বিদেশি একটি সংস্থা বাংলাদেশে লুকিয়ে একের পর এক মানুষ উৎসর্গ করে যাচ্ছে কোন এক অপবিশ্বাসের নামে। কিছুটা কৌতুহলের বশে এবং কিছুটা নিজেদের তাগিদে তাদের পিছু নেয় কলেজপড়ুয়া আলিফ জামান, ঈয়াসি ঈনা আর তাদের শিক্ষন রিফাত উল্লাহ। সংস্থাটির পিছু নেওয়ার কারনে একে একে হাড়কাঁপানো তিনটি কেস উপস্থিত হয় তাদের সামনে। এ কেসগুলো সমাধান করতে প্রয়োজন শুধু বুদ্ধিই না, তাৎক্ষণিক সঠিক সিদ্ধান্তের। একটু ভুল মানেই মৃত্যু! পারবে কী তারা সংস্থাটিকে আবিস্কার করে তাদের সদস্যদের সনাক্ত করতে? পারবে কী তারা সংস্থাটির পরবর্তী শিকারকে উদ্ধার করতে? পারবে কী তারা সংস্থাটির অপকর্ম থামাতে? নাকি কৌতুহলের কাছে হার মেনে এমন এক প্রাচীন ভয়কে আবিস্কার করবে, যা কোন মানুষের উপলব্ধি করা উচিৎ না!
The Red Door is a horror-thriller that explores the Lovecraftian Mythos with an original story that features two college students and their teacher. The main cast is in a search for an organization that is doing illicit human sacrifices, to discover their objective and save the victims. Read and find out if the cast is able to end the cult activity or instead, succumb to madness as they give in to their absolute curiosity.
Aspiring supernatural-thriller author from Bangladesh who is willing to explore different genre's of fiction to provide thrilling tales to his readers. His published books are: 1. দ্য রেড ডোর 2. ইউক্লিড 3. অসমাপ্ত ক্যানভাস 4. এক হাজার সূর্যের নিচে 5. ডাস্কমেইডেন 6. ক্রিমসন 7. দ্য ব্ল্যাক ফ্লেইম And many more to come!
লাল দরজা! এই লাল দরজার ভেদ করলে কী দেখতে পাওয়া যাবে? কী, কেন, কীভাবে এইসব প্রশ্ন একপাশে রেখে বই সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। প্রথমত অনেকদিন পর ইউনিক কনসেপ্টের একটি বই পড়লাম। বইটি আন্ডাররেটেড, কেন আন্ডাররেটেড বা পাঠক বিমুখ সেটারও স্ট্রং রিজন রয়েছে। প্রথমত বইটিতে কিছু স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে যা সমাজ বহির্ভূত। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ অথবা দেশিয় সংস্কৃতির দিক থেকে দেখতে গেলে কলুষিত। পাঠক বইয়ের বাকিসব দিক ফেলে এই এক টপিক নিয়ে লেকচার দিতে দিতে হয়রান হয়ে যেতে পারবে এমন অবস্থারও সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে। তবে লেখককে সাধুবাদ জানাব তিনি থেমে থাকেননি, ঠিকই এই বইমেলায় এই বইয়ের সিক্যুয়েল ‘অসমাপ্ত ক্যানভাস’ নিয়ে এসেছে। সিক্যুয়েল হলেও স্ট্যান্ড অ্যালোন হিসেবে পড়তে পারবেন৷ যদিও আমি এখনও পড়িনি তবে শীঘ্রই সংগ্রহ করব৷
লাভক্র্যাফটিয়ান হরর বা হরর থ্রিলার বললেও বইটি মূলত ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবে পারফেক্ট। লেখক ডার্ক যুক্ত করেনি আমি কেন করলাম? ডার্ক এইজন্য করলাম যে বইতে হরর যতটা না ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তার চেয়েও চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন মাত্রাতিরিক্ত আকর্ষিত করেছে। লেখক কয়েকটি টার্ম ব্যবহার করেছে উপন্যাসটিকে পরিপূর্ণ করার জন্য। তারমধ্য ছিল শ্রোডিঙ্গার তত্ত্ব, কপিং মেকানিজম, কন্ট্রাসেপটিভ, অ্যান্টি ওয়েস্টমার্ক সিন্ড্রোম ইত্যাদি বিষয় চরিত্রের অস্তিত্বে মিশিয়ে সেগুলো নিয়ে সরাসরি আলোকপাত করেছেন!
বইটি অবশ্যই ১৮+ ক্যাটাগরির। শুধু যে অ্যাডাল্ট ক্যাটাগরি বলে যে-কেউ হজম করতে পারবেন সেটাও ভুল। প্রথমে বললাম এই বইয়ে কিছু ডার্ক টার্মের ব্যবহার রয়েছে যা আপনার রুচিতে বাধা সৃষ্টি করবে। অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। যদিও এই যুগে কেউ সাধু-সন্ন্যাসী না, সবাই আড়ালে আবডালে ঠিকই নিষিদ্ধ চাহিদা বজায় রাখে কিন্তু ভাবটা এমন করে যেন ভাজা মাছ উলটিয়ে খেতেই পারে না। তাই বইটি উপভোগ করতে হলে নিজেকে সেইভাবে প্রস্তুত করে নেওয়া ভালো। অন্যথা বলবেন বই ভালো না অথবা বইয়ের কনসেপ্ট জঘন্য৷ যদিও বাস্তবতা উপলব্ধি করতে আর সত্য হজম করতে সবারই একটু-আধটু কষ্ট করতে হয়।
➲ আখ্যান—
বিদেশি একটি সংস্থা বাংলাদেশে লুকিয়ে একের পর এক মানুষ উৎসর্গ করে যাচ্ছে কোন এক অপবিশ্বাসের নামে। কিছুটা কৌতুহলের বশে এবং কিছুটা নিজেদের তাগিদে তাদের পিছু নেয় কলেজপড়ুয়া আলিফ জামান, ঈয়াসি ঈনা আর তাদের শিক্ষন রিফাত উল্লাহ।
সংস্থাটির পিছু নেওয়ার কারনে একে একে হাড়কাঁপানো তিনটি কেস উপস্থিত হয় তাদের সামনে। এ কেসগুলো সমাধান করতে প্রয়োজন শুধু বুদ্ধিই না, তাৎক্ষণিক সঠিক সিদ্ধান্তের। একটু ভুল মানেই মৃত্যু!
