আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন এক একটা করে রাত আসে, যার যাত্রী হওয়ার সাধ আমাদের জাগলেও, যাত্রা সম্পূর্ণ করার মতাে সাধ্য আমাদের থাকে না! কী হলে কী হত, কি বিসর্জন দিলে কী পেতাম কিংবা ওই ব্লেডের ধারালাে দিকটা আর কবজির দূরত্বটা যদি আরেকটু বেশি হত তাহলে কী হত, এরকম অজস্র প্রশ্ন ওই রাতগুলােকে ঘিরে থাকে। কিন্তু উত্তর মেলে না। কেউ উত্তর দেয় না, দিতে পারে না। উত্তর আমরা নিজেদের মতাে করে খুঁজেনি, নিজেদের ফ্রাজাইল ইগােকে স্যাটিসফাই রাখতে! কিন্তু প্রতিটা উত্তরই, একগলা দলা পাকানাে দীর্ঘশ্বাসে গিয়ে শেষ হয়! এরকম যাত্রীবিহীন কিছু রাতের সমষ্টি হল এই 'মেলানকোলির রাত' আশা করি আপনাদের ভালাে লাগবে।
মেলানকোলির রাত। কৌশিক সামন্ত, টাইমস্ থ্রী। কথায় বলে 'থার্ড টাইমস দা চার্ম'। তৃতীয়বার লেখকের লেখা নিয়ে বসে, আমার ক্ষেত্রেও উক্তিখানি আশ্চর্যভাবে মিলে গেলো। বিগত বছরের সমস্ত হতাশা, মিলিয়ে এলো এক শীত জ্যোৎস্নার রঙিন বুকে। অল্প অল্প করে, কয়েকদিন ধরে পড়ে ফেললাম দারুন একটি সংকলন।
কাব্য করছি বলে ভাববেন না, বইতে কোনো প্রেমের গল্প পাবেন। হ্যা, লেখাগুলোর অন্তর ঘাটলে হয়তো বা ভালোবাসার দেখা পেতে পারেন, তবে সে জিনিসের ধরন শেষ রাতে কিঞ্চিৎ কালো ও ঠান্ডা হয়ে এলে আমায় দুষবেন না আবার! 'মেলানকোলির রাত', একটি আদ্যোপান্ত অলৌকিক গল্পগ্রন্থ। লেখকের কল্যাণে, বইয়ের পাতায় ভীড় জমায় কুড়িটি অতিপ্রাকৃত কাহিনীর ব্যান্ড বাজা বারাত। মানছি, কারও কাছে এটুকু পরিধিতে বিশটা গল্প অতিরিক্ত মনে হতেই পারে।
তবে, ব্যক্তিগতভাবে, পুঁচকে ক্রিপিপাস্তা গোছের কাহিনী আমার বেজায় পছন্দের। তাই বেশ কয়েকটা বাইট-সাইজড্ অণুগল্প হাতে পেয়ে বইটার প্রতি অনুরাগ বাড়ে বই কমে না। এদের স্বল্প পরিধি, ভয়ের শীতল স্পর্শ ছোঁয়াতে সময় নেয় অল্প। কম কথায়, অনেকটা ভয় দেখানোই এদের উদ্দেশ্য। এবং এখানেই লেখক যথেষ্ট সফল। সুপাঠ্য লেখনশৈলী। সাবলীল বাঁধুনি। চমকপ্রদ পরিণতি। সব মিলিয়ে, এই বই, 'প্রফেসর সোম'-এর থেকে অনেকাংশেই বেটার।
হ্যা, সব গল্পই যে দশে-দশ, তেমনটা নয়। যেকোনো ভালো সংকলনের নিয়মেই, ভালো গল্পের সাথেই খারাপের (দেখুন : বিস্মরণযোগ্যের) সহাবস্থান। তবুও সবটাই বেশ মনোরঞ্জক। অতিকথনের মার্কেটে, স্মার্ট, নির্মেদ হররের দেখা পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়। এই বই, সেই শূন্যস্থান কিছুটা হলেও পূরণ করতে পেরেছে। সংযত চিত্তে পাঠককে স্পুন-ফিড্ করা থেকে বিরত থেকেছেন লেখক। পাঁচে-পাঁচ না হলেও, আমি এতেই খুশি। এছাড়াও, বিশেষ উল্লেখ্য, প্রতি গল্পের শুরুতে স্বপন চন্দের অমন সুন্দর সাদা-কালো অলংকরণ!
