What do you think?


নীলাম্বরের খিদে
বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রাম। মধ্যযুগের যে সাম্রাজ্য মহাকালের নিয়মে মিশে গিয়েছিল ধুলোয়, সেখানেই অমোঘ নিয়তির টানে আচমকা শুরু হল পাঁচশো বছর আগের ও পরের দুই স্নেহার্দ্র পিতার অসম যুযুধান। শুরু হল এক ভয়ংকর লড়াই। বিশাল প্রান্তরব্যাপী প্রকাণ্ড দৈত্যসম নীলদরিয়ার যে কালো গহ্বরে একসময় ছুঁড়ে ফেলা হত একের পর এক লাশ, সেই মৃত্যুকূপ, দেবী মহামারীর করালগ্রাস ও শ্বাসরুদ্ধ করা অশরীরী প্রেক্ষাপটে লেখা এক ভয়াল আতংকের উপন্যাস নীলাম্বরের খিদে। আদৌ কি মিটবে সেই অমানুষিক খিদে?
প্রাচীন লক্ষনৌনগরীর নৈশবাজার নখাশ থেকে পাওয়া এক মুখোশ নাকি আসলে পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ’মোখা’। কালগমিরার সেই ’মোখা'য় নাকি ভর করেন দেবতা স্বয়ং। কিন্তু সেই মোখা বানাতে গেলে শিল্পীকেও যে হতে হয় অন্তরে ও বাইরে শুদ্ধ। নাহলে মৃত্যুর অতর্কিত হানায় ছারখার হয়ে যায় সবকিছু। প্রতিশোধ, হিংসা ও ঈর্ষার অলৌকিক সমাবেশ ঘটেছে মোখামুখিতে।
দুই সদ্যযুবা হঠাৎই পথ হারাল গহীন অরণ্যে। অঙ্কই তাদের ভালবাসা, অঙ্কই তাদের জগত। কিন্তু সেই গভীর বনে বন্য দাঁতাল হাতির বসবাস সুবিদিত। রাতও গভীর হয় ক্রমশ। তারপর? শুভঙ্করের ফাঁকির ফাঁদে কীভাবে পড়ল তারা?
প্রাচীন লক্ষনৌনগরীর নৈশবাজার নখাশ থেকে পাওয়া এক মুখোশ নাকি আসলে পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুরের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ’মোখা’। কালগমিরার সেই ’মোখা'য় নাকি ভর করেন দেবতা স্বয়ং। কিন্তু সেই মোখা বানাতে গেলে শিল্পীকেও যে হতে হয় অন্তরে ও বাইরে শুদ্ধ। নাহলে মৃত্যুর অতর্কিত হানায় ছারখার হয়ে যায় সবকিছু। প্রতিশোধ, হিংসা ও ঈর্ষার অলৌকিক সমাবেশ ঘটেছে মোখামুখিতে।
দুই সদ্যযুবা হঠাৎই পথ হারাল গহীন অরণ্যে। অঙ্কই তাদের ভালবাসা, অঙ্কই তাদের জগত। কিন্তু সেই গভীর বনে বন্য দাঁতাল হাতির বসবাস সুবিদিত। রাতও গভীর হয় ক্রমশ। তারপর? শুভঙ্করের ফাঁকির ফাঁদে কীভাবে পড়ল তারা?
- GenresHorror
160 pages, Hardcover
Published January 1, 2020
About the author
Debarati Mukhopadhyay
62 books384 followersDebarati Mukhopadhyay is presently one of the most popular and celebrated authors of Bengali Literature and a TED Speaker having millions of readers worldwide.
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
For more details, please visit: www.authordebarati.com
Her famous novels: Narach, Dakatraja, Shikhandi, Aghore Ghumiye Shib, Narak Sanket, Ishwar Jakhan Bandi, Diotima, Dashgupta Travels, Hariye Jaoa Khunira, Babu O Barbanita etc.
Significant Awards: Indian Express Devi Award, 2022, Tagore Samman, Most Inspirational Lady 2022, Sera Kathak Samman etc.
For more details, visit official website: http://www.authordebarati.com
A young Government Officer by profession and awarded with several accolades like Indian Express Devi Award 2022, Tagore Samman, 2022, Literary Star of Bengal etc, she has written 25+ bestselling novels in West Bengal from leading publishing houses. Global publishers like Harper Collins, Rupa Publication have published her English works worldwide.
A no. of novels are already made up into movies starting Nusrat Jahan, Mithun Chakraborty, Dev etc by big production houses like SVF, Eskay etc. Her stories are immensely popular in Sunday Suspense, Storytel etc.
Her Novel ‘Dasgupta Travels’, has been shortlisted for ‘Sahitya Akademi Yuva Pursakar, 2021’.
Her Novel ‘Shikhandi’ created a history when it was acquired for film by SVF within 24 hours of it’s publication. Beside this, she contributes in Bengal’s prominent literary magazines and journals regularly.
She has been selected as Country's only Bengali Literature Faculty for the esteemed Himalayan Writing Retreat.
An excellent orator, Debarati motivates people through her way of positive thinking, voluntarily guides aspirants for Government job preparation in leisure.
She’s a regular speaker in eminent institutions like Ramakrishna Mission and other educational seminars and often considered as youth icon of Bengal. She’s extremely popular in Bengal and having more than 5,00,000+ followers in Social media.
For more details, please visit: www.authordebarati.com
Her famous novels: Narach, Dakatraja, Shikhandi, Aghore Ghumiye Shib, Narak Sanket, Ishwar Jakhan Bandi, Diotima, Dashgupta Travels, Hariye Jaoa Khunira, Babu O Barbanita etc.
Significant Awards: Indian Express Devi Award, 2022, Tagore Samman, Most Inspirational Lady 2022, Sera Kathak Samman etc.
For more details, visit official website: http://www.authordebarati.com
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 37 reviews
January 25, 2021
এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের একজন যখন শিশু-কিশোর পাঠকদের জন্য কলম ধরেন, তখন তাঁর সামনে কয়েকটা প্রশ্ন বড়ো হয়ে ওঠে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন বোধহয় এটাই হয় যে তিনি কোনো লব্ধপ্রতিষ্ঠ ও কিংবদন্তি হয়ে ওঠা সাহিত্যিকের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন কি না। উদাহরণ হিসেবে বলা চলে, ছোটোদের জন্য অদ্ভুতুড়ে ঘরানায় শীর্ষেন্দু, রসসাহিত্যে সঞ্জীব, রহস্য ও অ্যাডভেঞ্চারের মিশ্রণে সুনীল ও সমরেশ (মজুমদার), গোয়েন্দা ও সায়েন্স ফ্যান্টাসিতে সত্যজিৎ এমন স্ট্যান্ডার্ড বানিয়ে দিয়ে গেছেন যে মন আপনা থেকেই সেদিকে চলতে চায়।
এই বইয়ে দেবারতি কিন্তু তা করেননি। তিনি ইতিহাস আর আতঙ্ক, ব্যক্তিগত ভয় আর কিংবদন্তি মিশিয়ে লেখা গল্পের এক নিজস্ব ধারা তৈরি করেছেন।
এই বইয়ে তাঁর তিনটি কাহিনি স্থান পেয়েছে। তারা হল~
১. নীলাম্বরের খিদে: বাংলাদেশের এক প্রত্নস্থলে খনন চালাতে গিয়ে কোন বিভীষিকার সম্মুখীন হলেন এ-কাহিনির প্রধান চরিত্র ও তাঁর মেয়ে?
