গল্প শুনবেন? আসুন, শোনাই। আগুনটাকে ঘিরে গোল হয়ে বসুন আমার পাশে। গল্পে গল্পে কেটে যাক রাতটা। ভয়ের গল্প শুনবেন বলছেন? শোনাবো। প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলুকে বোধহয় আপনারা চেনেন, ওর দুটো নতুন কেসের গল্প আছে আমার কাছে। অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত এক ছেলে ক্লাসে গিয়ে আবিষ্কার করলো তার এক সহপাঠি বন্দুক নিয়ে এসে সবাইকে ওড়ানোর ভয় দেখাচ্ছে-সেই গল্পও শুনতে পাবেন। চুল কাটাতে গিয়ে কি আপনার জান নিয়ে টানাটানি পড়তে পারে? পারে, সেটার গল্পও বলবো। তীব্র সাসপেন্স চান? এক সিরিয়াল বম্বার আর এক তুখোড় বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যের মুখোমুখি দেখা হবার কাহিনি শোনাবো। রহস্য চান? গ্রীষ্মের খাঁখাঁ দুপুরে এক গ্রামের মাঠে অ্যাপোলোর মন্দিরের পুরোহিতের সাথে দেখা হবার চেয়ে রহস্যময় আর কিছু নেই বোধহয়। মুক্তিযুদ্ধের গল্প নতুনভাবে লেখা হয় না বলছেন? মাইন-ঘেরা এক গ্রামে একাত্তরে কি কান্ড হয়েছিলো সেটা শুনলে হয়তো আপনার মতামত পাল্টাবে। ভালো লাগবে আপনার গল্পগুলো। আর পড়া শেষে যে আপনিও শিখে যাবেন জীয়নবিদ্যা, তাতে তো সন্দেহই নেই!
নাবিলের লেখার মধ্যে একটা নাবিলত্ব আছে, যেটা তার সমসাময়িক লেখকদের থেকে আলাদা করবে খুব সহজেই। গল্প বলার সহজাত ভঙ্গি রীতিমতো ঈর্ষার উদ্রেক ঘটায়। সংকলিত সবগুলো গল্পই দারুণ। মনে বিশেষভাবে দাগ কেটেছে ডেয়ার কাট আর নামগল্প জীয়নবিদ্যা।
রহস্য অথবা অতিপ্রাকৃতিক প্রেক্ষাপট; সাথে লিটারেরি রেফারেন্স, চমৎকার ন্যারেটিভ স্টাইল আর অনেকটুকু অ্যাকশন - নাবিলের লেখার এই ধরণটা বরাবরই পছন্দ আমার। পড়তে গিয়ে মনে হয়, খুব আয়োজন করে মুখোমুখি বসে গল্প শোনাচ্ছে গল্পকথক। আবার কখনও যেন নিজেকেই আবিষ্কার করে ফেলি গল্পের বদ্ধ ঘর, অন্ধকার জঙ্গল অথবা বোমা বসানো বহুতল ভবনে। রীতিমতো অস্বস্তিকর গা ছমছমে অনুভূতি যাকে বলে!
জীয়নবিদ্যা- নাম, প্রচ্ছদ, গল্প সবকিছু মিলিয়েই পার্ফেক্ট। থ্রিলার গল্প হিসেবে "ডেয়ার কাট" গল্পটার কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়; নাপিতের ক্ষুর নিয়ে অনেকের মাঝেই এক ধরণের ফোবিয়া কাজ করে, এই গল্পটা সেই ফোবিয়াকে অনেকখানি উস্কে দেবে। প্রটাগনিস্ট আর এন্টাগনিস্ট- দুটো চরিত্রই দুর্ধর্ষ রকমের 'ব্যাড অ্যাস!'
'একটি মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের স্বপ্ন' সংকলনের অন্য গল্পগুলোর চেয়ে আলাদা। পরাবাস্তবতা অথবা বিভ্রমের আড়ালে গভীর এক জীবনবোধের বহিঃপ্রকাশ।
আর সবশেষে 'জীয়নবিদ্যা।' নতুন প্রজম্নের লেখকেরা মুক্তিযুদ্ধের গল্প লিখতে জানে না অথবা মুক্তিযুদ্ধের গল্প নতুনভাবে লেখা হয় না ভেবে যারা অভিযোগ করেন, তাদের এই গল্পটা অবশ্যপাঠ্য।মাইন-ঘেরা এক গ্রামে একাত্তরে কি কাণ্ড হয়েছিলো সেটা শুনলে হয়তো তাদের মতামত পাল্টাবে। আর 'সারভাইভাল স্কিলের' এত সুন্দর একটা পরিভাষার জন্য নাবিলকে আবারও ধন্যবাদ।
নাবিল মুহতাসিম-র "শ্বাপদ সনে" ও "বাজিকর" আমার দারুণ লেগেছিল। তাই ওঁর ছোটগল্পের সংকলন বের হচ্ছে শুনে "কবে পড়ব" এই ভাবনায় স্বাভাবিকভাবেই ওত পেতে বসেছিলাম। শেষমেশ সুমন সরকারের বদান্যতায় বইটি পড়বার সুযোগ হলো। চলুন আর দেরি না করে... ৭ টি গল্পে সজ্জিত এই সংকলনটি আমার কেমন লাগল তার ওপরই আলোকপাত করা যাক।
১. কাপগ্রাস : যারা শ্বাপদ সনে পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলু কে ভুলে যাননি। এই গল্প তারই এক কেস স্টাডির ওপর। কে কালপ্রিট বা কে সত্যি বলছে এটা ভাবতে ভাবতে হুট করে যে ভয়ের সামনে লেখক এনে ফেলেছেন তা সামলাতে বেশ সময় লেগেছে। দারুণ গল্প।
২. একেই বলে শ্যুটিং : নামটা শুনেই লাইট, ক্যামেরা, সত্যজিৎ রায়.. এই বিষয়গুলো মাথায় আসাটাই স্বাভাবিক। আমারও সেরকমই মনে হয়েছিল। পরে বুঝলাম এ হচ্ছে "ডিঁচক্যাও" টাইপ শ্যুটিং। একদিকে Obsessive Compulsive Disorder অন্যদিকে Mass Murder ... দুটি জিনিসকে মিশিয়ে নামানো গল্পটি পড়তে বেশ লাগে।
৩. আজীবর মৌলভির কৌটা : আবার প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলু.. আবারো কেস স্টাডি। তবে এই গল্পটি বড্ড বেশি প্রেডিক্টেবল।
৪. ডেয়ার কাট : চমৎকার ন্যারেশন ও যথোপযুক্ত literary reference এর ওপর ভর করে আক্ষরিক অর্থেই "Darr ke aage jeet hai" স্টাইলে এ সংকলনের সেরা গল্পের পদক ছিনিয়ে নিয়েছে এ গল্পটি।
৫. ডেমোলিশন ডার্বি : জেলিগনাইট নামের এক সাইকো বম্বার চায় গোটা সভ্যতা বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়ে সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করতে। কিন্তু তাকে পাঁচ-পাঁচবার ব্যর্থ করে রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ফিরোজ উল্লাহ জনি। কিন্তু ষষ্ঠবারে আরো ধ্বংসাত্মক প্ল্যান নিয়ে জনির মুখোমুখি হয় জেলিগনাইট। কে জিতবে, কে হারবে তার উত্তর তো আপনারা পড়লেই জানতে পারবেন.. আমি শুধু ফুটনোট হিসেবে বলব, গোটা গল্প জুড়ে থ্রিলের কমতি না থাকলেও শেষটা একটু অন্যরকম করলে আরো ভালো হতো।
৬. এক মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন : সাররিয়ালিজমের সাথে মিহি বরফের মতো গুঁড়ো গুঁড়ো জীবনবোধ মিশিয়ে এ গল্প নির্মাণ করেছেন লেখক। আমার ভালো লেগেছে।
