প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির রিভিউ একত্রে:
❛শোনো শোনো দিয়ামন
কিংবদন্তীরও কথা করিব বর্ণন...❜
এক যে ছিল নাস্তিক পন্ডিত। সে কেমন করে তার বিশ্বাস পরিবর্তন করলেন এরপর আবার বৌদ্ধ শ্রমণের জীবন ধারন করলেন সে এক অদ্ভুত কাহিনি। সময় পেরিয়ে সেই নাকি অতীশ দীপঙ্কর নামে পরিচিত হলেন!
ঈশা খাঁ প্রেমে পড়েছিলেন স্বর্ণময়ীর। তাদের বিবাহের সময় এমন কোন স্বপ্ন দেখেছিলেন ঈশা খাঁ যার জন্য কোশাকান্দির কিংবদন্তীর সৃষ্টি?
ধীরাজ আর মাথিনের সেই করুণ প্রেমগাঁথা জানে না কে? ধীরাজের প্রেমে রাখাইন জমিদার কন্যা মাথিন যে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিল সে করুন কাহিনি আজও মানুষকে আবেগঘন করে দেয়। ধীরাজ আর মাথিনের প্রেম কথা বয়ে কালের সাক্ষী হয়ে আছে সেই কূপ।
চম্পক নগরীর শিব ভক্ত চাঁদ সওদাগরের কথা অজানা নেই কারো। মনসাকে পূজো দিবেনা বলে একে একে ছয় পুত্রকে হারানোর পরেও দমে যাননি। কালের ক্রমে আর দেবলোকের লীলায় সপ্তম পুত্র হয়ে জন্ম নিলো লখিন্দর আর আরেক বণিকের ঘরে বেহুলা। তারা যে স্বর্গের নর্তকী যুগল। মর্তে তাদের লক্ষ্য মনসাকে দেবীর সম্মান পাইয়ে দেয়া। এরপর বেহুলা লখিন্দরের বাসরে নাগের ছোবল, প্রাণহীন পতিকে নিয়ে সতীসাধ্বী বেহুলার দেবলোক গমনের কাহিনি এক অদ্ভুত কিংবদন্তী বটে!
আচ্ছা বলুন তো, ঢাকার নাম ঢাকা কেন?
স্বপ্নে দেবীর আদেশ পেয়ে জঙ্গলের মধ্যে মন্দির স্থাপন করলেন বল্লাল সেন। নাম দিলেন ঢাকেশ্বরী। সেই থেকেই কি ঢাকার নাম ঢাকা হলো?
তবে বলুন তো, গেন্ডারিয়ার নাম কেন গেন্ডারিয়া হলো?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার নামেই কি এদেশের ইন্দিরা রোডের নামকরণ? একটা সময় তাই জানতাম। তবে একসময় জানলাম দ্বিজদাস বাবুর বড়ো কন্যা ইন্দিরার নামেই ধীরে ধীরে এলাকাটির নামকরণ হয়ে যায়।
জানেন তো, মি. ককরেল সাহেবের নাম থেকেই কাকরাইলের নামকর হয়েছে?
হজরত বদর আউলিয়ার কথা কে জানেন? তার অলৌকিক চাটি থেকেই নামকরণ হয়েছে চাটিগ্রাম তথা চট্টগ্রামের। পাহাড়ে মধ্যে চাটির আলো ছড়িয়ে জিন পরীদের তাড়ানোর সে কী এক অবাক করা ঘটনা! আজও চাটগাঁ বাসীর মুখে মুখে শোনা যায়।
বগালেকের ইতিহাস আর রহস্য যেন কেমন এক বিস্ময়। এত উঁচুতে কী করে এমন মিঠাপানির আর একেক সময় রং বদলে যাওয়া পানির উদ্ভব তাই নিয়ে আছে গল্প। বগা লেকের সেই ড্রাগনের কারণেই এসব নাকি কে বা বলতে পারে!
