Jump to ratings and reviews
Rate this book

কলকাতার রাত্রি রহস্য

Rate this book
কলকাতার অন্ত্যজ শ্রেণিদের নিয়ে সুমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বা অনিন্দিতা ঘোষের কাজ সুবিদিত। কিন্তু সে নিতান্ত গবেষকের চোখে। একেবারে চোখে দেখা বর্ণনা প্রায় নেই বললেই চলে। উনিশ শতকের শেষ বা বিশ শতকের শুরুর সময়ে কলকাতার গণিকা, অপরাধ বা পাপের বেসাতির খবর জানার মূল উৎস এখনও বটতলার চটুল বইগুলো, যাদের নাম শুনলেই রোমাঞ্চ হয়। কিন্তু সে লেখা নিতান্ত ফিকশন। তাতে সত্য-মিথ্যের মিশেল আছে। কিন্তু এই বইখানা একেবারে খাঁটি নন-ফিকশন। আর সেখানেই এই বইয়ের গুরুত্ব। হুতোম যেমন উনিশ শতকের কলকাতার দারুণ এক ছবি ফুটিয়েছেন তাঁর নকশায়, এই বইও সেই মর্যাদা পাবার যোগ্য। খুব কাছে হয়তো বা আসতে পারে “সচিত্র গুলজার নগর”, “কলিকাতা কমলালয়” বা “পুরাতন পঞ্জিকা”-র মতো বই।এই বই ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল, আর তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ টীকা এবং ব্যাখ্যা দাবি করে। হেমেন্দ্রকুমার যখন এই বইটি লিখছেন, তখনকার কলকাতা আর আজকের কলকাতা এক না। লপেটা, গ্যাসের আলো, ছ্যাকরা গাড়ি, হেজেলিন, আবু হোসেন শব্দগুলো তখন বাঙালির রোজকার শব্দবন্ধে থাকলেও এখন তারা বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে। প্রয়োজন মুগাহাটা, গ্যাঁড়াতলা, মালাপাড়া গলি বা চন্ডুখোরের আস্তানার মতো স্থানের বিস্তারিত আলোচনাও। ঠিক এই কারণে উপযুক্ত টীকা এবং চিত্রসহ বইটিকে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে অগ্রজ অরুণ নাগের প্রায় মিথ হয়ে যাওয়া “সটীক হুতোম প্যাঁচার নকশা”-কে সামনে রেখে প্রায় একলব্যের মতো টীকা দিয়ে গেছি। যদিও সে এক অসম্ভব উচ্চতা, তবু বড়ো কিছু ভাবতে গেলে বড়োদেরই তো সামনে রাখতে হয়, তাই না? টীকা দানের ক্ষেত্রে যেসব বইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছে তাদের বিস্তারিত তালিকা এই বইয়ের শেষে দেওয়া হল। ছবির ক্ষেত্রে সুকুমার রচনাবলি থেকে লাইফ ম্যাগাজিন, অসিত পালের বই বা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনলাইন আর্কাইভ, সব কিছুরই সাহায্য নেওয়া হয়েছে।
মেঘনাদ গুপ্ত বা হেমেন্দ্রকুমারের লেখা “রাতের কলকাতা” এই বিরল শ্রেণির বই। প্রতিটি ভাষায় এমন বই একটি দুটিই লেখা হয়, বা হয়ও না। এ বই প্রায় ফটোগ্রাফের মতো একশো বছর আগের কলকাতার রাত্রি রহস্যকে ফুটিয়ে তুলেছে নিখুঁতভাবে। এই অসামান্য বইটির সটীক সংস্করণ পাঠক সমাজের কলকাতা-চর্চায় উৎসাহ বাড়ালে এই কাজ সত্যিকার সাফল্য পাবে।

184 pages, Hardcover

First published January 1, 1923

16 people are currently reading
268 people want to read

About the author

Hemendra Kumar Roy

188 books81 followers
Hemendra Kumar Roy (Bangla: হেমেন্দ্রকুমার রায়) was a Bangali writer noted for his contribution to the early development of the genre of children's literature in the language. He was a noted contributor to the early development of Bengali detective fiction with his 'Jayanta-Manik'-stories, dealing with the exploits of Jayanta, his assistant Manik, and police inspector Sunderbabu. Roy also translated the Rubaiyat of Omar Khayyám into Bengali. One of the best translations anywhere of Alice in Wonderland is Roy's Ajab Deshe Amala.

He is best remembered as the creator of Bimal-Kumar, the adventurer duo and Jayanta-Manik the detective duo. It was Bimal-Kumar's adventure story Jokher Dhan, for which he is famous in Bengali literature for children. He was a staunch believer in supernaturals and he used the supernatural element in several of his adventure and mystery stories. He was also a painter and the choreographer for Shishirkumar Bhaduri's Seeta. He created a comic series titled Tara Teen Bondhu, which consists of seven short stories such as 'Kukur Kahini', 'Nakuler Daon Mara', 'Maharaja Chor Churamoni Bahadur', 'Kamon Kore Totlami Sare', 'Kartik Pujor Bhoot', 'Der Dozon Jahagi', and 'Madhureno Somapoyet'. The three main character of this series, Atal, Patol and Nakul, won huge popularity among the children and youngsters.

Pinaki Roy, who has offered post-colonial interpretations of Bengali detective fiction, gives primacy to Roy more as a writer of sleuth narratives than of children's literature. Pinaki Roy credits the litterateur for initiating a trend which would ultimately bring Bengali detective-story-writing from its colonial phase to its anti-imperialistic one: "Jayanta, the detective-cum-scientist, is probably one of the earlier fictional Indian sleuths who use their Indian sensibilities to capture Indian criminals operating in what could be idenfied as an 'indigenous' atmosphere.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
25 (23%)
4 stars
47 (44%)
3 stars
28 (26%)
2 stars
3 (2%)
1 star
3 (2%)
Displaying 1 - 28 of 28 reviews
Profile Image for Syeda Banu.
99 reviews52 followers
August 26, 2021
কলকাতা, তুমিও হেঁটে দেখো

কলকাতা, তুমিও ভেবে দেখো

কলকাতা, তুমিও হেঁটে দেখো

কলকাতা, তুমিও ভেবে দেখো

যাবে কি না যাবে আমার সাথে....