পারবে কী তারা সংস্থাটিকে আবিস্কার করে তাদের সদস্যদের সনাক্ত করতে? পারবে কী তারা সংস্থাটির পরবর্তী শিকারকে উদ্ধার করতে? পারবে কী তারা সংস্থাটির অপকর্ম থামাতে? নাকি কৌতুহলের কাছে হার মেনে এমন এক প্রাচীন ভয়কে আবিস্কার করবে, যা কোন মানুষের উপলব্ধি করা উচিৎ না!
The Red Door is a horror-thriller that explores the Lovecraftian Mythos with an original story that features two college students and their teacher. The main cast is in a search for an organization that is doing illicit human sacrifices, to discover their objective and save the victims. Read and find out if the cast is able to end the cult activity or instead, succumb to madness as they give in to their absolute curiosity.
➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
এই প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব দিক থেকে বিবেচনা করা। পূর্বে যারা বইটি পড়েছেন অথবা সামনে যারা পড়বেন তাদের সবারই নিজস্ব মতামত অবশ্যই থাকবে। সেক্ষেত্রে অনেককিছু আপনার অপ্রিয় লাগতে পারে। কিন্তু অপ্রিয় হলে সত্যকে কোনোকিছু দিয়ে চেপে রাখাটাও ঠিক না৷ আর বৈজ্ঞানিকভাবে যেহেতু সেগুলোর ব্যাখ্যা রয়েছে তাই নিজেকে কিছুটা মেলে ধরতে হবে। পাঠক হতে গেলে সবকিছু উপলব্ধি করে পজেটিভ ও নেগেটিভ যাচাই-বাছাই করার ক্ষমতা অবশ্যই থাকতে হবে।
● প্রারম্ভ—
প্রথমে ছোটো একটি অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় দিয়ে উপন্যাসের শুরু। যেটার কাহিনি বই সম্পূর্ণ শেষ করার পরে কানেক্টে করতে পারবেন৷ মূল অধ্যায়ে ঢুকতে লেখকের ২ পেজ খরচ হয় মাত্র। শুরুতে আলিফের রাতজাগা ঘুমের রুটিন থেকে দৈনন্দিন জীবনের কার্যকলাপের বিস্তারিত পাঠকদের নিকট বর্ণনা করা হয়। প্রথমে সংলাপে কিছুটা জড়তা কাজ করলেও সামনে এগোনোর সাথে সাথে কাহিনি ও সংলাপ দুটোর গতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে পুরোপুরি মূল কাহিনি অর্থাৎ আক্ষরিক ভাবে যে বিষয় নিয়ে কনসেপ্ট তৈরি করতে চেয়েছেন সেটার হদিস পাঠক খুঁজে পাবে প্রায় ৯৮ পেজের পরে গিয়ে। শুরু থেকে ধৈর্য অবশ্যই ধরবেন। আমি এক বসাতে এই বইয়ের ১১৩ পেজ শেষ করেছি। বাকি বসাতে ৩৭০ পেজের বই শেষ। শুরুটা গল্প অনুযায়ী ভালো।
● গল্প বুনন—
লেখকের প্রথম বই! সে-ই হিসেবে সবকিছু প্রথম। গল্প বুননের দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন পাঠকেকে আকৃষ্ট করার জন্য। গল্পের জাল যদি পাঠককে জড়িয়ে ধরতে না পারে তাহলে বুদ্ধিমান মাছের মতো পাঠকও জালের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যাবে। লেখক এই জায়গায় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাহিনি সাজিয়েছেন। ঠিক বুঝেছেন কোথায়, কখন কোন টোপ ফেললে পাঠক সিট বেল্ট বাঁধবে। সেই টোপ আমিও গিলেছি। এরপরে আর ছাড়িনি, এর শেষ দেখে তবে ক্ষান্ত হয়েছি।
● লেখনশৈলী—
একজন লেখকের গল্পের গাঁথুনি ভালো হওয়ার পরে যে কাজটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে লেখনশৈলী। লেখকের লেখনশৈলী এত সাবলীল যে টানা পড়লে হাঁপিয়ে উঠতে হয় না। তবে সাহিত্যিক বোদ্ধারা বলতে পারেন। এই লেখনশৈলীতে তো ভারী সাহিত্যিক শব্দের সমারোহ ঘটেনি তাহলে কীভাবে সেটাকে বিচার করা যায়? বিচার আদতে করতে হয় না। উনি লেখনশৈলীতে অতি সহজ শব্দের কারবারি দেখিয়ে প্রলুব্ধ করেছেন। আপনি কখন কাহিনির মধ্য ডুবে যাবেন ভাবতেও পারবেন না।
● বর্ণনাভঙ্গি—