গভীর রাতে যদি কামান দাগর শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায় তো কেমনটা লাগে? হেনরি সাহেবেরও একই দশা। পর্তুগিজ সেনাদের আক্র মণ নাকি! বরিশালে ডিউটির আগের দিনই এমন হলে কার আরাম লাগে? দেখা গেলো রাতে কয়দিন পরপরই এমন কামান দাগার শব্দ। নতুন নতুন সবাই একটু কাঁচুমাচু হলেও ধীরে ধীরে মানিয়ে নিলো ❛গা নস অব বরিশাল❜ এর সাথে। এমন শব্দ নাকি শুধু বরিশাল নয় আরো অনেক জায়গাতেই শোনা গেছে। এ এক রহস্যই।
❛গরিবের বন্ধু
ধনীদের জম, রবিনহুড❜
রবিনহুডের দেশী ভার্সন কি বলতে পারি মহর খাঁ কে? ডাকাত মহরও যে গরিবদের সেবা সাহায্য করতেন আর ধনীদের থেকে লুট করতেন।
বেহুলা-লখিন্দর, শিরি-ফরহাদ এদের প্রেমের ঘটনা তো লোকে জানে। তবে কবি চন্দ্রাবতীর প্রেমকথা কে জানে? যার কাব্যের রসে দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারাম, মলুয়া পদ্মপুরাণের মতো কাব্যোগীতি পেয়েছে মানুষ। তার আর জয়নন্দের পরিণয় আর জয়নন্দের দ্বিচারিতার গপ্পো তো কষ্ট দেয়ার মতো।
রাজা থেকে সন্ন্যাসী হওয়া ভাওয়াল গড়ের রাজা রমেন্দ্র জীবনের অলৌকিক খেলা শেষ করে কি ফিরে এসেছিল আপন ভূমিতে? ইতিহাস আর প্রমাণ তো তাই বলে।
রাণী রাসমণির কাহিনি তো লোকমুখে প্রচারিত। তিনি আসলে কেমন ছিলেন? প্রতাপময়ী নাকি অত্যাচারী?
......
স্ত্রীর কথায় মায়ের একমাত্র সন্তান নদের চাঁদ কুমিরের রূপ ধারণ করেছিল। জানেন সে কথা? কিন্তু কীভাবে সে নিজেকে কুমিরে পরিণত করতে পারলো কিন্তু আগের বেশে আর ফিরতে পারলে না এই আখ্যান শুনলে নিশ্চয়ই বেদনা বিধুর হয়ে যাবেন আপনি।
শাশুড়ি কিংবা কথিত আছে স্বামীর অত্যা চারে থেকেও সব মুখবুজে সহ্য করছিল এক অপরুপা সুন্দরী বধূ। তাকে নাকি ভালোমতো খেতেই দিত না। সেই ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে বণিকের বউ জঙ্গলের ফল খেতে খেতে আর্জি জানালো তাকে যেন পাখি করে দেয়া হয়। সেই থেকেই নাকি কালো মাথা বেনে বউ পাখিটির প্রচলন। অপূর্ব সুন্দর কন্ঠের গান দিয়ে পাখিটি কিংবদন্তী হয়ে আছে। যাকে অনেকে ইষ্টিকুটুম, বউ কথা কও বলেও থাকেন।
পরশুরামের কাঠের কুঠারের কথা তো জানি নাকি? মাতৃ হ ত্যার পাপ নিয়ে যে কতো পরীক্ষা দিলো। তার ভিটের খোঁজ কি পাওয়া গেছে? আবার পাপমোচন করতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রের দেখা পায় সে। এত অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন নদীকে লোকালয়ে পৌঁছে দিতে সে লাঙ্গল দিয়ে কর্ষণ শুরু করেছিল। এরপর সৃষ্টি হলো লাঙ্গলবন্ধের আর দুইটি নদীর অপরুপ গল্প।
এলাকার নামকরণের ইতিহাস গুলো বেশ মজার। এইতো মগেরা যেখানে থাকতো সেই থেকে মগবাজার, চার ফকিরের পুল থেকে ফকিরাপুল, ঢাকার দুটি গ্রাম হলো খিলগাঁও আর তেজগাঁও, নীলচাষ হতো যে ক্ষেতে সেখান থেকেই নীলক্ষেত, জিন্দবায়োর গালি থেকে জিন্দাবাহার, বেঙ্গলাবাজার থেকেই যে আসলো বাংলাবাজার, চাঁদ খাঁর পুল থেকেই চানখাঁরপুল। আবার আছে অপভ্রংশ। আজকের জিগাতলা যে ঝিগাটোলার অপভ্রংশ জানতেন কি?