লোকে বলে কলকাতাকে জানতে হলে, হন্টনের বিকল্প নেই। এর প্রতিটি গলির কিছু না কিছু বলার মতো ইতিহাস আর রহস্য আছে। দিনের বেলা সে যেমন তেমন, কিন্তু সন্ধ্যায় যখন বাতিগুলো জ্বলতে শুরু করে, কলকাতা তার নিজের রহস্যময় চেহারাটা উন্মোচিত করে।


বাইরে থেকে এই রাতের কলকাতা যতটা রঙিন, আলোর নীচে ততটাই অন্ধকার। গঙ্গাস্নানে আর পুজো দিতে আসা নারীদের অন্ধকারে কেউ হরণ করছে, কোনো ধনী যুবতী পথ থেকে তুলে নিচ্ছেন এক রাতের শয্যাসঙ্গী। অন্ধকার চিরে দিচ্ছে মাদকে মাতাল নারী পুরুষের সোল্লাস চিৎকার, অশ্লিল ঝগড়া আর হঠাৎ খুনখারাবি। বাঙ্গালী, গোরা, চিনে, জাপানির হট্টগোল সামলাতে কোথাও তৎপর আছে সার্জেন্ট ও পাহারাওয়ালা।


এই কলকাতার অলিগলিতে হেঁটে বিংশ শতাব্দীর এক যুবক লিখে ফেললেন 'রাতের কলকাতা'। ১৯২৩ সালের ছোট একটা পুস্তিকা, কিন্তু অন্ধকারে, বিপদ মাথায় নিয়ে লেখা সেই বই সাঁঝবাতি আর মোমের আলোয় জ্যান্ত হয়ে ওঠা বিংশ শতাব্দীর কলকাতাকে জানার জন্য যথেষ্ট। গুন্ডাদের আখড়া, চীনেপাড়া, পতিতালয়, থিয়েটার, নিমতলার শ্মশানের বিচিত্র সব চাক্ষুস অভিজ্ঞতা তার। রাত্তিরে নরক গুলজার হওয়া কলকাতার এসব নিষিদ্ধ এলাকায় ঘুরে বেড়ানো সহজ কাজ নয়। পরিচয় গোপন রাখতে যুবক বইটিতে নিজের নাম লিখেছিলেন 'মেঘনাদ গুপ্ত'। এই গুপ্ত বাবুটি আর কেউ নন, শিশুসাহিত্যিক শ্রী হেমেন্দ্রকুমার রায়।


'রাতের কলকাতা' বইটির একটি পুরোনো কপি ছিল ঢাকায়, খ্যাতিনাম লেখক হায়াত মামুদের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে। সেটার জেরক্স কপি করে কলকাতায় বইটি পুনঃমুদ্রিত হয় নব্বই সালে। সেটারই সটীক সংস্করণ বুকফার্ম থেকে প্রকাশিত 'কলকাতার রাত্রি রহস্য'। কৌশিক মজুমদারের সম্পাদনায় টীকা আর ছবিগুলো বইটিকে সমৃদ্ধ করেছে, নয়তো বইয়ের উল্লেখিত অনেক শব্দ ও রেফারেন্স একালে পাঠকের পক্ষে বোঝা সম্ভব হতো না৷ কে জানত, সেকালে শুঁড়ি আর পুলিশকে 'মামা' ডাকা হত!


'রাতের কলকাতা' হেমেন্দ্রকুমার রায় লিখেছিলেন 'কেবলমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য' (নারীদের জন্য তখন কে লেখে!) । তবে সেই পুরুষজাত তখনো প্রাপ্তমনস্ক হননি তাই বইটি অশ্লীল খ্যাত ছিল দীর্ঘকাল। কলকাতার তথা এর বাসিন্দাদের বীভৎস ও নগ্নরূপের বর্ণনা সকলে ঠিক হজম করতে পারেননি। সে কারণে বোধহয় মেঘনাদ গুপ্ত 'আরও অগুনতি উপাদান নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে আবারও দেখা দেব' কথা দিয়েও পরের পর্বটি আর লিখেননি। 


বইঃ কলকাতার রাত্রি রহস্য 
রচনাঃ হেমেন্দ্রকুমার রায় 
সম্পাদনাঃ কৌশিক মজুমদার 
প্রকাশনাঃ বুক ফার্ম
ভারতীয় মূল্যঃ ২৫০ টাকা
Profile Image for Farhan.
727 reviews12 followers
August 22, 2021
'কলকাতার রাত্রি রহস্য' বইটা, প্রকাশক ও সম্পাদকের গবেষণা ও ব্যাখ্যামতে, হেমেন্দ্রকুমার রায়ের লেখা, 'মেঘনাদ গুপ্ত' ছদ্মনামে। 'যখের ধন' খ্যাত এই বহুপরিচিত সাহিত্যিক কেন ছদ্মনাম নিয়েছিলেন এই বইয়ের জন্য, সেটা কয়েক পাতা পড়লেই পরিস্কার হয়ে যায়। ১৯১০ বা ১৯১২ সালের দিকের কলকাতার নাগরিক সমাজের যে অন্ধকার অজানা অদেখা রূপ তিনি স্বচক্ষে দেখে তুলে ধরেছেন, স্বনামে প্রকাশ করলে শুধু নিজের পেশাজীবন নয়, ব্যক্তিজীবনও যে হুমকির মুখে পড়তে পারতো, তাতে কোন সন্দেহ নেই। ১৯২৩ সালে প্রকাশিত ছোট আকারের বইটি প্রায় শ'খানেক বছর পরে সম্পাদনা করে টীকাসহ প্রকাশ করেছেন কৌশিক মজুমদার। এখানে একান্ত ব্যক্তিগত একটা মতামত দিয়ে রাখি, সুনীল-শীর্ষেন্দু-সমরেশদের পর কলকাতার ফিকশন জগতে তেমন জুতের কাউকে পাইনি, কিন্তু নন-ফিকশনের বিষয়বৈচিত্র্য ও লেখার ধরণে কলকাতা যে এপার বাংলার চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে আছে (অতীতেও ছিল), তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই। আর ননফিকশন লেখায় যারা অগ্রগণ্য, তাদের মাঝে কৌশিক মজুমদারকে আমি একেবারে প্রথমে রাখবো। তাঁর সাথে আমার প্রথম পরিচয় 'হোমসনামা'-র মাধ্যমে, এরপর পড়েছি খাবার নিয়ে বই 'নোলা'। আর এবারেরটা তার সম্পাদনা হলেও এমন দুর্দান্ত একটি বই সম্পাদনার জন্য বেছে নেয়ায় তাঁকে কৃতিত্ব দিতেই হয়।

