Jump to ratings and reviews
Rate this book

ভাসানবাড়ি

Rate this book
ভাসানবাড়ি -- আজ থেকে দুশো বছর আগে এক জ্যোতির্বিজ্ঞানীর তৈরি এক রহস্যময় স্থাপত্য। তার আগে একটা পুকুর ছিল এখানে। গোটা গ্রামের লোক ঠাকুর বিসর্জন দিত তাতে। সেটাকে বলা হত ভাসানপুকুর, সেখান থেকে ভাসানবাড়ি। লোকে বলে সেই পুকুরটার আত্মা এই বাড়ির ভিতরেও সঞ্চারিত হয়েছে। এই বাড়িটাও মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় অন্তিমের দিকে। ভাসানের দিকে... কিন্তু সত্যি অন্তিম বলে কিছু হয় কি? কে বলতে পারে মাটি গলে, রঙ উঠে গিয়ে নদীর অপরপ্রান্তে যখন খড়ের কাঠামোটা পৌছায়, তখন কেউ অপেক্ষা করে না তার জন্য? কেউ আবার নিজের মতো করে সাজিয়ে নেয় না তাকে? মরে যাবার আগে শশাঙ্কমোহন বলেছিলেন হ্যালির ধূমকেতুর মতো এই বাড়িতেও নির্দিষ্ট সময় পরে ফিরে ফিরে আসে কোনো মানুষ। কে সে? এ বাড়ির ছাদ থেকে দেখা যায় অচেনা আকাশ, সত্যি কি সময়ের নিয়ম মানে না বাড়িটা? কিন্তু কীভাবে? রহস্য আর সময়ের চাদর মুখে টেনে কাদের অপেক্ষায় থাকে ভাসান বাড়ি?

224 pages, Paperback

Published January 20, 2020

33 people are currently reading
427 people want to read

About the author

Sayak Aman

30 books170 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
127 (36%)
4 stars
108 (30%)
3 stars
82 (23%)
2 stars
23 (6%)
1 star
11 (3%)
Displaying 1 - 30 of 82 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 37 books1,867 followers
September 4, 2020
কোনো-কোনো বইয়ে একটা অন্যরকম রহস্য থাকে। ভূতপ্রেত, খুনখারাপি, অপহরণ, গুপ্তধন— এ-সব নয়। পালসার-কোয়াসার হয়ে প্রাণের উদ্ভব, আলোর চেয়ে দ্রুত চলাফেরা, বস্তু ও শক্তির পারস্পরিক রূপান্তর— এও নয়। বরং আরও জটিল কিছু রহস্য থাকে সেই বইয়ে। যেমন ধরুন, জীবন-মরণের বাঁধা ছকের বাইরেও কি কিছু আছে? যদি থাকে, তাহলে কীভাবে তার নাগাল পাওয়া যায়? আর...
পেলে কী হয়?
এই বইয়ে সেই রহস্যটা আছে।

বিরাজপুর নামক গ্রামে একটি পরিত্যক্ত অট্টালিকা (বেশ একটা গথিক ফিল এল, তাই না?)-য় উপস্থিত হল হৈমন্তী ঘোষ। আপাতদৃষ্টিতে তার লক্ষ্য, হেরিটেজ রিসার্চ সোসাইটির পক্ষ থেকে এই বাড়ির ইতিহাস ও ভূগোল নিয়ে গবেষণা। তারপর বোঝা যায়, সে এই বাড়িতে কিছু একটা খুঁজতে এসেছে।
এই বাড়ি যিনি বানিয়েছিলেন, সেই জ্যোতির্বিজ্ঞানী নাকি এখানে লুকিয়ে রেখে গেছেন এক অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি। তা সময়ের গতি এলোমেলো করে দেয়। দেখায় অজানা আকাশে অচেনা তারাদের। সত্যি?
আর হৈমন্তী? তাকেও কি আমরা সত্যি-সত্যি চিনি? কোন আখ্যান লুকিয়ে আছে তার মধ্যে?
এই বাড়ির সঙ্গে জুড়ে থাকা অন্য চরিত্ররাই বা কতটা সত্যি, কতটা মিথ, আর কতটা মিথ্যে?

এটা থ্রিলার নয়, যদিও পড়তে শুরু করলে শেষ না করে উঠতে পারবেন না।
এটা সায়েন্স ফিকশন... বোধহয় নয়, বরং ফ্যান্টাসি বললেই ব্যাপারটা যথাযথ হত। কিন্তু তাতেও আবার সমস্যা আছে। যে বইয়ের শুরু থেকে শেষ অবধি জড়িয়ে আছেন আইনস্টাইন, তাকে ফ্যান্টাসি বলতে পারছি না। তবু, বিজ্ঞানের দিক দিয়ে এই কাহিনি উত্তরের বদলে প্রশ্নের জন্মই দিল শুধু। তাই বেশ কিছুটা অতৃপ্তি রয়ে গেল সেইদিক দিয়ে।
তবে হ্যাঁ, নির্দ্বিধায় বলতে পারি, এ এক অনন্য প্রেমের গল্প। কোনোরকম তুলনায় যাব না। তবে এই উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে বারবার কয়েকটা লাইন মাথার মধ্যে ঘুরপাক ঘাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, এই কথাগুলো এই গল্পেও কত-কত মানানসই!
"আকাশজুড়ে জোনাকিদের বাড়ি
বুকের নীচে পাগলা রাজার ঘোড়া
তখন থেকে সবার সঙ্গে আড়ি
তখন থেকে আমার শহর পোড়া!

ধ্বংস ঘেঁটে তোমায় পেলাম মোহর
তোমার আলোয় বাঁচল আমার প্রাণী
কক্ষ থেকে ছিটকে যেত গ্রহ
উল্কা তোমার কাচের ফুলদানি!

কেমন ছিল সেসব ধুলোখেলা!
কেমন ছিল সাগরপারের রানি!
এই জীবনের নরম বিকেলবেলায়...

আমরা দু'জন, কেবল দু'জন জানি
আমরা দু'জন, মাত্র দু'জন জানি।"
যদি স্মার্ট, বুদ্ধিদীপ্ত, পরিচ্ছন্ন এবং গতিময় প্রেমের উপন্যাস পড়তে চান, তাহলে এই বইটি আপনারই জন্য লেখা হয়েছে। অন্তত আমি 'ভাসানবাড়ি'-কে আমার পড়া শ্রেষ্ঠতম প্রেমের উপন্যাসগুলোর অন্যতম বলেই মনে রাখব।
Profile Image for Farzana Raisa.
531 reviews238 followers
June 2, 2021
আমি আসলে কনফিউজড। কি বলব? কি লিখব?
আচ্ছা, বইটা সম্পর্কে যদি বলি, একে এককথায় মহাজাগতিক প্রেমকাহিনী বলা চলে। ভাসানবাড়ি-এক অবিশ্বাস্য একটা বাড়ি। সবই ঠিক, তবে কোথায় যেন একটা কিন্তু আছে। কোলকাতা শহরের ঝাঁ চকচকে তরুণী হৈমন্তী। একটা বিশেষ কাজে আসে ভাসানবাড়িতে। সেখানে চোখে পড়ে এর বিশেষত্ব। কেউ একজন কিছু খুঁজছে.. আবার কেউ আছে বিশেষ কারও অপেক্ষায়। পৃথিবীর সমস্ত নিয়ম কানুন এসে উলটপালট হয়ে যায় এই ভাসানবাড়িতে। কেন? রহস্যটা কি? জবাব আছে সায়ক আমানের ভাসানবাড়ি বইয়ের পাতায় পাতায়।

বইটা ভালো ঠিক আছে.. কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে আমি সব প্রশ্নের উত্তর পাইনি। বেশ কিছু জিনিস বলতে চাইছি.. সেসব পেটে আসছে কিন্তু ঠিক মুখে স্যরি ভাষা হয়ে কী-বোর্ডে ধরতে পারছি না। তবে হ্যা! কন্সেপ্ট হিসেবে সত্যিই ব্যতিক্রম।
Profile Image for Sulagna Saha.
7 reviews15 followers
April 26, 2021
" তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি,
শত রূপে শত বার...
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনির্বার।"

এইকটি লাইনই যেন সব বলে দেয়। এই বইটিকে ঠিক কি ক্যাটাগরিতে ফেলবো বলুন তো...আদ্যোপান্ত প্রেমের গল্প, কল্পবিজ্ঞান, মহাজাগতিক রহস্য নাকি অন্য কিছু... আমার জানা নেই। তবে একটা কথাই বলবো, এই বই আপনাকে শেষ না করা পর্যন্ত উঠতে দেবেনা।

বইতে যেমন হৈম আর অশ্বিনীর প্রেম দেখতে পাবেন ঠিক তেমনি হৈমন্তীর ছেলেবেলাও যেন আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে। কোনো দোষ না করেও সবার চোখে হঠাৎ করে দোষী হয়ে যাওয়া হৈমর কষ্টটা, তার মৃত্যুভয় যেন আপনিও অনুভব করতে পারবেন।

আর অশ্বিনী, তার চরিত্র বর্ণনা করার সাধ্য আমার নেই। তার ব্যাপ্তি যে ঠিক কতটা তা অনুধাবন করার জন্য বইটি একবার পড়া যথেষ্ট নয়, হয়তো বেশ কয়েকবার পড়লেও আমি বুঝবোনা।

বইটা শেষ হওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ কাঁদছিলাম, বুঝতে পারছিলাম না কি প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত। বইটার শেষে এসেই শুরু হয়েছিল কান্না, যখন অশ্বিনী বলে "চলে গেছো হৈম?"... সম্ভবত এই বইয়ের শ্রেষ্ঠ লাইন।