২. মোখা মুখি: মুখোশ পরে এই আসরে নাচে কি ইতিহাস? নাকি নাচে মৃত্যু?
৩. শুভঙ্করের ফাঁকি: অরণ্যের অন্ধকারে পথা-হারানো দুই বন্ধুর জীবন-অঙ্কের শেষে কী আছে?
এই গল্পগুলো 'সত্যের জয়, অসত্যের পরাজয়' জাতীয় কোনো বার্তা দেয়নি। এদের চরিত্ররাও নায়কোচিত নানা গুণের বদলে একান্ত মানুষী দুর্বলতার বশ। হয়তো সেজন্যই এই গল্পগুলোতে প্রকট হওয়া ভয় শুধু কিশোর নয়, বড়োদেরও কোথাও ছুঁয়ে যায়।
তবে হ্যাঁ, স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, শিশু-কিশোর পাঠকদের জন্য এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন লেখা কি যথাযথ?
আমার নিজের মনে হয়, হ্যাঁ, আজকের যে ছোটোরা 'থার্টিন রিজনস্ হোয়াই' দেখে, তাদের মনের জগৎটা অনেক বড়ো, অনেক গাঢ়ও বটে। তাই সেখানে এই লেখাগুলো বেমানান নয়। বরং এতে ছড়িয়ে থাকা ইতিহাসের নানা তত্ত্ব আর তথ্য যদি তাদের এই বিষয়গুলো নিয়ে জানতে উৎসাহ দেয়, তাহলে আমাদের সবারই ভালো হয়— তাই না?
সুলিখিত, দ্রুতগামী এবং ধারালো এই তিনটি কাহিনি পড়ে দেখতে পারেন। খারাপ লাগবে না বলেই আমার ধারণা।
এই বইয়ে দেবারতি কিন্তু তা করেননি। তিনি ইতিহাস আর আতঙ্ক, ব্যক্তিগত ভয় আর কিংবদন্তি মিশিয়ে লেখা গল্পের এক নিজস্ব ধারা তৈরি করেছেন।
এই বইয়ে তাঁর তিনটি কাহিনি স্থান পেয়েছে। তারা হল~
১. নীলাম্বরের খিদে: বাংলাদেশের এক প্রত্নস্থলে খনন চালাতে গিয়ে কোন বিভীষিকার সম্মুখীন হলেন এ-কাহিনির প্রধান চরিত্র ও তাঁর মেয়ে?
২. মোখা মুখি: মুখোশ পরে এই আসরে নাচে কি ইতিহাস? নাকি নাচে মৃত্যু?
৩. শুভঙ্করের ফাঁকি: অরণ্যের অন্ধকারে পথা-হারানো দুই বন্ধুর জীবন-অঙ্কের শেষে কী আছে?
এই গল্পগুলো 'সত্যের জয়, অসত্যের পরাজয়' জাতীয় কোনো বার্তা দেয়নি। এদের চরিত্ররাও নায়কোচিত নানা গুণের বদলে একান্ত মানুষী দুর্বলতার বশ। হয়তো সেজন্যই এই গল্পগুলোতে প্রকট হওয়া ভয় শুধু কিশোর নয়, বড়োদেরও কোথাও ছুঁয়ে যায়।
তবে হ্যাঁ, স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, শিশু-কিশোর পাঠকদের জন্য এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন লেখা কি যথাযথ?
আমার নিজের মনে হয়, হ্যাঁ, আজকের যে ছোটোরা 'থার্টিন রিজনস্ হোয়াই' দেখে, তাদের মনের জগৎটা অনেক বড়ো, অনেক গাঢ়ও বটে। তাই সেখানে এই লেখাগুলো বেমানান নয়। বরং এতে ছড়িয়ে থাকা ইতিহাসের নানা তত্ত্ব আর তথ্য যদি তাদের এই বিষয়গুলো নিয়ে জানতে উৎসাহ দেয়, তাহলে আমাদের সবারই ভালো হয়— তাই না?
সুলিখিত, দ্রুতগামী এবং ধারালো এই তিনটি কাহিনি পড়ে দেখতে পারেন। খারাপ লাগবে না বলেই আমার ধারণা।
April 25, 2021
পলকা একটা বই। এর মাঝে ২টা উপন্যাস। আর একটি গল্প!
বইটার গদ্য থেকে শুরু করে গল্পের প্লটিং কিচ্ছুটিই ভালো লাগেনি। খাপছাড়া খাপছাড়া একটা ব্যাপার ছিলো পুরো বইজুড়ে।
বইটার গদ্য থেকে শুরু করে গল্পের প্লটিং কিচ্ছুটিই ভালো লাগেনি। খাপছাড়া খাপছাড়া একটা ব্যাপার ছিলো পুরো বইজুড়ে।
November 22, 2025
২.৮/৫
গল্পের এনভায়রনমেন্ট টা দারুণ, সুপার ক্রিপি। কিন্ত গল্প একেবারেই সাদামাটা। টুইস্ট টা অবশ্য বেশ ভাল ছিল
গল্পের এনভায়রনমেন্ট টা দারুণ, সুপার ক্রিপি। কিন্ত গল্প একেবারেই সাদামাটা। টুইস্ট টা অবশ্য বেশ ভাল ছিল
October 17, 2024
আজকের ছোটোদের, বিশেষত ইয়ং-অ্যাডাল্ট পাঠকদের জন্য ভয়ের গল্প লেখা সহজ নয়। বহু ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞান ও মেধা তথাকথিত বড়োদের চেয়ে বেশি হয়। এমন পাঠকের জন্য লিখতে গেলে সবচেয়ে আগে বুঝতে হয়, ভয়ের ঠিক কোন ধরনটা তাদের বুকেও কাঁপুনি ধরাতে পারে। সবাই এই ব্যাপারটা পারেন না।
কিন্তু দেবারতি পেরেছেন।
এই বইয়ের লেখাগুলোতে অলৌকিক বা ব্যাখ্যাতীত ঘটনার আড়ালে আদতে ভয়-পাওয়ার কারণগুলো দেখলে কথাটা বোঝা যায়। যেমন ধরুন~
— বাবা আর মেয়ের সম্পর্ক যখন স্নেহ ও ভালোবাসা অতিক্রম করে অবসেশনের দিকে এগোয়;
— আপাতদৃষ্টিতে চেনা-জানা জায়গায় যখন কেউ সম্পূর্ণভাবে দিশাহারা হয়ে পড়ে;
— কৌতূহল আর রোমাঞ্চ যখন হঠাৎই বীভৎস আতঙ্কের রূপ নেয়।
ভয়ের উৎস হিসেবে এই ফ্যাক্টরগুলো এখনও পুরোনো হয়নি। আজকের ছোটোদের বাঁশবনের মধ্যে জমে থাকা অন্ধকারের কথা না বলে বরং এই বিষয়গুলোর প্রয়োগ দেখিয়ে লেখক যথার্থ বুদ্ধিমত্তার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর নির্ভার লেখনী এবং ইতিহাসের প্রতি অনুরাগ লেখাগুলোকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
বাড়ির ছোটোটিকে, এমনকি বড়োদেরও বইটা দিয়ে দেখতে পারেন। আমার ধারণা, বইটা ভালোই লাগবে।
কিন্তু দেবারতি পেরেছেন।
এই বইয়ের লেখাগুলোতে অলৌকিক বা ব্যাখ্যাতীত ঘটনার আড়ালে আদতে ভয়-পাওয়ার কারণগুলো দেখলে কথাটা বোঝা যায়। যেমন ধরুন~
— বাবা আর মেয়ের সম্পর্ক যখন স্নেহ ও ভালোবাসা অতিক্রম করে অবসেশনের দিকে এগোয়;
— আপাতদৃষ্টিতে চেনা-জানা জায়গায় যখন কেউ সম্পূর্ণভাবে দিশাহারা হয়ে পড়ে;
— কৌতূহল আর রোমাঞ্চ যখন হঠাৎই বীভৎস আতঙ্কের রূপ নেয়।
