লেখিকার নিজস্ব ফ্যানবেইজ, উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরী, বিশ্বসাহিত্য ও বাংলা সাহিত্যের অলিগলিতে যারা প্রবেশ করেনি এমন পাঠকদের ভালো লাগবে। প্লেইন স্টোরি। সাহিত্যের অলঙ্কার জাতীয় কিছুই নেই। দুই বন্ধু গল্প করলে একজন আরেকজনকে যেভাবে একটা ঘটনা শোনায় অনেকটা তেমনই। স্টোরিও আহামরি কিছু না, খুবই কমন প্লট। সামহাউ লেখিকা ফেমাস হয়ে যাওয়ায় এসব বইয়ের হাইপ উঠেছে। এমনিতে এরকম টাইপের বই বাজারে প্রচুউউউউর পরিমাণ আছে, ইভেন এর থেকে ভালো কোয়ালিটির।
#বই_রিভিউ: বই: তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো লেখক: মৌরি মরিয়ম প্রকাশনী: অধ্যয়ন ধরণ: রোমান্টিক উপন্যাস পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৫ মলাট মূল্য: ২৭০ টাকা প্রকাশকাল: ২০১৯ কাহিনী সংক্ষেপ: "আমাদের ভালোবাসার মানুষেরা তো আমাদেরকে ভালোবাসবেই। কিন্তু তার গভীরতা আমাদেরকেই নির্ধারণ করতে হবে। ভালোবাসার মানুষের মনের মধ্যে যতটুকু খোঁড়া যাবে ভালোবাসা ততটুকু গভীর হবে। বেশি খুঁড়লে বেশি, কম খুঁড়লে কম।" 💜 (ফ্ল্যাপ থেকে) ছেড়ে যাওয়ার দশ বছর পর নিহিন জানতে পারে তাকে পাওয়ার জন্য তার বাবার কাছে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতেই চলে গিয়েছিলো কলরব। চার বছর পর ফিরেও এসেছিলো। কিন্তু ততদিনে নিহিনের বিয়ে হয়ে গেছে অন্য কারো সাথে। তারপর আর যোগাযোগ হয়নি দুজনের। দুজন দুজনের মত এগিয়ে গেছে সামনের দিকে। নিহিনের সংসারটা অবশ্য বেশিদিন টেকেনি। ডিভোর্স হয়ে যায় এক পর্যায়। এতবছর পর সত্যিটা জানতে পেরে অশান্তির ঝড় বয়ে যাচ্ছে নিহিনের মধ্যে। যে করেই হোক একটিবারের জন্য হলেও কলরবের সাথে কথা বলতে হবে। অনেক চেষ্টার পর খুঁজে পেলো কলরবকে। মন শান্ত হলো। কিন্তু..! কিন্তু কলরব ততদিনে এক ছেলের বাবা। এখন কি করবে নিহিন? আবার কি ফিরে পাবে নিজের পুরানো ভালোবাসাকে? জানতে হলে পড়তে হবে "তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো"। বই সম্পর্কে মতামত: লুতুপুতু টাইপ বাংলা সিনেমাতো অবশ্যই দেখেছেন। এবার একটু লুতুপুতু টাইপ বাংলা উপন্যাস পড়ুন। আপনার কি বফ/গফ আছে? তাহলে বইটির লেখা যেমন তেমন; উপস্থাপনাটা আপনার অবশ্যই ভালো লাগবে। সিঙ্গেলরা এই বই থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন। টাকা দিয়ে বই কিনে ছেঁড়ার কি দরকার। কেউ গিফট দিলে অন্য হিসাব। সর্বোপরি বইটা মোটামুটি লেগেছে। অন্যসময় হলে একেবারেই ফালতু লাগতো। কিন্তু এখন মোটামুটি লেগেছে। কোন কারণ নাই। পড়তে মন চাইলে পড়ুন। আপনার ইচ্ছা। #হ্যাপি_রিডিং