তবে, একটা সমস্যা কিন্তু থেকেই যায়। বইতে গল্প বলতে গিয়ে দেশী ও বিদেশী, উভয় পটভূমির সাহায্যই নিয়েছেন লেখক। এবং বেশ কিছু গল্পে, নামকরণের ক্ষেত্রে রিপিট করেছেন অনিচ্ছাকৃত সামঞ্জস্য। এটা নতুন কিছু নয়। এর আগে এই একই জিনিসের দেখা লেখকের 'প্রফেসর সোম'-এও পেয়েছি। তাই ওনার উদ্দেশ্যে বলতে ইচ্ছে হয়, চরিত্রায়নে একটু ভিন্নতা আনুন প্লিজ। তা সে বড় গল্পই হোক, কি ছোট। এইতো।
ভালোবাসার রাজমহলে মিলনের অনন্ত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অপেক্ষা করছে এক মৃত্যুফাঁদ।
প্রকৃতি বড্ড অদ্ভুত নিয়মে চলে, ওপারে কেউ গেলে তবেই এপারে কেউ আসবে–স্যাক্রিফাইস।
অদ্ভুত রোগ–আক্রান্ত হলে ক্ষুধা বেড়ে যায় বহুগুণ, যে ক্ষুধা থেকে রেহাই পায় না কিছুই, কেউই।
মাসিন্দাদেবী–তাকে তুষ্ট করতে পারলেই তিনি দর্শন দেন পুজো নিবেদনকারীর আকাঙ্ক্ষিত প্রেয়সী রূপে।
ইতিহাসের ফারাও হুনি তার নিজের ছেলে রামোসিসকে জীবন্ত সমাধি দিয়েছিলেন। ঘটনাটার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে আবার।
▪️▫️▪️
২০টি অণুগল্পের সমাহার। বড় বই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে একটা করে গল্প পড়ার জন্য নিয়েছিলাম। কিন্তু শুরু করতেই সব পড়ে ফেললাম। খুব ভয়ের না, একটু গা-শিরশিরে। ৩/৪টা গল্প ভালো বুঝিনি। সেগুলোর সমাপ্তি বোঝার জন্য কল্পনাকে অনেকদূর প্রসারিত করতে হয়েছে। তবে কয়েকটা দারুণ! আরামপ্রদ অতিপ্রাকৃতের স্বাদ হিসেবে মন্দ নয়।
অতিপ্রাকৃত বা হরর গল্প পড়ে আমি প্রায় কখনোই ভয় পাই না। কিন্তু পড়তে ভালো লাগে। "মেলানকোলির রাত" সেকারণেই পড়া। প্রথমেই মুগ্ধ হলাম "বোরিংপুর বাইফোকালস" এর সাথে এই বইয়ের গদ্যের ভিন্নতা দেখে। কয়েকটা গল্প বেশ ভালো লাগলো। লেখকের মধ্যে জোর করে পাঠককে ভয় পাওয়ানোর চেষ্টা নেই। অতিপ্রাকৃত গল্পের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতেও তিনি পারঙ্গম। তবে গল্পের পরিমাণ কমানো যেতো বোধহয়।
'মেলানকোলির রাত' বইটাকে আমি ভেবেছিলাম মন খারাপ করা কোনো কন্টেম্পোরারি নভেল/ ট্র্যাজিক বই হবে হয়তো। হয়তো মন খারাপ করা রাতের গল্প শুনবো। তবে আমার ধারণা ভুল ছিলো, এটি আসলে একটা হরর গল্প সংকলন! তবে ভালো লেগেছে গল্পগুলো পড়তে। অত প্যাচগোছ নেই কাহিনীতে। অনেকগুলো গল্প, অনেকরকম ফ্লেভার। কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটা দুটো করে পড়তে পড়তে দেখি বই শেষ! সব গল্প যে ভালো লেগেছে তা না। তবে সুখপাঠ্য আর কি! ভালোই কাটলো সময়।
মোট ২০টি গল্প । মেলানকোলি বলতে আমরা মূলত বুঝি গাঢ় বিষণ্ণতা । কিন্ত বইয়ের প্রত্যেকটি গল্পের মূল ফোকাস ছিল মৃত্যু । মৃত্যু বিষাদের দেখেই হয়তো বইয়ের এমন নামকরণ । গল্পগুলোর প্লট বেশ অন্যরকম, গড়পড়তা ভূতের গপ্পো বা সেরকম কিছু নেই । দেশ থেকে বিদেশ, শহর থেকে জঙ্গল আর গ্রামীণ থেকে আধুনিক সভ্যতা - সব রকমের গল্পই আছে ৷ হাতে কিছুটা অবসর থাকলে পড়ে ফেলার মতোন একটা বই । অধিকাংশ গল্পই খুব ছোট, মেদহীন । স্টোরিলাইন ঠিকঠাক হলেও ডেভেলপমেন্ট খুব একটা ভালো লাগেনি ।
আপনি যদি মোটা মোটা বই পড়তে ভয় পান তাহলে এই বই আপনার বই। বই পড়ার সবে হাতেখড়ি হলেও এই বই দারুন। মাত্র ১৭৪ পাতার মধ্যে ২০ খানা ছোট গল্প ধরিয়ে দেওয়া আছে। "একটা গল্প বলতো দেখি" কেউ বললে তাকে ৫ মিনিটের মধ্যে শোনাতে পারবেন এরকম ধরণের তথাপি দুর্দান্ত সব গল্পের সমাহার এই বই। 🤗🤗 সাইন্স ফিক্শন আছে, ডার্ক ফ্যান্টাসি আছে, হরর আছে আবার একটি হরর কমেডিও আছে। বইয়ের ভালো দিক: লেখকের সেই ঘাড় ধরে গল্পের মাঝে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়া এখনও আছে। এই জন্যই এনার লেখা বেশ আলাদা ধরণের লাগে। 😎😎 কিছু গল্প ছোট কিছু মাঝারি তবে সবকটির শেষেই বেশ চমক আছে। মেলানকোলির রাত নামটি স্বার্থক কারণ প্রত্যেকটি গল্পই আপনার মন কেমন করে দিতে বাধ্য। 😍😍 গল্পগুলি ছোট হলেও সব এক একটি মাস্টারপিস। খারাপ দিক: গল্পের শুরুতে ছবি গুলো দুর্দান্ত কিন্তু অনেক সময় গল্পের প্রধান টুইস্ট তাই ধরে ফেলেছি এই ছবি দেখে, এতে অনেকটা মজা ন্যাতা মেরে গেছে বটে। 🙁