"ভয় পেয়ো না, হৈম। আমি অপেক্ষা করব... আবার দেখা হবে... কেমন?" ... এ যেন এক অন্তহীন অপেক্ষা। অশ্বিনীর তার হৈমর জন্য, হয়তো সকল প্রেমিকেরই তার প্রেমিকার জন্য... যে বারেবারে পৃথিবীতে ফিরে আসে ভিন্ন ভিন্ন রূপে,ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, কেবলমাত্র তারই 'হৈম' র জন্য।
Profile Image for Mohammad Alamin.
232 reviews15 followers
April 18, 2025
ভাসানবাড়ি উপন্যাসটাকে প্রথমে আমি ভৌতিক উপন্যাস মনে করেছিলাম। কিন্তু এটা শুধু ভৌতিক উপন্যাস নয়। উপন্যাসটি প্রেমের, কল্পবিজ্ঞানের, মহাজাগতিক রহস্যের এবং অতিপ্রাকৃত ভৌতিকের।
‘ভাসানবাড়ি’ বইটাকে অনেকেই অমর প্রেমের উপন্যাস বলেছেন। কিন্ত উপন্যাসটা আমার কাছে তেমন জমলো না। বই পড়তে শুরু করেছি তাই শেষ করতে হবে, এই জন্য পড়ে শেষ করা আরকি!
একজন ভাইয়ের রিভিউ তে দেখলাম লিখেছে, “ফ্যান্টাসি, সাইফাই না বানিয়ে প্রেমের কাহিনী বানালেই হইতো”। আমারো তাই মনে হয়, তাই করলেই হইতো।

Profile Image for Mrinmoy Bhattacharya.
226 reviews36 followers
February 23, 2020
“ চলে গেছ হৈম ? ”

কিছু কিছু বই থাকে যেগুলির এক অদ্ভুত আকর্ষণী শক্তি থাকে, ছেড়ে ওঠা যায় না । আবার বইটি শেষ হয়ে যাবে ভেবে এক অদ্ভুত মনখারাপ ঘিরে ধরতে থাকে । এই দুইরকম অনুভূতির আদর্শ উদাহরণ এই বইটি । না, প্রতিক্রিয়া লেখার ভাষা নেই আমার । শুধু বইটির ভূমিকা থেকে একটু অংশ তুলে ধরতে চাই -

“....এই বইয়ের পাতা থেকে মুখ তুলে একটু মনে করুন, শেষ যে মানুষটিকে ভাসান দিয়ে এসেছেন আপনি... অনিচ্ছা সত্ত্বেও, সবটুকু দিয়েও ধরে রাখতে পারেননি তাকে, কোনো নদীর ঘাটে, রেলস্টেশনে, চেনা রাস্তায় কিংবা ইলেকট্রিক চুল্লিতে রেখে চলে আসতে হয়েছে... জলে ফেলে দেওয়া প্রতিমার মতো তারাও সময়রেখা বেয়ে চলে গেছে দিগন্তের দিকে । তারপর আর অপেক্ষা করেননি তার জন্য । ভেবেছেন, আর কিছুই তো নেই....
আছে কি নেই বিশ্বাস করুন, আমিও জানি ��া । তবে এই পৃথিবীর মানুষদের কারও কারও বুকের ভেতর নিশ্চয়ই একটা ভাসানবাড়ি আছে । এমন একটা বাড়ি যেখানে বছরের পর বছর ভাঙা দালান, শুকনো পাতায় ছেয়ে যাওয়া ছাদ আর ঝুলন্ত কড়িকাঠের পাঁজরে কেউ অপেক্ষা করতে থাকে আপনার জন্য । অনন্তকাল ধরে....”

ভালোবাসার গল্প পড়তে চান ? এমন ভালোবাসার গল্প যা আপনার গতানুগতিক ভালোবাসার ধারণাটুকুই বদলে দেবে ? অপেক্ষার গল্প শুনতে চান ? সবকিছু পাবেন এই গল্পে । মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে একটি আদ‍্যোপান্ত প্রেমের গল্প, অন্তহীন অপেক্ষার গল্প..... চটপট পড়ে ফেলুন ।
Profile Image for Gourab Mukherjee.
164 reviews25 followers
February 9, 2020
ভাই ১০ ষ্টার দেওয়ার অপশনটা কই? 😁😁
যাই হোক আসি রিভিউএ .....
আপনি কি দেবদাস মার্কা প্রেম, একতরফা প্রেম এইসব গল্প পড়ে পড়ে বিরক্ত? লাভ স্টোরি শুনলেই কি আপনার ঠোঁট একদিকে বেঁকে যায়? তাহলে এই বই আপনার জন্য। একটি আদ্যোপান্ত প্রেমের গল্প। তবে শুধুই প্রেম বলে চলে গেলে লেখকের পরিশ্রমের প্রতি অবিচার করা হবে।
সাইন্স-ফিক্শন অল্প পরিমানে নিয়ে সেই বিশাল মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে এক অকল্পনীয় প্রেমকাহিনী পেশ করেছেন লেখক সায়ক আমান। রহস্য রোমাঞ্চ অল্প আধটু আছে। শুধু সেগুলোতেই যদি মনোনিবেশ করবেন ভাবেন তাহলেও বই শেষ অব্দি হেব্বি উপভোগ্য।😍😍
গল্পের দুই মূল চরিত্র ও তাদের অবস্থা খুব বিরল বা অতিলৌকিক হলেও তাদের ভাবনা চিন্তা খুব relatable। কিছু জায়গা যেমন বেশ মন ভালো করে দেওয়া 🥰🥰 কিছু জায়গা তেমনি একদম কাঁদিয়ে দিয়েছে। 😢😭
সব মিলিয়ে বলবো বইটি (আবারও) লেখকের একটি মাস্টারপিস। 🤩🤩

PS: এই বইয়ের সেরা ডায়ালগ "চলে গেছো হৈম?"
Profile Image for Bidisha Chowdhury.
48 reviews33 followers
July 21, 2021
অশ্বিনী আর হৈমন্তীর মতো আমিও যেন মহাশূন্যে হারিয়ে গেছি বইটি পড়ে। ♥️ লেখককে কুর্নিশ জানানোর ভাষা নেই।
Profile Image for Jesan.
141 reviews5 followers
February 12, 2022
ফ্যান্টাসি, সাইফাই না বানিয়ে প্রেমের কাহিনী বানালেই হয়তো।হুদাই ফিজিক্স এর মাইরে বাপ করা।প্রেম কনসেপ্ট টুকু ঠিক আছে।
Profile Image for Susmita Dey.
19 reviews14 followers
March 7, 2022
Mystery, science এবং romance এর মেলবন্ধন। সায়ক আমান এর লেখা প্রথম পড়া বই। বেশ অন্য রকম লাগলো। ❤️
Profile Image for Nisha Mitra.
141 reviews39 followers
July 22, 2021
"আর কি বা দিতে পারি
পুরনো মিছিলে পুরনো ট্রামেদের সারি।
ফুটপাথ ঘেঁষা বেলুন গাড়ি
সুতো বাঁধা যত লাল আর সাদা
ওরাই আমার থতমত এই শহরে
রডোডেনড্রন..
তোমায় দিলাম আজ"

কিন্তু কেউ যদি অনন্ত সময় দিতে চায়। কিভাবে ফেরত দেওয়া যাবে সেই শূন্যতা? সময়ের কড়া আইনে শুধু love transcends time and space। বাদবাকি বিশ্বাস। হৈম চলে যায়। অশ্বিনীর অপেক্ষার প্রহর বাড়তে থাকে। এই গ্রহে না হোক অন্য কোথাও তাদের দেখা হবে । কোনো এককালে লিখেছিলাম অপেক্ষার বয়স বাড়েনা। অশ্বিনীর অপেক্ষার কাজ চলতেই থাকে। সে জানে "..for those who love, time is eternity"। তবে আর কি দেওয়ার থাকে হৈমর? ভালোবাসা ছাড়া?
Profile Image for   Shrabani Paul.
395 reviews23 followers
April 24, 2024
📘🎐বইয়ের নাম - ভাসানবাড়ি🎐📘
✍🏻লেখক - সায়ক আমান
🖨️প্রকাশক - বিভা পাবলিকেশন
📖প্রচ্ছদ - ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য
💰মূল্য - 244/-

🎀⛳ কি ভাবছেন বইটা নেবেন কিনা? কিংবা পড়বেন কিনা। কী আছে এই বইতে? আসুন দেখে নিই.......

💌🎏 আপনি যদি ভাবেন, এই বই ভয়ের তা কিন্তু একদমই নয় প্রথমেই জানিয়ে রাখলাম। ভাসানবাড়ি আজ থেকে দুশো বছর আগে এক জ্যোতির্বিজ্ঞানীর তৈরি এক রহস্যময় স্থাপত্য। তার আগে একটা পুকুর ছিল সেখানে। গোটা গ্রামের লোক ঠাকুর বিসর্জন দিত। সেটাকে বলা হত ভাসানপুকুর, সেখান থেকে ভাসানবাড়ি। লোকে বলে সেই পুকুরটার আত্মা এই বাড়ির ভিতরেও সঞ্চারিত হয়েছে। এই বাড়িটাও মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় অস্তিমের দিকে। ভাসানের দিকে...
কিন্তু সত্যি অন্তিম বলে কিছু হয় কি? কে বলতে পারে মাটি গলে, রঙ উঠে গিয়ে নদীর অপরপ্রান্তে যখন খড়ের কাঠামোটা পৌঁছায়, তখন কেউ অপেক্ষা করে না তার জন্য? কেউ আবার নিজের মতো করে সাজিয়ে নেয় না তাকে? মরে যাবার আগে শশাঙ্কমোহন বলেছিলেন হ্যালির ধূমকেতুর মতো এই বাড়িতেও নির্দিষ্ট সময় পরে ফিরে ফিরে আসে কোনো মানুষ? কে সে? এ বাড়ির ছাদ থেকে দেখা যায় অচেনা আকাশ। সত্যি কি সময়ের নিয়ম মানে না বাড়িটা? কিন্তু সেটাই বা সম্ভব কীভাবে? রহস্য আর সময়ের চাদর মুখে টেনে কাদের অপেক্ষায় থাকে ভাসানবাড়ি?