এই উপন্যাসে সিকুয়েন্সের অভাব নেই। জনরা অনুযায়ী রোমান্টিকতাও প্রচুর মাত্রায় রয়েছে। লাভক্র্যাফটিয়ান হরর মিথ ঘেটে নিজের তৈরি করেছেন ‘ড্যাগনলথ’ নামের এক গড। চরিত্রের অভিব্যক্তির জন্য যেভাবে বর্ণনার দরকার ঠিক সেইভাবে লেখতে সক্ষম হয়েছে। কথোপকথন থেকে শুরু করে পারিপার্শ্বিক আবহ সবকিছুর যথোপযুক্ত স্বচ্ছ দর্শন দেখানো হয়েছে। সেক্স অ্যাক্টের মতো মুহূর্তগুলো মনের ভাবনাতে স্বাভাবিক আঙ্গিকে প্রতিস্থাপন করানোর চাতুরতা দেখানোর প্রয়াস করেছে। সংলাপের গভীরতা পর্যবেক্ষণের দিকটা অনেক স্ট্রং ছিল। কপিং মেকানিজমের বিষয়টি এত অসাধারণভাবে বর্ণনা করেছে মনে হবে বাস্তবে ঘটে চলছে সবকিছু। এই সিকুয়েন্স আসে একেবারে মাঝে! পাঠক তখন বইয়ের পাতার সাথে চোখ লেপ্টে দিবে। উৎসুকভাব বাড়তে বাড়তে তীব্র আকার ধারণ করবে। লেখক যেভাবে সাসপেন্স ক্রিয়েট করতে চেয়েছেন সেভাবে সেটা সৃষ্টি হয়েছে। সাইকোলজি বিষয় তখন বেশি কাজ করবে। মনের ভয় ভুলে ক্রমাগত চাপ অনুভব করতে থাকবেন।
আর এইসব কিছু সম্ভব সাবলীল ও প্রাঞ্জল বর্ণনাভঙ্গির জন্য।
● চরিত্রায়ন—
উপন্যাসে চরিত্র অনেক৷ তবে আলিফ, ঈনা, ফারিহা, রিফাত স্যার, আশিক, জেসন এরা প্রধান চরিত্রে অর্ন্তভুক্ত। চরিত্র বিল্ডাপে লেখক কোনো কৃপণতা দেখাননি। আমি নিজে একসময় একটি চরিত্রে প্রতি অবসেসড হয়ে পড়ি। তোলপাড় শুরু হওয়ার মতো অবস্থা। যেখানে চরিত্রগুলোর সাথে ঘটনা ঘটছিল সেখানে নিজেকে অনুভব করি। কমপ্লেক্স রয়েছে চরিত্রগুলোর মধ্য। কখ�� কার মনে কী ভাবনা আর কৌতূহল জন্ম নিচ্ছে শেষ পর্যন্ত আপনি নিজে বুঝতে পারবেন না৷ ছোটো ছোটো চরিত্রের ভূমিকাও অনেক প্রভাবিত করেছে। পর্যাপ্ত ব্যাকস্টোরিও রয়েছে।
উপন্যাসে ঈনা চরিত্র আমার পছন্দের। এই চরিত্রের ব্যাকস্টোরি যখন আমি পড়ি তখন অনুভূতিগুলো শূন্য হয়ে পড়ে। ফিকশনের মধ্যে দিয়ে যে বাস্তবতা তুলে ধরেছেন তার জন্য লেখককে হ্যাটস অফ। চরিত্র বিল্ডাপে ফুল মার্কস।
● সমাপ্তি—
পুরো বইয়ে এতটা তৃপ্তি নিয়ে পড়ে যাচ্ছিলাম যে সমাপ্তি নিয়ে ইচ্ছে করে ভাবিনি। তবে লেখক এতক্ষণ যে মনস্তাত্ত্বিক খেলা দেখিয়েছেন সেটার শেষটা যে ভয়ানক আর মর্মান্তিক হবে কে জানত। লেখকের জমিয়ে রাখা নিঃশ্বাস মনে হয় শেষে এসে ছেড়েছেন। তাও ঘন ঘন। উত্তেজনা তৈরি থেকে শুরু করে টুইস্ট সব জমা রেখেছেন একসাথে ছাড়বেন বলে। তবে এখানে কিছুটা অভিযোগ করব সেটা হচ্ছে, হরর বা কাল্ট নিয়ে যে এতকিছু সেটাকে আরেকটু পাকাপোক্ত করা যেত। অন্তত আরও এক্সট্রা ৮/১০ পেজ এই কাল্টের কয়েকটি ঘটনা উল্লেখিত করা যেত। তবে যতটুকু হিন্টস দিয়েছেন সাথে মূল উদ্দেশ্য বোঝানোর প্রয়াস করেছেন সেটা বইটিকে পজেটিভ দেখানোতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
কাহিনি প্রথমে ও শেষে দুটো ক্লিফহ্যাঙার রয়েছে। সেটা পাঠকদের চিন্তা করার রেড ডোর ওপেন করে দিয়েছে।
.
আমি কাহিনি কী বা কীভাবে প্রবাহিত হয়েছে সেগুলো কিছুই উল্লেখ করেনি। আমি চাই পাঠক নিজ থেকে কাহিনি জানুক, বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা করুক। ঠিকবেঠিকের মাত্রা নিজে বুঝতে শিখুক। যেমন শ্রোডিঙ্গার তত্ত্ব, কপিং মেকানিজম, কন্ট্রাসেপটিভ, অ্যান্টি ওয়েস্টমার্ক সিন্ড্রোম এইসব কেন এসেছে আর আসার কারণ কী সেইসন চরিত্রের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন। বইতে এমনিতে ব্যাখা দেওয়া আছে। কৌতূহল দিয়ে সবকিছুর শুরু আর ভয় দিয়ে শেষ। তবুও ছোটো করে কিছু বললে।
অ্যান্টি ওয়েস্টমার্ক সিন্ড্রোমে ভাই বোনের প্রতি অথবা বোন ভাইয়ের প্রতি সামাজিক বন্ধনের বাইরে অন্য এক আর্কষণ ফুটিয়ে তুলেছে। কপিং মেকানিজমের মাধ্যমে কীভাবে একজন মানুষ অন্য একজন মানুষকে সহজে প্রভাবিত করে নিজের লাভে ব্যবহার করে সেটাও দেখানো হয়েছে। পারিবারিক টানাপোড়েন তো আছেই৷ অন্যদিকে কাল্টের তৎপরতা কেন বৃদ্ধি পাচ্ছে আর তাদের মোটিভ কী সেটারও যুক্তিযুক্ত রেফারেন্স রয়েছে। এমনিতে লেখক এই বইয়ের জন্য বিস্তর রেফারেন্স টেনেছেন যা বইয়ের শেষে একে একে দেওয়া আছে। বিশেষ করে শ্রোডিঙ্গারের তত্ত্ব পুরো উপন্যাস জুড়ে প্রত্যকটি ঘটনার সৃষ্টির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে পরিলক্ষিত। কৌতূহলের বশবর্তী হওয়ার পরে অনেক কাহিনির সূত্রপাত হয় যেগুলো উপন্যাসের শেষে গিয়ে খোলসা হতে থাকে৷
