বেশ সময় নিয়ে সংকলনটি পড়লাম, এই নিয়ে দ্বিতীয় বার। আগের বারের মতই মানিক আমাকে মুগ্ধ ক'রেছে, সারজীবনই হয়তো ক'রবে। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী মানিক তার জীবদ্দশায় দ্যাখা মানুষ ও তার জীবনকেই তুলে ধরেছেন। দারিদ্র্যের স্বরূপ যেন তাঁর লেখার প্রতি শব্দে, মানুষের কষ্ট, তাদের সংগ্রাম বা সংগ্রামের আকাঙ্খ্যা, শোষকের শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা, দুর্ভিক্ষ, অনাহার, অশিক্ষা, কুসংস্কার, নারীর অবদমিত অবস্থান, পুরুষতান্ত্রিকতা- তিরিশ দশক থেকে পঞ্চাশ। মানুষটা অকালে ম'রে না গেলে তাঁর থেকে হয়তো আমরা ষাটের দশকের বাম-রাজনীতির স্বরূপ পেতাম। অনেক ক'টা গল্পের মাঝে দাগ কেটে গেছে, 'প্রাগৈতিহাসিক', 'আত্মহত্যার অধিকার', 'সরীসৃপ', 'দুঃশাসনীয়', 'হলুদ পোড়া', 'বিবেক', 'নমুনা' ইত্যাদি। অদ্ভুত একটা গল্প, 'হারানের নাতজামাই'। বেশির ভাগ গল্প গ্রাম-নির্ভর হ'লেও শহর বাদ প'ড়েনি। 'ছিনিয়ে খায় নি কেন'-তে তাঁর মাঝে অস্তিত্ববাদ স্পষ্ট। 'কেরানির বউ', 'জুয়াড়ির বউ' ও 'রোমান্স', গল্প তিনটেতে তিনি নারীর চরিত্র ও সমাজে তাঁর করুণ অবস্থানের ঈঙ্গিত দিয়েছেন, নারী-পুরুষের প্রেম উঠে এসেছে। করুণ একটা গল্প 'ফাঁসি', সাম্প্রদায়িকতার ক্ষুদ্রতায় ভরা 'ছেলেমানুষি', দাস মনোবৃত্তির চমৎকার দৃষ্টান্ত 'বাগদি-পাড়া দিয়ে'। প্রতিটা গল্প নিয়েই বিশদ আলোচনা করা যায়। এ পর্যন্তই থাক। একটা তারাও ছিনিয়ে নিতে পারিনি বইটা শেষ করে।