এই বইটি সাজানো হয়েছে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খিলাফত আমলের তিনটি দিক নিয়ে। এগুলোকে তিনটি পৃথক পৃথক অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে - ১.প্রশাসকদের পরিচালনা নিতীমালা ২.উমারের যুগে ইরাক এবং পূর্বাঞ্চল বিজয়াভিযান এবং ৩.সিরিয়া মিসর ও লিবিয়া বিজয়। এই বইয়ে এই তিনটি ক্ষেত্রে উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু কেমন জ্ঞান,প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সাথে সফলভাবে উম্মাহকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই বিষয়ই আলোচনা হয়েছে।
অধ্যায় গুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা- [ ] ১) প্রশাসকদের পরিচালনা নিতীমালা- আল্লাহর সাহায্যে খলিফা উমারের অধীনে দাওয়াত ও জিহাদের বদৌলতে ইসলামি রাষ্ট্রের আয়তন অনেক বৃদ্ধি পায়। এই বিশাল রাষ্ট্র আবার অনেক প্রদেশ দ্বারা সংগঠিত। আর এই প্রত্যেকটি প্রদেশ পরিচালনা করার জন্য নিয়োগ করা হয় একজন করে প্রশাসককে। যে নিতী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেই চলে আসছে।
যেমনঃ- কুফার প্রশাসক হোন সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, সিরিয়ার আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ, মিশরে আমর ইবনুল আস ইত্যাদি। এই অধ্যায়ে প্রশাসকদের কিভাবে নিয়োগ করা হতো, তাদের যোগ্যতার মাপকাঠি কি, তাদের উপর কি দায়িত্ব ছিল, খলিফা কেমন কড়া নজর তাদের গতিবিধির উপর। এমন সব বিষয়ই আলোচনা হয়েছে। খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু-এর অপসারণ, যা একটি বহুল আলোচিত বিষয়। এবং যেটা নিয়ে ইসলামের দুশমনেরা অনেক টানাহেঁচড়া করেছে। এই বিষয়ে অসাধারণ ব্যাখা দেয়া হয়েছে। তা ছাড়া সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ও আমর ইবনু আস রাদিয়াল্লাহু আনহুম-দের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গুলোর ব্যাপারেও খুব সুন্দর বিশ্লেষণ হয়েছে।
জনগনের প্রাপ্য হ্বক আদায় করা, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, গরিব-দুঃখি,আসহায়,বিধবা,এতিমদের দেখভাল করা, এসব বিষয় বাস্তবয়ান করতে প্রশাসকদের আদেশ দিতেন এবং তারা ঠিকঠাক মতো দায়িত্ব পালন করছেন কিনা তা খলিফা নিজেই তদারকি করতেন। সর্বোপরি আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা ও নবিজীর শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ভালোভাবে হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতেন যা এই গোটা খিলাফত ব্যবস্থা ও ইসলামি রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে।
[ ] ২) উমারের যুগে ইরাক ও পূর্বাঞ্চল বিজয়াভিযান- এই অধ্যায়ে পারাস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ইসলামী রাষ্ট্রের চূড়ান্ত বিজয় নিয়ে বিস্তার আলোচনা এসেছে। ঐতিহাসিক সব যুদ্ধ, সেতুর যুদ্ধ, কাদিসিয়ার যুদ্ধ, নেহাওয়ান্দের যুদ্ধ নিয়ে বিস্তর বর্ণনা এসেছে। যুদ্ধগুলোর বর্ণনা এতোই অসাধারণ ছিলো যে মনে হয়েছে নিজ চোখে সবকিছু দেখছি আর নিজে সবকিছু অনুভব করতে পারছি। এর মাধ্যমে পরিচয় হয় অনেক বীর মুজাহিদদের সাথে। তাদের সাহসিকতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রতি আগ্রহ নিজের মধ্যেও ঈমানী চেতনা জাগিয়ে তোলে। পরিচয় হয় এমন এক সেনাবাহিনীর সাথে যারা সারারাত ধরে কোরআন তেলাওয়াত করতেন আর সারাদিন করতেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। আল্লাহর সাহায্য তো তাদের জন্যেই। এই সব অভিযানগুলোর সর্বাধিনায়ক ছিলেন আমীরুল মুমীনিন উমার নিজেই। পদে পদে তিনি সব প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা,পরামর্শ আর উপদেশ দিয়ে গেছেন উনার সেনাপ্রধানদের। সর্বদা তাদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। বিনিময় করেছেন অসংখ্য চিঠি। যেগুলো থেকে কিছু এই বইতে তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো পড়লেই যে কেউ খলিফার যুদ্ধ শাস্ত্রের উপর জ্ঞানের গভীরতা সম্পর্ক সচ্ছ ধারণা পেয়ে যাবে। খলিফার আল্লাহর উপর ঈমান,ভরসা ও আল্লাহর ভয় এসব চিঠিপত্রে পরিষ্কার ফুটে উঠে। তিনি বারবার পাপমুক্ত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার উপর নিজের সেনাপ্রধানদের জোর দিয়েছেন। কারণ উনার দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো এতেই আল্লাহর সাহায্য ও কাংখিত বিজয় অর্জন করা সম্ভব।
এই অধ্যায়ের শেষে লেখক এই অভিযান গুলো থেকে আমরা কি কি শিক্ষা পাই তার অসাধরণ সুন্দর বর্ণনা দেন। যেটা পাঠ করলে একজন ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল জিহাদ সম্পর্কে খুব সহজে পরিষ্কার একটি ধারণা পেয়ে যাবেন। কোনো ভুল ধারণা থেকে থাকলে বা পশ্চিমাদের দেয়া জিহাদের সংজ্ঞা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকলে সে ভুলটাও ভাংগবে ইন শা আল্লাহ। জিহাদ কি শুধুই আত্মরক্ষার জন্য নাকি পুরো বিশ্ব জয় করে কুরআনের শাসনের আওতায় নিয়ে আসার নাম, অত্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখানে পেয়ে যাবেন ইন শা আল্লাহ!