সব মিলিয়ে ভালো সময় কাটানোর বইটি অবশ্যই পাঠ্য৷
➢ লেখক নিয়ে কিছু কথা—
জুনায়েদ ভাই নতুন হিসেবে বেশ ভালো লেখেন যদিও একটিমাত্র বই পড়েছি। আগামীতে ওনার থেকে বিভিন্ন জনরার ভালো কিছু বই পেতে চলেছি। সাইকোলজি থ্রিলার উনি ভালোই লেখতে সক্ষম হবেন। স্টোরিটেলিং স্মুথ তাই যে-কোনো প্লটকে সহজ ভাবে উপস্থাপনা করার পারদর্শিতা দেখাতে পারবেন। সাহসী মানসিকতা রয়েছে তাই গতানুগতিক প্রথার বাইরেও যে তিনি লেখে যাচ্ছেন সেটার জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি। ওনার বাকি দুইটি বই ❛ইউক্লিড❜ ও ❛অসমাপ্ত ক্যানভাস❜ অচিরে-ই সংগ্রহ করব।
● সম্পাদনা—
সম্পাদনার তেমন সমস্যা চোখে পড়েনি। দুয়েক জায়গায় শব্দের কারণে বাক্য অসংগতি লেগেছে। তবে সেটা মেজর ইস্যু না।
● বানান—
পিছনে, ভিতরে, ভাঙ্গা, ডাইরি/ডায়রি, উল্টাপালটা, নাকি, টাঙ্গানো, কিসের, উপর, ড্যাগ্নলথ/ড্যাগনলথ এইরকম বানান ভুল রয়েছে। একই বানানের দুইরকম ফরম্যাটও দেখা গিয়েছে।
পিছন, ভিতর এগুলো মূলত সাধু ভাষায় পড়ে৷ ভাঙা, ডায়েরি, উলটাপালটা অথবা উল্টাপাল্টা, না-কি, টাঙানো, কীসের, ওপর বানানগুলো এইভাবে হলে সঠিক হতো।
● প্রচ্ছদ—
এই উপন্যাসে আরও ভালো প্রচ্ছদ ডিজার্ভ করে। মনঃপূত হয়নি এক কথায়।
● মলাট, বাঁধাই, পৃষ্ঠা—
অন্বেষা প্রকাশন বইটির প্রোডাকশন বেশ ভালো৷ বাঁধাই থেকে পৃষ্ঠার মান সবকিছু। তবে শেষের দিকের কিছু পৃষ্ঠায় সমস্যা ছিল। এক পৃষ্ঠার লেখা অন্য পৃষ্ঠায় দেখা যাচ্ছিল।
➠ বই : দ্য রেড ডোর | জুনায়েদ ইসলাম ➠ জনরা : হরর থ্রিলার ➠ প্রথম প্রকাশ : একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ ➠ প্রচ্ছদ : মশিউর রহমান ➠ প্রকাশনা : অন্বেষা প্রকাশন ➠ মুদ্রিত মূল্য : ৪৭০ টাকা মাত্র ➠ পৃষ্ঠা : ৩৭৬
“That is not dead which can eternal lie, and with strange aeons even death may die.” ― H.P Lovecraft - দ্য রেড ডোর - আলিফ, কলেজছাত্র হিসেবে খুব একটা জনপ্রিয় নয় তাদের কলেজে। এর উপরে পদার্থবিজ্ঞানের ক্লাসে স্যার পড়ানোর বদলে সারাক্ষণ এক ডায়েরি নিয়ে থাকার কারনে তার আরো অসুবিধে হয় এ ব্যাপারে। তাই সে ঠিক করে এই ডায়েরিটি চুরি করে দেখবে যে ভেতরে কি এমন লেখা আছে যার কারণে স্যার সব কিছু ছেড়ে ডায়েরি নিয়ে থাকে।
ঈনা, আলিফের কলেজেরই আরেকজন মেয়ে। রহস্যময়ী এই মেয়েকে কলেজে দেখা পাওয়াই যায় না। তবে একদিন কলেজে যাওয়ার ফলে ঘটনাক্রমে সেও যোগ দেয় আলিফের সাথে ডায়েরি চুরির ব্যাপারে।
ঈনা এবং আলিফের কলেজের রিফাত স্যারও বেশ রহস্যময়। প্রথমে ধর্ম শিক্ষক হলেও তার জীবনের এক বিয়োগান্তক ঘটনার পরে সে পদার্থবিজ্ঞান পড়ানো শুরু করে।ঘটনাচক্রে ঈনা এবং আলিফও তার সাথে জড়িয়ে পরে বিশাল এক গোলকধাঁধায় যার সাথে একটি লাল দরজা জড়িত। এখন এই লাল দরজার রহস্যের মূলে কারা রয়েছে আর কিভাবেই বা আলিফ, ঈনা এবং তাদের রিফাত স্যার এই রহস্যের সাথে জড়িয়ে পরে তা জানার জন্য পড়তে হবে লেখক জুনায়েদ ইসলামের লাভক্রফটিয়ান হরর ধাঁচের উপন্যাস "দ্য রেড ডোর"। - দ্য রেড ডোর লেখকের প্রথম উপন্যাস। প্রথম উপন্যাস হিসেবে লাভক্রফটিয়ান মিথের গল্প বলা বেশ সাহসের কাজই বলা যায়। বিভিন্ন পার্শ্ব কাহিনি বাদ দিলে বইয়ের মূল থিম টা বেশ ইন্টারেস্টিং। তবে লেখনশৈলী ততটা ভালো মনে হলো না ওভারঅল, হয়তো লেখকের প্রথম লেখা বলেই। বইয়ের আরেকটি দিক যেটা ভালো লাগেনি সেটা হলে প্রায় প্রতিটি ঘটনা overstretch করা হয়েছে। তাই পড়ার সময় অনেক সময় মনে হয়েছে আরো অনেক কম কথায় ঘটনাগুলো আরো সুন্দরভাবে বর্ণনা করা যেত। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এর খাতিরে কিছু কাহিনির বিস্তারিত মানা গেলেও কিছু কাহিনি আমাকে আরো কনফিউজড করে দিয়েছে।
