অর্ধবৃত্ত সম্পর্কের সংযোগ, সঙ্কট ও সমীকরণের গল্প। দেয়াল ও দ্বিধার গল্প। বিভেদ ও বন্ধনের গল্প। যার আদ্যোপান্ত জুড়ে রয়েছে জীবন। সম্পর্ক যদি জীবনের কেন্দ্র হয়, জীবন তবে বৃত্ত। কথা হচ্ছে সে জীবন কী, পূর্ণ না অর্ধবৃত্ত?
Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015. Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.
রাস্তার এপাশে একটা ল্যাম্পপোস্ট। ওপাশে লোহার গেট আর ইঁটের দেওয়ালে আবদ্ধ তেতলা বাড়ি। সেই বাড়িতে বসবাস করে এক যৌথ পরিবার। চার দেয়ালের ভেতরে এই পরিবারের শেকড় পিতা আফজাল আহমেদ, যদিও পরিবারে তার ভূমিকা খুবই সামান্য। ডালপালা মেলেছে বটবৃক্ষ। সংসারবিমুখ বড় ছেলে, কর্মব্যস্ত মেজছেলে, খোঁজ না রাখা সেজছেলে, সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পেরুনো প্রেমাতাল ছোটছেলে এবং সম্প্রতি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটা ছোটমেয়ের চাইতেও সংসারে এখন নির্ভরযোগ্য নাম মেজবৌমা, একটি স্বনামধন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মুনিয়া।
এই একান্নবর্তী পরিবারের বাইরের আবরণটা দেখতে যতটা সুখী-সুন্দর, ভেতরটা ততটাই পোকায় কাটা। বৈধ ও অবৈধ সম্পর্কের জটিল বেড়াজালে বন্দী কিছু মানুষ এখানে ছটফট করছে যন্ত্রণায়। কড়া নেড়ে বেড়াচ্ছে ভুল দরজায়।
'অর্ধবৃত্ত' মূলত মুনিয়ার গল্প। জাফরের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে সে ঝুঁকে পড়েছে অসম বয়সী এক পরকিয়ায়। তার ছোট দেবরের বন্ধু রাফির খ্যাপাটে প্রেম, ল্যাম্পপোস্টের নীচে রাতের পর রাত দাঁড়িয়ে থাকা আর ফোনে কবিতা শোনানো - একসময় ভাসিয়ে নিল মুনিয়ার প্রতিরোধ। কিন্তু স্কুল পড়ুয়া কন্যা ঋদ্ধির চোখেও রাফির জন্য একই আবেগ দেখতেও ভুল হয় না তার।
গল্পের আরেকটি দিক মুনিয়ার স্কুলকে ঘিরে। স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্যদের মধ্যকার রাজনীতি, একজনের মৃত্যু পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তুলেছে। আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন এই ঘটনা ক্রমশই জুড়ে যেতে থাকে মুনিয়ার জীবনে। দিপু, সেলিনা, আশফাক, নাদিয়ার জীবনবৃত্ত আর সম্পর্কের সমীকরণের গল্প এগিয়ে চলেছে পাশাপাশি।
'অর্ধবৃত্ত' প্রায় চারশো পৃষ্ঠার দীর্ঘ একটি উপন্যাস। তাতে চরিত্রের সংখ্যাও কম নয়। তবে সেই চরিত্রগুলোর চিত্রায়ণ কতোটা বাস্তব, তাই ভাবছিলাম। অসম প্রেম বা পরকীয়া, হাহাকার করা বাবা-মা, স্ত্রী-নির্যাতন - মোটাদাগে এগুলো সবই আমাদের আশেপাশের চিত্র। কিন্তু গল্পে রূপ দিতে গিয়ে লেখক দর্শনে জোর দিয়েছেন বেশি, 'ডিটেইলিং' এর দিকে নজর রাখেননি। অতিরিক্ত দার্শনিক চিন্তাধারার কারণে স্কুলপড়ুয়া মেয়ে থেকে গ্রামের শিক্ষক - সকলেই কথা বলে যাচ্ছে কাব্যিক ভাষায়। প্রতি পাতায়ই লেখকের নিজস্ব দর্শন বসিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন চরিত্রের মুখে। পুরো বইটি হয়ে উঠেছে চমৎকার একটা উক্তি উদ্ধৃত করার ভান্ডার, যা থেকে লাইন টুকে নিয়ে আবেগতাড়িত তরুণী ফেসবুক স্ট্যাটাস দিতে পারে বা কোনো প্রেমিক প্রেমিকাকে চিঠি লেখতে পারে, কিন্তু সেঁচে নেওয়ার মত গল্প ছিল সামান্যই।
গল্প মেলাতে হঠাৎ করেই দেখা যায় আফসানা, আহসান বা সাজ্জাদ-শফিক-রাফির মতো চরিত্রগুলো সব কেমন ছাড়া ছাড়া, তাদের জীবনে যাই ঘটুক পরিবারের কোনো ছায়া পাওয়া যায় না! এতো সব অসামাজিক, পরিবার-বিবর্জিত মানুষ এক বাড়িতেই এসে জুটলো, সে কি কাকতালীয় বা গল্পের ফাঁকি? যে মৃত্যুর ঘটনা গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাতেও ফাঁক ছিল। আফজাল আহমেদের পরিবারে 'স্টার জলসা স্টাইলে' বিশাল দ্বন্দ্বের অবতারণা হলো, সেটার কোনো শেষ পরিণতি না জানিয়েই হুট করে কেমন তা গৌণ হয়ে গেল।ছেলের বউ আর মেয়ে জামাইকে নিয়ে করা মায়ের মন্তব্যের মতো বহুল-চর্চিত রদ্দি রসিকতা কী করে যে লেখক মছিদা বেগমের মুখে দিব্যি বসিয়ে দিলেন! মেয়ের বিপদে বাপের মন টের পেয়ে যাওয়া, জাত-কূলের কথা বলে ধর্ষিতা মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার মতো দারুণ ক্লিশে ঘটনাগুলো অন্যরকম হতে পারত।
চরিত্রগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজন ছিল। ঋদ্ধি হুট করে কেমন প্রাপ্তবয়স্কদের মত আচরণ করতে শুরু করলো, আহসানের মতো আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন ছেলে কেন ঘরজামাই হয়ে গেল, এসবের কোনো যুক্তি মিলে না। লেখকদের লেখার মধ্যে মিল খুঁজতে আমি পছন্দ করি না, তাই পরিচিত কিছু চরিত্রের নাদিয়া-শফিক, মুনিয়া-ঋদ্ধির সাথে মিল পাওয়ার অস্বস্তিটা গিলেই ফেললাম।