আজ, বইটা বেরিয়ে যাওয়ার এত-এতদিন পর হঠাৎ খেয়াল হল, কেন যেন এটা এখনও গুডরিডস-এ 'অপঠিত' গোত্রভুক্ত হয়ে রয়েছে। ত্রুট�� সংশোধন ছাড়া এ আর কিছু নয়। তার কারণ... এই বইয়ের রিভিউ খুব কঠিন, জানেন! ভালোবাসা, অপ্রাপ্তি, কুয়াশা, মৃত্যু, আনন্দ— আপাতদৃষ্টিতে এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস, বা অনুভূতি। কিন্তু এই বইয়ের গল্পগুলো সে-কথা মনে করে না। শুধু তাই নয়; গল্পগুলো পড়লে নিজেরও মনে হয়, বিষাদমধুর এক রাতে আমরা যেন লেখকের হাত ধরে রওনা দিয়েছি কোনো এক অজানার উদ্দেশে। মাথার ওপর অচেনা আকাশ, পায়ের নীচে অচেনা জল-মাটি-বরফ, চারপাশে কুয়াশা... অথচ দূর থেকে ভেসে আসা একটা হালকা সুর আমাদের বলে চলেছে, "চলো। আর একটু তো! তারপরেই..." তারপরেই? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তো এই যাত্রা। এই অনুভূতির জায়গাটা বইয়ের ভূমিকায় গুঁজে দিতে চেয়েছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই পারিনি। পারা যায় কি আদৌ? কিন্তু মেলানকোলির রাত পড়া যায়— লেখকের মতো করে, নিজের মতো করে, ভালোবাসার মানুষটার মতো করে, আর... চির-অপ্রাপনীয় মানুষটার মতো করে।
কৌশিক সামন্ত এর আগেই তাঁর 'প্রফেসর সোম' বইয়ে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন। সে বইয়ের রিভিউ করতে গিয়ে বুঝেছিলাম, এ লোকটা হরর গল্প লেখার ক্ষেত্রে লম্বা রেসের ঘোড়া। সেই ভাবনারই ফলশ্রুতি হলো মেলানকোলির রাত। দেশ ও বিদেশের নানা পটভূমিকায় সাজানো ২০টা হরর কাহিনী রয়েছে এই বইয়ে। নিছক ভুতুড়ে গল্পও বলা যায়না গল্পগুলোকে। আবার, তন্ত্রের সঙ্গে জড়িত এক-একটা হাড় হিম করা ভয়ঙ্কর কাহিনীও পাবেন না। কিন্তু পড়ার পর শিরদাঁড়া বেয়ে বরফের কিউব নামার মতো অনুভূতি হলে সে দায় লেখকের। আমরা কোনো সংকলনেই সব কাহিনীকে সমমানের হতে আশা করতে পারিনা। মেলানকোলির রাতও ব্যতিক্রম না। বেশ কিছু গল্প আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগেনি। সে বিচার পাঠক টু পাঠক ভ্যারি করুক বরঞ্চ। তাই সেসব গল্পের নাম করব না। তবে মাসিন্দা এই বইয়ের শ্রেষ্ঠ গল্প বলে আমার বিশ্বাস। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেষ্ঠ গল্প বলতে হলে আমি বলব: মেলানকোলির রাত ও চিল্কিগড়ের জঙ্গলে। এম এইচ ১৭ গল্পের শেষটা আপনার মনে ভয় ধরানোর চেয়েও বেশি আপনাকে ভাবাবে। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় লেখক বিদেশি প্লটের চেয়ে দেশি প্লটে অনেকটা বেশি সিদ্ধহস্ত। বিদেশি প্লট বরঞ্চ প্রফেসর সোমের জন্যই থাক। শুধুমাত্র দেশি প্লট নিয়ে আরও একটা বইয়ের অপেক্ষায়। সর্বোপরি, একটা উপন্যাসের বায়না করে গেলাম।
কাটায় কাটায় ★ ★ ★ ★ পাবে বইটা। লেখকের প্রফেসর সোম পড়েছিলাম ভালো লেগেছিলো দেখে এটা অর্ডার করি। ২০ টা গল্প নিয়ে সাজানো 'মেলানকোলির রাত'। সবগুলো গল্পই যে ভালো লাগবে এমন নয় তবে ৬-৭ টা গল্প বেশ ভালো লেগেছে মানে সাধারণ একটা গল্প কিন্তু শেষটা বেশ চমকপ্রদ বা একটু ঘোরলাগানো।
ছোটগল্প হিসেবে মানানসই বেশকিছু গল্প ছিল তবে সমস্যাটা ছিল কয়েকটা গল্পে লেখক একই নামের চরিত্র বসিয়েছেন যার জন্য বারবার মনযোগ অন্য গল্পে চলে যাচ্ছিলো। দু একটা গল্পের শেষটা আবার বুঝে উঠতে পারিনি।
অন্ধকার বা অতিপ্রাকৃত ভয়ের যে জগত সেই জগতে বেশ স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেন কৌশিকদা, এটা তার ‛প্রফেসর সোম’ থেকেই প্রমাণ পেয়েছি । এই সংকলনটিতে আছে সেইরকমই অন্ধকার জগতের ২০টি উপাখ্যান । গল্পগুলি যে বীভৎস বা ভয়াবহ তা বলবো না, কিন্তু গল্পগুলির মধ্যে এমন কিছু আছে যা পড়ে শিহরিত হয়ে উঠতে হয় , থমকে যেতে হয় বেশ কিছু ক্ষেত্রে । আরেকবার পড়তে হয় এটা বুঝে ওঠার জন্য যে - আরে! এটা কী পড়লাম ?? প্রতিটি গল্পেই আছে মৃত্যুর শীতল স্পর্শ এবং মানুষের মনের অন্ধকার দিকগুলির কিছু উদাহরণ ।