দ্য রেড ডোর বইয়ের চরিত্রগুলো মোটামুটি কাহিনির সাথে অনেকাংশেই খাপ খায়, তবে কয়েক জায়গায় তাদের অদ্ভুত কিছু আচরণ আমাকে বিস্মিত করেছে। বইতে প্রচুর bold এবং sexual content রয়েছে যেগুলো অনেকাংশেই কমানো যেতে পারতো বিশেষ করে ঈনার POV এর চ্যাপ্টারগুলোতে, তাতে কাহিনিতে হয়তো খুব একটা পার্থক্য হতো না। সাসপেন্স থ্রিলার হিসেবে দ্য রেড ডোর বইটি মোটামুটি চলে তবে হরর থ্রিলার বিশেষ করে লাভক্রফটিয়ান হরর ট্যাগ এই বইতে এত জোর করে কেন লাগানো হলো তা বুঝলাম না। লাভক্রফটিয়ান হরর টাইপের বইগুলোতে যে ধরনের chaotic environment থাকে সেটা শেষ চ্যাপ্টারের আগে বইতে পুরোপুরি মিসিং। দ্য রেড ডোর বইয়ে মাঝে মধ্যে সাসপেন্স তৈরী হলেও তারপরেই অতিরিক্ত বড় ফ্যামিলি ড্রামা পার্টের কারণে সেখানেও ভাটা পরে যায়। দ্য রেড ডোর বইতে বিভিন্ন জায়গায় লাভক্রফটিয়ান মিথ এবং পপ কালচারের রেফারেন্স এসেছে, সেগুলোর বেশিরভাগই অবশ্য ভালো লেগেছে।
কাগজের মা�� এবং বাঁধাই ধরলে দ্য রেড ডোর বইটার প্রোডাকশন খারাপ না। তবে বইটাকে আরেকটু সম্পাদনা করে আরো সাস্পেন্সফুল করতে পারলে পড়তে আরো আরাম লাগতো। বইয়ের প্রচ্ছদ অবশ্য একদমই সাদামাটা লাগলো, আরো ভালো করা যেত সেটা। টুকিটাকি বানান ভুল বাদে তেমন মেজর মিস্টেক চোখে পড়েনি আমার।
এক কথায়, প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে দ্য রেড ডোর বইয়ে লাভক্রফটিয়ান হরর আনার ব্যাপারে বইটা সাধুবাদ পেতেই পারে, তবে খুব একটা স্বার্থক লাভক্রফটিয়ান হরর বলা যাবে না বইটিকে। লেখকের প্রথম বই যেহেতু, সামনে উন্নতি করার প্রচুর জায়গা আছে সামনে। আশা করি লেখক সামনে আমাদের আরো ভালোমানের বই উপহার দিবেন।
বেশ ডার্ক, প্লট ভালো, গল্পটাও ইন্টেরেস্টিং, সংলাপগুলোও বেশ জীবন্ত। চরিত্রগুলো আজীবন মনে রাখার মতো না হলেও গল্পের জন্য পার্ফেক্ট। শুরুতে লুজ এন্ড থাকলেও মাঝে ব্যাকস্টোরি সেসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে। লেখকের প্রথম বইয়ের থেকে দ্বিতীয় বইয়ের বর্ণনাভঙ্গিটা বেশি ভালো লেগেছে আমার। এটার বর্ণনাভঙ্গি যে মন্দ তা বলব না, তবে আরও স্মুদ করা যেত। ক্রিয়াপদের ব্যবহারে আরও সতর্কতা কাম্য, ক্ষেত্রবিশেষে সর্বনামের আধিক্যও চোখে পড়েছে, মাঝে মাঝে তাল কেটে যাওয়ারও একটা ব্যাপার ছিল। আবার কয়েকবার 'ছিল, করেছিল, দিল', 'যায়, খায়' এই ধাঁচের ছন্দ ঢুকে গেছে। এই ব্যাপারগুলো পরের এডিশনে শুধরে নিলে আরও ভালো হবে। সংবৃত, বিবৃত উচ্চারণজনিত কিছু সমস্যাও ছিল। আরেকটা ব্যাপার, বিরামচিহ্নের ব্যবহারটা বেশীই হয়ে গেছে বোধহয়। একটানা চারটা-পাঁচটা আশ্চর্বোধক চিহ্ন বা প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ছিল না, আসলে তিনটার বেশি দিলেই চোখে পড়ে। যদিও মনোলগ বোঝাতে এসবের প্রচলন দেখা যায় ঠিকই, কিন্তু এক্ষেত্রে সবগুলো বাক্য মনোলগ ছিল না।
ওভারল ভালোই লেগেছে, সামনে এই গল্পেরই আরও পরিণত ভার্শন পাবো আশা রাখি। লেখকের সবথেকে বড় ক্ষমতা জীবন্ত সংলাপ আর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের সুষ্ঠু উপস্থাপন। আশা রাখি এই বিষয়গুলো আকড়ে রাখবেন তিনি।
This is truly a remarkable book for adults! The entire book is the buildup to an ending that is just INSANE! It is bound to give you crippling despair and make you feel small, as all lovecraftian horrors tends to do. I got a review copy early and it is highly recommended.
That is not dead which can eternal lie, And with strange aeons, even death may die. H.P. Lovecraft
দ্য রেড ডোর || জুনায়েদ ইসলাম
An underrated thing!