৭. জীয়নবিদ্যা : নোলানের 'ডানকার্ক' সিনেমাটির কথা মনে আছে তো? যুদ্ধের, তার রাজনীতির গল্পকে দূরে সরিয়ে রেখে সিনেমাটি আমাদের কাছে ধরা দিয়েছিল 'সারভাইভ্যাল স্টোরি" হিসেবে। একই ছাঁচে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই গল্পটিকে প্রস্তুত করেছেন লেখক। বেশ ভালো।
'বিভং' টাইপের ফাজলামো-গোছের লেখা ছাড়া নাবিল মুহতাসিম যা লেখেন, আমি সেটারই ফ্যান হয়ে যাই। এই সংকলনেও রহস্য, রোমাঞ্চ, আর ডার্ক হিউমারের চমৎকার মিশেলে তিনি যে সাতটি ছোটোগল্প পেশ করেছেন, সেগুলো আমার সলিড লেগেছে। গল্পগুলো হল~ ১. ক্যাপগ্রাস; ২. একেই বলে শ্যুটিং; ৩. আজীবর মৌলভির কৌটা; ৪. ডেয়ার কাট; ৫. ডেমোলিশন ডার্বি; ৬. এক মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন; ৭. জীয়নবিদ্যা। বুদ্ধিদীপ্ত এই গল্পগুলোর মধ্যে এক ধরনের নাগরিক অসহায়ত্ব আছে যা আমাদের ভীষণ চেনা। তারই সঙ্গে গল্পগুলো এক অন্যরকম জগতের আভাস দেয়— যা লুকিয়ে থাকে আমাদেরই মধ্যে— হয়তো চেতনে, হয়তো অবচেতনে। নাবিলের পরবর্তী গল্প-সংকলন পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
এইখানে বেশি ভালো লেগেছে দুইটা গল্প এক 'ডেয়ার কাট' গল্পটা। ডেয়ার কাট গল্পটা শুরু হওয়া আর শেষ হওয়া দুটোই ছোটগল্প হিসেবে দুর্দান্ত। একজন ভিলেন আর একজন নায়কের মধ্যেকার কথোপকথন অথচ শেষ না করা পর্যন্ত বুঝবেন না যে কে নায়ক আর কে ভিলেন। আর দ্বিতীয় গল্প হচ্ছে 'একেই বলে শ্যুটিং'। এই গল্পটায় লেখক হাস্যরস যেভাবে ঢুকিয়েছেন এককথায় বলতে হয় লা জবাব। বইটা যদি ভালো লেগে থাকে তার পেছনে কারণ হচ্ছে এই দুটো গল্প।
১.কাপগ্রাস: কাপগ্রাস একটা সিনড্রম। যেটার ফলে নিজের লোকদের নকল মনে হয়। এরকম একটা কেস পেয়ে প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর শিপলু ছুটলো প্রত্যন্ত এক গ্রামে। এরপর?
২. একেই বলে শুটিং: ক্লাস পার্টির আয়োজনের সময় এক ছেলে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজির। কি কারণে? কিসের এত রাগ ওর?
৩. আজীবর মৌলভীর কৌটো: প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর শিপলু এক মৌলভীর জ্বীনের খোঁজে প্রত্যন্ত এক গ্রামে গেল। তারপর?
৪. ডেমলিশন ডার্বি: শহরের উঁচু এক বিল্ডিংয়ে এক উন্মাদ বোমা ফিট করে রেখেছে। বোমা বিশেষজ্ঞ জনি বোমা নিষ্ক্রিয় অভিযানে গেল। পারবে সে?
৫. ডেয়ার কাট: চুলের বিভিন্ন কাটের মতই এটাও একটা কাট। কি হয় এই কাট চুলে দিলে?
৬. এক মধ্য গ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন: গ্রামের ডোবায় পরে থাকা একটা মেয়ের দেহ নিজেকে গ্রীক পিথিয়া বলে দাবী করে যে কিনা ভবিষ্যৎ জানে। সত্যি নাকি ভ্রম?
৭. জীয়নবিদ্যা: মুক্তিযুদ্ধে ল্যান্ডমাইনে ছিন্নভিন্ন এক গ্রামে এক যোদ্ধার কাহিনী। জীয়নবিদ্যা কি আসলে?
সুলেখক নাবি�� মুহতাসিমের বিভিন্ন সময়ে প্ৰকাশীত ছোট গল্পের সংকলন জীয়নবিদ্যা। বইটার তিনটা গল্প আমার আগেই পড়া ছিল। তবুও একবার রিভাইস দিলাম। বাকি চারটে নতুন আমার জন্য। নাবিল মুহতাসিম ভাইয়ের গল্প লেখার মধ্যে একটা ব্যাপার হল উনি অনেক বড় কনসেপ্টও সুন্দরভাবে ছোটগল্পে পরিণত করে বলতে পারেন। পরিস্থিতি ভিত্তিক গল্পগুলোও হয়ে ওঠে জীবন্ত। গল্পে টুইস্টও থাকে। এই সংকলনে শিপলুর গল্পগুলো হরর বা প্যারানর্মাল। যথেষ্ট গা শিউরে ওঠার মত। ডেমোলিশন ডার্বি, একেই বলে শ্যুটিং, ডেয়ার কাট ক্রাইম ঘরনার। তবে হাস্যরস ও কয়েক জায়গায় বিশেষ বিশেষণ পাঠককে আনন্দ দেবে। গ্রীষ্ম মধ্য দুপুরের দুঃস্বপ্ন ম্যাজিক রিয়েলিজম জনরার। ভালো লাগার কথা পাঠকদের। আর জীয়নবিদ্যা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। শেষে সুন্দর টুইস্ট রয়েছে। সব গল্প-ই দারুণ তবে ব্যক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে শিপলুর গল্পদুটো আর থ্রিলার জনরারগল্পগুলো। বাকি দুটো কাজও ভালো হয়েছে। একটা সম্ভবত এক্সপেরিমেন্টাল। যাই-হোক ছোট গল্প পছন্দ যাদের, তাদের জন্য ভালো একটা প্যাকেজ জীয়নবিদ্যা।
সংকলনের ৬ টা গল্পের মধ্যে শিপলুর গল্প দুইটা দারুণ।সেই শ্বাপদসনে থেকেই শিপলুর গল্পের ভক্ত হয়েছি।উনার সব কেস স্টাডি দারুণ লাগে।এর বাইরে বললে "জীয়নবিদ্যা" গল্পের কথা বলতেই হবে।এই গল্পের প্লট এবং লেখনী ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ।বাদ বাকি তিনটা গল্প এভারেজ লাগলেও অই তিনটির জন্য সাড়ে তিন তারা প্রাপ্য।
সরল পাঠক হিসেবে যতটুকু বুঝি, ভালো ছোট গল্প লেখা সাহিত্যের কঠিনতম অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি। নাবিল মুহতাসিম একটি অন্যতম কঠিন কাজ সহজভাবে করার চেষ্টা করেছেন। সুতরাং, সাধুবাদ এখানে উনার প্রাপ্য। ভাল্লাগা-খারাপ লাগা মানুষভেদে একেকরকম।
যাইহোক, এই গল্প সংকলনে ছোট ছোট গল্প আছে মোট সাতটা। পর্যায়ক্রমে সরল পাঠ প্রতিক্রিয়া--
গল্প ১ঃ কাপগ্রাস প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলু গেছে এক মফস্বল শহরের পুরান বাড়িতে। জনৈক জালালের চিঠি পেয়ে, তাকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে। ভৌতিক ব্যাপার স্যাপারে আর কি!
