"এরকুল পোয়ারো" কেন পৃথিবীর সেরা গোয়েন্দা?
"কী এমন আছে পোয়ারোর মাঝে, যে কারণে একদল মানুষ মনে করে পৃথিবীর সেরা গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো?" প্রশ্নটাকে একপাশে সরিয়ে বরং দেখি কী এমন অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে পোয়ারোর মাঝে, যা অন্য গোয়েন্দা থেকে আলাদা।
পোয়ারো যখন একটা কেস হাতে নেয় বা সমাধানের জন্য ঘটনাস্থল, তথ্য, কথোপকথনের আশ্রয় নেয় তখন সেটা পাঠককেও অভিহিত করে। নিজে যা দেখে, নিজে যা জানে সবটুকু পাঠকের সাথে শেয়ার করে। এতে করে পাঠক আপনমনে নিজেকে পোয়ারোর জায়গায় কল্পনা করে। অবচেতন মন সমাধানের পথ খোজে। এতে পাঠকের মানসিক বিকাশ ঘটে। অনুসন্ধানী সত্ত্বা জাগ্রত হয়।
পোয়ারো কখনও শেষে এসে টুইস্টের নামে পুরোটা সময় নিজের ভিতর সব রেখে শেষে অবাক করে না। বরং পাঠক পোয়ারোর সাথে থেকে শেষে অবাক হয় এ কারণে, সে ও তো দেখেছিলো, জেনেছিলো, তাও কেন তার মাথায় আসলো না!
আর এখানেই পোয়ারো তথা ক্রিস্টির সফলতা।
বাংলাদেশের একমাত্র অনুমোদিত অনুবাদ বিবলিওফাইল প্রকাশনী থেকে অগাথা ক্রিস্টি সমগ্র ধীরে ধীরে নিয়ে আসছে। তার ধারাবাহিকতার সূচনা হয় "আগাথা ক্রিস্টি সমগ্র - ১" নিয়ে। এ সমগ্রে আছে এরকুল পোয়ারোর বিখ্যাত দুটি উপন্যাস ও একটি ছোট গল্পের সংকলন। সবগুলো গল্পই আবর্তিত হয়েছে এরকুল পোয়ারোকে কেন্দ্র করে।
◾ অ্যাপয়েন্টমেন্ট উইথ ডেথ -
জেরুজালেম থেকে পেট্রায় বেড়াতে এসে আচমকা মারা গেলেন মিসেস বয়েনটন। আপাতদৃষ্টিতে হৃদরোগের কারণে মারা গেছেন বলে মনে হলেও পেছনে রয়ে গেছে সন্দেহ। কারণ মিসেস বয়েনটন এমন একজন মহিলা ছিলেন, তিনি মারা গেলে তার কাছের লোকেরা স্বস্তি পেত!
পেট্রায় আরও বেড়াতে এসেছেন মিস সারা কিং, ডা. জেরার্ড, জেফারসন কোপ, লেডি ওয়েস্টহোম আর মিস পিয়ার্স। সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সম্মানজনক অবস্থানে ছিলেন। ঘটনা চক্রে তারাও জড়িয়ে গেলেন বয়েনটন পরিবারের সঙ্গে। সেইসাথে খুন সন্দেহে মৃত্য বয়েনটন কেসে।
ওহ... বলাই হয়নি, আশেপাশে বেড়াতে এসেছেন বিখ্যাত গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারোও। এবং অবধারিত ভাবে কেসটার প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব পড়লো তাঁর ঘাড়ে।
◾ একান্ত অভিব্যক্তি -
পুরো উপন্যাসকে দুই পার্টে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম পার্টে মিসেস বয়েনটন ও তার পারিবারিক সদস্যদের ভ্রমন, সম্পর্কের টানাপোড়েন, নিজেদের জগৎকে হাইলাইট করেছেন। এবং শেষে ধুম করে মৃত্যু!
প্রথম পার্টের কেন্দ্রবিন্��ু যেমন ছিলেন মিসেস বয়েনটন, ঠিক তেমনি দ্বিতীয় পার্টের মূল কেন্দ্রবিন্দু এরকুল পোয়ারো। তিনি সত্যের কাছে পৌঁছান সাসপেক্টদের বয়ান, ভাবভঙ্গি, চালচলন আর তাঁর মাথার ধুসর কোষের মাধ্যমে। গল্পে সাইকোলজীর সুন্দর ব্যবহার দেখান।
রহস্যগল্পে দেখা যায় যে, সবচে' নিষ্পাপ লোকটাই মূল হোতা। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে টুইস্ট ছিলো মাথা ঘুরানোর মতো। একেই বোধহয় বলে পারফেক্ট এন্ডিং!