সুন্দর ঝরঝরে মিষ্টি প্রেমের খুনসুটি মার্কা লেখা। নায়িকার দ্বিতীয় বিয়ে আর নায়কের প্রথম - এই ব্যাপারটা সচরাচর দেখা যায় না আমাদের সমাজে। লেখক এটাকে তুলে এনেছেন বইয়ের খাতায়। আশা করি আমাদের সমাজটাও একদিন কলরব আর ওর পরিবারের চোখ দিয়েই দেখবে। মিষ্টি প্রেম কাহিনী হলেও এটা মুলত একটা ঝড়ের পর অস্ফুট আলোর গল্প। ঝড়টা লেখক স্কিপ করেছেন সংক্ষিপ্ত রুপে। তবে ভয়াবহতা অনুধাবন করতে পারলে বুঝা যায় কতটা ঝড় হয়েছে আর কতটা ঝরে গেছে। কতটা ক্ষত রয়ে গেছে মনের গহীনে। নিহিনের বাবা কলরবকে বলেছিলেন প্রতিষ্টিত হয়ে এরপর আসতে। এক প্রকারে তিনি বিয়েতে রাজি ছিলেন। তারপরেও কীভাবে হুট করে মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ফেললেন অন্য জায়গায় এটা আমার মাথায় ঢুকল না। এমন তো না যে তার মেয়ে আইবুড়ি হয়ে যাচ্ছিল। কিংবা তিনি খুব গরীব। মেয়েকে পড়াশুনা করানোর বা লালন পালন করার সামর্থ তার নেই। চাইলে তিনি মেয়েকে স্ট্যাবলিশ হওয়া পর্যন্ত সময় নিতে পারতেন। তার ধারণায় রাখা উচিত ছিল, কলরবের বয়সটা। ওই বয়সের একটা ছেলের চাকরি পেয়ে স্টেবল হতে কতটা সময় লাগবে সেটা হিসেবে রাখেননি তিনি। আধুনিক পরিবারের বাবার এমন দৃষ্টিভঙ্গি মোটেই কাম্য নয়। এভাবে একজনকে কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করেছেন বলেই তার শাস্তিটা তার মেয়ে পেয়েছে। তিনি নিজেও কী শাস্তি পাননি? সেইই তো শেষমেশ কলরবের হাতেই মেয়েকে তুলে দিলেন। কিন্তু মেয়ের জীবনে একটা দাগ ফেলে দিলেন। মেয়েটা যেখানে মা হয়েছিল... এরকম একটা ক্ষত কী কলরব কখনো মুছতে পারবে? না নিহিনের বাবা পারবেন? সব মিলিয়ে সুন্দর একটা বই কালেকশনের রাখার মতো।
কিছু বই পড়ার পর কাহিনি মাথায় গেঁথে যায়,আবার কিছু বই পড়া শেষে কাহিনির কথা ভাবতেও ইচ্ছে করে না।তবে দুনিয়াতে এমন কিছু বই আছে যা পড়ার পর আপনার মাথায় কাহিনি মশার মত ভন ভন করবে,আপনি চাইলেও তা ভুলতে পারবেন না। হ্যা, আমার সাথেও তাই হয়েছে! হৃদ মাঝারে রাখিব বইটা কি আসলেই হৃদয়ের মাঝে রাখার যোগ্য নাকি, হৃদয়ের ব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার যোগ্য তা বলার জন্য পুরো গল্পটাকে কয়েক লাইনে বলে নেই,কেউ দয়া করে রোমান্টিক গল্পে টুইস্ট খুজতে যাবেন না।
গল্পের সারসংক্ষেপ :
একটা মেয়েকে তার বাবা তার প্রাক্তনের ব্যাপারে ভুল তথ্য দিয়ে এক বড়লোক মাদকে আসক্ত ছেলের সাথে বিয়ে দেয়।সেই মাদকাসক্ত ছেলেটা তাকেও মাদকে আসক্ত করে,এমনকি বাচ্চাকেও নস্ট করে ফেলে।এরপর তার বাবা নিজের ভুল বুঝতে পেরে ডিভোর্স এর মাধ্যমে এই চাপ্টারের খতম করে। এরপর সেই মেয়েটির আবার প্রাক্তনের সাথে দেখা হয়,সম্পর্ক সুন্দর হতে থাকে।ছেলেটার আবার একটা ছেলে ছিল, যে তার নিজের বাচ্চা না।