সাদাত হোসাইনের লেখনশৈলী দারুণ প্রাঞ্জল। তিনি বরাবরই মনস্তত্ত্ব নিয়ে লিখতে চেয়েছেন। দর্শন আর অতিরঞ্জন সরিয়ে রাখলে, সুমির সাথে তার বাবার কিছু মুহুর্ত পড়তে ভালো লেগেছে। 'গল্প থেকে কী শিখলাম' সেরকম ভাবনার বোদ্ধা পাঠক আমি কখনোই নই। তবে গল্পটা মন ছুঁবে, এমনটা আশা করতেই পারি। কে জানে, আমি হয়ত তেমন জীবনবোধ বুঝি না, বইয়ে মার্ক করে রাখার মতো কোটেশন নয় - একটা নির্ভেজাল গল্প খুঁজি! তাই 'অর্ধবৃত্ত' আমার মনের অর্ধেকটাও জুড়তে পারলো না।
মানুষের সম্পর্কগুলো আসলেই অদ্ভুত। সময়ের আবর্তনে এই সম্পর্কে পরিবর্তনও আসে। কোনো সম্পর্ক মজবুত হয় নইলে কোনোটায় ফাটল ধরে।
এই বইয়ে সেই সব সম্পর্কেরই উদাহরণ দেয়া হয়েছে। একটা পরিবারকে কেন্দ্র করে মূলত এই অর্ধবৃত্তের কাহিনী। জয়েন্ট ফ্যামিলিই বলা চলে। বাড়ির মেজো বউ মুনিয়াই ধরতে গেলে এই পরিবারের সর্বেসর্বা, যদিও অনেকেই তাকে দেখতে পারে না। সে একটা স্কুলের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছে। এছাড়া এই পরিবারের বড় বউয়ের মাথা খুব একটা ঠিক থাকে না কারণ তার কর্তার মন অন্যদিকে, বাড়ির ছোট ছেলে অবিবাহিত। আর মুনিয়ার বিধবা ননদও এ বাড়িতেই থাকে। সে আর তার মা মিলে এই মেজো বউটির পেছনে লেগে থাকার চেষ্টা করে।আর একজন চরিত্র আছে রাফি! ইয়াং ছেলে,কবিতা লেখে।এই রাফি আর মুনিয়ার মধ্যে অসমবয়সী সম্পর্কের একটা ব্যাপার আছে।সহজ ভাষায় পরকিয়া। এছাড়া নানা রকমের পার্শ্ব চরিত্র আছে যাদেরকে আমার ট্র্যাকের বাইরে বলেই মনে হয়েছে। এদের কাটসাট করলে হয়তো স্মুথলি পড়া যেত।
যদিও মানসিক প্রস্তুতি ছিল যে বিস্তর আলোচনা হবে তবুও পড়তে পড়তে কয়েকবার হাপিয়ে উঠেছিলাম,জিড়িয়ে নিয়ে আবার পড়েছি 🥱 সত্যি বলতে মুনিয়া আর রাফির ব্যাপারটা ভালো লাগে নি। বইটা ভালো লাগতোও না কিন্তু শেষটায় যে একটা থ্রিলিং এর ব্যাপার ছিল, এমন চমকে উঠবো এটা ভাবি নি। তাই একটা তারা বেশি :)
এই মুনিয়ারে টোটালি ভাল্লাগে নাই, ওর থেকে ক্যাটক্যাট করা ননদ টা ভাল ছিল ¬_¬ এটাতেও হুমায়ূনীয় ভাব ছিল! পার্শ্ব চরিত্রদের টানা হ্যাচড়া না থাকলে বোধয় এই ছায়াটা আপনাতেই এড়িয়ে যেত!
একদিকে কিন্তু কিছু ভালো ম্যাসেজ আছে- ১। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে কিন্তু প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানোর জুড়ি নেই। যত কম সময় দেবেন ততোটা দূরত্ব বেড়ে যাবে। ২। আপনি পাপ করলে এর ফল হিসেবে যাতনা ভোগ করতে হবে। হোক শারীরিক কিংবা মানসিক, ভোগ করতেই হবে ।
রাফিকে আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কিন্তু তবুও কোথাও গিয়ে যেনো ঠক করে লাগে।মনে হয় তার প্রতিটি কথা সত্য। মুনিয়াকে আমার ভালো লাগেনি।কেমন যেনো! কবিতাগুলো বরাবরই ভালো-অল্প শব্দে সব বলে দেয়।সবার জীবন একটু বেশিই যেনো নাটকীয়। নাদিয়ার জন্য মনটা খারাপ-তেমনি শফিকের জন্যেও।আমি বোধহয় সবার চেয়ে নাদিয়াকেই পছন্দ করেছি। ' আমি একদিন নিখোঁজ হবো,উধাও হবো রাত প্রহর�� সড়ক বাতির আবছা আলোয়,খুঁজবে না কেউ এই শহরে।'
পুরা গল্পে তেমন কিছু আকর্ষন করে না। কিন্তু শেষটায় এসে এটা কি হলো?😮আমি বিস্ময় গোপন করতে পারি নাই। শেষটায় কেন যেন এত ভালো আর খারাপ লাগলো!আমার মনে আছে রাফিকে নিয়ে অনেক আলোচনা করলাম। পুরা গল্পটা এর শেষ কাহিনি এর জন্য আমার কাছে ভালো লাগছিল।তা না হলে মুনিয়ার পরিবার এর অন্য কেউ আমাকে আকর্ষণ করে নাই। শেষ টার জন্য বইটা আমার পছন্দের লিস্টে আছে।😍
ফ্লাপে থাকা মুনিয়া কে উদ্দেশ্য করে রাফির বলা"শরীরের জন্য ভালোবাসি "কথাটা যেকোনো পাঠককে ভাবাতে বাধ্য করবে।লেখক ফ্লাপে এমন এক দুর্যোগপূর্ণ কথা বললেন যা আমাকে বইটা পড়ার আগেই গল্পের ভিতরে ঢুকে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছিলো। আর সর্বশেষ পাতার আগের পাতায় " আমাকে হারাতে দিলে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিতে ছেয়ে যাবে তোমার শহর" তো রীতিমতো বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যাথা ধরিয়ে দিয়েছিলো।
বলছিলাম সাদাত হোসাইনের লেখা অর্ধবৃত্তের কথা।যে গল্পের শুরু হয়েছে একটা নিষিদ্ধ সম্পর্ককে ঘিরে।রাফি-মুনিয়ার সম্পর্ক।চল্লিশোর্ধ্ব মুনিয়া,যে কিনা এক যৌথ সংসারের খুঁটি।যার সুখ-দুঃখ,রাগ-অভিমান কিংবা উচ্ছলতার গল্প গুলো সে শুধু একজনকেই শোনায়,শোনে।রাফি,মুনিয়ার থেকে বয়সে ১৮ বছরের ছোটো,কবিতা লেখে।যার কবিতা গুলো প্রাণ পায় মুনিয়ার স্পর্শে।যেই কবিতা মুনিয়ার স্পর্শে জীবন্ত হয়,সেই কবিতায়-ই ছন্দ পাওয়ার আশা করে মুনিয়ার সদ্য রঙিন স্বপ্ন দেখা ১৪ বছরের মেয়ে ঋদ্ধী।
মুনিয়ার ভাসুর আশফাক রহমান,সংসারের প্রয়োজনে চলে যান সংসার থেকে দূরে।সেই দূরত্ব তো এককে ব্যাখা করা যায় তবে স্ত্রী হাফসার সাথে তার দূরত্ব?আশফাকের ভার্সিটি পড়ুয়া ছোটো মেয়ে নাদিয়া,এক মায়াবী কন্যা।যার ভালোবাসা গুলো থমকে যায় বড় বোন নাবিলার ভুলের কারণে। তবে নাদিয়া আর শফিকের অস্পষ্ট সম্পর্ক টা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে।যে সম্পর্কে একটা গভীর টান ছিলো,ছিলো মায়া।এবং আমার সবথেকে ভালোলাগার জায়গা।