বইটা আরও বেশি আলোচনা সমালোচনা ডিজার্ভ করে । অন্তত বইটা পড়ে শেষ করার পরে এমনটাই মনে হল আমার । আলোচনা না হবার পেছনে অবশ্য অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে বলে মনে হল আমার । প্রথম কারণটাই হল বইটার কনসেপ্ট সরাসরি প্রচলিত ধর্মবিরোধী । আরেকটু কঠিন ভাষায় বলতে হলে বলব, ঈশ্বর সম্পর্কে যে শিক্ষা আমরা পেয়েছি - সেই কনসেপ্টে বিশাল এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন লেখক । কেন এই বইটা হরর থ্রিলার তা বুঝতে এটুকুই যথেষ্ট । আপনি যখন নিজের শক্ত বিশ্বাসে প্রচণ্ডরকমের একটা ধাক্কা খাবেন, যুক্তিতর্কে নিজের মনকে সায় দিতে পারবেন না আবার থিওরিটা পুরোপুরি দূরে ঠেলেও দিতে পারবেন না - তখন মনের মধ্যে যে দোলাচল তৈরি হবে, সেই দোটানা, সেই অস্বস্তি, সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিটা হররের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি । আন্ডাররেটেড হবার আরেকটা কারণ থাকতে পারে - ইনচেস্ট ট্যাগ । সামাজিক বা ধর্মীয় উভয় দর্শনেই আরেকটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ।
যাহোক, অনেক আলাপ হল । রিভিউ শুরু করা যাক ।
কাহিনী সংক্ষেপ -----------------------------
বিদেশি একটি সংস্থা বাংলাদেশে লুকিয়ে একের পর এক মানুষ উৎসর্গ করে যাচ্ছে কোন এক অপবিশ্বাসের নামে। কিছুটা কৌতুহলের বশে এবং কিছুটা নিজেদের তাগিদে তাদের পিছু নেয় কলেজপড়ুয়া আলিফ জামান, ঈয়াসি ঈনা আর তাদের শিক্ষক রিফাত উল্লাহ।
সংস্থাটির পিছু নেওয়ার কারনে একে একে হাড়কাঁপানো তিনটি কেস উপস্থিত হয় তাদের সামনে। এ কেসগুলো সমাধান করতে প্রয়োজন শুধু বুদ্ধিই না, তাৎক্ষণিক সঠিক সিদ্ধান্তের। একটু ভুল মানেই মৃত্যু!
পারবে কি তারা সংস্থাটিকে আবিস্কার করে তাদের সদস্যদের সনাক্ত করতে? পারবে কি তারা সংস্থাটির পরবর্তী শিকারকে উদ্ধার করতে? পারবে কি তারা সংস্থাটির অপকর্ম থামাতে? নাকি কৌতুহলের কাছে হার মেনে এমন এক প্রাচীন ভয়কে আবিস্কার করবে, যা কোন মানুষের উপলব্ধি করা উচিৎ না!
পাঠ প্রতিক্রিয়া -------------------------
৹ যেভাবে শুরুটা -
শুরুতে একটা ছোট্ট প্রারম্ভিকার মাধ্যমে বইয়ের শুরু । এই অধ্যায়ের তাৎপর্য বইটা শেষ করলে তবেই রিলেট করা যায় । এছাড়া বড় বড় হরফে একটা ১৮+ ওয়ার্নিং ও এইচ পি লভক্রাফটের একটা কোটেশনের মাধ্যমে বইটা শুরু করা হয়েছে । এরপর আলিফ চরিত্রটির রাতজাগা ঘুমের রুটিন থেকে দৈনন্দিন জীবনের কার্যকলাপের বর্ণনার মাধ্যমে গল্পের সূত্রপাত । মূল রহস্য শুরু করতে লেখক কিছুটা সময় নিয়েছেন একশত পৃষ্ঠা অবধি । এর কারণটা নিচে বলবো ।
৹ প্লট ও চরিত্রায়ন
প্লটটা বেশ ইন্টারেস্টিং । প্রচ্ছদে যদিও হরর থ্রিলার ট্যাগ দেওয়া রয়েছে তবু এটাকে সম্ভবত ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বললেও ভুল হবেনা । যাহোক খুব ধীরস্থিরভাবে মূল চরিত্র আলিফকে কেন্দ্র করে গল্পের সূত্রপাত । এরপর একে একে অন্যান্য চরিত্রগুলো খুব দক্ষতার সাথে গল্পে নিয়ে আসেন লেখক । চরিত্রায়নে দারুণ কাজ দেখিয়েছেন তিনি । খুব ডিটেইলস্ সহকারে , যথেষ্ট স্ক্রিনটাইম খরচ করে প্রতিটা চরিত্র তিনি তৈরি করেছেন । পাশাপাশি পাঠকের কাছে চরিত্রগুলোর মনস্তত্ব তুলে ধরতে বর্তমানের সমান্তরালে তাদের অতীতের গল্পও তুলে ধরেছেন মাঝে মাঝে । সর্বোপরি চরিত্রগুলো ডেভেলপ করতে লেখক যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন এবং আমার তরফ থেকে বলবো এ'কাজে তিনি শতভাগ সফল । আর এটাই মূলত একশত পৃষ্ঠা পরে মূল রহস্যে ঢোকার কারণ । লেখক চরিত্রগুলো প্রপার বিল্ডাপ দিতে চেয়েছেন তাই মূল রহস্য শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়েছে ।
৹ স্টোরিটেলিং ও গল্পের বুনন
লেখকের প্রথম বই হিসেবে গল্পের বুনন যথেষ্ট ভালো । পাঠক কখন কীভাবে চরিত্রগুলোকে পড়তে চায় সেটা উপলব্ধি করেই গল্পটা এগিয়েছেন তিনি । যখন যেভাবে দরকার সেভাবেই গল্প এগিয়েছে । অন্যান্য চরিত্র যেমন রিফাত স্যার, ফারিহা এই চরিত্রগুলোও যথেষ্ট ডেভেলপড্ । তবে ঈনা চরিত্রটির চরিত্রায়নে জোর দিতে গিয়ে গল্পের ছন্দপতন ঘটেছে বেশ ভালোরকমের । ঈনার অতীতকালের গল্পটা শুরুতে চরিত্রের মনস্তত্ব বোঝানোর দারুণ একটা পন্থা মনে হলেও যতই পৃষ্ঠা বেড়েছে ততই মনে হয়েছে ঐ চ্যাপ্টারগুলো অহেতুক লম্বা করে মূল গল্পের ছন্দপতন ঘটেছে । তবে আশার বিষয় হল ঈনা চরিত্রের অতীত জীবনের চ্যাপ্টারগুলোর সমাপ্তির পরে গল্পে আবার ছন্দ ফিরে এসেছে এবং শেষ অবধি আর কোথাও ছন্দপতন লক্ষ্য করিনি ।
৹ বর্ণনাভঙ্গি
বর্ণনাগুলো বেশ সুন্দর ও সাবলীল লেগেছে আমার কাছে । দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভিজুয়ালাইজ করতে পেরেছি । এখানেও লেখক শতভাগ সফল ই বলা চলে । বিশেষত শেষের দিকে লেখক যে জার্নিটা আমাকে দিয়েছেন তা অকল্পনীয় ও ভয়াবহ ।
৹ পরিণতি
বইটির সবথেকে চমকপ্রদ, অবিশ্বাস্য পয়েন্ট হল বইটির পরিণতি । দ্য রেড ডোর - লাল দরজা । কী এই লাল দরজা? কী আছে এই লাল দরজার ওপাশে? লভক্রাফটিয়ান হররের মিশেলে দারুণ একটা ফিনিশিং দিয়েছেন লেখক । দূর্দান্ত একটা থিওরিকে চমৎকার এন্ডিং কতজনই বা দিতে পারে বলুন?
