Jump to ratings and reviews
Rate this book

বৃক্ষ অনুবাদক

Rate this book
সম্যক আর ক্যারোলের দেখা হয় ইংল্যান্ডের এক আন্তর্জাতিক সাহিত্য শিবিরে। দুই কবির অনুবাদ নিয়ে তাদের কাজ। সম্যক সঙ্গে এনেছে সিলভিয়া প্ল্যাথের কবিতার অনুবাদ, ক্যারোল জীবনানন্দের।নদী-বয়ে-যাওয়া, পুরনো-বইয়ের দোকানে ঘেরা এক আশ্চর্য পাহাড়ি শহরে বোনা হতে থাকে তাদের আলাপের দিনলিপি, অনুবাদের পরতে পরতে খুলে যেতে থাকে সাহিত্যমনা দুই মানুষের জীবন।এক সমান্তরাল খাতে উঠে আসে ক্যারোলের পিতা, বিশ্বখ্যাত অনুবাদক উইলিয়াম ব্রাইটের প্রায়-নিঃসঙ্গ যাপনও, যিনি নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন সমুদ্রের ধারের এক বিলাসবহুল বৃদ্ধাবাস, যেখানে বিস্মৃতিরোগাক্রান্ত মানুষেরা থাকেন। তাঁকে ঘিরে বদলাতে থাকে সেই হোমের প্রৌঢ়া বাসিন্দা মার্থা ও ডক্টর বয়েলের জীবন। খ্যাতি ও সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছনোর পরও এক গহন অবসাদ গ্রাস করতে থাকে প্রফেসর ব্রাইটকে, কেননা তাঁর উপলব্ধি, অনুবাদ আসলে ব্যর্থতারই নামান্তর।এই দুই সমান্তরাল প্রবাহের মাঝে, এক নিতান্ত সাধারণ ঘটনায় খুলে যায় এক অলীক দরজা, যার ওপারে মুখোমুখি দেখা হয় এই উপন্যাসের দুই পরোক্ষ চরিত্রের, দুই প্রয়াত কবির। এই বহুধাবিভক্ত জীবনপ্রবাহ তাদের দ্বন্দ্ব ও আকর্ষণরাশি নিয়ে বয়ে চলে এক আশ্চর্য মোহনার দিকে, আর সেই অভূতপূর্ব যাত্রাপথই হয়ে ওঠে শ্রীজাত’র উপন্যাস, ‘বৃক্ষ অনুবাদক’।

160 pages, Hardcover

Published January 1, 2020

2 people are currently reading
36 people want to read

About the author

Srijato

59 books92 followers
Srijato Bandopadhyay (born 21 December 1975 in Kolkata), is an eminent poet of the Bengali younger generation. He won the Ananda Puroskar in 2004 for his book Udanta Sawb Joker: All Those Flying Jokers. He has also attended a writer's workshop at the University of Iowa.

His notable works include Chotoder Chiriyakhana: The menagerie for kids (2005), Katiushar golpo: Tales untold (2006), Borshamongol : The monsoon epic (2006), Okalboisakhi: Storms unprecedent (2007), Likhte hole bhodrobhabe lekho: Write politely, if you have to (2002), Ses Chithi: Last Letter (1999), Bombay to Goa (2007), Coffer namti Irish : Irish Coffee (2008), Onubhob korechi tai bolchi : Revealing the feeling (1998).

Having worked as journalist, he is now on the editorial board of the magazine "Prathama". He lived at Garia and spend his childhood at Kamdohari, Narkelbagan.

Srijato is the grandchild of classical vocalist Sangeetacharya Tarapada Chakraborty and nephew of musician and the Khalifa of Kotali Gharana Pandit Manas Chakraborty; his mother is also a classical vocalist Gaan Saraswati Srila Bandopadhyay.