ভয়ের উৎস হিসেবে এই ফ্যাক্টরগুলো এখনও পুরোনো হয়নি। আজকের ছোটোদের বাঁশবনের মধ্যে জমে থাকা অন্ধকারের কথা না বলে বরং এই বিষয়গুলোর প্রয়োগ দেখিয়ে লেখক যথার্থ বুদ্ধিমত্তার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর নির্ভার লেখনী এবং ইতিহাসের প্রতি অনুরাগ লেখাগুলোকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
বাড়ির ছোটোটিকে, এমনকি বড়োদেরও বইটা দিয়ে দেখতে পারেন। আমার ধারণা, বইটা ভালোই লাগবে।
October 1, 2021
দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের লেখার সাথে প্রথম পরিচয় হিসেবে বইটি নেহাৎই মাঝারি মানের। কিশোর পাঠ্য তিনটে গল্প, আহামরি কিছু নয়। রহস্যের সাথে ইতিহাসের গল্প উঠে আসে অহরহ, সেটা লেখিকার পড়াশোনার নিদর্শন, তবে গল্পের গতিপথে নেতিবাচক, যেন জলের ওপর ভাসমান তেল। দীপ প্রকাশনীর কভারখানাও মনোরম নয়, বইটির পূর্ব প্রকাশক বুকফার্মের সাথে লেখিকার বিতর্ক জড়িয়ে থাকলেও, এই একটিমাত্র বইয়ের ক্ষেত্রে তাদের কভারটা বেশি ভালো। যাকগে, দু তারা ব্যয় করলাম, কেবল ওই 'মোখা মুখি' উপন্যাসের জন্য। ফোক হরর নিয়ে বাংলায় লেখা সর্বক্ষণ স্বাগতম।
March 6, 2021
পাঠ প্রতিক্রিয়া শীঘ্রই আসবে।
December 5, 2021
মোটামুটি ছিলো।
September 15, 2021
"ওরে নীল দরিয়া আমায় দে রে দে ছাড়িয়া"
🏚️ বাংলা সাহিত্যের বর্তমান সময়ে এক অতি পরিচিত মুখ তথা তরুণ তরুণীদের আইকন হলেন Debarati Mukhopadhyay | 1990 সালে হুগলী জেলায় জন্মগ্রহণ করে তিনি স্কুল শেষ করার পর ভর্তি হন ইঞ্জিনিয়ারিং এ, তারপর কর্মক্ষেত্র হিসেবে Cognizant Technology Solution, থেকে শুরু করে Bank of Baroda হয়ে তিনি 2018 খ্রিস্টাব্দে West Bengal Civil Service এ যোগ দেন একজন ওবক্স অফিসার হিসেবে | তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকীর্তি র মধ্যে কয়েকটি হলো ' ঈশ্বর যখন বন্দী ', 'নরক সংকেত ', ' অঘোরে ঘুমিয়ে শিব ' ইত্যাদি |
আমাদের আজকের আলোচিত কাহিনীর মূল উৎস 2019 সালে শারদীয়া শুকতারায় প্রকাশ পাওয়া ' নীলাম্বরের খিদে ' শীর্ষক সিরিজ | । বইতে রয়েছে ২ টি ভৌতিক উপন্যাস (১) নীলাম্বরের খিদে - কামতাপুরী রাজবংশের শেষ রাজা নীলাম্বর কে ঘিরে বর্তমান পটভূমিকায় লেখা গল্প। (২) মোখা মুখি - দিনাজপুরের বিস্মৃত মোখা শিল্প এবং শিল্পী এবং প্রাচীন সংস্কারের পটভূমিকায় আধুনিক কালের গল্প। এই দুটি উপন্যাস ছাড়া রয়েছে একটি ভৌতিক গল্প, (৩) শুভঙ্করের ফাঁকি।
আজকের আলোচনায় গত 5 ই সেপ্টেম্বর Mirchi Bangla পরিবেশিত নাম শীর্ষক উপন্যাস ' নীলাম্বরের খিদে ' |
গল্পের কাহিনী জুড়ে রয়েছে কোচবিহার, বাংলাদেশের রংপুর জেলার পীরগঞ্জ গ্রাম | এর ইতিহাস থেকে শুরু করে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের কাহিনী ও | তাই একজন ইতিহাস প্রেমী হিসেবে মূল কাহিনী তে ঢোকার আগে আপনাদের জানিয়ে রাখি প্রাসঙ্গিক ইতিহাস সম্পর্কে, এই গল্পে উল্লিখিত ঐতিহাসিক কাহিনীর সব টুকুই সত্য তার সাথে কল্পনা মিশিয়ে ই লেখিকা তৈরী করেছেন অপূর্ব স্বাদের এই লোমহর্ষক গল্প |
আজ থেকে প্রায় 500 বছর আগে কামতা সাম্রাজ্যের রাজা ছিলেন নীলাম্বর,তিঁনিই ছিলেন সেই সাম্রাজ্য এর শেষ এবং শ্রেষ্ঠ রাজা| তাঁর আগের রাজারা ছিলেন নীলধ্বজ ও চক্রধ্বজ | তার রাজবাড়ী ঘিরে খনন করা এক সুগভীর পরিখা যা আজ ও নীলদরিয়া নামে পরিচিত |প্রবল পরাক্রমশালী সেই রাজা আরাকান হামলা থেকে শুরু করে, পর্তুগীজ দের হানা কোনোকিছুতেই পরাস্ত না হয়ে পশ্চিমে কামরূপ থেকে দক্ষিণে ঘোড়া ঘাট পর্যন্ত সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন যা আজ ইতিহাসের পাতায় বেশ ধূসর | বাংলার রাজা হোসেইন শাহ এর কাছে পরাস্ত হওয়ার পর ই নাকি পতন ঘটে কামতা সাম্রাজ্যর | রাজা গণেশ চাঁদ রায়, কেদার রায় এর মতো ইনিও তখন মোঘল আর পাঠান দের সংঘর্ষ র ফাঁকে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন এক স্বাধীন রাজা হিসেবে, রাজধানী কামতাপুরি থেকে নীলদরিয়া হয়ে ঘোড়াঘাট পর্যন্ত বানিয়েছিলেন বিস্তীর্ণ রাজপথ | রাজার একমাত্র মেয়ে ছিলেন কাঞ্চনমণি, অল্প বয়সে বিধবা হলে তাঁর সতীদাহ প্রথায় রাজা অমত পোষণ করলে রাজার ই মন্ত্রী শচীপাত্র র ছেলে অক্রুর সহ সাধারণ সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, তারা রাজার মেয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়মের অন্যথা স্বীকার করে নেন নি কারণ তাঁদের অনেক মা বোন রা ই তখন এই কালো প্রথার শিকার | তাই অক্রুর দলবল নিয়ে রাজবাড়ী তে হামলা চালালে কাঞ্চনমণি তাঁদের হাতে বন্দী হয় তবে মাঝ পথে সে নিজেকে মুক্ত করে ঝাঁপ দেয় নীলদরিয়ার সুগভীরে, সেখানেই সলিল সমাধি হয় তাঁর, যখন তার বয়স ছিল মাত্র আট | এমন ই কথিত আছে ইতিহাসে |