[ ] ৩) সিরিয়া, মিসর ও লিবিয়া বিজয়- এই অধ্যায়ে বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের বিভিন্ন অভিযানের বর্ণনা এসেছে। দামেস্ক অভিযানে শীতের মৌসুমে অবরোধ অব্যাহত রাখতে পর্বতসম ধৈর্য ও সমর কৌশল অবলম্বনে অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে থাকা মুসলিম বাহিনী। এবং অবশেষে খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাহসিকতা ও অসাধারণ সমর কৌশলে আল্লাহর সাহায্যে মুসলিম বাহিনী বাইজেন্টাইনদের দূর্গ ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। আর এভাবেই দামেস্ক বিজিত হয়। এরপরে এভাবেই মুসলিমরা একে একে বাইজেন্টাইনদের বিভিন্ন অঞ্চল জয় করতে থাকেন।যেমন- হোমস,ফিহল,জেরুজালেম,সিজারিয়া ইত্যাদি। জেরুজালেম জয়ের ও তার অধিবাসীদের সাথে করা শান্তিচুক্তি বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ হয়েছে। বাইজেন্টাইনরা জোরদার ভাবে পুনর্ঘটিত হয়ে হোমস পুনঃ দখল করতে চাইলেও আল্লাহর ইচ্ছায় উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর কিছু সাহসিক ও দুরদর্শি পদক্ষেপের সামনে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপর বাকি অঞ্চলগুলো বিজয় করা ছিলো শুধু সময়ের ব্যাপার।
শাম ও হিজায ভুমি নিরাপদের উদ্দেশ্যে ও জনপদকে বাইজেন্টাইনদের জুলুমের হাত হতে রক্ষা করতে 'আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী মিসরের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। মিসরে প্রবেশ করে একের পর এক সব শক্তিশালী দুর্গ জয় করে অবশেষে আলেকজান্দ্রিয়ায় গিয়ে পৌছেন। কঠিন ধৈর্য ধরে দীর্ঘ কয়েক মাস অবরোধের পর আলেকজান্দ্রিয়ার বিজয় আসে। এরপর বারকাহ ও ত্রিপলিও বিজিত হয়। এইসকল অভিযানে খলিফা সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় সব দিকনির্দেশনা দিতে থাকেন।
এরপর আগের অধ্যায়ের মতো এখানেও এসব অভিযান থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়। যা থেকে আমরা দ্বীনের অনেক মৌলিক বিষয় নিয়ে শিক্ষা অর্জন করতে পারি। যা কেবল জিহাদের ময়দানে নয় জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনেক উপকারে আসবে ইন শা আল্লাহ। এরপর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর প্রভাব ও উনার শেষ দিনগুলোর দিকে মনোযোগ দেয়া হয়। বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয় উনার শাদাতের বেদনাদায়ক সে ঘটনাটি। যা পাঠ করা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য বেদনাদায়ক। অবশেষে বিভিন্ন সালাফ ও মনীষীদের উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত পেশ করে এ অসাধারণ বইটি সমাপ্ত করা হয়।
বইয়ের কিছু নেতিবাচক দিকঃ- ১.অতিরিক্ত ভুল রয়েছে বানানে।অনেক টাইপিং মিস্টেকও আছে। যা খুব বিরক্তিকর।
২.৩৭৬ পৃষ্টার একটি বই কোনো বুকমার্ক নেই!
৩.রেফারেন্সের দেয়ার এই পদ্ধতিটা একদম বাজে হয়েছে। প্রত্যেক অধ্যায়ের পর পর কয়েক পৃষ্ঠা নিয়ে শুধু রেফারেন্স। পড়ার সময় এগুলো খুঁজে দেখা যেকারো বিরক্ত লাগবে।
৪. ইহুদীরা একটি পাথরকে খুব সম্মান করতো কারণ তাদের বিশ্বাস ছিলো সে স্থানে ইয়াকুব আলাইহিসসালাম আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন। আর খলিফা উমারও সেই পাথরটি পরিষ্কার করে এর যত্ন নেন। এথেকে এই সমাধানে কিভাবে আসা যায় যে ইসলাম সব ধর্���কে শ্রদ্ধা করে? নিশ্চয়ই শিরকের সাথে সম্পৃক্ত কোনো কিছুর বেলায় এটা আর প্রযোজ্য নয়। এটা মূল বইয়েই এরকম নাকি অনুবাদে এভাবে এসেছে কারো জানা থাকলে জানাবেন। (পৃষ্ঠা-২৬৯)
অবশেষে, বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আল্লাহ কবুল করুন। বিশেষ ভাবে ড.আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি-কে। আর বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম মহামানব উমার বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উপর আল্লাহর অসংখ্য রহমত বর্ষিত হোক। আমীন। সকল প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর!!
Found some spelling mistakes, that is why I gave it a rating of 4. Collected the first part too. Will read it soon. But i must say it is a greatly written book with authentic details of the life of the sahabah. It is learning oriented, not just a book where we can know just the events. It focuses on the wisdom and teachings .