এই বইটা নয়টি ছোট ছোট লেখার সঙ্কলন। বিংশ শতকের শুরুর দিকে কলকাতা মহানগরী হলেও ছিল না বিজলী বাতি, সন্ধ্যা হলেই অফিস পাড়া আর আবাসিক এলাকাগুলো ঝিমিয়ে পড়তো। তারমানে এই নয় যে, কলকাতা ঘুমিয়ে যেত। বরং রাত বাড়ার সাথে সাথে আপার চিৎপুর রোড, সোনাগাছি, সাহেবপাড়াসহ অনেক এলাকা জেগে উঠতো নিশাচর প্রাণীর মত। সে প্রানীদের দলে শিকারী, শিকার, দর্শক কিছুরই অভাব নেই। সেখানে ছিল ফুর্তির সন্ধানে থাকা বাবুসমাজ, গণিকা, চোর, পকেটমার, বাটপার, দালাল, হোটেল ব্যবসায়ী, পানওয়ালা, পাহারাদার, পুলিশ, ভিখিরি, শ্মশানযাত্রী, আরো কত কত লোক! সে জীবন নিজ চোখে দেখার জন্য ছোট একটি লাঠি সম্বল করে বেরিয়ে পড়তেন লেখক। যা দেখেছেন, তার কিয়দংশও নাকি লেখেননি, তবে ইঙ্গিত যা দিয়েছেন, সচেতন পাঠক মাত্রেই বুঝে নিতে পারবেন গল্পের ভেতরের গল্পগুলো।

প্রথম লেখাতেই আছে কলকাতার বর্ণনা, আর সে বর্ণনা মিলে যায় বিশ্বের প্রায় সব মেগাসিটি বা মহানগরীর সাথে। কলকাতা দেখিনি, তবে ঢাকায় থাকি, কর্মসূত্রে দিল্লী-লন্ডন-টোকিও'র মত মেগাসিটি দেখার সুযোগ হয়েছে, আর সময়ের পরিবর্তনে প্রযুক্তির আগমনটুকু বাদ দিলে সেই ১০০ বছর আগের কলকাতার সাথে এখনকার বৈশ্বিক মহানগরগুলোর চরিত্রগত কোন অমিল খুঁজে পেলাম না। লেখকের বর্ণনাতেই শুনুন--"দিবারাত্র তার পথে জনতার স্রোত বইছে, মান্ধাতার গোরুর গাড়ি আর মানুষ-গাড়ির পাশাপাশি আধুনিক বৈদ্যুতিক ট্রাম, বাস ও মোটরগাড়ি ছুটছে, তাদের গায়ে ছায়া ফেলে উড়ছে উড়োজাহাজ, চশমা-নাকে, টেরি-মাথায় কাপুড়ে-বাবু, কালো অঙ্গে বিলাতি পোশাক ইঙ্গ-বঙ্গ পুঙ্গব,......একদিকে বড়ো বড়ো রঙ-বেরঙের আকাশছোঁয়া অট্টালিকাশ্রেণী, তারই ছায়ায় হেলে পড়া মেটে দেয়াল.......রাজপথের একদিকে মূর্তিমান ঐশ্বর্য্যের মত শকটারোহী, সুসজ্জিত লক্ষ্মীর বরপুত্ররা, অন্যদিকে প্রকাশ্য রাস্তার ধুলায় ছেঁড়া কাঁথা পেতে চিরদারিদ্র‌ের উপাসক, অস্থিচর্মসার দীন ভিখারীর দল।" ঢাকা শহরের গুলশান বা কাওরানবাজার এলাকায় যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন, অশালীন ঐশ্বর্য আর মুখব্যাদান করা দারিদ্রের সহাবস্থান যারা দিনেদুপুরেই দেখে থাকেন, লেখকের এ বর্ণনার সাথে মিলে যেতে তাদের এক মুহূর্তও লাগবে না।

এরপর লেখক চলে গেছেন কলকাতার নৈশজীবনের বর্ননায়। একটা কথা বারবার তিনি উল্লেখ করেছেন, সেকালের নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত, কুখ্যাত লম্পট থেকে শুরু করে সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতা বা বুদ্ধিজীবি সমাজের প্রায় সবটাই গণিকাসক্ত, মদ্যাসক্ত, এবং যেহেতু দিবালোকে সযত্নে নিজেদের এই চেহারাটা লুকিয়ে রেখে সর্বজনতাকে নীতির সবক দিয়ে বেড়ান, সেহেতু চূড়ান্ত ভণ্ড। সম্ভবত এদের জন্যই তার এই ছদ্মনাম গ্রহণ। রাতের রাজপথে, গণিকাপাড়ায় তিনি হেন সমাজের লোক নেই যাকে মাতলামি বা গণিকাসঙ্গে দেখেননি। তবে এখনকার সাংবাদিক বা নাগরিক সমাজের মত তিনি সমাজের তথাকথিত 'ভদ্রলোক'-দের বাঁচিয়ে গণিকাদের উপর দোষ চাপাননি, বরং পেটের দায়ে যারা এপথে এসেছে তাদের দিকে পরম সহানুভূতি দেখিয়ে প্রবল ক্ষোভ ঝেড়েছেন সমাজের এই মুখোশধারীদের (এবং সংখ্যাটা বিপুল) দিকেই। রাতের ঢাকায় যারা ন���না সূত্রে চলাফেরা করেন, নামীদামী হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে কখনো পদার্পনের সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য হয়েছে, তারাই জানেন লেখকের এই পর্যবেক্ষণ কতটা সত্যি। নৈশনগরীর সকল নোংরা-আবর্জনার চেয়েও ক্লেদাক্ত আমাদের এই ভণ্ডামি, কিন্তু শত বছর আগে এক তরুণ লেখক ছদ্মনামে হলেও যে সাহসটা করেছিলেন, সেটা আমরা এত বিদ্যাশিক্ষা অর্জনের পরও করতে পারি না বলেই পাকেচক্রে কোন বিশাল গ্রুপের মালিকের প্ররোচনায় আত্মহত্যা করলেও সেই মেয়েটাকেই আমরা ধিক্কার দিই, আর অর্থক্ষমতার জোরে সেই 'বাবু'-টি নির্লজ্জের মত হাসিমুখে কোন খেলাধুলার উদ্বোধনী আসরে ছবির জন্য দাঁড়িয়ে যায়, আর তারচেয়েও নির্লজ্জের মত আমরা 'ভদ্রসমাজ' সেই দেখে দু'টো হালুয়া-রুটির জন্য তালি দিয়ে হাত ব্যথা করে ফেলি।

