Jump to ratings and reviews
Rate this book

ও টু

Rate this book
যে অক্সিজেন ব্যতীত আমরা কয়েক মিনিটও বাঁচতে পারি না, সেই অক্সিজেনকে কুক্ষিগত করে ফায়দা লুটছে কোনও এক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। সেই সময়ের সেই পৃথিবীকে কি খুব বেশি অমানবিক ও অনৈতিক মনে হচ্ছে? পৃথিবীর চারভাগের তিন ভাগ জল। সকল প্রাণের উৎপত্তিস্থল এই জলও কিন্তু আমরা বিনামূল্যে পাচ্ছি না। অক্সিজেনের কিঞ্চিৎ হেরফের হলেই পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে অনেক প্রাণ। কে নিয়ন্ত্রণ করছে অক্সিজেনের এই মাত্রা? আদৌও কি কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে? না কী প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই এই চক্র চলমান? তাহলে কী বা কে সেই ‘প্রকৃতি’?

অক্সিরেট! ভিনগ্রহের কোনও বুদ্ধিমান স্বত্বা? না কী কালের গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া কোনও সভ্যতা? সৌরজগতের তৃতীয় এই গ্রহটিতেই কি হয়েছিলো আমাদের প্রাণের স্পন্দনের সূচনা? না কী আমাদের পূর্বপুরুষরা স্বর্গ-তাড়িত কোনও মহাপুরুষ? অস্থির হয়ে উঠেছে আলভেরো। পালিয়ে যাবে দূরের কোনও গ্রহে বা সময়ে? না কী বীভৎস শোষণের বিরুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবে সংগ্রামের? তবে কি আবার নতুন করে লিখতে হবে সভ্যতার ইতিহাস?

পুরাকীর্তি খননে পাওয়া মহাজাগতিক বস্তুটি কেন্দ্র করে দ্রুত গল্পের ঘটনা একের পর এক বাঁক খেয়ে এগিয়ে যেতে থাকে। উনসত্তরের চন্দ্র-বিজয়ের বছর; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ছোট একটি দল জড়িয়ে গেলেন শ্বাসরুদ্ধকর এক অনুসন্ধানে যখন পূর্বপাকিস্তান আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরণের অপেক্ষায়! অস্থির এই সময়ে পারবেন কি তারা তাদের অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে? হাজার হাজার বছর আগের অজানা কোনও এক সভ্যতার কোনও এক যুবকের সাথে কি সম্পর্ক বেলুচিস্তানের আজগর মালিকের?

উপন্যাসটিতে সমান্তরালভাবে এগিয়েছে কয়েকটি কাহিনীর স্রোত। সকল স্রোতের মিলন বিন্দুতে দুই বৃদ্ধ বিজ্ঞানী কি খুঁজে পাবেন তাদের সকল প্রশ্নের উত্তর? না কী সেই উত্তর আবার উন্মোচন করবে নতুন কোনও রহস্যের দ্বার?

182 pages, Hardcover

Published February 1, 2020

1 person is currently reading
50 people want to read

About the author

মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম এর জন্ম ১৯৮১ সালে নরসিংদী জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দেশে-বিদেশে। একজন সফল উদ্যোক্তা ও স্বপ্রতিষ্ঠিত কোম্পানির সিইও হিসেবে বর্তমানে প্রবাসজীবন যাপন করছেন লিবিয়াতে। শিক্ষাজীবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে ২০০৩ সালে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক।
লিখছেন দীর্ঘদিন থেকে। 'শান্তির দেবদূত' ছদ্মনামে সামহোয়ারইনব্লগে সায়েন্স ফিকশন লিখে যথেষ্ট জনপ্রিয়। অনলাইন জগতে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় দুই ডজন বিপুল পঠিত ও আলোচিত সায়েন্স ফিকশন গল্প-উপন্যাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার। লেখকের প্রথম সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস প্রজেক্ট প্রজেক্টাইল যথেষ্ঠ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘ও-টু’ লেখকের দ্বিতীয় সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস।
বিজ্ঞান, মানবতা, প্রেম আর প্রখর রসবোধের মিশেলে অনবদ্য লেখনিবৈশিষ্ট্য লেখককে বিশিষ্টতা দিয়েছে। তার লেখাগুলো সুখপাঠ্য ও চুম্বকধর্মী। লেখকের সায়েন্স ফিকশনগুলো বিজ্ঞানের নীরস কচকচানি নয়, বরং জীবনের প্রেম-কাম ও হাসি-কান্নার রসে সিক্ত।
-- By Tasruzaman Babu

