Jump to ratings and reviews
Rate this book

পূর্বপুরুষ

Rate this book
#পাঠকের কাছে অনুরোধ
•করোনার এই দুঃসময়ে আমরা অনেক পরিশ্রম করে আপনাদের জন্য ইবুক তৈরি করছি। বিগত ৩ মাস প্রতিষ্ঠানের আয় বন্ধ। বাংলাদেশের প্রকাশনা সেক্টরের কী নাজুক অবস্থা আপনারা অনেকেই জানেন। তাই কিন্ডল আনলিমিটেড সাবস্ক্রাইবারদের প্রতি অনুরোধ আপনার সামর্থ্য থাকলে বইটি কিনে পড়ুন।
•এটি প্রিন্ট রেপ্লিকা ভার্সন। যাদের ডিভাইসে এই ভার্সনটি সাপোর্ট করে না তারা আপডেট ভার্সনটি দেখতে পারেন:


-------------
বই পরিচিতি
-------------

আদর্শ থেকে প্রকাশিত আশীফ এন্তাজ রবির সাড়া জাগানো বেস্ট সেলার উপন্যাস।
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের এক সহজ-সরল ছেলে আতিক কলকাতা যেতে চায় ডাক্তারী পড়তে। কিন্তু তার বুদ্ধিমান জমিদার বাবা জানে কলকাতার রঙিন শহর তার ছেলেকে ডাক্তার বানাবে না।

একরাতে আতিক বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতায় চলে যায়। কলকাতার এক আত্মীয়ের বাসায় আতিকের সাথে ঘটনাচক্রে দেখা যায় মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের।

তারপর? ...
❤️

352 pages, Kindle Edition

First published February 1, 2020

10 people are currently reading
113 people want to read

About the author

Ashif Entaz Rabi

10 books48 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
30 (24%)
4 stars
59 (48%)
3 stars
25 (20%)
2 stars
4 (3%)
1 star
3 (2%)
Displaying 1 - 30 of 34 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,686 reviews456 followers
November 14, 2022
ধারাটা জনপ্রিয় করেছিলেন সুনীল তার "সেই সময়" উপন্যাসের মাধ্যমে। ইতিহাসের একটি সুনির্দিষ্ট অধ্যায়ের গল্প থাকবে। ঐতিহাসিক ও লেখকের কল্পনাপ্রসূত কিছু চরিত্রের সম্মিলনে গড়ে ওঠা ঘটনাপ্রবাহ দিয়ে লেখক সেই সময়টাকে ধরতে চাইবেন। পরবর্তীতে অনেক লেখক এই ধারায় উপন্যাস লিখেছেন। হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন মাতাল হাওয়া,মধ্যাহ্ন,দেয়াল ইত্যাদি। আশীফ এন্তাজ রবি'র "পূর্বপুরুষ" উপন্যাসে একসাথে হানা দিয়েছেন সুনীল এবং হুমায়ূন। স্বভাবে সুনীল, মেজাজে হুমায়ূন। হুমায়ূন,সুনীলের লেখার মতোই এই উপন্যাসে "এরপরে কী হবে" জাতীয় চিন্তা মাথায় আসে না।অনেক অনেক চরিত্র যার মধ্যে কিছু বাস্তবিক আর কিছু কাল্পনিক।ঘটনাকাল ষাটের দশকের দ্বন্দ্ব সংঘাতময় বাংলাদেশ ও কলকাতা। এক জমিদার পরিবারের সূত্র ধরে গল্পে প্রবেশ করেন সুচিত্রা সেন, উত্তম কুমার, শামসুর রাহমান, শেখ মুজিব, আইয়ুব খানসহ অনেকেই। লেখকের গদ্যশৈলী ঝরঝরে ও গতিশীল। তরতর করে পড়া যায়। তবে কাহিনির ভাব ও ভাষা উভয়দিকেই হুমায়ূন আহমেদের ছাপ বড় বেশি স্পষ্ট।
প্রধান চরিত্র তিন ভাই আতিক, শরীফ ও রাজুর সূত্র ধরে লেখক বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা সুকৌশলে উপন্যাসে এনেছেন। পড়তে ভালো লাগলেও উত্তম সুচিত্রার অংশ মূল কাহিনির সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক।
লেখক ইতিহাসের প্রাঞ্জল বর্ণনা দিয়েছেন তবে সেই সময়ের মূল চেতনাকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারেননি; হুমায়ূন সুনীলের বেশিরভাগ ঐতিহাসিক উপন্যাসের মতোই। ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের সমালোচনার ধারেকাছেও যাননি তিনি। শেষদিকে এতো তাড়াহুড়ো করেছেন কেন সেটাও একটা রহস্য।
উপন্যাস হিসেবে বইটি যথেষ্ট সুখপাঠ্য। লেখক তার পূর্বসূরি ঔপন্যাসিকদের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে সত্যি সত্যি একদিন দুর্দান্ত ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখবেন, এই প্রত্যাশায় রইলাম।

(১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১)
Profile Image for Shahriar Rahman.
84 reviews14 followers
April 12, 2020
আশীফ এন্তাজ রবির লেখার সাথে আমার পরিচয় সামুতে (সামহোয়্যারইন ব্লগ )। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর উনি একখানা পত্র লিখে মোটামুটি বিশাল হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। তা এতটাই শোরগোল তুলেছে যে লোকে বলাবলি করছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও নাকি এর আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন! উনার সেই চিঠি পড়ে আমি তাৎক্ষণিক মুগ্ধ হলাম, এবং আমার সেই মুগ্ধতা বাড়তেই থাকলো।
এক এক করে ব্লগে থাকা প্রায় সব লেখা পড়ে ফেললাম। ভূমিকম্পে যেমন ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পাল্টে যায়, দেশে তেমনই এক ডিজিটাল ভুমিকম্পের ফলেই কী না জানি না, ব্লগে উনার লেখা কমতে কমতে একসময় বন্ধই হয়ে গেল। ফেসবুকে তার প্রোফাইল ফলো করলেও, নিউজফিড খুবই সেন্সরড একটা জিনিস, তার লেখা তেমনটা চোখে পড়ে না আর।
হঠাৎই দেখি এবার বইমেলায় তার একটি উপন্যাস বের হয়েছে, ঐতিহাসিক উপন্যাস, প্রেক্ষাপট ১৯৬৩ থেকে ৬৯ অব্দি। দুকলম ব্লগ কিংবা ফেসবুকে পোস্ট লেখা এক জিনিস আর সাড়ে তিনশ পাতার উপন্যাস, তাও আবার ইতিহাস ভিত্তিক, সে বড্ড ভিন্ন বস্তু। তাই ও নিয়ে তেমন আগ্রহের কিছু ছিল না। হয়ত পড়াও হত না, যদি না পরিচিত এক ভাই তার রিভিউটা দিতেন আর আদর্শ প্রকাশনী অনলাইনে ফ্রিতে পড়ার সুযোগ দিত। আর তা-ই হলে সেটা হত আমার পাঠক জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলের একটা।