📚✍🏻 সায়ক আমান মানেই একটা আলাদা রকমের ম্যাজিক, ওনার লেখা সমস্ত শব্দই কেমন যেন ভাসতে থাকে..... অনুভূতি ও তৈরি হয় মিশ্র কখনো প্রেম, বিরহ, বেদনা আবার কখনো ভয় মেশানো রহস্য। সব মিলিয়ে দূর্দান্ত। সায়ক আমান-এর যে কোনো বই আপনি হাতে তুলে নিয়ে দেখতে পারেন সময়টা যে কিভাবে কেটে যাবে তা বুঝতেই পারবেন না! বইটি পেপারব্যাক, ভালো কাগজ, ঝকঝকে ছাপা ও আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ সমৃদ্ধ। লেখককে ধন্যবাদ। আপনার লেখার দীর্ঘায়ু কামনা করি, ভালো থাকবেন!

📥🗒️2024 Book Review ~ 40
যদি এই বইটি পূর্বেই কেউ পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাদের ব্যক্তিগত মতামত জানাবেন। এছাড়াও আমার রিভিউ কেমন লাগছে সেটাও জানাবেন নিচের কমেন্ট বক্সে। যদি কিছু ভুল ত্রুটি হয় সেটাও জানতে ভুলবেননা।
🍀 আবারো দেখা হবে পরের রিভিউতে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন আর অনেক অনেক বই পড়ুন। 🙂
🙏🏻 !! ধন্যবাদ !! 🙏🏻

#ভাসানবাড়ি #সায়ক_আমান #উপন্যাস
#বিভা_পাবলিকেশন #গল্প #বই #পাঠক_প্রতিক্রিয়া

♡~🍁~~📖~♡~📖~~🍁~♡
🍂🍁📚📖📚🍁🍂
Profile Image for Farzana Raisa.
531 reviews238 followers
June 2, 2021
আমি আসলে কনফিউজড। কি বলব? কি লিখব?
আচ্ছা, বইটা সম্পর্কে যদি বলি, একে এককথায় মহাজাগতিক প্রেমকাহিনী বলা চলে। ভাসানবাড়ি-এক অবিশ্বাস্য একটা বাড়ি। সবই ঠিক, তবে কোথায় যেন একটা কিন্তু আছে। কোলকাতা শহরের ঝাঁ চকচকে তরুণী হৈমন্তী। একটা বিশেষ কাজে আসে ভাসানবাড়িতে। সেখানে চোখে পড়ে এর বিশেষত্ব। কেউ একজন কিছু খুঁজছে.. আবার কেউ আছে বিশেষ কারও অপেক্ষায়। পৃথিবীর সমস্ত নিয়ম কানুন এসে উলটপালট হয়ে যায় এই ভাসানবাড়িতে। কেন? রহস্যটা কি? জবাব আছে সায়ক আমানের ভাসানবাড়ি বইয়ের পাতায় পাতায়।

বইটা ভালো ঠিক আছে.. কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে আমি সব প্রশ্নের উত্তর পাইনি। বেশ কিছু জিনিস বলতে চাইছি.. সেসব পেটে আসছে কিন্তু ঠিক মুখে স্যরি ভাষা হয়ে কী-বোর্ডে ধরতে পারছি না। তবে হ্যা! কন্সেপ্ট হিসেবে সত্যিই ব্যতিক্রম।
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books279 followers
March 27, 2025
২.৫ স্টার আসলে। বছরের ৩৮তম বই হিসেবে এমন একটা বই পড়লাম যেটাকে আসলে কী বিশেষণে ফেলা যাবে বুঝতে পারছি না। 'অদ্ভুত' বলা যায় তবে তাতে ১০০% মনের ভাব প্রকাশ পায় না।

সায়ক আমানের লেখা আগে কখনো পড়িনি। দুয়েকজনের কাছ থেকে তার বই পড়ার এক্সপেরিয়েন্স খুব একটা ভালো শুনিনি। তবু পড়তাম, কিন্তু কখনো আসলে টানেনি দেখে ট্রাই করা হয়নি। ওদিন কী মনে হলো, দুম করে পড়ে ফেললাম।

বইটার সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গাটা হচ্ছে প্লট। হেরিটেজ রিসার্চ সোসাইটির চাকুরে হৈমন্তী ঘোষের বিরাজপুর নামক গ্রামে পা রাখার মধ্য দিয়ে গল্প শুরু হয়। খানিক পরে জানা যায় ওখানে আ���ার উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি পরিত্যক্ত অট্টালিকায দেখা, ও বাড়ির ইতিহাস ও ভূগোল নিয়ে গবেষণা করা। গল্প একটু এগিয়ে গেলে বোঝা যায়, সে আসলে এই বাড়িতে কিছু একটা খুঁজতে এসেছে। পাঠক এখান থেকে গল্পে আটকে থাকার কিকস্টার্টটা পান।

এই বাড়ি যিনি বানিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী। সেই মানুষটা নাকি এখানে লুকিয়ে রেখে গেছেন এক অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি। সময়ের গতি এলোমেলো করে দেয় সেই প্রযুক্তি/যন্ত্র। দেখায় অজানা আকাশে অচেনা তারাদের। ইন্টারেস্টিং তো! প্রায় জনমানবশূন্য এ বাড়ির সে রহস্যে আষ্টেপৃষ্টে আটকে যায় হৈমন্তী। সাথে দেখা পায়, মহাকালের এমন এক চরিত্রের যা সে ঘুণাক্ষরেও চিন্তা করতে পারেনি।

বই সাই ফাই বলে ট্যাগড হলেও আমার কাছে এটা সাই ফাইয়ের চাইতে সায়েন্স ফ্যান্টাসী লেগেছে বেশি। আর দ্বিতীয় মেইন জনরা হচ্ছে রোমান্স। সবমিলিয়ে বইয়ের প্লট, জনরা বেশ ভালো লেগেছে আমার। যদিও এ প্লটটাকে একটা বিখ্যাত সাই-ফাই টিভি সিরিজের অনুপ্রেরণায় গড়া মনে হয়েছে আমার (সিরিজটার নাম বললে স্পয়লার হয়ে যাবে)। মানে ওটা আইফোন হলে এটা আইটেল। আদলে গড়া হলেও ওটার ধারে কাছেও না। সুতরাং এদিক দিয়ে প্লটটা ভালো হলেও এ প্লাস পাবে না ঐ আনক্রেডিটেড সামঞ্জস্যতার কারণে।

প্লটের এই সামঞ্জস্যতা এড়ানো গেলেও উপন্যাসে এক্সিকিউশনের ভয়ানক দুর্বলতা এড়ানো যায়নি। এক্সিকিউশন মানে লিখনশৈলী না, ওটা ভালো। কলকাতার বেশিরভাগ লেখকের মাঝেই দেখেছি, তাদের লিখনশৈলীটা দারুণ। এর কারণ সম্ভবত তাদের পড়ার গন্ডি। তন্ত্র-মন্ত্র, আল-বাল থ্রিলার লিখলেও এদের লিখনশৈলী চমৎকার। তবে এ বইটা আমার কাছে কেস খেয়েছে অন্য জায়গায়। বইয়ের ঘটনাপ্রবাহে অনেক অনেক ব্যাপার একদম খেলো লেগেছে, 'যা সালা, এরম হয় নাকি?' টাইপ অবিশ্বাস্য লেগেছে। আর জেগেছে প্রচুর প্রশ্ন, যেগুলোর উত্তর শেষ অব্দি মেলেনি। লেখকের টার্গেট ছিল বোধহয় বেশ কিছু নাটকীয়তা রাখবেন উপন্যাসে, রোমান্স জনরার পাঠকদের উদ্দেশ্য করে। তিনি এক্ষেত্রে সফল। অনেকে দেখি এ বই পড়ে কেঁদে-কেটে বুক ভাসিয়েছেন (!)। তাদেরকে সম্ভবত 'ঐ কি রে, ঐ কি রে' জিজ্ঞেস করলে এ বইয়ের ক্ষেত্রে তার 'মোদু মোদু' বলত। যাই হোক, বই পড়ার এক্সপেরিয়েন্স তো পাঠকভেদে আলাদা আলাদা হবেই৷ তাই কারো কাছে বই সেরা লাগলেও কিছু মানুষের দেখেছি অখাদ্য লেগেছে। দু'পক্ষের অনুভূতির ব্যাপারটা আমার কাছে ক্লিয়ার এবং আমার কাছে বইটা মাঝারি মানের লেগেছে।