Other than poetry he has also penned the lyrics of many popular playbacks in several movies like Autograph (2010 film,)Jaani Dyakha Hawbe, c/o Sir (2013 film),Mishawr Rawhoshyo,Iti Mrinalinee, charulata, Abosheshe etc.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (22%)
4 stars
11 (27%)
3 stars
11 (27%)
2 stars
7 (17%)
1 star
2 (5%)
Displaying 1 - 11 of 11 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,674 reviews441 followers
July 19, 2022
৩.৫/৫

“সিলভিয়ার কবিতা কেমন লাগে আমার, জানতে চাইছিলে না? অনেক সময়ে, গাঢ় ঘুম হঠাৎ করে ভেঙে যাবার পর, দিগন্তে গোলাপি সূর্য আর চারপাশে ছড়িয়ে পড়া লালচে আভা দেখে ঠাহর করা যায় না, ভোর হচ্ছে, নাকি সন্ধে নামছে। হয় না এরকম? বেশিক্ষণ থাকে না এই ধোঁয়াশা, কিন্তু পাঁচ-দশ সেকেন্ডের জন্য আমরা কেমন যেন সময়হারা হয়ে পড়ি। অসহায় লাগতে শুরু করে। তখন আমরা প্রাণপণ মনে করার চেষ্টা করি, কখন ঘুমিয়েছিলাম। এইটা মনে করতে পারলেই অঙ্কটা মিলে যায়। কিন্তু যতক্ষণ-না মনে করতে পারছি, ততক্ষণ আমি আমার চারপাশের প্রহরটাকে অনুবাদ করতে পারছি না। তাই না? সূর্য তো চেনা, আকাশ চেনা, গাছপালা চেনা, বাড়িঘর চেনা, সব কিছু পরিচিত। কেবল সময়টা ঠাহর হচ্ছে না বলে অস্বস্তি হচ্ছে, অসহায় লাগছে। সময় আসলে সেই অনুবাদক। তাকে টেনে আনতে না-পারা পর্যন্ত ওই দৃশ্য এক দুর্বোধ্য কবিতার মতো, যা তোমার ভাষাতেই লেখা, কিন্তু তুমি কিছুতেই তাকে বুঝে উঠতে পারছ না। সিলভিয়ার কবিতা কখনও কখনও আমার কাছে ঘুম ভেঙে হঠাৎ দেখতে পাওয়া সেই জানলার বাইরেটার মতোই, যে ভারী চেনা হয়েও আমাকে অসহায়তার মধ্যে টেনে নিয়ে যায়। আমি যতক্ষণ না আমার সময় দিয়ে তাকে অনুবাদ করে নিতে পারছি।”



কাহিনিতে আছে সম্যক আর ক্যারোল। আর আছে ক্যারোলের বিখ্যাত অনুবাদক বাবা উইলিয়াম ব্রাইট যিনি আলঝেইমার্সে আক্রান্ত। তার কাছে আবিষ্কার মানে ভ্রম, শস্য মানে দৃষ্টি, চিরকুট মানে অতীত, অস্ত্র মানে ইতিহাস। উপন্যাসে আছে ধোঁয়াশাপূর্ণ কিন্তু আবেশ জড়ানো কথোপকথন, দর্শন আর আছে অনুবাদের সীমাবদ্ধতা। এটা শুধু এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় সাহিত্য অনুবাদের সীমাবদ্ধতা নয় ; এটা আমাদের অন্যের সাথে যোগাযোগের, প্রকাশের ও ভাষার সীমাবদ্ধতাও বটে। যে কারণে ইরশাদ কামিল* লিখেছিলেন,

"whatever I wanted to say,
it's ruined by my words."


জোরপূর্বক বিয়োগান্ত পরিণতি দেওয়ার একটা প্রবণতা আছে শ্রীজাতের। লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে,লেখকের কিছু বলার আছে। শুধু লেখার জন্য লেখা নয় তার উপাখ্যান। একটানা তার বেশকিছু কাব্যগ্রন্থ পড়ার আরো বোঝা যাচ্ছে যে তার উপন্যাসের মূলসুর কবিতার চাইতে অনেক বেশি অন্ধকারাবৃত। স্পষ্টতই অনেকে "বৃক্ষ অনুবাদক" পড়ে বিরক্ত হবে। প্রথাগত অর্থে কাহিনিও নেই তেমন। কিন্তু লেখকের যোগাযোগের এই যে প্রচেষ্টা, অনুভূতির অনুবাদ যথার্থভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে আকুতি সেটা মিথ্যা নয়। তাই ঔপন্যাসিক শ্রীজাতের ওপর আস্থা রাখছি।

(৩রা জুন,২০২২)
Profile Image for Shimul Tikadar.
19 reviews
September 27, 2020
দরজা দিয়ে দেয়াল তৈরী হলে আলাদা করে আর দরজা পাবেন কোথায়? বইয়ের চেয়ে ভালো দরজা আর কিছু আছে কি?