যেহেতু ঐতিহাসিক উপন্যাস তাই সমসাময়িক বিখ্যাত চরিত্রের সবাই আছেন। শামসুর রাহমান থেকে শুরু করে, আল মাহমুদ এবং হেলাল হাফিজ উপস্থিত হবেন কাহিনীর প্রয়োজনে। আছে আইয়ুব খান, মোনায়েম খান, ইয়াহিয়া খান আর তাদের বানানো হিংস্র দল এন-এস-এফ এর কথা। আছেন শেখ মুজিব। লেখকের তৈরি করা পথে হাঁটতে গিয়ে আপনার দেখা হবে মুনীর চৌধুরী, নির্মেলন্দু গুণ কিংবা তরুণ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে। আর অনেকখানি জায়গাজুড়ে আছেন তর্কসাপেক্ষে বাংলা সিনেমার সেরা জুটি উত্তম-সুচিত্রা। কাহিনীর প্রয়োজনেই হোক কিংবা লেখকের নিজস্ব মুগ্ধতা থেকে, আর সবার চেয়ে একটু বেশিই জায়গাজুড়ে এই উপন্যাসে আছেন তাঁরা।
তবে ভূমিকায় লেখক বলেছেন “নিছক ইতিহাস দিয়ে তো আর গল্প হয় না, সেখানে লেখকের কল্পনাও থাকতে হয়!” সেই কল্পনাতেই জন্ম নিয়েছে গল্পের মূলে থাকা এন্তাজ উদ্দিন বিশ্বাস পরিবার (লেখকের নিজের নামে কোন উপন্যাসের মেইন ক্যারেক্টারের নাম হতে পারে, এমন আগে দেখি নি, বিষয়টা ইন্টারেস্টিং) যে পরিবারের বাস মানিকগঞ্জের প্রত্যন্ত বুরুন্ডি গ্রামে।
এন্তাজ উদ্দিনের তিন ছেলে, আতিক, শরীফ আর রাজু। ঘটনার প্রবাহ তাদের কাউকে নিয়ে চলে কলকাতা শহরে, পতিতা নন্দিনীর মোহে ফেলে করে সর্বস্বান্ত। কেউ যায় ঢাকায়, তার মুক্তোর মত হাতের লেখা আর পত্রিকায় কবিতা ছাপানোর স্বপ্ন নিয়ে। কেউ অ্যাটেম্পট টু মার্ডারে ফেঁসে যাবার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালায় চোরেদের চরে। আর বাদবাকি সব চরিত্রের সুতো কোন না কোনভাবে বাঁধা পড়ে এদের সাথে।

২০১২ সালে পরলোকগমন করা এক লেখক টানা কয়েকযুগ বাংলার আপামর পাঠক সমাজকে মোহবিষ্ট করে রেখেছিলেন। আমার মত “শুক্কুর শুক্কুর আষ্টদিন” যারা বই পড়ে তাদের জন্য সেই মোহ থেকে বের হওয়া কঠিনই বই কী! সে কারণেই যে কোন ঝরঝরে ভাষার উপন্যাস পড়ে তার সাথে হুমায়ূন আহমেদের লেখার তুলনাটা আপনাআপনি চলে আসে। পাঠক হিসেবে পূর্বপুরুষকে সে তুলনার বাইরে রাখার মত পরিপক্ক আমি এখনো হই নি।
মনে আছে বছর দেড়েক আগে , আমি যখন “মধ্যাহ্ন” পড়ি খুব করে চেষ্টা করছিলাম কিছুটা ধীরে পড়তে, হুট করে যেন শেষ না হয়ে যায়, পারি নি। পূর্বপুরুষের বেলায়ও বিষয় একইরকম। রাত আনুমানিক দুটোর দিকে কিন্ডলটা হাতে নিয়ে বিছানায় গিয়েছি, পরিকল্পনা দু-চারপাতা পড়েই চোখ বন্ধ করব। সে রাতেই আর ঘুমাইনি আমি!
হুমায়ূনসুলভ অনেক হেঁয়ালি এই লেখাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সেই হেঁয়ালির মধ্যে আছে জমিদার সাহেবের প্রিয় ঘোড়া সিতারার জন্য বরাদ্দ ঘরের নাম, গোয়ালঘরের আদলে “ঘোয়ালঘর”। আছে আট দশ বছরের এক পিচ্চি বাচ্চার কথা, যার কাজ হল খেজুর গাছে উঠে রসের হাড়িতে “মুতা”! তাও একটু একটু করে, টানা দশ গাছে দশবার! এমনকি আছে ঢাকা জেলের বন্দীদের জন্য শেখ মুজিবের নিজ হাতে খিচুড়ি রান্না করার মনভুলানো বর্ণনাও!

এক ব্লগে লেখক নিজেই বলেছিলেন “আমি হুমায়ূন হতে চাই”। জানিনা সারকাজম করে বলা কী না তবে আমি এই লেখা যখন লিখি তখন আমার দেখা আরও কমপক্ষে তিনটি রিভিউতে পাঠক বলেছেন এই বই পড়ে হুমায়ূন আহমেদের কথা মনে পড়েছে তাঁদের। ৩৫০ পৃষ্ঠার এই বই শেষ করতে আমার মেরেকেটে সময় লেগেছে দেড়দিন। আর সে সময়টুকু ছিল উদ্বিগ্ন, ঘরবন্দী করোনা কোয়ারেন্টাইনের এখন পর্যন্ত বেস্ট সময়!
বইটা শেষ হয়েছে খুব ইন্টারেস্টিং একটা টাইমে এসে, ১৯৬৯ সালে। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এ গল্প শেষ হয় নি, এ গল্প চলবে। এ গল্প চলা উচিত!
Profile Image for Mitul Rahman Ontor.
161 reviews61 followers
April 11, 2020
৬০দশকের সময়ের প্রেক্ষাপটে বইটি লেখা। হুমায়ুন আহমেদ তার কিছু উপন্যাসে দারুণভাবে বিখ্যাত চরিত্রগুলো প্রবেশ করাতেন। এই বইয়েও তেমনটি দেখা যায়।

বইয়ের মলাটে সুচিত্রা সেন। মলাটের ভিতরেও সুচিত্রা উত্তমের কিছু গল্প। তবে বইটিতে সুচিত্রা-উত্তমের উপস্থিতি কিছুটা খাপছাড়াই বটে।

লেখকের "কাগজের নৌকা" পড়ে বেশ হতাশ হয়েছিলাম। সেদিক থেকে পূর্বপুরুষ যথেস্ট ভালো লেগেছে।
Profile Image for Manzila.
167 reviews161 followers
March 11, 2022
প্রথম ১৫০-১৬০ পাতার জন্য - ৩.৫
(গল্পের প্লট খুব সুন্দর ভাবে ডালপালা মেলছিল, সন্দেহের কারন ছিল না যে একটা ভালো উপন্যাস পড়তে যাচ্ছি)
বাকি অর্ধেকের জন্য - ২.৫
(এতোক্ষণে প্লটের বারটা বেজে গেছে, বাড়ন্ত ডালপালা কোনদিকে কোনটা গেল, মনে হচ্ছিল লেখকের না আর তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ আছে, ইতিহাসের একেকজন রথী-মহারথী হঠাৎ আসছে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে, পড়ে মনে হচ্ছে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলেই এদের আনছি, আবার ভাগাচ্ছি। ভালো প্লটটা এরপর আর ভালো লাগেনি, শেষমেষ integrated ছবিটাই তৈরী হল না)

গড়ে ৩ তারা। তবে বইটার ভাষা প্রথিতযশা একজন লেখকের অনুকরণে না করে নিজের মত করে লিখলে আরও বেশি ভালো হত।
Profile Image for Samiur Rashid Abir.
219 reviews42 followers
March 14, 2022
৩.৫/৫

