ঐতিহাসিক অনেক আন্দোলনের মতোই শাহবাগ আন্দোলন ২০১৩ সালের গোড়ার দিকে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল এবং খুব দ্রুতই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন পেয়েছিল, সমান্তরালে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ইসলামপন্থী দল পাল্টা আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল। এই আন্দোলনগুলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনস্বীকার্য চিহ্ন রেখে গেছে। শাহবাগ আন্দোলন এবং হেফাজতের পাল্টা-আন্দোলন যতটা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, তাদের ততই ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ইসলামবাদের প্রিজমে দেখার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই যে এই সামাজিক আন্দোলনগুলো বাংলাদেশের সমাজে থাকা বিভাজন বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। সে কারণে আন্দোলনগুলোরও বিশেষ বিশ্লেষণ হওয়া প্রয়োজন। অন
Anupam Debashis Roy is a Bangladeshi columnist, author and activist who is currently an editor of Muktiforum, a platform for writers, artists and activists dedicated to building a liberal, pluralist and pro-people society. He is most known for his columns and political activism against authoritarianism in Bangladesh and abroad. He is also the author of storybook Sontan (The Offspring) and Opraproboyoskota (Non-adulthood), a book of poems.
Born: Anupam Debashis Roy, May 14, 1997 Occupation: Author, Columnist, Vlogger, Journalist, Researcher and Activist. Nationality: Bangladeshi Alma Mater: Howard University (BA) Genre: Allegory, Parody, Satire, Lyric, Dystopia, Humor, Magical realism, Realistic fiction. Main interests: Politics, Philosophy, Economics, History, International Relations, Literature. Influences: Friedrich Nietzsche, Friedrich Hayek, Gayatri Chakravorty Spivak, Karl Marx, Antonio Gramsci, Subhas Chandra Bose, Sheikh Mujibur Rahman, Maulana Abdul Hamid Khan Bhasani. Political Platform: Muktiforum.
Aside from being an author and activist, Roy is also known for his satirical political videos published on YouTube and Facebook. His web series Choromchitro (The Radical Report) has been widely acclaimed. He has also made an explainer series in collaboration with Dhaka Tribune titled The Breakdown.
আন্দোলন এবং আন্দোলন পরবর্তী ফল - এই দুটোকে একাকার না করে কিছুটা ফারাক করে পড়া উচিৎ বলে মনে হয়। কেননা, যেমন ধরেন, যে 'ন্যায্য' আন্দোলন বা সংগ্রাম বেহাত হয়ে যায়, সেই 'বেহাত' হয়ে যাওয়ার জন্য কি খোদ আন্দোলনের 'ন্যায্যতা' হারিয়ে যায়? আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে আলাপ-আলোচনায় এই ফারাকটা মাথায় রাখা দরকারি বলে মনে করি, বিশেষ করে বাংলাদেশ তথা, এই অঞ্চলের আন্দোলন-সংগ্রামের আলোচনায় এটা জরুরি। কেননা, এই অঞ্চলে অধিকাংশ আন্দোলনই 'বেহাত' হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছ। অনুপম যখন 'কালকের আন্দোলন, আজকের আন্দোলন' বইয়ে শাহবাগ নিয়ে আলোচনা করছেন তখন এই ফারাকটা ভালোভাবেই রক্ষা করতে পেরেছিলেন বলে মনে হলো।
বাংলাদেশে এতদিন আন্দোলন নিয়ে বইপত্র-লেখাঝোকায় আসলে ঘটনার পরম্পরা বা ঘটনার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; আন্দোলনে শত্রু-মিত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, অধিকাংশের বেলাতেই এটি সত্য। কিন্তু, আন্দোলন বা জনসমাগম কীভাবে হয়, কখন হয়, কীভাব টিকে থাকে- এমনতর পদ্ধতিগত প্রশ্ন নিয়ে বইপত্র আমাদের এখানে নেই বললেই চলে। হালকা ইশারা-ইঙ্গিত দুয়েকটা বইয়ে থাকলেও থাকতে পারে। অনুপমের বইয়ের 'অনন্যতা' বোধহয় এটাই। একেবারে থিওরেটিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক ধরে তিনি বাংলাদেশের আন্দোলনগুলোকে আলোচনা করেছেন, বৈশিষ্ট্য আলোচনা করেছেন।
বইটা আধা-একাডেমিক, আধা-অভিজ্ঞতালদ্ধ। মানে, বইয়ের অর্ধেক একাডেমিক, আরো অর্ধেক অভিজ্ঞতার ফসল। তবে, সুর-তাল-লয়ের খুব একটা হেরফের ঘটেনি।