পিশাচ কাহিনী ধাঁচের। ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা। ভয়ও পাইনি, ভালোও লাগেনি। বিশেষ কিছু একটার অভাব ছিল, যেটার অভাব নাবিল মুহতাসিমের অন্য মৌলিক লেখাগুলোতে চোখে পড়ে নাই।
লেখার মান, চরিত্রায়ন কিংবা ঘটনা সংস্থাপন 'নাবিল মুহতাসিম স্ট্যান্ডার্ড' না। আমি উনার প্রকাশিত মৌলিক সবগুলো লেখা পড়েছি। উনি আরেটু বেটার লেখেন।
বি দ্রঃ জনরাটা তুলনামূলক কম পছন্দের হওয়াটাও এই গল্প ভালো না লাগার একটা কারণ হতে পারে।
গল্প ২ঃ একেই বলে শুটিং নাহ, এর মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের কোন প্রভাব নাই। গ্রাম থেকে ঢাকাতে পড়তে আসা ছেলেমেয়েদের জীবনের প্রভাব আছে। যাদেরকে পদে পদে আপনি 'খ্যাত' 'খ্যাত' বলে নাক সিটকান। অপমান করেন, এড়িয়ে চলেন।
নিজে গ্রাম থেকে এসে দেশের প্রথম সারির একটা বেসরকারি বিশব্বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুবাদে পুরো গল্পটাকেই বেশ ভালোভাবে কানেক্ট করতে পেরেছি। বছর পূর্তির ব্যাচ পার্টিতে না হলেও, ক্যাম্পাসের তথাকথিত স্মার্ট পোলাপাইনদের গুলি করে মেরে ফেলার চিন্তা আমার মধ্যেও বছর পাঁচেক আগে কয়েকবারই এসেছিল।
মোটামুটি এই হচ্ছে কাহিনী। গল্পটা বেশ ভালো এবং লেখার মানের দিক থেকে চিন্তা করলে সম্ভবত, এটি এ বইয়ে নাবিল মুহতাসিমের সেরা লেখা। শুধু একটু তাড়াহুড়ো বেশি ছিল মনে হয়েছে!
গল্প ৩ঃ আজীবর মৌলভির কৌটাঃ জ্বীন কাহিনী। আবার প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলু। জ্বীনের দেখা পেতে, গেছে দেশের প্রত্যন্ত এক অঞ্চলে। আজীবর নামের এক বৃদ্ধ মৌলভির কাছে নাকি রুপোর কৌটায় বন্দী করা এক জ্বীন আছে!
ভূত প্রেত ভালো না লাগলেও, এই গল্পটা ভালো লেগেছে। পুরো গল্প জুড়ে সবচেয়ে ভালো ছিল- লেখকের ন্যারেশন। টুইস্টটাও বেশ ভালো ছিল।
গল্প ৪ঃ ডেয়ার কাট ঢাকায় থাকা উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবক বাড়ি এসেছে ঈদের ছুটিতে। পরশু ঈদ। তাই আজ সে চুল কাটাতে বের হয়েছে। প্রচন্ড ভিড় সব জায়গায়। ঘুরতে ঘুরতে একটা অতি সাধারণ সেলুন পাওয়া গেলো, কিন্তু নাপিত সাহেব যেন একটু বেশিই অসাধারণ!