বইয়ের আরামদায়ক লেখনীর জন্যই তাড়াতাড়ি পড়ে শেষ করা গেল। কিন্তু কিছু কিছু অংশে খাপছাড়া মনে হয়েছে বিশেষত হেসে দেওয়ার ব্যাপারটা। সব চরিত্রের সাথে ঢালাও ভাবে হেসে দেওয়ার ব্যাপার উল্লেখ করাটা মানানসই হয় নাই।
গল্পের ভিন্ন চরিত্র ভিন্নধর্মী আচরণ করবে। সবার মধ্যে একই মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে দিতে গেলে লেখার ভাবমূর্তি টাই নষ্ট হয়ে যায়। প্রথিতযশা লেখকের সাথে লেখনীর মিল থাকায় পড়ে আরাম লাগলেও স্বকীয়তার হাতছানি কম ছিল আমার কাছে মনে হয়।
ভারী ভারী লেখার মাঝে হঠাৎ করে হালকা মেজাজে একটানে পড়ার জন্য বইটি বেশ। লেখক পরবর্তীতে আরোও সুন্দর লেখা উপহার দিবেন এইটাই কাম্য।
Profile Image for Adham Alif.
335 reviews81 followers
March 21, 2023
ষাটের দশক। বেশকিছু ঘটনার জন্য আলোচিত সেই সময়টা। একদিকে আমাদের পূর্ব বাংলায় চলছে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন। পাশাপাশি স্বাধীনতার জন্য তীব্র আন্দোলন। মাঝেমধ্যে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা। অন্যদিকে সিনেপাড়ায় মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন কালের শ্রেষ্ঠ দুই অভিনেতা ও অভিনেত্রী উত্তম-সুচিত্রা। পূর্বপুরুষ বইতে সেই কালের বিবরণে উঠে এসেছে এসবেরই গল্প।

গল্পগুলো আবর্তিত হয়েছে মানিকগঞ্জ এর এক জমিদার এন্তাজ মিয়ার তিন সন্তানকে কেন্দ্র করে। বড়ছেলে কলকাতায় পাড়ি জমালে উপন্যাসের পাতায় উপস্থিত হন উত্তম-সুচিত্রা। আর মেজোছেলের কাব্য প্রতিভাকে সঙ্গী করে উঠিয়ে এনেছেন আল মাহমুদ, শামসুর রহমান, নির্মলেন্দু গুণ, জহির রায়হানসহ বাঘা বাঘা ব্যাক্তিত্বকে। ক্যাম্পাসের রাজনীতের আচও মেলে কিছু অংশে। ছোটোছেলের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন শেখ মুজিবের সঙ্গে। বিপ্লবী সেই পুরুষের গল্প উঠে এসেছে বহু পাতায়। অবশ্য মানিকগঞ্জের সেই গ্রামের মানুষদেরও দেখা যায় সরব উপস্থিতি।

যদিও গল্পের প্রধান চরিত্র হিসেবে লেখক বলেছেন সময়ের কথা। আদতেই তাই। এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র মূলত সময়। সুনিল এ ধারার লিখায় বেশ নামডাক কামিয়েছেন। তবে আসিফ এন্তাজ রবির আরও বহু জায়গায় নজর দেয়া আবশ্যক। আরও ভালো লিখা পাবার আশায় রইলাম।

(রবি ভাই আমার বেশ পছন্দের মানুষ। একসময় রেডিওতে তার মেন্টোস বুদ্ধির বাত্তি জ্বালাও শুনে হেসে কুটিকুটি হতাম। তার লেখা গল্পতুচ্ছ পড়ে বেশ বিরক্ত এবং হতাশ হয়েছিলাম। এই বই সেই তুলনায় বেশ উন্নতি করেছে। তবে তিন তারকার বেশি কোনোমতেই দিতে পারলাম না। তবে উনার জন্য সবসময়ের মতোই শুভকামনা রইলো।)
Profile Image for Asaduzzaman Mugdho.
2 reviews1 follower
Read
April 2, 2021
“গল্প লিখলেই যেমন সাহিত্য হয় না তেমনি কিছু গল্পের জন্মই হয় সাহিত্যে ঠাঁই পাবার জন্য।” 


গল্পের শুরুতেই এন্তাজ উদ্দিন বিশ্বাস ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে আর সেই সফরের যাত্রাসঙ্গী তার তিন পুত্র আর তার আদরের সিতারা (ঘোড়া )। মানিকগঞ্জের এক গ্রাম বুরুন্ডি আর সেখানেই বিত্তশালী এক লোক “এন্তাজ উদ্দিন বিশ্বাস” । সবাই তাকে জমিদার হিসেবেই মান্যগণ্য করে। তার তিন পুত্রই আসলে পুরো গল্পের ভিত্তি। শুরুতে আপনার মনেই হতে পারে গল্পটা আসলে এই গ্রামকে নিয়েই কিন্তু আপনার জন্যে ভিতরে অনেক কিছু অপেক্ষা করছে। 
গল্পটা আসলে এন্তাজ উদ্দিন এর তিনপুত্রের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কিভাবে বিভিন্ন ইতিহাসে সাক্ষী হয় সেটা নিয়ে এগিয়ে যায় গল্প। আর তার সাথে কিছু ঐতিহাসিক মানুষের জীবনের খন্ডকালিন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। চাইলেই আমি পারি সেসব মানুষের নাম বলে দিতে কিন্তু এটা করে আপনার বই পড়ার মজা কমাতে চাই না। খালি এইটুকু বলতে পারি তারা ঢাকায় গিয়েছে বায়তুল মোকাররম এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঠিক তখনও বুঝতে পারি নাই এই ইতিহাসের সাক্ষীর মানে কি ? এটা আসলে কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, বইটা পড়ে আপনিও একটা সুন্দর গল্পের সাথে সাথে অনেকগুলো চেনা ঐতিহাসিক মানুষের আর ইতিহাসের সাক্ষী হবেন। আর বুঝবেন কেন বইটার নাম “ পূর্বপুরুষ”,বাকি কিছুই বলা যাবে না, জানতে হলে পড়ে নিবেন। 

এবার আসি আমার মতামত ( এখানে নিজের অজান্তেই কিছু স্পয়লার থাকতে পারে তাই আপনি বই পড়ে না থাকলে আগেই সতর্ক করলাম) , একটা সময় মনে হচ্ছিলো আরও কিছু ইতিহাসের সাক্ষী যদি হওয়া যায়! একটা করে নতুন চরিত্র আসছিলো আর ভাবছিলাম , এটা কে হতে যাচ্ছে ? আর গল্পের এক পর্যায়ে গিয়ে মূল চরিত্রগুলোর (এন্তাজ উদ্দিন এর পরিবারের সদস্য) এর শেষ পরিণত কি হবে তা নিয়ে বেশ উত্তেজনায় ছিলাম। ভাবছিলাম লেখক কিভাবে এই গল্পের ইতি টানবে! এছাড়া শেষে যখন লেখক সবার গল্প গুছিয়ে নিচ্ছে তখন আতিক বিশ্বাসকে নিয়ে ভীষণ রকমের উদ্বেগ কাজ করে।তবে প্রত্যেকটা চরিত্র আর তাদের পরিণতি আমার বেশ মনে ধরেছে, কোন অতৃপ্তি নেই।