গল্পে পোয়ারো বরাবরের মতো আবারও প্রমাণ করেন তিনি কেন সেরা। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কথামালাকে জুরে কিভাবে প্রকৃত ছবির মূল অবয়ব ফুটান, তা দেখার মতো। এবং সাথে সাথে পাঠককেও দেন সব ধরণের মাথা ঘামানোর সুযোগ। ক্রিস্টি পড়ার সময় সবসময়ই আমার একটা পর্যায় আসে, যখন আমিও গোয়েন্দা হয়ে যাই। অবচেতন মনে খোঁজতে থাকি কালপ্রিট কে...
◾ দ্য বিগ ফোর -
মন চের অ্যামি (ওতে লেখা)-
এই চিঠিটা যখন পাবে, তখন আমি দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে ফেলেছি। আমার জন্য অশ্রু-বর্ষণ কোরো না, তবে আমার নির্দেশ পালন কোরো। এই পত্র পাবার সঙ্গে-সঙ্গে ফিরে যাও দক্ষিণ আমেরিকায়। শুধু-শুধু গোঁয়ার্তুমি কোরো না, তোমাকে বেহুদা এই নির্দেশ দিচ্ছি না। জরুরি বলেই বলছি, এরকুল পোয়ারোর পরিকল্পনার এটাও একটা অংশ! বেশি কিছু বলব না; আমার বন্ধু হেস্টিংসের মতো বুদ্ধি যার আছে, তাকে বলার দরকারও হয় না।
চতুষ্টয়ের বিনাশ হবেই! তোমাকে ভালোবাসা জানাই বন্ধু আমার, মৃত্যুর ওপার থেকে।
-তোমার একান্ত,এরকুল পোয়ারো।
◾ একান্ত অভিব্যক্তি -
এরকুল পোয়ারোর হাতে যে কয়টা চ্যালেঞ্জিং কেস এসেছে, তার মধ্যে নিঃসন্দেহে এটা শীর্ষে থাকবে। আর থাকবেই-বা না কেন... এতো বিশাল পরিব্যাপ্তির উপন্যাস আর চোখে পড়েনি।
জনরা হিসাবে গোয়েন্দার সাথে সাথে নিঃসন্দেহে এটা কন্সপিরেসি থ্রিলার হিসাবে উৎকৃষ্ট মানের উপন্যাস। ক্রিস্টির সমালোচনায় প্রায়ই বলা হয়, গল্প খুব ধীর গতির। মূল গল্পে পৌঁছাতে অনেক সময় যায়। কিন্তু এ গল্পটা এসবের ধার ধারেনি। শুরু থেকে শেষ অবধি টান টান উত্তেজনা। পরতে পরতে বুদ্ধির ঝিলিক। কাউন্টার পরিকল্পনা কেমন হতে পারে, বইটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে।
একটা উদাহরণ দেই, পোয়ারো হেস্টিংসকে শত্রুর ডেরায় পাঠায় ছদ্ম পরিচয়ে, শত্রুপক্ষ পোয়ারোর মতলব বুঝে কাউন্টার প্ল্যান করে উল্টো ফাঁদ পেতে হেস্টিংসকে দিয়ে পোয়ারোকে ধরার জন্য। এরপর দেখা যায় পোয়ারো ওদের কাউন্টার প্ল্যানের আরেকটা কাউন্টার প্ল্যান করে উল্টো সবাইকে ধরতে চায়। কিন্তু ফলাফল; শত্রুপক্ষ পোয়ারোর এ প্ল্যানটার কথা চিন্তা করে আগেই এস্কেপ প্ল্যান করে রাখে!
মোট কথা, পুরো বই জুড়েই এমন বুদ্ধির খেলা চলে। আর পাঠক হিসাবে আমি পাই তৃপ্তি।
পুরো উপন্যাসটার সময়কাল ছিলো বিশাল। প্রায় বছর খানেক! একটা রহস্য, গোয়েন্দা গল্পের জন্য এটা অনেক বড় একটা সময়কাল।
এ গল্পটাকে ক্রিস্টি চাইলে আরও বিশাল করতে পারতেন। মোটামুটি চার খন্ডে চারজন এন্টাগনিষ্টকে নিয়ে শেষে পঞ্চম খন্ডে একটা ধামাকাধার ফিনিশিং আনতে পারতেন। তারপরও মনে হতো, বইটার আবেদন বিন্দুমাত্র কমতো।
তবে সময়টা ছিলো গোয়েন্দা কাহিনির জন্য সবচে' নাজুক। তখন এ জনরা হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগুচ্ছে। ছোটগল্পের ডিমান্ড থাকলেও ক্রিস্টিই প্রথম এ জনরায় উপন্যাসকে একটা মানদণ্ডে দাঁড় করান। জনপ্রিয় করান বিশ্ব দরবারে। আর তাই, এমন ইউনিভার্স তৎকালিক সময়ে কল্পনারও অতীত। তাও আবার গোয়েন্দা জনরায়!
