মিডনাইট হরর স্টেশনের মাধ্যমে মৌলিক গল্পের পাশাপাশি স্বল্প-আলোচিত বেশ কিছু বিদেশি ভয়ের গল্পকে বাঙালি শ্রোতাদের কাছে নিয়ে এসেছেন তরুণ সাহিত্যিক সায়ক আমান। তাঁর দ্বারা অনূদিত তেরোটি আখ্যান ধরা পড়েছে এই বইয়ে। যে-সব গল্প এতে আছে, তারা হল: ১. মৃত্যুর ছায়া (স্টিফেন কিং) ২. দ্য সিগনালম্যান (ডিকেন্স) ৩. মৃতের জঙ্গল (ব্ল্যাকউড) ৪. পিকম্যানের মডেল (লাভক্র্যাফট) ৫. ড্রয়ার নম্বর ১৪ (পাওয়েল) ৬. একটি অলৌকিক দ্বীপ (ব্ল্যাকউড) ৭. নির্জন বাড়ির বাসিন্দা (লাভক্র্যাফট) ৮. রক্তাক্ত হাতের দুঃস্বপ্ন (স্টোকার) ৯. মৃত্যুহীন পিশাচ (বেনসন) ১০. ১৩ নম্বর ঘর (জেমস) ১১. দ্য জিপসি প্রফেসি (স্টোকার) ১২. সে কান পেতে শোনে (ব্ল্যাকউড) ১৩. গোপন আতঙ্ক (লাভক্র্যাফট) সায়ক আমানের অনুবাদের মান নিয়ে আলাদা করে কিচ্ছু বলার প্রয়োজন নেই। গথিক হররকে সহজ ভাষা ও আঙ্গিকের মাধ্যমে কীভাবে অজস্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় - এই বিষয়ে তিনি একজন সার্থক পথপ্রদর্শক। এই সংকলনের জন্য কাহিনি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সায়ক অন্যরকম মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। হরর বা ভয়াল রসের আওতায় যে ক'টা উপ-বিভাজন দেখা যায়, তাদের অনেকগুলোই এর ফলে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এই সংকলনে। কিন্তু... ১) ১৯২ পাতার একটি বইয়ের দাম ৩০০/- টাকা! কেন? এই দামে এই বই কেনার ক্ষমতা ক'টি কিশোরের আছে? অথচ ওই আর্থ-সামাজিক শ্রেণিটিকে এই বইয়ের মাধ্যমে নেশা ধরানো গেলে বাংলা বই শিল্পের উপকার হত। ২) বইটা ছাপতে দেওয়ার সময়ই যে ইউনিকোড কনভার্শন সংক্রান্ত বেশ কিছু অনবধানতা-জনিত ত্রুটি এতে ঢুকে গেছে, এটা প্রকাশকের দেখা উচিত ছিল। সামগ্রিকভাবে এটাই বলার যে আপনি যদি ভয়ের গল্পের অনুরাগী হন, তাহলে তেরোটি স্বচ্ছন্দ ও সুখপাঠ্য অনুবাদ পড়ার জন্য অবশ্যই এই সংকলনটি হস্তগত করুন। শুধু দামটা... ভালো থাকুন।
মিডনাইট হরর বইটিতে রয়েছে ২৪ টি ছোট গল্প যার মধ্যে ১৩টি লেখকের নিজস্ব লেখা এবং বাকী ১১ টি অনূদিত। এ গল্পগুলোর আরো একটি বৈশিষ্ট্য হল প্রত্যেকটা গল্পই বিভিন্ন সময়ে লেখকের নিজস্ব ইউটিউব অডিও স্টোরি চ্যানেল "মিডনাইট হরর স্টেশন" এ সম্প্রচারিত হয়েছে। গল্পগুলির কোনোটা রোম্যান্টিক আবার কোনোটা হরর কিংবা ফ্যান্টাসি। এর মধ্যে আমার একটু বেশি ভালো লেগেছে - সে, পেন্ট্রাগ্রাম, ম্যানিকুইন, আওকিগাহারা, অন্ধবিন্দু।