এবার আসি আমার প্রতিক্রিয়ায়, লেখক সাদাত হোসাইনের লেখার সাথে পরিচিত ২০১৭ সালে,উনি যে পেল্লায় সাইজের(আরশিনগর,অন্দরমহল,নির্বাসন,নিঃসঙ্গ নক্ষত্র)বই লিখেন তার জন্য প্রথমে ওনাকে ধন্যবাদ দিই।
সাদাত হোসাইন তার অর্ধবৃত্তে পাঠককে ভালোবাসা আর সম্পর্কের সাথে জীবন আসলে পূর্ণ না কি অর্ধপূর্ণ তার পরিচয় করাতে এসেছেন।প্রতিটা চরিত্রকে এত গভীরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে আমাকে শেষ পাতা পর্যন্ত টেনে ধরে রেখেছে।সবথেকে ভালোলাগার বিষয় হলো শব্দচয়নে কাব্যিক ছন্দময়তা।বেশিরভাগ বাক্যচয়নে লেখক বেশিরভাগই উক্তি তৈরি করে ফেলেছেন সাথে গভীর বর্ণনা ভঙ্গি তো ছিলো-ই। যার দরূন বইটার প্রতি পেজে কলমের আচঁড় দিতে হয়েছে আমাকে।যেমন,"তারপর তার বুক চিড়ে নেমে আসবে এক সুদীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস। সেই দীর্ঘশ্বাস মিশে যাবে শহুরে বাতাসে। কে জানে,সেই বাতাসে আর কত শত সহস্র মানুষের দীর্ঘশ্বাস মিশে আছে।" অথবা "কাঁদতে কাঁদতে বুকের ভেতর জমা অভিমানের,অক্ষমতার কঠিন পাথরটাকে গলিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে"এরকম গভীর বর্ণনা ভঙ্গির সাথে যখন গল্প আগায় তখন যেকোনো পাঠক বই ছেড়ে উঠবে?তবে আমি উঠিনি।
প্রতি রাতে রাফির কবিতা গুলো ধ্বংসাত্মক ভালোলাগার জন্ম দিয়েছে আমার কাছে।তবে হুট করে একটা মৃত্যু আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো। সব ছাপিয়ে ভালোলাগার জায়গাটা নিয়েছে শফিক-নাদিয়া সম্পর্ক।এই সম্পর্ক নিয়ে আমি ১ টা লাইনও লিখবো না।তবে সাদাত হোসাইনের কাছে প্রশ্ন রাখবো, এত মোটা বই লিখেছে আর আমার ভালো লাগবে বলে উনি এদের গল্পটা আরেকটু বললো না কেন?আমি আরো বর্ণনা চাচ্ছিলাম অন্তত শফিক-নাদিয়ার ক্ষেত্রে।সাদাত ভাই এত হিংসে কেন আমার উপর?কেন কেন কেন??
তবে শেষটা.................!! আর এগোলে স্পয়লার চলে আসবে।তবে ১-২ লাইনে বলতে গেলে "এই অর্ধেকে জীবনে যে হাজারো গল্প তৈরি হয়,তৈরি হয় সম্পর্ক।আর সেই সম্পর্কের যে ধুম্রজাল সাদাত হোসাইন বিছালো তা নিঃসন্দেহে পাঠককে অনেক দিন ভাবাবে। ভাবাবে তার জীবন কে। সবশেষে এটা সুখপাঠ্য বলবো নাকি অবশ্যপাঠ্য বলবো বুঝতে পারছি না। তবে পাঠকের উচিৎ সম্পর্কের সাথে জীবনের যে সাতকাহন তার স্বাদ নেওয়া।
বইটি প্রকাশ করেছে অন্যধারা।প্রচ্ছদ এঁকেছেন জনপ্রিয় প্রচ্ছদ শিল্পী চারু পিন্টু।আর বইটি নিজের টিউশনির টাকায় কিনেছেন জোবায়ের হোসাইন। বইটি বর্তমানে রকমারি ডটকম, বইবাজার,ডেলিগ্রাম সহ সকল অনলাইন বুকশপেই পাবেন।
এতো বাজে লেগেছে বইটা! এছাড়াও লেখকের উপস্থাপনা খুব বাজে। হুদাই লেখাটাকে টেনে টেনে নিজেকেই মনে হয় কনফিউজড করে ফেলেছেন। এছাড়াও নিজের কবিতাকে বার বার দিয়ে প্রমোট করা ছাড়া আর কিছু করছে বলে মনে হয়না। এছাড়াও উনি অন্যান্য লেখকদের কয়েকটা লাইন দিয়েও গভীরতা বুঝাইতে চেয়েছেন! আর উনি মনে হয় পশ্চিম বাংলার পরকীয়া থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটা লিখেছেন।
অর্ধবৃত্ত কিছু শহুরে মানুষের গল্প। শহরের গল্প। গ্রামের কাজল মাখা জীবন রেখে সাদাত হোসেইন এখন শহরের গল্প বলতে এসেছেন। তাই, পরিবর্তন এসেছে তার লেখায়। পরিবর্তন এসেছে চরিত্র গুলোতে, পরিবর্তন এসেছে তার জীবনদর্শনে। এবং সেই পরিবর্তন গুলো একদম যথার্থ মনে হয়েছে!
শহরের মানুষ গুলো একটু কেমন যেন। কেউ ছুটছে টাকার পেছনে, কেউ খুঁজছে নারীর শরীর, কেউ আবার, নিজের শরীরকে আকর্ষণীয় রাখতে ব্যস্ত। সবগুলো মানুষই কেমন বস্তুবাদী। সবাই যেন অন্তরচক্ষুকে বড় না ভেবে চর্মচক্ষুকেই বড় মনে করে। যদিও এর ব্যাতিক্রম কিছু মানুষও এখানে আছে।
বইটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটানা আকর্ষণ ধরে রাখার মত। কোথাও একটুও মনে হয়নি, যে কথাগুলো অপ্রয়োজনীয়। অর্থাৎ, Boring লাগে নি একটুও।
বরং, সারাটাক্ষণ আমি যেন একরকম ডুবেই ছিলাম বইটাতে।
সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে সাদাত হোসেইন এর observation!! আমার মনে হয় না মানুষগুলোর সাংসারিক জীবন তিনি ছাড়া আর কেউ এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন!!
হয়তো বইটা আরও ভালো হতে পারতো, চরিত্রগুলো আরও ব্যক্তিত্বপূর্ণ হতে পারতো, সম্পর্কের সমীকরণগুলো হয়তো আরও ভালো হতে পারতো, কিন্তু সেসব কথা আর বলছি না।
কারন, বইটা পড়ে আমার প্রচণ্ড অভিমান হয়েছে। সাদাত হোসেইন এর প্রতি।
জনাব, আপনি পাঠকের আবেগ নিয়ে খেলবেন ঠিক আছে, কিন্তু এতটাও খেলবেন না, যাতে পাঠকের ব্যক��তিগত জীবনেও সেই বেদনার ছাপ রয়ে যায়। আপনার জীবনদর্শন এত বেদনার কেন? জীবন কি সত্যিই এত বেদনার??