শেষটা একটু গোলমেলে হলেও, পুরোটা খারাপ না। বেশ একটা নতুন নতুন ফিল আছে। ন্যারেশন অতি চমৎকার।
গল্প ৫ঃ ডেমোলিশন ডার্বি বুর্জোয়া বা শ্রেণী-শত্রুদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ। যুদ্ধের নায়ক এবং ভিলেন একজনই। জেলিগনাইট। ছদ্মনামে মহা ধুরন্ধর এক স্কুল শিক্ষক।
গল্প ৬ঃ এক মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন অসাধারণ! এই গল্পের সারসংক্ষেপ বলা যাবে না। শুধু বলা যেতে পেরে এখানে আছে একজন প্রবল বাস্তবতা জ্বরে আক্রান্ত যুবক। আর আছে একটি গ্রাম্য মেয়ে, যাকে কিছুক্ষণ আগেই গণধর্ষণ করে খুন করে ফেলে রাখা হয়েছে।
ন্যারেশন, কনটেন্ট, শুরু, শেষ - সবই প্রায় দুর্দান্ত।
গল্প ৭ঃ জীয়নবিদ্যা মানে হচ্ছে সারভাইভাল স্কিল। প্রেক্ষাপট ১৯৭১। রংপুরের একটা গ্রাম। পাকিস্তানি, বাংলাদেশী- গ্রামে কোন মানুষই জীবিত নাই। এক শেহজাদ ছাড়া। গ্রাম থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু গ্রামের চারদিকে অসংখ্য মাইন পুঁতে রাখা থাকায়, বেচারা বের হতে পারছেনা।
কনফিউজড। গল্পটা বুঝতে পারি নাই ভালো মতো। আরেকবার পড়তে হবে।
জীয়নবিদ্যা কী? বই হিসেবে ধরলে নাবিল মুহতাসিমের ছোটগল্প সংকলন, যেখানে একদম শেষে জীয়নবিদ্যার অর্থ বুঝে যাবেন যেকোন পাঠক।
সাতটি ছোটগল্প আছে 'জীয়নবিদ্যা'য়। যেসবের মধ্যে দুটি ছাড়া আর সব রচিত হয়েছে ফার্স্ট পার্সন বয়ানে। এ ধরণের ন্যারেটিভের প্রয়োগ যখন একজন লেখক ঠিকঠাক করতে পারেন, তখন ভালো ক��ছু আসে।
ছোটগল্পগুলি নিয়ে বেশি বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে। আমি রিভিউ লিখার সময় যথাসাধ্য স্পয়লারমুক্ত থাকতে চাই, অর্থাৎ ফ্ল্যাপে লেখক যতটুকু উন্মোচন করেছেন তার চেয়ে বেশি দুরে এগিয়ে যাই না।
উপন্যাস কিংবা গ্রাফিক নভেল 'স্বাপদ সনে' যারা পড়েছেন তাদেরকে হালচালের অতিলৌকিক ইনভেস্টিগেটর শিপলু সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। সংকলনটিতে শিপলুর দুটি জবানবন্দি আছে। ঐ ব্যক্তির বলা গল্প কিংবা ডায়রি অথবা জবানবন্দি খুব সঙ্গত কারণে কয়েকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।
আমার সবচেয়ে পছন্দের গল্পটি হচ্ছে 'একেই বলে শ্যুটিং'। ওসিডি আক্রান্ত মফস্বলের ছেলেটির নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন ঘটে চলা অদ্ভুত ঘটনার সাথে বোঝাপড়া এবং ইন্ট্যারেকশন ভালো লেগেছে। 'এক মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের গল্প' মনকে খানিকটা বিষণ্ণ করে দেয়ার মতো।
নাবিল মুহতাসিমের একদম নিজস্ব একটা রাইটিং স্টাইল, দর্শন আছে। খুব খুঁতখুতে পাঠককে বলতে শুনেছি, "নাবিল মুহতাসিমের গল্প শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রিডারকে গ্রিপ করে রাখে।" আমিও ঐ পাঠকের সাথে একমত। নাবিলের উত্তম পুরুষে বলা চরিত্রগুলো সর্বজ্ঞ নয়, তাদের মধ্যে ভুল-ভ্রান্তি, খামতি এবং কনফিউশন আছে। লেখক হিসেবে নাবিল মুহতাসিমও সর্বজ্ঞ হয়ে উঠেন না। এটা আমার মতে লেখকের এক বড় কোয়ালিটি। ড্রামাটা ভালো জমাতে পারেন লেখক।
সুলেখনি এবং সম্ভবত আগের প্যারার শেষের অংশের কারণে নাবিল মুহতাসিম লেখক হিসেবে জীয়নবিদ্যায় আরো পারদর্শি হয়ে উঠতে থাকবেন।
বই রিভিউ
নাম : জীয়নবিদ্যা লেখক : নাবিল মুহতাসিম প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২০ প্রকাশক : অবসর প্রকাশনা সংস্থা প্রচ্ছদ : পার্থ প্রতীম দাশ একমাত্র পরিবেশক : প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা জনরা : হরর, একশন, মিস্ট্রি, সাসপেন্স। রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ।
জীয়নবিদ্যা ছোট গল্পের সংকলন। ভিন্ন স্বাদের ৭টি গল্পে এই বইটি মলাটবদ্ধ করা হয়েছে। কোনোটা প্যারানরমাল, কোনোটা সাসপেন্সে জমজমাট তো আবার কোনোটা রহস্যে ভরপুর। আবার মুক্তিযুদ্ধের একটা গল্পও পাবেন। তো এই ভ্যারিয়েশনের কারণে বইটা খুব আকর্ষণীয় মনে হয়। সংগ্রহ করে ফেলি। একদম হতাশ হই নি। কিছু গল্প যখন শুরু করবেন তখন সাদামাটা মনে হবে, কিন্তু গল্প যখন ধীরেধীরে কাহিনী সামনে গড়াবে, তখন টের পাবেন। গল্পটা নিয়ে ভাবতে হবে। আর সবগুলো গল্পের একটা দিক খুব মিল; সেটা হচ্ছে গল্পগুলোর এন্ডিং। যে গল্পটা আপনার প্রথমে সাদামাটা মনে হচ্ছিল, সেটায় শেষে গিয়ে এমন একটা ধাক্কা দিবে, বা তুলির শেষ আঁচড় টা এত তৃপ্তি দিবে যে গল্পটা আর সাধারণ গল্পের কাতারে ফেলতে পারবেন না। আমার অনুভূতিগুলো এমনই ছিল। নাবিল ভাইয়ের গল্প লেখার হাত যে কতটা পাকা; সেই অভিজ্ঞতা হয়ে গেলো। অভিজ্ঞতা টা যে দারুণ; তা বলতেই হয়।
▪️একেই বলে শ্যুটিং : অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত একটি ছেলে ক্লাসে গিয়ে আবিষ্কার করল তার এক সহপাঠী বন্দুক নিয়ে এসে সবাইকে ওড়ানোর ভয় দেখাচ্ছে ।
OCD এবং ‘মাস শ্যুটিং’ এই দুই বিষয়ের দুর্দান্ত মিশেলে তৈরি একটি রোমাঞ্চকর গল্প ।
▪️আজীবর মৌলভির কৌটো : প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর শিপলুর কাছে একজন দাবী জানালেন তার গ্রামের মৌলভি জ্বিন পোষেন ।
আবারও একটি অনবদ্য প্যারানর্মাল কেস স্টাডি ।
▪️ডেয়ার কাট : “সেলুনের তালিকাটার দিকে তাকালাম আমি । সবচেয়ে নিচে একটা আইটেম আছে, যেটার ওপরে একটা সাদা টেপ মেরে ঢেকে দেয়া । হাত বাড়িয়ে একটানে টেপটা খুলে ফেললাম আমি । আইটেমের নামের জায়গায় লেখা : ‘ডেয়ার কাট’ ।”
চুল কাটার জন্য সেলুনে গিয়ে কি আপনার জান নিয়ে টানাটানি হতে পারে ?
এই সংকলনের অন্যতম সেরা গল্প এটি । গল্পের ন্যারেশন আর ‘হঠাৎ মোচড়’ দুটিই অসাধারন ।
▪️ডেমোলিশন ডার্বি : এক সিরিয়াল বম্বার ‘জেলিগনাইট’ আর এক তুখােড় বম্ব ডিসপােজার জনি’র মুখোমুখি সাক্ষাতের কাহিনী ।
তীব্র সাসপেন্সের এই গল্প শুরু থেকে শেষ অবধি টানটান ।
▪️এক মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন : গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ দুপুরে এক গ্রামের মাঠে গ্রীসের অ্যাপােলো মন্দিরের পুরােহিত ‘পিথিয়া’র সাথে দেখা হওয়ার চেয়ে রহস্যময় আর কিছু হতে পারে কি ?
