতে তাকে নিজের বাড়ি নেত্রকোনায় আমন্ত্রণ জানান তিনি। এরপর সহকারী সোহেল কে নিয়ে আহমেদ করিম সেখানে হাজির হলে... একের পর এক ঘটনার মাধ্যমে গল্প নিজস্ব গতিতে এগোতে থাকে। এবার স্বপ্নগুলো কী কী? তার ব্যাখ্যাই বা কী? তার মেয়েরই বা কী সমস্যা? এইসমস্ত সমস্যার সমাধানই বা কী করে হয় বা হবে তা জানতে বইটি আপনাকে পড়তে হবে। এবার গল্পটি আমার কেমন লাগলো বলি...
• কেন্দ্রীয় চরিত্র আহমেদ করিম বড্ড বেশি মিসির আলিকে মনে করায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লেখক তাকে স্বতন্ত্র করার চেষ্টা করলেও মিসির আলির ছায়াকে পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হয়নি। অবশ্য তাতে আমার খুব একটা খারাপ লাগেনি। • গল্পের স্ট্রাকচারটা নতুন নয়... কিন্তু তার ভিতরের এলিমেন্ট গুলোকে চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। • ক্লাইম্যাক্সটি যথেষ্ট ভালো... কিন্তু সব রহস্যের সমাধান করা হয়নি.. কিছু রহস্য রহস্যই রয়ে গেছে। এই ব্যাপারটা আমার ভালো লাগেনি।
শেষে এইটুকুই বলব, ত্রুটিমুক্ত গল্প এটি নয়। কিন্তু লেখক গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন এক ঘোরের মধ্যে আপনাকে নিয়ে যাবে যে আপনি গল্পটির থেকে চাইলেও বের হতে পারবেন না। তাই আমি বলব, অবশ্যই পড়ুন। নমস্কার!
উপন্যাসটা সাধারণ কোনো গল্প নয়। এটি মানুষের মানসিক জটিলতা, স্বপ্ন এবং অতিপ্রাকৃত রহস্যের মধ্যে দিয়ে পাঠককে টেনে নিয়ে যায়। বইটি এমনভাবে লেখা যে পাঠক সহজেই চরিত্রদের অনুভূতি, ভেতরের দ্বন্দ্ব এবং অদ্ভুত পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ভৌতিক বা অতিপ্রাকৃত দৃশ্যগুলো কখনো অতিরঞ্জিত নয়, বরং ধীরে ধীরে গা ছমছমে আবহ তৈরি করে।
লেখক চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো খুব সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়েছেন। লেখার ধারা সহজ, প্রাঞ্জল এবং পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে।
কিন্তু এন্ডিংয়ের দিকে এসে কিছুটা তাড়াহুড়ো লক্ষ্য করা যায়। অনেক রহস্য ও থ্রেড পুরোপুরি ব্যাখ্যা হয়নি, ফলে পাঠক কিছুটা অসম্পূর্ণতার অনুভূতি পেতে পারেন। পার্শ্বচরিত্রগুলোও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি, এবং বইয়ের শেষ অংশে আরও গভীর ব্যাখ্যা বা ক্লোজিং থাকলে উপন্যাসটি আরও শক্তিশালী হতে পারত।
সার্বিকভাবে, যারা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এবং অতিপ্রাকৃত রহস্য পছন্দ করেন, তারা “রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক” থেকে নিশ্চয়ই উপভোগ পাবেন। বইটি রহস্য, ভয়ের নরম আবহ এবং চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্ব সুন্দরভাবে মিলিয়ে দিয়েছে। তবে শেষের কিছু অসম্পূর্ণতা এবং দ্রুত শেষ হওয়ার ছোঁয়া কিছু পাঠকের জন্য হতাশাজনক হতে পারে।
'রূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক' খুব সুন্দর নাম বইটার। তবে নাম ভালো লাগলেই ত হবেনা ভেতরেও ভালো লাগার কিছু থাকতে হবে। মিসির আলির মত ফিল পাওয়া গেলো অনেকদিন পর আহমেদ করিম চরিত্রের মধ্যে। মিসির আলির সাথে তুলনা করা যায়না তবে যেহেতু সিরিজ আশা করা যায় ভালো হবে।
বইতে গা ছমছমে ভাবটা লেখক ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন যথেষ্ট যদিও শুরুর দিকে একটু মনে হচ্ছিল অপ্রাসঙ্গিক জিনিস বেশি। সেজন্য শুরুর দিকে একটু ধীরগতিতে পড়েছি। তবে কিছুদূর যাবার পর সেটা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। শেষটাও মন্দ ছিলোনা আমার কাছে।
সিরিজের দ্বিতীয় বই 'কিংকর্তব্যবিমুঢ়' হাতে নিয়েছি এখন দেখা যাক সেটা রূপকুমারীকে টেক্কা দিতে পারে কিনা.......