নতুন বই পড়ে সাধারণত চরিত্র নিয়ে কথা বলার খুব কম সুযোগ হয় তাই এই সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাচ্ছি না। চরিত্র হিসেবে এন্তাজ উদ্দিন বিশ্বাস আর নন্দিনী এই দুটো চরিত্র ভীষণ রকম ভালো লাগানোর মত। দুটো যদিও ভিন্ন মাত্রার চরিত্র কিন্তু খুবই অসাধারণ ফুটিয়ে তুলেছে।এন্তাজ উদ্দিন এর বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা এবং ছেলেদের প্রতি যে তা গভীর কিন্তু লুকানো ভালোবাসা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তা অসাধারণ। নন্দিনীর এমন শেষ দেখে আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে। কারণ এসব চরিত্র প্রেমে পড়ে ভালো হয়ে যায় এমন অনেক গল্প, সিনেমা দেখেছি কিন্তু এমন গল্প খুব কমই ছিলো যেখানে তাদের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা যায় আবার আমার আসে পাশে এমন অনেক চরিত্রই আছে যারা কারো ভালোবাসার সরলতা কাজে লাগিয়ে নিজের সুবিধা হাসিল করে নিচ্ছে প্রতিনিয়তই। এছাড়া পরী চরিত্রটাও খুব ভালো লেগেছে মানে খুব বোকাসোকা, খুব ভালোবাসে, খুব আবেগী এবং খুব যত্ন নেওয়া একটা মেয়ে, পুরো একদম নন্দিনীর উল্টো চরিত্র। মানে ভালো লাগা হিসেবে পরী চরিত্রটা আমার লিস্টের সবার উপরের দিকে থাকবে । আর তিন ছেলের চরিত্রগুলাও ভীষণ বৈচিত্র্যময় তাদের মধ্যে আতিক বিশ্বাস একটু এগিয়ে থাকবে। এছাড়া মিতুয়া বেগম, মাস্টার , কাসু ডাকাত ছাড়া বাকি সব গুলো চরিত্রই আসলে তাদের মত করে অনন্য।
এবার আসি আমার প্রথম লাইনের কথায় , কোথাও শুনেছিলাম একটা গল্প সাহিত্য হবে ?নাকি না ? তা জানতে নাকি কয়েক যুগ অপেক্ষা করতে হয়। তবে কিছু জিনিস তার প্রাপ্য মূল্য তার আগেই পাক। সেই কামনাই রইলো। 

আমি খুব ছোট মানুষ খুব বেশি পড়াশুনা আমার নেই। তাই ছোট মুখে অনেক বড় কথা বলে থাকলে দুঃখিত।এই বই নিয়ে কথা বলার যোগ্যতাও আমার নেই তাই শেষ একটা কথাই বলবো বইটা মজার জন্য হলে পড়ে দেখবেন কারণ এই বই নিয়ে লিখতে থাকলে আমার লেখা শেষ হবে না।
Profile Image for Joydip Paul.
2 reviews32 followers
May 3, 2021
একটা ছিমছাম সুন্দর উপন্যাস, যাতে ঘটনা প্রবাহের মাঝেই জায়গা নিয়েছে ইতিহাস ও ইতিহাস আশ্রিত নানা মুহূর্ত।

আমরা, অর্থাৎ নব্বুই এর দশকের ছেলেপেলে যারা যন্ত্রের আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছি কৈশোর বা তারুণ্যে আর বাল্যকাল কাটিয়েছি আধুনিকতাপূর্ব সোনালি এক সময়ে (যার জন্য নস্টালজিয়া বেশ ভালোই বাসা গাড়ে আমাদের মাঝে), তারা স্বভাবতই বেশ উৎসুক বাপ ঠাকুরদার আমলের কথা শুনতে- এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।

এই স্বাধীন ভূখন্ডের স্বাধীনতা লাভের প্রাক্কালের সময়টা যখন ভাগ হওয়া বাংলায় চলছে অবকাঠামো তৈরির কর্মযজ্ঞ, আর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক স্রোত আর সাংস্কৃতিক হাওয়া, সেই ষাটের দশকের স্বাদ পাওয়া যায় এই বইয়ের পাতায় পাতায়। খুব কাছ থেকেই যেন দেখে ফেলা যায় উত্তম-সুচিত্রার রসায়ন, বিউটি বোর্ডিং এ বসে আল মাহমুদ, ছফা প্রমুখের সাহিত্য আলাপ, শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজের হালচাল, শেখ মুজিবের হার না মানা নেতৃত্ব আর নিজের সহবন্দীদের জন্যে ভালোবেসে খিচুরী রান্নার মাঝে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠে প্রবল ছয় দফার ডাক, আর আঁধারে আইয়ুব ইয়াহিয়ার কূটচাল। এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো সহজ স্বাভাবিক ভাবে মিশে গেছে সেইসব বড় নামগুলোর সাথে ,কিন্তু এই সম্পর্ক কৃত্তিম লাগে নি একটুও। জনজীবনে পাক ভারত যুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালের সময়কার প্রভাব, ঢাকা শহরের উত্তাল সময়, কলকাতার অলিগলি ঘুরে সীমান্তের বেড়াজাল পার করে গ্রাম বাংলার দৃশ্যের মাঝে ঘুরপাক খেয়েছে কাহিনী।

হয়তো এখানে একটা জনপ্রিয় মতবাদের বিরোধীতা করছি। তবে লেখকের হুমায়ূন সত্ত্বার কথা যেভাবে শুনেছিলাম বা তাঁর চন্দ্রমুখী পড়ে আঁচ করেছিলাম, এই উপন্যাসে সেটা প্রবল ভাবে পাই নি। এবং ব্যাপারটাতে আমার শান্তি লেগেছে। একেবারেই প্রভাব ছিল না, এমন না, তবে লেখকের নিজস্ব ভঙ্গিমা বরং আরো বেশি প্রকাশ পেয়েছে।

শুরুতেই বলেছি, ছিমছাম উপন্যাস। শেষটা খানিক তাড়াহুড়োর মাঝে হয়েছে, এবং মাঝেমাঝেই মনে হয়েছে কাহিনী মিইয়ে যাচ্ছে। কাহিনির আবর্তন আছে কিছুটা, তবে কাহিনীর প্রবল পরিবর্তন আর উত্তেজনা নয়, বরং আরামদায়ক পাঠ্য বলা যায়। বইয়ের শেষে রেফারেন্স সেকশনটার বেশ কিছু বই অনেক ইন্টারেস্টিং লেগেছে। সেসব পড়ার ইচ্ছা রাখি।
Profile Image for মোহতাসিম সিফাত.
182 reviews33 followers
September 23, 2022
বইটা শুরু করেছিলাম সেই এক মাস আগে। মাঝে অফিসের কাজের চাপে ধরতেই পারলাম না আর। কাল রাতে হতে নিলাম যখন, এক বসায় শেষ করে ফেললাম। এক বসায় শেষ করার মতোই বই এটা।
ফেসবুকের কল্যাণে আসিফ এন্তাজ রবির লেখালেখির সাথে পরিচয় ছিল আগে থেকেই। বন্ধু আবির আর ফাইজা যখন বলল, এটা সুন্দর, কিনে ফেললাম। পড়ে খুব স্যাটিসফাইড আমি।
লেখক এক সুতোয় গেথেছেন উত্তম - সুচিত্রা, শামসুর রাহমান - হেলাল হাফিজ - আল মাহমুদ, আইয়ুব - ইয়াহিয়া, ৬ দফা আন্দোলন - আগরতলা মামলা ইত্যাদি ঐতিহাসিক চরিত্রের। মানিকগঞ্জের একটি পরিবারের সদস্যদের অবলম্বন করে কাহিনীর বয়ে চলা মুগ্ধ করেছে।
Best part of the book is - the writer portrayed various shades of human mind from different perspectives and angles.