বেশ অন্য ধরণের গল্প ।
▪️জীয়নবিদ্যা : মুক্তিযুদ্ধের গল্প নতুনভাবে লেখা হয় না বলছেন ? মাইন-ঘেরা এক গ্রামের একাত্তরে কী কাণ্ড হয়েছিল তা শুনলে হয়তাে আপনার মতামত পালটাবে ।
দুর্দান্ত... অনবদ্য । মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অসম্ভব টানটান একটি ছোটগল্প, যা নিঃসন্দেহে এই সংকলনের সেরা গল্প । আর, ‘Survival Skill’ এর এত সুন্দর একটি বাংলা পরিভাষা দেওয়ার জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ ।
▫️লেখক ‘নাবিল মুহতাশিম’এর ‘শ্বাপদ সনে’ আমার অন্যতম প্রিয় থ্রিলার । ঐ উপন্যাসের ‘শিপলু’ চরিত্রটি আমার ভীষণ পছন্দের, আরও বেশি পছন্দের তার কেস স্টাডিগুলো । যখনই জানতে পারলাম এই গল্প সংকলনে শিপলুর দুটো কেস স্টাডি আছে, তখনই ঠিক করেছিলাম এই বইটি সংগ্রহ করতেই হবে ।
এই লেখকের গল্প বলার একটি নিজস্ব ধরণ আছে.. পড়তে পড়তে মনে হয় লেখক যেন আপনার সামনে বসে আপনাকে গল্প শোনাচ্ছেন, একদম বৈঠকি ভঙ্গিতে ।
সাতটি গল্প প্রতিটিই আলাদা আলাদা ভাবে দুর্দান্ত । মেদহীন, টানটান... পারফেক্ট ছোটগল্প বলতে যা বুঝি, এই সংকলনের গল্পগুলি একদম তাই । ভালো লাগবে আপনার গল্পগুলো । আর পড়া শেষে আপনিও শিখে যাবেন ‘জীয়নবিদ্যা’ ।
গল্প শুনবেন? আসুন, শোনাই। আগুনটাকে ঘিরে গোল হয়ে বসুন আমার পাশে। গল্পে গল্পে কেটে যাক রাতটা। ভয়ের গল্প শুনবেন বলছেন? শোনাবো। প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলুকে বোধহয় আপনারা চেনেন, ওর দুটো নতুন কেসের গল্প আছে কাছে। অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত এক ছেলে ক্লাসে গিয়ে আবিষ্কার করলো তার এক সহপাঠী বন্দুক নিয়ে এসে সবাইকে ওয়ানোর ভয় দেখাচ্ছে-সেই গল্পও শুনতে পারেন।
প্রচ্ছদপটের এমন দারুণ বর্ণনা যে কোনো পাঠককেই আকৃষ্ট করবে বইটার প্রতি। আর বইটা শেষ করে পাঠক তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলবে দুর্দান্ত কিছু ছোটগল্পের জগত থেকে ঘুরে আসলো বলে। হ্যাঁ, ২০২০ সালের অমর একুশে বইমেলায় অবসর প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত নাবিল মুহতাসিমের গল্পগ্রন্থটা আদতে এমনই। লেখক যেন অর্ধগুচ্ছ গল্পের ঝুড়ি বিলিয়ে দিয়েছেন পাঠকদের উদ্দেশ্যে। দারুণ প্রচ্ছদে মোড়া আর নিঃসন্দেহে দারুণ একটা একক গল্পসংকলন হচ্ছে - জীয়নবিদ্যা।
অর্ধগুচ্ছ বললেও বইতে মোট গল্প আছে ৭টা। কাপগ্রাস, একেই বলে শ্যুটিং, আজীবর মৌলভির কৌটা, ডেয়ার কাট, ডেমোলিশন ডার্বি, এক মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন এবং জীয়নবিদ্যা। প্রতিটা গল্পেরই আছে নিজস্ব বৈচিত্র্যতা আর স্বতন্ত্রতা। বইয়ের প্রতিটা গল্পই যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে কোনটা আকৃষ্ট করায় সবচাইতে বেশি এগিয়ে থাকবে। এরমধ্যে নাবিলের লেখার সঙ্গে পরিচিত পাঠকরা দুয়েকটা গল্প ঠিকই চিনে নেবে, অন্য কোনো গল্পসংকলনে ছিল বলে। বাদবাকিগুলো আনকোরা নতুন।
কাপগ্রাস – শিপলু একজন প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর। বর্তমানে আছে জামিল সাহেবের বাসায়। কেননা, তাঁর ছেলে জালাল শিপলুকে একটা চিঠি পাঠিয়েছিল। সেই চিঠিতে লেখা ছিল জালালের বাবা-মাকে মেরে তাদের রূপ ধারণ করে আছে দুটো পিশাচ। আবার, জামিল সাহেব আর তাঁর সহধর্মিনী বলছেন, ছেলেটার মানসিক রোগের কথা। শিপলুরও তাই মনে হচ্ছে। ছেলেটা হয়তো কাপগ্রাস সিনড্রোমে ভুগছে। যেই রোগের কারণে সকলকেই নকল মনে হয়। সেই রাতটা জালালদের বাসাতেই থেকে যায় শিপলু। তারপর?
জীয়নবিদ্যা – গল্পটা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। পূর্ব বাংলার কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রামে। রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে এলাকার সব মানুষ মারা গেলে আর পালালে, বেঁচে থাকে একমাত্র পাক জওয়ান শেহজাদ। ক্ষুধার্ত শেহজাদ চাইলেও গ্রাম ছেড়ে পালাতে পারে না। কেননা, গ্রাম থেকে বের হবার সকল রাস্তাতেই মাইন পোঁতা রয়েছে। ঘুরতে ঘুরতে একসময় গ্রামের একমাত্র জীবিত একজনকে খুঁজে পায়, এক পাকিস্তানী রমণী। তারপর?