মাঝারি মানের এই বই নিয়ে এত প্যাঁচাল পারছি কারণ বইটার প্লটটা আসলেই ইন্টারেস্টিং। সায়েন্স, টাইম ডায়ালেশন, বিগ ব্যাং, ইউনিভার্স, টাইম নিয়ে লেখক যেভাবে সাজাতে চেয়েছেন, সে প্রচেষ্টাটা ভালো লেগেছে। সো, আপনি ভিন্ন কিছু পড়তে চাইলে বইটা ট্রাই করতে পারেন। বইটা সেরা কিছু না অবশ্যই তবে খানিকটা ভিন্ন কিছু
Profile Image for Solanki Halder.
18 reviews5 followers
September 23, 2020
This is the 3rd book I read by the author and I have to admit, he keeps on getting better. Bengali literature do not have too many science fiction novels, especially among the modern writers. Most of the bengali science fiction I have read has been short stories. However, this book blends science fiction with a drama romantic theme so well which is unique to Sayak's stories( If you have doubts, check out his youtube channel - Midnight Horror Station). However, I feel the author lacks the ability to close a novel well. The endings in his stort stories are amazing but the novel endings do not have the same effect, it transverses to the realm of predictability and slightly ridiculous. I do believe though, he has some amazing potentials to be very popular and would look forward to all his future works.
Profile Image for Sourav Das.
70 reviews5 followers
June 7, 2021
অনবদ্য। অসাধারন।

পাঁচ - রেটিং ও বোধহয় কম পড়বে এই বই এর জন্য। এই গল্পের রেশ অনেকদিন থেকে যাবে মনে। ভালোবাসার অন্তহীন অপেক্ষা। এটা এমন এক অভিজ্ঞতা যেটা না পড়লে কাউকে তার প্রভাব বোঝানো যায় না।

"চলে গেছো হৈম?" এই লাইন টা একটা আলাদা রকমের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করায়।

প্রেমের সাথে কল্পবিজ্ঞানের মিশ্রণ। একটা আলাদাই জগতের সৃষ্টি করেছে। সায়ক আমানের আরেকটি মাস্টারপিস।

পাঠকদের classic, thriller থেকে বেরিয়ে এসে এই বইটি একবার পড়ে দেখা উচিৎ। আশাহত হবেন না এটুকু বলতে পারি। এবার বাকিটা সবার নিজস্ব মতামত।
Profile Image for নাঈম ইসলাম.
99 reviews5 followers
September 4, 2022
শেষ করলাম সায়ক আমানের ভাসানবাড়ি

"ভাসানবাড়ি" পড়ে মনে হয় প্রত্যেক 'হৈম'র জীবনেই একজন 'অশ্বিনী' কে প্রয়োজন !

হাজার হাজার বছর ধরে কেউ একজন 'ভাসানবাড়ি' তে অপেক্ষা করলে, তবেই তো ফিরে আসার তাগিদ থাকে.

পাঠপ্রতিক্রিয়া
আমার কাছে মাঝারি মানের বই মনে হয়েছে,
খুব যে ভালো তা না, আবার একেবারে ফেলনা ও না,

বইটার প্রতি আগে থেকেই একটা প্রত্যাশা ছিলো
সেটা পুরোপুরি ভাবে না মিটলেও একেবারে হতাশ করেনি
সায়ক আমান,,

সব শেষে বলবো,
ভাসানবাড়ির ছাদ থেকে রাতের আকাশ দেখার জন্যে হলেও আপনি বইটা কিনতেই পারেন।

#ভাসানবাড়ি
Profile Image for Jenia Juthi .
258 reviews66 followers
July 16, 2021
"চলে গেছো হৈম?"
কয়েকবার পড়েছি এই কথাটা! প্রেম ভালোবাসার গল্প ভালো লাগে না, তাই পড়িও না। কিন্তু, এই বইটা একটু অন্যরকম। হৈমন্তী এভাবে চলে গেলো?
Profile Image for Sweta Bose.
84 reviews3 followers
Read
March 20, 2022
আমি জীবনের এই প্রথমবার একটা বই পড়লাম কোনো কিছু না বুঝেই। অগত্যা এই বইয়ের কোনো রকম ratings দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
Profile Image for Nusrat Mahmood.
594 reviews737 followers
December 2, 2021
আরেকটু মন দিয়ে পড়লে বোধহয় উপন্যাসটা আরেকটু ভাল লাগতো। বাংলায় গড়্গড়িয়ে না গিয়ে সায়েন্স ফিকশনের সাথে রোমান্সের তাল মিলানো কিন্তু খুব কঠিন। সে জায়গাটাভাল উৎরেছেন লেখক।
Profile Image for Kaushik Roy.
27 reviews8 followers
August 20, 2021
কিছুদিন আগেই একজন প্রথিতযশা সাহিত্যিক একটি আলোচনার অবতারণা করেছিলেন। অনেকগুলো বিষয় ছিল যেগুলির অনেকগুলোই আমার ঠিক মনে হয়েছিল, শুধু একটি ছাড়া। সেখানে তিনি লিখেছেন, আজকাল থ্রিলার , হরর , বিবিধ নানা জঁর বা ঘরনা নিয়ে কাজ হচ্ছে(সেগুলোর প্রশংসাও তিনি করেছেন), কিন্তু মানুষের কথা বলে, গ্রামের মেঠো পথের গন্ধ ভেসে আসে, প্রেম এরকম লেখা নতুনরা খুব কম লিখছেন। তারও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, হয়ত এই জিনিসগুলো আজকাল আমাদের ধরা ছোঁয়ার খুব কাছে চলে এসেছে। মানুষ এমন কিছু পড়তে চায় যা আমাদের দৈনদিন জীবনে সহজলভ্য নয়। এই মতটিকে আমিও স্বীকার করি। কিন্তু ঠিক তারপর থেকেই আমার মৃদু দ্বিমতও আছে। এটা একেবারেই আমার ব্যক্তিগত মত - সময়ের সাথে সাথে সব কিছুকেই পাল্টাতে হবে। এবারে একটা বিতর্ক সভায় কোনো প্রসঙ্গে বলা চন্দ্রিলের মতটাও বলি। যা চলে আসছে আর যেভাবে চলে আসছে তার বাইরে যখন কেউ নতুন কিছু করার চেষ্টা করে যেটা সমসাময়িক সময়ের বিচারে হয়ত সব সময় ভালো কি খারাপ বলা যায় না, কিন্তু সেটাই কিন্তু শিল্পের প্রথম প্রকাশ। একজন শিল্পীর কাজই হল দৈনদিন জীবন থেকে একটা অংশ তুলে নিয়ে এমনভাবে দেখানো যেটা এর আগে হয়ত কেউ দেখেনি বা ভাবেনি, এবার সেটা আশাব্যঞ্জক বা হতাশাব্যঞ্জক যেকোনো কিছু হতে পারে।
তাহলে এই দুটো মতকে যদি মোটামুটি পাশাপাশি রাখি তার মানে হল এই যে আমি একটা প্রেমের গল্প, গ্রামের গল্প, মানুষের গল্প বলতে গেলেও আমাকে নতুন করে ভাবতে হবে। সেখানে আর ওই চিরাচরিত সাহিত্য ভালো নাকি থ্রিলার সেটা বোধহয় খুব একটা আর প্রাসঙ্গিক নয়।
.
তবে বিশ্বময় থ্রিলার লেখার হিড়িক কেন? কারণ , থ্রিলার এমনই একটি ভার্সেটাইল ঘরনা যার মধ্যে আপত ভাবে পরস্পর বিরোধী জিনিসগুলোকেও একসাথে বেঁধে ফেলা যায়। যেমন সহজ উদাহরণ- আমি প্রেমের উপন্যাসে দুখানা লর্ড বায়রণের প্রেমের কবিতার লাইন দিতেই পারি। কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও লর্ড বায়রণের অনেক কটি অবৈধ সম্পর্ক ও একটি মাত্র বৈধ সন্তানের গল্প ফাঁদতে পারব না। থ্রিলার কিন্তু এই সুযোগটা দেয়।
.
এতগুলো কথা বলার কারণ? কারণ এতদিন ধরে এইগুলো মনের মধ্যে ঘুর ঘুর করলেও বলে উঠতে পারছিল না, কারণ হাতের কাছে একটা প্রমাণ তো চাই। এখন আছে। সায়ক আমনের 'ভাসানবাড়ি'। বইয়ের মুখবন্ধে লেখক নিজেই লিখছেন, 'কাটতি বাড়াতে এই বইটাকে আমরা সায়েন্স ফিকশান থ্রিলার ট্রিলার কিছু একটা বলে চালানোর চেষ্টা করব। আপনি কান দেবেন না। ভাসানবাড়ি আদ্যপান্ত প্রেমের গল্প'। যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন এটা কি থ্রিলার? আমি বলব- হ্যাঁ প্রেমের থ্রিলার। যদি বলেন এটা কি সাইফাই? আমি বলব অবশ্যই। যদি বলেন এটায় কি গ্রাম্য মেঠো পথের গন্ধ আছে? আমি বলবো, পাতায় পাতায় আছে। কখনও বইয়ের খোলা পাতা থেকে বৃষ্টি পাঠককে ছুঁয়ে যায়, কখনও শিশির ভেজা ঘাসের গন্ধে ঘর ভরে ওঠে, বৃষ্টির সাথে তুমুল মেঘের গর্জন জানালা ছুঁয়ে যায়। দেখা প্রকৃতি আর প্রান্তরের অদেখা রূপকেই অসাধারণভাবে লেখকের কলম তুলে ধরেছে, কোথাও এতটুকু বেশি বা কাহিনি শ্লথ হচ্ছে মনে হয় না। বরং মনে হয় কাহিনি আরো অনেকটা এগিয়ে গেল। প্রত্যেকটা দৃশ্যের এত ভালো বর্ণনা যেন মনে হয় চোখের সামনে ঘটছে। মেঠো পথে নরম মাটিতে পায়ের চাপে তৈরি হওয়া গর্তে জল জমেছে আর বৃষ্টি শুরু হতেই বৃত্তাকারে তারমধ্যে জলের আলপনা খেলা করে চলেছে। ঠিক এটাই ডিটেলিং, অবশ্যই আমার থেকে অনেক ভালো ভাষায় এই পুরো দৃশ্যটি বর্ণনা করা হয়েছে।
যদি শুধু প্রেমের গল্পের অংশটুকুর কথা বলতে হয় তাহলে হয়ত খুব চেনা একটা নায়ক নায়িকার প্রেমের চেনা সমীকরণ, কিন্তু সেটা যে আঙ্গিকে উপস্থাপনা করা হয়েছে সেটা এই উপন্যাসটির রংটাই বদলে দেয়। জু হাইপোথিসিস, টাইম ডাইলেশন, বিগ ব্যাং, ডার্ক এজ অনেক কিছু বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে এসেছে, কিন্তু একেবারের জন্যও মনে হয়নি গল্প খেই হারাচ্ছে।
.
যাদের মনে হয় প্রেমের গল্প আর নতুন কী পড়ব, তাদের জন্য আমি এই বইটা সব সময় প্রেসক্রাইব করব। আর যাদের মনে হয় থ্রিলার মানেই গোয়েন্দা আর ভূত তাদের জন্যও এই বইটা প্রেসক্রাইব করব। তবে একখানা বিধিসম্মত সতর্কীকরণ: এটি ফাস্ট পেসেড থ্রিলার নয়, বরং স্লো পেসেড থ্রিলার। আজকাল ব্রাউন মশাই থেকে সংগহী মশাই সবাই কিন্তু স্লো পেসেড থ্রিলার লিখছেন। তাই আমি অন্তত এই বই পড়ে খুশি নই, মুগ্ধ হয়েছি।
.
আর খারাপ? সত্যি বলতে পড়তে পড়তে এতটাই মোহিত হয়েছিলাম যে বাকী আর কিছু দেখে উঠতে পারিনি। হয়তো আছে কিছু ভুল। কল্পবিজ্ঞানের বলিষ্ঠ পাঠকরা খুঁজে বের করবেন। তবে বেশ কিছু জায়গায় গল্প লেখার ক্ষেত্রে কিছু ইংলিশ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যেগুলোর কিন্তু ভালো ভালো বাংলা প্রতিশব্দ আছে। চাইলেই ব্যবহার করা যেত। যে যে খানে ডায়ালগের মাঝে বা বিজ্ঞানের বিশেষ থিওরির কথা বলা হয়েছে সেই জায়গাগুলোর কথা কিন্তু বলছি না। সেগুলো তো আসতেই পারে। আশা করি লেখক এই ব্যাপারটি একটু খেয়াল করবেন।
.
পুনশ্চ: একটা দীর্ঘ গৌর চন্দ্রিকায় পড়ে হয়তো অনেকেই বিরক্ত। নিজগুণে মাফ করবেন। মতামত একান্তই ব্যক্তিগত। তবে যাওয়ার আগে বলে যাই, লর্ড বায়রনের একমাত্র বৈধ কন্যা লেডি অ্যাডা আগুস্টা ছিলেন মানব সভ্যতার প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার। আজ্ঞে , হ্যাঁ আধুনিক কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজের তৈরি ডিফারেন্সিয়াল ইঞ্জিনের প্রোগ্রাম করেছিলেন তাঁরই সহকারিণী লেডি আগুস্টা।
Profile Image for Madhurima Nayek.
361 reviews134 followers
May 11, 2021
🌠 ৩.৫ স্টার।