না হলে নিঃসন্দেহে এ গল্পটার আলাদা একটা ল্যান্ডমার্ক হতো।
◾ পোয়ারো ইনভেস্টিগেটস -
🖊️দ্য অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য ওয়েস্টার্ন স্টার
দেবতার চোখ থেকে খোয়া যাওয়া একজুড়া হীরের মাঝে একটা কিনেছিলেন হলিউড অভিনেত্রী মিস মার্ভেল। হঠাৎ করে আসা শুরু করলো উড়ু চিঠি। হীরেটা ফিরে যাবে আবার দেবতার চোখে। ভয় পেয়ে মিস মার্ভেল আসলেন পোয়ারোর কাছে পরামর্শ চাইতে। কিন্তু পোয়ারোর চোখের সামনেই চুরি হয়ে গেলো হীরে!
🖊️দ্য ট্রাজেডি অ্যাট মার্সডন ম্যানর
মি. ম্যালট্রেভার্স ধুম করে মারা গেলেন! ডাক্তারের দাবী মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ। কিন্তু বীমা কোম্পানির সন্দেহ হওয়ায় তদন্তে যেতে হলো পোয়ারোকে। যেখানে অনেক টাকার প্রশ্ন সেখানে সন্দেহ স্বাভাবিক।
🖊️দ্য অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য চিপ ফ্ল্যাট
আড্ডার মাঝখানে ক্যাপ্টেন হেস্টিংস জানলো বাৎসরিক মাত্র আশি পাউন্ডে ফ্ল্যাট পেয়ে গেলো, যেখানে মিনিমাস রেঞ্জ সাড়ে তিনশো থেকে চারশো! পোয়ারোকে মজার ছলে এটা জানাতেই খোজ শুরু করলো পোয়ারো। বেরিয়ে এলো কেঁচো কুড়তে সাপ!
🖊️দ্য মিষ্ট্রি অভ হান্টার'স লজ
রোগে দশাসই এরকুল পোয়ারো। খু/নের তদন্ত করতে এবার একাই যাবে ক্যাপ্টেন হেস্টিংস। ঘটনাস্থলে আছে পুলিশ ইন্সপেক্টর জ্যাপ। কে মারলো ভদ্রলোককে?
🖊️দ্য মিলিয়ন ডলার বন্ড রবারি
এক মিলিয়ন ডলার দামের বন্ড চুরি হয়েছে মাঝ সাগরে। চিরুনি তল্লাসি করেও হদিস পেলো না কর্তৃপক্ষ। রহস্য সমাধানের দায়িত্ব নিলো পোয়ারো।
🖊️দ্য অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য ইজিপশিয়ান টুম্ব
পিরামিড আর মমির দেশে আসতে বাধ্য হয়েছেন পোয়ারো। কারণ ঘটনার সূত্রপাত এখানেই। একটা মমি আবিষ্কার হওয়ার পর থেকেই এর সাথে জড়িত অভিশাপ ফলতে শুরু করলো। একটা দুইটা না, চার চারটা মৃত্যু! এবং আরও হতে পারে...
🖊️দ্য জুয়েল রবারি অ্যাট দ্য গ্রান্ড মেট্রোপলিটন
গল্পছলে হোটেল মেট্রোপলিটনে পোয়ারোকে মিসেস ওপালসেন শখের মুক্তোর হার দেখাতে গিয়ে দেখেন হার গায়েব। রহস্য জটিল হয়ে উঠলো অবিকল আরেক সেট হারে...