এখন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ছেলেটার জন্মদিনের দিন মেয়েটা সাদা শাড়ি পড়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়,ছেলেও রাজি হয়।লাস্টে মেয়েটার সাবেক স্বামী মেয়েটার নামে তার প্রাক্তনের কাছে মন্দ কথা বললেও সে কানে নেয় না।লাস্ট সিনে দেখা যায় তাদের বিয়ে হবে এই খুশিতে ছেলেটা গিটার বাজাচ্ছে।সুপার হ্যাপি এন্ডিং।
পাঠপ্রতিক্রিয়া :
প্রেমাতাল পড়ার পর যে বিরক্তি আর লজ্জা পেয়েছিলাম তা এই বইয়ে পেতে হয়নি,ইশারা ইঙ্গিতে সব বোঝানো হয়েছে।তবে ভাগ্যিস লেখিকা থ্রিলার আর ফ্যান্টাসি জনরায় লিখেন না! বইটা উপন্যাস না হয়ে ছোট গল্প হতে পারত,কিন্তু প্রচুর টানাটানি করা হয়েছে।গল্পের রোমা��্টিক দৃশ্যগুলো আসলেই হাস্যকর ঠেকেছে,সবচেয়ে বেশি মজা লেগেছে তখন যখন বইটা পড়ার পর মনে হয়েছে আমি যেনো হিন্দি সিরিয়াল দেখতেসি। যা ঘটেছে সব যেনো আগেই দেখা। দেজা ভ্যু এর মত ব্যাপার। যাইহোক,লেখিকার লেখনী এভারেজ,গল্পে প্রচুর প্লটহোল। কিছু পেইজ পড়ার পর মনে হবে, আসলে কেনই বা এসব লিখেছেন লেখিকা।সব কিছুতে হিন্দি সিরিয়ালের ফিল পেলেও বজ্রপাতের আওয়াজটা পাইনি,যাইহোক যে ঘটনা আমার কাছে ভয়ানক মনে হয়েছে, সেখানে আমিই বজ্রপাতের কথা ভেবেছি।
তার কিছু ফ্যানদের রিভিউ দেখে অনুপ্রানিত হয়েই তার গল্প পড়েছিলাম। এখন ভাবি যে সময়ে তার গল্প পড়েছি,সে সময়ে লেখাপড়া করলে, কষ্টের মুখ দেখতে হত না। যারা প্রচুর বই পড়েন,বই নিয়ে নিরীক্ষণ করেন তাদের জন্য এই বইটি না।বইটা পড়ে অযথা সময় নস্ট করার মানে নাই। যাদের মনে অতিরিক্ত ভালোবাসা,রোমান্টিক জনরা যাদের কাছে হৃদপিন্ডের মত তারা পড়তে পারেন।
যাইহোক, এই বইটি অতিরিক্ত সময় নস্টের মত সময় না থাকলে, না পড়ার অনুরোধ রইল।যারা নতুন পাঠক তাদের জন্যও এই বই সাজেস্ট করব না। ব্যক্তিগত রেটিং: ১/৫ ( ১ দিলাম প্রেমাতাল গল্পের মত ভয়ানক কার্যকলাপ না রাখার জন্য)
This entire review has been hidden because of spoilers.
এক বসায় শেষ করলাম! তার মানে এই না যে আহামরি কোনো বই। বইটির তিনটি উক্তি বেশ ভালো লেগেছে। প্রেমকাহিনী পড়ার সময় বাস্তবতা,কল্পনা এতো কিছু মাঝে মাঝে চিন্তায় আসেনা সাধারণত। তাছাড়াও সুখী বিবাহিত ব্যাচেলর বইটি আগে পড়ে ফেলায় এই বইটি সম্পর্কে যথেষ্ট স্পয়লার পেয়ে গিয়েছিলাম আগেই!
"তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিব ছেড়ে দিবোনা, ছেড়ে দিলে সোনার গৌড় আর তো পাবোনা!"
'প্রেমাতাল' বা 'অভিমানিনী'র তুলনায় লেখনী, ক্যারেক্টার বিল্ডিং ও প্লটলাইনে এই উপন্যাস এগিয়ে আছে। লেখিকার লেখার ও ভাবনার উন্নতি হচ্ছে বটে। লেস মিসোজিনি, লেস ইমপালসিম, লেস সিনট্যাক্স এরর।