পীর নিয়ে তো গপ্পের শেষ নেই। পীর মাদার, মাদানী, পীর বলুন দেওয়ান সহ কত পীরের যে অদ্ভুত সব কিংবদন্তী আছে!
আদিনাথের মন্দির আর তা মহেশখালীতে অবস্থান নিয়ে লোককথা খুবই দারুণ। শিবের আরেক নাম আদিনাথ, আবার শিবকে মহিষাসুর কিংবা মহেশ নামেও ডাকা হয়! কানেকশন সমঝে?
এলাকার নামের যেমন ইতিহাস আছে তেমনই ইতিহাস আছে জেলার নামেও। ঢাকা যে ঢাকেশ্বরী থেকে এসেছে বা ঢাকা কোনো কিছু থেকে এ নিয়ে অনেক তর্ক মতভেদ আছে। কালক্রমে এই ইতিহাস তো অজানাই রয়ে গেলো।
ব্রাহ্মবাড়িয়া নিয়েও আছে মজার কিংবদন্তী। ❛ব্রাহ্মণ বেরিয়ে যাও❜ থেকে নাকি এসেছে এই নাম। আছে অন্য মতও।
ফিরোজপুর থেকে নাকি এসেছে পিরোজপুর, আবার চাঁদ রায় কিংবা চাঁদ ফকিরের নাম থেকে এসেছে চাঁদপুর। আসল ইতিহাস কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। রয়ে গেছে কিংবদন্তী।
গাজী, কালু আর চম্পাবতীর আখ্যান আর অদ্ভুত। গাজী, কালু ইতিহাসে কীভাবে এসেছে তার থেকেও অদ্ভুত হলো লোককোথায় তাদের অবস্থান। তাদের সাথে আরেকটি নাম জড়িত সে হলো দক্ষিণ রায়। কেউ বলে গাজীর সাথে দক্ষিণ রায়ের বিবাদে কথা, কেউ বলে গাজীর অনুসারী দক্ষিণ রায়, আবার দক্ষিণ যায় নিজেই একজন প্রথম সারির লৌকিক দেবতা। যে কিনা বাঘের বেশে থাকে। সুন্দরবনের অধিবাসীদের কাছে যিনি পূজিত।
দক্ষিণ রায়ের কথা আসলেই সামনে আছে দ্য ওমেন, দ্য মিথ বনবিবির কথা। লৌকিক কথায় বনবিবি একজন উঁচু মাপের দেবী। তার ঘটনাও বেশ চমকপ্রদ। হিন্দুরা তাকে দেবী বললেও বনের অধিবাসী অনেক মুসলিমের কাছে নাকি তিনি পীরানি নামে পরিচিত!