🖊️দ্য কিডন্যাপড প্রাইম মিনিস্টার
"কেসটা ছোট হলেও এর ব্যাপ্তি, পরিধি আর মাহাত্ম্য বিশাল।" হেস্টিংস বললো।
অরাজকতার উদ্দেশ্য নিয়ে কিডন্যাপড করা হয় প্রাইম মিনিস্টারকে। ঊর্ধতম কর্মকর্তা ছুটে আসেন পোয়ারোর কাছে। এবং পোয়ারো চ্যালেঞ্জটা নেন। একদম সেয়ানে সেয়ানে।
🖊️দ্য ডিস্যাপিয়ারেন্স অভ মি. ড্যাভেনহেইম
সবার চোখের সামনে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম মি. ড্যাভেনহেইম কিন্তু এরপর হাওয়া! একজন প্রভাবশালী ব্যাক্তির নিখোঁজ; সারা শহর তৎপর। ইন্সপেক্টর জ্যাপ বাজি লাগালেন পোয়ারোর সাথে। ঘরে বসেই কাজে হাত দিলেন পোয়ারো।
🖊️দ্য অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য ইটালিয়ান নোবলম্যান
ড. হকার পোয়ারো ও হেস্টিংসের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন পোয়ারোর বাসায়। এমন সময় খবর এলো এক রুগীর বাসা থেকে, "আমাকে বাঁচাও! মেরে ফেললো!!" দৌড়ে গেলো সবাই। পুলিশ খুব দ্রুত সাসপেক্টকে ধরেও ফেললো। কিন্তু সাসপেক্ট-ই খু/নি সেটা মানতে নারাজ পোয়ারো।
🖊️দ্য কেস অভ দ্য মিসিং উইল
মিস মার্স নিয়ে আসল এক অদ্ভুত কেস। একটা উইল খোঁজে দিতে অনুরোধ করলো পোয়ারোকে। তার চাচা একটা উইল লিখে, উইলটাকে লুকিয়ে রেখে গেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে বের করতে পারলে মিলবে সম্পত্তি, আর না হলে চলে যাবে হাসপাতালের নামে...
🖊️দ্য ভেইলড লেডি
লেডি মিলিসেন্ট ষোল বছর বয়সে একটা চিঠি লিখেছিলেন আবেগে। সেটাই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য। একজন ব্ল্যাকমেল করছে; দাবী করছে বিরাট অংকের টাকা। তাকে উদ্ধারে নামলেন পোয়ারো।
🖊️দ্য লস্ট মাইন
অতীত হাতড়ে একটা মাইন কোম্পানির চৌদ্দ হাজার পাউন্ড শেয়ারের গল্প শোনাচ্ছেন এরকুল পোয়ারো। গল্পটায় মিশে আছে একজন চাইনিজের হ/ত্যা রহস্য।
🖊️দ্য চকলেট বক্স
অনেক তো হলো জয়ের গল্প। এবার হেস্টিংসের অনুরোধ একটা গো হারা হারার ঘটনা শুনাতে বসেছেন পোয়ারো। তাও একজন বৃদ্ধ মহিলার কাছে...!
◾ একান্ত অভিব্যক্তি
ছোট গল্পের আলাদা পরিতৃপ্তি আছে। এবং সে পরিতৃপ্তি ফুটিয়ে তোলা খুব কঠিন। বিশেষ করে রহস্য জনরায়। তবে সে অসাধ্য সাধন করে উৎকৃষ্ট মানের সে ল্যান্ডমার্ক ক্রিস্টি স্থাপন করেছেন আরও আগে। তেমনি একটি ল্যান্ডমার্কের নাম "পোয়ারো ইনভেস্টিগেশনস।"
মোট চৌদ্দটি গল্পের সমাহার বইটিতে। চুরি, ডাকাতি, মিসিং, রহস্য, মৃত্যু, খামখেয়ালিপনার মতো সবগুলো উপজনরায় লেখা গল্পগুলো। তবে সবগুলো যে সমান উপভোগ্য ছিলো এমন বলবো না, তবে কয়েকটা ছিলো টপনচ। পুরো তিনশত ষাট ডিগ্রী মাথা ঘুরানো।
তবে আমার কাছে সবচে' অবাক করা গল্প ছিলো "দ্য চকলেট বক্স।" যে গল্পে পোয়ারো হেরে যান একজন বৃদ্ধা মহিলার কাছে।
◾ অনুবাদ -
অনুবাদের জায়গায় যখন সবার প্রিয় "ফুয়াদ আল ফিদাহ" ভাই, সেখানে অনুবাদ নিয়ে কিছু বলা আসলে বাতুলতা। বর্তমান সময়ে যে কয়জন অনুবাদকের বই চোখ বুঝে হাতে নেয়া যায়, তার মধ্যে ফুয়াদ ভাই সর্বাগ্রে। মনেই হয় না অনুবাদ, এতো সাবলিল আর মোলায়েম ভাবে অনুবাদ করেন। যেন কোনো মৌলিক পড়ি!