অদ্ভুত সুন্দর একটি বই পড়লাম। নাম বৃক্ষ অনুবাদক। লিখেছেন শ্রীজাত।

বিখ্যাত অনুবাদক উইলিয়াম ব্রাইট মার্থাকে বলছেন, পৃথিবীর সবকিছু অনুবাদ হয়ে আছে আমিতো পরজীবী মাত্র। সাহিত্য ছাড়া আর কোনও শিল্পকে কী অনুবাদ করা যায়? যায় না তো? ভাস্কর্যর কোনও অনুবাদ করা যায়? না। পাখির ভাষা কেউ অনুবাদ করতে পারে? না। অথচ ওঁদেরও দুঃখ আছে। আমরা নানা ভাষায় গান শুনি, সেইসব গানের অনুবাদ করার জন্য অনুবাদক প্রয়োজন হয়? না। অথচ মানুষ বোঝে।

সুতরাং সাহিত্য হল ভাষার দাস মাত্র। বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য ভাষান্তর বা অনুবাদ করে পাঠকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হয় ঠিকই। কিন্তু যদি আসল অনুবাদ বলো তাহলে বলবো লেখকের জ্ঞান, কল্পনা বা ভাবনার জগত থেকে যে মাধ্যমটির মাধ্যমে একটি সাহিত্যকর্ম বা বইতে রূপ নেয় ঐ মাধ্যমটিই অনুবাদ। এ প্রসঙ্গে উইলিয়াম ব্রাইট বলছেন, আমি অনুবাদের অনুবাদ করি। যাকে বলে পরজীবী। সারা জীবনের ব্যার্থতা। আসলে আমার নিজের কোনও অনুবাদ নেই।

কী আশ্চর্য অনুভূতি!

এ পৃথিবীতে আসলে সবকিছুই অনুবাদ হয়ে আছে। যেমন -

অরন্য? অপেক্ষা।
বিস্মৃত? চাবি।
বিপ্লব? শব্দ।
কুকুর? মনঃসংযোগ।
দোকান? ছদ্মবেশ।
নাবালক? ভিড়।
কক্ষপথ? সমুদ্র।
অস্ত্র? ইতিহাস।
চিরকুট? অতীত।
কক্ষপথ? ঘুম।

শ্রীজাত'র বৃক্ষ অনুবাদক পড়ে অনুবাদের ধারণাটা' ই পাল্টে গেছে আমার। এভাবেও ভাবা যায়?

এই উপন্যাসে কোলকাতার এক যুবক নাম সৌম্যক, তার সঙ্গে দেখা হয় উইলিয়াম ব্রাইটের কন্যা ক্যারোল এর সঙ্গে, ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সাহিত্য শিবিরে। মূলত এখানেই মূল গল্পটির বিস্তার। ক্যারোল নিয়ে এসেছে জীবনানন্দের "ধূসর পান্ডুলিপি " আর সৌম্যক সিলভিয়া প্ল্যাথের "এরিয়েল"।

কোতহূলী সৌম্যকের "তুমি জীবনানন্দকে আবিষ্কার করলে কীভাবে?" এই প্রশ্নের জবাবে ক্যারোলের উত্তর ছিল - "যেভাবে অনেক দূরের রাস্তা পার করে মোটেলে রাত কাটাতে আসা মানুষ হঠাৎ বিছানা আবিষ্কার করে।"

শ্রীজাত'র লেখার আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য থাকে। ওঁর লেখা ভেরি ফার্স্ট পড়া যায় না। প্রতিটি লাইন, প্রতিটি অধ্যায়, প্রতিটি পাতা বুঝতে হয়। নাহলে ওর লেখার পুরো বৃত্তটা ধরা যায় না। নিত্য নতুন শব্দ দিয়ে প্রতিটি অধ্যায়ে লেখক একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেলে যা থেকে আমার মতো পাঠকের বেরোনো মুশকিল। এমনকি বইটি পড়া শেষ হলেও পাঠকের মনে একটা আবেশ সৃষ্টি হয়... যা সহজে কাটে না।