নাবিল মুহতাসিমের মনোলোগ ধারায় গল্প বলার শৈলী একদমই ব্যতিক্রম আর অনন্য। পাঠক যেন বই না পড়ে স্বয়ং লেখকের কাছে বসেই গল্পটা শুনছে। সাবলীল আর প্রাঞ্জল ভাষার বর্ণনা এই শৈলীকে করে আরো আকর্ষণীয়। আর গল্পের উপস্থাপনায় লেখক বৈচিত্র্যতার জন্য সাহায্য নেয় ইতিহাসেরই বিভিন্ন ঘটনা বা সুপরিচিত বা অজানা কোনো শব্দ বা ব্যক্তিবিশেষকে উপমা হিসেবে ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। ব্যাপারটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।
গল্পগ্রন্থের সবকয়টা গল্পই মোটামুটি ভালো। তবে বেশি ভালো লাগার কাতারে থাকবে একেই বলে শ্যুটিং, ডেয়ার কাট এবং এক মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন। প্লট-টার্নিং বা প্লট-টুইস্টিং থ্রিলার বলতে যা বুঝায় তার বেশ ভালো উদাহরণ এই দুটো গল্প। পাঠকের বিন্দুমাত্র বুঝার সুযোগ নেই ঠিক কি হতে চলেছে গল্পের আবহে। আর পরাবাস্তবতার সঙ্গে সামাজিক সমস্যা মিলে এক অদ্ভুত বাস্তবতার গল্প হচ্ছে এক মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন।
তাই বলে যে, বইয়ের অন্যান্য গল্প খারাপ লেগেছে; এমনটাও না। সবকটা গল্পই ভালো লাগার কাতারেই ছিল। কাপগ্রাস গল্পটা প্যারানরমাল হিসেবে বেশ ভালো লেগেছে। যদিও এটা আগেই পড়া ছিল। তবে আজীবর মৌলভির কৌটা গল্পটা বিশেষ ভালো লাগেনি। গল্পটাই কেন জানি খুব একটা গোছানো বলে মনে হয়নি। তবে পড়তে খারাপ লাগেনি। ডেমোলিশন ডার্বি গল্পটাও থাকবে এই কাতারে। কোনো এক অদ্ভুত কারণে এই গল্পটাকে লেখকের মৌলিক রচনা বলে স্বীকার করে নিতে কষ্ট হয়েছে। পড়ার সময় বারবার মনে হয়েছে এটা যেন কোনো বিদেশী সাহিত্যের অনুবাদ পড়ছি।
আর গল্পগ্রন্থে মূল আকর্ষণ জীয়নবিদ্যা গল্পটাও বেশ ভালো লেগেছে। তবে আরো ভালো লাগতো যদি অনুমেয় না হতো গল্পটা। লেখক মনোলোগে বেশ ভালো গল্প বলতে পারে। তবে একটানা একই ধাঁচের গল্প পাঠককে বিনোদনের বদলে অনুমানের শক্তিও দেয়। তাই গল্পের প্রেক্ষাপট বা পটভূমি অথবা গল্প বলার উপস্থাপন অনেকটাই পাঠকের কাছে চেনা ঠেকে।
সত্যি বলতে, গল্পগ্রন্থের শেষ তিনটা গল্পই আমার কাছে অনুমেয় ছিল। তাই, খানিকটা আগ্রহ হারিয়েছি আর কি! গল্প ধরেই বুঝতে পেরেছি লেখক কোনো দিকে নিজে যেতে চাচ্ছে পাঠক হিসেবে আমাকে। তবে শুরুর চারটা গল্প বেশ ভালোই ধাক্কা দিয়েছে, দিকভ্রান্তের মতোই। তবুও, এই গল্পগ্রন্থ সংগ্রহে রাখার মতোই। কেননা, অনুমেয় ঠেকলেও পড়তে আমার বিন্দুমাত্র খারাপ লাগেনি। আর সেটার কারণও নাবিলের লেখনশৈলী। বইটি পড়লে দারুণ আর দুর্দান্ত কিছু গল্পের সঙ্গেই পরিচিত হতে পারবে পাঠক। নাবিল তথা লেখকের জন্য অনেক শুভকামনা।
'জীয়নবিদ্যা' বইটিতে গল্প মোট সাতটি। কিছু গল্প আগেও বিভিন্ন সংকলনে এসেছে যতদূর জানি। আমার নিজের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী গল্পগুলো পাঠনুভূতি এক এক করে দেয়ার চেষ্টা করছি৷
১/২. কাপগ্রাস / আজবীর মৈলভির কৌটা : দুটো গল্পের মূখ্য চরিত্র এক। আর লেখকের প্রথম মৌলিক উপন্যাস " শ্বাপদ সনে" র শিপলু। উপন্যাসে যেমন মাঝে মাঝে কিছু প্যারানর্মাল কেস স্টাডি দেয়া হয়েছিল ঠিক তেমনি দুটো স্টাডি এ দুটো গল্পে এসেছে। জনরা দেখতে গেলে অনেকটা হরর কিংবা আধভৌতিকের পাল্লায় ফেলে দেয়া যায়। দুটো গল্পের বুনন টা এলিমেন্ট অফ সারপ্রাইজ দিয়ে বাধা। গতবাধা প্রেডিক্টেবল স্টোরি তে পাঠক কে প্রথমে আটকে ফেলা।তারপর হঠাৎ চমক। গল্পের মোড় ঘুড়ে যাবে পুরো ১৮০ ডিগ্রী। এমন টা ঘটেছে দু গল্পেই। সফল পুরোপুরি, বলবো না। তবে বর্নণা ভঙ্গির কারণেই শেষতক পড়তে ভালই লাগে। লেখকের অন্যান্য বই পড়ে থাকলে আপনাদের জানার কথা, তিনি পাঠকের সাথে আলাপচারিতা স্টাইলে অনেক তথ্য দেন গল্পের ভিতরেই। যেমন গল্পের মাঝেই " আপনাদের দোয়ায় গায়ের জোড়টা আমার কম নয়"। এই আপনাদের বলতে আসলে বুঝানো হচ্ছে পাঠক কেই। এই ব্যাপার টা দুটো গল্পেই আছে। 'কাপগ্রাস' এ সেটা জুতসই না হলেও "আজবীর মৌলভি" গল্পের শুরুতে ঢাকা থেকে কিভাবে বাসে করে এক গ্রামে গিয়ে পৌছালো শিপলু তা পড়তে বেশ আরাম লাগে। গ্রামের বর্ণণাও একদম অন পয়েন্ট। লেখকের অবজার্ভেশন আপনাকে চমকে দেবে। তাই শহরতলি কিংবা গ্রামের যে আবহাওয়া গল্প গুলোতে তৈরি হয়েছে সেটার সাথে যদি পার্সনাল এক্সপেরিয়েন্স রিলেট করতে পারেন তবেই স্বাদ নিতে পারবেন গল্পগুলোর একদম ষোলআনা।
৩. একেই বলে শুটিং : সংকলনের আমার অন্যতম প্রিয় গল্প। স্কুল কিংবা ম্যাস শুটিং এ বাংলা সাহিত্যের অন্য কোন গল্প আমি পড়ি নি। ক্যারেক্টারাইজেশন খুব ই চমতকার। সাথে তার পিছনের মোটিভেশন ও। মূখ্য চরিত্র ওসিডি আক্রান্ত বিদ্যুৎ কে না ভালো লেগে উপায় নেই। একটি নিখাদ রোমাঞ্চ গল্পের সব উপাদান বিদ্যমান। বার্তি মেদ নেই।