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রাজা নীলাম্বর বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হোন বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের সাথে, যেখানে প্রচলিত ছিল দেবী মহামারীর আরাধনার চল | রানীমা সেখান থেকে এসে কামতাপুরি তে প্রচলন করেন দেবীর আরাধনা, আর তাঁর পর থেকেই রাজা নীলাম্বরের রাজ্য তে শুরু হয় স্বর্ণযুগ | ভয়ঙ্করী এই দেবীর আরাধনা নিখুঁত না হলে মহামারী তে উজাড় হয়ে যায় গ্রাম, নিরবংশ হয় পূজারী আর নেমে আসে মহাকাল | দেবীর আরাধনা করতে হয় পিছন ফিরে বসে, ভোগ রান্না করতে হয় পূজারী কেই আর এত টুকু ভুলচুক হলেই নেমে আসে সমূহ বিপদ | মেয়ের মৃত্যুর পর রাজাই নাকি নিজ হাতে তুলে নেন দেবীর আরাধনার দায়িত্ব এবং তাতেই মৃত্যু হয় অক্রুরের |
অনেকটা আমাদের সুভাষ চন্দ্র বসুর মতোই ইতিহাস এড়িয়ে যায় রাজা নীলাম্বরের মৃত্যু কে তবে তথ্য মতে গৌড় এর রাজা হুসেইন শাহ এর হাতে বন্দী হয়ে রাজার | রাজার মন্ত্রী শচীপাত্র নিজের সন্তানের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে হুসেইন শাহ কে দিয়ে আক্রমন করান কামতা সাম্রাজ্য, পরে সন্ধি হলেও শচীপাত্র র কুবুদ্ধিতে অন্দরমহলে রানীদের সাথে দেখা করার অজুহাতে বোরখা র আড়ালে সৈনিক রা প্রবেশ করে অতর্কিত আক্রমণে বন্দী করেন নীলাম্বর কে |
ওই অঞ্চলের মানুষের এখনো বিশ্বাস করেন যে রাজা নীলাম্বর এখনো মারা জান নি, তিনি 500 বছর ধরে দেবী মহামারীর আরাধনা করে তুষ্ট করে রেখেছেন দেবী কে,তাই ওই অঞ্চলে সর কোনো মড়ক লাগে না | কিন্ত গ্রামে কোন আট বছর বয়সী মেয়ে এলেই নাকি তাকে নিজের মেয়ে মনে করে কাছে টেনে নিতে চান নীলাম্বর | আর তখন ই দেবীর আরাধনায় ব্যাঘাত ঘটে আর গ্রামে শুরু হয় মড়ক |
গল্পের কাহিনী তে দেখা যায় কোচবিহারের গোসানমারি গ্রামে ভগ্ন কামতা সাম্রাজ্য কে ঘিরে তৈরী হওয়া আরকিওলজিকাল সাইটে পোস্টেড্ থাকা এক পুরাতত্ত্ববিদ কে পাঠানো হয়েছে ভারত বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ এর অন্তর্গত কামতা সাম্রাজ্যের অংশ গুলির পুনরুদ্ধিকরণ, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ সদর থেকে দক্ষিণে প্রায় চোদ্দ কিলোমিটার দূরে ধাপেরহাট বন্দর থেকে আরো 10 km দূরের এক গ্রামে |
গল্পের কথক তথা পুরাতত্ববিদ এর সাথে আসে তার মেয়ে যে জন্ম থেকেই মুক ও মা হারা এবং সাথে আসে দেখভালের কয়েকজন | আসার পর, নীলদরিয়া সংলগ্ন অঞ্চলে ইতিহাস পুনরুদ্ধার এর কাজ শুরু হলে কিছু দিনের মধ্যেই সেই আট বছরের বাচ্চা মেয়ের মধ্যে দেখা দেয় উদাসীনতা, যেন তার শরীরে বাসা বেঁধেছে কোন অন্য সত্ত্বা, মাঝে মাঝে সে উধাও হয়ে চলে যেতে থাকে কখনো নীলদরিয়া র একদম কিনারে কখনো বা মহামারী মন্দিরে | গ্রামেও শুরু হয় একের পর এক মৃত্যু | করো বুঝতে বাকি থাকেনা যে রাজা নীলাম্বর আবার জেগে উঠেছেন কারণ ওই আট বছরের মেয়ের মধ্যে বাসা বেঁধেছে রাজকুমারী কাঞ্চনমণির আত্মা | আর সেই ব্যাকুলতা তে বিঘ্নিত হচ্ছে মা মহামারী র আরাধনা | তাই রাজা তথা 500 বছর পুরোনো রাজার বিদেহী আত্মা কে ক্ষান্ত করার জন্য এক পুরোহিতের সাহায্যে কৃষ্ণ পক্ষের নবমীতে সমস্ত নিয়ম মেনে আয়োজন করা হয় দেবীর আরাধনার কিন্তু সেখানে স্নেহের বশে মেয়ের রূদ্রমূর্তি দেখে নিয়ম ভেঙে ফেলেন বাবা আর এক লহমায় উলোটপালট হয়ে যায় সবকিছু | তার ছোট্ট আট বছরের মেয়ের দৈতাকার রূপ ধারণ করে বেরিয়ে যায় মা এর মন্দির থেকে যা অনেকটা ই বিষ্ণুপুরের জোড়বাংলো মন্দিরের আদপে তৈরী | সেই প্রেতমূর্তির ধাওয়া করতে যেয়ে নীলদরিয়ার পাড়ে এসে ধস্তাধস্তি শুরু হয় শরীরী আর অশরীরী তে, শেষ মুহূর্তে অশরীরী কে কাবু করে ফেলার আগে জ্ঞান হারান সেই পিতা কিন্তু প্রবল দ্বন্দে ছোট্ট আট বছরের শিশুর দেহ নিস্তেজ হয়ে যায় | বাবা নিজেই প্রেতাত্মা কে দূর করতে গিয়ে হত্যা করে ফেলেন নিজের মেয়ে কে, ওদিকে মৃত্যু হয় পূজারীর ও |
গল্পের শেষে জেলে বসে সেই পিতার কান্না যেন হৃদয় বিচূর্ণ করে আমাদের | পিতার স্নেহ ইতিহাস এর কবলে পড়ে কোনোদিন মুছে যেতে পারেনা | এই গল্পে যেন যুদ্ধ আসলে দুই পিতা র মধ্যে | দুজন ই চায় নিজের আদরের মেয়েকে কাছে পেতে, সেই জন্য কেউ অপেক্ষা করে থাকে 500 বছর কেউ আবার সমস্ত অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাকে মাথায় করে জীবন দিয়ে লড়াই করেন অশরীরীর সাথে | সত্যি, পিতার স্নেহ যেন স্বর্ণর থেকেও উজ্জ্বল আর শতাব্দীর পর শতাব্দী তা জীবিত থাকে আলোর ন্যায় |
দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর অসাধারণ রচনা এবং Mir Afsar Ali দা র গলায় সমস্ত জিনিসের অপূর্ব বর্ণনা যেন গল্পের গম্ভীর্য কে বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকখানি, সাথে দীপ দা ও.| বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার বর্ণনা, ঘন জঙ্গলে আলো আড়াল করা গাছ থেকে শুরু করে রাত্রি বেলার সুগভীর ও মায়াবী নীলদরিয়া র উপর নিকষ কালো অন্ধকার, জঙ্গলের সংকীর্ণ পথ আর আদিম গন্ধ যেন আরো অসাড় করে তোলে চারিপাশ কে |
আর সব শেষে কান্না ভেজা গলায় মীর দার সেই সাবধান বাণী!!