"একজন মানুষের জন্য পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ঠিক আরেকজন মানুষ থাকে, তাদের এক জীবনে দেখা হোক আর না হোক থাকে ঠিকই। আর যদি কখনও তাদের দেখা হয়ে যায়, তাহলে তাঁরা ঠিক বুঝতে পারে তরঙ্গের মধ্য দিয়ে কোথাও কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটছে। কী, তাই না? আমার কেমন যেনো বিশ্বাস, বইয়ের ক্ষেত্রেও সেটা হয়। দু'টো বই, পৃথিবীর দুপ্রান্তে অপেক্ষা করে থাকে, কবে তাঁরা কোথাও এক মলাটে-মলাটে গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়াবে। কবে তাঁরা একই র‌্যাকে যায়গা পাবে পাশাপাশি। বা এক টেবিলে শুয়ে থাকবে একে অন্যের উপর, যেভাবে ভালোবাসার দু'জন মানুষ থাকে। আমার কী মনে হয় জানো, সত্যি এরকম দুটো বই পাশাপাশি রাখলে, কোথাও কিছু একটা ঘটে। নিশ্চিত ঘটে। একটা বদল একটা রিঅ্যাকশন, প্লেট টেকনিক এর মতো একটা কিছু। বা একটা বিস্ফোরণ... কিছু একটা। আমরা বুঝতে পারি না, কিন্তু কিছু একটা হয় নিশ্চয়ই। " - - - - (সৌম্যকের উদ্দেশ্য ক্যারোলের বলা একটি ভাবনার বিচ্ছুরন)

এভাবেই এই উপন্যাসের অন্তিম পর্যায়ে জীবনানন্দের ধূসর পান্ডুলিপির উপর শুয়ে থাকে সিলভিয়ার এরিয়েল। আর অন্য কোনও পৃথিবীতে বৃক্ষের সাথে মিশে যায় দুই মানব-মানবী।
আর সমুদ্র পাড়ে সাশ্রয়ী জ্যোৎস্নার আলোয় সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসা সাদা ফেনা আদতে অনুবাদের জিভ ছুঁয়ে দিয়ে যায় উইলিয়াম এর তৃষ্ণার্ত পা।
Profile Image for soumyadeep naskar.
104 reviews3 followers
October 23, 2022
১. একটা কয়লা খনিতে অনেক কয়লার ভিড়ে একটা হীরে পাওয়া গেলে তার মূল্য অনেক। কিন্তু পুরো খনিটাই যদি হীরে, জহরত, মণি, মুক্তো দিয়ে ভরা থাকে তাহলে এক একটা পাথরের কী আর সেরকম দাম থাকে?

লেখক যে আদপে কবি সেটা বোঝা যায়, পুরো উপন্যাসটাই কবিতার ছন্দে ল��খেছেন। আর ওটাই হলো তাঁর মস্ত ভুল। কবিতা অনেকটাই সীমিত, যেখানে খুব কম কথায় অনেক কিছু বলে ফেলা যায়। যে কারণে কবিতায় প্রত্যেকটি শব্দের গুরুত্ব অনেক, ভীষণ দামী।
এবার সেই কবিতাটাই যদি টেনে-হিজড়ে জোর করে উপন্যাস হতে চেষ্টা করে তখন সেটা পড়তে পড়তে ক্লান্তি এসে যায়, বিরক্ত লাগে। শব্দ গুলো তাদের গুরুত্ব হারায়, তাদের গভীরতা কমে যায়। আমার কাছে শব্দ জিনিসটা খুব মূল্যবান, তাকে বুঝে শুনে খরচ করতে হয়। একটা সাদা কাগজে পঞ্চাশ রকম রঙ ঢেলে তাতে গুচ্ছের গ্লিটার ছড়িয়ে দিলেই সেটা ভালো ছবি হয়ে যায় না। আলো- ছায়ার কনট্রাস্টই ছবিকে সৌন্দর্য প্রদান করে। লেখক পুরো উপন্যাস টাই বড্ড তীব্র আলোয় শুধু ভরাতে চেয়েছেন, ছায়া নেই কোথাও, ফলে চোখে লাগে খুব।

