Tajuddin Ahmad (Bengali: তাজউদ্দীন আহমদ) (July 23, 1925 – November 3, 1975) was a Bangladeshi statesman and freedom fighter. He served as the first Prime Minister of Bangladesh and lead the wartime Provisional Government during the Bangladesh Liberation War in 1971. Ahmad is regarded as one of the most influential and instrumental figures in the birth of Bangladesh, due to his leadership of the provisional government in 1971, in which he united the various political, military and cultural forces of Bangladeshi nationalism.
In 1974 Ahmad lost his cabinet post. When Mujib was assassinated by a group of army officers on 15 August 1975, Ahmad was immediately placed under house arrest. On August 22, he was arrested with other political leaders by the regime of the new president Khondaker Mostaq Ahmed and imprisoned at the Dhaka Central Jail. On November 3, in what became infamously known as the "Jail Killing Day",Ahmad along with Syed Nazrul Islam, A. H. M. Qamaruzzaman and Muhammad Mansur Ali were killed at midnight by a group of army officers.
তাজউদ্দীন আহমদের ডায়েরির দ্বিতীয় খণ্ড এটি। ১৯৪৯ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৫০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর দিনলিপির সংকলন 'তাজউদ্দীন আহমদেী ডায়েরি'। '৪৯-৫০ সালে তাজউদ্দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ইংরেজিতে নিয়মিত দিনলিপি লিখতেন। সেই ডায়েরি বাংলায় অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। লিখেছেন বইটির একটি অনবদ্য ভূমিকা।
তরুণ তাজউদ্দীনের দিনলিপি পড়লে অসাধারণ কিছু জানতে পেরেছি - এমনটি বললে অসত্য বলা হবে। তাজউদ্দীন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হবেন, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন নিশ্চয়ই তিনি এসব ভেবে ডায়েরি লেখেননি। তাই ডায়েরির পাতায় পাতায় নিত্যদিনের ঘটনার বাইরে বিশেষ কিছু উল্লেখ করেননি।
তাজউদ্দীনের ডায়েরিতে মোটাদাগে দুইটি বিষয় কমন। এক. তিনি প্রতিদিন কখন ঘুম থেকে উঠতেন এটা লিখে রাখতেন এবং দুই. নিত্যকার আবহাওয়া কেমন সেই সম্পর্কে উল্লেখ করতেন। উল্লেখযোগ্য হলো, তাজউদ্দীন সবসময় একেবারে ভোরবেলা উঠতেন।
তাজউদ্দীনের ডায়েরি থেকে তখনকার সময়কাল সম্পর্কে কম-বেশি ধারণা পাই। ১৯৫০ সালে পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা হয়। সেই দাঙ্গার প্রভাবে পূর্ববঙ্গের ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এই দাঙ্গার বিবরণ তাজউদ্দীন দিয়েছেন। তিনি দাঙ্গায় আক্রান্ত হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য মানুষকে সংগঠিত করার কাজ করেছেন, দেখেছেন কত নৃশংসভাবে হামলা করা হয়েছে। তবে, তিনি এ-ও লিখেছেন পূর্ববঙ্গের আইনসভার হিন্দু সদস্যদের কার্যক্রম দাঙ্গা থামানোর পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেনি। তিনি এদের সমালোচনা করে লিখেছেন, আইনসভার হিন্দু সদস্যরা দাঙ্গা থামানোর জন্য জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিল। যা দাঙ্গা পরিস্থিতিকে খারাপের দিকে নিয়ে যায়।
তাজউদ্দীন পুরো ডায়েরি জুড়ে অলি আহাদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, ডা. করিম এবং কামরুদ্দীন আহমদের কথা বারবার লিখেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের সহচর এরা। দেখতে পাই ১৯৫০ সালের শেষে তাজউদ্দীন ও আ্যডভোকেট সিরাজুল হক ( আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পিতা এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহকর্মী) মিলে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তারা কোনো দল গঠন করবেন কিনা। অথচ ততদিনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ, তাজউদ্দীন ও সিরাজুল হক আওয়ামী লীগে যোগ দিতে তখনই রাজি ছিলেন না। এমনকি নিজেরা দল গঠন নিয়েও ভাবছিলেন।
১৯৫০ সালেই দেখি 'কায়দে আজম জিন্নার মৃত্যুদিবস' ( তাজউদ্দীন কায়দে আজম-ই লিখেছেন) উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আয়োজিত সম্মেলনে তাজউদ্দীন যোগ দিচ্ছেন। সেখানে তিনি ভাসানীর প্রশংসা করছেন। কিন্তু, পুরো ডায়েরিতে শেখ মুজিবুর রহমানের কথা মাত্র একবার পেয়েছি। মানে ঢাকার রাজনীতির অঙ্গনে তখনও শেখ মুজিবুর রহমান তত সক্রিয় হয়ে ওঠেননি কিংবা তাজউদ্দীন ও শেখ মুজিব আলাদা গ্রুপে অবস্থান করতেন।
ডায়েরির বড়ো অংশতে বন বিভাগের সাথে তাজউদ্দীন দ্বন্দ্বের উল্লেখ রয়েছে। বন বিভাগের কর্মীদের দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং তা নিয়ে মামলার ঘটনায় তাজউদ্দীনকে একপর্যায়ে স্বল্প সময়ের জন্য জেলেও যেতে হয়।
মোটকথা, তাজউদ্দীনের ডায়েরি পড়লে পঞ্চাশের দশকের ঢাকায় পড়ুয়া একজন সচেতন তরুণের জীবনযাপন সম্পর্কে জানা যায়। বুঝতে পারা যায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলেও শতভাগ জাতীয়তাবাদী দক্ষিণপন্থি রাজনীতি করা তাজউদ্দীনের পক্ষে কখনোই সম্ভব ছিল না। কেননা তার মানসে বামপন্থার প্রতি সহজাত উৎসাহ ও আগ্রহ বরাবরই ছিল।