স্বামী বিবেকানন্দ এক আশ্চর্য চরিত্র। জীবন নিয়ে প্রশ্নাতুর সিমলার নরেন্দ্রনাথ দত্ত ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব-এর সান্নিধ্যে আসেন একদিন এবং ক্রমশ পরিণত হন যুগোত্তীর্ণ ব্যক্তিত্বে। ঠাকুরের আদর্শ বাঁচিয়ে রাখার জন্য সংঘ নির্মাণের স্বপ্ন সত্যিকরেছিলেন তিনি। দারিদ্র্য পীড়িত ভারতবর্ষে মানবসেবাকেই মনে করতেন পরমধর্ম। সন্ন্যাসী থেকে স্বপ্নদ্রষ্টা, পরিব্রাজক থেকে বিশ্বপথিক, আত্ম জাগানিয়া থেকে চিন্তানায়ক স্বামীজির স্বল্পায়ু জীবনের শেষ সাড়ে চার বছর ‘আনন্দ তুমি স্বামী’ উপন্যাসের সময়কাল। গঙ্গাতীরে বেলুড় গ্রামে তখন মঠস্থাপনের কাজ চলছে। রামকৃষ্ণ মিশনপ্র তিষ্ঠিত হয়েছে আগেই। শ্রান্ত বিবেকানন্দের কোনও বিশ্রাম নেই। অপরিসীম পরিশ্রমে ভগ্নস্বাস্থ্য, কিন্তু দেশবাসীর যে তাকে অত্যন্ত প্রয়োজন। ক্রমশ নিভে আসছে বিবেকানন্দের জীবনদীপ। দেবাশিস ঘোষের এই উপন্যাসে জীবন্ত হয়ে আছে দীপ্যমান আনন্দময় এক অগ্নিপুরুষ।
দেবাশিস ঘোষ-এর জন্ম ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, হাওড়ায়। বিজ্ঞানে স্নাতক। স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা জার্নালিজম ও মাস কমিউনিকেশনে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। প্রথম চাকরি হিন্দুস্থান টাইমসের বিপণন বিভাগে। পরে বিভিন্ন সংবাদপত্র সংস্থায় বিজ্ঞাপনের কাজ। সাংবাদিকতার হাতেখড়ি আনন্দবাজার পত্রিকার হাওড়া ক্রোড়পত্রে। আকাশবাণীর সংবাদ বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ছোটদের জন্য গল্প লিখেছেন আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীয় আনন্দমেলা এবং শুকতারা-য়। আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বই পড়া ভালবাসেন।