প্রতিটি গল্পই যথাযথ ভাবে উপস্থাপিত করা, যতটুকু বর্ণনা প্রয়োজন ততটুকুই । এই বইয়ের গল্পগুলো এমন কিছু রহস্যময়, অপ্রাকৃতিক রাতের কথা বলে, যেখানে রয়েছে ভয়, মনখারাপ এবং কষ্ট মেশানো অদ্ভুত সব অনুভূতি । আমার ব্যক্তিগতভাবে সবথেকে প্রিয় গল্প হলো ‛স্পর্শ’ ।
স্বপন চন্দ্রের ইলাস্ট্রেশনগুলির কথা না বললেই নয়, সেগুলি গল্পের সাথে এতটাই যথাযথ যে দেখামাত্রই গল্পটির প্রতি পাঠক এক অদ্ভূত আকর্ষণ অনুভব করবেন । ‛মেলানকোলির রাত’ নামটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন সুন্দর প্রচ্ছদ কৃষ্ণেন্দুদার পক্ষেই সম্ভব । সবমিলিয়ে বলতে পারি ভয় এবং ভাবনার রসদ সমৃদ্ধ এইরকম গল্প এর আগে আপনি পড়েননি, তাই নিঃসন্দেহে পড়তে পারেন এই বই । ভালো লাগবে ।
মেলানকোলি শব্দটার সাথে পরিচয় স্কুল জীবনে,Wordsworth এর The Solitary Reaper কবিতাতে। মানে জিজ্ঞেস করায় স্যার বলেছিলেন,মেলানকোলি হলো বিষাদময় একটা অনুভুতি। শব্দটা ভালো লেগেগিয়েছিলো খুব। আর এই শব্দটার প্রতি ভালোলাগাটা হয়তো একটা কারণ ছিল বইটা কেনার পেছনে। এবারের কলকাতা বইমেলাতে প্রকাশিত হয়েছে কৌশিক সামন্তের মেলানকোলির রাত বইটি। কুড়িটি ছোট গল্প দিয়ে সাজানো ১৭৩ পাতার বই। প্রতিটা গল্পেই রয়েছে সেই "শেষ হয়েও হইল না শেষ" ছোট গল্পের ফ্লেভার। তবে অন্তরে অতৃপ্তি থাকেনি। কোথাও অলৌকিক জগতের হাতছানি,কোথাও বিষাদ,কোথাও রোমাঞ্চ,কোথাও ভয়! একেকটা গল্প এনে দিয়েছে একেক রকম অনুভূতি। না,কোনো একটা বা দুটো গল্পের নাম বলতে পারবোনা ফেভারিট হিসাবে,কারণ প্রত্যেকটি গল্পই নিজগুণে নাম্বার ওয়ান। বইয়ের প্রথম গল্প #বুড়ো_মাঝির_গান আর শেষ গল্প #মেলানকোলির_রাত বইয়ের নামকরণ সার্থক করেছে। পড়ে ফেলুন। বিশেষত,যদি ছোটো গল্প প্রেমী হোন, তাহলে অব্যশই সংগ্রহে রাখুন।নিরাশ হবেননা।
"মেলানকলির রাত" নামটা শুনেই যে পরিমাণ উৎসাহ জন্মেছিল, তার পুরোটাই মিটিয়ে দিয়েছে এই বই। বইয়ের প্রত্যেকটা গল্পের স্বাদ আলাদা হলেও কিছু জিনিস সেগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছে ; মৃত্যু, বিষন্নতা, ভয় এবং প্রত্যেক গল্পের শেষে পাঠককে ভাবার সুযোগ করে দেওয়া। একরাতের মধ্যে শেষ একদিনে শেষ করে ফেলার পরেও রেশ কাটতে চায় না।
গল্প এবং অণুগল্পের বিষাদ ভরা সংকলন হল কৌশিক দা এর "মেলানকোলির রাত"। ১০ টা অণুগল্পের মধ্যে আলাদা করে বলবো "কাক" আর "অচেনা passage" এর কথা। ১০ টা গল্পের মধ্যে সেরা কতকগুলো গল্প হল, মাসিন্দা-গ্রাম্য কিংবদন্তি আর ৩ বন্ধুর adventure নিয়ে এই গল্প মায়াবী মায়ং-হয়তো এই বইয়ের আমার সবথেকে পছন্দের গল্প এখান, চিল্কিগড়ের জংগলে-এর থে���ে বড়ো plot-twist আর কোথাও পড়েছি বলে মনে পড়ে না, আর মেলানকোলির রাত-ভাষা নেই, মানে বুঝতে পারছি না কি লিখবো!! উপরের সবকটি গল্পই শেষ হয়েছে মনের কোনো এক বিষাদ, না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে। এরকম একটা বই উপহার দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ লেখক এবং প্রকাশক কে।
খালি একটা কথাই বলবো, গল্পগুলোর একটা বড়ো strong point হল এদের plot twist। আর সেই twist গুলোর সবথেকে বড়ো spoiler হয়ে দাড়িয়েছে ভেতরের অলংকরণগুলো। বাকি, সমস্তটাই প্রচুরভাবে উপভোগ্য।।
কুড়িটা গল্প, হাল্কা ভয়ের, হাল্কা অতিপ্রাকৃত। কিছু গল্পের প্লট খারাপ না, কিন্তু লেখকের লেখার বাঁধুনী খুবই দুর্বল। মাঝারি মানের প্লটে কি করে পাঠককে আটকে ফেলতে হয়, সেই কৌশল মকসো করার আগেই বই ছাপানোর সুযোগ এসে গেলে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে!
