ইমতিয়াজ নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে ছিল, গ্লাইডারটা অনেকবার পরীক্ষা করা হয়েছে, নির্মেঘ আকাশ, চমৎকার আবহাওয়া কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা নেই, তবুও ইমতিয়াজের বুক ধকধক করতে থাকে। যথেষ্ট ওপরে ওঠার পর গ্লাইডারটিকে পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সেটি সত্যি সত্যি একটি পাখির মতো উড়তে থাকে। সোলার প্যানেল কাজ করা শুরু করায় প্রপেলার ঘুরতে থাকে এবং গ্লাইডারের বেগ প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটারে উঠে যায়।
আকাশের ওপর থেকে মিম খিল খিল করে হাসতে হাসতে বলে, "সুব্রত ভাই! আমি আর নেমে আসব না। সারা জীবন আকাশে থেকে যাব।"
Muhammed Zafar Iqbal (Bengali: মুহম্মদ জাফর ইকবাল) is one of the most famous Bangladeshi author of Science-Fiction and Children's Literature ever to grace the Bengali literary community since the country's independence in 1971. He is a professor of Computer Science & Engineering at Shahjalal University of Science and Technology (SUST). Before that, Iqbal worked as a research scientist in Bell Communication Research for six years until 1994.
Birth and Family Background: Iqbal was born on 23 December 1952 in Sylhet. His father, Foyzur Rahman Ahmed, was a police officer. In his childhood, he traveled various part of Bangladesh, because of his father's transferring job. Zafar Iqbal was encouraged by his father for writing at an early life. He wrote his first science fiction work at the age of seven. On 5 May 1971, during the liberation war of Bangladesh, the Pakistan's invading army captured his father and killed him brutally in the bank of a river.
Education: Iqbal passed SSC exam from Bogra Zilla School in 1968 and HSC exam from Dhaka College in 1970. He earned his BSc in Physics from Dhaka University in 1976. In the same year Iqbal went to University of Washington to obtain his PhD and earned the degree in 1982.
Personal Life: Iqbal married Dr. Yasmeen Haque in 1978. Yasmeen is the Dean of the Life Science Department, Head of the Physics Department, Provost of the Shohid Janoni Jahanara Imam Hall and a researcher at SUST. They have two children - son Nabil and daughter Yeshim. Yeshim translated the book Amar Bondhu Rashed (Rashed, My Friend) written by her father. Iqbal's elder brother, Humayun Ahmed, was the most popular author and film-maker of Bangladesh since its independence. Humayun died after a nine-month struggle against colorectal cancer on the 19 July 2012. His younger brother, Ahsan Habib, is the editor of the satirical magazine, Unmad and one of the most reknowned cartoonist of Bangladesh.
Academic Career: After obtaining PhD degree, Iqbal worked as a post-doctoral researcher at California Institute of Technology (CalTech) from 1983 to 1988. He then joined Bell Communications Research (Bellcore), a separate corporation from the Bell Labs (now Telcordia Technologies), as a Research Scientist. He left the institute in 1994 and joined the faculty of the Department of CSE of SUST.
Literary career: Iqbal started writing stories from a very early age. Iqbal wrote his first short story at the age of seven. While studying in the Dhaka University Iqbal's story Copotronic Bhalobasa was published in a local magazine. But, a number of readers at that time felt that the story was based on a foreign story. To answer this allegation, he later rewrote the story and published the story in collection of stories named Copotronic Sukh Dukkho. Since then he is the most popular writer both in Bengali Science-Fiction and in Juvenile Leterature of the country.
Other Activities and Awards: Zafar Iqbal won the Bangla Academy Award, the highest award in literature in Bangladesh, in 2004. Iqbal also played a leading role in founding Bangladesh Mathematical Olympiad. In 2011 he won Rotary SEED Award for his contribution in field of education.
অনেক বছর পর মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের নতুন বই পড়লাম। আমার পুরো ছোটোবেলার কেটেছে স্যারের বই পড়ে। এই দেশের, মানুষের আর পৃথিবীর প্রতি প্রায় ছেলেমানুষী একটা বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে কাজলের দিনরাত্রি, আমি তপু, নায়ীরা, বকুলাপ্পু, রাশা পড়ে। 'প্রজেক্ট আকাশলীন' পড়ে সেই ছোটোবেলার বইগুলোর কথা মনে পড়ে গেল। সত্যি বলতে খুব ইমোশনাল ফিল করছি। এতো অদ্ভুত লেগেছে বইটা!
