বুবুনের বাবা নেই, না মারা যায়নি, হারিয়ে গিয়েছে। বুবুন যখন অনেক ছোট, তখন তার বাবার ব্রেন টিউমার হয়, ডাক্তার বলে দেয় দ্রুত অপারেশন না করলে বাঁচানো সম্ভব না। কিন্তু বুবুনের বাবা দেরি করতে থাকে, টিউমার বড় হয়ে যাওয়ার কারণে বুবুনের বাবা মাঝে মধ্যেই উল্টোপাল্টা আচরন করতো, বানরের সাথে কথা বলতো, গাছের সাথে কথা বলতো। একদিন বুবুনের মা রূপা ছাদে গিয়ে দেখেন বুবুনের বাবা মাসুদ পানির ট্যাংকে মাথা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এভাবে একদিন হঠাৎ করে বেরিয়ে যায় আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
বুবুনের মা এনজিও তে কাজ করতো, নতুন যায়গায় পোস্টিং হওয়ায় তারা এখন নতুন এলাকার নতুন বাড়িতে উঠেছে। যদিও বুবুন ভেবেছিলো এখানে এসে খাপ খাওয়াতে পারবে না কিন্তু আসার পর অনেক বন্ধু জুটে যায় । সুমি, গাব্বু, পিয়াল এর মত দুরন্তপনাদের সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। একসাথে ওরা অ্যাডভেঞ্চার এ যায়। কখনো বিমরুল এর বাসা ভেঙে দেয় কিংবা গর্তের মুখে আগুন জ্বালিয়ে শিয়াল বের করার চেষ্টা করে।
হঠাৎ একদিন বুবুনের বাবা ফিরে আসে, একজন ডাক্তার এসে বুবুনের বাবা কে দিয়ে যায় আর বলে যে ব্রেইন টিউমার এর অপারেশন এর পর উনি সব ভুলে গেছেন এবং আচার আচরণ একদম শিশুর মত হয়ে গেছে। প্রথমে বুবুনের বাবা কাউকেই চিনতে পারে না।
তবে আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হতে থাকে, বুবুনের বাবা ও সবার সাথে মাঠে খেলতে যায়, সবার সাথে অ্যাডভেঞ্চার এ যায়।
এদিকে বুবুনের মা মেয়েদের শিক্ষার জন্য একটা স্কুল করতে গিয়ে কিছু লোকদের রোষানলে পড়েন, যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার আলবদর ছিল। ওরা বুবুন কে স্কুল থেকে ফেরার পথে কিডন্যাপ করার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। তারপর তারা বুবুনের বাবা কে ধরে নিয়ে যায়। এরপর বুবুন নামে নতুন এক অ্যাডভেঞ্চারে সাথে যোগ দেয় সুমি, গাব্বু আর ক্ষুদে সাইন্টিস্ট পিয়াল।
মন্তব্য
শিশু কিশোর গল্প হিসেবে লেখন শৈলী ঠিক যেমন হওয়ার কথা তেমনি, সহজ, সরল ও সাবলীল। শিশু সুলভ কিউরিওসিটি জাগাবে শিশু কিশোরদের মনে আর দিবে অন্য রকম অ্যাডভেঞ্চার এর অনুভূতি। তবে শেষের দিকে এক জায়গায় লেখক রাজাকার আলবদর বলতে ঢালাওভাবে হুজুর সমাজ কে বুঝিয়েছেন যেটা আমার কাছে মিসইন্টারপ্রিটেশন মনে হয়েছে । কেননা বাস্তব চিত্র কখনো এমন ছিলো না। আর বুবুনের বাবার ফিরে আসাটা একটু অন্যরকম ছিল কেমন যেন খাপছাড়া মানে আরেকটু বাস্তবসম্মত এন্ট্রি হওয়া দরকার ছিলো। তবে আমার মনে হয় এটা যেহেতু শিশু কিশোরদের টার্গেট করে লেখা তাই রাইটার হয়তো এদিকে অতটা গুরুত্ব দেননি। তবে লেখা ফ্লো টা ছিল সিল্কি স্মুথ, যেটা যে কোন বয়সের মানুষের কাছেই ভালো লাগবে।