কিছু অসাধারণ ইংরেজি বাক্যবন্ধ ব্যবহারের উদাহরণ দিচ্ছি।
বেশিকিছু বলার নাই। ১/২টা গল্প ছাড়া বাকি কোনো গল্পই যুইতের না। এক্সিকিউশান, লেখনশৈলী অ্যামেচারিশ। ২য় পার্ট বের হইছে এবং এই পার্টের রেটিং ৩.৮২ দেখে আতঙ্কিত বোধ করছি। এমন শা**র বই এই রেটিং এবং জনপ্রিয়তার মানে একটাই, বাংলা সাহিত্য অলরেডি *দ খেয়ে গেছে।
কিছু কিছু বই থাকে যেগুলো পড়ার পরে ভালো নাকি খারাপ এই বাইনারি সিস্টেমে ফেলা খুব মুশকিল। এই বইটিও সেরকম ইদানিং অলৌকিক জঁরের বই কেনার আগে তিনবার ভাবি। আজকাল বেশিরভাগ অলৌকিক গল্পেই তন্ত্র না হলে ধর্মের কোনো অপদেবতা থাকবেই। বইমেলায় এক প্রকাশকই বলছিলেন, আজকাল সবাই তন্ত্রের এত বিকৃত রূপটা লেখার জন্য তুলে ধরছে, সাধারণ পাঠকের কাছে কোথাও না কোথাও তন্ত্রের সম্পর্কে ভুল বার্তা যাচ্ছে। তিনি কতটা ঠিক কিম্বা ভুল সে প্রসঙ্গে না গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বলবো, কোথাও না কোথাও গিয়ে ব্যাপারটা এবার একটু একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে। ঠিক এই কারণেই এই সময়ে দুজন অলৌকিক লেখকের বই দেখলেই আমি কোনো চিন্তা না করে তুলে নিই। কৌশিক সামন্ত ও সুদেব ভট্টাচার্য।এঁরা অলৌকিক জঁরকে নতুনভাবে পাঠকের কাছে আনছেন। . যাইহোক মূল প্রসঙ্গে ফিরি। একই লেখকের প্রফেসর সোম নিয়ে আমার একটি অভিযোগ ছিল যে গল্পগুলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে সহজ অনুমেয়। জানিনা, লেখক জ্ঞানত এই অভিযোগের উপরে কাজ করেছেন কিনা, তবে এই সংকলনের গল্পের টুইস্টগুলো বেশ ভালো ও আনপ্রেডিক্টেবল। এই সংকলনে গল্প রয়েছে 20টা। কোথাও ভূত নেই, প্রায় কোনো অপদেবতা নেই, সেরকম বীভৎসতা নেই; তারপরেও একটা গা ছমছম ব্যাপার ঘিরে থাকে। একজন লেখকের একটি বেস্ট সেলার লেখার থেকে এক্সপেরিমেন্টাল কাজের ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহ দেখানো উচিত বলেই আমার মনে হয়। আর ঠিক সেখানেই এই বইটাকে আমি 10 এ 9.5 দেব। 0. 5 কেটে রাখলাম পরের বারে আরো ভালো চেষ্টা দেখতে চাই বলেই। CBSC বোর্ড নাকি কলা বিভাগেও 100 তে 100 চাই?!!☺️😊 . তবে এত কিছু ভালোর মধ্যে কিছু সমস্যা আছে। গল্প বাসন্তী আম্মা। পৃষ্ঠা 68 লাইন 5। গল্পের কথক মুনশিজি বলছেন, তারা ছোট ছিলেন তাই পাহাড়ের মাথায় ঠিক কী হয়েছিল তিনি জানেন না। অথচ 69 পাতায় 14 নম্বর লাইনে বাসন্তী আম্মার শেখানো প্রক্রিয়াতে তিনি কি শেখাননি সেটা মুনশিজি বলে দিচ্ছেন। যদি বুঝতে ভুল না করে থাকি, তাহলে এই দুটি উক্তি পরস্পর বিরোধী। বাসন্তী আম্মা একটি গুপ্তবিদ্যা একজন জমিদারকে যখন শিখিয়েছেন সেটা কেউ দেখেনি, জানেনও না। অথচ পরে মুনশিজি কি সমস্যা ছিল তা ধরিয়ে দিচ্ছেন!! কী করে সম্ভব! বইয়ে বানান ভুল দুটো চোখে পড়ল। তবে তা নগণ্যই। কিছু কিছু গল্প বেশ ছোট লেগেছে। পড়তে গেলেই শেষ হয়ে গেল। এগুলো নিয়ে আদৌ কিছু করা যায় কিনা সেটা লেখকের উপরে ছাড়লাম। কারণ এটাও ঠিক এগুলো টেনে বড় করতে গেলে হয়ত গল্পের বুননটা আলগা হয়ে যেত। কিছু গল্পের প্লট বেশ চেনা ছকের হলেও উপস্থাপনার অসাধারণত্বে বেশ উপভোগযোগ্য। . সব কটা গল্প বেশ চমকে দেয়। তবে সব থেকে ভালো লেগেছে 'এম এইচ ১৭'। এই গল্পের শেষ লাইনটা বোধহয় বর্তমান পৃথিবীর জন্য ভীষণভাবে প্রযোজ্য-'আওয়ার ফাদার[ঈশ্বর] হ্যাজ লেফট দ্য হোম, আ লং টাইম অ্যাগো।'