বইটা যতই শেষের পথে এগিয়েছে আমার কনফিউশন ততই বেড়েছে। বইয়ের নাম প্রজেক্ট আকাশলীন, নামের উপর বড় বড় করে লেখা "বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী"। পুরো বইতে আমি ধৈর্য ধরে অপেক্ষায় ছিলাম কখন সাইফাই জিনিসপাতির দেখা মিলবে। ফার্স্টহাফ নিরামিষ যাওয়ার পরে সেকেন্ডহাফে স্পেসশাটল 'আকাশলীন-১' যখন অরবিটের দিকে যাত্রা শুরু করে আমি নড়েচড়ে বসেছি, ফাইনালি মুজাই'র টিপিক্যাল সায়েন্স ফিকশনগুলির মতো একটা স্পেসশিপ অ্যাডভেঞ্চার শুরু হইলো! কোনোমতে মহাকাশে গিয়েই একটা হাইপার ড্রাইভ মেরে স্পেস ট্র্যাভেল শুরু করে দিবে। তবে বলতেই হয় যাত্রার আগে আকাশলীন-১এ কোনো নিনীষ স্কেলে দশ মাত্রার বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান রোবট ঢোকানো হইলো না দেখে কিঞ্চিত আশাহত হয়েছিলাম। তাইলে এখন স্পেসশিপে মানুষ-রোবটের শ্রেনীবৈষম্য শুরু হবে কেমনে? শাটলে নিদেনপক্ষে সিডিসি টাইপ কোনো সেন্ট্রাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সও বসানো হয় নাই যে দুষ্ট এ-আই তার দৌরাত্ম্য প্রতিষ্ঠা করবে। ওমা কিয়ের কি দেখি মানুষ-রোবটের ক্ল্যাশ বা স্বৈরাচারী এ-আই তো দূরের কথা স্পেসশিপ অরবিটে গিয়েও হাইপার ড্রাইভ মারল না! আরো কনফিউজড হয়ে পড়লাম, তাইলে এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিতে ইন্টারস্টেলার স্পেস ট্র্যাভেল কিভাবে করবে? বুঝলাম নিশ্চয়ই সামনে অবধারিতভাবে এলিয়েন এটাক টাইপ কিছু আছে, তাই গল্পে হাইপার ড্রাইভের বা স্পেস ট্র্যাভেলের প্রয়োজন পড়তেছে না। চতুর্মাত্রিক মহাজাগতিক প্রাণীর সাথে আকাশলীনের অবশ্যম্ভাবী মোলাকাতের জন্য রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করতে থাকি। কিন্তু একপর্যায়ে মেজাজ খারাপ করে আন্দাজ পেতে থাকি আর মনে হয় কোনো চতুর্মাত্রিক মহাজাগতিক প্রাণী তার চেহারা দেখাবে না। আচ্ছা চতুর্মাত্রিক না হোক তবুও শেষ ভরসা হিসেবে না হয় গুড ওল্ড ফ্যাশনড ভয়ঙ্কর কোনো ত্রিমাত্রিক আকাশদস্যুই সই। মুজাই-সাইফাই স্পেস ট্র্যাভেলের মানটা অন্তত থাকুক। হা হতোস্ম্যি! শেষ মেষ তাও হইলো না। আমার খড়কুটোর মতো টিকিয়ে রাখা শেষ আশাটাকেও হতাশায় ভরাডুবি ঘটিয়ে রোবটবিহীন, এ-আইবিহীন 'আকাশলীন-১' হাইপার ড্রাইভ-স্পেস ট্র্যাভেল-এলিয়েন-স্পেস পাইরেট ইত্যাদি ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মার্কা কাজকারবারে বিন্দুমাত্র না জড়িয়েই একেবারে পানসে একটা বাস্তবসম্মত স্পেস অরবিটালের পর বায়ুমণ্ডলে একটা বাস্তবসম্মত রিএন্ট্রি মেরে দিলো। এইডা কিসু হইলো?! এইরকম নিখাঁদ বাস্তব বিজ্ঞানভিত্তিক নন-সায়েন্স ফিকশনি "বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী" কি এই জাতি চেয়েছিল??
আমার রেটিং: বাস্তবসম্মত বিজ্ঞানভিত্তিক বৈজ্ঞানিক ডেফিনিটলি নট-কল্পকাহিনী উপন্যাস হিসেবে - ৪.৫/৫
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বললেও পড়ার সময় মনে হচ্ছিল যেন সত্য ঘটনা পড়ছি! কেনার আগে ভেবেছিলাম বইটা বিশেষ ভালো হবে না, আগের মতই একই প্যাটার্নের কাহিনী হবে (স্টলে গিয়েও মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলাম সে কথা 🤭), কিন্তু পড়ে বেশ ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে আসলেই হয়ত এমন কিছু হয়ে যেতে পারে কয়েক বছর পর! বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লেখা দেখে হয়ত আরও বেশি ভালো লেগেছে!
স্যার চাকরি থেকে অবসর নেয়াতে মনে হয় অনেক সময় নিয়ে চিন্তাভাবনা করে বই লেখার সুযোগ পেয়েছেন, এবারের বইমেলায় তার নতুন বইয়ের সংখ্যাও কম। কম করে বই লিখুক কিন্তু সময় নিয়ে সুন্দর বই লিখুক এটাই চাই!
বইটা পড়ে যেমন আনন্দ হয়েছে তেমন ফ্ল্যাপে লেখা একটা কথা দেখেও খুব ভালো লাগল। ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক, কন্যা ড. ইয়েশিম ইকবাল, পুত্র ড. নাবিল ইকবাল! (সবার ডক্টরেট ই আবার আমেরিকা থেকে আমার জানা মতে!)