২. এন্ডিংটা খুব খারাপ। অর্থহীন তো বটেই, একদমই অপ্রয়োজনীয়। তবে তার চেয়েও বড়ো কথা খুব খারাপ এন্ডিং।
Profile Image for Bidisha Chowdhury.
48 reviews32 followers
August 27, 2021
এই উপন্যাস লেখক কেন লিখেছেন, তা বুঝতে আমি ব্যর্থ। কোনো প্লট নেই। আমি জানি, লেখকের শব্দ নিয়ে জাল বোনার একটা অভ্যাস আছে, উনি সেটাই এখানে করেছেন। কিছু কিছু জায়গা বিশেষত ভালো লেগেছে, যেমন 'অনুবাদ' সম্পর্কে একটা অন্যরকম ধারণা দিয়েছেন, হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া গানের একটা অন্য চেহারা দিয়েছেন, ব্যাস এটুকুই। তাছাড়া আমি একবর্ণ এই বইটা লেখা বা পড়ার কারণ বুঝতে পারিনি। এ আমার অপারগতা হতেই পারে। শুরু যা দিয়ে হয়েছে, শেষ হলো ভিন্ন মেরুতে। তবে শেষটুকুই যা পদের। সারা উপন্যাস জুড়ে কেমন জোড় করে একটা মন খারাপের আবহ তৈরী করার চেষ্টা করেছেন, যা এককথায় একঘেয়ে-অসহ্য। যদি নিজের ভালো মুড খারাপ করতে হয়, একদিন নিয়ে বসে পড়ে ফেলা যায়। না পড়লেও ক্ষতি হবেনা কিছু।
Profile Image for Aritra Dwibedi.
3 reviews1 follower
June 27, 2022
এক একটা বই থেকে সামুদ্রিক হাওয়ার সাথে উড়ে আসে মন মাতানো সুর। চোখে এসে লাগে ভাঙতে থাকা ঢেউ এর উল্টোপিঠ। যেরকম সকাল বেলা গাছের ফাঁক, খড়ের চাল, কাঠের দরজার নীচ দিয়ে ভোরের কুয়াশা এসে মিশে যায় ধোঁয়ার উৎসমুখ উনুনে। মনে হয়, এই উনুনটাই এক আকাশ কুয়াশার ষড়যন্ত্র করেছে নিপুণ বুননে, সেইরকম, ঠিক সেইরকম, নিজের সব পারা, না-পারা, ক্লান্তি, মনখারাপ, আর জ্বরের ঘোরের আচ্ছন্নতার মতো দুঃখ পোষা মনের ফাঁক দিয়ে গলে গলে আসে এই শব্দগুলো। তৈরী হয় ছাপার অক্ষর। তৈরী হয় বই।
বৃক্ষঅনুবাদক
বইএর তাকে একে আলাদা জায়গায় রাখব ভাবছি। যেমন সমুদ্রের ধারে বসলে ভালো লাগার সাথে মিশে যায় ভয়, ওর বিশালতার ভয়। মনে হয় ছোট্ট একটু বোতলে ভরে পকেটে করে নিয়ে যাই, তারপর ভালোবাসি ওকে। নাহলে আমার ভালোবাসা ঘাসেদের ভিড়ে ছোট্ট নতুন ঘাসফুল হবে। সে আলাদা হওয়ার উচ্ছাস করবে রূপে। তবু চিনবে না তাকে কেউ। তাই তাকে নিভৃতি দিতে ইচ্ছে করে। যেমন নিভৃতি শিউলি ফুল দেয় রাতকে।
শুধু তিন চারটে চরিত্র বা সেই দুজন নন। বইটা অনুবাদকে নিয়ে, বইটা অনুবাদের। যেমন আমার এখন মনে হচ্ছে যেটা লিখছি, সেটা ঠিক পুরো অনুবাদটুকু নয়, আমার মনের, কিছুটা হারিয়ে গেছে। যেমন করে "আতরের গন্ধ কিছুটা মিলিয়ে যায় শিশি বদলের দিনে"।
তবু, লিখতে হয়, কারণ সেই সর্বময় কর্তার বুকের ধুকপুকুনি আজও অনুবাদ করে রাতের তারা। আজও মেঘ করলে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে উড়ে যায় লাগামবিহীন মন। আজও রাতের ট্রেনে বাড়ি ফেরে নাম না জানা যুবক। আজও দুশ্চিন্তা, যন্ত্রণা, কষ্টের মধ্যে বই পড়ে সে, পড়ে অন্য মনের অনুবাদ।।