কিছু রাত থাকে—জেগে ওঠা আতঙ্কে, কুয়াশায় ঢাকা বিষণ্ণতায়, অথবা নিঃসঙ্গতার ভেতর জন্ম নেওয়া এক অব্যক্ত আর্তনাদে—যেখানে গল্পগুলো আর নিছক গল্প থাকে না, হয়ে ওঠে অনুভবের তীব্র খেলা। মেলানকোলির রাত সেই রকম এক সংকলন। কৌশিক সামন্ত একের পর এক ছোট অথচ মোচড়দার কাহিনির মাধ্যমে পাঠককে ঠেলে দেন এক অদ্ভুত মানসিক ভূগোলে—যেখানে ভয় অলৌকিকের চেয়ে বেশি, এবং একাকীত্ব হানিকর ভূতের থেকেও। এই কুড়িটি গল্পে যতো না মৃত্যুর ঠান্ডা ছোঁয়া আছে, তার চেয়েও বেশি আছে জীবনের ভেতরে জমে থাকা ছায়া—অস্পষ্ট, অশরীরী, অথচ বাস্তবের চাইতেও বাস্তবতর। ‘স্পর্শ’, ‘নোটিফিকেশন’, ‘মেলানকোলির রাত’ কিংবা ‘বাসন্তী আম্মা’—এসব গল্প যেন ছদ্মবেশে আসা আত্মপ্রকাশ, আমাদেরই চেনা পরিবেশে দুলতে থাকা এক অদৃশ্য বিপদের বার্তা। লেখকের কলমে অলৌকিকতা আর মনস্তত্ত্বের সংমিশ্রণ যতটা সাবলীল, ঠিক ততটাই ক্ষুরধার তার পরিণতি বুননের ক্ষমতা। গল্পের পর গল্প পাঠককে টেনে নিয়ে যায়, এমনকি অনুগল্পগুলোতেও সেই চিরচেনা চমকের ডেরিভেটিভ ভাব নেই—বরং অল্প কথার মধ্যে আড়াল করে রাখেন এমন এক মুহূর্ত, যা পাঠকের ভেতরে ঠান্ডা কাঁপুনি তুলবেই।
তবে ভয়টা এখানে শিরদাঁড়ার শিরশিরে অনুভূতিতে আটকে নেই—এটা একটা মানসিক সঞ্চার। যন্ত্রের মতো নির্ভরযোগ্য কিছু (যেমন ‘অ্যালেক্সা’), কিংবা নিত্য ব্যবহৃত সোশ্যাল মিডিয়া (যেমন ‘ফেসবুক হতে সাবধান’, ‘নোটিফিকেশন’), কিংবা সম্পূর্ণ আবেগতাড়িত নিঃসঙ্গতা (‘অনুমতি’, ‘মাসিন্দা’)—সব ক্ষেত্রেই ভয়টা মানুষ নিজেই। মনে পড়ে যায় লেখকের স্বীকারোক্তি—এ এক ‘অক্টোপাস’সুলভ একাকীত্ব, যা ধীরে ধীরে আপনাকে গ্রাস করে, এবং আপনি বুঝতেই পারেন না, কখন আপনি গল্পের পাঠক থেকে চরিত্র হয়ে উঠেছেন।
গল্পের বাইরেও যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তা হল কৃষ্ণেন্দু মণ্ডলের আঁকা প্রচ্ছদ—এক নিঃশব্দ মায়ার ডাক যেন; আর স্বপন চন্দের আঁকা প্রতিটি অলংকরণ, যেন প্রতিটি গল্পের শ্বাসপ্রশ্বাস। সব মিলিয়ে অরণ্যমনের এই প্রযোজনা নিঃসন্দেহে শ্রদ্ধাযোগ্য।
তবে খুঁতও কিছু আছে। নামের পুনরাবৃত্তি কখনও কখনও পাঠ অভিজ্ঞতায় বিঘ্ন ঘটায়, আর কিছু গল্প হয়ত অতিমাত্রায় সংক্ষিপ্ত—তাদের আরও একটু জায়গা দিলে চরিত্রেরা আরও রক্তমাংসের হতো। তবু এমন কনসিস্টেন্ট ভয়, এমন সুপাঠ্য নির্মেদ গদ্য, আর সাহসী চিত্রনির্মাণ আজকাল খুব কম দেখা যায়।
শেষে বলি, মেলানকোলির রাত কেবল এক হরর সংকলন নয়—এ এক মান��িক কনফেশন বক্স, যেখানে পাঠক নিজের গোপন আতঙ্কগুলো ছুঁয়ে ফেলে গল্পের ছায়ায়। পড়বেন, নিঃসঙ্গ রাতে। একা। আলো নেভানো ঘরে। ভয় আসবেই। এবং সে ভয়—জীবনের।
'মেলানকোলির রাত' কৌশিক সামন্তের ২০টি ছোটগল্পের সংকলন। মূলত ভৌতিক আর হাস্য-বিষাদের মিশ্রণে তৈরি গল্পগুলো। ফেসবুকে মাধ্যমে সামান্য আলাপ থাকলেও কৌশিকবাবুর লেখা এই প্রথম পড়ার সুযোগ হল, তাই কিছুটা দ্বিধা নিয়েই বইটি শুরু করেছিলাম শুধুই চেখে দেখবো বলে।
মেলানকোলি...সত্যি বলতে নামটাই নজর কেড়েছিল প্রথমে। নৈরাশ্যের রাতের সহযাত্রী হতে তাই অচেনা লেখকের এই বইটিই তুলে নিয়েছিলাম। ২০ টি গল্পের মধ্যে বুড়ো মাঝির গান, মায়াবী মায়াং, স্পর্শ, মাসিন্দা, নোটিফিকেশন, অনুমতি আর নামগল্প মেলানকোলির রাত আমার খুবই ভালো লেগেছে। এছাড়াও অচেনা প্যাসেজ শেষ করে এমন হেসেছি যে ঘরে থাকা অন্যান্যরা পাগল ভেবে নিয়েছে কিনা জানিনা। এই গল্পগুলোর বাইরে অ্যালেক্সা, ফেসবুক হতে সাবধান, সুযোগ, পিরামিডের কান্না গল্পগুলি চেনা প্রেক্ষিতের মাঝেই চমকপ্রদ প্লট, পিতৃস্নেহ, নৃশংসতার আর ইতিহাসের এক দারুণ মেলবন্ধনে তৈরি। বেশ কিছু অনুগল্পের মত চটজলদি শেষ হয়ে যাওয়া গল্পও আছে বইটিতে। সব মিলিয়ে পাঠ অনুভূতি বলতে গেলে পাঠক হিসেবে সন্তুষ্ট।