লেখাগুলোর আরেকটা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো বর্ণনা। যারা 'যখের ধন' পড়েছেন, তারাই জানেন যে, গা শিউরে ওঠা পরিবেশ সৃষ্টি করতে হেমেন রায়ের জুড়ি নেই, কিন্তু সে ছিল ভৌতিক বা অ্যাডভেঞ্চার গল্প। বাস্তব জীবন্ত শহরের মানবসৃষ্ট অন্ধকারময় জগতের বর্ণনাতেও যে ভয় ধরিয়ে দেয়া যায়, মন্ত্রমুগ্ধ করা যায়, সেটা বোঝার জন্য এই বই পড়তে হবে। বাংলা ভাষায় 'একমেবাদ্বিতীয়ম' কিছু বই আছে, যেমন বিভূতিভূষণের 'আরণ্যক', বরেন বসু'র 'রংরুট', উপেন্দ্রনাথের 'নির্বাসিতের আত্মকথা', জরাসন্ধের 'লৌহকপাট', পরিতোষ সেনের 'জিন্দাবাহার', কিংবা মুজতবা আলী'র 'দেশে বিদেশে' ও 'চাচা কাহিনী', যেগুলো নিজেরাই 'আ ক্লাস ইন ইটসেলফ'। সেই তালিকায় কয়েকদিন আগে ঢুকিয়ে নিয়েছিলাম 'মিয়াজান দারোগার একরারনামা', আর আজকে ঢুকে গেল 'কলকাতার রাত্রি রহস্য'। অভূতপূর্ব এক পাঠ অভিজ্ঞতার জন্য বইটা যে পড়তেই হবে, এত লম্বা লেখার পর সেটা কি আর বলে দিতে হবে?
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 24 books1,869 followers
November 28, 2023
হেমেন্দ্রকুমার রায়ের নামের সঙ্গে বিমল-কুমার, জয়ন্ত-মানিক, অ্যাডভেঞ্চার আর ভূত এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে তাঁর সৃষ্টিকর্মের অন্য দিকগুলো আমাদের চোখেই পড়ে না। একদা 'নাচঘর' পত্রিকায় তিনি সংস্কৃতির নানা দিক ও ঘটনা নিয়ে যে-সব প্রবন্ধ লিখেছিলেন, তা আজ হারিয়েই গেছে। সেভাবেই তাঁর এই 'কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের জন্য রচিত', প্রত্যক্ষদর্শীর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ছোট্ট লেখাটি পাঠকের নজরের আড়ালে ছিল বহুকাল। সমকালীন উন্নাসিক সমালোচকদের কথা ভেবে হেমেন্দ্রকুমার বইটি প্রকাশ করেছিলেন ছদ্মনামে। কিন্তু 'মেঘনাদ গুপ্তের' লেখা সেই 'রাতের কলকাতা'-ও দীর্ঘদিন ধরে অপ্রকাশিত অবস্থায় ছিল। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মনে হবে, ঠিক কী ছিল/আছে এই বইয়ে?
গত শতাব্দীর দুইয়ের দশকে কলকাতা শুধু ভারত নয়, বিশ্বের অন্যতম প্রধান নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রশাসন থেকে শুরু করে বিপ্লবী, স্বপ্নসন্ধানী কবি থেকে ছাপোষা মধ্যবিত্ত— সবার কাছেই সেটি ছিল কল্লোলিনী। কিন্তু রাত নামলে, আলোর অবগুণ্ঠন সরিয়ে তার এক কদর্য চেহারা আত্মপ্রকাশ করত। তার খবর জানত অন্ত্যজ জনতা আর অন্ধকারের বাসিন্দারা। লেখক পায়ে হেঁটে কিছু-কিছু অঞ্চলে ঘুরে সেই লুকোনো চেহারাটা দেখতে ও দেখাতে চেয়েছিলেন।
পেরেছিলেন কি?
আজ আমরা ওয়েব সিরিজ আর সিনেমায় অনেক কিছু দেখতে-দেখতে নিস্পৃহ হয়ে পড়েছি। কিন্তু একশো বছর আগের পিউরিটান বাঙালি এই লেখা পড়ে যে স্তম্ভিত হয়েছিলেন, তা নিশ্চিত। তাঁদের আনুকূল্য পেলে লেখক যে আরও নানা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ প্রস্তুত করতেন, তাও অনুমেয়। কিন্তু তেমন কিছু ঘটেনি। ছোট্ট পুস্তিকাটি চলে গেছিল দৃষ্টির অগোচরে— রাতের কলকাতার মতোই।
লেখাটিকে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে, সটীক আকারে পরিবেশনের জন্য বুকফার্ম আমাদের সবার কাছে ধন্যবাদার্হ হল। হয়তো কোনো একদিন হেমেন্দ্রকুমারের সেইসব অপ্রকাশিত অভিজ্ঞতার সন্ধানও পাওয়া যাবে। গেলে সেগুলোও এমনভাবে প্রকাশের অনুরোধ রইল তাদের উদ্দেশে।
Profile Image for Dev D..
171 reviews27 followers
July 30, 2020
বইটির আদত নাম ছিল রাতের কলকাতা- লেখক মেঘনাদ গুপ্ত। সে বই আগেই (২০১৫) অন্য একটি প্রকাশনী থেকে পুনঃ প্রকাশিত হয়েছে। মূল বইটির প্রথম প্রকাশ অবশ্য ১৯২৩ সালে। তাহলে হঠাৎ বই ও লেখকের নাম বদলে যাবার রহস্য কি? আসল ব্যাপার হলো মেঘনাদ গুপ্ত হচ্ছে লেখকের ছদ্মনাম। যদিও হেমেন্দ্র কুমার রায় নিজে কোথাও লিখে যান নি যে বইটি তারই লেখা, তবে বইটি যে তিনি ই লিখেছেন তার স্বপক্ষে দু চারটি যুক্তিযুক্ত প্রমাণ আছে। বর্তমান প্রকাশক ও সম্পাদক বইটিতে বিভিন্ন টীকা জুড়ে দিয়ে বইটিকে একটু ভিন্নতা দিয়েছেন। এতে বইয়ের কলেবর ও মূল্য বৃদ্ধি পেলেও টীকাগুলোও কম মূল্যবান নয় বরং বলতে গেলে একটি স্বতন্ত্র বইয়ের মতোই প্রায়। সেই বিচারে আলাদা নামে ও লেখকের স্বনামে বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও হেমেন্দ্র কুমার রায় ও আসলে লেখকের ছদ্মনাম। বিখ্যাত এই লেখকের আসল নাম ছিল প্রসাদ রায়।

হুতোম প্যাঁচার নকশা বাংলা সাহিত্যের একটি ক্লাসিক বই। সর্বপ্রথম না হলেও নকশাধর্মী বইয়ের ক্ষেত্রে সেটিই সর্বশ্রেষ্ঠ। হুতোমের সময়কাল উনিশ শতকের ষাটের দশকের। এই বই ও নকশাধর্মী তবে বইয়ের সময়কাল বিশ শতকের গোড়ার দিকে। বইটির প্রথম দৃশ্যে কলকাতাকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শহর বলায় বর্তমান বইয়ের ভূমিকায় দাবি করা হয়েছে বইয়ের অভিজ্ঞতা গুলো ১৯১২ এর আগের তবে তা পুরোপুরি সঠিক বলে মনে হয় না। কেননা একটি দৃশ্যে কলকাতাকে যেমন রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তেমনি অন্য একটি দৃশ্যে বিগত যুদ্ধে ( নিশ্চয়ই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ) স্পেকুলেশনের জোরে মাড়োয়ারীদের পকেট ভারী হবার কথাও বলা হয়েছে। সে হিসেবে বইয়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাগুলো ১৯১১ এর আগে থেকে শুরু করে ১৯২৩ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে লব্ধ ও লিখিত বলেই অনুমান করা যায়।