হিন্দুদের মাঝে দেব-দেবী নিয়ে হাজারো মিথ থাকলেও মুসলিমদের কাছে কিংবদন্তী অন্যভাবে ধরা দেয়। সেগুলো আসে পীর, ফকির, মাজার আর মসজিদ দিয়ে। এই জনপদে মুসলিম ধর্ম প্রচারের পথিকৃৎ হজরত শাহজালাল (রাঃ) এর কথা প্রসিদ্ধ। তিনি কীভাবে এলেন, এরপর কীভাবে ইতিহাস এবং কিংবদন্তীতে জায়গা করে নিলেন এসব ঘটনা বেশ দারুণ। সিলেটের বিস্তৃতিও তেমন মজাদার।
মসজিদ নিয়ে আছে নানা কিংবদন্তী। কেউ বলে কিছু কিছু মসজিদ নাকি আউট অফ নোহোয়ার এক রাতেই উঠে এসেছে। কেউ বলে কিছু মসজিদের আছে অলৌকিক শক্তি। তারা নাকি মানত পূরণ করে দেয়! আবার কেউ বলে কোনো মসজিদের ভেতর কেউ ভয়ে ঢুকে না কারণ সেখানে সাদা বসন পরিহিত অনেককে নামাজরত দেখা যায়। এমনকি কিছু মসজিদ হলো পাতরাইল মসজিদ, সাতরা মসজিদ, খাঁ মসজিদ, নিদাড়িয়া মসজিদ।
রবীন্দ্রনাথের ❛বৌ ঠাকুরাণীর হাট❜ তো পড়েছেন। এই নামেই আছে করুণ এক কিংবদন্তী।
আচ্ছা কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানের নাম যে সোয়া লাখিয়ার অপভ্রংশ জানেন? তেমনি আছে এই অঞ্চলের অনেক কিংবদন্তী।
কিংবদন্তীর আরেকটি আখড়া হলো জমিদার বাড়ি গুলো। তাদের আজকের ভগ্নমান দশা এই ধ্বংসস্তূপ কি এককালে তাদের অ ত্যাচার, অহমিকা আর স্বেচ্ছাচারিতার ফলকেই বহন করে? লকমা জমিদার বাড়ি, কাইতলা জমিদার বাড়ি, শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ি, বামনডাঙা জমিদার বাড়ি সহ অনেক জমিদার বাড়ির ইতিহাসই এমন করুণ। প্রজাদের অত্যা চারের শিরোমণি ছিল সিংহভাগ জমিদার।
তাদের ঘিরে আছে অদ্ভুত সব কিংবদন্তী। আছে তাদের পাপের ঘড়া পূর্ণ হওয়ার গপ্পো।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝বাংলা কিংবদন্তী❞ বইটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা কিংবদন্তীগুলো সংকলন করেছেন আসাদুজ্জামান জুয়েল।
❝বাংলা কিংবদন্তী- দ্বিতীয় কিস্তি❞ সংকলন করেছেন আসাদুজ্জামান জুয়েল এবং রুদ্র কায়সার।
পুরাণ, উপকথা, লোককথা কিংবা কিংবদন্তী এগুলো একটি দেশের ইতিহাসের আরেকটি অংশ। ইতিহাস যেমন সত্য প্রকাশ করে কিংবদন্তীর কাজ একটু আলাদা। কিংবদন্তী সত্য আর কল্পনার এক মধুর মিশ্রণ। বলা যায় ইতিহাস যেখানে থেমে যায় সেখানে কিংবদন্তী ডানা মেলে। মানুষের মুখে প্রচলিত কথা, গুরুজনের বুলি আর অভিজ্ঞতা মিলে কিংবদন্তী তৈরি হয়। যা কেউ কাহিনিরূপেই শুনে কেউবা করে বিশ্বাস।
এই বইটিতে সংকলক ঢাকা সহ আশেপাশের অনেকগুলো অঞ্চলের লোকমুখে প্রচলিত কিসসা, কাহিনিকে সংগ্রহ করেছেন। কিছু একদম শোনা কাহিনিকে তুলে ধরেছেন, কিছু শোনা এবং আপন লেখার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
সংক্ষেপিত আকারে অনেকগুলো ঘটনা উঠে এসেছে। আমার বেশ লেগেছে পড়তে। কিছু ঘটনা পড়তে গিয়ে একটু অবাকই লেগেছে। জানা ঘটনার সাথে পড়া ঘটনার আকাশ পাতাল ফারাক দেখে।
এরমধ্যে অন্যতম রাণী রাসমণির ঘটনা। এটা আমার জানা হয়েছে জীবন মানে জি বাংলায় দেখা নাটকের মাধ্যমে। সেখানে রাসমণি বেশ শক্ত এবং পজিটিভ একজন চরিত্র। মূল চরিত্র ছিলেন। সেখানে তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সেটার সাথে এই বইতে পড়া ঘটনা একেবারেই ১৮০° উল্টো।
লেখার ধরন ভালো। কিন্তু কিছু বাক্যের ক্ষেত্রে শব্দের প্রয়োগ কেমন যেন গুলিয়ে গিয়েছিল। পড়তে ভালো লাগছিল না। বাক্যগঠনের ভুলের কারণে হবে হয়তো কিংবা সম্পাদনার মেশিনে ঠিকমতো কাটছাঁট না হওয়ার কারণও হতে পারে।
.....