৪. ডেয়ার কাট : সংকলনের সেরা গল্প নিঃসন্দেহে। আরব্য রজনীর রেফারেন্সে চমকপ্রদ এক কাহিনী। গল্পের শুরুতে টের ও পাওয়া যায় না শেষটায় কতটা রোমাঞ্চ অপেক্ষা করে আছে। লেখকের মুন্সিয়ানা এখানেই। হতচ্ছাড়া এক বেকার যুবকের জবানিতে গল্প বলা হয়েছে যে বের হয়েছে ঈদের আগে চুল কাটতে। ব্যাস এতটুকু প্রেমেসিসে গল্প আগিয়েছে কিন্তু চমৎকার সাবলীল বর্নণায় যে শেষপর্যন্ত পড়ে যেতে বাধ্য হয়েছি সেটাই লেখকের সাফল্য।
৫. ডোমিলেশন ডার্বি : ঝড়ের বেগে গল্পের শুরু। এতটুকু সময় নেই। এক সাইকো বোমাবাজ আর এক তুখোড় বোমডিস্পোজাল এক্সপার্টের মুখোমুখি প্রেক্ষাপটে শুরু টা চমকে ঠাসা। ভালো কিছুর আভাস দিয়েও শেষটায় মন ভরে না৷ এটা এই সংকলনের অপেক্ষাকৃত দুর্বল গল্প। ক্যারেক্টার মোটিভেশন বেশ করে দেয়া হলেও শেষে সেটা ঠিক খাপ খায় না। যতদূর মনে করি শেষে চমক দিতে গিয়ে কিছু আরোপিত ব্যাপার চলে এসেছে। যেটা না হলেই ভাল হতো
৬. এক মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের দু:স্বপ্ন : আবারো গল্পের প্লেসমেন্ট আর আবহাওয়া তৈরীতে লেখক সফল। মূল প্রোটাগনিস্টের স���থে হাটতে হাটতে গ্রীষ্মের দুপুরে পাটক্ষেতে ঢুকে পড়ে এক অচেনা মেয়ের লাশ দেখে নিজেও থমকে যাই। এলিমেন্ট অফ সারপ্রাইজের যথার্থ ব্যবহার। সংকলনের বাকি গল্পগুলোর তুলনায় বেশ আলাদা আর উপাদেয় তো বটেই।
৭. জীয়নবিদ্যা : রুল বুক মেনে নাম গল্প সবার শেষে। প্রেক্ষাপ্ট ১৯৭১। সীমান্তবর্তি এক মাইন ঘেরা গ্রাম। মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় ক্লিশে গল্পের ছোঁয়া বাচিয়ে বেশ আলাদা এক রোমাঞ্চ কাহিনী লেখক ফেদেছেন। পিঠ চাপড়ে দিতেই হয়। নোলানের ‘দানকার্ক’ দেখেছেন যারা তারা জানেন ওয়ার্ল্ড ওয়ারের বাকি সিনেমাগুলো থেকে এটি আলাদা কিভাবে। কারণ দানকার্কের গল্পে অন দ্যা মোমেন্টে যা ঘটেছে তাই বলা হয়েছে। কোন বার্তি ক্যারেক্টার আর্কে যাওয়া হয় নি। জীয়নবিদ্যাও পাঠক কে ধা করে তুলে বসিয়ে দেয় গল্পের উদ্ভুত পরিস্থিতি তে৷ তারপর যা হবার তা হবেই। এই প্রজন্মের একজন হয়ে এমন গল্প লেখা তাও আবার ৭��� নিয়ে এবং গল্পের রোমাঞ্চের খাতিরে কোন ছাড় না দিয়েই, সেজন্য বাহবা পেতেই পারে লেখক।
প্রতিটা গল্পেই কোন না কোন ভাবে মূল চরিত্রকে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে বা বলা যায় সার্ভাইভ করতে দেখা যায়। সে অর্থে 'জীয়নবিদ্যা' নামটা সার্থক।
এই গল্প সংকলনে ছোট ছোট গল্প আছে মোট সাতটা। পর্যায়ক্রমে সরল পাঠ প্রতিক্রিয়া-- গল্প ১ঃ কাপগ্রাস প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলু গেছে এক মফস্বল শহরের পুরান বাড়িতে। জনৈক জালালের চিঠি পেয়ে, তাকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে। ভৌতিক ব্যাপার স্যাপারে আর কি! পিশাচ কাহিনী ধাঁচের। ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা। ভয়ও পাইনি, ভালোও লাগেনি। বিশেষ কিছু একটার অভাব ছিল, যেটার অভাব নাবিল মুহতাসিমের অন্য মৌলিক লেখাগুলোতে চোখে পড়ে নাই। লেখার মান, চরিত্রায়ন কিংবা ঘটনা সংস্থাপন 'নাবিল মুহতাসিম স্ট্যান্ডার্ড' না। আমি উনার প্রকাশিত মৌলিক সবগুলো লেখা পড়েছি। উনি আরেটু বেটার লেখেন। বি দ্রঃ জনরাটা তুলনামূলক কম পছন্দের হওয়াটাও এই গল্প ভালো না লাগার একটা কারণ হতে পারে। গল্প ২ঃ একেই বলে শুটিং নাহ, এর মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের কোন প্রভাব নাই। গ্রাম থেকে ঢাকাতে পড়তে আসা ছেলেমেয়েদের জীবনের প্রভাব আছে। যাদেরকে পদে পদে আপনি 'খ্যাত' 'খ্যাত' বলে নাক সিটকান। অপমান করেন, এড়িয়ে চলেন। নিজে গ্রাম থেকে এসে দেশের প্রথম সারির একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুবাদে পুরো গল্পটাকেই বেশ ভালোভাবে কানেক্ট করতে পেরেছি। বছর পূর্তির ব্যাচ পার্টিতে না হলেও, ক্যাম্পাসের তথাকথিত স্মার্ট পোলাপাইনদের গুলি করে মেরে ফেলার চিন্তা আমার মধ্যেও বছর পাঁচেক আগে কয়েকবারই এসেছিল। মোটামুটি এই হচ্ছে কাহিনী। গল্পটা বেশ ভালো এবং লেখার মানের দিক থেকে চিন্তা করলে সম্ভবত, এটি এ বইয়ে নাবিল মুহতাসিমের সেরা লেখা। শুধু একটু তাড়াহুড়ো বেশি ছিল মনে হয়েছে! গল্প ৩ঃ আজীবর মৌলভির কৌটাঃ জ্বীন কাহিনী। আবার প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর শিপলু। জ্বীনের দেখা পেতে, গেছে দেশের প্রত্যন্ত এক অঞ্চলে। আজীবর নামের এক বৃদ্ধ মৌলভির কাছে নাকি রুপোর কৌটায় বন্দী করা এক জ্বীন আছে! ভূত প্রেত ভালো না লাগলেও, এই গল্পটা ভালো লেগেছে। পুরো গল্প জুড়ে সবচেয়ে ভালো ছিল- লেখকের ন্যারেশন। টুইস্টটাও বেশ ভালো ছিল। গল্প ৪ঃ ডেয়ার কাট ঢাকায় থাকা