প্রথমত গল্পটি হল অতিনাটকীয়। লেখক কেবল কাহিনীটি টেনে নিয়েছেন তাই আমি এটি পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। আমি বইটি শেষ করার জন্যই শেষ করেছি। বিভিন্ন মানুষের গল্প আছে যেখানে কেউ তাদের জীবন নিয়ে খুশি নয়। কোনও সুখী মুহূর্ত নেই এবং এমনকি যদি এটি খুব অল্প সময়ের জন্য হয়। তিনি অত্যন্ত খ্যাতিমান লেখক তাই এই বইটি থেকে তাঁর উচ্চ প্রত্যাশা ছিল। যে জিনিসটি আমাকে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করেছিল তা হল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং শারীরিক ভালবাসার প্রয়োজনীয়তা এই মুহুর্তের গুরুত্বপূর্ণ । তাঁর বেশিরভাগ পাঠক কিশোর-কিশোরী হওয়ায় তাদের সম্পর্কে তার চিন্তা করা উচিত ছিল, এটির তাদের উপর খারাপ প্রভাব পড়বে। এটি তাঁর মতো লেখকের কাছ থেকে আশা করেননি।
After writing 330 pages of a book nicely, Sadat Hossain be like: আরে বই শেষ করতে হবে তো। ধুপধাপ কয়েকটা ক্যারেক্টার মাইরা ফেলাই। আর বাকিদের জীবন নষ্ট কইরা দেই।।
(ঘুরতে গিয়ে ইনহেলার নিয়ে যায় নি, আর ধুপ করে মরে গেল। পার্টটুকু প্রচন্ড মেলোড্রামাটিক হয়ে গেছে। আরেকটু বেটারভাবে প্রেজেন্ট করলে হয়ত, সেইম ইভেন্টই কম মেলোড্রামাটিক হতো।)
এই অংশটুকু বাদে পুরো বই অনেক বেশি well written. সাদাত হোসেন নিয়ে প্রচুর সমালোচনা৷ প্রচুর Hatred মানুষের মাঝে। কিন্তু আমি তবুও মনে করি, বর্তমান সময়ে রাইটারদের মধ্যে সাদাতের লেখনী ক্ষমতা অন্যতম। সাদাত দারুন একজন পাওয়ারফুল রাইটার। ক্যারেক্টার এবং স্টোরি বিল্ডাপে বর্তমান সময়ের খুব কম রাইটার ই এতটা দক্ষ।
বইটাতে একটা সাধারণ পরিবারের সবার জীবনের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।বইটাকে একটা উপন্যাস মনে হলেও লেখক একটা থ্রিলার কাহিনীও তুলে ধরার ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন। সবগুলো চরিত্রই আমার অনেক মনে ধরেছে কেনো তা জানি না। বইটার কিছু কিছু লাইন মনে গেঁথে থাকার মতো।
কাহিনিকে অযথা চুইংগামের মত টেনে লম্বা করে ফেলসে। দৃশ্যপটের অযথা ব্যাখ্যা। আবেগের অতি ব্যাবহার। মনে হচ্ছিলো স্টার জলসার কোন এক সিরিয়ালের স্ক্রিপ্ট পড়তেছি। লেখার মানের তুলনায় দাম একটু বেশিই।
জীবনের সবচেয়ে সহজ এবং জটিল সমীকরণের নাম সম্পর্ক...অর্ধবৃত্ত মূলত সেইসব সম্পর্কের সংযোগ,সংকট ও সমীকরণের গল্প। বিভেদ ও বন্ধনের গল্প। যার আদ্যোপান্ত জুড়ে রয়েছে জীবন। প্রশ্ন হচ্ছে, সেই জীবন কী, পূর্ণ না অর্ধবৃত্ত?
◼️ ভূমিকা -
ভালোবাসা কি শুধুই শরীরের জন্য? এর বাইরে মূখ্য কোনো কিছু নেই। ফ্ল্যাপে এরূপ ধরণের কথা পড়ে আমার কপাল কুঁচকে আসলো। ভাবতে লাগলাম কি হতে পারে বইয়ের ভিতরের সমীকরণ। মানুষের জীবন মূলত অর্ধবৃত্ত। এই অর্ধবৃত্ত পূর্ণ করতে মানুষের যত চেষ্টা। কিন্তু চাইলেই কি অর্থপূর্ণ পূর্ণ করা যায়, সবটা কি এতোই সহজ!
◼️ কাহিনী সংক্ষেপ -
চল্লিশার্ধো মুনিয়ার সাথে তার থেকে আঠারো বছরের ছোট রাফির সাথে গড়ে ওঠে এক অসম বয়সের নিষিদ্ধ সম্পর্ক। মুনিয়ার ভরা সংসার আছে। কিন্তু যার সাথে সে দিনশেষে একই ছাদের নিচে রাত কাঁটায় স্বামী জাফরের সাথে তার যোজন যোজন দূরত্ব। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মতের অমিল, ভুল বোঝাবুঝি, ঝগড়া মিলিয়ে এখন তা বৃহৎ আকার ধারণ করেছে। চাইলেও তারা এখন সেটা ডিঙোতে পারে না। নিজের নিঃসঙ্গতা ঘোচাতে মুনিয়া বেছে নেয় রাফিকে। অপরদিকে মুনিয়ার চৌদ্দ বছরের মেয়ে ঋদ্ধির চোখে এখন রঙিন চশমা। মা মেয়ের সম্পর্কের মধ্যেও গড়ে ওঠে এক অদৃশ্য দেয়াল।
মুনিয়ার দেবর দিপু ও সুমির ছিল সহজাত ভালোবাসার সম্পর্ক। ভালোবাসার রঙিন ক্যানভাস হঠাৎ এক অভিশপ্ত ভয়াল রাতের থাবায় এলোমেলো হয়ে যায়।
মুনিয়ার ভাসুর আশফাক আহমেদের স্ত্রী হাফসা দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী, সুস্থ হবার কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থকষ্ট কিংবা জীবনের অপরিপূর্ণতা আশফাক জড়িয়ে পড়ে আফসানার সাথে। পরিপূর্ণতা চাইলেই মানুষ সবসময় পরিপূর্ণতা পায় না, আশফাকের এই সিদ্ধান্ত এলোমেলো করে দেয় তার ছোট মেয়ে নাদিয়ার জীবন। যাকে পাওয়া ও না পাওয়ার বেড়াজালে একসময় হারিয়ে গিয়েছিল শফিক।
একটা খুন! যা বলতে দেয় সম্পর্কের সমীকরণ প্রেক্ষাপট। মানসিক টানাপোড় নিয়ে বেঁচে থাকা দুষ্কর তখন মানুষ খুঁজে নেয় মুক্তির ভিন্ন পথ।
◼️ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা -
বইয়ের ১ম অধ্যায় টুকু পড়ার পরেই আমার অনুভূতি ছিল তিতকুটে। মুনিয়া ও রাফির সম্পর্কের যে সমীকরণ দেখানো হয়েছে সেটাতেই বিরক্ত হয়েছি। আমার সমস্যা তাদের বয়স নিয়ে নয়। লেখক বারবার বলার চেষ্টা করেছে তাদের সম্পর্কটা অসম প্রেমের, নিঃসঙ্গতায় সঙ্গী হিসেবে তারা একে অপরের প্রতি জড়িয়ে যায়। জাফরের সাথে মুনিয়া যতোই দূরত্বে থাকুক তারা এখনও একে অপরের সাথে জড়িত, তাদের ডিভোর্স হয়নি। সোজাসুজি বিবেচনা করলে রাফি ও মুনিয়ার সম্পর্ক স্রেফ পরকিয়া ছাড়া কিছু নয়। এটাতে কোনো অসম প্রেম কিংবা নিঃসঙ্গতা দিয়ে জাস্টিফাই করা যায় না।
এর মাঝে আরেকটা গা ঘিনঘিনে ব্যাপার গড়ে ওঠে মুনিয়া ও তার মেয়ে ঋদ্ধিকে নিয়ে। ঋদ্ধির যা বয়স এসময়ে কাউকে ভালোলাগার বিষয়টা নরমাল। মায়ের সাথে যার নিষিদ্ধ প্রণয়ের সম্পর্ক মেয়ের সেই লোককেই ভালো লাগে, তার জন্য নানা স্বপ্ন বুনে। যদিও ঋদ্ধি অবগত নয় তার মায়ের এই কর্মকান্ড সম্পর্কে। মুনিয়ার এ বিষয় নিজে উপলব্ধি করার পর যেমন অস্বস্তিতে ভুগছিল আমি পড়তে গিয়েও খুব বিরক্ত হয়েছি।
বইটা লেখা হয়েছে বেশ কয়েকটি চরিত্র নিয়ে। যাদের জীবনপ্রবাহ ভিন্ন কিন্তু কোনো এক সংযোগস্থলে তারা একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে যায়। সুমিকে আমি পরিণত চরিত্র হিসেবে মনে করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেও করে ফেললো এক বোকামি যার সর্বোচ্চ খেসারত তাকে দিতে হয়েছে। পুরো বইয়ে নিরেট চরিত্র হিসেবে ছিল শফিক ও নাদিয়া যাদের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। যেদিন যেই প্রবাহে চলছে তারাও সেভাবেই ভেসে চলেছে।
◼️ পাঠক সমালোচনা -
বইয়ের অর্ধেকটা পড়ার পরেই পুরোপুরি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি আমি। শুধুমাত্র শেষটা জানার জন্য ধৈর্য্য ধরে পুরো বইটা পড়ে যাই। কাহিনী টেনে লম্বা করা হয়েছে অযথা। কিছু জায়গায় অযথা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে আবার কিছু বর্ণনা এক লাইনে শেষ করা গেলেও বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে। এই জিনিসগুলো ছোট করে আর গুছিয়ে লেখা হলে বইটা আরো ছোট হতো সেই সাথে উপভোগ করা যেতো। কয়েকটা ঘটনা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে যাওয়া হয়েছে, শেষ পর্যন্ত দেখা যায় এদের কোনো ভূমিকা নেই অহেতুক ডাল পালা ছড়িয়ে বিস্তৃত করা হয়েছে।
'জগতে সবাই কেবল কুঠার হতে চায়, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সবাইকেই কখনো না কখনো বৃক্ষও হতে হয়। আর তার আগ অবধি তারা কখনো বৃক্ষের যন্ত্রণা আর কুঠারের নৃশংসতা কোনোটাই বুঝতে পারে না।'
'মানুষ নিজের মুখটা কখনো অন্যের আয়নায় দেখতে চায় না, সে সবসময় নিজের আয়নায় অন্যের মুখটা দেখাতে চায়।'
'জগতে সবচেয়ে সুন্দর জিনিস কি জানো?তোমার কারণে কোন মানুষ তীব্র আনন্দে ঝলমল করছে, আর সেই দৃশ���যটা তুমি নিজ চোখে দেখছো!'
'এই যে লোকে লোকারণ্য শহর, সকাল-সন্ধ্যা ভিড় ভাট্টা জাগে, তবুও এমন একলা লাগার 'নিজের একটা মানুষ সবার লাগে।'
◼️ পরিশেষে -
পুরো বইয়ে উপভোগ করার মতো পেয়েছি রাফির লেখা ছোট ছোট বিভিন্ন কবিতা। ছোট ছোট লাইলের যে বিস্তর অনুভূতি দেওয়া ছিল তা ভাবিয়েছে বেশ কিছুক্ষণ। ঝরা পাতার এই জীবনে আমরা চাই অপরপাশের মানুষ মানিয়ে নিক, কখনো ভাবি না নিজে মানিয়ে নেওয়ার কথা। এই মেনে নেওয়া ও মানিয়ে নেওয়ার মধ্যে দুলতে থাকে ভালোবাসার এক অদৃশ্য সুতো।
এই বইটি শেষ করতে আমার দুই মাসেরও অধিক সময় লেগেছে। তিন কিস্তিতে পড়ে শেষ করেছি। এক পর্যায়ে গিয়ে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলাম, তারপরও কোনো কিছু অসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখতে পারি না বলে শেষ করতে বাধ্য হয়েছি। অর্ধবৃত্ত নিয়ে এর বেশি আর কিছু বলতে চাই না!
মুনিয়া আর রাফির অসম বয়সী প্রেম। কেন্দ্রীয় চরিত্রে তারা থাকলেও আস্তে আস্তে সেখানে জায়গা করে নেয় ঋদ্ধি, নাবিলা-সাজ্জাদ, নাদিয়া-শফিক, দিপু- সুমি, আসফাক - আফসানাসহ আরো অনেকে। একটি পরিবারের সদস্যদের কেন্দ্র করেই কাহিনী চলতে থাকে অর্ধবৃত্তের। যেখানে প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা আলাদা জীবন, ভিন্ন ভিন্ন কাহিনী। তাদের মধ্যেই আবার আছে কোনো আড়াল, গোপন বা অব্যক্ত কথা কিংবা দ্বিতীয় একটি স্বত্তা। এইসব মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়ন, ভালোবাসা, মান-অভিমান এসব নিয়েই চলতে থাকে কাহিনী। আর সেই সাথে ধীরে ধীরে আগাতে থাকে একটি খুনের রহস্য সমাধানের তদন্ত। যার পরিণতি শেষ পৃষ্ঠা পড়ার আগ পর্যন্ত অনুমানও করা যায় না!