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
15 (48%)
4 stars
13 (41%)
3 stars
2 (6%)
2 stars
1 (3%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 12 of 12 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,662 reviews421 followers
October 14, 2022
এক মহাজাগতিক বস্তুতে লিখিত আছে অত্যাশ্চর্য এক গল্প। যে গল্পে আছে অক্সিজেন কুক্ষিগত করা শাসকদল আর তার বিরুদ্ধে সংগ্রামরত এক জনগোষ্ঠীর কথা। যে গল্পটি উন্মোচিত হলে পৃথিবীর ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে।কী ঘটেছিলো সেই গল্পে তা জানতে উদগ্রীব চার তরুণ অধ্যাপক। দুই টাইমলাইন ধরে এগোনো কাহিনিতে আছে দারুণ সব মোচড় আর চিন্তাভাবনার খোরাক।
"লোলার জগৎ" এর পর আরেকবার লেখকের বিজ্ঞান কল্পকাহিনি পড়ে মুগ্ধ হলাম। বড় পরিসরে লেখা সুচিন্তিত ও গোছানো লেখা!!
বাংলা ভাষায় দীর্ঘদিন যাবৎ উৎকৃষ্টমানের বিজ্ঞান কল্পকাহিনি লেখা হচ্ছে না ভেবে আক্ষেপ ছিলো। দীপেন ভট্টাচার্যের দিতার ঘড়ি, বার্ট কোমেনের ডান হাত, অদিতার আঁধার আর মোহাম্মদ সাইফূল ইসলামের লেখা পড়ে সে আক্ষেপ অনেকটাই দূর হচ্ছে।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য ১: "ও টু" আমাকে "হাইলি রেকমেন্ড" করেছিলো প্রিয় দুই অনুজ অর্ক আর জয়।দুজনকেই ধন্যবাদ।)
(বিশেষ দ্রষ্টব্য ২ : বইটা কিনতে যেয়ে কেউ প্রচ্ছদের দিকে নজর দিয়েন না। দিলে বই না কেনার কিঞ্চিৎ সম্ভাবনা আছে।)

(১৪ মার্চ, ২০২২)
Profile Image for Farzana Raisa.
531 reviews238 followers
March 19, 2023
মাঝে মাঝে আমার মাথায় বিভিন্ন গল্পের প্লট ঘুর ঘুর করে। যদিও লিখে ফেলার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারি নাই বলে সেই 'দুর্ধর্ষ' প্লটগুলো মাথার মাঝেই অলস বাস করতে থাকে। আমার অলস মাথায় অলস বসে থাকা এরকমই একটা গল্পের প্ল্যান অনেকটা এরকম- পৃথিবী মানুষের অত্যাচারে জর্জরিত, দূষিত পরিবেশ। শাসকগোষ্ঠীর হাতে সাধারণ মানুষ জিম্মি। সেই সমাজে নূন্যতম মৌলিক চাহিদাটুকু পর্যন্ত কিনে নিতে হয় (এখানেও আমার কী পয়েন্ট ছিল অক্সিজেন) 😂 কিন্তু কোন কালেই তো মানুষকে দাবিয়ে রাখা যায়নি। শুরু হয় আন্দোলন, বিপ্লব। এই বিপ্লব স্বাধীন পৃথিবীতে স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকতে চাওয়ার, মন খুলে নি:শ্বাস নিতে চাইবার। ব্লা ব্লা ব্লা... 🥱🥱

এইবারের বই সব গুডরিডস ঘেঁটেঘুঁটে কেনা। লোলার জগৎ বইটার অনেক প্রশংসা শুনায় ভেবেছি এই বইটাই কিনব। পরে হারুন ভাইয়ের এক কমেন্টে দেখলাম লোলার জগৎ-এর চেয়েও নাকি বেশি ভালো 'ও টু' কিন্তু এই বই আবার অতটা আলোচনায় আসেনি। গুডরিডসে বইয়ের ডেস্ক্রিপশন পড়েও বেশ ভাল্লাগসে। আবার আমার মনে মনে থাকা প্লট নিয়ে লেখা দেখেও বেশ মজা লাগলো। কাজেই ভেবেচিন্তে 'ও টু'-ই কেনা হলো। ভালো লাগলে লেখকের অন্য বই কেনার অপশন তো রইলোই।