#SundaySuspense
#নীলাম্বরেরখিদে
#debaratimukhopadhay
#mirchibangla
✍️ প্রতিক্রিয়ায় আমি
Sharandeep Ghosh
🏚️ বাংলা সাহিত্যের বর্তমান সময়ে এক অতি পরিচিত মুখ তথা তরুণ তরুণীদের আইকন হলেন Debarati Mukhopadhyay | 1990 সালে হুগলী জেলায় জন্মগ্রহণ করে তিনি স্কুল শেষ করার পর ভর্তি হন ইঞ্জিনিয়ারিং এ, তারপর কর্মক্ষেত্র হিসেবে Cognizant Technology Solution, থেকে শুরু করে Bank of Baroda হয়ে তিনি 2018 খ্রিস্টাব্দে West Bengal Civil Service এ যোগ দেন একজন ওবক্স অফিসার হিসেবে | তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকীর্তি র মধ্যে কয়েকটি হলো ' ঈশ্বর যখন বন্দী ', 'নরক সংকেত ', ' অঘোরে ঘুমিয়ে শিব ' ইত্যাদি |
আমাদের আজকের আলোচিত কাহিনীর মূল উৎস 2019 সালে শারদীয়া শুকতারায় প্রকাশ পাওয়া ' নীলাম্বরের খিদে ' শীর্ষক সিরিজ | । বইতে রয়েছে ২ টি ভৌতিক উপন্যাস (১) নীলাম্বরের খিদে - কামতাপুরী রাজবংশের শেষ রাজা নীলাম্বর কে ঘিরে বর্তমান পটভূমিকায় লেখা গল্প। (২) মোখা মুখি - দিনাজপুরের বিস্মৃত মোখা শিল্প এবং শিল্পী এবং প্রাচীন সংস্কারের পটভূমিকায় আধুনিক কালের গল্প। এই দুটি উপন্যাস ছাড়া রয়েছে একটি ভৌতিক গল্প, (৩) শুভঙ্করের ফাঁকি।
আজকের আলোচনায় গত 5 ই সেপ্টেম্বর Mirchi Bangla পরিবেশিত নাম শীর্ষক উপন্যাস ' নীলাম্বরের খিদে ' |
গল্পের কাহিনী জুড়ে রয়েছে কোচবিহার, বাংলাদেশের রংপুর জেলার পীরগঞ্জ গ্রাম | এর ইতিহাস থেকে শুরু করে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের কাহিনী ও | তাই একজন ইতিহাস প্রেমী হিসেবে মূল কাহিনী তে ঢোকার আগে আপনাদের জানিয়ে রাখি প্রাসঙ্গিক ইতিহাস সম্পর্কে, এই গল্পে উল্লিখিত ঐতিহাসিক কাহিনীর সব টুকুই সত্য তার সাথে কল্পনা মিশিয়ে ই লেখিকা তৈরী করেছেন অপূর্ব স্বাদের এই লোমহর্ষক গল্প |
আজ থেকে প্রায় 500 বছর আগে কামতা সাম্রাজ্যের রাজা ছিলেন নীলাম্বর,তিঁনিই ছিলেন সেই সাম্রাজ্য এর শেষ এবং শ্রেষ্ঠ রাজা| তাঁর আগের রাজারা ছিলেন নীলধ্বজ ও চক্রধ্বজ | তার রাজবাড়ী ঘিরে খনন করা এক সুগভীর পরিখা যা আজ ও নীলদরিয়া নামে পরিচিত |প্রবল পরাক্রমশালী সেই রাজা আরাকান হামলা থেকে শুরু করে, পর্তুগীজ দের হানা কোনোকিছুতেই পরাস্ত না হয়ে পশ্চিমে কামরূপ থেকে দক্ষিণে ঘোড়া ঘাট পর্যন্ত সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন যা আজ ইতিহাসের পাতায় বেশ ধূসর | বাংলার রাজা হোসেইন শাহ এর কাছে পরাস্ত হওয়ার পর ই নাকি পতন ঘটে কামতা সাম্রাজ্যর | রাজা গণেশ চাঁদ রায়, কেদার রায় এর মতো ইনিও তখন মোঘল আর পাঠান দের সংঘর্ষ র ফাঁকে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন এক স্বাধীন রাজা হিসেবে, রাজধানী কামতাপুরি থেকে নীলদরিয়া হয়ে ঘোড়াঘাট পর্যন্ত বানিয়েছিলেন বিস্তীর্ণ রাজপথ | রাজার একমাত্র মেয়ে ছিলেন কাঞ্চনমণি, অল্প বয়সে বিধবা হলে তাঁর সতীদাহ প্রথায় রাজা অমত পোষণ করলে রাজার ই মন্ত্রী শচীপাত্র র ছেলে অক্রুর সহ সাধারণ সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, তারা রাজার মেয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়মের অন্যথা স্বীকার করে নেন নি কারণ তাঁদের অনেক মা বোন রা ই তখন এই কালো প্রথার শিকার | তাই অক্রুর দলবল নিয়ে রাজবাড়ী তে হামলা চালালে কাঞ্চনমণি তাঁদের হাতে বন্দী হয় তবে মাঝ পথে সে নিজেকে মুক্ত করে ঝাঁপ দেয় নীলদরিয়ার সুগভীরে, সেখানেই সলিল সমাধি হয় তাঁর, যখন তার বয়স ছিল মাত্র আট | এমন ই কথিত আছে ইতিহাসে |
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রাজা নীলাম্বর বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হোন বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের সাথে, যেখানে প্রচলিত ছিল দেবী মহামারীর আরাধনার চল | রানীমা সেখান থেকে এসে কামতাপুরি তে প্রচলন করেন দেবীর আরাধনা, আর তাঁর পর থেকেই রাজা নীলাম্বরের রাজ্য তে শুরু হয় স্বর্ণযুগ | ভয়ঙ্করী এই দেবীর আরাধনা নিখুঁত না হলে মহামারী তে উজাড় হয়ে যায় গ্রাম, নিরবংশ হয় পূজারী আর নেমে আসে মহাকাল | দেবীর আরাধনা করতে হয় পিছন ফিরে বসে, ভোগ রান্না করতে হয় পূজারী কেই আর এত টুকু ভুলচুক হলেই নেমে আসে সমূহ বিপদ | মেয়ের মৃত্যুর পর রাজাই নাকি নিজ হাতে তুলে নেন দেবীর আরাধনার দায়িত্ব এবং তাতেই মৃত্যু হয় অক্রুরের |