দ্বিতীয় বইটি প্রথম বই থেকে বিস্তারিত তবে গল্পের সংখ্যায় একটু কম। এই কিস্তিতে সংকলকদ্বয় চেষ্টা করেছেন কিংবদন্তীগুলোর ইতিহাস বা লোকমুখে ছড়ানো কথাগুলোকে আরো বিস্তারিতভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে।
এই অংশে আগের অংশের কিছু গল্প পুনরায় এসেছে। ঢাকার কিংবদন্তী, শাঁখারীবাজারের কিংবদন্তী এগুলো রিপিট ছিল। তবে কিছুটা বিস্তারিত ছিল।
এই খন্ডে আসা অনেক কিংবদন্তী নিয়ে জানা ছিল। তবে আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে বনবিবির ঘটনা। পীরের কাহিনিগুলো, আর দেবতাদের বিশ্বাস এগুলো এগিয়েছে ধর্মকে পুঁজি করেই। তবুও কিছু কিছু বেশ অবাক করা ছিল। বিশেষ করে মা ফাতিমা ও ইমাম হাসান, হুসাইনের সাথে জড়িত কিংবদন্তী অবিশ্বাস্য বটেই। তবে কিংবদন্তী তো কিংবদন্তীই!
দুটো বইতে প্রায় ৪৫-৪৬ টি কিংবদন্তী স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের অনেকগুলো জেলা, অঞ্চলের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লোককথাগুলোকে এক মলাটে দেয়ার কঠিন কাজটি সংকলকদ্বয় সম্পন্ন করেছেন। কিছু কাহিনি বেশ অতিরঞ্জিত লাগছিল। যদিও নির্দিষ্ট বিশ্বাসের সীমায় থেকে রঞ্জনের মাত্রা কমবেশি মনে হয়েছে। তবে এই কাহিনিগুলো ইতিহাস ছাপিয়ে বা কখনো ইতিহাসকে ঢেকে দিয়েছে। আজ এত বছর বাদে এসে সেই আদ্দিকালের সত্য খুঁজে বের করা কঠিন। তাই লোকমুখে শুনে আসা বুলিই ভরসা।
বাংলা পুরাণ সমৃদ্ধ। তবে রক্ষণাবেক্ষণের যথেষ্ঠ লোকবলের অভাবে হয়তো এই কথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। মিছে যাচ্ছে কল্পনা। এরকম আরো বই আসা উচিত।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
প্রচ্ছদ প্রথম বইটির বেশি সুন্দর।
আমার কাছে সম্পাদনার ঘাটতি মনে হয়েছে দুটো বইতেই। শব্দ পূর্ণ হয়নি। কোথাও যেন মনে হলো র ফাইলের লেখা এডিট না করেই মূল ফাইল ছেপে দিয়েছে। অন্য বাক্যের শব্দ আগের বাক্যে রয়ে গেছিল যেটা আগের বাক্যের সাথে মানানসই ছিল না। তেমনি করে যেখানে হবে সেখানে কর দেয়া, আবার যেখানে না দিয়ে বাক্যের শেষ সেখানে হ্যাঁ বোধক হয়ে গেছে। এর উল্টোটাও হয়েছে অনেকক্ষেত্রে। এগুলোতে নজর দেয়া জরুরি ছিল।
❛ঢাক বাজে টাগডুম টাগডুম
ঢোলসমুদ্রের তলে;
কিংবদন্তী লুকিয়ে আছে
সবাই তো তা বলে।❜