পাঠপ্রতিক্রিয়া যদি দেই, তাহলে বলব আসলেই খুব ভাল্লাগসে। দুইটা ভিন্ন সময়ের মধ্য দিয়ে গল্পটা এগিয়ে গেছে। অক্সিরেট ভার্সেস এন্টি অক্সিরেটদের ঝামেলা যখন তুঙ্গে তখন বর্তমান পৃথিবীর এক প্রান্তে ছোট্ট একটা দেশ তার ক্রাইসিস মোমেন্ট পার করছে। বাংলাদেশের জন্ম তখনও হয়নি কিন্তু অসন্তোষ, ক্ষোভ, শাসন, শোষণ আর বঞ্চনা মিলে ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে আরও বৃহৎ কিছু ঘটে যাবার অপেক্ষায়। একই পৃথিবী কিন্তু দুইটা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মানুষ একে অপরের মুখোমুখি। সময় ভিন্ন হলেও একটা ব্যাপারে দুইটি পক্ষই এক... শাসক আর শাসিত বা শোষিতের মাঝে বিরোধ, নিপীড়ক আর নিপীড়িতের মাঝে বিরোধ।
বইয়ের একদম শেষে এপেন্ডিক্স টাইপের একটা ছিল, কিন্তু বইটা এতো স্মুদলি লেখা হয়েছে যে পিছনের পেজে যেয়ে কি মানে সেসব পড়ে বুঝবার কোন প্রয়োজনই হয় নাই। স্টোরিটাও খুব ভাল্লাগসে। অবশ্য সন্দেহবাতিকগতস্থ মন বই পড়তে পড়তে মাঝে দিয়ে খুব বিশ্রি একটা সন্দেহ করা শুরু করেছিলাম 😂 পুরাটা না হইলেও আংশিক তো সত্য হইসে (এই ব্যাপারটা ক্লিয়ার করতে গেলে আবার স্পয়লার হয়ে যাবার আশংকা) আসলে মানুষের যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় মরণ কামড় দিতেও দ্বিধা থাকে না। এই বিপ্লব, স্বাধীনতা সবই আসে বহু প্রাণের বিনিময়ে, প্রচুর আত্মত্যাগের ফলে। যুগে যুগে এরকম মহৎপ্রাণ মানুষ আছে, ছিল বা থাকবে বলেই মানুষকে বশীভূত করে রাখা যায় না। হ্যা, শোষণ, বঞ্চনা এসবই হয়তো সাময়িক.. কিন্তু বৃহত্তর অর্থে মানুষ মুক্তিকামী একটা প্রজাতি। লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। ❤️
Profile Image for Samiur Rashid Abir.
218 reviews43 followers
April 7, 2024
মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম সাহেব সাই ফাই লেখার সময়ে অনেক ভিন্নভাবে চিন্তা করেন। লোলার জগৎ ভাল লেগেছিল। "ও টু" ও বেশ লাগল।
Profile Image for উচ্ছ্বাস তৌসিফ.
Author 7 books69 followers
June 16, 2020
বাংলাদেশে সবকিছুর ওপরেই ট্যাক্স। পৃথিবীজুড়ে পানি পর্যন্ত কিনে খেতে হয়। কখনো যদি প্রতিবার শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন কিনতে হয় আপনাকে? বাচ্চা নেওয়ার জন্য সন্তানের নির্দিষ্ট বয়সের অক্সিজেনের জন্য টাকা জমাতে হয় আলাদা করে? প্রতিটা পা যদি ফেলতে হয় অনুমতি নিয়ে? খুব তো অসম্ভব না। কী হবে তখন?

মহেঞ্জোদারোর প্রাচীন সভ্যতা থেকে আন্টিম্যাটার ফুয়েল, গ্র‍্যান্ডফাদার প্যারাডক্স থেকে শুরু করে টাইম ট্রাভেলের বেশ বিশ্বাসযোগ্য এক ব্যাখ্যা, অতীত থেকে ভবিষ্যৎ, ভালোবাসা, পরিবার ও সমাজ - জীবনের অনেকগুলো রূপ উঠে এসেছে ও টুর নিঃশ্বাস কিনে নেওয়া জীবন-যাপনের এই গল্পে।

গল্প বলার স্টাইল বেশ ভালো। সময় নিয়ে তার আগের গল্প-উপন্যাসগুলোর মতোই, এখানেও এক্সপেরিমেন্ট করেছেন, ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গল্পটা ফিরে এসে এমনভাবে সব কয়টা সুতো জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করেছে, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ও রোমাঞ্চ গল্প হিসেবে লেখক বেশ সাধুবাদ পাবেন।

অবশ্যই, খাঁটি বিজ্ঞান পাঠকরা কিছু কনসেপ্টকে অসম্ভব ধরে নিতে পারেন। কিছু খটকা লাগবেই। স্বাভাবিক। পৃথিবীর কোনো বই যেহেতু নিখুঁত নয়, এরকম কিছু টুকটাক সমস্যা তো থাকবেই। তবে ব্যাখ্যাগুলো যথেষ্ট চমকপ্রদ। হার্ড সাই-ফাই হিসেবে বেশ শক্তিশালী। ভালো লেগেছে।