Happy Reading
Profile Image for Jheelam Nodie.
314 reviews11 followers
September 14, 2020
রেটিংঃ ৩/৫
রিভিউঃ
ঐতিহাসিক উপন্যাস আমার সবসময়ই অনেক প্রিয়, আর এই বছরের বইমেলায় আশীক এন্তাজ রবির “পূর্বপুরুষ” বইটার কাহিনী্সংক্ষেপ জেনেই ভাবলাম কিনে ফেলি। এতদিন আলসেমি করে পড়া হয়নি, তাই গতকাল এক বসাতেই শেষ করে উঠলাম প্রায় সাড়ে তিনশো পৃষ্ঠার বইটি। বইয়ের কাহিনী শুরু হয় ষাটের দশকের মানিকগঞ্জের এক গ্রামের জমিদারের তিন পুত্রকে ঘিরে, কিন্তু ধীরে ধীরে কাহিনী বিস্তৃত হয় কলকাতা আর ঢাকাতেও। দেখা হয় বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্র যেমন সুচিত্রা সেন, শামসুর রাহমান, শেখ মুজিব আরও অনেকের সাথে। এবার আসি রিভিউতে। আমার কাছে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলতেই মনে পড়ে সেই সময়, প্রথম আলোর মত উপন্যাস, যা শুধু পড়াই নয়, সাথে নিয়ে যায় সেই সময়ের মধ্যেও। তাই অনিচ্ছাসত্তেও তুলনা এসে যায়। “পূর্বপুরুষ” বইটার শুরুটা খুব সুন্দর, ষাটের দশকের এক গ্রামের নিস্তরঙ্গ জীবনের বর্ণনা ভাল লাগে, চরিত্র চিত্রনও শুরুতে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়। কিন্তু বই যতই আগায় ততই নতুন চরিত্রদের আগমনে আর কোন চরিত্রই পুরোপুরি ফুটে ওঠে না, আর তাই গভীর টান অনুভব করি না কারো প্রতিই, কেউই হয়ে ওঠে না আপন। ষাটের দশকের ঢাকার বর্ণনা কিছু জায়গায় খুবই মনে টানে, কিছু জায়গায় পুরোই নীরস। ঐতিহাসিক চরিত্রগুলির মধ্যে একমাত্র সুচিত্রা সেনকেই জীবন্ত মনে হয়, বাকিদের বর্ণনা যেন ইতিহাসের পাতার কিছু কচকচি। আর বইয়ের ১/৩ ভাগ খুবই উপভোগ্য হলেও পরবর্তীতে অতিরিক্ত ইতিহাসের ঘটনার বর্ণনায় গল্প ঝুলে যায়, তখন মনে হয় উপন্যাস না, যেন ইতিহাসের বই পড়ছি। গল্প আর ইতিহাস একসাথে মিল খায় না। আর শেষটায় এত তাড়াহুড়া কেন বুঝলাম না, আর খালি ইতিহাসের ঘটনার বর্ণনা আর বর্ণনা, গল্প খুবই কম, তখন মনে হয় যে এর থেকে ইতিহাসের বই পড়লেই হয়। আরেকটা জিনিস খুব বিরক্ত লেগেছে, লেখক আঞ্চলিক শব্দের অর্থ বলার সময় বর্ণনার মাঝখানেই লিখেছেন এই শব্দের অর্থ এইটা। এবং এটা পুরো বই জুড়েই বারবার লেখা, যা পড়ার মজাই নস্ট করে। এই অর্থগুলি বইয়ের শেষে টীকা বা গ্লসারির মধ্যে দিলে ভাল হত। তবে ভালর মধ্যে এই যে লেখকের গদ্য সাবলীল আর সুখপাঠ্য, আর সংলাপ গঠনও সাবলীল, সেই সাথে বোঝাই যায় তিনি অনেক ঘাটাঘাটি করেছেন বইটা লেখার জন্য, সেই জন্য অবশ্যই তিনি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু চরিত্রগুলি আরেকটু জীবন্ত বিশেষ করে ঐতিহাসিক চরিত্রগুলি, ইতিহাসের ঘটনার বর্ণনা সরাসরি (ইনফো-ডাম্প) না দিয়ে গল্পের অংশ হিসেবে লিখলে, আর শেষের দিকে তাড়াহুড়ো না করে বইটা কয়েকপাতা বড় হলে, বা আরেকটি খন্ড করলে লেখকের পরিশ্রম সার্থক হত বলে আমার মত। এই লেখকের পড়া এটাই আমার প্রথম বই, আর আমাদের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়কে উপন্যাসের মধ্যে তুলে ধরার জন্য তাকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু বইটা যতটা না উপন্যাস, তার থেকে বেশি নীরস ইতিহাসের বই বলেই মনে হয়েছে। তারপরেও লেখকের প্রচেষ্টার জন্য বইটিকে ৩/৫ দেয়া যায়, আর অসাধারন প্রচ্ছদকে ৫/৫।
1 review
April 5, 2020
৪দিনে ৩৫০ পৃষ্ঠা শেষ করলাম, গল্পের শুরু টা যেখানে শেষ টাও সেইখানেই। মাঝে কত খন্ড গল্প তৈরি হয়ে গেল। রবি ভাই এর অন্যান্য উপন্যাস থেকে এটা একটু ভিন্ন ধরনের হলেও স্বাদ টা আগের মতোই আছে👌❤️
93 reviews18 followers
April 3, 2020
পূর্বপুরুষ-আশীফ এন্তাজ রবি
আদর্শের থেকে বইটা পেয়ে প্রথমেই পড়ে ফেললাম। উনার আগে একটা বই পড়া হয়েছিল। চন্দ্রকথা। তেমন ভালো লাগেনি। পুর্বপুরুষ শুরু থেকেই গুম গুম করতে শুরু করে। তারপরে যখন সেই সুখেন আসেন। তারপর থেকে আর অপেক্ষা করতে হয় নি। তড়তড়িয়ে বই এগিয়ে চলেছে।
মনে মনে এক চিত্র কল্পনা করে নিয়েছি। দোতলা বাসে দাঁড়িয়ে আছি, সামনে এক নারী, তাদের পাশের সিটটি খালি। যদিও এই দেশে থাকেনা। ধরেন খালি। নারীটিই বলে উঠল-ভাইয়া বসেন। আমি হাসিমুখে উত্তর দিলাম-না বাবা আমার সুখন হবার ইচ্ছেনাই। সুখেন এটা আবার কে? আরে আপনি সাত পাকে বাধা দেখেননি। আপনাকে ত সুচিত্রা সেনের মত লাগছে। তাই আর সাহস হল না। এই আমলে এসেও আপনি সাত পাকে বাধা দেখেছেন। কম ত না। উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন। সেই সময়কার ঢাকা, কলকাতা, পাকিস্তানের কিছু ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর জেলের দিনগুলি, এগিয়ে গিয়েছে এন্তাজ উদ্দিন জমিদারের তিন ছেলের গল্পের মাঝ দিয়ে।
ঘুরে বেরিয়েছি-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই পাচপাত্তরের দিনগুলি। হেলাল হাফিজ, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ বন্ধু হয়েছিলেন কিছুদিন। বিউটি বোর্ডিং জানতাম যে লেখকদের, কবিদের আড্ডা খানা। কিন্তু সেখানে যে সেইভাবে ইতিহাস রচিত হয়েছে-নানা জনের চায়ের কাপে সাহিত্য রচিত হয়েছে। অত বই না পড়ে এই বই পড়ে জানতে পেরেছি। লেখক প্রথমে বলেছিলেন-ইতিহাস গুলি সত্যি। অনেক লেখকই বলেন। অনেকে বলেন ইতিহাস নয় উপন্যাস মাত্র। কিন্তু মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম শেষে হয়ত লেখক বলে উঠবেন আরে না-উপন্যাস। কিন্তু একেবারে শেষে বই তালিকা দিয়ে লেখক বইয়ের ইতিহাস যে সত্য তা সত্যাসত্য করে দিয়েছেন।
পরীবানুর চরিত্র যে এত গুরুত্ব পাবে বুঝে উঠতে পারিনি। শেষ মেষ সেই পরিবানুই ছিল আবেগ অনুভুতির প্রকাশ স্থল। রাজু লেখা শিখে সেই বাড়ি কাপিয়ে তুলা দিয়ে ত অনেক কিছুই প্রকাশ পায়। নন্দিনি আতিক সম্পর্কটা আগে থেকে বলে দিলে পাঠকের বলার মজা থাকবেনা।
সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাস ভিত্তিক একটা ট্রেন্ড চলে এসেছে। অনেক লেখকই ইতিহাস কে উপজীব্য করে উপন্যাস লিখে চলেছেন। আনিসুল হকের ৫ টি সিরিজ চলে এসেছে। সেটা একান্তই স্বাধীনতার কুশলী ভিত্তিক। তবে সেই দিক থেকে সবচেয়ে বলতে হয় সুনীলের সেই সময় পুর্ব পশ্চিম প্রথম আলোর কথা। বইয়ের সারথী তাতে বড় হয়। কিন্তু দিনগুলি মন্দ যায়না। আশা করছি পুর্বপুরুষ-সামনে পুরুষ পরে উত্তম পুরুষ এ রুপ নিবে। ইতিহাসের রস মাধুর্যে আমরা আরো কিছুদিন অবগাহন করতে পারব।
ধন্যবাদ লেখককে। ধন্যবাদ আদর্শকে বইটি পড়তে দেবার সুযোগ করে দেবার জন্য।
Profile Image for A. H. M. Azimul Haque.
7 reviews
April 23, 2020
আমার মনে হয় বাংলাদেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী কিন্তু খুব বেশি অন্তর্মুখী এবং প্রচারবিমুখ একজন লেখক ছিলেন শওকত আলী। প্রদোষে প্রাকৃতজনের হাত ধরে এই লেখককে চেনা। ষাটের দশকে পূর্ববাংলার মধ্যবিত্ত সমাজে যে পরিবর্তনটা আসছিল সেটাকে তিনি 'দক্ষিণায়নের দিন' ও পরবর্তী আরও দুটি উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন অসাধারণ দক্ষতায়। গত বছরের মাঝামাঝি এই ত্রয়ীটি পড়তে শুরু করার পর ষাটের দশক নিয়ে একটা উত্তুঙ্গ আগ্রহ তৈরি হচ্ছিল আমার নিজের মধ্যে। এই আগ্রহ আর অভাবের অনেকখানি পূরণ করে দিল আশীফ এন্তাজ রবির "পূর্বপুরুষ" উপন্যাসটি।