সম্পর্ক যদি কোন বিন্দু হয়,তাহলে জীবন হলো সেই বিন্দুকে ঘিরে ঘুরতে থাকা এক বৃত্ত।কিন্তু জীবন নামের সেই বৃত্ত কখনো পরিপূর্ণ হয় না,রয়ে যায় অর্ধবৃত্ত হয়ে। "অর্ধবৃত্ত" উপন্যাসে সাদাত হোসাইন শুনাতে চেয়েছেন জীবন নামের সেই অর্ধবৃত্তের গল্প,সম্পর্ক এবং তার অদ্ভুত টানাপোড়নের গল্প।
"অর্ধবৃত্ত" বেশ বড় পরিসরের উপন্যাস হলেও উপন্যাসটির কাহিনী মূলত আবর্তিত হয়েছে একটি পরিবার এবং সেই পরিবারের সদস্যদের জীবন এবং জীবনসংশ্লিষ্ট মানুষগুলোকে কেন্দ্র করে। প্রত্যেকটি মানুষের কাছে ন্যায় এবং অন্যায় এর একটি সতন্ত্র সংজ্ঞা আছে। মুনিয়া তাই তারচেয়ে প্রায় দুই দশকের ছোট রাফির সাথে একটি অসম সম্পর্কে জড়িয়ে পরার পরেও সেটাকে অন্যায় এর তালিকায় ফেলতে পারে না।সমাজের এথিক্স,মোরালিটি এই ধরণের সম্পর্ক বিরোধী তা জেনেও মুনিয়া সম্পর্কটাকে টানতে থাকে কারণ তার বুকের ভিতরের যে গভীর নিঃসঙ্গতা,গভীর দুঃখ তা এই সমাজ জানে না,বুঝে না,জানে কেবল একলা সে। প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী মুনিয়া বাড়ির দায়িত্বশীল মেজোবউ,ঋদ্ধির মা,প্রভাবশালী একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের প্রধান শিক্ষক।তবু রাফির কাছে এলে সে যেন হয়ে উঠে নব্য প্রেমে পরা ষোড়শী কিশোরী,অভিমানি এক প্রেমিকা।আদতে প্রবল ব্যক্তিত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ানক নিঃসঙ্গ মুনিয়া রাফির কাছে এলে আর কিছু লুকিয়ে রাখতে পারে না,অকপটে প্রকাশ পেয়ে যায় তার ভেতরের সমস্তকিছু। আর রাফিও যেন এক ক্ষ্যাপাটে পাগল প্রেমিক।রাতের পর রাত মুনিয়াদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থেকে তাকে কবিতা শুনিয়ে যায়- "আমি একদিন নিখোঁজ হবো,উধাও হবো রাত প্রহরে সড়কবাতির আবছা আলোয় খুঁজবে না কেউ এই শহরে"
মুনিয়া-রাফির এই অদ্ভুত সুন্দর বোঝাপড়া আর রোমান্টিসিজমের জন্যই হয়তো আপাতদৃষ্টিতে সমাজের মোরালিটির বিরুদ্ধগামী এই সম্পর্কটাও পাঠককে আকর্ষণ করতে থাকবে সমস্ত উপন্যাস জুড়ে।
"অর্ধবৃত্ত"-কে কেবল মুনিয়া-রাফির অসম প্রণয়গাথার গল্প ভেবে থাকলে ভুল করবেন। "অর্ধবৃত্ত" আপনাকে জানাবে জীবন কেন অর্ধবৃত্ত,জীবন কেন এবং কিসের অভাবে পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেনা। সাদাত হোসাইন এর স্বার্থকতা এই যে তাঁর উপন্যাসের কোন অপ্রধান চরিত্রও যেকোন মুহূর্তে হয়ে উঠতে পারে প্রধান।জীবনের গল্পে যেমন কোন চরিত্রই অপ্রধান নয়,আপন সত্তায় সতন্ত্র হয়ে উঠে জীবন গল্পের প্রত্যেকটি চরিত্র,ঠিক তেমনি "অর্ধবৃত্ত" কেবল মুনিয়া,রাফি কিংবা মুনিয়ার স্বামী জাফর কেন্দ্রিক হয়েই থাকেনি সেখানে বারংবারই প্রধান্য পেয়ে গেছে সেলিনা,দিপু,সুমি,ঋদ্ধি,আশফাক,হাফসা এবং নাবিলা,নাদিয়া,শফিকের মত চরিত্রেরা।প্রধান্য পেয়েছে চরিত্রগুলোর আবেগ,ভালোবাসা এবং বেদনারাও।
"অর্ধবৃত্ত"-এক মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দের গল্প। সদ্য কৈশোরে পা দেয়া মুনিয়ার মেয়ে ঋদ্ধির রাফির প্রতি স্বভাবসুলভ তীব্র আকর্ষণ উপন্যাসের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ চরমে নিয়ে যায়।মা-মেয়ের এই "একই পছন্দের" ভয়ংকর সত্যটা ঋদ্ধি কিছুই টের না পেলেও,ভালোভাবেই টের পেতে থাকে মুনিয়া। ভালোবাসা যে কি তীব্র বেদনা বুকে পুষে রাখার নাম তা লেখক নিপুণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন শফিক আর নাদিয়ার একে অপরকে ভালোবেসেও ভালোবাসতে না পারার প্রচন্ড তৃষ্ণায়।
উপন্যাসজুড়ে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে উপস্থিত হওয়া সেলিনার শেষের দিকে দিপু,নাদিয়ার জন্য হাহাকারটা যেন বুঝিয়ে দেয় জীবন গল্পের সকল নেতিবাচক চরিত্রও কেবল নেতিবাচক নয়,ইতিবাচকতার একটুকু ছোঁয়া লুকিয়ে থকে প্রত্যেকটা মানুষের বুকের ভেতর।যেমন লুকিয়ে ছিল সেলিনা,মছিদা বেগমদের ভেতরেও।
একটা জীবনের গল্প যেমন এক বৈঠকে বলা সম্ভব নয়,তেমনি "অর্ধবৃত্তের" গল্প একটা লেখায় উপস্থাপন করা অসম্ভব।অসংখ্য ছোট ছোট আবেগ অনুভূতির সংকলন এই "অর্ধবৃত্ত" পাঠককে বারবার ভাবতে বাধ্য করবে জীবন নিয়ে,এক জীবনে পুষে রাখা সুতীব্র হাহাকার নিয়ে,ন্যায় এবং অন্যায় এর সংজ্ঞা নিয়ে,ভালো মানুষদের ভিতরের খারাপটুকু আবার খারাপ মানুষদের ভিতরকার ভালোটুকু নিয়ে। "অর্ধবৃত্ত" নামক জীবন কে জানার এই সফরে আপনাকে স্বাগতম। Happy reading!💝
প্রতি বছর বৃহৎ কলেবরে যে বইটা সাদাত হোসাইন বের করেন, তার জন্য মুখিয়ে থাকি। 'নিসঃঙ্গ নক্ষত্র' কিংবা 'নির্বাসন' এর মতো এবারের 'অর্ধবৃত্ত'ও হতাশ করেনি।
বেশ কিছু জায়গায় কথোপকথন কিছুটা অস্বাভাবিক পরিমাণে বেশি ছিল। কিছু কিছু দৃশ্য চিত্রায়ণে তিনি অতিরিক্ত উপমা আর রূপক ব্যাবহার করেছেন, যাতে কিঞ্চিৎ বিরক্তি এসেছে। বেশ কয়েকটা চরিত্র না এলেও সুন্দর চলতো।
তবে অর্ধবৃত্তের গল্প বলার ধারাটা খুবই শক্তিশালী ছিল। বরাবরের মতো আশ্চর্য এক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রায় চারশো পাতার বইটা তিনি শেষ করেছেন নৈপুণ্যের সাথে।
অনেক অনেক দিন পরে মনে গেঁথে যাওয়া বইয়ের তালিকা করতে বসলে নিঃসন্দেহে 'অর্ধবৃত্ত' তাতে স্থান পাবে!