অল্প কিছু বানান ভুল, প্রচ্ছদ ইত্যাদি নিয়ে আরেকটু কাজ করার সুযোগ আছে। এক প্রচ্ছদের জন্য এই বই হাতে নিতে ইতস্তত করেছেন অনেকেই, নিশ্চিত। তবে বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর পাঠকদের জন্য এটা রেকমেন্ড করব। ক্লিশে সাই-ফাই, কিশোর গল্প থেকে বেরিয়ে এসে রোমাঞ্চকর বিজ্ঞান কল্পনায় ডুব দিতে চাইলে ও টুর সাথে সময় মন্দ কাটবে না, এটুকু বলা যায় নিশ্চিন্তে।
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
May 6, 2020
Man has gone out to explore other worlds and other civilizations without having explored his own labyrinth of dark passages and secret chambers, and without finding what lies behind doorways that he himself has sealed. - Stanisław Lem, Solaris
-
ও টু
-
আলভেরো ওর্তেলা, মহাকাশযান প্রমিথিওস - ৫ এর চালক। তার মিশন ছিল যেকোনো এক অজানা নক্ষত্রকে বেছে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু যাত্রাপথে এক ব্ল্যাক হোলের সামনে পড়ে যায় সে। তাই তাকে নিতে হয় এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত।
-
সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার কিছুদিন আগে। আব্দুস সোবাহান, অজয় সাহা, মাসুদ হাসান নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক তাদের এক কলিগ আজগর মালিকের কাছে শোনেন এক অদ্ভুত যন্ত্রের কথা। তাই তারা চারজন মিলে শুরু করেন এ যন্ত্র নিয়ে গবেষণা।
-
অক্সিরেট, পৃথিবীর এমন এক সময়ে দুনিয়া দখল করে আছে যে সময়ে শ্বাস - প্রশ্বাসের জন্য নেয়া অক্সিজেন খুবই মূল্য��ান। সে কারণে তারা পৃথিবীজুড়ে তৈরি করেছে ভার্চুয়াল বক্স। এদিকে ভার্চুয়াল বক্সের বাইরে গঠিত হয়েছে এন্টি - অক্সারেট গ্ৰুপ। এ সময়ে এন্টি - অক্সারেট গ্রুপের কাছে আসে এক ত্রানকর্তা।
-
এখন আলভেরো ওর্তেলা কি অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের গবেষণা করা যন্ত্রটি আসলে কি? অক্সিরেট এবং এন্টি অক্সিরেটের এই যুদ্ধে জয়ী হবে কারা? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম এর সায়েন্স ফিকশন "ও টু"।
-
"ও টু" মুলত একটা সায়েন্স ফিকশন ঘরানার উপন্যাস। এবারের বইমেলায় প্রকাশিত মৌলিক থ্রিলারের পাশাপাশি বেশ কিছু সায়েন্স ফিকশনও পড়া হয়েছে। কিন্তু মৌলিক থ্রিলারের এভারেজ কোয়ালিটির তুলনায় সে ধরনের কোয়ালিটিফুল সাই ফাই বেশ কম পেয়েছি। সেদিক থেকে এই বইটি বেশ কোয়ালিটিফুল মনে হয়েছে। বইয়ের প্লট সাই ফাই হিসেবে বেশ ভালো। যেভাবে কাহিনী নন লিনিয়ারভাবে এগিয়েছে সেটিও ভালো লেগেছে।
-
"ও টু" বইয়ের চরিত্রের ভিতরে স্ট্যান্ড আউট চরিত্র হলো "আলভেরো ওর্তেলা"। বাকি চরিত্রগুলোও গল্পের সাথে ভালোভাবে মিশে গেছে। বইতে বেশ কিছু সায়েন্টিফিক টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগের ব্যপারে সম্যক ধারণা থাকায় বুঝতে তেমন একটা সমস্যা হয়নি। তবে কয়েকটি ইংরেজি শব্দ আরো ভালোভাবে (গ্রেভেটি - গ্রাভিটি),(বাইভ্রেটর-ভাইব্রেটর) পারিভাষিত করা যেত।
-
"ও টু" বইটির প্রোডাকশন বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে মেকআপ, কাগজ এবং বাধাঁই। তবে প্রচ্ছদ একেবারে সাদামাটা হয়ে গেছে কাহিনীর তুলনায়। বানান ভুলও কয়েকটা বাদে পাইনি।
-
এক কথায়, একটি চমৎকার মেথডিক্যাল সায়েন্স ফিকশন হচ্ছে "ও টু"। আমি বেশ সন্তুষ্ট বইটি পড়ে। সায়েন্স ফিকশন পাঠকদের বইটি ভালো লাগবে।
Profile Image for Kamruzzaman Amit.
14 reviews5 followers
June 1, 2020
What if….. আমরা মিথলজি সম্পর্কে যা জানি, তা আসলে সত্য ঘটনাই ছিল? ইতিহাস বিজয়ীদের দ্বারা অনেকখানিই বিকৃত হয়। আমরা মানব সভ্যতার খুব বেশি হলে পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস জানি। কিন্তু বিভিন্ন গুহায় চল্লিশ হাজার বছর আগের আঁকা ছবিও পাওয়া গেছে বিভিন্ন আর্কিওলজির গবেষণায়। তাহলে মানব সভ্যতার বয়স আসলে কত?

আমরা মনে করছি এখন পর্যন্ত এই প্রজন্মের মানব সভ্যতাই সবচেয়ে বেশি উন্নত। কিন্তু এমন কি হতে পারে না, আমরা আসলে নিজেদের খুব ওভাররেট করছি?

What if…. কয়েক লক্ষ বছর আগের মানব সভ্যতা আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত ছিল? রামায়নে যে রাবণের দশ মাথার কথা বলা হয়, এমন হতে পারে না সেই সময় অত্যন্ত উন্নত কোনো প্রযুক্তির দ্বারা অবিকল দশটা মাথা তৈরি করেছিল? যদি এমন হয়, সেসময়ের উন্নত প্রযুক্তিকে ইতিহাসে বিকৃত করতে করতে বর্তমানে মিথে পরিণত করা হয়েছে?