অনেকটা আমাদের সুভাষ চন্দ্র বসুর মতোই ইতিহাস এড়িয়ে যায় রাজা নীলাম্বরের মৃত্যু কে তবে তথ্য মতে গৌড় এর রাজা হুসেইন শাহ এর হাতে বন্দী হয়ে রাজার | রাজার মন্ত্রী শচীপাত্র নিজের সন্তানের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে হুসেইন শাহ কে দিয়ে আক্রমন করান কামতা সাম্রাজ্য, পরে সন্ধি হলেও শচীপাত্র র কুবুদ্ধিতে অন্দরমহলে রানীদের সাথে দেখা করার অজুহাতে বোরখা র আড়ালে সৈনিক রা প্রবেশ করে অতর্কিত আক্রমণে বন্দী করেন নীলাম্বর কে |
ওই অঞ্চলের মানুষের এখনো বিশ্বাস করেন যে রাজা নীলাম্বর এখনো মারা জান নি, তিনি 500 বছর ধরে দেবী মহামারীর আরাধনা করে তুষ্ট করে রেখেছেন দেবী কে,তাই ওই অঞ্চলে সর কোনো মড়ক লাগে না | কিন্ত গ্রামে কোন আট বছর বয়সী মেয়ে এলেই নাকি তাকে নিজের মেয়ে মনে করে কাছে টেনে নিতে চান নীলাম্বর | আর তখন ই দেবীর আরাধনায় ব্যাঘাত ঘটে আর গ্রামে শুরু হয় মড়ক |
গল্পের কাহিনী তে দেখা যায় কোচবিহারের গোসানমারি গ্রামে ভগ্ন কামতা সাম্রাজ্য কে ঘিরে তৈরী হওয়া আরকিওলজিকাল সাইটে পোস্টেড্ থাকা এক পুরাতত্ত্ববিদ কে পাঠানো হয়েছে ভারত বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ এর অন্তর্গত কামতা সাম্রাজ্যের অংশ গুলির পুনরুদ্ধিকরণ, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ সদর থেকে দক্ষিণে প্রায় চোদ্দ কিলোমিটার দূরে ধাপেরহাট বন্দর থেকে আরো 10 km দূরের এক গ্রামে |
গল্পের কথক তথা পুরাতত্ববিদ এর সাথে আসে তার মেয়ে যে জন্ম থেকেই মুক ও মা হারা এবং সাথে আসে দেখভালের কয়েকজন | আসার পর, নীলদরিয়া সংলগ্ন অঞ্চলে ইতিহাস পুনরুদ্ধার এর কাজ শুরু হলে কিছু দিনের মধ্যেই সেই আট বছরের বাচ্চা মেয়ের মধ্যে দেখা দেয় উদাসীনতা, যেন তার শরীরে বাসা বেঁধেছে কোন অন্য সত্ত্বা, মাঝে মাঝে সে উধাও হয়ে চলে যেতে থাকে কখনো নীলদরিয়া র একদম কিনারে কখনো বা মহামারী মন্দিরে | গ্রামেও শুরু হয় একের পর এক মৃত্যু | করো বুঝতে বাকি থাকেনা যে রাজা নীলাম্বর আবার জেগে উঠেছেন কারণ ওই আট বছরের মেয়ের মধ্যে বাসা বেঁধেছে রাজকুমারী কাঞ্চনমণির আত্মা | আর সেই ব্যাকুলতা তে বিঘ্নিত হচ্ছে মা মহামারী র আরাধনা | তাই রাজা তথা 500 বছর পুরোনো রাজার বিদেহী আত্মা কে ক্ষান্ত করার জন্য এক পুরোহিতের সাহায্যে কৃষ্ণ পক্ষের নবমীতে সমস্ত নিয়ম মেনে আয়োজন করা হয় দেবীর আরাধনার কিন্তু সেখানে স্নেহের বশে মেয়ের রূদ্রমূর্তি দেখে নিয়ম ভেঙে ফেলেন বাবা আর এক লহমায় উলোটপালট হয়ে যায় সবকিছু | তার ছোট্ট আট বছরের মেয়ের দৈতাকার রূপ ধারণ করে বেরিয়ে যায় মা এর মন্দির থেকে যা অনেকটা ই বিষ্ণুপুরের জোড়বাংলো মন্দিরের আদপে তৈরী | সেই প্রেতমূর্তির ধাওয়া করতে যেয়ে নীলদরিয়ার পাড়ে এসে ধস্তাধস্তি শুরু হয় শরীরী আর অশরীরী তে, শেষ মুহূর্তে অশরীরী কে কাবু করে ফেলার আগে জ্ঞান হারান সেই পিতা কিন্তু প্রবল দ্বন্দে ছোট্ট আট বছরের শিশুর দেহ নিস্তেজ হয়ে যায় | বাবা নিজেই প্রেতাত্মা কে দূর করতে গিয়ে হত্যা করে ফেলেন নিজের মেয়ে কে, ওদিকে মৃত্যু হয় পূজারীর ও |
গল্পের শেষে জেলে বসে সেই পিতার কান্না যেন হৃদয় বিচূর্ণ করে আমাদের | পিতার স্নেহ ইতিহাস এর কবলে পড়ে কোনোদিন মুছে যেতে পারেনা | এই গল্পে যেন যুদ্ধ আসলে দুই পিতা র মধ্যে | দুজন ই চায় নিজের আদরের মেয়েকে কাছে পেতে, সেই জন্য কেউ অপেক্ষা করে থাকে 500 বছর কেউ আবার সমস্ত অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাকে মাথায় করে জীবন দিয়ে লড়াই করেন অশরীরীর সাথে | সত্যি, পিতার স্নেহ যেন স্বর্ণর থেকেও উজ্জ্বল আর শতাব্দীর পর শতাব্দী তা জীবিত থাকে আলোর ন্যায় |
দেবারতি মুখোপাধ্যায় এর অসাধারণ রচনা এবং Mir Afsar Ali দা র গলায় সমস্ত জিনিসের অপূর্ব বর্ণনা যেন গল্পের গম্ভীর্য কে বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকখানি, সাথে দীপ দা ও.| বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার বর্ণনা, ঘন জঙ্গলে আলো আড়াল করা গাছ থেকে শুরু করে রাত্রি বেলার সুগভীর ও মায়াবী নীলদরিয়া র উপর নিকষ কালো অন্ধকার, জঙ্গলের সংকীর্ণ পথ আর আদিম গন্ধ যেন আরো অসাড় করে তোলে চারিপাশ কে |
আর সব শেষে কান্না ভেজা গলায় মীর দার সেই সাবধান বাণী!!
#SundaySuspense
#নীলাম্বরেরখিদে
#debaratimukhopadhay
#mirchibangla
✍️ প্রতিক্রিয়ায় আমি
Sharandeep Ghosh
September 7, 2021
3.5 stars
রংপুরে কি আসলেও নীলাম্বর রাজার বাড়ি আর নীল দরিয়া আছে?
সানডে সাসপেন্স এ গল্পটি শুনে বেশ যেতে ইচ্ছে করলো। চিন্তার ও কিছু নাই,কারন ৮ বছরের কোনো বাচ্চা সাথে নিবো না। আর যারা নিজেদের ৮ বছরের বাচ্চা কাচ্চা বা ভাই বোন নিয়ে নাজেহাল,তারা অবশ্যই তাদের নিয়ে রংপুর নীলাম্বর রাজার এলাকা ঘুরে আসবেন। 😆
রংপুরে কি আসলেও নীলাম্বর রাজার বাড়ি আর নীল দরিয়া আছে?
