আমি বহুক্ষণ বিশ্বাস করতে পারিনি এটা কি আমি ঠিক দেখলাম? আপনাদের মনে হতে পারে সেই কর্দম অনুরাগে এই প্রসঙ্গ তুললাম। না, একেবারেই নয়। আজকে সমীর রায়চৌধুরী না থাকলে আমি এখন আপনাদের সামনে বসে এই যে ডাঁটের সাথে কাউকে পরোয়া না করে বাংলা লেখার জগতের কথা লিখছি, তার জায়গায় এক ফ্রাস্ট্রেটেড ব্যার্থ ভিজিলান্তে হয়ে ঘরে বসে মদ খেতাম আর আনন্দবাজারের মুণ্ডপাত করতাম। সমীরদা মৃত্যুর পরেও কাজ করে গেছেন যাচ্ছেন বাংলা ভাষার জন্য।আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছিলাম যখন শঙ্করদা আমাকে ইন্টারভিউর একটি এডিটেড অংশ শুনিয়েছিলেন। তাতে আমাকে ও আরো কয়েকজন শূন্যকে নিয়ে আলোচনা ছিলো। কি দুরন্ত গভীরভাবে উনি আমার লেখার সাথে বাকি কয়েকজনের কম্প্যারেটিভ আলোচনা করে যাচ্ছেন যেন আমাকে আপাদমস্তক চেনেন। অনেকের প্রশংসা প্রচারের লোভে রুচিবোধ নষ্ট হয়ে যায়। আমার কাছে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ একজন বিরাট বড়ো মানুষের দেওয়া ওই দায়িত্ব ওই সম্মান। সেটি সর্বসমক্ষে আনার কথা ভাবিও নি, আজও ভাবিনা। মিথ্যেবাদী বলে অপবাদ দিলেও ভাববো না। হ্যাঁ, দীপঙ্কর রঙ্গন বিশ্বরূপদা, এইরকম অল্প কিছু মানুষ দেখেছেন ক্লিপিংস আমার ল্যাপটপে। অনেকটাই দেখেননি। কারন সেগুলি আরো নানা সূত্র থেকে পাওয়া, যার মধ্যে প্রচুর প্রচুর কথা আমাকে বলে গেছেন উনি। বলা যায় এক আশ্চর্য উত্তরাধিকারের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। আর কি মহৎ প্রাণ, তার মধ্যে আত্মসমালোচনাও রয়েছে, ওনার নিজের ভাবনার কোথায় ভুল হয়েছিলো তা নিয়েও কথা রয়েছে। আর বিস্ময়ের সর্বোচ্চ জায়গাটি পেলাম যখন বৈদ্যনাথ দা আমার বাড়িতে এলেন। কাঁটা দিচ্ছে গায়ে বলতে বলতে। বৈদ্যনাথদা সমীরদার শেষের তিরিশ বছরের একান্ত সঙ্গী ছিলেন। উনি মারা যাওয়ার আগে হাওয়া ৪৯ এর ভবিষ্যৎ সংখ্যাগুলিতে কি কাজ হতে পারে। তা নিয়ে এক বিস্তারিত নির্দেশ দিয়ে গেছেন বৈদ্যনাথদাকে। এবং তার মধ্যে গুরুত্বপুর্ণ একটি অংশ ছিলো ওনাকে বলে গেছেন আমার সাথে যোগাযোগ করতে এবং আমাকে দিয়ে লেখাতে, সেগুলির কারন, আমার লেখা নিয়ে কথা ইত্যাদি। এই সমস্ত পর্ব, এই মহান মানুষটির এমন অসাধারণ ডেডিকেশান আমি জানতে পারছি যখন তখন উনি নেই। I
উল্কা : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এখন শুধুই স্মৃতি তাই আপনার স্মৃতির পাতা ঘেঁটে কিছু বলুন আমাদের...
সমীর : আমিই সুনীলকে আইডেণ্টিফাই করি।সুনীল তখন কেউই না।সুনীলের সঙ্গে আমার যখন আলাপ হয় সুনীলও একটা ভেলভেলেটা আমিও একটা ভেলভেলেটা। সিটি কলেজের দেয়াল পত্রিকায় দেখলাম একটা কবিতা লিখেছে একটা ছেলে।বেশ ভাল লাগল কবিতা।ফলে আমি কবিতাকে ভালবেসে সুনীলকে খুঁজে বের করি।আমি সুনীলের থেকে এক বছরের বড় । আমরা একসাথে পড়তাম একই কলেজে।ওর বিষয় ছিল অর্থনীতি আমার বিষয় ছিল প্রাণিবিদ্যা।