What if…. মানুষ আসলে এই গ্রহের কোনো প্রাণী না? পৃথিবীতে আসার আগে আমরা কোনো ভীনগ্রহের বাসিন্দা ছিলাম? ইসলাম ধর্ম মতে, মানুষ আসলেই এই গ্রহের প্রাণী না। তারা এসেছে বেহেশত থেকে। তবে সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।

বইয়ের ছবি দিয়ে এসব উদ্ভট কথা কেন বলছি? কারণ ‘ও টু’ সায়েন্স ফিকশন বইটা পড়তে গিয়ে যা ভালো লেগেছে, তা হচ্ছে এসব সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা। এখানেই একটা বইয়ের সার্থকতা, যদি তা চিন্তা করতে শেখায়। একটা ঘটনাকে খুব সরলভাবে না দেখে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে পারার মজাই আলাদা।

বইয়ের কাহিনী আবর্তিত হয় মহাকাশে হারিয়ে যাওয়া এক নিঃসঙ্গ নভোচারী আলভেরোকে নিয়ে। সে মানুষ বসবাসের উপযোগী গ্রহের খোঁজ করতে গিয়ে টাইম লুপের মধ্যে আটকে যায়। সে এসে পৌঁছায় ছয়শ বছর পরের এক পৃথিবীতে, যেখানে এসে দেখে ভয়াবহ অবস্থা! আমরা যে অক্সিজেনকে taken for granted ধরে নিয়ে শ্বাস নেই, সেই অক্সিজেনকে যদি আমাদের টাকা দিয়ে কিনে জীবন চালাতে হয় তাহলে কেমন হবে? হ্যাঁ, আলভেরো এসে দেখে অক্সিরেট নামের এক শাসক গোষ্ঠী এভাবেই মানুষকে শোষণ করছে! প্রতিটি দিন চালাতে হয় কাজ করে করে অক্সিজেন পাওয়ার মতো ক্রেডিট জমিয়ে। সন্তান নেয়ার জন্যও বড় অঙ্কের ক্রেডিট দেখাতে হয়।

সাধারণ্ মানুষ কি অক্সিরেটদের শোষণ মেনে নিয়েই চলতে থাকে? না, গোপনে তাদের বিরুদ্ধে এন্টি-অক্সিরেট বাহিনী গড়ে উঠে। তারা অক্সিরেটদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের প্রস্তুতি নেয়। এই এন্টি-অক্সিরেটদের সাথেই আলভেরোর পরিচয় হয়। তারা মনে করে আলভেরোই হচ্ছে তাদের ত্রানকর্তা। আলভেরোকে নিয়ে তারা স্বপ্ন দেখে অক্সিরেটদের নির্যাতন থেকে মুক্তির। কিন্তু উন্নত প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ অক্সিরেটদের সাথে তারা কি পারবে যুদ্ধে জিততে?

খুব ক্লিশে লাগছে? যদি মনে করেন, গল্পটা শুধুই এভাবে এগিয়েছে তাহলে ভুল হবে। একইসাথে কয়েকটা টাইমলাইনে এগিয়েছে গল্প। অক্সিরেটদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের পাশাপাশি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়টাও উঠে এসেছে। পড়ার সময় আলভেরোর অভিযান সফল হয়েছিল কিনা তার চেয়ে বেশি প্রশ্ন মাথায় আসবে আলভেরোর অভিযানটা কবে কোথায় হয়েছিল। আরও অনেক প্রশ্নের উদ্রেক করবে যা বইটা ভালো লাগতে বাধ্য করবে।

বইটা গতানুগতিক বাংলা সায়েন্স ফিকশনের মতো শুধু বৈজ্ঞানিক তত্ত্বনির্ভর নয়। অনেকে বই জুড়ে শুধুই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে থাকেন। কিন্তু সেটা আর ফিকশন থাকে না। মনে হয় গল্পের ছলে কেউ বৈজ্ঞানিক কোনো তত্ত্ব পড়াচ্ছে! সেদিক থেকে সাইফুল ইসলাম ভাইয়ের লেখা ‘ও টু’ এই দোষ থেকে মুক্ত। আবেগ, দর্শন, রাজনীতি নিয়ে অনেক প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তবে কিছু গতানুগতিকতা থেকে বের হতে পারেনি। যেমন- আলভেরো ছোটবেলাতেই মাকে হারিয়েছে। বাংলা বা বাইরের সাহিত্য, প্রায় ক্ষেত্রেই প্রোটাগনিস্ট চরিত্র কেন অনাথ হওয়া লাগবে? যাদের বাবা-মা জীবিত থাকে, তাদের জীবনে কি কোনো দুঃখ নেই? এই জিনিসটা ক্লিশে হয়ে গেছে।

বানান ভুল ছিল বেশ। তবে এটাকে এখন আর গুরুত্ব দেই না। কারণ বাংলা একাডেমি দুই দিন পর পরই বানানের নিত্য-নতুন নিয়ম চালু করে। তাছাড়া ভাষার বিবর্তন এসব ভুলের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ভুল খুব চোখে লেগেছে। যেমন- ‘শাসক’কে বারবার ‘শাষক’ লেখা। ফিনিশিংটা ভালো হলেও আমি যেভাবে আশা করেছিলাম সেভাবে হয়নি। হয়তো অন্যদের ভালো লাগবে। প্রচ্ছদটা একাডেমিক বইগুলোর মতো হয়ে গেছে, তবে ভেতরের পৃষ্ঠাগুলো দারুণ।

