সেভেন্টি এম.এম.পর্দায় নায়ক-নায়িকার সঙ্গে রঙিন জগতে তো আমরা সবাই ভেসে যাই।নায়িকার সৌন্দর্যে,আবেদনে,নায়কের নিখুঁত-বলিষ্ঠ-মেদহীন চেহারায় আমরা ডুবে যাই... প্রেক্ষাগৃহ ভেঙে পড়ে আনন্দে-উল্লাসে।পর্দার ওপর রূপ-সৌন্দর্য-প্রসাধনে ঢাকা জীবন দেখা যায়।আমরাও মেতে উঠি বিনোদনে...
আচ্ছা,আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি,এই পর্দার আড়ালের কথা।পর্দার আড়ালেও নায়ক-নায়িকাদের জীবনটা কি এতটাই মসৃণ!এতটাই উজ্জ্বল!!
চলচ্চিত্র-জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এস.আর,সায়ন্তন রানা সিং।
অপরদিকে,
স্বনামধন্য স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞ ডক্টর সপ্তর্ষি রায়চৌধুরী।অনাবৃত নারী-শরীর তার কাছে নতুন কোনো বার্তা বহন করে আনে না আর।শিল্পী যেমন চিত্রপটে নিপুণ তুলির টানে জন্ম দেয় নতুন সৃষ্টির,তেমনই ডক্টর এস.আর. নারী-শরীরে ছুরি-কাঁচির অভ্যস্ত টানে,পৃথিবীর আলো দেখায় শত-সহস্র সদ্যোজাতকে....
বিশেষ একটি রোগীকে একদিন অপারেশন থিয়েটারে দেখে কেঁপে ওঠে তার হাত।থমকে যায় সে...কোনোদিনও এর আগে ওই চর্মচক্ষু এই নারীকে দেখেনি।তবে কে সেই নারী?যাকে দেখে কেঁপে উঠলো ডক্টর এস.আরের অন্তরাত্মা??
উত্তর কি খুবই সহজ?এই রহস্যের সমাধান হবে কি এই জন্মে?নাকি তার যোগসূত্র লুকিয়ে আছে অন্য এক এস.আরের অন্তরালে?
কি বলে ডক্টর এস.আরের নীলচে চোখের মণি?
কেন শত-সহস্র মানুষের ভিড়ে ওই নারীই তার এত পরিচিত?
কে এই সপ্তর্ষি রায়চৌধুরী?কি তার আসল পরিচয়?
সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে সমান্তরালের প্রথম অংশ "পর্দার আড়ালে" -তে...
এবং দ্বিতীয় অংশ হল "সমান্তরাল"।। দুটি উপন্যাস একই মলাটের মধ্যে।
দুমদাম করে যেকোনো বই হাতে তুলে নেওয়ার স্বভাব নিয়ে আমি নতুন করে কিছু বলতে চাইনা। এই ক্ষেত্রেও তাই। পুরোপুরি বাংলা মেগা সিরিয়ালের স্ক্রীপ্ট। সিনেমাও চালিয়ে দেওয়া যায়। কী নেই, প্রেম , ভালোবাসো, বিরহ, যৌনতা, এজন্ম-পরজন্ম, ত্রিকোণ সম্পর্ক! সব। যা যা, মেগা সিরিয়ালের জন্য প্রয়োজন সব। তবে মাঝে মাঝে জীবনে একটু অতিনাটকীয়তা দরকার । তাই পড়ে উতরে দিলাম আর কি :p !
কতবার যে পড়েছি বইটা, তার মনে হয় সংখ্যা বলা যাবে না। আরুশির ভালোবাসার গভীরতার প্রতি সম্মানে মাথা নত করেছি, এস আর এর উপলব্ধি, অনুভূতি আর ভালোবাসার তীব্রতা আর ভালোবাসার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়েছি বারবার, তার সবথেকে বড় মোনোলোগ টা কতবার যে পড়েছি, উফফফ, আর সেই অনুভূতি, বলে বোঝানো যাবে না। আর সপ্তর্ষি, সে তো যেন স্বপ্ন পুরুষ হয়ে উঠেছে, সপ্তর্ষির ভালোবাসা র পাগলপারা জোয়ারে ভেসে যাই প্রতিবার, যেন ভাটার টানের মতো নিজের ভালোবাসার আবর্তে সে আমাকে টেনে নিয়ে যায়.. সপ্তর্ষির নিজের ভালোবাসার উপলব্ধি যেন তার নিজেকে আবিষ্কারের এক যাত্রা.. আত্ম উপলব্ধির এক অন্য রকম দিক..
আর কিছু সিগনেচার লাইন, উফফফ, সেগুলো আর এখানে বলব না। কিন্তু এই বইটা শুধু একবার না বারবার পড়া যায়.. এটুকু আমার উপলব্ধি। সত্যিই, লেখিকা তার সাহসিকতা আর উন্নত মানসিকতার বহুল পরিচয় দিয়েছেন সমগ্র পাঠ্যে..