সানডে সাসপেন্স এ গল্পটি শুনে বেশ যেতে ইচ্ছে করলো। চিন্তার ও কিছু নাই,কারন ৮ বছরের কোনো বাচ্চা সাথে নিবো না। আর যারা নিজেদের ৮ বছরের বাচ্চা কাচ্চা বা ভাই বোন নিয়ে নাজেহাল,তারা অবশ্যই তাদের নিয়ে রংপুর নীলাম্বর রাজার এলাকা ঘুরে আসবেন। 😆
November 11, 2020
এই ২০২০ সালে এসেও ভৌতিক গল্প মানে যদি হয় অতৃপ্ত আত্মা, তাহলে আর কিছু বলার নাই। তাছাড়া ১২৮ পৃষ্ঠার বইয়ে ২টি উপন্যাস ও ১টি ছোট গল্প!! গল্প এবং চরিত্রের গভীরতা কতটা হতে বুঝতেই পারছেন। আজ থেকে ২৫ বছর আগে যখন স্কুলে পড়তাম তবে তখন হয়তো এই বই ভালো লাগতো। কিন্তু এখন আসলে ২★ এর বেশি দিতে পারছি না।
July 10, 2024
not bad..চলে যায় আরকি
February 17, 2020
কিশোরপাঠ্য এক অসাধারণ সংকলন।
দেবারতি মুখোপাধ্যায় পরিচিত তার versatility এর জন্য। বিগত বছর দেড়-দুই হল বাংলা সাহিত্যে হরর-তন্ত্র নিয়ে একটা জোয়ার এসেছে আর তরুণ প্রজন্ম বেশ লুটেপুটেই খাচ্ছে৷ আজকের এই বাংলা ভাষার দুর্দিনে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের মুখ যদি একটু হলেও এদিকে ফেরানো যায় তার থেকে ভাল আর কিই বা হতে পারে৷ আর এই যজ্ঞেরই অন্যতম কাণ্ডারী দেবারতি মুখোপাধ্যায়৷ এই বই তে দুটো উপন্যাস আর একটি গল্প রয়েছে৷
১) প্রথম উপন্যাস 'নীলাম্বরের খিদে' তে ইতিহাস, ভয়, ভালবাসার সমান্তরাল সহাবস্থান এর মাধ্যমে লেখিকা একটি বেশ সুন্দর উপস্থাপনা করেছেন৷ অপত্য স্নেহ ও ভয়ের মিশেল করা খুবই চাপের ব্যাপার, সেই ক্ষেত্রে শতভাগ সফল লেখিকা৷ মনে দাগ কাটার মত উপন্যাস৷
২) দ্বিতীয় উপন্যাস 'মোখা মুখি'-তে লোকশিল্পের প্রয়োজনীয় জিনিস মুখোশ ও তাকে ঘিরে প্রাচীন গ্রাম্য রীতি, উপদেবতা ও বারো বছর পুরোনো এক প্রতিহিংসার চরিতার্থের চ্যাপ্টার দারুণ ভাবে প্রস্ফুটিত করেছেন উনি৷
৩) গল্প 'শুভঙ্করের ফাঁকি'-তে বাংলার এক হারিয়ে যাওয়া গণিতবিদের আখ্যানের সাথে তার বংশধরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করা এবং সারা পৃথিবীখ্যাত এক গাণিতিক সমস্যার সমাধানের সূত্র এগিয়ে দেওয়া নিয়ে আবর্তিত এই গল্প৷
ভয় পাওয়ার সাথে যদি একটু অন্য ফ্লেভার আস্বাদন করতে চান এই বই অবশ্যপাঠ্য৷
দেবারতি মুখোপাধ্যায় পরিচিত তার versatility এর জন্য। বিগত বছর দেড়-দুই হল বাংলা সাহিত্যে হরর-তন্ত্র নিয়ে একটা জোয়ার এসেছে আর তরুণ প্রজন্ম বেশ লুটেপুটেই খাচ্ছে৷ আজকের এই বাংলা ভাষার দুর্দিনে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের মুখ যদি একটু হলেও এদিকে ফেরানো যায় তার থেকে ভাল আর কিই বা হতে পারে৷ আর এই যজ্ঞেরই অন্যতম কাণ্ডারী দেবারতি মুখোপাধ্যায়৷ এই বই তে দুটো উপন্যাস আর একটি গল্প রয়েছে৷
১) প্রথম উপন্যাস 'নীলাম্বরের খিদে' তে ইতিহাস, ভয়, ভালবাসার সমান্তরাল সহাবস্থান এর মাধ্যমে লেখিকা একটি বেশ সুন্দর উপস্থাপনা করেছেন৷ অপত্য স্নেহ ও ভয়ের মিশেল করা খুবই চাপের ব্যাপার, সেই ক্ষেত্রে শতভাগ সফল লেখিকা৷ মনে দাগ কাটার মত উপন্যাস৷
২) দ্বিতীয় উপন্যাস 'মোখা মুখি'-তে লোকশিল্পের প্রয়োজনীয় জিনিস মুখোশ ও তাকে ঘিরে প্রাচীন গ্রাম্য রীতি, উপদেবতা ও বারো বছর পুরোনো এক প্রতিহিংসার চরিতার্থের চ্যাপ্টার দারুণ ভাবে প্রস্ফুটিত করেছেন উনি৷
৩) গল্প 'শুভঙ্করের ফাঁকি'-তে বাংলার এক হারিয়ে যাওয়া গণিতবিদের আখ্যানের সাথে তার বংশধরকে বিপদ থেকে উদ্ধার করা এবং সারা পৃথিবীখ্যাত এক গাণিতিক সমস্যার সমাধানের সূত্র এগিয়ে দেওয়া নিয়ে আবর্তিত এই গল্প৷
ভয় পাওয়ার সাথে যদি একটু অন্য ফ্লেভার আস্বাদন করতে চান এই বই অবশ্যপাঠ্য৷
July 24, 2025
একজন লেখক বা লেখিকা সবচেয়ে বেশি খুশি হন যখন তিনি ছোটদের জন্য কিছু লিখতে পারেন। কারণ মন্দার বোসের কথায়, ছোটদের আনন্দ দিয়েও তো আনন্দ। আর এই ছোটরা যেমন অনাবিল আনন্দ পায় কমিক্স আর হাসির গল্প থেকে, তেমনই ভয়মেশানো আনন্দ অনুভব করে ভূতের গল্প আর ভয়ের গল্প থেকে। শিশু বয়স আর কিশোর বয়সের পাঠক-পাঠিকাদের বেশ পছন্দের একটি বিষয় হল রহস্যে মোড়া কাহিনী। লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের লেখা 'নীলাম্বরের খিদে' বইটি লেখিকা দুটি উপন্যাস ও একটি গল্প দিয়ে সাজিয়েছেন। 'নীলাম্বরের খিদে' ও 'মোখা-মুখি' উপন্যাস দুটিই ভৌতিক। দুই বাংলার দুই গ্রামীণ ধ্যানধারণা ও বিশ্বাসের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহও। এর পাশাপাশি 'শুভঙ্করের ফাঁকি' গল্পে লেখিকা এক দারুণ রহস্যের বাতাবরণ তৈরী করেছেন। অঙ্কপাগল দুই যুবকের এক আশ্চর্য রহস্যভেদের কাহিনী উঠে এসেছে এই গল্পের পাতায় পাতায়। রহস্য, ভয় আর ভূত - এই তিনের সংমিশ্রনে এই বইটি বেশ একটি কিশোরপাঠ্য হয়ে উঠেছে। তবে শুধুমাত্র ছোটরাই নয়, বড়রাও যদি রহস্যের অন্ধকারে ডুব দিতে চান তাহলে উল্টে দেখতে পারেন এই বইয়ের পাতা।
September 15, 2021
নীলাম্বর রাজার দেশে এসে আপনিও চক্রব্যূহে আবদ্ধ হয়ে পড়বেন যদি সঙ্গে থাকে আপনার আট বছরের মেয়ে, নীলদরিয়ার শীতল হাওয়ায় আপনি খুঁজে পেতে পারেন পুরোনো ইতিহাসের গন্ধ। কখনও বা খুঁজে পেতে পারেন মহামারী দেবীর মন্দিরে রক্ত জবার বিন্যাস।
এই গল্প শুধু ইতিহাস বহনকারী নয়, এই গল্প বাবা ও মেয়ের ভালোবাসা ও স্নেহের গল্প। গল্পের প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে আছে অশরীরী ছায়ার ছাপ। এই গল্পে অশরীরীর সাথে কয়েকটি নিঃস্বার্থ মানুষের লড়াই মনুষ্যত্ববোধের মন্ত্রকে আরও বেশি জাগ্রত করে তুলেছে।