বাংলা সায়েন্স ফিকশন নিয়ে খুব অল্প কাজ হয়। তার মধ্যে ভালো কাজ হয় শুন্যের কোঠায়। তাই বলে গার্বেজ বইকে প্রমোট করা কখনো উৎসাহিত করব না। তবে এই বইটা সেটা ডিজার্ভ করে। বইমেলার বইগুলোর মধ্যে এটা নিঃসন্দেহে পড়ার মতো একটা বই।
Profile Image for Jheelam Nodie.
314 reviews12 followers
March 12, 2022
শেষের টুইস্টটা আসলেই অপ্রত্যাশিত ছিলো
Profile Image for Mohaiminul Bappy.
Author 11 books124 followers
February 23, 2020
ও টু (O2)
মোহাম্মদ সাইফূল ইসলাম

একজন নভোচারী দীর্ঘদিন পর পৃথিবীতে এসে দেখল, পৃথিবীটা তার আর পরিচিত গন্ডির মধ্যে নেই আর। বদলে গেছে অনেক কিছু। পৃথিবীতে নামার পরেই সে মহাবিপদে পড়ে গেল। পৃথিবীর ক্ষমতাশালী কিছু মানুষ রীতিমতো কুক্ষিগত করে রেখেছে এখানকার সব রকমের সম্পদ, এমনকি অক্সিজেনও। তৈরি হয়েছে বিদ্রোহী গ্রুপ, অত্যাচারি শাসহ গোষ্ঠী এবং আমজনতাশ্রেণী! এতকিছুর মধ্যে নভোচারীর ভূমিকা কি হবে, সেটা একটা প্রশ্ন বটে! অদ্ভুত ভাবে নভোচারী এসব ঝামেলার মধ্যে জড়িয়ে যায় এবং এরপর ঘটতে থাকে রোমহর্ষক সব ঘটনা! ওদিকে স্বাধীনতা যুদ্ধ পূর্ববর্তী বাংলাদেশে কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক যখন ক্যান্টিনে চা খেতে খেতে তুমুল আলোচনা জুড়ে দিচ্ছিল রাজনীতি ও দেশ নিয়ে, তখন এক অচেনা তরুন এসে অংশ নেয় তাদের আলোচনায় এবং অদ্ভুত এক গল্প ফেঁদে বসে। এমন একটা সভ্যতার কথা সে বলে, যা হারিয়ে গেছে বর্তমান সভ্যতা আসার অনেক আগেই, কিন্তু সে সভ্যতা ছিল বর্তমান সভ্যতার চেয়ে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অনেক উন্নত! সেই সভ্যতার গল্প করতে করতেই ওরা আবিষ্���ার করে ফেলে ভয়াবহ এক সত্য! অচীরেই পৃথিবীতে নেমে আসছে কি ভয়াবহ বিপদ, তারা আঁচ করতে পারে। সমান্তরাল ভাবে চলতে থাকে এই গল্প এবং অপ্রত্যাশিত ভাবে এক হয় এক বিন্দুতে এসে, থাকে পিলে চমকে দেওয়া টুইস্ট!

পুরা উপন্যাসে কোথাও এক ছটাক মেদ নেই, নেই কোন অনাহুত বর্ণনা, এক ছটাক অপরিপক্ক্বতা নেই কোথাও। বরং রয়েছে অসাধারণ লেখনী, সাবলীল বর্ণনা, তাত্ত্বিক বিজ্ঞান ও কল্প-বিজ্ঞানের দারুণ সংমিশ্রণ! সাইফাইপ্রেমীদের জন্য খুবই ভাল একটা বই। একদম মেথডিক্যাল সাইফাই বলা চলে এটিকে। যেমন প্লট থাকা উচিত, তেমন প্লট আছে। আছে তেমন প্রযুক্তির ব্যবহার। আন্তর্জাতিক মানের একটা কল্পগল্প বলা চলে এটাকে।

অল্প যে ক’টা নেতিবাচক বিষয় নিয়ে কথা বলা যায়, তাহলো- মানুষের আবেগ নিয়ে যে অংশগুলো আছে, সেখানে আরেকটু গভীরভাবে লেখা যেত। দুয়েক জায়গায় এ কারণে সামান্য কাটখোট্টা মনে হতে পারে। আর টুইস্টটা আমি কিছুটা অনুমান করতে পেরেছিলাম আগে। হয়তো লেখকের আগের গল্পগুলো আমার পড়া ছিল তাই। যদিও শুধুমাত্র টুইস্ট নির্ভর উপন্যাস নয় এটি।

