এই বইটি শ্রীপারাবত এর ইতিহাস আশ্রিত একটি বই।.... "মুঘল-শাহজাদীর আত্মকাহিনী। লিখতে বসলে হয়তো তা ব্যর্থ যৌবনের বিলাপ হয়ে ফুটে উঠবে। তবু লিখব। পিতার ইচ্ছা অপূর্ণ রাখব না। ভবিষ্যতের মানুষ আমার জীবনীতে যৌবনের ক্রন্দন শোনে শুনুক—কিন্তু সেই সঙ্গে আরও কিছু লাভ করে যেন কৃতার্থ হয়। অদূরে প্রাসাদের অসংখ্য রোশনাই জ্বলে ওঠে। একটু পরেই দেওয়ান-ই-খাসের পাশের বারান্দা দিয়ে নর্তকীদের আনাগোনা শুরু হবে, তাদের ঝুমুরের শব্দে আগ্রার প্রাসাদ উচ্চকিত হবে।"
শ্রীপারাবতের বিশেষত্ব তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনাতে। মমতাজ-দুহিতা জাহানারা বইটি হচ্ছে তেমন একটি বই, যেমন বই আমি দীর্ঘদিন ধরে পড়তে চেয়েছি। আসলে মুঘল-ইতিহাস আমার প্রিয় বিষয়ের মধ্যে একটি, আর মুঘল আমলের প্রধান চরিত্র নিয়ে বই পড়তে পারলে বেশি ভালো লাগে। নামেই বোঝা যাচ্ছে এই বইটিতে চরিত্র হিসেবে দেখা এসেছেন শাহজাহান-মমতাজ, জাহানারা, আওরঙ্গজেব এবং দারাশিকো। জাহানারার বয়ানে স্বাদু ভাষায় লিখিত বইটি পড়তে পড়তে ওই সময়ের এক চরিত্র হয়ে আমিও ঘুরে ফিরছিলাম মুঘল সাম্রাজ্যের অলিগলিতে। অদৃশ্য এক দর্শক হয়ে দেখছিলাম দারাশিকো-নাদিরা-রানাদিলকে, দেখছিলাম জাহানারার প্রেম এবং বৈদগ্ধকে, দেখছিলাম আওরঙ্গজেব এর নিষ্ঠুর শক্তি এবং বিশ্বাসকে। আমার প্রিয় মুঘল সম্রাট আকবরের সকল শাহজাদীর শাদি বন্ধের বিষয়টি আগে আমি খেয়াল করিনি, এবার মর্মাহত হলাম। কিছুটা কল্পনা তো আছেই, তবুও ইতিহাসকে পাশে রেখে ওই মানুষগুলোর মানসিকতা, কার্যকলাপ জানতে এবং বুঝতে সাহায্য করেছে বইটি।