©অরিত্র দ্বিবেদী
1 review
May 14, 2025
খুবই সম্ভাবনাময় ছিল, কিন্তু উপন্যাস হিসেবে সফল নয়। উইলিয়াম ব্রাইটের অনুবাদ সংক্রান্ত বক্তব্য এবং সিলভিয়া প্ল্যাথ ও জীবনানান্দ দাশের বিষয়ে সামান্য তুলনামূলক আলোচনা ছাড়া উপন্যাসের বাকি কোনো অংশ‌ই প্লটের সাথে অবিচ্ছেদ্য নয় বলে মনে হয়েছে। আমার সাহিত্য জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা হতে পারে তবে কিছু ক্ষেত্রে মনে হয়েছে যে লেখক উপন্যাসের চিরাচরিত ধারা ও চেতনা প্রবাহের ধারার এক অদ্ভূত মিশ্রণ করার অসফল প্রচেষ্টা করেছেন। এই উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে না থাকলেও বাংলা সাহিত্যের কোনো ধরণের ক্ষতি বৃদ্ধি হতো বলে আমার মনে হয় না। শুধু বিমূর্ত ও অস্পষ্ট রচনা করলেই সেটা কালজয়ী রচনা হবে বা খুব অনবদ্য রচনা হবে এমনটা ভাবা উচিত নয় এবং এই উপন্যাসে এই দুইয়ের চূড়ান্ত উপস্থিতি রয়েছে যদিও একবারেই খাপছাড়া ও শৈল্পিক ইউনিটি বিহীন একটি প্লট। মনে হয়েছে, একটি সম্ভাবনাময় প্লটকে খামখেয়ালি করে নষ্ট করা হয়েছে। কিছু ঘটনার পটভূমি ও স্পষ্ট পরিণাম উপন্যাসের পাঠককে না জানিয়ে শুধুমাত্র পাঠকের অনুসন্ধিৎসা ও উপন্যাসের কলেবর বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। একে আর যাই হোক শিল্প কর্মের উৎকর্ষতা বলা যায় না।
Profile Image for Pratik Kumar Dutta.
85 reviews1 follower
July 24, 2025
জীবনের একঘেঁয়েমি কাটাতে যুগে যুগে প্রেমের মাধ্যম হয়ে এক পশলা বৃষ্টির মতো এসেছে কবিতা; যত ধরনের কবিতা, তত ধরনের প্রেম.. কবিতা ছাড়া প্রেম যেন অসম্পূর্ণ; সে প্রেমের শুরুই হোক বা শেষ - কবিতা যেন আবশ্যিক.. হোক না সে কবিতা ভিনদেশের, ভিনভাষার - তবুও তো সে কবিতা.. আর এই ভিন্ন ধরনের কবিতা এবং সেই কবিতার দুই অনুবাদকের গল্পই এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু.. সম্যক আর ক্যারোল; পৃথিবীর এক শ্রেষ্ঠ সাহিত্য উৎসবের আমন্ত্রণে দেখা হয় এই দুই অনুবাদকের - একজনের বিষয় সিলভিয়া প্ল্যাথ ও অপরজনের জীবনানন্দ দাশ.. পৃথিবীর দু-প্রান্ত থেকে আসা এই দুই অসমবয়সী কবির যোগসূত্র হয় আরও নিবিড়.. সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন, প্রফেসর ব্রাইটের অস্বাভাবিকত্ব ও তাদের প্রিয় কবিতার প্রতি ভালোবাসা - তাদের নিয়ে যায় জীবনের এক অন্য উপত্যকায়.. সেই উপত্যকা শুধু প্রেম, ফুল, কবিতা দিয়ে ঘেরা নয়; তার সাথে আছে কঠিন ও রূঢ় বাস্তবতা.. লেখক শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে এক আশ্চর্য সুন্দর মাত্রা পেয়েছে এই 'বৃক্ষ অনুবাদক' উপন্যাসটি..
Displaying 1 - 11 of 11 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.