অর্ধবৃত্তঃ সাদাত হোসাইন “আমার কোনো বন্ধু নেই, যার কাছে আমি নিজেকে ভেংগেচুরে, খুচরো পয়সার মত জমা রাখতে পারি। যে আমাকে যত্ন করে সঞ্চয় করবে, প্রয়োজনে ফিরিয়ে দেবে একটা একটা আধুলি।“ জগতে কাউকে এমন পাবেন না, যে তার বন্ধু নিয়ে সন্তুষ্ট। কেউ কাউকে পুরোপুরি বুঝবেনা। তাই সব সম্পর্ক পুর্নতা পায়না, অর্ধবৃত্ত রয়ে যায়। সম্পর্কটা কি অর্ধবৃত্তের মত? যাকে ছোয়া যায় না, অথচ তাহলে তার প্রতি এত মায়া কোথা থেকে আসে? আবার যাকে ছুই-তার লাল চোখটা দেখে ঘাবড়ে উঠি। এপাশটা দেখি চাদের মত উজ্জ্বল-তা ওপাশটা মেঘে ঢাকা। উপন্যাসের শুরুটা শুরুর মতই। আধছায়া ভোর। জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকা যাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে, কিন্তু কেমন একটা আবছায়া অন্ধকার। তির তির করে বয়ে গিয়েছে সময়। সম্পর্কে ফাটল ধরে। ক্ষুদ্র খুত থেকে, চিড় থেকে বড় ফাটল সৃষ্টি হয়। সাদাত হোসাইনের কবিতাগুলিও মনে হয় তাই বারবার রিপিট হয়। কি জানি!? আগের মত শুধু প্রেম প্যানপ্যানানিতে তিনি আর নেই, একটু রহস্য যোগ করে দিয়ে, মাঝখানে একটা খুনের ঘটনা সমান্তরালে টেনে নিয়েছেন। মন্দ না। বইয়ের মলাটে একটা প্রশ্ন আছে। এই যে প্রেম, ভালোবাসা, ভালোলাগা। কিসের জন্য? রাফির মতে তা হল শরীর। গল্প এগিয়েছে, রাফির কাব্যিক ভাবে আমরাও সেদিক দিয়ে কি ভাবতে শুরু করেছি?!কিন্তু মন বলছে ত না। এতকাল যে অনির্বচনীয় সুন্দরের অনুভবে যার সাথে পরিচিত ছিলাম-তা কি নিছক ছলনা? অর্ধবৃত্তের মধ্য দিয়ে, জীবনের অপুর্নতার মধ্য দিয়ে, প্রেম হীনতার মধ্য দিয়ে লেখক জীবন উপন্যসে তার উত্তর দিয়েছেন। আংগুল দিয়ে খুটে খুটে, জোসনা রাতে, থানার টিম টিম আলোয় একেছেন অর্ধবৃত্ত। “ওই যে তুমি বললে না, শরীর পুরনো হলে ভালোবাসা কমে যায়, নতুন শরীরের প্রতি ভালোবাসা বাড়ে। ওটা আসলে শুধু শরীর না। সবকিছুর ক্ষেত্রেই সত্য। একটা বই পড়া হয়ে গেলে , না পড়া বইটার প্রতিই আগ্রহ তৈরি হয়। এটা সত্যি। কিন্তু কি জানো? বইয়ের ভেতরের গল্পটাই শেষ অবধি আসল। মানুষের ভেতরের মনের মত। শরীর পুরনো হয়, কিন্তু মন হয়না। বই পুরনো হয়ে যায়, কিন্তু গল্প না। পৃথিবীর সকল গল্প কিন্তু সেই একই। ভালোবাসাক বা ঘৃণার গল্প। আনন্দ বা দুঃখের গল্প। সেই একই গল্প কিন্তু আমরা সৃষ্টির শুরু থেকে শুনছি, শেষ দিন পর্যন্ত ও এই একই গল্প চলতে থাকবে। গল্পের বইগুলো কেবল পুরনো হয়ে যাবে। শরীরের মত” আগের উপন্যাসগুলির চেয়ে কাহিনীর ভিন্নতা এসেছে। প্রতিটা পর্বের শেষে হয়তো আবেগী লাইন টেনে মর্মে যেতে চেয়েছেন, কিন্তু চালাক পাঠক আমি, মন খারাপ হবে ভেবে, প্রায়শ ই তা কাট করে চলে গিয়েছি। “আমি একদিন নিখোজ হবো, উধাও হবো রাত প্রহরে, সড়ক বাতির আবছা আলোয়, খুজবে না কেউ এই শহরে। ভাববে না কু , কাপবে না কেউ, কাদবে না কেউ একলা একা এই শহরের দেয়ালগুলোয়, প্রেমহীনতার গল্প লেখা”।
জীবনের সবচেয়ে সহজ ও জটিল সমীকরণের নাম সম্পর্ক। অর্ধবৃত্ত মূলত সেইসব সম্পর্কের সংকট, সংযোগ ও সমীকরণের গল্প। দেয়াল ও দ্বিধার গল্প। বিভেদ ও বন্ধনের গল্প। যার আদ্যোপান্ত জুড়ে রয়েছে জীবন। গল্পটির মূল চরিত্র পাচঁ-ছয়টি। উপন্যাসের চরিত্র- মনিয়া, রাফি, জাফর, ঋদ্ধি, আফজাল আহমেদ, মজিদা বেগম, নাদিয়া, সফিক, মুকিত, নাবিলা, সাজ্জাদ, সুমি, দিপু, সেলিনা, আকবর আলী, ফজলে নূর আরো অনেকেই!!
আমরা কাছের মানুষ থাকতে বুঝিনা তার কদর কতোটা, সে কতোটা প্রিয়, যখন দুরে চলে যায়, তখন প্রয়োজন বুঝি, তখন সময় ফুরিয়ে যায়। সম্পর্কের দিক দিয়ে দেখা যায়, সম্পর্ক আয়ু মানে না। যেকোনো বয়সের মানুষ তলিয়ে যায়, তার প্রিয় মানুষটির প্রতি-হোক সে ছোট বড়। আর সেই ধরণের সম্পর্কে ডুবে যায় রাফি, সাথে মুনিয়াও। সে চরিত্রে একজন পাঠককে শেষ পযন্ত ডুবিয়ে রাখবে পুরো উপন্যাসে।
রয়েছে "ঋদ্ধি" চরিত্র! ছোট্ট মেয়েটা কখন যেনো হঠাৎ বড় হয়ে গেলেন মা-বাবা সামনে, ব্যস্ততার কারণে মা-বাবা কেউ টেরও পেলেন না। এই বয়সে মেয়েদের মাঝে, এক ধরণের ভালো লাগা কাজ করে, তা লেখক পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলে ধরেছেন।
তারপরে দেখি" সুমি" চরিত্র! গ্রামের মেয়ে পড়াশুনার কারণে ঢাকায় ম্যাচে থাকে। হঠাৎ একদিন তার বাবা কিছু না বলে চলে আসে ঢাকায়। মেয়েকে চমক দেওয়ার জন্যে। বাবা-মেয়ের শহর ঘুরার ফাকে, দুই প্লেট ফুচকা, দুই প্লেট চটপটি খেলেন। সুমির মনে মনে বাবার কতো আশায় পূরণ করার স্বপ্নের কথা দিপুকে অবিরত বলেছেন। আর দিপুকে নিয়েও কতো স্বপ্ন ছিলো তার।
আসুন "নাদিয়া" চরিত্র! নাদিয়া ও সফিকের এক ধরণের না বলা ভালবাসা, তাদের মাঝে কাজ করে। সেই থেকেই গোপনে অভিমান, লজ্জার, এক বড় ধরণের ঘোর চলে আসে। মাঝ খানে দীর্ঘ পথ অতিবাহিত করে শেষটায় এসে দুজনেই বুঝতে পারে!
তারপর "সেলিনা" চরিত্র! এই চরিত্রে অহরহ দেখি, ডিভোর্সি নারী। আমাদের সমাজে কিংবা ঘরে তারা প্রতিনিয়ত কিভাবে তাদের অবহেলিত করা হয়।
এবং "রফিকুল আলম'' চরিত্র! পড়ার শুরুতেই আপনার মাঝে এক ধরণের কৌতুহল সৃষ্টি করবে, এই কৌতূহল হলো, রফিকুলের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে। আর এই মৃত্যুর রহস্যময় উদ্ধার করতে গিয়ে উপন্যাসের শেষ প্রান্তে এসে দেখা যাবে এমন একটি লোক হত্যা করেছে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।
সম্পর্কের নানা সংযোগ জটিল সর্ব সমীকরণ কিভাবে এতো সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন, সাদাত হোসাইন ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এতো সুন্দর একটা উপন্যাস উপহার দেওয়ার জন্য, আর হ্যাঁ চাইলে আপনিও পড়ে নিতে পারেন উপন্যাসটি?