পুরো উপন্যাসটা চমৎকার লেগেছে আমার কাছে।
Profile Image for Opu Tanvir.
113 reviews3 followers
February 9, 2020
কাহিনীঃ সময় টা বাংলাদেশের সূচনা লগ্নে । ১৯৬৯ সাল । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ভাষাতত্ত্ব বিভাগের লেকচারার আজগর মালিক । জয়েন করেছে কয়েক মাস হয়েছে । শিক্ষকদের ক্যান্টিনে আড্ডা দেওয়া রত অজয় সাহা সহ আরও কয়েকজন শিক্ষকের সাথে তার পরিচয় হয় । কথায় কথায় জানতে পারে যে মহেঞ্জোদারো সভ্যাতা থেকে পাওয়া একটা অদ্ভুত ট্যাবলেট রয়েছে তার কাছে । ট্যাবলেট মূলত একজন নভোচারীর দিনলিপি । নভোচারির নাম আলভেরো ওর্তেলা যাকে পাঠানো হয়েছিলো কোন একটা অভিযানে ।
শিক্ষকের ছোট দলটা আগজর মালিকের কাছ থেকে জানতে পারে যে প্রাচীন কালে আমাদের বর্তমান সভ্যাতা থেকেও অনেক অনেক উন্নতি সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল । এই ট্যাবলেটটাই তার প্রমান । এই ট্যাবলেট থেকে অনুবাদ করে সেই সভ্যতার সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য জানা যায় ।
প্রাচীন কালে কোন একটা কারনে পরিবেশের অবনতি ঘটে । পৃথিবী হয়ে ওঠে বসবাসের অযোগ্য । তাই নতুন বসবাসের জন্য একটা গ্রহ খুজতেই পাঠানো হয় হয় আলভেরোকে । কিন্তু এক ব্ল্যাকহোল দূর্ঘটনায় পরে আলভেরোর স্পেপশীপ । সে যখন আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে তখন পার হয়ে গেছে প্রায় ছয়শ বছর । তার পচিচিত সব মানুষ মারা গেছে । আলভেরো ভেবেছিলো হতো ততদিনে পৃথিবী ধ্বংশ হয়ে গেছে কিন্তু ফিরে দেখতে পায় নতুন সভ্যতা । সেই সাথে আরও দেখতে পায় সেই সময়ের এক ভয়ংকর স্বৈরশাসক গোষ্টী । মানুষের সব থেকে বড় মৌলিক অধিকার এবং বাঁচার সব চেয়ে বড় অবলম্বনটাকে কুক্ষিগত করে তারা পুরো পৃথিবীর মানুষের উপর নিয়ন্ত্রন আনার চেষ্টা করছে । কিন্তু সময় যতই এগিয়ে যাক কিংবা সভ্যতা যত আধুনিক হোক, স্বৈর শাসন অন্যাটের বিরুদ্ধে যুগে মানুষ প্রতিবাদ করেছিলো করে যাবে। সেই সময়েও মানুষ অক্সিরেট নামের সেই স্বৈরশাকম গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে যায় ।
শেষ পর্যন্ত কি সেই অক্সিরেটকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছিলো ?
হয়তো হয়েছিলো আবার হয়তো হয় নি । সেটা সেই ট্যাবলেটের অনুবাদ করেই জানা যাবে ভাল ভাবে । তবে বাংলাদেশ স্বাধীনের পর আবার সেই আজগর মালিকের সাথে যোগাযোগ হয়ে আজয় সাহার । আজগর মালিক এক বিস্ময়কর তথ্য জানায় । যা এতো সময় ধরে ভেবে এসেছিলো তার পুরোপুরি উল্টে যায় ! স

মোটামুটি এই হচ্ছে কাহিনী শান্তির দেবদূত ভাইয়ের দ্বিতীয় সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস "ও টু" । আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো এই বইয়ের প্রথম পাঠক হওয়ার । বেশ কিছুদিন আগেই দেবদুত ভাই এই বইটার পান্ডুলিপি আমার কাছে পাঠিয়েছিলো । আমার মনে আছে যে সব কিছু বাদ দিয়ে আমি বইটা পড়ে শেষ করেছিলাম । এতো তীব্র আগ্রহ জন্মেছিলো যে একটুও দেরি সহ্য হয় নি এবং পড়া শেষে পরিপূর্ন সন্তুষ্ট হয়েছি । অনেক দিন পরে একটা মনের মত সায়েন্স ফিকশন পড়তে পেরেছি বলে আনন্দিত হয়েছি।
একটা ভাল গল্প হওয়ার জন্য যে কয়েকটা ব্যাপার থাকা দরকার "ও টু"র ভেতরে তার সব কিছু আছে । দুর্দান্ত একটা কাহিনী এবং লেখকের সাবলিল ভঙ্গিতে কাহিনীর বর্ণনা । ওটুর সব থেকে বড় শক্তি হচ্ছে এর শক্তিশালী কাহিনী বিন্যাস । এখনকার দিনে লেখা বেশির ভাগ সায়েন্স ফিকশনই গোজামিলে ভরা থাকে । কিন্তু ওটা সেটার বিচারে একেবারেই অন্য রকম । প্রতিটি ঘটনা লাইন পড়ে আপনার মনে হবে যে আসলেই বাস্তবে একটা গল্পই বটে । একেবারে প্রথম অধ্যায় টুকু পড়ার পরে অনেকের মনে হতে পারে হয়তো আরেকটা গতানুগতিক সায়েন্স ফিকশন পড়তে যাচ্ছে তারা কিন্তু যখনই দুই তিন অধ্যায় শেষ হবে তখন পাঠক আবিস্কার করবে যে এমন কাহিনী তারা আগে পড়ে নি ।