পর্দায় অভিনয় করা নায়ক নায়িকাদের দেখে আমরাও তাদের মতো ভেসে যায় রঙিন জগতে। তাদের জীবনটাই যেন আমাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য উৎসর্গিত… কিন্তু কখনো কি কেউ ভেবে দেখেছে এই রঙিন জগতের ওপারে তাদের জীবন কেমন?.. তারাও কি একই ভাবে আনন্দ নিয়ে বেঁচে আছে??.. চলচ্চিত্র জগতের এমনই এক উজ্জ্বল হল S.R. (সায়ন্তন রানা সিং).. জীবনে অনেক নারীসঙ্গ পেলেও প্রকৃত ভালোবাসার সন্ধান তিনি পাননি... কিন্তু হঠাৎ করে কি এমন হল যাতে তার জীবনের সব হিসেব উল্টে গেল?.. শুধুই কি সেটা ভালবাসা নাকি অন্য কিছু যা স্বাভাবিকভাবে বলে বোঝানো যায় না... জানতে গেলে পড়তে হবে প্রথম গল্প পর্দার আড়ালে।
বিখ্যাত Gynaechologist Dr. S.R. (সপ্তর্ষি রায়চৌধুরী), যার নিপুণ Surgery স্কিলে কত জীবনই না পৃথিবীর আলো দেখে, সেই স্বনামধন্য সার্জেন এর হাত কেঁপে ওঠে এক রোগীকে দেখে। কে সেই নারী?.. তিনি তো আগে কোনোদিন তাকে দেখেননি.. তাহলে কেন তার মনে হচ্ছে সে যেন কতকালের চেনা, যেন জন্মজন্মান্তরের পরিচিতি। এর উত্তর পেতে গেলে ফিরে যেতে হবে প্রথম গল্পে। এই রহস্যের কি সমাধান হবে এই জন্মে?.. নাকি S.R. এর মনের গভীরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো যোগসূত্র.. উত্তর পেতে গেলে পড়তে হবে পর্দার আড়ালের দ্বিতীয় অংশ সমান্তরাল।
পাঠপ্রতিক্রিয়া:-
পর্দার আড়ালের প্রধান চরিত্র S.R. ও আরুশি... তারা দুজন দুজনকে ভালোবাসলেও এক হতে পারেননি.. তাই গল্পের শেষটা অনেকটা মন খারাপ দিয়ে যায়। তিন ঘণ্টায় সব স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব আমাদের.. কিন্তু আমাদের স্বপ্ন!!!!.. তার কথা তো কেউ ভাবে না.. তিন ঘণ্টা পর কি একবারও কেউ ভাবে আমাদের কথা??.... সত্যি তাই, পর্দার আড়ালে অভিনেতাদের মনের অবস্থার খোঁজ কি কেউ রাখে?.. এখানেই SR এর ব্যক্তিত্বের সামনে ছোট হয়ে যেতে হয়। "ভালোবাসা ভালোবাসে শুধুই তাকে, ভালোবেসে ভালোবাসা বেঁধে যে রাখে".... সত্যিই সার্থক লাইন এই উপন্যাসে.. SR এর ভালোবাসার তীব্রতা ও আরুশির ভালোবাসার গভীরতা কে কুর্নিশ । আলাদা থেকেও ভালোবাসা যায় সেটা এই গল্প দেখালেও কোথাও গিয়ে যেন মেনে যায়না... তাই শেষে বলতে ইচ্ছে করে ---- SR ও আরুশি .. তোমাদের জন্য একবার হলেও সত্যি হোক জন্মান্তরবাদ ✨
সমান্তরালের প্রধান চরিত্র মূলত তিনজন --- Dr. SR, রূপসা ও অরুণিমা। রূপসা SR এর প্রেমিকা হলেও পরে সপ্তর্ষি বুঝতে পারে তার সাথে শুধু তার attachment টুকুই আছে, মনের টান যে কি সেটা সে বুঝতে পারেনি। সপ্তর্ষি যথার্থ প্রেমিক.. কিন্তু এখানে প্রেমিকের থেকেও আত্মোপলব্ধির এক অন্য দিক হল সপ্তর্ষি। কিন্তু এখানেও SR তার ভালোবাসাকে কাছে পান না শেষ পর্যন্ত। মৃত্যু কেড়ে নিয়ে যায় তাকে কিন্তু রেখে যায় তার এক অংশ আরুশিকে। দুটো মানুষ প্রথমে একসাথে থেকেও পরবর্তীতে তাদের রাস্তা আলাদা হয়ে যায় কিন্তু সেই রাস্তা হয় সমান্তরাল। জন্মান্তর বলে যদি সত্যি কিছু হয় তাহলে আরুশি পেয়ে গেছে তার SR কে।
তাহলে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় দুজন SR কে.. কিভাবে তারা একসাথে জুড়েছে তারই গল্প হল সমান্তরাল।
"ভালোবাসলে কাছে পেতে হবে এমন তো কথা নেই" - ঘুরিয়ে বলতে গেলে অনন্ত প্রেমের রাস্তায় হাঁটতে গেলে কখনো হয়তো সমান্তরালেও চলতে হতে পারে একসাথে। জানি আজকের দিনে এরকম সম্ভব, কিছুটা হলেও অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে ... তবুও একবার এই উপন্যাস পড়ে দেখার অনুরোধ জানায় আর সেই সাথে পারলে চরিত্রের সাথে কিছুটা নিজেকে একাত্ম করার চেষ্টা, নিরাশ হবেন না একটু আশা দিচ্ছি।