৹ প্রোডাকশন
বইটা প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশনী । তাদের বাঁধাই ও পৃষ্ঠার মান ভালোই তবে প্রচ্ছদে আরেকটু ডিটেইলিং আশা করেছিলাম । বানান ভুল বা সম্পাদনাজনিত ভুল খুব বেশি চোখে পড়েনি । তবে হয়তো আরেকটু নির্ভুল করা যেত ।
তো পাঠক, এই ছিল দ্য রেড ডোর বইটি নিয়ে আমার আলোচনা । আর হ্যাঁ, পাঠকের জন্য লাল দরজা খোলা ই রেখেছেন লেখক । প্রথম অধ্যায় আর শেষ অধ্যায়ে ক্লিপহ্যাঙ্গার রেখেছেন লেখক । অর্থাৎ? অর্থাৎ লাল দরজা কেবল খুলেছে । এখনও অনেক রহস্যই বাকি!
এক নজরে, বই : দ্য রেড ডোর লেখক : জুনায়েদ ইসলাম জনরা : হরর থ্রিলার প্রকাশনা : অন্বেষা প্রকাশন মুদ্রিত মূল্য : ৪৭০ টাকা মাত্র পৃষ্ঠা : ৩৭৬
"There is no such thing as absolute right or wrong,everything is related,just a matter of perspective....Only thinking makes it so....." উপরের স্টেটমেন্টটা শুধু যারা বইটা পড়েছে তারা বুঝতে পারবে..... বইটি আমি এখন পরিনি যদিওবা।২০২২ সালে পড়া বইটা।এর মাঝে কখনও বইটি পরা হয়নি বা বলা যায় কখনোও পরতে চাইনি।আমাদের জীবনে কিছু বই আছে যেগুলো মনের মধ্যে অনেক বড় প্রভাব রাখে...কিন্তু সেগুলো তৈরিই হয় জীবনে একবার পরার জন্যই!....এই বইটিও ঠিক তেমনি।হুট করে মনে হলো বইটা নিয়ে কিছু লেখা যাক..... "দ্য রেড ডোর" - জুনায়েদ ইসলাম: একটি অন্ধকার, রোমাঞ্চকর লাভক্র্যাফটিয়ান বই।এই কথাটা বলার কারন,এই বইয়ে H.P Lovecraft এর পদচারণ স্পষ্ট।আর এই বই আমার মনের মধ্যে একটা লাল দরজা খুলে দিয়েছে—যার পিছনে লুকিয়ে আছে রহস্য, ভয়, আর অজানার প্রতি অদম্য কৌতূহল! এটি শুধু একটি বই নয়, বরং একটি অভিযান, যেখানে প্রতিটি পৃষ্ঠা আপনাকে আরও গভীরে টেনে নিয়ে যায়। গল্পের কেন্দ্রে আছে আলিফ জামান, ঈয়াসি ঈনা, এবং তাদের শিক্ষক রিফাত উল্লাহ। তারা একটি রহস্যময় বিদেশি সংস্থার পিছু নেয়, যারা বাংলাদেশের মাটিতে অপবিশ্বাসের আড়ালে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। এই সংস্থার গোপন উদ্দেশ্য আর লাল দরজার পিছনের সত্য উদঘাটন করতে গিয়ে চরিত্রগুলো এমন এক অন্ধকার জগতে প্রবেশ করে, যেখানে একটু ভুল পদক্ষেপ মানেই ধ্বংস!জুনায়েদ ইসলামের লেখনী এই বইটিকে অনন্য করে তুলেছে। তিনি লাভক্র্যাফটিয়ান হররের সেই অস্বস্তিকর, মন-কাঁপানো আবহকে এতটা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে পড়তে পড়তে মনে হবে আপনি নিজেই সেই অতিপ্রাকৃত ছায়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। বইটির বর্ণনা এতটাই প্রাণবন্ত যে রাতের বেলা পড়ার সময় একবার হলেও পিছন ফিরে তাকিয়েছি, কিছু লুকিয়ে আছে কিনা দেখতে!চরিত্রগুলো এই গল্পের প্রাণ। আলিফের সাহস, ঈনার বুদ্ধিমত্তা, আর রিফাতের দায়িত্বশীলতা—প্রত্যেকে এমনভাবে গড়ে তোলা যে তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আপনাকে গল্পের সঙ্গে আরও বেঁধে ফেলে। তাদের ভয়, দ্বিধা, আর সাহসের মুহূর্তগুলো পাঠক হিসেবে আমাকে বারবার ভাবিয়েছে—আমি হলে কী করতাম?বইটির আরেকটি বড় শক্তি হলো এর স্থানীয় স্বাদ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লাভক্র্যাফটিয়ান হররের এমন অসাধারণ মিশ্রণ খুব কমই দেখা যায়। জুনায়েদ ইসলাম স্থানীয় সংস্কৃতি আর বিশ্বজনীন ভয়ের থিমকে এত সুন্দরভাবে মিশিয়েছেন যে গল্পটা একই সঙ্গে আমাদের কাছাকাছি আর দূরের মনে হয়।আপনি যদি হরর, থ্রিলার, বা রহস্যপ্রেমী হন, তাহলে "দ্য রেড ডোর" আপনার বুকশেলফে থাকা মাস্ট। তবে একটা সতর্কবাণী—এই লাল দরজা খুললে ফিরে আসা সত্যিই কঠিন! ⭐ ৪.৫/৫ #দ্যরেডডোর #জুনায়েদইসলাম #লাভক্র্যাফটিয়ানহরর #বাংলাবই
Storyline টা খুবই Unique. লেখক উনার প্রথম বই হিসেবে অসাধারণ লিখেছেন। আমি মোটামুটি দেড়দিনের ভেতরে পুরো বইটা শেষ করে ফেলেছি। It really got me hooked.
