কাল রাতে ক্লান্তদেহে কোয়ার্টারে ফিরে আবিষ্কার করলাম, সৃষ্টিসুখ কথা রেখেছে। বইমেলা উপলক্ষ্যে প্রকাশিত বইয়েরা মেলার মধ্যেই আমার কাছে পৌঁছে গেছে। তাদের মধ্যে আমার অন্যতম প্রিয় লেখক রূপঙ্কর সরকারের শীর্ণকায় গল্প-সংকলনটিও ছিল। আজ সকালে সেটা পড়া শুরু করলাম। শেষও হয়ে গেল দেখতে-দেখতে। কেমন লাগল, সেটাই এবার লিখছি। মোট এক ডজন ছোটোগল্প আছে এই বইয়ে। এরা হল: ১. চিরদিন ২. কালদুম ৩. ট্রামডিপোয় কাশফুল ৪. পাঁচটা তেত্রিশের ডাউন ট্রেন ৫. পেচ্ছাপখানা ৬. ওগো দয়াময় ৭. পথঘাট নিরাপদ নয় ৮. বিনির্মাণ ৯. বিস্মরণ ১০. খোঁড়া বক ১১. গল্প মানেই মিথ্যে ১২. তালা গল্পগুলো প্রথাগত আদি-মধ্য-অন্ত মেনে কোনো নিটোল কাহিনি আমাদের সামনে তুলে ধরে না। বরং শেষ পাতাটা উলটে ফেলার পরেও মাথায় যা থেকে যায় তা হল একরাশ অস্বস্তি আর প্রশ্ন। এই কাজটা করার জন্য লেখক দুটি অস্ত্র ব্যবহার করেছেন। প্রথমত, এদের প্লট নতুন করে বুঝিয়ে দিয়েছে - বাইরের টুকটুকে রঙের আড়ালে আমরা অনেকেই বোধহয় আসলে পচে গেছি। দ্বিতীয়ত, এদের কেন্দ্রীয় চরিত্রদের জীবনের বেশিটাই জুড়ে আছে না-পাওয়ার, পেয়ে হারানোর, বা পাওয়া জিনিস ভেঙে পড়তে দেখার ব্যথা। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল, সেই ব্যথা তাঁরা আদৌ অনুভব করেন বলে মনে হয়নি। কিন্তু পাঠক হিসেবে সেটা আমাদের কাছে পৌঁছে গেছে লেখকের মাচো গদ্য আর মরমি দৃষ্টির সমন্বয়ে। বইটা খুব সম্ভবত আমার 'ভালো লাগা' বইয়েদের শেলফে থাকবে না। এদের কাছে আবার ফিরে যাওয়াটা, ওই যে বললাম, অস্বস্তিকর। আর কে হায় সাধ করে অস্বস্তি বাড়াতে চায়? তবে এই গল্পগুলো আমি মনে রাখব (গব্বরের 'ইয়াদ রখুংগা তুঁঝে' স্মর্তব্য)। আপনারাও এদের পড়লে মনে রাখবেন। আমার মতো লোক হলে পড়তে-পড়তে গালাগালও দেবেন এই ভেবে যে ভদ্রলোক আরেকদফা 'অপ্রাকৃত' বা সত্যিকারের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ 'ধানাই পানাই' কেন লিখছেন না? যাইহোক... সুযোগ পেলেই পড়ে ফেলুন।