বইটা পড়া শুরু করার আগে পেছনের নির্ঘণ্ট দেখে বুঝেছিলাম প্রচুর পড়াশোনা করে এ লেখায় হাত দিয়েছেন লেখক। সব থেকে ভালো লেগেছে যে ব্যাপারটা, ইতিহাসের বিভিন্ন ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে গল্পে জুড়ে দেওয়ার নিপুণতাটা! নির্মলেন্দু গুণের সাইকেলের ঘটনায় পরীবানুর উপস্থিতি অথবা জেলে রাজুর স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচয় কিংবা আহমদ ছফা, হেলাল হাফিজ, অধ্যাপক আহমদ প্রমুখদের এমন সজীব উপস্থিতি সত্যিই ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে পুরো গল্প জুড়ে।

এছাড়া আরেকটা বিষয় ভালো লেগেছে। একই উপন্যাসে দুই বাংলার সরব উপস্থাপন। ষাটের দশকের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর (চাঁদে মানুষের প্রথম অবতরণ, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর তাসখন্দ উপাখ্যান ও অন্তর্ধান, এলিজাবেথ টেলরের ক্লিওপেট্রা সিনেমা, পুর্বপাকিস্তানে টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি) বেশিরভাগই প্রাণবন্ত প্রাসঙ্গিকতায় স্থান পেয়েছে এই বৃহৎ কলেবরে।

মানিকগঞ্জের ছোট গ্রাম বুরুন্ডি থেকে কোলকাতার সোনাগাছি, সব মিলেমিশে একাকার হয়েছে আশীফ এন্তার রবির লেখনীতে।

আর আকর্ষণ বরাবরই ধরে রেখেছে উত্তম-সুচিত্রা!

আমার হাতের মুদ্রণটি প্রথম মুদ্রণ হবার কারণেই কি না জানি না বেশ কিছু মুদ্রণত্রুটি ছিল। বেশ কিছু জায়গায় শব্দের প্রয়োগ অনুপযুক্ত মনে হয়েছে, যা বোধ হয় টাইপিস্টের অসতর্কতায় হয়েছে। টানা কয়েক পৃষ্ঠা পরীবানুকে পরিমণি ডাকায় কিঞ্চিৎ বিভ্রান্ত হয়েছি বটে, কিন্তু উপভোগও করেছি!

এরকম আরও দুর্দান্ত লেখার অপেক্ষায় রইলাম।
Profile Image for Abuhoraira Fahim.
1 review
Read
May 5, 2021
উপন্যাসটির পটভূ‌মি মু‌ক্তিযুদ্ধ-পূর্ব ভারত উপমহা‌দে‌শ।পূর্ব-পা‌কিস্তা‌নের মা‌নিকগ‌ঞ্জের ছোট্ট এক গ্রা‌মের পুর‌নো এক জ‌মিদা‌রের তিন পুত্রসহ ঢাকা যাত্রার অদ্ভুত গ‌ল্পের মাধ্য‌মে উপন্যা‌সের শুরু।গ‌ল্পের স্রো‌তে এ তিনপুত্র ব্য‌তিক্রমভা‌বে উপন্যাসটি‌কে অগ্রসর ক‌রে।

এই উপন্যা‌সের মাধ্য‌মে লেখক বাংলা চল‌চ্চি‌ত্রের অন্যতম সেরা জু‌টি উত্তম কুমার-সুচিত্রা সে‌নের ব্য‌ক্তিগত জীবন ও তা‌দের সম্প‌র্কের চমৎকার দৃশ্য চিত্রায়ন ক‌রে‌ছেন।এর সা‌থে গ‌ল্পের ধারায় সে‌জে‌ছে গল্প,জীবন মি‌শে‌ছে তাদের গ‌ল্পে।কিংবদন্তী‌কে গ‌ল্পের স্ত‌রে স্ত‌রে ছুঁয়ে ফেলার অনুভূ‌তি পাঠক অনুভব কর‌তে পার‌বেন ব‌লে অামার ম‌নে হয়।

