মুসৌরি ঘুরতে গিয়ে আহির দেখতে পেল নিজের পুরনো প্রেমিকা আত্রেয়ীকে। একদিন আহিরকে নিজের জীবন থেকে ছেঁটে আত্রেয়ী চলে গিয়েছিল দীপঙ্করের হাত ধরে। তারপর আর দুজনের দেখা হয়নি। এদিকে অনিন্দিতার সঙ্গে আহিরের বিয়ে ঠিক। কিন্তু এতদিন বাদে মুসৌরিতে আত্রেয়ীকে পেয়ে নিজেকে আর সামলাতে পারল না আহির। চুপিচুপি সে পিছু নিল আত্রেয়ীর। একসময় দুজনে মুখোমুখিও হল। কথায় কথায় আহির জানতে পারল দীপঙ্করের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে আত্রেয়ীর। আহির কিন্তু একবারও জানাল না ওর আর অনিন্দিতার বিয়ের খবর। মুসৌরির রোম্যান্টিক পরিবেশে দু’জন পরস্পরের কাছে এল। তারপরই এক জটিল জালে জড়িয়ে পড়ল আহির। আত্রেয়ীর সঙ্গে দীপঙ্করের সম্পর্ক কি আদৌ শেষ? আহিরকে কে ব্ল্যাকমেল করতে চাইছে? অনিন্দিতাকেই বা কে উড়ো ফোন করছে? তরতরে গদ্যে এক জমজমাট কাহিনি বুনেছেন সিজার বাগচী।
সিজার বাগচী-র জন্ম ১৯৭৭ সালে। দক্ষিণ কলকাতায়। পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। অল্প বয়সে পিতৃহীন। কলেজে পড়ার সময়ে লেখালিখি শুরু। ফিচার, গল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা, চিত্রনাট্য, কথিকা, উপন্যাস। সহজ তরতরে ভাষায় লেখা সব গল্প-উপন্যাসের বিষয়ই আলাদা। এবং তা উঠে আসে রোজকার জীবনযাত্রা থেকে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের গল্পও লিখছেন নিয়মিত৷ নানা পেশায় যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার চাকরি করেছেন ‘আনন্দলোক’ পত্রিকায়। বর্তমানে ‘আনন্দমেলা’য় কর্মরত৷ লেখালিখি ছাড়াও বাংলার লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন।
আহির নিজের ব্যাচেলর ট্রিপ এ মুসৌরি ঘুরতে গিয়ে দেখা পায় পুরোনো প্রেমিকা আত্রেয়ী। আত্রেয়ী বলে সে ডিভোর্সি, আহির নিজের বিয়ের ব্যাপারটা চেপে যায়। নতুন করে পুরোনো প্রেম গড়ে ওঠে।
এদিকে মুসৌরি এসে পৌছায় আত্রেয়ীর এক্স হাসব্যান্ড দীপঙ্কর। ওদিকে আহিরের হবু বউ অনিন্দিতা আহিরকে জানায় সে কনসিভ করেছে।
আমার বক্তব্য (spoiler alert)-
১. আহিরের আত্রেয়ীর মতো মেয়ের কাছে বারবার ফিরে যাওয়া। যদিও কেন আর কিজন্য প্রশ্ন থাকবে, হয়তো বাস্তবে এরকম হয়, প্রথম ভালোবাসাকে সহজে ভোলা আর ছাড়া যায় না, যতই সে non-deserving হোক। তাই আত্রেয়ীর চরিত্রটির গ্রে শেড বিরক্তিকর লাগলেও কিছু করার নেই।
২. প্রথমে আত্রেয়ী আহিরকে ঠকালো, তারপর আহির অনিন্দিতাকে। দুটো ক্ষেত্রেই জাস্টিফিকেশনটা জমলো না। যদিও আত্রেয়ীরটা মানা যায়, আহিরের তো একদমই নয়। মানে betrayal করার excuse থাকতে পারে, জাস্টিফিকেশন নয়। গল্পের খাতিরে মানলাম দুটো চরিত্রই খারাপ। কিন্তু মনে হলো তাদের খারাপগুলোকে ভালো করে দিয়ে গল্প শেষ করা হয়েছে।
আহির আবার তার বন্ধুকে ঠকিয়েছে যাতে সে তার বৌকে ঠকায়।
৩. এটা সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে - আহিরের সাথে অনিন্দিতার বিয়ে ঠিক হয়েছে, বিয়ের আগে অনিন্দিতা কনসিভ করেছে। খুবই ভালো, নিজের বাবা-মার বিয়েতে উপস্থিত থাকবে 😊। এখানে আমার বেশ ভালো লেগেছে। ওদিকে সব কিছু জেনেও আহির আত্রেয়ীর সাথে প্রেম ভালোবাসা খেলছে। এদিকে আত্রেয়ী নিজে ফোন করে অনিন্দিতাকে ওদের অভিসারের গল্প বলেছে। পড়ে আহির আবার ডিটেলস এ সব বলেছে অনিন্দিতা, কারণ সে নাকি অনিন্দিতা ঠকাতে চায় না। 👏👏👏👏। আত্রেয়ী একা হয়ে গেলো এসব শুনে অনিন্দিতা গাল ফুলিয়ে আহির কে জিগেস করেছে, এবার তাহলে আত্রেয়ী কি করবে, কোথায় যাবে।।।
আমি বুঝলাম না, হবু বর তার আর তার প্রেমিকার প্রেমালাপ শোনাচ্ছে, কিন্তু তাতে সে বিচলিত শুধুমাত্র হবু বরের প্রেমিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে। নূন্যতম কনফ্রন্টেশন নেই। এদিকে অনিন্দিতা একজন শিক্ষিকা। মানে এর থেকে কি শিক্ষা পেলাম বুঝলাম না। এটা গল্পে তো মানতে পারলাম না, বাস্তবেও এরকম হয় কিনা সন্দেহ। আজকালকার মহিলারা এতটাও উদার নয়। নাকি কনসিভ করে আছে বলে হবু স্বামী পরকীয়া করলেও তাকেই বিয়ে করতে হবে বলে ব্যাপারটা পুরো চেপে গেলো।
এই শেষ পয়েন্ট এ এসে গল্পটা বিগড়ে দিলো। তারপর কি করতে দীপঙ্কর হঠাৎ করে গল্পের মাঝে উদয় হলো আর তারপর কোথায় চলে গেলো।
This entire review has been hidden because of spoilers.