উচ্চশিক্ষিত বেকার যুবক বাড়ি এসেছে ঈদের ছুটিতে। পরশু ঈদ। তাই আজ সে চুল কাটাতে বের হয়েছে। প্রচন্ড ভিড় সব জায়গায়। ঘুরতে ঘুরতে একটা অতি সাধারণ সেলুন পাওয়া গেলো, কিন্তু নাপিত সাহেব যেন একটু বেশিই অসাধারণ! শেষটা একটু গোলমেলে হলেও, পুরোটা খারাপ না। বেশ একটা নতুন নতুন ফিল আছে। ন্যারেশন অতি চমৎকার। গল্প ৫ঃ ডেমোলিশন ডার্বি বুর্জোয়া বা শ্রেণী-শত্রুদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ। যুদ্ধের নায়ক এবং ভিলেন একজনই। জেলিগনাইট। ছদ্মনামে মহা ধুরন্ধর এক স্কুল শিক্ষক। মার মার, কাট কাট টাইপ গল্প। মোটামুটি। আরেকটু বর্ণনামূলক হলে, ভালো হইতো। গল্প ৬ঃ এক মধ্য-গ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন অসাধারণ! এই গল্পের সারসংক্ষেপ বলা যাবে না। শুধু বলা যেতে পেরে এখানে আছে একজন প্রবল বাস্তবতা জ্বরে আক্রান্ত যুবক। আর আছে একটি গ্রাম্য মেয়ে, যাকে কিছুক্ষণ আগেই গণধর্ষণ করে খুন করে ফেলে রাখা হয়েছে। ন্যারেশন, কনটেন্ট, শুরু, শেষ - সবই প্রায় দুর্দান্ত। গল্প ৭ঃ জীয়নবিদ্যা মানে হচ্ছে সারভাইভাল স্কিল। প্রেক্ষাপট ১৯৭১। রংপুরের একটা গ্রাম। পাকিস্তানি, বাংলাদেশী- গ্রামে কোন মানুষই জীবিত নাই। এক শেহজাদ ছাড়া। গ্রাম থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু গ্রামের চারদিকে অসংখ্য মাইন পুঁতে রাখা থাকায়, বেচারা বের হতে পারছেনা। কনফিউজড। গল্পটা বুঝতে পারি নাই ভালো মতো। আরেকবার পড়তে হবে।
🌀 হরর, ক্রাইম, সাসপেন্স, সাইকো থ্রিলার এই সবের মধ্যে কমন কি বলুন তো? পরে বলব, চলুন আগে এই বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া সারি।
💕 140 পাতার ছোট্ট একটা বই। একটা অলস দিনের খোরাক বা মোটা মোটা বই পড়ে ক্লান্ত আপনার পাঠক মনের revital যা ভাববেন ভাবতে পারেন এই বইকে।
💕 সাত খানা ছোটগল্প, সব কটিই তুখর। এক মুহূর্তেও আপনি slow হতে পারবেন না, প্রতিটি গল্পই এত ঘন বুননে লেখা। কিছু গল্প আপনাকে তাক লাগাবে, কিছু আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে "আসলে কি হল?" এই সবের মধ্যে ছোট্ট ডুব দিয়ে উঠে আসুন নিজের বাস্তবে, দিয়ে আবার ডুব দিন পরের গল্প থেকে পরের গল্পে। এমনি করেই একদিন সেরে ফেলেছি গোটা বইটা।
🥰 গল্পগুলি সবই ভালো তবে বিশেষ ভাবে ভালো লেগেছে ডেয়ার কাট, একই বলে শ্যুটিং আর এক মধ্য - গ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন।
🌀 একটা জিনিস বেশ লেগেছে। লেখকের প্রতি গল্পের চরিত্র আলাদা, তাদের মন আলাদা। কিন্তু চরিত্রায়ন সবারই দারুন একদম। একজন OCD আক্রান্তর মন, একজন war-survivor এর মনের হাল, বা একজন ডিটেকটিভ এর হাইস্পিড deduction সবই বেশ দক্ষতার সাথে এঁকেছেন লেখক। বেশ মনে ধরেছে বিষয় টা।
🌀 এবার আসি আমার প্রশ্নের উত্তরে। হরর, ক্রাইম, সাসপেন্স, সাইকো থ্রিলার - এই সবকে একসাথে জুড়ে ফেলে "টুইস্ট।" এই সব কটিতেই আমরা খুঁজে বেড়াই একটা আলাদা কিছু, unexpected কিছু, আমি ধরতে পারবো না এমন কিছু। সেই হল টুইস্ট। লেখক একদম মনের আনন্দে ঢালাও টুইস্ট দিয়েছেন। ছোট ছোট গল্প আর শেষে শেষে দারুন দারুন টুইস্ট। আপনাকে আবার শুরু থেকে গল্পটা গুছিয়ে নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবেই। আর এইটুকু মস্তিষ্কযুদ্ধ না করাতে পারলে পড়লাম না সে লেখকের বই।🤪
যে পরিমাণ এক্সপেকটেশন ছিল, পূরন করতে পারেনি। নাম গল্প বলা চলে হতাশই করেছে। গল্পটা একেবারেই অবিশ্বাস্য ছিল। আর বাকিগল্পগুলোও তেমন কিছু না। স্রেফ গল্পের বর্ণনা ভালো- এই একটা পয়েন্ট ছাড়া আর তেমন ভালো লাগেনি কিছু। সবগুলো গল্পই অলমোস্ট এভারেজ। হতে পারে বেশি এক্সপেকটেশন এর কারণেই এরকম লাগলো।
Explosive book, almost perfect. Most of the stories are good, ends with a twist. Didn't like the ending of second story. Otherwise all the others were fine.
৭ টি গল্প নিয়ে সাজানো এই বইটি, আর প্রতিটি গল্পই দুর্দান্ত। গল্পের মাঝে মাঝে চমক থাকার কারণে কিছু ছোট ছোট ভুলত্রুটি স্বত্বেও বইটির সাথে দারুণ একটা সময় কেটেছে। অনেক শুভকামনা লেখকের জন্য।
লেখকের লেখা এটা আমার দ্বিতীয় পছন্দের বই।এটি গল্প সংকলন।সম্ভবত ৭ টি গল্প আছে,এক রাতেই বইটা শেষ করা কারণ প্রত্যেকটা গল্প ভিন্ন স্বাদের, একটানে পড়তে একটুও একঘেয়ে লাগেনা।আমার পছন্দের গল্প হচ্ছে "এক মধ্যগ্রীষ্ম দুপুরের দুঃস্বপ্ন" কারণ সাইকোলজিক্যাল মিস্ট্রি ইজ লাভ😍 আর "ডেয়ার কাট" এর শার্লক এবং মাইক্রফট স্টাইলে প্রোটাগনিস্ট এবং এন্টাগনিস্টের বাকবিতণ্ডা আমার জন্য বইটার হাইলাইট ছিলো,এবং মোস্ট পারসোনাল টেইল ফর ডিএমসির ব্যাচ কে-৭১ "একেই বলে শ্যুটিং" গল্পটা😂😂 if you know,you know😉😉