বইয়ের প্রথম দৃশ্যগুলোতে রাতের কলকাতার কথা বলতে গিয়ে গণিকাবৃত্তির বর্ণনা ও তার প্রতি বিষোদগারটাই বারবার এসেছে যা কিছুটা একঘেয়ে লাগছিল যদিও পতিতাদের প্রতি লেখকের আন্তরিক মমতাও লেখায় ফুটে উঠেছে বারবারই। তবে শেষ তিনটি দৃশ্য আমার মন ভরে দিয়েছে। উৎসব রাতের কলকাতা, সেকালের ভিক্ষুক সম্প্রদায় আর থিয়েটার পাড়ার এমন প্রানবন্ত বর্ণনা তো আর পাওয়া যাবে না। সেকালের গল্প উপন্যাসে কিংবা একালে লিখিত সেকালের কলকাতার পটভূমিকায় লেখা ঐতিহাসিক উপন্যাসগুলোয় অথবা একালের গবেষণা ধর্মী লেখায় হয়তো সেকালের কলকাতার বিভিন্ন দৃশ্যের বর্ণনা পাওয়া যায় তবে এমন ফার্স্ট হ্যান্ড ইনফরমেশন বা চাক্ষুষ বর্ণনা তো অন্য বইয়ে পাওয়া সম্ভব নয়। বইয়ের টীকাগুলো অনেক ক্ষেত্রে অনাবশ্যক দীর্ঘায়িত করা হয়েছে এবং আবশ্যক অনেক ক্ষেত্রে টীকা জুড়ে দেয়া হয় নি। তাছাড়া টীকাগুলো প্রতি দৃশ্যের শেষে না দিয়ে একেবারে শেষে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সবমিলিয়ে বইটি ভালো লাগার মতোই। লেখক বইয়ে বারবারই উল্লেখ করেছেন
রাতের কলকাতার আরও বিপুল বিচিত্র অভিজ্ঞতা তার রয়েছে এবং পাঠক আগ্রহী হলে তিনি সেসব লিখবেন, যদিও তেমন কোন লেখা সম্ভবত আর তার লেখা হয়ে ওঠে নি। সেটা একালের পাঠকের দুর্ভাগ্য নাহলে সেকালের কলকাতার আরও কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতা তো আমরা জানতে পারতাম লেখকের মাধ্যমে।
Profile Image for A.
189 reviews
January 9, 2022

Translated from Bengali, this book showcases the lesser known and ventured places of Calcutta back in the 1923. The thoughts, culture and mannerisms of that era might feel a bit fictitious to some readers.

However I loved the picturesque background of this Calcutta which I have read in many historical books.

Of course what I did not like much was how short lived each place was, it lacked the art of storytelling but maybe back then they did not want to write more about a banned place of society.
Profile Image for Pranta Biswas.
122 reviews4 followers
December 18, 2023
❝A reader lives a thousand lives before he dies. The man who never reads, lives only one.❞
~George R.R. Martin
আমরা কিছু বই পড়ি বিনোদনের আশায়। কিছু বই পড়া হয় নতুন কিছু জানতে আর বুঝতে। কিন্তু এমনও কিছু বই হয়, যা বিনোদন জোগানোর ফাঁকেই পুরোনো সব কিছুকে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করে তোলে। 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়'এর 'সেই সময়', কিংবা রবিঠাকুরের বিভিন্ন উপন্যাসে আদি কলকাতা সম্পর্কে মোটামুটি পরিস্কার ধারনা পাওয়া যায়। বইগুলোর বিভিন্ন বর্ননা এতোটাই প্রাঞ্জল যে চিত্রগুলো সহজেই চোখের সামনে ফুটে উঠে। তবে প্রায় সকল বর্ননাই ছিলো কাহিনীর প্রয়োজনে এবং কলকাতার মোটামুটি উচুস্তরের নাগরিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে বর্নিত। দুই একটি চরিত্র ব্যাতিক্রমী হলেও সেখান থেকে সেসকল শ্রেনির সমগ্র চিত্র অনুধাবন করা অসম্ভব।

হেমেন্দ্রকুমার রায় সেই আদি কলকাতার (বিশ শতকের প্রথম দু-শতক টাইমলাইনের ) অন্য এক নতুন রুপ তুলে ধরেছেন এই বইয়ে। প্রকৃতপক্ষে ঠিক এই বইয়ে না। 'মেঘনাদ গুপ্ত' ছদ্মনামে হেমেদ্রকুমার রায় 'রাতের কলকাতা' নামে বইটি প্রথম প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সটীক সংস্করন হিসেবে বুকফার্ম থেকে লেখকের আসলে নামে 'কলকাতার রাত্রি রহস্য' বইটি প্রকাশিত হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে 'হেমেন্দ্রকুমার রায়' ও লেখকের ছদ্মনাম। লেখকের আসল নাম হলো 'প্রসাদ রায়'। যাইহোক, রাতের যেকোনো শহরই দিনের তুলনায় অন্যরকম, এবং কিছুটা বিপজ্জনক। কিন্তু রাতের কলকাতা কতটা অন্যরকম আর কতটা বিপজ্জনক? এই অন্যরকম ও বিপজ্জনক কলকাতার চিত্র ফুটিয়ে তুলতে লেখক কিছু বিশেষ এলাকা বেছে নিয়েছেন যার বেশিরভাগই ভদ্রসমাজ এড়িয়ে চলে, অন্তত দিনের বেলা তো বটেই। উঠে এসেছে সমাজের বিশেষ কিছু শ্রেনির জীবনকথা।

'রাতের কলকাতা' বইয়ের প্রস্তাবনায় লেখক বলেছেন, "রাতের কলকাতা কেবলমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য লিখিত হলো"। যদিও সুড়সুড়ি প্রত্যাশী পাঠকদের বলতে গেলে হতাশই করবে এই বই।
Profile Image for Gaurav Dhar.
41 reviews
June 16, 2025
“কলকাতার রাত্রি রহস্য” আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় কলকাতার (তৎকালীন ক্যালকাটা) রঙিন রাত্রির জগতে, সেই সময়ে যখন এটি ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল। হেমেন্দ্রকুমার রায় দক্ষতার সাথে পাঠককে শহরের অলিগলি ও অজানা পথঘাটে ঘুরিয়ে নিয়ে যান, তুলে ধরেন রাত নামার পর জীবন্ত হয়ে ওঠা নানা মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের গল্প। বইটিতে একের পর এক মনোমুগ্ধকর ঘটনা উপস্থাপিত হয়েছে — কিছু তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া, আবার কিছু তৃতীয় পুরুষের দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত। তাঁর লেখনীতে পুরনো কলকাতার রাত্রি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।