প্রেম + সাইন্স ফিকশন মিক্সড আপ। গল্পে প্রেম আছে ঠিকই তবে সহজবোধ্য গল্প এটা নয়, বেশ জটিল। বইটাতে বেশ কিছু ফিজিক্সের তত্ত্ব (যেমন আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি থিওরি, টাইম ডায়ালেশন, ডার্ক এজ, ম্যাটার- অ্যান্টিম্যাটার ইত্যাদি) আছে, যা আমার মাথার ওপর দিয়ে বেরিয়ে গেছে, মানলাম প্লটের খাতিরে এসব জটিল বিষয়ের অবতারণা,তবে আমার মনে হয় সাইন্সের স্টুডেন্ট ছাড়া বাকিদের পক্ষে বোঝা খুব মুশকিল।গল্পের জটিল অংশটুকু বাদ দিলে পুরো গল্পটা কিন্তু সুন্দর। অশ্বিনী আর হৈমন্তীর কেমিস্ট্রি বেশ ভালো লেগেছে। অশ্বিনী চরিত্রটা খুবই ইন্টারেস্টিং ও রহস্যাবৃত। এই হৈমন্তী ও অশ্বিনীকে ঘিরেই গল্প, ভালোবাসার গল্প, অপেক্ষার গল্প। প্রথম থেকে গল্পটা পড়তে কিন্তু বেশ ভালো লাগছিলো, কিন্তু শেষের দিকটা বড্ডই জটিল। গল্পে ছোটো খাটো কিছু অসঙ্গতিও চোখে পড়ে।সবাই এই বইএর প্রশংসায় পঞ্চমুখ, আমি অত মুগ্ধ হতে পারিনি তবে শেষপর্যন্ত পড়ে আমি বলবো গল্পটা খারাপ না, একটু সহজ সরল হলে ভালো হতো এই আরকি, কেনোনা অনেক কিছু কনফিউশন রয়ে গেছে। আর হ্যা,বইএর প্রচ্ছদ কিন্তু খুবই সুন্দর ও রোম্যান্টিক।
Profile Image for Mohana.
100 reviews8 followers
March 22, 2023
[যদি আপনার বিশাল ফ্যান্ডম থাকে তাহলে আপনিও এরকম দশটা বই লিখে সাহিত্যিক হয়ে যাবেন]

এক বান্ধবীর জোড়াজুড়িতে অনিচ্ছাসত্ত্বেও পড়ে ফেললাম বইটা। কেন ইচ্ছা ছিল না? কারণ আমি প্রেম ভালোবাসার বইয়ের থেকে শতহস্ত দূরে থাকতেই পছন্দ করি, আমি রিলেট করতে পারিনা। কিন্তু আমার বান্ধবীটি নাছোড়বান্দা। তার মতে এই বইটি পড়লে আমি এতটাই আবেগপ্রবণ হবো যে চোখের জল ধরে রাখতে পারবো না। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার হল বইটি শেষ করেও এর মধ্যে কোনোটিই আমার হয়নি বরং খুশি হয়েছি এত খারাপ একটা বই তাড়াতাড়ি শেষ হয়েছে বলে।

Netflix এ একটি অসাধারণ জার্মান সিরিজ আছে time dimension এর উপরেই, তার নাম Dark। বলা হয় এখনও অবধি যত সায়েন্স ফিকশন শো হয়েছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে সেরা এবং নিঃসন্দেহে বলতে পারি আমার মতেও তাই। যারা দেখেছেন তারা জানবেন। কেন বলছি এসব? কারণ ভাসানবাড়ি আমার অনেকটা বাংলায় বানানো Lite Dark টাইপ লেগেছে। যেমন ধরুন facebook এরও lite ভার্সন হয়, যা ফোনে থাকলে জায়গা কম খায়, কিছু ফাংশনও কমে যায়, জটিলতা কম থাকে ঠিক সেরকমই 'ভাসানবাড়ি' তে জটিলতা কম, কম সময়ে শেষ হয়ে যায়, ডিটেলস কম, হুবহু বাঙালীর Dark এর lite ভার্সন, কারণ আরেকটা Dark লেখার বা বানানোর ক্ষমতা কারুরই নেই (বাড়িয়ে বলছি না, শো টা দেখে থাকলে বুঝবেন)।

তাহলে কি পুরো বইটাই হুবহু এক? নাহ, তা আমি বলিওনি। তবে ভাবনা এক। এমনকি শেষ দৃশ্যটারও যথেষ্ট সামঞ্জস্য আছে। যদি কোনোদিন কোথাও লেখক বলে থাকেন যে Dark দেখেই তিনি ইন্সপায়ার্ড হয়েছিলেন বইটা লেখার তাহলে বোধহয় এর ঠিক ঠাক ব্যাখ্যা হয়।

যাই হোক, বইটি আমার ভালো লাগেনি, তার প্রথম কারণ বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও তত��বগুলো বড্ড খাপছাড়া, অনেক জায়গাতেই লজিক্যাল মনে হয়নি আমার, দ্বিতীয়, প্রত্যেকটা দৃশ্যপটেই Dark এর ফ্ল্যাশব্যাক এসে পড়েছে কোনো না কোনোভাবে, বার বার মনের মধ্যে ভেবেছি 'এই তো Dark এর মতো' 'ধুশ আরেকবার Dark দেখে নিলেই হতো' (যদিও Dark এর মতো জটিল হলে এই বইটি এত জনপ্রিয় হতো না, ওইজন্যই বললাম lite ভার্সন), তৃতীয় আমার প্রেম ভালোবাসার বইয়ের অতিরিক্ত ড্রামাটিক ন্যাকামো বিরক্ত লাগে, আর এখানে তো সেটা ভর্তি ভর্তি রয়েছে।

একটা মেয়ে ট্যাক্সিতে চড়তে ভালোবাসে এবং সামনের সিটে বসতে ভালোবাসে বলে ট্যাক্সির পিছনে কেউ বসে আছে কিনা দেখবে না?

একটা বাচ্চা মেয়ের এইচ আইভি ধরা পড়ল, তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারলেন যে শিক্ষিকা তিনিই যখন দেখলেন বাচ্চাটি ব্যাপারটা নিয়ে কিছুই বলছে না তখন কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞর কাছে না নিয়ে গিয়ে শুধু একটা ঘড়ি পরিয়ে ক্ষান্ত হলেন?