গল্পের পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে পড়তে হবে।
আজ এ পর্যন্ত্যই। আবার আসবো অন্য কোনোদিন অন্য কোনো গল্পের রিভিউ নিয়ে।
✍🏼 সঞ্চালী রায়
এই গল্প শুধু ইতিহাস বহনকারী নয়, এই গল্প বাবা ও মেয়ের ভালোবাসা ও স্নেহের গল্প। গল্পের প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে আছে অশরীরী ছায়ার ছাপ। এই গল্পে অশরীরীর সাথে কয়েকটি নিঃস্বার্থ মানুষের লড়াই মনুষ্যত্ববোধের মন্ত্রকে আরও বেশি জাগ্রত করে তুলেছে।
গল্পের পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে পড়তে হবে।
আজ এ পর্যন্ত্যই। আবার আসবো অন্য কোনোদিন অন্য কোনো গল্পের রিভিউ নিয়ে।
✍🏼 সঞ্চালী রায়
July 16, 2023
'নীলাম্বরের খিদে' পড়া হল আজ। প্রতিটি মুহূর্তের, পলকের বিবরণ লেখিকা সুন্দরভাবে আকর্ষণীয় করে দিয়েছেন। তবে শেষটা অনভিপ্রেত ও বিষণ্ণ করে দিয়েছে, একটু অন্যরকম হলে ভালো হত। আর প্যারানর্ম্যাল ব্যাপারগুলোয় অস্বাভাবিক রকমের বাড়বাড়ন্ত লেগেছে; প্রেতের গলা টেপা (অশরীরী মানেই তো শরীর নেই!), ভূতের পিছনে দৌঁড়োনো ও তাকে ধরে ফেলা এগুলো নিয়ে কিছু বলার নেই। গল্পের বুনন বেশ সুন্দর, দেবারতির প্রতি লেখাতেই ভাষা খুব তরতাজা ও ঝরঝরে। আধুনিক গদ্যের সুন্দর উপস্থাপনা ও শব্দের উপযুক্ত প্রয়োগ ওঁর লেখার অন্যতম ইউএসপি। সানডে সাসপেন্সের শিল্পবোধে নূপুরের প্রতি তার বাবার চিন্তা ও সন্তানস্নেহ মিলেমিশে মাঝেমাঝে আবেগপ্রবণ করে দিয়েছে। সঙ্গে লেখিকার পারফেক্ট শব্দচয়ন ও এক্সপ্রেসিভ বর্ণণা।
ব্যক্তিগত রেটিং : ২.৫/৫
ব্যক্তিগত রেটিং : ২.৫/৫
Read
March 18, 2021বহুদিন পর কোন ভৌতিক উপন্যাস পড়ে এত ভালো লাগলো। বইটির প্রথম উপন্যাস নীলাম্বরের খিদে খুব ভালো , দ্বিতীয় উপন্যাস মোখামুখি জাস্ট অসামান্য এবং শুভঙ্করের ফাঁকি গল্পটিও খুব ভালো। বইটির দ্বিতীয় খন্ড কবে আসবে।
আপনার অন্য বইগুলো নিয়ে যতটা কথা হয়,নীলাম্বরের খিদে এই বইটা নিয়ে অতটাও কোথাও আলোচনা হয় না আমার মতে বইটি খুবই আন্ডাররেটেড। কিন্তু বইটি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে অসামান্য একটি বই বহুদিন পর কোন ভূতের গল্পের বই পড়ে এত ভালো লাগলো।লেখিকা দেবারতী মুখোপাধ্যায়েরকাছে আমার একটাই অনুরোধ বইটির দ্বিতীয় খন্ড নিয়ে দয়া করে একটু ভাববেন অনেক পাঠকই আছেন যারা ভূতের গল্প করতে খুব ভালোবাসে।🙏
আপনার অন্য বইগুলো নিয়ে যতটা কথা হয়,নীলাম্বরের খিদে এই বইটা নিয়ে অতটাও কোথাও আলোচনা হয় না আমার মতে বইটি খুবই আন্ডাররেটেড। কিন্তু বইটি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে অসামান্য একটি বই বহুদিন পর কোন ভূতের গল্পের বই পড়ে এত ভালো লাগলো।লেখিকা দেবারতী মুখোপাধ্যায়েরকাছে আমার একটাই অনুরোধ বইটির দ্বিতীয় খন্ড নিয়ে দয়া করে একটু ভাববেন অনেক পাঠকই আছেন যারা ভূতের গল্প করতে খুব ভালোবাসে।🙏
November 29, 2020
Strictly average. Peppered with many facts which takes away from the thrill of the stories. I have read much better modern horror in Facebook group pages.
The author should write a series of real life ghost encounters. She handles true crime really well and paranormal true stories should be right up her alley too.
The author should write a series of real life ghost encounters. She handles true crime really well and paranormal true stories should be right up her alley too.
July 5, 2020
This one contains three short stories.
December 10, 2020
Just Love it
March 22, 2021
Nice book... 3te golpoi valo legeche....sob milie khub valo... Kichu na jana jinis o jante petechi....
April 3, 2021
kharap na... tobe nilamborer khide chara seser duto golpo ekebarei chhoto.
September 7, 2021
অনেক দিন পর গল্পে পড়ে ভয় পেয়েছি।
এক কথায় অসাধারণ একটা গল্প।
এক কথায় অসাধারণ একটা গল্প।
September 16, 2021
Pretty interesting. I heard the audiostory on the "Sunday Suspense" series. A great mix of bengali folklore and fiction. Will definitely look into more works by the author
November 17, 2021
Headache
January 31, 2022
দেবরতি মুখোপাধ্যায়ের প্রথম বই আমার৷ হরর গথিক ধাঁচের৷ মোটামুটি ভাল লেগেছে।
January 31, 2022
Talk about plot twists and there you have debarati mukhopadhyay! What a beautiful story! I couldn't blink till I finished the last page.
Read
August 6, 2022Onekdin pore novel ti pore bhoi peyechii, osadharon golpo bola, well researched information.
February 16, 2023
এই ধরনের বইয়ের জন্য নেগেটিভ রেটিং থাকা দরকার, এই লেখিকা এত জঘন্য লেখা ক্রমাগত লিখেই চলেছেন...
March 14, 2023
Apnar nilamborer khide golpo ta osadharon laglo...erkm lekha bangla horror story khb e kom... Akta lekhatei apnar fan.. Waiting for more... Erkm style onkta Sidney Sheldon er lekhay peyechilm
April 6, 2023
মোটামুটি লেগেছে। গল্পের সমাপ্তি আরও মজার আশা করেছিলাম।
Displaying 1 - 30 of 37 reviews























