বিসিআই নির্দেশ দিলঃ রানা, আত্মগোপন করো ! তোমাকে খুন করতে আসছে এমআই-সিক্সের একদল দুর্ধর্ষ এজেন্ট!
সত্যিই ইতালিতে এসে হাজির হলো তারা। তাদের ক’জনকে খতম করে পালিয়ে গেল ও ফ্রান্সের দুর্গম এক পাহাড়ি অঞ্চলে। আশ্রয় পেল সরল মনের ক’জন সংসারত্যাগী সাধুর কাছে। একদিন শহর থেকে ফিরে দেখল রানা: কারা যেন নিষ্ঠুরভাবে খুন করে গেছে মঠের সব সাধুকে। আগুন ধরে গেল রানার মাথায়। প্রতিজ্ঞা করল: এর শেষ দেখে ছাড়বে ও।
পাঠক, এইবার দেখতে পাবেন কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে মাসুদ রানার প্রতিশোধ! আপনার প্রিয় রানা জড়িয়ে গেছে আশ্চর্য রহস্যময় এক শ্বাসরুদ্ধকর জটিলতায়।
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
প্রথম থেকে গল্প টা যেভাবে জমাট বাধা শুরু হয়েছিল, সেই আঁটো সাটো গল্পের হঠাৎ করেই যেন বাধন টা হাল্কা হয়ে গেল৷ গল্পের প্লটহোল অনেক গুলো ছিল৷ কিন্তু শুরু টা ছিল অসাধারণ৷ আর মাঝখানের অংশের পর ভাবছিলাম, ফিরে পাবো সেই রানা কে৷ সেই প্রতিশোধপরায়ণ রানা, যার সম্বন্ধে এক জন বলেছিল, "রানা হচ্ছে সেই বিচারক, যে নরকের অন্ধকারে গিয়ে হলেও অপরাধী কে সাজা দিয়ে আসে৷"৷
কাহিনী সংক্ষেপঃ ফ্রান্সের দুর্গম এক পাহাড়ি অঞ্চলে আহত রানাকে আশ্রয় দিলো একদল সন্ন্যাসী। দুর্গম এই পাহাড়ি অঞ্চলেই তাদের মঠ। ধীরে ধীরে সেরে উঠতে লাগলো বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের দুর্ধর্ষ এজেন্ট মাসুদ রানা। মঠের সন্ন্যাসীদের সাদাসিধে আর নির্লোভ জীবন দেখে ভালো লেগে গেলো তার। নিত্য দাবা খেলার সঙ্গী হয়ে উঠলো মঠ প্রধান অলিভিয়ের গুয়েরিনের। তারপর একদিন পার্শ্ববর্তী শহরে বিয়ার পৌঁছে দিয়ে মঠে ফিরে দেখলো ওর অনুপস্থিতিতে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে গেছে মঠে। খুন করা হয়েছে মঠের নিরপরাধ সন্ন্যাসীদের। আগুন জ্বলে উঠলো রানার বুকে। পুরো মঠ আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও পেলো না কোনো প্রমাণ। তারপরও মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো নিজের কাছে, এই নিরপরাধ মানুষগুলোর হত্যাকারীদের কাউকে ও ছাড়বে না। পৃথিবীর যে প্রান্তেই লুকিয়ে থাকুক, খুঁজে বের করে প্রতিশোধ নেবেই নেবে।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ সেই কিশোরবেলা থেকে আজ অবধি মাসুদ রানার কোনো বই পড়তে গেলেই শিহরণ ওঠে বুকে। অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে অচেনা যুবকটির প্রতি। অপশক্তিও তার ব্যতিক্রম নয়। বইটি পড়তে গিয়ে হতবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, এখানেও উল্লেখ রয়েছে জীবানু অস্ত্রের যা দিয়ে হত্যা করা যাবে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। ভাবতে অবাক লাগে, সভ্য জগতের যান্ত্রিক সুবিধাবলীর বাইরে মঠের সন্ন্যাসীরা বছরের পর বছর স্রেফ প্রার্থনা করে কাটিয়ে দিচ্ছে জীবন, আর আমরা মাত্র কয়েকটা দিন ঘরে থাকতে বলাতেই হয়ে পড়েছি অসহিষ্ণু।
মাসুদ রানার অন্যান্য বইগুলোর মতো অপশক্তিতে অতটা ধুন্ধুমার অ্যাকশন নেই, তবে কাহিনীতে আছে গতি। সাবলিল লেখনশৈলীর কারণে পড়া এগিয়ে গেছে তরতরিয়ে, তাই ৩৮১ পাতার বইটি পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি। অপশক্তি মাসুদ রানা সিরিজের ৪৬১ নাম্বার বই। প্রার্থনা করি, মাসুদ রানা চির নবীন হয়ে বেঁচে থাকুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।
শেষটা ভাল লাগেনি। জমজমাট, টানটান উত্তেজনায় ভরপুর হবে ভেবেছিলাম, গল্প এগুচ্ছিলোও সেদিকেই। কাহিনীও জমাট বাধছিল ভালভাবেই কিন্তু অপ্রত্যাশিত ভাবে ইতি ঘটল এতবড় চক্রান্তকারীর। রানাকে অবশ্য এখন 'স্পাই' রূপে দেখি কম। পুরনো গুপ্তচরের পরিচয় ভেঙে খাচ্ছে নতুন বইগুলোয়। একশন হিরো হয়ে গেছে এম আর নাইন।
শুরুতে যতটা ভালো লেগেছিল শেষে ততটা লাগলো না।এতবড় একজন ভিলেনের খোঁজ একজন কয়েদিকে জেরা করে পেয়ে যাওয়ার বিষয়টা ভালো লাগে নি।আর রানার মারাত্মক প্রতিশোধ এর কথা ব্যাক কভারে লেখা থাকলেও তেমন জোরালো মনে হয়নি প্রতিশোধটা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Like other Masud Rana books, this also has wonderful details of locations and tons of information. Yes, like other spy thriller stories, this has a "Thanos" kinda plot, but yes, a very good read.
This entire review has been hidden because of spoilers.