একটা মেয়ে এইচ আইভি ��জিটিভ হয়ে নিজের বুক চিড়ে হাত চিড়ে রক্ত ঝড়িয়ে দুষ্কৃতীদের তার দিকে আসা থেকে বিরত করে, আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে জানলা দিয়ে.....তারপরেও তার কিছু হয় না....একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না??

আর অশ্বিনী নামক চরিত্রের কথা তো বললামই না, তার তো সবকিছুই ওভার ড্রামাটিক।

এরকম অজস্র বিরক্তিকর ড্রামাটিক লজিকহীন দৃশ্যে বইটা ভর্তি। পড়লে মনে হবে বই নয়, লেখক আসলে প্রসেনজিতের আমলে দাঁড়িয়ে একটা সস্তার সায়েন্স ফিকশন সিনেমা বানাতে বসেছিলেন তারই স্ক্রিপ্ট এটা। এটা পড়ে আবেগপ্রবণ হওয়া তো দূরের কথা, বরং নিজের লজিক কে প্রশ্ন করতে আপনি বাধ্য। আমি তো করেছি।

আমার বান্ধবীটি ভীষণই হতাশ হয়েছে আমার এই বক্তব্যে, ভবিষ্যতে সে মনে হয় আমাকে আর কোনোদিন কোনো বই সাজেস্ট করবে না। শেষে বলি, যাদের ভালো লেগেছে তাদের আমি জাজ্ করার মতো কোনো হনু নই, আমি নিজের অভিজ্ঞতা লিখেছি মাত্র।
Profile Image for Mrinmoy Bhattacharya.
226 reviews36 followers
February 23, 2020
“ চলে গেছ হৈম ? ”

কিছু কিছু বই থাকে যেগুলির এক অদ্ভুত আকর্ষণী শক্তি থাকে, ছেড়ে ওঠা যায় না । আবার বইটি শেষ হয়ে যাবে ভেবে এক অদ্ভুত মনখারাপ ঘিরে ধরতে থাকে । এই দুইরকম অনুভূতির আদর্শ উদাহরণ এই বইটি । না, প্রতিক্রিয়া লেখার ভাষা নেই আমার । শুধু বইটির ভূমিকা থেকে একটু অংশ তুলে ধরতে চাই -

“....এই বইয়ের পাতা থেকে মুখ তুলে একটু মনে করুন, শেষ যে মানুষটিকে ভাসান দিয়ে এসেছেন আপনি... অনিচ্ছা সত্ত্বেও, সবটুকু দিয়েও ধরে রাখতে পারেননি তাকে, কোনো নদীর ঘাটে, রেলস্টেশনে, চেনা রাস্তায় কিংবা ইলেকট্রিক চুল্লিতে রেখে চলে আসতে হয়েছে... জলে ফেলে দেওয়া প্রতিমার মতো তারাও সময়রেখা বেয়ে চলে গেছে দিগন্তের দিকে । তারপর আর অপেক্ষা করেননি তার জন্য । ভেবেছেন, আর কিছুই তো নেই....
আছে কি নেই বিশ্বাস করুন, আমিও জানি না । তবে এই পৃথিবীর মানুষদের কারও কারও বুকের ভেতর নিশ্চয়ই একটা ভাসানবাড়ি আছে । এমন একটা বাড়ি যেখানে বছরের পর বছর ভাঙা দালান, শুকনো পাতায় ছেয়ে যাওয়া ছাদ আর ঝুলন্ত কড়িকাঠের পাঁজরে কেউ অপেক্ষা করতে থাকে আপনার জন্য । অনন্তকাল ধরে....”

ভালোবাসার গল্প পড়তে চান ? এমন ভালোবাসার গল্প যা আপনার গতানুগতিক ভালোবাসার ধারণাটুকুই বদলে দেবে ? অপেক্ষার গল্প শুনতে চান ? সবকিছু পাবেন এই গল্পে । মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে একটি আদ‍্যোপান্ত প্রেমের গল্প, অন্তহীন অপেক্ষার গল্প..... চটপট পড়ে ফেলুন ।
1 review
March 23, 2021
Kaoke valobasle take nijer theke dure chole jete deouyata jmn koster, temoni tar jonno ananta kal opekkha koratao koster. Kintu Dekha houya, ar chole jaouyar majher eksathe thakar somoy ta khubb sundor, ar ei soundorjer mahatto lukiye thake oi opekkhar bedonay. Jokhn Jana thake se fire asbei, opekkhar muhurto gulo jotoi koster hok tateo anondo thake, ucchwas thake. Kintu jne jai, nah se ar amr kache firbe na, sei osohoniyo jontrona, buker moddhey dola pakano aswastikar kostota sob ses kore day, asao hariye jay.
Vasanbari theke jmn onekta valobasa, ananta prem feel korechi tmn e feel korechi asa harate nei. Sesh Jodi hoi o, sesh Tai khubb sundor hbe, mrittutei soundorjyo lukiye thake. ❤️❤️
Profile Image for Shalini Chakraborty.
7 reviews7 followers
November 12, 2020
কতটা যে ভালো লাগলো তা ঠিক বলার ভাষা নেই। মনের মধ্যে এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে চোখের কোণটা অজান্তেই চিকচিক করে উঠছে।
সত্যি যারা হারিয়ে গেল তারা কি সত্যি হারিয়ে যায় ?
না হয়তো ।
ফিরে আসে বার বার নতুনভাবে।

মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে এমন চিরন্তন ভালোবাসার কাহিনী উপহার দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ লেখককে।
Profile Image for Debolina Chakraborty.
33 reviews16 followers
July 11, 2023
বই - ভাসানবাড়ি
লেখক - সায়ক আমান
পৃষ্ঠা - ২২৪ পাতা
মুদ্রিত মূল্য - ২২২ টাকা
প্রকাশনা - বিভা পাবলিকেশন্স

"শোনো আমি আবার জন্ম নেব
হব সবার শেষে বাড়ি ফেরা
তোমার জাতিস্বর,
শোনো আমি আবার জন্ম নেব
এই মুখের আদল বদলে গেলেও
চিনবে গলার স্বর।"

কোনো-কোনো বইয়ে একটা অন্যরকম রহস্য থাকে। ভূতপ্রেত, খুনখারাপি, অপহরণ, গুপ্তধন— এ-সব নয়। পালসার-কোয়াসার হয়ে প্রাণের উদ্ভব, আলোর চেয়ে দ্রুত চলাফেরা, বস্তু ও শক্তির পারস্পরিক রূপান্তর— এও নয়। বরং আরও জটিল কিছু রহস্য থাকে সেই বইয়ে। যেমন ধরুন, জীবন-মরণের বাঁধা ছকের বাইরেও কি কিছু আছে? যদি থাকে, তাহলে কীভাবে তার নাগাল পাওয়া যায়? আর...
পেলে কী হয়?
এই বইয়ে সেই রহস্যটা আছে...

প্রচুর নেগেটিভ ফিডব্যাক পাওয়ার পরেও কি এক অমোঘ টানের বশবর্তী হয়ে এই বই কেনা... অপ্রাপ্যের ভান্ডার প্রচুর রয়েছে বইতে... তবুও ঐ যে শাহরুখ খান বলেছে না, "end mein sab thik ho jata hain"...

প্রথমেই অপ্রাপ্যের ভান্ডার পেশ করা যাক...

⭕ প্রথম এবং প্রধান অপ্রাপ্তি, অশ্বিনী অর্থাৎ গল্পের নায়ক , সে যে আসলে কে? কি তার উৎপত্তির উৎস? কেনই বা সে শুধুমাত্র হৈমন্তীর জন্যই বছরের পর বছর অপেক্ষা করলো... পরিস্কার নয়...

⭕ যে যন্ত্রটি খোঁজার উদ্দেশ্যে হৈমন্তী ভাসানবাড়ি তে এসেছিল, সেই উদ্দেশ্য সফল করলো না, তাও স্বতোপ্রণোদিত ভাবে... তাহলে গল্পের বিষয়বস্তুতে বস্তুটি রাখার প্রয়োজনীয়তা কি বুঝলাম না...

⭕ উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্য দুজন নিরীহ মানুষের খুনকে লেখক যে বর্ণনা দিয়েই সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করুক, তা হজম হবে না পাঠকের...

⭕মাঝে মাঝে কিছু জায়গায় মহাজাগতিক বিষয়ে লেখক বাস্তব থেকে এক আলোকবর্ষ দূরে পৌঁছে সেখানে অলীক কল্পনা মিশিয়ে বিজ্ঞানকে এতই ঘেঁটে ফেলেছেন যে ,
"ফিরিবার পথ নাহি, দূর হতে যদি দেখ চাহি, পারিবে না চিনিতে আমায়"...

কিন্তু কেন পড়বে কেউ এই বই??? এবার বলবো সেই কথা...
" তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি,
শত রূপে শত বার...
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনির্বার।"

এই কয়েকটি লাইনই যেন সব বলে দেয়। এই বইটিকে ঠিক কি ক্যাটাগরিতে ফেলা যায়... আদ্যোপান্ত প্রেমের গল্প, কল্পবিজ্ঞান, মহাজাগতিক রহস্য নাকি অন্য কিছু... আমার জানা নেই। তবে একটা কথাই বলবো, এই বই আপনাকে শেষ না করা পর্যন্ত উঠতে দেবেনা...