কলকাতার এক প‌তিতাপ‌ল্লি‌তে ভাগ্যের ফে‌রে অাসা ন‌ন্দিনীর প্রে‌মে মুগ্ধ হওয়া অা‌তিক বিশ্বাসকে ন‌ন্দিনীর দ্বারাই বারবার প্রতা‌রিত হ‌তে হয়।একই উপন্যা‌সে রাজুর প্র‌তি পরীবাণুর অকৃ‌ত্রিম স্নিগ্ধ ভা‌লোবাসার প্রকাশ পাঠক দেখ‌তে পা‌বে।একজন তরুণ ক‌বির জীবন সংগ্রা‌মের দৃশ্যায়‌নে ফ্রে‌মে চ‌লে অা‌সে শামসুর রহমান,অাল-মাহমুদের মত কী‌র্তিমান ক‌বির সাংবা‌দিক জীবন।

উপন্যা‌সে উপ‌স্থিত অাইয়ুব খান,‌মো‌না‌য়েম খান,ইয়া‌হিয়া খান,লাল বাহাদুর শাস্ত্রী,মাওলানা ভাষানী এবং স্বয়ং বঙ্গবন্ধু।ভারত-পা‌কিস্তান অস্থি‌তিশীলতা,শা‌ন্তিচু‌ক্তি,অতঃপর তা ভঙ্গ ক‌রে যুদ্ধ,ছয় দফা,অবরুদ্ধ বঙ্গবন্ধু,অাইয়ুব পতন থেকে উনসত্ত‌রের গণঅভ্যুত্থান;সবটাই উপন্যা‌সে উপ‌স্থিত।

এই উপন্যাস প্রে‌মের,‌দ্রো‌হের,ঘৃণার,প্র‌তিবা‌দের,প্রতারণার,‌বিশ্বা‌সের,ই‌তিহাসের;এ গল্প জীব‌নের।‌যে জীবন‌কে লেখক তার সুনিপুণ দক্ষ গদ্যবুননের মাধ্য‌মে কাগ‌জের ফ্রে‌মে ব‌ন্দি ক‌রে‌ছেন।চলুন প‌ড়ে দে‌খি,পৃষ্ঠার প‌রতে পর‌তে অাবদ্ধ কৌতুহল‌ী স্রো‌তে নি‌জে‌কে ভা‌সি‌য়ে দিয়ে মে‌তে উঠি জীবন বিলা‌সে।
2 reviews1 follower
March 10, 2020
#পূর্বপুরুষ
#ashif_entaz_Rabi
প্রিয় একজন মানুষ হতে পাওয়া প্রিয় এই উপহার। বইটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ছিল হাতে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। একের পর এক স্ট্যাটাসে রবি ভাই গল্পের কিছু কিছু অংশ দিচ্ছিল আর বইটা হাতে পাওয়ার জন্য উৎসাহ ও বাড়ছিল।
সেই মেন্টোসে যেই বাত্তি রবি ভাই জালিয়েছিল তখন এখন এখন অবধি বলা যায় রবি ভাইয়া আমার কাছে এক অসাধারণ কিছু।
পালিয়ে যাওয়ার পরে, আমার আছে ফেসবুক এছাড়া অন্যান্য বই গুলো থেকে এই বই টা অনেকটাই আলাদা।
বইয়ে গল্পের মধ্যে রয়েছে নেশা জাগানো ধারাবাহিকতা।
গল্পের শুরু হয় মানিকগঞ্জ এর একটি অজপাড়া গ্রাম বরুন্ডি থেকে সেই গল্প কলকাতা, ঢাকা, সুদূর আমেরিকা গিয়ে আবার বরুন্ডিতে শেষ হয়। রাজা এন্তাজ উদ্দিন ও তার তিন পুত্র কে আবর্তিত করে এই গল্প লেখা হলেও একে একে এই গল্পে এসেছেন অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিগণ। এই গল্পে আগমন বাংলার একসময়কার বিখ্যাত তারকা জুটি উত্তম-সুচিত্রার । সোনাগাছির এক নারির সাথে প্রেম পরিণয় ঘটে আতিক নামের এক ছেলের।
এই গল্পে আগমন ঘটে শেখ মুজিবুর রহমানের। জেল এ মুজিব ভাইয়ের কাটানো কিছু সময় এর কথা উঠে আসে।
আজকে আমরা যে বাংলাদেশ টেলিভিশন। তৎকালীন পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান এর উদ্বোধন করেন।
এমনকি কবি হেলাল হাফিজ ও এই গল্পে আগমন করেন তার বিখ্যাত কবিতা নিয়ে।
এছাড়াও আরো অনেক বিখ্যাত অবিখ্যাত চরিত্রের আগমন ঘটে এই গল্পে। গল্পের প্রতিটি অংশে রয়েছে ব্যাপক আকর্ষণ পরবর্তী অংশের জন্য। একবার শুরু করলে শেষ অবধি পড়তেই হয়।

Ashif Entaz Rabi
Ashif Entaz Rabi । আশীফ এন্তাজ রবি
Profile Image for Kabtohin.
6 reviews1 follower
2020
April 25, 2020
পূর্বপুরুষ
লেখক: আশিফ এন্তাজ রবি
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২০
আদর্শ প্রকাশনী

"পূর্বপুরুষ" আমার হাতে আসা অনেকটা মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মত। "রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি" শেষ করার পর রকমারিতে খুজছিলাম কি বই নিবো? পূর্বপুরুষ পছন্দ করলাম এই বইটা পড়বো। এরিমধ্য দেশ সাধারণ ছুটির মদ্ধে পড়ে গেল। আমার আর বইটা নেওয়া হলো না। একদিন ফেসবুকে দেখি আদর্শ প্রকাশনীর পক্ষ থেকে গুগল প্লেবুকসে বইটি আগামী ৩১মে পর্যন্ত পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দেরি না করে সাথে সাথেই লুফে নিলাম। পড়তে বসেই সম্মোহনের মত শুধুই পড়লাম। বইটি পড়ে আমি শুধু মুগ্ধ বললে বইটিকে সঠিক বিশেষণে বিশেষায়িত করা যাবে না, বলতে হবে বিমুগ্ধ হয়েছি। অতীত হয়ে যাওয়া সময়টাকে যেন জীবন্ত প্রতিবিম্বন করা হয়েছে এই উপন্যাসে। অনেক ঐতিহাসিক চরিত্রকে গল্পের ছন্দে বাস্তবের প্রতিমূর্তি আকারে ফুটিয়ে তুলেছেন গল্পকার। লেখক এখানে তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।
মানিকগঞ্জ, কলকাতা এবং ঢাকা এই তিনটি প্রেক্ষাপটে আবর্তিত হয়েছে উপন্যাস। ঘুরে ফিরে এসেছে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা। লেখক আমাদের একটি গল্প বলতে চেয়েছেন ইতিহাস লিখেননি বরং ইতিহাসকে করেছেন উপজীব্য লিখেছেন গল্প। আমি সেই গল্পের সম্মোহিত শ্রোতা।
1 review1 follower
January 9, 2022
গল্পের শুরু পূর্ব পাকিস্তানের (পূর্ববাংলা) মানিকগঞ্জে হলেও গল্পের ঠিকানা ছিল পশ্চিম পাকিস্তান, পশ্চিম বাংলা অর্থাৎ, সারা ভারতবর্ষ জুড়ে। জমিদার এন্তাজ উদ্দিনের স্ত্রী, তিন সন্তান ও সিতারা নামের এক ঘোড়া নিয়েই তাঁর সংসার। ইতিহাসের চরিত্র গুলোকেও লেখক ঢেলে সাজিয়েছেন নিজের কাহিনী বিবৃতিতে আর পরিচয় করিয়েছেন এন্তাজ উদ্দিনের পরিবারের সাথে পরিস্থিতির চাহিদায়। সেই বিবৃতিতে ধরা খেয়েছেন আল মাহমুদ, শামসুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, মুনীর চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ডা.ফজলে রাব্বি, আইয়ুব খান, ফাতেমা জিন্নাহ,জহির রায়হান, কবি সুফিয়া কামাল, শেখ মুজিবুর রহমান সহ আরও অনেকে। ইতিহাসকেও যেনো লেখক লিখে গেছেন সম্পূর্ণ নিজের মনে করে স্বাধীনভাবে।