এই সংস্করণের আরেকটি বড় আকর্ষণ হল বইটির উৎপত্তি নিয়ে বিস্তৃত গবেষণামূলক ভূমিকা, যেখানে বলা হয়েছে কীভাবে হেমেন্দ্রকুমার রায় “মেঘনাদ গুপ্ত” ছদ্মনামে এটি লিখেছিলেন। বইটির শেষে কৌশিক মজুমদারের বিশদ টীকাগুলি আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করে, যা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সে সময়কার বিভিন্ন শব্দের ব্যাখ্যা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বইটিতে যে দুর্লভ চিত্র ও আলোকচিত্র যুক্ত করা হয়েছে, তা এই সংস্করণটিকে সত্যিকারের সংগ্রহযোগ্য সম্পদে পরিণত করেছে।

যদি আপনি কলকাতার ইতিহাসভিত্তিক নন-ফিকশন পড়তে পছন্দ করেন কিংবা কোনো শহরের প্রাচীন বৈশিষ্ট্য জানার আগ্রহ থাকে, তবে এই বইটি অবশ্যই পড়া উচিত।
Profile Image for Chandreyee Momo.
222 reviews30 followers
March 9, 2025
এটা একটা অসাধারণ রচনা। কলকাতার সবচেয়ে নিচু শ্রেণীর যেই বিষয়গুলো আছে, যা নিয়ে হয়তো কেউ কোনদিন এত বর্ণণামূলক লেখা তৈরি করেননি, সেসব জায়গার নানারকম অভিজ্ঞতা নিয়ে এই বইটি লেখা। এবং মূল লেখক নিজেও বইটি লিখেছিলেন ছদ্মনামে। এই বইটি কে সম্পাদনা করে সাথে অত্যন্ত ডিটেইলড টিকা সংযুক্ত করে কৌশিক মজুমদার একটি অসাধারণ কাজ সম্পন্ন করেছেন মনে আমার মনে হয়। অনেক সময় নিয়ে এই তথ্যবহুল বইটা পড়েছি। কিন্তু যা জানতে পারলাম এই বই পড়ে, তা অতুলনীয়।
Profile Image for Soham.
81 reviews5 followers
March 8, 2023
বিগত-উনিশ এবং বিশ শতকীয় মূল্যবোধজনিত মতামতকে একুশ শতকে বসে সর্বদা হজম করা কঠিন। সেইটুকু বাদ দিলে অতি চমৎকার একটি বই। অতিরিক্ত রাজনৈতিক শুদ্ধতার ন্যাকামিও লেখক করেননিম তবে প্রথম প্রকাশের সময় লেখক ছদ্মনাম কেন ব্যবহার করেছিলেন কে জানে, কারণ গোটা দুয়েক পাতা উল্টালেই মোক্ষম বোঝা যায় এহেন গদ্যভাষা কার কলমে জন্ম নিতে পারে।