পুরো বইটা বেশ সুন্দর একটা হালকা হলুদ রঙের কাগজে ছাপানো হয়েছে। কাগজটা সুন্দর কিন্তু বইয়ের দাম অনেক বেশি! বাচ্চাদের জন্য লেখা যেহেতু, সাদা কাগজ দিয়ে হলেও দাম কম রাখা দরকার!
ছোটবেলা থেকেই মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার আমার প্রিয় লেখক।তার এমন কোনো বই নেই যেটা আমি পড়িনি। বইমেলায় নতুন কোনো বই বের হলেই সবার আগে সেটা কিনার জন্য উত্তেজিত হয়ে পড়ি। প্রজেক্ট আকাশলীন অসম্ভব ভয়ংকর সুন্দর ছিলো।আমি কেঁদেছি,হেসেছি,জীবনকে নতুনভাবে অনুভব করেছি। জাফর ইকবাল স্যারের সব বই��়েই কোনো না কোনো সূক্ষ্ম ম্যাসেজ থাকে।এই বইয়ে সেটা আরো প্রকটভাবে ছিলো।যে কেউ বইটি পড়ে মুগ্ধ হবে। নতুনভাবে বাঁচার গল্প,স্বপ্নের মতো উঁচু হওয়ার গল্প,সেই স্বপ্ন পূরণ করার গল্প। কিছু কিছু বই পড়েই মনে হয় আদরমাখানো চমৎকার একটি বই। প্রজেক্ট আকাশলীন সায়েন্স ফিকশন হলেও , সায়েন্সের কাঠখোট্টা দিকের পাশাপাশি ভাবনার এক চমৎকার রাজ্য বিরাজমান এখানে। বিজ্ঞানেও কিন্তু সাহিত্যের রস পাওয়া যা���়।
"Not just beautiful, though--the stars are like the trees in the forest, alive and breathing. And they're watching me." ― Haruki Murakami, Kafka on the Shore
- প্রজেক্ট আকাশলীন - ড. ইমতিয়াজ, তার স্বপ্ন রকেট বানানো। এদিকে এক বিশেষ কারণে সে বিদেশের জেট প্রপালশন ল্যাবের চাকরি ছেড়ে চলে আসেন দেশে, যোগ দেন এক বিশেষ রকেট উড়ানো বিষয়ক কম্পিটিশিনে। - মীম, টিনেজ এই মেয়ের ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে নভোচারী হওয়া। তাই সে ছোটবেলা থেকে এ বিষয়ে কঠিন অধ্যাবসায় শুরু করে। এ কাজের মাধ্যমেই সে যুক্ত হয় ড. ইমতিয়াজ এর রকেট উড়ানো বিষয়ক প্রজেক্টে । - কিন্তু এই কম্পিটিশন শুরু হবার পর থেকেই নানা জায়গা থেকে আসতে থাকে বাধা-বিপত্তি। এখন এইসব বাধা-বিপত্তি ছাপিয়ে ড. ইমতিয়াজ কি পারবে রকেট উড়াতে ? মীম কি পারবে মহাকাশচারী হতে ? তা জানতে হলে পড়তে হবে জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী "প্রজেক্ট আকাশলীন"। - "প্রজেক্ট আকাশলীন " মূলত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হলেও খুব বেশি সাই ফাই এলিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। বিজ্ঞানের যে সমস্ত টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে তার বেশিরভাগই মনে হয়েছে বাস্তবসম্পন্ন। (রকেট সাইন্স সম্পর্কে খুব বেশি জ্ঞান না থাকায় বাস্তবেও সব টার্মগুলো আছে নাকি তা বলতে পারছি না।) লেখার ভিতরে দেশের প্রতিও এক মানবিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। - "প্রজেক্ট আকাশলীন" এর চরিত্রায়ণের ভিতরে বেশিরভাগই টিপিক্যাল, এর ভিতরে মীম চরিত্রকে যা একটু ভালো লেগেছে।রকেট চালনা এবং এ সম্পৰ্কীয় বর্ণনা একটু কঠিন লেগেছে। ইম্প্রেসিভ সূচনা হলেও গল্পের শেষটা বেশ প্রেডিক্টেবল।কারিগরি দিক থেকে বইয়ের কাগজের মান, বাঁধাই ভালো ছিল। বইয়ের দাম লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর ব্র্যান্ড ভ্যালু অনুসারে দেওয়া হয়েছে। প্রচ্ছদশিল্পী আরাফাত করিমের করা প্রচ্ছদ এবং ভিতরের ইলাস্ট্রেশন দুটোই ভালো লেগেছে। - এক কথায়, শেষ ক বছরের ভিতরে লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর লেখা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী গুলোর ভিতরে প্রজেক্ট আকাশলীন একটু অন্য ধরনের লেগেছে।এবার কিছুটা হলেও ভিন্ন দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। যারা নিয়মিত লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী পড়েন এবং শেষ কয়েক বছরের লেখা পড়ে আশাহত তারা পড়ে দেখতে পারেন বইটি। আর যাদের লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী প্রচুর ভালো লাগে তাদের এ বইটি মিস দেয়া কোনভাবেই উচিত হবে না।