যদি সায়েন্স ফিকশন পড়তে আপনি পছন্দ করেন তবে এই বইটি পড়তে পরামর্শ দিব। শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি যে আপনার সময় কিংবা অর্থের অপচয় হবে না !
Profile Image for Shayma Tithi.
4 reviews3 followers
February 11, 2020
সময়টা ১৯৬৯ সাল।
কারো চায়ের টেবিলে ঝড় ওঠে গণঅভ্যুত্থান নিয়ে, আবার কারো চন্দ্রাভিযান নিয়ে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার তরুণ শিক্ষকের চায়ের টেবিলের ঝড়টা যেন একটু বেশিই কম্পন ধরিয়ে দেয়।

মহেঞ্জোদারো সভ্যতা থেকে পাওয়া এক উদ্ভট প্রস্তর-খন্ডের রহস্য উদ্ধারে জড়িয়ে যান তারা। ডিভাইসটির স্ক্রিনের লিপি থেকে বুঝতে পারেন এটা পনেরো/বিশ হাজার বছর কিম্বা তারও আগের কোনো এক নভোচারীর দিনলিপি।
শুরু হয় সেই প্রাচীন লিপির মর্মোদ্ধার। আর সেই সাথে উঠে আসতে থাকে শ্বাসরুদ্ধকর অবিশ্বাস্য সব কাহিনী।

জানা যায়, কোনো এক সময় পৃথিবীর পরিবেশ এতোটাই দূষিত হয়ে পড়ে যে, পৃথিবী থেকে মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তখন তারা অন্য কোনো গ্রহে পাড়ি জমানোর চিন্তা করে।
ডায়েরি লেখক আলভেরো ওর্তেলায়ের মিশন ছিল স্কাউট স্পেসশিপ নিয়ে একটি বাসযোগ্য গ্রহ খুঁজে বেড়ানো।

যাত্রাপথে স্পেসশিপটি ব্ল্যাকহোলের খপ্পরে পড়ে বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে প্রায় ছয়শ বছর পরের পৃথিবীতে এসে হাজির হয়।

কিন্তু ততোদিনে পৃথিবী কোন অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছে? মানবসভ্যতা কি আদৌ টিকে আছে? এমন হাজারো দ্বিধায় জর্জরিত আলভেরো আবিষ্কার করে বিজ্ঞানীরা আবারও পৃথিবীকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে। এরপর ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়েছে উন্নয়নের যাত্রায়।

শহরগুলোয় অসংখ্য টাওয়ার স্থাপন করে রশ্মি দিয়ে বিশাল ভার্চুয়াল বক্সের ভেতর আবদ্ধ করে ফেলে। এই বক্সের ভেতরের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়েরও নিয়ন্ত্রণ থাকে তাদের হাতে। উন্নত প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবীর যেকোনো এলাকার আবহাওয়া পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলতে পারে তারা।

প্রথমদিকে এই প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হলেও ধীরে ধীরে তা নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর আয়ত্তে চলে যায়।
প্রকৃতিপ্রদত্ত অক্সিজেন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে তারা। অক্সিরেট কর্পোরেশন জাতীয় একটা সংগঠন তৈরি করে এবং ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার সীমানা বাড়াতে থাকে।

ভার্চুয়াল বক্সের স্বৈরশাসন থেকে বেরিয়ে যারা স্বাধীনভাবে বসবাস করতে চাইতো, তাদেরকে কিছুদিন পর পর আকাশ থেকে রশ্মি চালিয়ে অক্সিজেনহীন করে নিধন করা হতো। তবে আশার কথা, আন্ডারগ্রাউ���্ডে একটি এ্যান্টি-অক্সিরেট সংগঠনও ছিল, যারা একদিন মানুষকে আবার স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখতো।

অক্সিরেটদের দুঃশাসন দেখে অস্থির হয়ে পড়ে আলভেরা। কী করবে সে? সবকিছু ছেড়ে চলে যাবে অন্য কোনো গ্রহে বা সময়ে? নাকি প্রেপাকে পাওয়ার জন্য মুখ বুজে থাকবে অন্য সবার মতো? নাকি অক্সিরেটদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে অকুতোভয় নভোচারী আলভেরো ওর্তেলা?

এভাবেই টান টান উত্তেজনার সঙ্গে এগিয়েছে উপন্যাসটি।

প্রথম অধ্যায়টি পড়তে গিয়ে কিছুটা বিরক্তই হয়েছি। এর কারণ সম্ভবত মহাকাশযানে বিপদসংকেত, ব্ল্যাকহোলের কবলে পড়া এসব কাহিনী দেখে মনে হচ্ছিল ফোবিয়ানের যাত্রী অথবা ত্রাতিনার মতোই সেই চিরাচরিত কাহিনী।
কিন্তু দ্বিতীয় অধ্যায়ে গিয়েই আঁচ করতে পারলাম এর প্লট কতোটা শক্তিশালী!

চরিত্রগুলোও যার যার জায়গায় একেবারেই মানানসই।
আর লেখকের সায়েন্স ফিকশনের সাথে আগে থেকেই পরিচিত থাকায় তার সাবলীল বর্ণনাভঙ্গী দেখে মোটেই অবাক হইনি।
Displaying 1 - 12 of 12 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.