“....এই বইয়ের পাতা থেকে মুখ তুলে একটু মনে করুন, শেষ যে মানুষটিকে ভাসান দিয়ে এসেছেন আপনি... অনিচ্ছা সত্ত্বেও, সবটুকু দিয়েও ধরে রাখতে পারেননি তাকে, কোনো নদীর ঘাটে, রেলস্টেশনে, চেনা রাস্তায় কিংবা ইলেকট্রিক চুল্লিতে রেখে চলে আসতে হয়েছে... জলে ফেলে দেওয়া প্রতিমার মতো তারাও সময়রেখা বেয়ে চলে গেছে দিগন্তের দিকে । তারপর আর অপেক্ষা করেননি তার জন্য । ভেবেছেন, আর কিছুই তো নেই....
আছে কি নেই বিশ্বাস করুন, আমিও জানি না । তবে এই পৃথিবীর মানুষদের কারও কারও বুকের ভেতর নিশ্চয়ই একটা ভাসানবাড়ি আছে । এমন একটা বাড়ি যেখানে বছরের পর বছর ভাঙা দালান, শুকনো পাতায় ছেয়ে যাওয়া ছাদ আর ঝুলন্ত কড়িকাঠের পাঁজরে কেউ অপেক্ষা করতে থাকে আপনার জন্য । অনন্তকাল ধরে....”

বইটা শেষ হওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ কাঁদছিলাম, বুঝতে পারছিলাম না কি প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত। বইটার শেষে এসেই শুরু হয়েছিল কান্না, যখন অশ্বিনী বলে "চলে গেছো হৈম?"... সম্ভবত এই বইয়ের শ্রেষ্ঠ লাইন...
পৃথিবীর সমস্ত অশ্মিনীরাই যদি বলতো, ""ভয় পেয়ো না, হৈম। আমি অপেক্ষা করব... আবার দেখা হবে... কেমন?"
তাহলে হয়তো প্রতিটা হৈমন্তী এভাবেই নিশ্চিন্তে না ফেরার দেশে পাড়ি দিতে পারতো... অশ্মিনীরা এভাবেই বারেবারে পৃথিবীতে ফিরে আসে ভিন্ন ভিন্ন রূপে,ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, কেবলমাত্�� তারই 'হৈম' র জন্য।।
Profile Image for Kinshuk Majumder.
205 reviews8 followers
August 28, 2024
"ভাসানবাড়ি" - সায়ক আমান


"তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি, 

 শত রূপে,শত বার

জনমে জনমে, যুগে যুগে অনির্বার"


'ভাসানবাড়ি'- আজ থেকে দুশো বছর আগে এক জ্যোতির্বিজ্ঞানীর তৈরী এক রহস্যময় স্থাপত্য। বাড়িটা তেমন বড়ো নয়। দোতলা, তবে দুপাশে খানিকটা ছড়ানো। একেবারে মাথায় ছাদের উপরে একটা ত্রিশূল। আর তার গায়ে লাল রঙের পতাকা ঝুলছে। তার নিচে খানিকটা অংশ ইট-সিমেন্টের চাদর ফাটিয়ে উঁকি দিচ্ছে বাতাসে। আগে একটা পুকুর ছিল সেখানে গোটা গ্রামের লোক ঠাকুর বিসর্জন দিতো তাতে। সেটাকে বলা হতো ভাসানপুকুর, সেখান থেকে ভাসানবাড়ি। লোকে বলে সেই পুকুরটার আত্মা এই বাড়ির ভিতরেও সঞ্চারিত হয়েছে। এই বাড়িটাও মানুষ কে ভাসিয়ে নিয়ে যায় অন্তিমের দিকে। ভাসানের দিকে....


কিন্তু সত্যি অন্তিম বলে কিছু হয় কি? কে বলতে পারে মাটি গলে, রং উঠে গিয়ে নদীর অপরপ্রান্তে যখন খড়ের কাঠামোটা পৌঁছায়, তখন কেউ অপেক্ষা করে না তার জন্যে? কেউ আবার নিজের মতো করে সাজিয়ে নেই না তাকে? মরে যাবার আগে শশাঙ্কমোহন বলেছিলেন হ্যালির ধূমকেতুর মতো এই বাড়িতেও নির্দিষ্ট সময় পরে ফিরে ফিরে আসে কেনো মানুষ? কে সে? ভাসানবাড়ির ছাদ থেকে দেখা যায় অচেনা আকাশ! সত্যি কি সময়ের নিয়ম মানে না বাড়িটা? কিন্তু সেটাই বা সম্ভব  কীভাবে?রহস্য আর সময় চাদর মুখে টেনে কাদের অপেক্ষায় থাকে ভাসানবাড়ি?


 মহাজগতে সৃষ্টি একবারই হয়, শুধু রূপ পাল্টায়, অশ্বিনী তার হৈমন্তী কে খুঁজে গেছে শত রূপে... শত শত বার। অপেক্ষা হলো ভালোবাসার সব থেকে সুন্দর অলংকার যা সময় এর শরীর এ সুন্দর ভাবে  সজ্জিত করতে পারলে হৃদয় এ তা প্রতিফলিত হয় | 


হৈমন্তী ঘোষ, বয়স ত্রিশ, পাতলা , ছিপছিপে চেহারা।  বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করেছিল কিন্তু অজ্ঞাত কোনো কারণে সে বিয়ে টেকেনি। কলেজ জীবনে সে ফিজিক্স এর ছাত্রী ছিল। পরে জার্নালিজমে আগ্রহ জন্মায়। বিয়ে ভেঙে যেতে একটা Heritage Reasearch Socity তে যোগ দেয়। 


অশ্বিনী - হৈমন্তীর আন্দাজ অনুযায়ী বয়সে ছেলেটা তার থেকে বছর দুয়েকের ছোটই হবে। তবে লম্বায় ফুট খানেক বেশি। সুদীর্ঘ সময় ধরে কম্পিত হতে থাকা তানপুরার মতো গম্ভীর ও সুরেলা গলা তার। পাট করে আঁচড়ানো মাথার চুল, ওজন করে কথা বলে। 


এই কাহিনীর অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সময়। যার ‛সরণ’ শূন্য হলেও বন্দি রাখা যায় না তাকে। সময় সব সময় পালিয়ে যেতে চায়। 


সময়ের চেয়েও প্রাচীন সেই প্রেমের তাগিদে অন্তহীন অপেক্ষা বুকে নিয়ে যুগযুগ ধরে ফিরে আসে যে, তার দীর্ঘ অপেক্ষার সাময়িক অবসান ঘটার গল্প এই "ভাসানবাড়ি"। কিছু কিছু বই থাকে যেগুলির এক অদ্ভুত আকর্ষণী শক্তি থাকে, ছেড়ে ওঠা যায় না। আবার বইটি শেষ হয়ে যাবে ভেবে এক অদ্ভুত মনখারাপ ঘিরে ধরতে থাকে। এই দুইরকম অনুভূতির আদর্শ উদাহরণ এই বইটি। মারণরোগের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াইয়ে ক্লান্ত এক মেয়ে হৈম-র নতুন করে নিজের অস্তিত্বকে খুঁজে পাওয়ার গল্প। তার ক্ষতবিক্ষত, পরিশ্রান্ত হৃদয়ের সেই অনন্ত প্রেমের জোয়ারে ক্ষনিকের আশ্রয় পাওয়ার গল্প।

বইতে যেমন হৈম আর অশ্বিনীর প্রেম দেখতে পাবেন ঠিক তেমনি হৈমন্তীর ছেলেবেলাও যেন পাঠকের চোখের সামনে ভেসে উঠবে। কোনো দোষ না করেও সবার চোখে হঠাৎ করে দোষী হয়ে যাওয়া হৈমর কষ্টটা, তার মৃত্যুভয় যেন আপনিও অনুভব করতে পারবেন।


- "চলে গেছো হৈম?"

- "ভয় পেয়ো না, হৈম। আমি অপেক্ষা করব... আবার দেখা হবে... কেমন?"

এ যেন এক অন্তহীন অপেক্ষা। অশ্বিনীর তার হৈমর জন্য, হয়তো সকল প্রেমিকেরই তার প্রেমিকার জন্য... যে বারেবারে পৃথিবীতে ফিরে আসে নানা রূপে,নানা সময়ে, কেবলমাত্র তারই 'হৈম' র জন্য।

মহাজাগতিক প্রেক্ষাপটে একটি আদ‍্যোপান্ত প্রেমের গল্প, অন্তহীন অপেক্ষার গল্প!
Profile Image for Tiasa Dutta.
8 reviews
March 23, 2023
কিছু কিছু বই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক অসাধারণ মুগ্ধতায় আবিষ্ট করে রাখে। এই বইটিও তেমনি। এই বইয়ের পরতে পরতে এক অন্যরকম রহস্য লেগে। এই বইতে রয়েছে সময় নিয়ে অদ্ভুত এক খেলা, আর তার চেয়েও কিছু জটিল রহস্য। আচ্ছা, এই পৃথিবীর বাইরে বেরিয়েও যদি ভাবা যায়, তবে সেখানে কি আছে প্রাণের হদিশ! থাকলেও তারা কারা, আদৌ কি তারা মানুষের মতো! জীবন-মৃত্যুর ছক পেরিয়েও কি কিছু থাকে? এমন সব প্রশ্ন সারা বই জুড়ে তাড়া করে বেড়াবে আপনাকে। আর এইসব রহস্যের উত্তর জানার তাগিদেই আপনি কখন যেন শেষ করে ফেলবেন সমস্ত বইটা, তার টেরটিও পাবেন না। আর রয়েছে প্রেম। এক নিষ্পাপ, আদিগন্ত প্রেম।