খুব বেশি আশা নিয়ে কোন কাজ শুরু করার একটা ভালো দিক আছে। কাজ টা যখন এক্সপেকটেশন এর চেয়ে ভাল ফলাফল দেয় সেই সময় মনটা একদম নিখাঁদ ভাল থাকায় ভরে যায়। প্রজেক্ট আকাশলীনের প্রচ্ছদ কালারফুল ( রঙ গুলা সুন্দর, হালকা প্যাস্টেল টাইপ রঙ ভাল লাগে ইদানীং খুব ) আঁকা পছন্দ হয়নি কিন্তু বইটা তারপরেও কিনে ফেলা হলো। কৈশোরটা দূর্দান্ত করে দেয়া লেখকের বই প্রতি বইমেলার পরই সংগ্রহ করা হয়। যাইহোক নিজের গল্প বলা বাদ দিয়ে বইয়ে যাই।
লেখক বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাইন্সফিকশন লেখা শুরু করেছেন। এই ব্যাপারটা আমার ভাল লাগে। অনেক কিছু রিলেট করা যায়। প্রফেসর ইমতিয়াজ আর ক্ষেপাটে রাফির মিলিওন ডলারের প্রজেক্ট 'আকাশলীন' মূলত রকেট বানানোর একটা প্রজেক্ট। বিদেশী একটা কম্পিটিশানের জন্য এই বিশাল প্রজেক্টে দেশের মেধাবী এক ঝাঁক তরুণ তরুণী উক্ত হয়ে যায় আর সেই সাথে যুক্ত হয় বাইপোলারে ভুগতে থাকা টিনেজ মেয়ে মীম। নানা রকম ঝড় ঝাপটা পেরিয়ে প্রজেক্ট আকাশলীন কি আসলেই সাফল্য পেয়েছিল তা জানার জন্য বইটি পড়তে হবে।
রকেট চালানোর ব্যাপার গুলো নিয়ে ডিটেইলে আলোচনা আমার বেশ ভাল লেগেছে। এমন ও হতে পারে এই ব্যাপার গুলো পড়ে সত্যি সত্যি কেউ যদি উৎসাহী হয়ে যায় , ব্যাপারটা মনে হয় দারুণই হবে।
আর আমাদের যখনই মনে হবে, এই দেশের আসলে কিছু হবেনা তখন -
"এই দেশের সব মানুষ পাগল.. . . এই দেশে কোন কিছু কাজ করে না, তবু কারো ভেতরে কোন রাগ নাই। সবাই খুশি। সবসময় খুশি। একটু বৃষ্টি হলে রাস্তাঘাট ডুবে যার। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সেই পানিতে ছপ ছপ করে হাঁটে কিন্তু মুখে সে কী হাসি। যেন কত মজা পাচ্ছে, পাগল না হলে এমন হয়?. .. পয়লা বৈশাখে সবাই রাস্তায়। কী কাঠফাটা রোদ তার মাঝে সবাই দরদর করে ঘামতে ঘামতে রবীন্দ্র সংগীত গাইছে। বই মেলার সময় সবাই লেখক। সবাই কবি। সবার হাতে একটা করে কবিতার বই। একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুরো দেশের সব ফুলের বাগান ফিনিশ। এক রাতে সব ফুল শহীদ মিনারে। পৃথিবীর আর কোন দেশে তুমি এটা পাবে?"
এই কথা গুলো একটু হলেও বুকের মধ্যে একটা আশা জাগায়। আমরা তো আসলে আশাতেই বাঁচি তাইনা?
This entire review has been hidden because of spoilers.
আসলে মনে হয় ৪ তারা দেয়া উচিত। ছোটবেলায় জাফর ইকবাল স্যারের বই এত বেশি ভালো লাগতো,গত কয়েক বছরের বইগুলো তেমন ভালো লাগেনি।পড়াও কমিয়ে দিয়েছিলাম,সবগুলো বই পড়িও নি।এই বইটা unexpectedly and exceptionally ভালো লাগলো।অনেকটা প্রথমবার টুকুনজিল পড়ার মত অনুভূতি হচ্ছিল (কাহিনীতে কোন মিল নেই,শুধু অনুভূতিতেই ) ছোটবেলার feeling relive করে যত আনন্দ পেলাম সেটার দাম পঞ্চাশ মিলিয়ন থেকেও বেশি 🙃🙃🙃🙃তাই পাঁচ তারা ♥️♥️
কাহিনি মোটামুটি। বিজ্ঞানভিত্তিক উপন্যাস, সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত। এটাকে কেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি বলে চালানো হলো, বুঝতে পারলাম না। জাফর ইকবালের নামটুকুই কি বই চালানোর জন্যে যথেষ্ট নয়? নাকি প্রকাশক ভরসা পাচ্ছিলেন না?