প্রথমেই বলি, তিনটি প্রধান চরিত্র নিয়ে। আলিফ,ঈনা ও রিফাত স্যার।
আমরা নিশ্চয়ই এই গল্প শুনেছি, 'Curiosity killed the cat.' আলিফ চরিত্রটি একটু বেশিই কৌতূহলী, রিফাত স্যারের ডায়েরি চুরি করা থেকে সেইন্ট ফ্রেড্রিক দ্বীপের সেই অজানা 'রেড ডোর' এর কাছে নিয়ে যায়। এছাড়া সে একটু বোকা এবং বেশ সাহসী। আমার মনে হয়, বোকারাই সাহসী হয়, বুদ্ধিমানেরা একটি ভীতু । তার মূলমন্ত্র হলোঃ There is no such thing as absolute right or wrong. Everything is relative,just a matter of perspective.
ভালোবাসা এবং Obsession এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না সে। এছাড়া সত্য না জেনে জয়, ফাহিমের মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করে। গল্পের মাঝপথে এসে তার creativity এবং Fear of unknown কে জয় করা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
ঈনা চরিত্রটিকে বেশি একটা পছন্দ হয়নি আমার। নিজের আত্মসম্মান বলি দিয়ে একটা অনৈতিক পথ বেছে নেয় সময় কাটানোর জন্য। তবে এর একটি Positive side হচ্ছে সে যাদের সাথে সময় কাটায়,তাদের থেকে টেজার এবং জিপিএস ট্র্যাকার gift পায়, যা তাদের চট্টগ্রামের মিশনে বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করতে সহায়তা করে। ঈনার বাবার একটি কথা সে যদি মেনে চলতো, তবে তার এই পরিণতি হতো না 'পৃথিবীটা সীমাহীন। কিন্তু আমাদের জীবনটা না। কখনো অন্য কাউকে দিয়ে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিবা না। নিজে নিবা।'
তবে ঈনাকেও দোষারোপ করা যাবে না। আশিক ভাইয়ার প্ররোচনায় পড়েই সে এসব করে। তবে চরিত্রটি বেশ বুদ্ধিমতী। এটা মানতেই হবে, ঈনাকে ছাড়া আলিফ ও রিফাত স্যার এতগুলো মানুষকে উদ্ধার করতে পারত না।
রিফাত উল্লাহ - আলিফের কলেজের ফিজিক্স টিচার। আলিফের মতো এই চরিত্রেরও বেশ কৌতূহল। কলেজের অধ্যাপনা ছেড়ে তিনি নিজের ছেলের মৃত্যুর আগের শেষ কথাগুলোর রহস্য উদঘাটন করতে করতেই পিশাচ 'এলিজাবেথ গোমেজ' এর হাতে মারা যায়। লোকটি এসব কাহিনির জন্য সবকিছু থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে,যা তাকে অজানা সত্য উদঘাটনের দিকে নিয়ে যায়। এই চরিত্রটি আমার কাছে বেশ রহস্যময়ী মনে হয়।
এরপর আরো আছে কিছু অপ্রধান চরিত্র যেমনঃ ফারিহা,জেইসন গোমেজ,আশিক ইত্যাদি।
ফারিহা চরিত্রটি ছোটবেলা থেকেই মায়ের সাথে বিদেশে থাকে,দশ বছর বয়সে বড়ো ভাইয়ের সাথে দেখা হওয়া দুজনের ভাগ্যেই আনে এক বিশাল পরিবর্তন। চরিত্রটির মাঝে Psychological reverse - imprint failure দেখা দেয়৷ ত���ও বলবো সে বেশ উৎফুল্ল মনোভাবের।
'দ্য রেড ডোর' বইয়ের Villain হিসেবে জেইসন গোমেজকেই বলা যায়, যার ১১ মাসের Brain dead স্ত্রীর প্রতি অসীম ভালোবাসার টানে তাকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সে ছোট ছোট বাচ্চা ও মেয়েদের উৎসর্গ করে লাল,নীল ও সবুজ কোর সংগ্রহ করে। আশিক ভাইয়া নিয়ে আগেই বলেছি, চরিত্রটি আমার একদমই ভালো লাগে নি। কেউ কখনো টাকার লোভে কাউকে এসব নোংরা জিনিসে উৎসাহ দেয় কীভাবে?
পরকালে কি ঘটবে, তা কেউই বলতে পারবে না। যার যার ধর্মীয় জ্ঞান অনুযায়ী সে তার তার টাই বিশ্বাস করবে। কিছু জিনিস অজানা থাকাটাই ভালো। কারণ সত্য মেনে নিতে মানুষের একটু কষ্টই হয়। as H.P Lovecraft said- 'That is not dead which can eternal lie- and with strange aeons,even death may die.'
তবু মনে এখনো কিছু প্রশ্ন আছে, ১. জেইসন গোমেজের ছেলের কি হয়? ২. ফারিহার স্বপ্ন আর জেবার পেইন্টিং এর মিল কি একান্তই কাকতালীয়? নাকি লুকিয়ে আছে কনো রহস্য?
This entire review has been hidden because of spoilers.