লেখকের ভাষা অত্যন্ত সাবলীল ও সরল হাস্যরসাত্মক। ২০১৫-১৬ সময়ের দিকে আশীফ এন্তাজ রবি আর রাজীব হাসানের এবিসি রেডিওতে ❝মেন্টোস বাত্তি জ্বালাও❞ যারা শুনতেন তাঁরা আন্দাজ করতে পারবেন উনার হাস্যরসকতার। আমি ছিলাম তাঁর নিয়মিত শ্রোতা। এই উপন্যাসটি আমার মন কেড়েছে একটা বিশেষ কারণে, সেটা হলো বাঙ্গাল ভাষার ব্যবহার। পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি ভাষা ❝বাংলা❞; আর তার মাঝে সবচেয়ে আপন ভাষা আমার ❝বাঙ্গাল❞ ভাষা।
Profile Image for Pritha.
99 reviews14 followers
April 6, 2020
এন্তাজ উদ্দিন বিশ্বাস বুরুন্ডি গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। জমিদার আমল অনেক আগেই শেষ হয়ে গেলেও লোকেরা তাকে কেন জানি জমিদারবাবুই ডাকে। তার তিন ছেলে। কালের পরিক্রমণে একে একে তার তিন ছেলে ছড়িয়ে পড়ে তিনদিকে। তাদের ঘিরেই ঐতিহাসিক চরিত্ররা একে একে উঠে আসতে থাকে বইয়ের পাতায় পাতায়।
উত্তম, সুচিত্রা আর তাদের পারিবারিক জীবন, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, হাফিজ হেলালের মত কবি।

তাছাড়া পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের প্রথম টিভি চ্যানেল, আইয়ুব খান, ভারত - পাকিস্তান যুদ্ধ, চাঁদে প্রথম মানুষের পদার্পণ, ৬ দফা দাবি, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সাথে উঠে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রাহমান, তার কারাজীবন, মাওলানা ভাসানী এরা।

১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ সালের ইতিহাসের সাথে সাথে এন্তাজ উদ্দিনের তিন ছেলের জীবনের উত্থান-পতনও ফুটে উঠেছে খুব সুন্দরভাবে। বইটির কাহিনীর বর্ণনা খুব সাবলীল এবং সুখপাঠ্য।

বি.দ্র. - বইমেলায় বইটি আমার চোখে পড়েনি। তবে তার পরে অনেক মানুষের রিভিউ পড়েছি বইটি নিয়ে। করোনা ভাইরাসের কারণে গৃহবন্দি জীবনে লেখক এবং আদর্শকে ধন্যবাদ বইটি সবার পড়ার জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়ায়। হ্যাপি রিডিং!
2 reviews
March 30, 2020
উপন্যাসটি আবর্তিত হয় এন্তাস উদ্দিন আহমেদ ও বরুন্ডিতে তার পরিবারকে কেন্দ্র করে। তার তিন সন্তান তাদের জীবনযাত্রার আবর্তন এবং উত্তান-পতন খুব গুছিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। গল্পের সাথে সাথে ঐতিহাসিক চরিত্রের রূপায়ন ও রেফারেন্সিং বইটিকে করেছে আরও আকর্ষণীয়
কিছু বানান ভুল আর কাহিনীর কিছু জায়গায় কিঞ্চিৎ লম্বা করার বিষয়টি বাদ দিলে উপন্যাসটি অসাধারণ।

কিছু কল্পনা আর ঐতিহাসিক কাহিনীর মিশেলে চেনা চরিত্রগুলোর উপস্থাপন বেশ ভাল লেগেছে। উত্তম-সূচিত্রার দুই একটি কশিনী অসমাপ্ত ও দূর্বল মনে হয়েছে।

মোটের ওপর বইটি সুখপাঠ্য এবং পড়ে বেশ ভাল লেগেছে। কাহিনীর প্রেক্ষাপটে বইয়ের নাকরণ স্বার্থক। প্রচ্ছদটিও প্রশংসার দাবি রাখে। কাহিনী এমনভাবে শেষ হয়েছে যে এর সিক্যুয়েল হতে পারে৷ লেখককে ধন্যবাদ এবং শুভকামনা।
Profile Image for Tanvir Muntasim.
1,015 reviews23 followers
October 27, 2022
Full marks for the huge amount of effort the writer has put into his research and connecting the dots in setting the story in the background of a turbulent time in history. However, the large cast of characters didn't always get their due attention, and at times it felt more like star cameos in film than appearing out of necessity for the story to move forward. However, at the end of the day, it was a pleasant read.
Profile Image for Farhanur Rahman.
47 reviews11 followers
April 20, 2020
এক বইতে এত ঐতিহাসিক ও কাল্পনিক চরিত্রের ঘনঘটা- সত্যিই অসাধারণ। ইতিহাস নিয়ে লেখক দারুণ সাহিত্যের খেলা দেখিয়েছেন। ১৯৬৩-১৯৬৯ এই সময়কালের কোনো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা লেখকের লেখনী থেকে বাদ পড়ে নি। এক্ষেত্রে লেখক চরম মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। লেখক হয়ত ভবিষ্যতে এই বইটির পরের খন্ড বের করবেন, বইয়ের শেষের দুই তিন লাইন পড়ে এমনি ইঙ্গিত পাঠকরা পাবেন।
Profile Image for Tanzimul Ayaan Tanaf.
17 reviews11 followers
March 31, 2020
ভালো লাগেনি, মাঝে মধ্যেই খেই হারানো মনে হয়েছে।
Profile Image for Parvez Alam.
310 reviews12 followers
August 6, 2020
হুমায়ূন আহমেদের মাতাল হাওয়া, মধ্যাহ্ন যাদের ভালো লেগেছে তাঁর এইটা ভালো লাগবে। অনেক দিন পরে ভালো একটা উপন্যাস পড়লাম। বাংলাদেশে সব ঐতিহাসিক চরিত্র আছে এইখান।
Profile Image for Sazzad Hossain.
22 reviews
Read
December 16, 2023
এই বইটা পাঁচমিশালী। বহু কিছুর আনাগোনা। লেখার দাপটে প্রাণ পেয়েছে কাঠখোট্টা অনেক কিছু।উত্তম সুচিত্রাকে জেনেছি খুব কাছ থেকেই।

রবি ভাইয়ের লেখার ফ্যান ❤️
Profile Image for Muhammad Kamruzzaman.
33 reviews9 followers
May 6, 2020


বেশ আনন্দ নিয়ে বইটি পড়লাম। গল্প বলার ভঙ্গি অত্যন্ত চমৎকার কিন্তু কাহিনীর দূর্বলতা চোখে পড়েছে বেশ কিছু জায়গায়। লেখনি এতই সুন্দর ছিল যে গল্পের দূর্বলতা তার মধ্যে হারিয়ে গেছে।
Displaying 1 - 30 of 34 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.