বইটা শুরুর আগে আমি নিশ্চিত ছিলাম আমি আরেকটা গতানুগতিক কারেন্ট বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক কল্পবিজ্ঞান পড়তে চলেছি। ঘটনা ভুল নয়, আসলেই তাই, কিন্তু কোনো এক কারণে বইটা ভাল লাগার মতো বেশ! মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার খুব যত্ন নিয়ে ডিটেইলসের সাথে বইটা লিখেছেন, আর সেটা রকেট সাইন্স নিয়ে।
খুব সম্ভবত আমার ধারণা, এই বইয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্���ক ইমতিয়াজ সাহেবের চরিত্রটি জাফর ইকবাল স্যার নিজের জীবনের অপূর্ণতা থেকে বানিয়েছেন। হয়তো তিনি যেটা করতে চেয়েছিলেন যেমনভাবে সেটা ইমতিয়াজের মাধ্যমে করে দেখিয়েছেন। বইয়ের আকাশলীনের সূচনা থেকেই আপনি বুঝতে পারবেন শেষে কী হবেই হবে। তারপরও বইটার এন্ডিং সুন্দর লেগেছে, আমি অপেক্ষা করছিলাম বর্ণনাটা কেমন হয় দেখবার জন্য। অন্যদের কেমন লেগেছে জানি না, আমার ভালো লেগেছে।
বিশ্বজুড়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, প্রাইভেটলি ছয় মাসের মধ্যে যে টিম বেসরকারিভাবে ইনোভেশনের মাধ্যমে স্পেস শাটল লঞ্চ করে একজন মানুষকে শূন্যে পাঠিয়ে তাকে আবার সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনতে পারবে, সে টিম পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের জেট প্রোপালশন ল্যাবের উচ্চ বেতনের চাকুরি ছেড়ে দেশে ফিরে আসা ইমতিয়াজ যোগ দেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে। স্টুডেন্টদের মাঝে তিনি নানা প্রজেক্ট ও বিভিন্ন কারণে জনপ্রিয়। কোনো একভাবে এক বাঙালি ভদ্রলোকের চাপে বাংলাদেশের টিমটার লিডের দায়িত্ব এসে পড়ে ইমতিয়াজের ওপর, তার স্ত্রী পুত্রকন্যা বাংলাদেশ সহ্য করতে না পেরে মার্কিন মুল্লুকে। বাইপোলার ছাত্রী মিম গোঁ ধরে বসে তাকেই পাঠাতে হবে মহাশূন্যে, সে বাঁচতে চায় না, বাঁচামরায় তার কিছু যায় আসে না।
জীবনানন্দ দাসের কবিতা আকাশলীনা থেকে প্রজেক্টের নাম হয় আকাশলীন। বঙ্গোপসাগরের এক চরদ্বীপে শুরু হয় টিমের কাজ। মারফির ল খাটে না এ বইতে, তাই আপনি সহজেই জানবেন হয়তো কখন কী হবে, কিন্তু কীভাবে ফুটিয়ে তোলেন লেখক, সেটাই ছিল দেখবার বিষয়।
পারিবারিক অশান্তি আর শান্তির ব্যাপারটা সুন্দর লেগেছে। ইমতিয়াজ যে জাফর ইকবাল স্যার নিজে সেটার পক্ষে এই লাইনটা বলতে পারি যেখানে ইমতিয়াজ ইমপ্লাই করছে, তারা ফেসবুকে সময় নষ্ট করে না, তাই কে কী বলছে তাদের নিয়ে তারা জানে না।
"এই দেশের সব মানুষ পাগল.. . . এই দেশে কোন কিছু কাজ করে না, তবু কারো ভেতরে কোন রাগ নাই। সবাই খুশি। সবসময় খুশি। একটু বৃষ্টি হলে রাস্তাঘাট ডুবে যার। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সেই পানিতে ছপ ছপ করে হাঁটে কিন্তু মুখে সে কী হাসি। যেন কত মজা পাচ্ছে, পাগল না হলে এমন হয়?. .. পয়লা বৈশাখে সবাই রাস্তায়। কী কাঠফাটা রোদ তার মাঝে সবাই দরদর করে ঘামতে ঘামতে রবীন্দ্র সংগীত গাইছে। বই মেলার সময় সবাই লেখক। সবাই কবি। সবার হাতে একটা করে কবিতার বই। একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুরো দেশের সব ফুলের বাগান ফিনিশ। এক রাতে সব ফুল শহীদ মিনারে। পৃথিবীর আর কোন দেশে তুমি এটা পাবে?"