৩.৫/৫।
Profile Image for Deepta Sen.
76 reviews1 follower
September 28, 2022
কোন ভাষার সাহিত্যেই "কলকাতার রাত্রি রহস্য" এর মতো নকশা জাতীয় রচনা লেখা হয় হাতে গোনা কয়েকটি। এ জাতীয় রচনায় শ্লেষের মাধ্যমে সামাজিক অসঙ্গতি তুলে ধরার প্রয়াস পান লেখক। বাংলা গদ্য সাহিত্যের শুরুর দিকে বেশকিছু নকশা জাতীয় রচনা লেখা হলেও কালীপ্রসন্ন সিংহের "হুতোম প্যাঁচার নকশা" এর মতো সফল ও জনপ্রিয় লেখা আর নেই। এই লেখাতেও হুতোমের প্রভাব স্পষ্ট।
গত শতাব্দীর প্রথম দুই দশকেও ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হিসেবে কলকাতা ছিল বিশ্বের ২য় গুরুত্বপূর্ণ শহর। অবশ্য কলকাতাকে তখনও মেট্রোপলিটনের চাকচিক্য পুরোপুরি গ্রাস করতে পারে নি। রাজপথে ট্রাম, মোটরগাড়ির পাশেই চলতো পালকি, গরুর গাড়ি। আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকার গায়ে লাগানো ঘুটে দেওয়া মাটির দেয়াল। টেরি কাটা কাপুড়ে বাবুদের দেখা মিলতো আবার চোখে পড়তো ধোপদুরস্ত ইংরেজ, মারাঠি, গুজরাটি, জাপানি নানা জাতির লোক। পাশ্চাত্যের প্রভাবন্বিত রেঁনেসাস যেমন সমাজকে পাল্টাচ্ছিলো তেমনি পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির আঘাতে সমাজে নিয়ে এসেছিল কদর্যতা ও অধঃপতন। অবশ্য এই অধঃপাতের ক্ষত ভালোভাবে ফুটতো রাত নামলেই। তখন শহরে ছিল না আলোর ঝলকানি, রাস্তায় থাকা মিটমিটে গ্যাসবাতিতে কাটতো না রাতের কলঙ্ক। এহেন সময়ে লেখক স্রেফ এক ছড়া লাঠি সম্বল করে ঘুরে বেড়িয়েছেন কলকাতার পথেঘাটে।
তবে যতই অবক্ষয় ঘটুক লোকসমাজের নিন্দার ভয় কম ছিল না। তাই প্রাণ আর সম্মানের ভয়ে লেখক মেঘনাদ গুপ্ত ছদ্মনামে লিখবেন এ আর আশ্চর্য কি! অবশ্য ছদ্মনামে না হয় পরিচয় লুকানো যায়, কিন্তু লেখনী লুকানো মুশকিল। এই লেখন শৈলী দেখেই পরবর্তী গবেষকেরা একমত হয়েছেন এই মেঘনাদ গুপ্ত হলেন লেখক হেমেন্দ্রকুমার রায়।
বইটি মোট নয় অধ্যায়ে। লেখক নকশায় প্রথম দুই অধ্যায়ে ফুটে উঠেছে সেসময়কার নগর কলকাতা আর কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার রাত্রিকালীন হাল হকিকত। সোনাগাছি, রুপোগাছি, চিৎপুর, চৌরঙ্গী, গড়ের মাঠ, কার্জন, মেছোবাজার, বড়বাজার এসব রাস্তার ডিটেইলিং করেছেন বেশ যত্ন নিয়ে। এ���ব এলাকা ছিল সেসময় দেহ ব্যবসা, মদ ব্যবসা, জুয়া, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কেন্দ্র। সেসময় চীন আর ব্রিটেনের মধ্যে আফিম ব্যবসা চলতো। কলকাতাতেও গড়ে উঠেছিল চীনাদের স্বতন্ত্র বসতি, যার বর্ণনা এসেছে তৃতীয় অধ্যায়ে৷ চতুর্থ অধ্যায়ে কলকাতার বাবু সংস্কৃতির অন্যতম উপজাত বারঙ্গনা পল্লী ও তার বাসিন্দাদের অমানবিক জীবনের কথা এসেছে। পঞ্চম অধ্যায়ে নিমতলা শশ্মানের বর্ণনা। যদিও রাত তিনটে বাজে শশ্মানের বর্ণনা আনন্দের কাজ না, তবে লেখক শশ্মানকে ভয়াবহ রুপে চিত্রিত করেন নি। হিন্দুদের শশ্মান তাঁর চোখে কারোর জন্ম-মৃত্যুতে যে বিশ্বসংসারে কিছু আসে যায় না এই ভাবটিই প্রবল। পরবর্তীতে অধ্যায় গুলোতে যথাক্রমে তদানীন্তন কলকাতার দেশী ও বিদেশী হোটেল, মহররম ও পুজার উৎসবে রঙিন কলকাতার রাত, ভিক্ষুক ও সন্ত্রাসীদের পাড়া, এবং সর্বশেষে বিদেশি থিয়েটারের মনোজ্ঞ পরিবেশের পাশ দাঁড় করিয়েছে দেশি থিয়েটারের হট্টগোল ভরা শ্রীহীন পরিবেশকে।
নাতিদীর্ঘ বইটির শেষে টীকাকার কৌশিক মজুমদার পুরানো কলকাতার হারিয়ে যাওয়া সময়কে তুলে ধরেছেন প্রায় ৮০ পৃষ্ঠা জুড়ে। অবশ্য অনেক প্রচলিত জিনিসও টীকায় স্থান পেয়ে গিয়েছে। উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর কলকাতার দুষ্প্রাপ্য ছবি যুক্ত হওয়ায় বইয়ের আকর্ষণ বেড়েছে, আফসোস ও জেগেছে বইটার অন্তত কিছু অংশ কালার প্রিন্ট হলে মন্দ হতো না।
বইটি ছিল অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত ছিল। বইয়ের প্রস্তাবনায় লেখা ছিল শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য। অবশ্য এক শতাব্দী গত হতেই আজকের মানে এই বইকে অশ্লীল মানুষজন অট্টহাস্য করবেন। মানবতা আর সামাজিক লোকাচারের টানাপোড়েনর ছাপ লেখাতে সুস্পষ্ট। এখনকার কলকাতার রাত্রি রহস্য নিয়েও কেউ লিখলে মন্দ হতো না।
Profile Image for Bornik C.
112 reviews
February 14, 2021
বিংশ শতকের প্রথম দিকের কলকাতার এক খন্ড চিত্র পাওয়া যায় এই বইটি থেকে। লেখক হেমেন্দ্রকুমার রায় এর রাতের কলকাতাতে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এই বইটির ঐতিহাসিক মূল্য তো আছেই তার সাথেই এটি এখনও একটি উপভোগ্য পাঠ। কলকাতার প্রায় অদৃশ্য বিভিন্ন অন্তজ শ্রেণীর বর্ণনা অনেকটাই উনবিংশ শতকের মূল্যবোধের প্রভাব থাকলেও একেবারে সহানুভূতি বিহীন নয়।
এই ক্ষুদ্র বইটি আরো জানার উৎসাহ জাগিয়েই শেষ হয়ে যায়।
সঙ্গের টিকা গুলি ফুটনোট এ থাকলে আমার সুবিধা হতো। এছাড়া অনেক বহুল চর্চিত বিষয়ে বড় টিকা দেওয়া হয়েছে অন্য অবোধ্য বিষয় ছেড়ে। এটির একটু সংশোধন বইটির পথযোগ্যতা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারতো।
Profile Image for Dibyendu Pal.
87 reviews
August 8, 2022
Initially, I couldn't relate to the pieces. But as the book progresses, the topics get more interesting and the details more vivid. It's also a piece of history since it was a non-fiction book written in 1923. I think we can learn a lot about how a non-fiction book can be written in such a lucid way. The piece is definitely 'Anodkarer Jiv'.

A special mention to Kaushik Majumdar for his remarks on select aspects which made this book a satisfying read. Recommended!
9 reviews
December 26, 2020
This book is a gem. Orginally written by Megnad Gupto aka Hemendrakumar Roy , this books opens up the reality of night life in Kolkata. Here he talks about several places including the darkest areas of this city. This non fiction is a must read ; thanks to Kaushik Majumdar and team Book farm for adding valuable old photographs and other informations.
2 reviews
Want to read
August 30, 2020
It is pretty ironic that you ( amazon) are asking for review before I could read the book courtesy your mysterious way of ascertaining my password to be correct or not.
I could not reach the book via my amazon account.
Amazing ! ! !
Profile Image for Shibnath Das.
90 reviews
April 5, 2023
৫ তারা না হলেও সাড়ে চার। এতো উপভোগ্য বই আগে পড়ি নি। বন্ধুমহলে "টাইমের বাবু" নামটি ইদানিং জনপ্রিয় করে তুলতে পেরেছি। তবে বইটি হটাৎ শেষ হয়ে গেল। শেষের আধখানা বই কেবল টীকা। কলকাতার রাত্রির যে ছবি দেখেছি তাতে শহরটিকে নতুন করে চিনতে পারলাম, আরো একটু চিনতে পারলে ভালো হতো। কি যে ভালো হতো যদি লেখক তাঁর অভিপ্সিত দ্বিতীয় খন্ডটি বার করতেন। উনিশ শতকে এসেছিল হুতোম প্যাঁচার নকশা, বিংশ শতকে এই বই। একবিংশ শতকেও এমনি একটি বই আসার প্রয়োজন বৈকি। নিশ্চই আসবে, জীবদ্দশায় পড়ে যেতে পারবো আশা করি।
Profile Image for Anup Das.
Author 12 books16 followers
June 16, 2020
A Good Read for the History Buffs, and Serious Readers on Calcutta