গল্পের শুরু একটা বাড়িকে দিয়ে। যেটিকে প্রায় দুশো বছর আগে এক জ্যোতির্বিজ্ঞানী তৈরি করেছিলেন। বিরাজপুর নামক এক গ্রামে এক পুরনো দিনের পরিত্যক্ত বাড়ি। বহুকাল আগে এ বাড়ির লাগোয়া পুকুরে মানুষেরা প্রতিমা বিসর্জন দিতে আসতেন। সেখান থেকেই এ পুকুরের নাম ‘ভাসান পুকুর' আর এ বাড়ি হয়ে যায় ‘ভাসানবাড়ি’। এ বাড়ির বাসিন্দা বলতে কেউ নেই, আছে এক কেয়ারটেকার। এই বাড়িতেই বাড়ির মালিকদের পারমিশন নিয়ে থাকতে এলেন হৈমন্তী ঘোষ। লক্ষ্য হেরিটেজ সোসাইটির পক্ষ থেকে এই বাড়িটিকে নিয়ে গবেষণা করা। কিন্তু আদতে সে কি যেন খুঁজছে! এ বাড়ি যার সেই জ্যোতির্বিজ্ঞানী নাকি এই বাড়িতেই লুকিয়ে রেখে গেছেন এক অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি। বাইরে থেকে দেখতে সিধেসাধা এই বাড়ির ইউ. এস. পি অন্য জায়গায়। এ বাড়ি সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, বা বলা ভালো সময়কে এলোমেলো করে দিতে পারে। রাত্রে এ বাড়ির আকাশ থেকে অচেনা তারাদের নাকি দেখা মেলে। ৭৫ বছর অন্তর যে হ্যালির ধূমকেতুর উদয় হয়, শোনা যায় এই বাড়ি থেকে নাকি নির্দিষ্ট সময়ের ১০-১৫ বছর আগেই তার দেখা মিলেছিল! কি অদ্ভুত তাই না!

আর আছে অশ্বিনী। যার সাথে হৈমন্তীর দেখা হয় এই বাড়িতে আসার পর। অশ্বিনী বড় শান্ত, গম্ভীর, প্রয়োজনের বেশি কথা না বলা এক অদ্ভুত স্বত্ত্বা। তার এক অদ্ভুত বাতিক, কেন সে অসাড় হয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে আয়নার দিকে! কেন তার কাছে হৈমন্তীর সব খবর রয়েছে!
আর রইল বাকি হৈমন্তী। তাকে আমরা ওপর ওপর দেখি বটে, তবে আসল মানুষটা ঠিক কিরকম তা বোধহয় আন্দাজ করতে পারি না। সে নিজেও রহস্যাবৃতা।

সব মিলিয়ে এ বই একবার পড়তে শুরু করলে আর ছেড়ে উঠতে পারবেন না। এ বই ফ্যান্টাসি ও সায়েন্স ফিকশনের এক অদ্ভুত মিশেল। এ বইতে আছে আইনস্টাইনের উল্লেখ, জু-হাইপোথিসিস, নিউট্রন-প্রোটন, পৃথিবীর শুরু থেকে আরম্ভ করে মহাকাশবিজ্ঞান ও সময়ের নানা দিক। এ বই এইসব কিছুর পাশাপাশি এক আদ্যোপান্ত প্রেমের গল্প, অশ্বিনী-হৈম’র গল্প।

“ভয় পেয়ো না হৈম। আমি অপেক্ষা করব...” এমন অন্তহীন অপেক্ষাই বোধহয় সব প্রেমিকই তার প্রেমিকার জন্য রাখে। আর এই অপেক্ষার টানেই হয়তো হৈমরা ফিরে আসে বারবার, অন্য রূপে, ভিন্ন সময়ে, অভিন্ন হৃদয়ে।

"আমরা ভাবি,বাড়ি বানাতে ইট, সিমেন্ট, রড এইসব লাগে, এদিকে বাড়ি কিন্তু আসলে তৈরি হয় মানুষ দিয়ে। মানুষের থাকা দিয়ে।" সত্যিই তো তাই!

“চলে গেছো হৈম?” এই লাইনটিতে এক অদ্ভুত আকুতি আছে, আছে ছেড়ে না যাওয়ার আর্তি। কিন্তু আমরা বোধহয় আমাদের সবচেয়ে বেশি করে চাওয়া মানুষটাকে ধরে রাখতে পারি না কখনোই। ঐ মুক্তিটুকুই যেন অমোঘ সত্যি। সব শেষে বলতে চাই যেসব প্রেমিক অনন্ত সময় দিতে চায় এ মহাজগতে তাদের জন্য যেন একটা 'হৈম' থাকে।
Profile Image for Arindam Ghosh.
115 reviews2 followers
May 17, 2022
#বইতরণী
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া

"আমার স্বপ্নে বিভোর হয়েই জন্মেছ বহুবার,
আমি ছিলাম তোমার কামনা, বিদ্রোহ চীৎকার,
দুঃখ পেয়েছ যতবার যেনো আমায় দিয়েছ তুমি,
আমি তোমার পুরুষ, আমি তোমার জন্মভূমি... বারবার আসি আমরা দুজন, বারবার চলে যাই,
আবার আসব আবার বলব শুধু তোমাকেই চাই"

প্রেম তো কতরকমেরই হয়, কিন্তু যে প্রেম অসীম, অনন্ত, যাকে পাওয়া যায় না, হারানোও যায় না, সময়ের ব্যবধান ভেঙে জেগে থাকে নক্ষত্রদের মতন - সেই প্রেমের প্রেমে পড়া আমার ছোটবেলায়। যখন ইউনিভার্সিটির পোয়েমের ক্লাসে এডমন্ড স্পেনসারের সনেট পড়াতে গিয়ে ম্যাম বলেছিলেন - এই পৃথিবীতে প্রেম একবারই সৃষ্টি হয়েছে। সমস্ত প্রেমিক প্রেমিকা তারাও একই সত্তা, শুধু বিভিন্ন রূপে বারবার ফিরে আসে বলে আমাদের মনে হয় তারা আলাদা। আসলে সব একই জিনিসের বিভিন্ন রূপ। খুব অবাক হয়েছিলাম। মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা আজ এত বছর পর আবার অনুভব করলাম "ভাসানবাড়ি" পড়তে গিয়ে। ভাসানবাড়ি সত্যিই ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বিলীন করে দেয় চেতন মনকে আর অবচেতন কে প্রশ্ন করে - তাহলে সত্যিই কি এই আকাশ ছাড়িয়ে অন্য আকাশের অন্য কোন মানুষ তাকিয়ে আছে আমাদেরই দিকে? অপেক্ষা করছে তাকে চিনে নেওয়ার? সেই পুরুষ যার প্রেমে নারী পড়েছে বহুবার... বহু রূপে...বহু জন্মে? তারা এসেছে আবার ফিরে গেছে... শুধু শেষ হয়নি একে অপরের প্রতি তাদের প্রেম। অণু, পরমাণু আর গ্রহাণুপুন্জ্ঞের সাথে মিশে গিয়ে মহাকাশের বুকে জেগে থেকেছে প্রাণ হয়ে...সময়ের অপেক্ষায়...কোন এক ভাসানবাড়ির অপেক্ষায়?

বিরাজপুর গ্রামের এক অট্টালিকার পুকুরে একটা সময় দুর্গাপূজার ভাসান হত, সেই থেকেই বাড়ির নাম হয় ভাসানবাড়ি। সেই বাড়িতেই একদিন এসে পৌঁছায় হৈমন্তী। কিছুর সন্ধান করছে সে। এমন কিছু যা সময়ের গতি এলোমেলো করে দেয়। দেখায় অজানা আকাশের অচেনা তারাদের। তার সাথে আলাপ হয় অশ্বিনীর। সে ভাসানবাড়ির কেয়ারটেকার। কিন্তু অশ্বিনী অদ্ভুত। সে যেন একটু বেশিই জানে হৈমন্তী সম্পর্কে, তার অতীত সম্পর্কে। কে এই অশ্বিনী? কী সম্পর্ক তার হৈমন্তীর সাথে? আর বাড়ীর বাকি চরিত্ররা? সত্যিই কি ভাসানবাড়ি সময়ের হিসেব মানে না?

এটা থ্রিলার নয়। বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গটুকু বাদ দিলে পুরোপুরি সায়েন্স - ফিকশনই বা বলি কি করে?! আমার কাছে এ এক অনন্য প্রেমের গল্প।
যদিও বেশ কিছু প্রশ্ন অর্ধমীমাংসিতই রয়ে গেল - উত্তর পাওয়া গেল না। তবে সত্যি বলতে সেগুলোর উত্তর যে আমি খুব চাইছিলাম তাও নয়। নেটফ্লিক্সে 'ডার্ক' দেখেছিলাম। শেষ দৃশ্যে যখন জোনাস‌ আর মার্থা ধূলোর কুচির মতো মিশে যাচ্ছিল সময়ের সঙ্গে, শূন্যতার সঙ্গে - "ভাসানবাড়ি"র শেষটুকু পড়তে গিয়ে সেইরকমই অনুভূতি হয়েছে।
"আমরা দুজনে করিয়াছি খেলা
কোটি প্রেমিকের মাঝে
বিরহবিধুর নয়নসলিলে,
মিলনমধুর লাজে---
পুরাতন প্রেম নিত্য নতুন সাজে"

অন্তত আমি "ভাসানবাড়ি"কে আমার পড়া শ্রেষ্টতম প্রেমের উপন্যাসের একটি বলেই মনে রাখব।

বই : ভাসানবাড়ি
লেখক : সায়ক আমান
প্রকাশনা : বিভা
মূল্য : 180 (বিভা ওয়েবসাইট)
~ নীরা মুখার্জী ( বই তরণী )
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 30 of 82 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.