প্রিয়তীর সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি এই বইটির প্রচারণা যখন হয় ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারি বইমেলায় ফেসবুকে। ২০১৪ তে মিস আয়ারল্যান্ড আর্থ হবার পরে এবং ২০১৫ তে বাংলাদেশে এসে ঘুরে যাবার সময়ের প্রচারণা আমার চোখ এড়িয়ে গেছে, বা মনে নাই।
এই বইটা প্রিয়তীর মিস আয়ারল্যান্ড আর্থ হবার গল্প নয়, বরং বাংলাদেশে সামাজিক অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারে বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় শিশু হিসেবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া, সেই কথা বাবা-মা কে জানাতে না পারা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ শিশুদের নিরাপত্তার অভাবের গল্প থেকে শুরু।
এই গল্প এগিয়েছে প্রিয়তীর প্রবাস জীবনে ভদ্র, নম্র, শিক্ষিত বাংলাদেশী পার্টনারের কাছে ও তার পরিবারের কাছে অর্থনৈতিকভাবে প্রতারিত হবার গল্পে, প্রেগন্যান্সির সময়ে শারিরীক নির্যাতনের গল্পে। এই ভদ্র, শিক্ষিত, নম্র ভদ্রলোক নাকি নিজের সন্তানদের ভরণপোষণের খরচ দেন না, বিষয়টায় পরিচিত অন্য বাংলাদেশী সিঙেল প্যারেন্ট মা-দের কয়েকজনের প্রাক্তন ভদ্র, নম্র, শিক্ষিত, ভদ্রলোকের সাথে বেশ মিল পেলাম।
প্রিয়তীকে বিজনেস গ্রাজুয়েশনের পরে পাওয়া চাকরি হারাতে হয় মায়ের চিকিৎসার জন্যে দীর্ঘদিনের ছুটি নেয়ার কারণে। প্রিয়তীর গল্পে উঠে এসেছে বাংলাদেশে চিকিৎসার দুরাবস্থা, যেখানে প্রতিটি চিকিৎসক ভিন্ন ভিন্ন মতামত দিয়ে বিভ্রান্ত করেন রোগী ও তার পরিবারকে।
মায়ের মৃত্যুর পরে একা প্রিয়তীকে দু'টো ছোট শিশু নিয়ে পার্টনার থেকে পৃথক হয়ে গিয়ে নতুন করে শুরু করতে হয়েছে ফ্লাইং স্কুলের ট্রেইনিং।
এর মাঝে নিজের খরচে, বাচ্চাদের বেবিসিটার অ্যারঞ্জ করে সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড় কিনে করেছেন মিস আয়ারল্যান্ড প্রতিযোগিতা। খেতাব জেতার পরে দেশে এসে শিকার হয়েছেন নামকরা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে যৌন হয়রানির।
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত প্রিয়তী মিস আর্থ খেতাব জেতার পরেও ফ্লাইং স্কুলের ট্রেইনারের চাকরি করে চলেছেন সংসার চালাতে, কারণ নিজের সৌন্দর্যের খেতাব অর্থ উপার্জনে না, চ্যারিটির জন্যেই কাজে লাগাতে চেয়েছেন। কমার্শিয়াল এয়ারলাইন পাইলট হবার তার স্বপ্ন কিন্তু এখনো পূরণ হয়নি।
বইটা সাহসের গল্পের। বাংলাদেশের নারীরা, মহিলারা এই গল্প পড়লে প্রিয়তী যেখানে প্রতিবাদী হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, সেই ঘটনাগুলোতে প্রতিবাদী হতে শিখতে অনুপ্রাণিত হতে পারেন। যে ভাবে নিজের মায়ের জন্যে, নিজের বাচ্চাদের জন্যে বার বার নিজেকে উঠে দাঁড় করিয়েছেন, তা থেকে অনুপ্রানিত হতে পারেন।
বাংলাদেশী ও নারী হিসেবে আমি প্রিয়তীর প্রশংসা করি৷ তার সাহস ও দীপ্তির প্রশংসা করি।
পাঠক হিসেবে বলবো, বইটার মূল সমস্যা হলো এলোমেলো অগোছালো লেখা, টাইমলাইন ঠিক না থাকা, সাল, বয়স এগুলো ঠিকমতো উল্লেখ না থাকা। বানান বিভ্রাট, গ্রামার ভুল, এগুলো সহজেই সম্পাদক পরবর্তী প্রকাশনায় শুধরে নিতে পারেন।