৩.৫/৫ খুবই উপভোগ্য আধিভৌতিক রহস্য উপন্যাস।ইতিবাচক দিক হচ্ছে-লেখক খুব দক্ষতার সাথে ভয় দেখানোর উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছেন।রহস্যের জট ছাড়ানোর ব্যাপারটাও ভালো লেগেছে।নেতিবাচক দিক হচ্ছে পুরো উপন্যাসে মিসির আলী সিরিজের প্রভাব ছড়িয়ে আছে।চরিত্রগুলোও খুব শক্তিশালী নয়।তবে এর কিছুই বইটি উপভোগের ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি।দারুণ গতিশীল ও উত্তেজনাপূর্ণ লেখা।
নামঃরূপকুমারী ও স্বপ্নকুহক লেখকঃ শরীফুল হাসান প্রকাশনাঃ অবসর প্রকাশনী "আহমেদ করিম সিগারেট ধরালেন।টেবিলের একপাশে রাখা ছোট একটা টেপ রেকর্ডার আছে সেটার রেকর্ড বাটনে চাপ দিলেন।চোখ বন্ধ করে চৌধুরী আজিজুল গণির শুক্রবারের স্বপ্নের কথা শুনবেন। তাহলে মনোযোগ দিয়ে শোনা হবে।" দৈনিক ঈশানকোণ পত্রিকার বিজ্ঞাপন দেখে আহমেদ করিমের কাছে ছুটে এসেছেন চৌধুরী আজিজুল গণি। আহমেদ করিম পেশায় সাইকোলজিস্ট,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে পুরানা পল্টন এলাকায় নিজ বাড়িতে চেম্বার খুলে বসেছেন। আর সেই চেম্বারেরই বিজ্ঞাপন দেখে নেত্রকোনা থেকে ছুটে এসেছেন চৌধুরী আজিজুল গণি। গণি সাহেবের সমস্যাটা অদ্ভুত!! বেশ কয়েকদিন ধরে রাতে ঘুমান না,সপ্তাহে সাতদিনই আজিজুল গণি সাতরকমের অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেন। আবার সেই স্বপ্নগুলোই পরের সপ্তাহে একইদিনে দেখেন অর্থাৎ একই স্বপ্ন সাইক্লিকভাবে দেখছেন!!সমস্যার সমাধান করতে আহমেদ করিম ছুটে গেলেন নেত্রকোনায়। সাথে তার সহযোগী সোহেল,যিনি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির শিক্ষক।
নেত্রকোণার চৌধুরী বাড়িটা অদ্ভুত রকমের। কাঠের তৈরি দোতলা বাড়িতে থাকেন গণি সাহেব, তার মেয়ে এষা আর তাদের চাকর বাচ্চু। পেছনে একটা বড় পুকুর। আহমেদ করিম আর সোহেল উভয়ের কাছেই রহস্যময় আর অদ্ভুত মনে হয়ে পুরো বাড়ির পরিবেশ,শুধু তাই না তাদের চৌধুরী সাহেবের মেয়ে এষা ওরফে 'রূপকুমারী' র মধ্যেও কেমন একটা অদ্ভুত ব্যাপার খেয়াল করলেন আহমেদ করিম। আহমেদ করিম যিনি কখনোই এসব অতিপ্রাকৃত জিনিসে বিশ্বাস করেন না তিনি কি পারবেন এই অস্বাভাবিকতার জট খুলতে? চৌধুরী আজিজুল গণি সাহেবের স্বপ্নবিষয়ক সমস্যার সমাধান কি আদৌ হবে? পাঠ প্রতিক্রিয়া: লেখকের "অন্ধ জাদুকর" পড়েই তার লেখনী সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলাম। আজকে আবারো মুগ্ধ হলাম বইটা পড়ে। হুমায়ুন আহমেদের মিসির আলি পড়ে এই ঘরানার লেখা পড়া শুরু করেছিলাম,আবার অনেকদিন পর সেই আহমেদ করিমের মাধ্যমে আবার এই ধরণের গল্প পড়লাম।বইটির বর্ণণা খুব সহজ ভাষায় করা। চরিত্রায়ন, রহস্যের আবহ খুবই চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আমার কাছে মনে হয় এই বইয়ের সবচেয়ে দুর্বল চরিত্র সোহেল।যিনি নিজে একজন সাইকোলজির শিক্ষক তবুও ভয় ব্যাপারটা তার মধ্যে একটু বেশিই কাজ করেছে,আর সোহেল সম্পর্কে খুব কম ধারণাই পেয়েছি বইটা পড়ে। অনেকদিন পর বেশ ভালো একটা বই পড়লাম।এই সিরিজের দ্বিতীয় বই,"কিংকর্তব্যবিমূঢ় " নিয়ে এখনই বসব