সাড়ে তিন তারা দিলেও হত, কিন্তু চার তারা দিলাম কারণ বহুদিন পরে মুজাই-র একটা সাইফাই পড়ে বেশ ভাল লেগেছে। দ্রুত পড়লাম, ঘন্টাদেড়েকের বেশি লাগেনি।
অনেকে রিভিউতে লিখেছেন এটা সাইফাই কেন বুঝলাম না, সবই তো বাস্তবধর্মী কথাবার্তা। গল্পের সবথেকে বড় মোচড়টাই মনে হয় বাস্তবে সম্ভব না, ওইটুকু হতে গেলে সাইফাই হতে হত। মুজাই-র মানবিক সাইফাই লেখার উদাহরণ তো আগেও আছে, এই মুহূর্তে টুকুনজিল বা একজন অতিমানবী মনে পড়ছে। শেষ কৈশোরে একজন অতিমানবী পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম, কতদিন হয়ে গেল।
মুজাই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বা বিভূতিভূষণের মত কোয়ালিটির 'কালজয়ী' সাহিত্য রচনা করতে পারলেন কিনা, সে জবাব সময় দেবে। তাঁর সাম্প্রতিক কিছু লেখার সাহিত্যগুণ নিয়েও অনেকে বিতর্ক তুলতে পারেন। কিন্তু যে কোনো ক্রিয়েটিভ মানুষের একটি বড় গুণ, সম্ভবত সবচেয়ে বড় গুণের অভাব তাঁর লেখায় কোনোদিন দেখিনি। মানুষের জন্য, প্রকৃতির জন্য, পশুপাখিগাছপালার জন্য মায়া। আমাদের আজকের সময় থেকে এই জিনিসটা বড় দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে মনে হয়।
প্রেডিক্টেবল, ঠিক। কিন্তু প্রেডিক্টেবল হলেই ভাল লাগবে না, এমন কথা কে বলেছে?
এবারের বইমেলাতেই লেখকের প্রকাশিত 'আমার সায়েন্টিস্ট মামা'র তুলনায় অনেক গুণ ভালো আর ভিন্নধর্মী হয়েছে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হলেও পড়তে পড়তে মনে হয়, রাফির মতো মিলিয়ন ডলারের ফান্ডিং নিয়ে কেউ এগিয়ে অাসলে অার নিভৃতে কাজ করে যাওয়া দেশের মেধাবী তরুণ বিজ্ঞানীদের একত্র করলে হতাশায় ভারাক্রান্ত বাস্তবতার মাঝেও ' আকাশলীন প্রজেক্ট' এর মতো অাকাশকুসুম স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হয়তো অসম্ভব নয়! আর 'রাতুলের রাত রাতুলের দিন' এর চেয়েও এই বই অবলম্বন করে নির্মিত একটি বিগ বাজেটের চলচ্চিত্র দেখতে অাগ্রহী,বিদেশফেরত তুখোড় শিক্ষক ইমতিয়াজের ভূমিকায় সিয়াম বা নিশো আর নভোচারী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মীমের ভূমিকায় পরীমণি বা মেহেজাবীন থাকতে পারেন 😛
এই বই পড়ে আনন্দ পাবার মতো বয়স পাড় করে এসেছি। নিজের ইচ্ছায় কখনোই পড়া হতোনা। কিন্তু আমার এক টিনএজ ছোট্ট বন্ধু আছে। সে প্রতি সপ্তাহে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি থেকে বই আনে। তার টেবিলে সেই বই রাখাই থাকে। আর আমিও গোগ্রাসে সেই বইগুলো গিলে ফেলি।
বই পড়তে ভালোই লেগেছে। ভাবতে ভালো লাগে যে এমন ডেডিকেটেড, স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার! কিন্তু যখন নিজের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা মনে পড়ে, হতাশ লাগে। এমন কোনো টিচার ই চোখে দেখিনি৷ ত্রাস আর হতাশায় কেটে গেছে সময়টা। ক্রিয়েটিভ, ইনোভেটিভ কিছু ছিলো কি!
দেশে এমন শিক্ষক আছেন কিনা জানিনা। বইয়ের পাতায় আছেন। থাকুক নাহয় বইয়ের পাতায় ই।
মুজাইর লেখা পড়তে পড়তে একটা আন্দাজ তৈরি হয়ে গেছে বলে ঘটনাপরিক্রমা আগেই ঠিকঠাক ধরা যায়, গেছে। ব্যস্ত দিনকালের মধ্যে অধুনাবিচ্ছিন্ন, অতীতের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে একবিকেলের আড্ডা যেমন উষ্ণ আনন্দ দেয়, ভাদ্রশেষের বর্ষণমুখর দিনে এই বইটা অনেকটা তেমন অনুভূতি দিলো।
অনেকদিন পর মনে হচ্ছে লেখক আবার নতুনভাবে নিজেকে সপ্রতিভায় ফেরত পেয়েছেন। গত কয়েকবছর উনার সায়েন্স ফিকশন গুলো এক টাইপ মনে হয়েছে। আর আকাশলীন কে মনে হয়েছে সম্পূর্ণভাবে নতুন জেনার। এটাকে চাইলে কেউ সায়েন্স ফিকশন আবার কেউ চাইলে কিছু ভার্সিটি পড়ুয়া যুবক যুবতীদের আডভেঞ্চার বলে চালিয়ে দিতে পারে।
এই গল্পটি সায়েন্স ফিকশন জেনার এর মহাকাশে কোনো নতুন গ্ৰহের গল্প, অথবা এলিয়েনের গল্প, নাহয় রোবট অথবা ৫০০ বছর পর পৃথিবীর ঘটনা - এর কোনোটির মধ্যেই পরে না। আমি তাই এই গল্পকে সায়েন্স ফিকশন না বলে বিজ্ঞান অভিযান বলতে আগ্ৰহী।
গল্পের মূল বিষয় ছিল মহাকাশ জয় এর পরিকল্পনা ও মহাকাশ যাওয়ার অভিযান। সাথে ছিল একজন এর নভোচারী হবার অদম্য ইচ্ছের গল্প। পুরো গল্পটি নতুন নতুন বিজ্ঞান গবেষকদের পাগলামি করতে উৎসাহ দিবে। পাগলামি ছাড়া গবেষণা হয় না। গল্পের পুরো রকেট উত্তোলন নিয়ে। প্রথম অংশে একটি টেস্ট রকেট উত্তোলন করে বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র ছাত্রীরা।
দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে গল্পের মূল অংশ যেখানে একটি আন্তর্জাতিক রকেট উত্তোলন প্রতিযোগিতা তে অংশগ্রহণ এর প্রস্তুতি। প্রতিযোগিতাটি তারা জিতে নাই কিন্তু কেউ অখুশি না। কারণ টি বই পড়ে জানুন।
তবে সিনেমা বানানোর জন্য এই গল্পটি একটি অসাধারণ প্লট। খুব প্রয়োজনীয় বিষয় বইয়ের পৃষ্ঠা কোয়ালিটি (ছবিতে দেয়া আছে)। এই কোয়ালিটি এর পৃষ্ঠা পড়তে চোখে খুব আরাম লাগে।
Would have given this a 4 star, but the "happy ending" is just a little too ridiculous to accept. Loved the story up until the point where Mim survives the reentry. For a science fiction type story if has a touch of realism to it. The situation. consequence, the people, their behavior are all realistic. While most of the characters are glossed over, it was nice to see more thought going into multiple characters. Usually Jafar Iqbal books focus on one or at most 2 characters, so it was nice to see more characters. What was also refreshing is to see mainstream authors putting issues of mental illness and struggles forward for people to read and know about. This goes a long way to normalizing these issues and making the sufferers' challenge of assimilating into society a bit easier. But yes mim shouldn't have survived. It would still be a better ending, with out that. Also supposedly the PM wanted to meet mim or some such and she makes 0 appearances. Also not talked about is how the team just packs up and leaves in the middle of the project before the landing. I mean the island want just minutes from Dhaka. someone please explain how they managed to travel so.
This entire review has been hidden because of spoilers.
একজন সদ্য বিদেশফেরত শিক্ষক এর অনুপ্রেরনায় একদল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রী একটি রকেট নিক্ষেপ এর প্রজেক্ট পরিচালনা করে,যা অসাধারণ ভাবে সফল হয়। কিন্তু প্রশাসনিক ও বিভিন্ন কারণে এ জন্যে তাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়(কারণ এটা বাংলাদেশ)। এর মধ্যে এখানকার পরিবেশের সাথে মানিয়ে না নিতে পেরে উনার পরিবার বিদেশে চলে যায়। এর মধ্যে বিশ্বের একটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান দ্বারা একটি রকেট উৎক্ষেপণ প্রতিযোগিতার ঘোষণা করা হয়। হঠাৎ তিনি এই প্রতিযোগিতার জন্য একটি প্রজেক্ট এর পরিচালনার প্রস্তাব পান। এরপর কি হয়? তা জানতে এই বইটি পড়তে হবে।
একজন সদ্য বিদেশফেরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এর সংগ্রাম,একজন আধাপাগল মিলিওনিয়ারের স্বর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়া,অসাধারণ দলগত সাফল্য বা একজন বাইপোলার মেয়ের সারা দেশের…….সরি সারা বিশ্বের গর্ব হয়ে ওঠা,সব মিলিয়ে জাফর ইকবাল স্যার এর মাস্টারপিস গুলার মধ্যে এটা একটা। আমি তাই সবাইকে এটা পড়ার জন্য অনুরোধ করবো। ❤️
বইটা যে কতটা অসাধারণ সেটা না পড়লে বুঝানো কঠিন। শেষের লাইনগুলো হৃদয়ছোয়াঃ
"-এই দেশের সব মানুষ পাগল
-পাগল?
-হ্যা, তুমিও পাগল। এই দেশে কোন কিছু কাজ করে না, তবু কারো ভেতরে কোন রাগ নাই। সবাই খুশি। সবসমিয় খুশি। একটু বৃষ্টি হলে রাস্তাঘাট ডুবে যায়। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সেই পানিতে ছপছপ করে হাঁটে কিন্তু মুখে সে কী হাসি। যেন কত মজা হচ্ছে। পাগল না হলে এরকম হয়?
-না। হয় না।
-পয়লা বৈশাখে সবাই রাস্তায়। কঈ কাঠফাটা রোদ তার মাঝে সবাই দরদর করে ঘামতে ঘামতে রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইছে। বই মেলার সময় সবাই লেখক। সবাই কবি। সবার হাতে একটা করে কবিতার বই। একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুরো দেশের সব ফুলের বাগান ফিনিশ। এক রাতে সব ফুল শহিদ মিনারে। পৃথিবীর আর কোন দেশে তুমি এটা পাবে?
- মনে হয়না কোথাও পাবো
-তাহলে এই দেশে না থাকলে কোথায় থাকবো?"
This entire review has been hidden because of spoilers.
গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারের বইটি আমার বেশী ভালো লেগেছে। সায়েন্স ফিকশন বরাবরই আমার খুব প্রিয়। এই গল্পটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হওয়াতে আরো বেশী ভালো লেগেছে।
প্রজেক্ট আকাশলীন বাংলাদেশের একদল স্বপ্নবাজের গল্প। কিছু পাগলাটে মানুষ যাদের মধ্যে আছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা কিন্তু সবচেয়ে বেশী আছে দেশী মেধা। বইটা কাল্পনিক, কিন্তু পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো সত্যি ঘটনা। এতো সুন্দর করে লেখা, বার বার মনে হচ্ছিলো এমন যদি আসলেই হতো! হয়তো এক সময় এটাও সত্যি হবে। সেই দিনের অপেক্ষায় থাকলাম।
সত্যি কথা বলতে বইটা শুরু করার সময় আমার কোনো এক্সপেকটেশন ছিলো না। গত কয়েক বছর ধরে আমি তার নতুন লেখা পড়ি না। আমার ধারণা ছিলো তার গল্পের স্টক ফুরিয়ে গেছে, এবং তিনি তার পুরনো গল্প গুলোই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটু মিলমিশ করে নতুন বই বের করছেন :'3 কিছুটা রাগ, কিছুটা অভিমান নিয়েই তার নতুন বই কেনা বন্ধ করেছিলাম। তবে এই বইটা আমার সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছে। ক্লাস ৬/৭ এ পড়ার সময় তার বই পড়ে যেমন হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে গড়িয়ে পড়তাম কিংবা কেঁদেকেটে বালিশ ভিজাতাম, এই বইটা পড়ার সময় আমার অবস্থা ঠিক তেমনটাই হয়েছিলো। কয়েকটা বিষয় খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন তিনি এই বইতে, যেটা তার আগের বইগুলোতে কখনো চোখে পড়েনি।
বইটা ঠিক পাঁচ তারা পাওয়ার মতো না, কিন্তু এতোদিন পর আবার সেই স্কুলের carefree life এর স্বাদ দেওয়ার জন্য এটাকে এক তারা বেশি দেওয়াই যায়! 💙
অনেক দিন পর স্যারের অন্য রকম একটা গল্প পেলাম। যদিও তার লেখার সব কমন উপাদানই ছিল৷ কিছু পাগলামি, কিছু ডেডিকেটেড মানুষ, পরিমিত পরিমান দেশপ্রেম, দূর্দান্ত একটা ফিমেল লিড (এই বইতে অবশ্য দুইজন ছিল৷ মিম, তানিয়া দুজনই ঈর্ষনীয়), সহজ লেখনীতে সুখপাঠ্য কিছু নীতিকথা (যেমন, ৫০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে একটা মানুষকে বাঁচানো বেশি আনন্দের, অনেক কিছু স্যাক���রিফাইস করতে হলেও ফ্যামিলি ভ্যালু সবচেয়ে বেশি, পাগলামি করেও যদি খুশি থাকা যায় তবে পাগলামিই ভালো)। এই কমন প্যাটার্ন স্যারের প্রায় সব বইতেই থাকে। তারপরও এই বইটা আলাদা। একধাঁতের সায়েন্স ফিকশন টানা পড়ে আলাদা রকম 'ইকারাস' পড়ে যেমন আনন্দ পেয়েছিলাম প্রজেক্ট আকাশনীলেও তেমন আনন্দ পেয়েছি৷ 💙💙
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল শৈশবের নস্টালজিয়ার নাম,এখন স্যারের বই পড়তে বসি ছোটবেলার সেই গন্ধ খুঁজে পেতে আর জানি যে এক সিটিং এই প্রায় শেষ করে ফেলবো। বিদেশের মায়া ছেড়ে দেশকে ভালোবেসে খুব প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেই আন্তর্জাতিক মানের যেকোনো কিছু করা আমাদের দ্বারা সম্ভব।সুন্দর, গোছানো,ডিসেন্ট-প্রেসাইজ,ছোটবেলার যে স্বাদ আস্বাদন করতে প্রজেক্ট আকাশলীন পড়া,হয়তো ততটুকু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি,আগের বইগুলোয় যেমন পেতাম.. কিন্তু খারাপ লাগার মত কিছুনা। Afterall,it's from the person himself who kinda defined the genre science fiction for most of the Bangladeshi children. ও হ্যাঁ,এটা কিন্তু সাইন্স ফিকশন না!
Imtiaj’s feeling about the country matches mine. You know you can do better elsewhere still there is something that pulls you back to it. In addition, I think i could see Zafar Iqbal through this character.
The portrayal of mental health through the character Mim is something I find to be very important and possibly revolutionary in the Bangladeshi context.
Read the book in two days. Something I usually don’t. The ending could’ve been stronger, but still gave it a five star because the book touched me.
আমামে কেউ বইটা পড়তে দিলে ভালো হয়। বই এর পিডিএফ পাচ্ছি না কোথাও। জানি অনেকেই পিডিএফ এর বিপক্ষে। তবুও আমার বই পড়ার শখ পিডিএফ পড়েই মিটাতে হয়। সাভার,ঢাকা।( mobile no: pqyitywiiwi)