"Calcutta Nights" or "Raater Kolkata" is one of the fascinating books depicting the night lives of the early twentieth-century Calcutta. The book was the successor of the Kaliprasanna Sinha's Hootum Pyanchar Naksha (The Observant Owl: Hootum's Vignettes of Nineteenth-century Calcutta) in narrating the nocturnal visits in different quarters of the city of Calcutta, which was the colonial capital of India until 1911. The famous novelist Hemendra Kumar Roy assumed the pen name Meghnad Gupta to write this book, which was first published in Bengali in 1923, with a promise to create another volume if it found success among the book lovers. Calcutta was continued to nurture its nocturnal lives, even after the departure from the colonial capital of India. Meghnad Gupta painstakingly visited the famous and infamous streets, lanes and by-lanes of central and north Calcutta, the Chinatown, prostitutes’ quarters, Nimtala crematorium, playhouses, hotels, and restaurants. The book is structured into nine scenes or chapters, while a Prologue gives an introduction to the book. Another introductory chapter titled "An Introduction to Babus, Bordellos, and Gaslit Nights", and a Preface titled "Nights in the City" are written by the translator Rajat Chaudhuri. In the Preface, Chaudhuri illuminates, "Raater Kolkata (Calcutta Nights), as someone has said, is the Hootum Pyanchar Naksha (The Observant Owl: Hootum's Vignettes of Nineteenth-century Calcutta) of the early twentieth century". The book is full of anecdotes and personal experiences, while the author encountered real-life situations in the city. For example, in the "Scene Five: Nimtala Burning Ghat", an old man contacted the author and his associates and handed over a murdered corpse for cremation, and later the old man vanished. They managed to duck the policemen in order to save themselves from police harassment. We would find many such anecdotes that enlighten us about the lives of Calcutta in the early twentieth century. This book is a good read for the history buffs, and serious readers on Calcutta cosmopolitan society.
Profile Image for Michael Pepe.
97 reviews
February 19, 2024
Calcutta Nights, or ‘Raater Kolkata’, was originally published in 1923 but was first translated into English by Niyogi Books in 2020. I found a copy among the treasure trove that is the New Delhi World Book Fair. This brief book contains the detailed descriptions of Hemendra Kumar Roy’s nightly misadventures across Kolkata one hundred years ago.

At the time, Kolkata was the capital of the British Raj and a melting pot of culture. Roy focuses on the hidden, the unseen, the neglected, and the rejected. His stories emphasize the humanity of everyone around us, especially prostitutes, beggars, addicts, and criminals.

This book is worth the read, especially as a contrast to the many, many books about India that paint it as an otherworldly nation of religiosity. This book captures the realities of urban life in the alien worlds of the colonial city.

“Look! There goes an old man holding the old woman’s hand. He is broken and bent over…you are still unable to tame this winter but this old man and woman, how do they keep alive in this biting cold? …your pocket is full of silver coins, but the old couple won’t get even a single one of those… Despite struggling against hopelessness all their lives, they haven’t lost hope…”
Profile Image for Pratik Kumar Dutta.
85 reviews1 follower
July 24, 2025
কলকাতা শহর সব সময়ই রহস্যময়ী.. এই শহরের প্রতিটা গলি-প্রতিটা বাঁক নিয়ে আসে এক নতুন গল্প, এক নতুন ইতিহাস.. তবে রাত যত বাড়তে থাকে, কলকাতার রহস্য তত গাঢ় হতে থাকে.. রাতের কলকাতার মায়াবী ও রহস্যময়ী রূপ নিয়েই হেমেন্দ্রক��মার রায়ের লেখা এই বই "কলকাতার রাত্রি রহস্য".. হেমেন্দ্রকুমার রায়ের লেখার সাথে বোনাস হিসাবে এই বইতে পাওয়া গেছে কৌশিক মজুমদারের লেখা বেশ কিছু টিকা, যা আপনাদের পুরোনো কলকাতার পটভূমিকা বুঝতে আরও ভালো ভাবে সাহায্য করবে.. রাতের কলকাতা শুধু যে মায়াবী ও রহস্যে ভরা তাই নয়, এই কলকাতা ভয়ানক ও বিপজ্জনকও বটে.. হেমেন্দ্রকুমার রায়ের লেখায় উঠে এসেছে কলকাতার হোটেল, রঙ্গালয় ও বস্তির অচেনা ও ঘৃণ্য মুখোশ.. এই বইয়ের বেশ কিছু অংশে ফুটে উঠেছে চীনেপাড়া,গণিকাপল্লি ও কলকাতার শ্মশানের ভয়ঙ্কর ও বেশ কিছু না বলা কথা, যা শিরদাঁড়ায় ঠান্ডা স্রোত বইয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট.. দিনের আলোয় দেখা নন্দন, ভিক্টোরিয়া, কলেজস্ট্রীটে ডুবে থাকা কলকাতা রাতের অন্ধকারে কিভাবে বিপদের হাতছানিতে ভরে ওঠে, তা না পড়লে বোঝা বেশ কঠিন..
Profile Image for Reemaayana.
106 reviews4 followers
April 27, 2020
...This crime classic cult was written in 1923 by Hemendra Kumar Roy as 'Raater Kolkata' which has been translated by the author Rajat Chaudhuri, the best part about the novel is its structure of the plot, the spontaneity, which proves that Hemendra Kumar Was ahead of his time. When whole colonial city was indulged into the aroma of etiquette, class and women especially behind the curtains this writer went on to take a bold step to produce an account which thoroughly celebrates the dark reality... for full review, check out my instagram account @kala.e.kitaabi
4 reviews1 follower
February 13, 2023
I read the bengali version of this book. I started reading this book expecting to learn about the history of the bygone era of British ruled Calcutta. Alas, I was disappointed. Every chapter from beginning to end went back to lives of prostitutes and how the society, rich or poor, was allured by them, so much so as if the writer seemed obsessed about them. There was no spec of history to be discovered or comparison to draw(with present Kolkata) after you read the entire book because you were offered none.You are not going to miss much if you don't read this book.
Profile Image for Sudeshna Dutta.
2 reviews2 followers
February 1, 2020
"A unique cosmopolitan setting" - - BUSINESS STANDARD

" A guidebook to the dark dens of eeriness" - PRESS TRUST INDIA (PTI)
2 reviews1 follower
March 11, 2020
In simplest english the book has total bengali flavour. What Rajat has done is marvellous.
Profile Image for Somyajeet.
144 reviews11 followers
July 19, 2021
Not much of note. Was expecting much more of the British era Calcutta social life.
7 reviews
December 31, 2020
Not the worst bit of sociological analysis, but really all through the lens of prostitution
Profile Image for Arpa Datta.
26 reviews
October 24, 2022
A quick read about the excitements and the lifestyle of typical Calcutta style life. With apt writing of the recreations which boosted mostly during 1920s .
Displaying 1 - 28 of 28 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.