◾ কিছু ভূলভ্রান্তি -
এতো বড় একটা বইয়ের দু'চারটা ভুলত্রুটি থাকতেই পারে। এটা দোষের কিছু না, যদি না অতিরিক্ত হয়। তবে সম্পাদনার ভুলগুলো আমার চোখে সবচে' বড় ভুল।
বেশ কিছু জায়গা ছিলো গুরুচণ্ডালী দোষে দোষী। একটা জায়গায় "বুক ফাটে তো মুখ ফুটে না হয়ে গেছে "মুখ ফুটে তো বুক ফাটে না!"
ছোটগল্পে একটা জায়গায় দেয়া "পাঠকের সুবিধার জন্য একটা ম্যাপ এঁকে দিচ্ছি।" কিন্তু বইয়ের কোথাও কোনো ম্যাপ নেই!
কোথায়ও "মি. পোয়ারো" আবার বেশির ভাগ জায়গা জুড়ে আছে "ম. পোয়ারো!" বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেছি। আমার জানামতে মিস্টার শব্দটার শর্ট ফর্মে "মিঃ/মি." লেখা হয়।
◾ প্রোডাকশন -
প্রোডাকশন নিয়ে বলার মতো কিছু নাই। মলাট ও পাতার কোয়ালিটি ছিলো সেরা। রাউন্ড বাইন্ডিংয়ের স্মোথলি পড়ার উপযোগী বই। তবে যে জিনিসটা ভালো লাগেনি, সেটা হলো ফিতা। এতো দামি আর কালেক্টেবল একটা বইয়ে এতো চিকন ফিতা! দেখতে যেমন চোখে লাগে, তেমনি মানের সাথেও গুণগত ভাবে যায়নি।
◾ একান্ত কথা -
আগাথা ক্রিস্টির বই মোট আশিরও অধিক। এমন এক সমগ্রকে প্রতি খন্ডে তিনটা করে নিয়ে প্রায় ২৭/২৮ বানানো স্রেফ ব্যবসায়ীক মুনাফালোভীর পরিচায়ক। এমন সিদ্ধান্ত কোনো মতেই পাঠক বান্ধব নয়। দেশের বড় একটা অংশ স্টুডেন্ট। তাদের কথা মাথায় রেখে প্রজেক্ট সামনে বাড়ানোর দরকার ছিলো।
একেকটা সমগ্রে নিদেনপক্ষে পাঁচটা করে উপন্যাস রাখা উচিৎ ছিলো। এতে করে সময়, টাকা আর রাখার জায়গা অনেকাংশে সেভ হতো।
একে একে অনেকগুলো সমগ্র বের হয়ে গেলো কিন্তু আজও বুঝলাম না বিবলিওফাইলের উপন্যাস প্রকাশের ধারাটা ঠিক কী! ভালো কথা একেকটা সমগ্রে ২টা উপন্যাস আর একটা ছোট গল্প আছে কিন্তু উপন্যাসগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী কেন নয়? যদিও একেকটা স্ট্যান্ড অ্যালোন, তবুও কিছু উপন্যাসে আরেক উপন্যাসের ম্যানশন থাকে, যেমন অ্যাপয়েন্টমেন্ট উইথ ডেথ-এ "মা র্ডার ইন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস"-এর ম্যানশন আছে। তাই এ দিকটা বিবেচনায় রাখা দরকার। নয়তো একটু স্পয়লার হলেই তো পড়ার মজা শেষ...!
◾ পরিশিষ্ট -
গণহারে অনুনোমিত অনুবাদের ভীড়ে বিবলিওফাইল যে অনুমতির উদ্যোগ নিয়ে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ভাবে প্রজেক্ট শুরু করেছে তা একদিকে যেমন প্রসংনীয়, অন্যদিকে ন্যায়গত। আশা করি তাদের এ প্রজেক্ট সফলতার সাথে উপসংহারে পৌঁছাবে। সেইসাথে বাকীরাও এ পথ অনুসরণ করবে।
◾ এক পলকে বই -
আগাথা ক্রিস্টি সমগ্র
মূল - আগাথা ক্রিস্টি
অনুবাদ - মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
জনরা - গোয়েন্দা
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ৫৭৪
মুদ্রিত মূল্য - ৫৮০ টাকা
প্রকাশনী - বিবলিওফাইল
#এন_সেজান