অর্ধবৃত্ত একটি একান্নবর্তী পরিবারের সকল সদস্যের কাহিনী। তবে মূলত প্রোটাগোনিস্ট হলো মুনিয়া। জাফরের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে সে ঝুঁকে পড়েছে অসম বয়সী এক পরকিয়ায়। তিনি তার কিশোরী মেয়েকে রাফির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়তেও লক্ষ্য করেছিলেন যা তৈরি করে একটি জটিলতা। এদিকে যেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সে, তার গভর্নিং বডির সদস্যদের মধ্যকার রাজনীতি, একজনের মৃত্যু পরিস্থিতি তার ক্যারিয়ার জীবনে একটি দ্বিধা নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি চলতে থাকে মুনিয়ার শশুর-শাশুড়ি, দেবর দিপু, ননদ সেলিনা, ভাসুর আশফাক, ভাসুরের মেয়ে নাদিয়ার জীবনবৃত্ত আর সম্পর্কের সমীকরণের গল্প । সম্পর্কের সংযোগ, সঙ্কট ও সমীকরণের গল্প নিয়ে লিখা অর্ধবৃত্ত। পাঠক-প্রতিক্রিয়া: আমি লেখকের সহজ লেখার স্টা��লটি পছন্দ করি। তবে, তিনি চরিত্রগুলির মধ্যে অনেক দার্শনিক চিন্তাভাবনা রেখেছিলেন যার সাথে আপনি পাঠক হিসেবে সম্ভবত সর্বদা একমত না ও হতে পারেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এগুলি অন্য ব্যক্তির মতামত হিসাবে পড়ি। আমি যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেছি তা হলো অনেক চরিত্রের কাহিনী থাকলেও পাঠক হিসেবে আমি ধারাবাহিকতা হারায় নি। লেখক প্রতিটি চরিত্রের জটিল গল্প সহজ, অ-বিভ্রান্তিমূলকভাবে তুলে ধরেছেন।
আমি স্ক্রিনে অনেক নির্মম,হিংস্র ভিডিও দেখেছি চোখের পলক না ফেলে। ছোট থেকে বাবাকে কোরবানির ঈদে গরু জবাই করতে দেখেছি! সাময়িক অনুভূতিতে কুকড়ে গেছি! কিন্তু ধর্ষণ এর উল্লেখ বা ঘটনার সামান্য আঁচ বা যন্ত্রণার কাব্যিক বর্ণণাও আমার মূলে আঘাত করে। আমি থেমে যাই। মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকি। মানসিক যন্ত্রণা টা শরীরে গিয়ে পৌঁছে! আমি অসুস্থ হয়ে যাই। যদি আমার বলার সুযোগ থাকতো আমি সব লেখককে অনুরোধ করতাম-আর যাই হোক,দয়া করুণা করেই হোক,বই এ যেন কখনো কোনো প্রকার ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ ই না থাকে!
আগে বই পড়ে,মুভি দেখে যেটা ভেবে আমার ভালো লাগতো সেটা হচ্ছে-কেউ তো ভালো আছে! আজকাল মুভি দেখে,বই পড়ে সেই অনুভূতি হয় না!সব লেখক কেমন বাস্তববাদী হয়ে গেছেন! মানুষগুলো কে বুঝলে মানুষগুলো কে আসলেই কি আর দোষী বলা যায়?? শুধু মুনিয়ার সব মেনে নিতে পারি নাই। এতোগুলো মানুষ বিনা দোষে যন্ত্রণা ভোগ করলো- শারিরীক এবং মানুষিক। মুনিয়ার প্রাপ্য আমি জাজ করে ফেলসি!😅
This entire review has been hidden because of spoilers.
হোয়াট আ পাথেটিক রাইটার সাদাত হোসেন ইস!! ডাহ!!! এই লেখকের আর বই এই জীবনে কিনবো না! কি লিখে এই সব? কথার মাঝে মাঝে "অবধি" লিখে ফেল্লেই ইন্ডিয়ান লেখক দের মতো হয়ে গেলেন? এই বইয়ের মূল নায়িকা কে দেখিয়েছেন একজন ফেমিনিস্ট হিসেবে তারপর পোলার সমান ছেলের সঙ্গে প্রেম? তাও দৈহিক!! লাস্ট এ গিয়ে আবার একজন খারাপ রাজনৈতিক বাক্তির সঙ্গে লটর পটর করার কাহিনি। এই খানে এসে মনে হয়েছে সাদাত হোসেন ও একজন সেক্সিস্ট! গ্রামের আলা ভোলা মানুষ ও ইংলিশ ওয়ার্ড ইউস করে! হোয়াট দা ফাঁক!! আরো অনেক কিছু লিখার ইচ্ছা ছিলো বাট বই টা পড়ে মেজাজ দারুন গরম হইসে!
সাদাত হোসাইনের অন্য বইগুলোর মত এই বইয়েও তিনি মানুষের সম্পর্ক নিয়ে লিখেছেন। প্লট আর প্রতিটি চরিত্রের গঠন খুব সময় নিয়ে কাজ করেছেন লেখক, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে শেষটা বেশ তাড়াহুড়োতে শেষ হয়ে গেছে। ছোট ছোট কবিতার লাইন গুলো সুন্দর ছিলো। ৩৮৪ পৃষ্ঠার বই শেষ করার পর যে তৃপ্তি পাওয়ার কথা কেন যেন তা পেলাম না। মুখ্য চরিত্র হিসেবে মুনিয়া কে যেভাবে বিস্তার দেয়া হয়েছিলো শেষটা কেন যেন অদ্ভুত লাগলো।
লেখাটার মধ্যে হুমায়ুন আহমেদের লেখার ধাচ অনেক বেশি মনে হয়ছে। এজন্য হয়ত কিছু জায়গা মাত্রাতিরিক্ত কাল্পনিক কিংবা সহজে মেনে নেয়া যায় না। চরিত্রগুলো কেমন যেন তবে লেখক সম্পর্ক ও সম্পর্কের স্বার্থপরতা নিয়ে বেশ ভালোই দ্বিধা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। লেখক হয়ত বিভিন্ন সম্পর্কের উপস্থাপন করতে চেয়েছেন সেক্ষেত্রে তিনি সফল। মুনিয়াকে এখনো বুঝে উঠতে পারি নি!
এই বইটা কেনার পর আমি আর কখোনো সাদাত হোসেনের বই কেনার কথা চিন্তা করিনি। বইটা কে সুন্দর করে শেষ করা যেত কিন্তু অনেক বেশি টানা হয়েছে অকারণে। প্রতিটা চরিত্র মুটামুটি লেগেছে আর হ্যাঁ এন্ডিং এর টুইস্ট টা ভালো লেগেছে কিন্তু তাই বলে হুদাই না গেজাইলেও ভালো হতো।যেখানে একটা গল্প নরমাল ভাবে উপস্থাপন করা যেত সেখানে এত্ত পেইজ না টানলেই ভালো হতো।
শুরু থেকেই প্রধান চরিত্র মুনিয়াকে পছন্দ করতে পারছিলাম না।এবং শেষে এসেও একই থাকল।সমস্ত কিছুর নাট্যকার আসলে মুনিয়াই।সে নিজের সুখ খুঁজতে গিয়ে শান্তি খুঁজতে গিয়ে, নিজের বৃত্ত পূর্ণ করতে গিয়ে অনেকগুলো মানুষের জীবন অর্ধবৃত্তে রেখে দিলো.....