বইয়ের প্রচ্ছদ বেশ মায়াবী। অলঙ্করণগুলিও ভালো। যে দ্বিধা নিয়ে আমার কাছে অচেনা এই লেখকের বই শুরু করেছিলাম তা তো কেটে গেছেই, আপাতত মেলানকোলির রাত ২ সংগ্রহ করার অপেক্ষায় আছি।
শীতের গভীর রাতের একদিন বইটা হাতে নিলাম। নামটা বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছিলো। বলছিলাম কৌশিক সামন্তের 'মেলানকোলির রাত' বইয়ের কথা। যদিও নামের মধ্যেই আমি খুঁজে পেলাম যে, এইটা কোনো সাধারণ বই নায়, এইটা হচ্ছে বিষণ্ণতার নিজস্ব ডায়েরি। এই গল্প সংকলনটিতে মোট ২০টি গল্প রয়েছে। বইটি মূলত লেখকের বিভিন্ন সময়ের লেখা ২০টি গল্পকে এক মলাটে নিয়ে এসেছে। গল্পের চরিত্রগুলো—তারা যেন আমাদের চেনা পৃথিবীরই প্রতিচ্ছবি, কিন্তু তাদের ভেতরে জোনাকির আলোয় নয়, বরং জমাট বাঁধা হতাশার কালচে আভা। গল্পে শুধু গল্প নয়, আছে প্রতিটি চরিত্রের মনের গভীরে কঙ্কালের মতো লুকিয়ে থাকা অপূরণীয় শূন্যতা। লেখক শুধু সেই শূন্যতার দরজাটা খুলে দিয়েছেন। রাত যত বাড়ে, গল্পের বুনন ততই জটিল হতে থাকে। একটা সময়ে মনে হয়, আমি নিজেই যেন এই গল্পের অংশ—ঠান্ডা জানলার ওপারে দাঁড়িয়ে দেখছি একাকীত্বের নৃত্য। আপনি যখন ভাবছেন রহস্যের সমাধান এই বুঝি হলো, ঠিক তখনই গল্প এক নতুন মোড় নেয়, যেমন জীবন নেয় অপ্রত্যাশিত বাঁক। এক বসায় শেষ করার মতো একটা বই। কারণ শুধু গল্পের গতি নয়, লেখক অত্যন্ত নিপুণ হাতে দেখিয়েছেন কীভাবে আমাদের সাধারণ হাসি-খুশির আড়ালে নীরব আর্তনাদ লুকিয়ে থাকে। যদি আপনি এমন একটি রাতে আপনার ভেতরের অন্ধকার গলিপথে একবার হেঁটে আসতে চান—তবে এই 'মেলানকোলির রাত' আপনার অপেক্ষায় আছে। জাস্ট হেঁটে আসুন। হ্যাপি রিডিং।
গুডরিডসে চমৎকার সব রিভিউ দেখে অনেক আগ্রহ নিয়ে কৌশিক সামন্ত'র 'মেলানকোলির রাত' বইটি পড়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু বইটা পড়তে গিয়ে বেশ হতাশ হতে হয়েছে। বইতে মোট ২০টি গল্প রয়েছে। বেশকিছু গল্পই বিদেশি প্লট আর চরিত্র নিয়ে লেখা, দেশি চরিত্র নিয়েও কিছু গল্প লেখা হয়েছে। তবে গল্পগুলো যে খুব একটা ভালো লেগেছে তা বলা সম্ভব নয়। অধিকাংশ গল্পই কেমন যেনো খাপছাড়া, যুক্তি দিয়েও চিন্তা করেও অনেক কিছু বুঝা যায়নি, অন্তত আমার কাছে সেরকমই মনে হয়েছে। 'সুযোগ' গল্পটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, তবে গল্পটা আরেকটু বড় করে বলা দরকার ছিলো। 'মেলানকোলির রাত' বইটি পড়ে মনে ভয়াল বিষণ্ণতার উদ্রেক ঘটবে বলে মনে করেছিলাম, অথচ এই বই যথেষ্ট বিরক্তির সৃষ্টি করেছে। সবমিলিয়ে ভদ্রতা করে ২ তারা দিলাম।
অবশেষে শেষ করলাম বইটা। প্রায় ২০ টি ছোট ছোট গল্পে সাজানো আছে এই বইটিতে। প্রত্যেকটা গল্প ছিলো দারুণ, তবে বেশকিছু গল্প মনে হয়েছিলো আরেকটু বড় হলে ভালো হতো। যেসব গল্প ভালো লেগেছে তা হলোঃ মায়াবী মায়ং, স্পর্শ, বাসন্তী আম্মা, মাসিন্দা, পিরামিডের কান্না এবং এলেক্সা। প্রত্যেকটা গল্প সত্যিই শিহরণ জাগানিয়া ও দুর্দান্ত। প্রফেসর সোম খ্যাত লেখক কৌশিক সামন্ত রচিত এটি তাঁর দ্বিতীয় বই। আশা করছি সবার ভালো লাগবে।
It has been a delight, reading all the 20 short stories. No matter how short the story is, it would surely give a chill down the spine. Versatile set of unputdownable short stories.
অনেকগুলো ছোটগল্পের সংকলন এই বইটি। টাইমপাস এর জন্য বেশ সুন্দর বই। প্রতিটি গল্প একটা আলাদা প্রভাব ফেলে।প্রতিটা গল্পই শিহরণ জাগায় মনে। বইপোকা রা একবার পড়ে দেখতেই পারেন।
অনেকটা কনফিউসড হয়েই, মনের অনেক হতাশা থেকে আমি এই পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখছি। আসলে যখন কোন বই পড়ে সেটার থেকে সেই লেভেল এর satisfaction আসে না তখন পাঠক হিসাবে হতাশাই আসে। অনেকদিন পরে একটি ছোটগল্পের বই হাতে নিলাম। তো যথারীতি পড়তে শুরু করলাম। কিম্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমার মনে হয়েছে গল্পগুলোর এন্ডিং এ অনেকটাই খামতি রয়ে গেছে। বেশ কিছু ভালো গল্প আছে এই বইটি তে যেগুলো খুব সুন্দর ভাবে শুরু হয়েও শেষ টা আমার মনঃপুত লাগেনি বরং গোজামিল আছে, এবং বেশ কিছু প্লট আছে যা খুব চেনা। কিন্তু আবার ও বলছি অনেক গল্প ভালো করে শুরু হয়েও শেষ টা জমেনি। কিছু উদাহরণ দিচ্ছি, যারা বইটি পড়েছেন কাইন্ডলি আপনাদের মতামত জানাবেন ।
1. মায়াবী মায়াং বলে একটা গল্প আছে - এই গল্পের শেষ এ শেরবাবা এর স্যাক্রিফাইস টা ঠিক জমল না। মানে শোভন এর কাকা শেরবাবা কে বাঘের হাত থেকে বাঁচাল, বাঘ এর সাথে লিঙ্ক করাতে গিয়ে রাতে শোভন বাঘ হয়ে গেছিল বিছানায় স্ত্রী এর কাছে? আর সেই বাঘ ই শেরবাবা কে নিয়ে গেলো, জাস্ট স্যাক্রিফাইস টা জাস্টিফাই করতে!
2. সুযোগ বলে যে গল্পটি আছে খুব এ ভালো, মানে খুব আশা নিয়ে পড়ছিলাম একটা দারুণ এন্ডিং হবে, শেষ টা আরও একটু বেটার হলে ভালো লাগত। মানে যেটার জন্য উইশ করলাম সেটাই রিজেক্ট করে দিলাম! এন্ডিং আবার মনে দাগ কাটতে ব্যর্থ।
3. নোটিফিকেশন - এই গল্পটি পড়ে সত্যি আমি কনফিউসড। সর্বানী মারা যেতে শোভন মানসিক রোগী, কিন্তু ট্রিটমেন্ট এর পর ডাক্তার বলছে স্টার্ট আপ কোলাপ্স হয়, ড্রাগস এন্ড সুসাইড এটেম্পট, স্ত্রীএর মারা যাওয়ার কোনো উল্লেখ নেই। এখন আমি কনফিউসড শোভন কেন মানসিক অবসাদ এ গেল। গল্পের শেষ টা তে অন্য চমক থাকেলেও মাঝের এই গোজামিল আমায় কনফিউসড করে দিয়েছে।
এই ধরনের বেশ কিছু উদাহরণ আছে আমি ৩ টে মেনশন করলাম।
4. স্পর্শ এই গল্পটি আমার সাংঘাতিক লেগেছে , আমার মতে এইটি বইএর সেরা গল্প, এন্ডিং ইস স্যাটিসফ্যাক্টর��। তাছাড়া বাসন্তী আম্মা, মাসিন্দা এই গল্প গুলোও বেশ ভালো।
সর্বশেষ বলি একজন পাঠক হিসাবে আমার একটা গল্প পড়তে যখন ভালো লাগে তখন শেষ টা ভালো না হলে খুবই হতাশ লাগে। এই বইটিতেও একটার পর একটা গল্প পড়ে গেছি একটা ভালো এন্ডিং এর আশায়। ৩-৪ টে গল্প বাদে আমি সেটা পাইনি, তাই অনেকটা হতাশ হয়েই ৩-৪ টি গল্প না পড়েই বইটি নামিয়ে রাখি।ইভেন বইটি তে যে অণুগল্প গুলি আছে সেগুলিও মনে দাগ কাটতে ব্যর্থ। আর একটি জিনিস এই বইটির আমার ভালো লেগেছে সেটি হলো বইটির প্রচ্ছদ। মেইনলি প্রচ্ছদ এবং ঋজু গাঙ্গুলী এর মুখবন্ধ টি পরেই এই বইটি কিনি, কিন্তু সেই কথাটি আবার আমার মনে পড়ে গেল - “ডোন্ট জাজ এ বুক বাই ইটস কভার”।
কৌশিক সামন্ত'র লেখা "মেলানকোলির রাত" হচ্ছে ২০ টি ছোট গল্পের সংকলন। এই গল্পগুলো এমন এক রাতের কথা বলে যা বিষাদময়, যা নির্জনতায় মোড়া এবং যা আপনাকে ভয় পাওয়ায়। কোনোরকম ভাষার মারপ্যাঁচ ছাড়াই সহজ সরলভাবে লেখক নিঃসঙ্গতার এসেন্সকে যেভাবে বইয়ের পাতায় ফুটিয়ে তুলেছেন তা সত্যিই প্রসংশনীয়। এর প্রতিটি শব্দ মৃত্যুর নীল ও সবুজ রঙে রাঙা ... ফলে এই গল্পগুলো কখনই আপনাকে কোনো গন্তব্যে পৌঁছে দেবে না। এবার প্রশ্ন তা সত্ত্বেও কি আপনি চাইবেন এরকম এক রাতের যাত্রী হতে? উত্তরটা আমার দেওয়ার দরকার নেই। জাস্ট বইটা হাতে তুলে নিয়ে কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়ুন... দেখবেন এর অমোঘ আকর্ষণে আপনি গন্তব্যহীন গন্তব্যে পথচলা শুরু করে দিয়েছেন। অলমিতি।