একাডেমিক অর্ধকটা মূলত শাহবাগ নিয়ে। অনুপম যখন শাহবাগ নিয়ে রিসার্চ আর্টিকেল জার্নালে প্রকাশ করেন তখনই হালকা পড়ছিলাম। ধারণা ছিল আগ থেকেই, আবারো পড়লাম বইয়ের উছিলায়। শাহবাগ ভালো বা খারাপ - এমন কোনো বাইনারি পজিশন তিনি নেন নি। বা এমন কোনো কিছু প্রমাণের তাগিদও অনুভব করেন নি। তাঁর নেয়া স্যাম্পলগুলোই তাকে বিবিধ সিদ্ধান্তে পৌছিয়ে দিয়েছে। শাহবাগ নিয়ে তার বিশ্লেষণগুলো দূর্দান্ত সাহসী (সিদ্ধান্তের সাথে আপনি একমত হোন বা না-হোন, কিন্তু এটা মানতেই হবে) ও পরিষ্কার। যেমন, শাহবাগের অন্যতম দুটো বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করছেন: এক) শাহবাগের নির্দলীয়তা। তিনি বলছেন, এইটা সামাজিক আন্দোলনের ঐতিহাসিক ধারা ভেঙ্গে দিয়েছে, কেননা আমাদের এখানে নির্দলীয় আন্দোলন ছিল না, ছিল সর্বদলীয় আন্দোলন। খ) তিনি বলছেন, শাহবাগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই আন্দোলন সরাসরি পুলিশের সাথে বিরোধে জড়ায়নি, যেটি (পুলিশের সঙ্গে বিরোধ), তিনি বইয়ের শুরুতেই দেখাচ্ছেন, বাংলাদেশে প্রায় সকল আন্দোলনেই ছিল। উলটো শাহবাগে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছে। অনুপম বলছেন যে, এইটা আন্দোলনের বিপ্লবী ইমেজ নষ্ট করেছে।
অনুপম আশা করছেন, 'শাহবাগ আন্দোলনকে দুটি আজনৈতিক দলের বাইরে গিয়ে তারুণ্যমুখী সামাজিক আন্দোলন হিসেবে দেখা উচিৎ, যা বাংলাদেশের উন্নতিকে ত্বরাণ্বিত করতে চেয়েছিল'। কিন্তু বাস্তবে যা হয়েছে সেটাও তিনি জানাচ্ছেন, শাহবাগ সরকারকে তাদের কথা শোনাতে যতটা পেরছে তার চেয়ে বেশি সরকারের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী শাহবাগ চলেছে। এটাকেই বোধহয় অনুপম বলছেন 'বেদখল' হয়ে যাওয়া। তাঁর সংগৃহীত স্যাম্পল থেকে তিনি সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, 'সামগ্রিকভাবে শাহবাগ আন্দোলন সেক্যুলার নাগরিক সমাজের জন্য কোনো নতুন সুধিবা বা সুফল আনতে পারে নি, বরং উলটো তাদের কিছু অসুবিধা তৈরি করছিল।
অনুপমের বইয়ের অর্ধেকটা, সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটা, শাহবাগ নিয়ে। এরপর তিনি মনযোগ দিয়েছেন শাহবাগের পরবর্তী সময়ে আরো তিনটা আন্দলোনের দিকে: ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং কিশোর-বিদ্রোহ। এই তিনের সাথে শাহবাগের তফাৎ কি, আবার কোন কোন দিকে এরা শাহবাগকে অনুসরণ করেছে পদ্ধতিগত দিক থেকে, সেটাও তিনি দেখিয়েছেন। এই আলোচনার সময় অনেকসময় লেখকের নিজের অভিজ্ঞতাও ফুটে উঠেছে। কেননা,তিনিও জড়িত ছিলেন ওতপ্রোতভাবে। শাহবাগেও তিনি জড়িত ছিলেন, কিন্তু তাঁর মতে, তখনো তিনি বুঝদার হয়ে উঠেন নি।
অনুপমের সাথে অনলাইনে পরিচয় আরো অনেক আগে হলেও, মূলত কোটা সংস্কার ও কিশোর-বিদ্রোহের আমলে 'মুক্তিফোরামে'র সৌজন্য আমাদের বন্ধু-সহনাগরিক-কমরেড হয়ে ওঠা। ফলে, এই সময়কার আমাদের অভিজ্ঞতা খুব সমান্তরাল। তবুও, পদ্ধতিগত আলাপ শোনা সর্বদাই আনন্দের, সুখকর। যদিও, কখনো মনে হয়েছে কিছু স্থানে অতি-সরলীকরণ হয়ে যাচ্ছে, কিংবা, তিনি বারেবারে 'সামাজিক আন্দোলন' এর কথা উল্লেখ করলেও, সামাজিক আন্দোলন এর পূর্ণাংগ সংজ্ঞা এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে এর কোন কোন জায়গায় তফাৎ হবে সে বিষয়ে আলোচনাটা খুব দরকার ছিল। কেননা, তিনি যখন শাহবাগের মতো চরম রাজনৈতিক ঘটনাকে সামাজিক আন্দোলন বলছেন, তখন এর সংজ্ঞায়ন আরো জরুরি হয়ে পড়ছে। যাক, এটা অন্যদিনের আলোচনা, আজকে উদযাপনের সময়।
এই বই একটা পূর্ণাংগ রিভিউ দাবি রাখে, অথবা এই বই ক্রিটিকালি আলাপের দাবি রাখে। আশা করি এর একটা ক্রিটিকাল আলাপ করতে পারব, যদি আলস্য এসে না আক্রমণ করে। অনুপমের বইয়ের পর্যালোচনা হাজির করা খুব দরকার। কেননা, অনুপম যে আলোচনা শুরু করেছেন তাকে এগিয়ে নিতে হবে।
অনুপম বই শেষ করেছেন কিছু ইশারা-ইঙ্গিত-দিক নির্দেশনা-পরামর্শ দিয়ে। আমরা জানি তিনি যে পরামর্শগুলো দিয়েছেন সেগুলোর বাস্তবায়নেও তিনি তৎপর। অনুপমের চিন্তা ও তৎপরতার জন্য দোয়া রইলো। এমন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হাজির করার জন্য তাঁর প্রতি শুকরিয়া।
অনুপম যদিও বাংলাদেশের ইতিহাসের একটা লম্বা সময়কালকে ধরতে চেয়েছেন, সচেতন পাঠক মাত্রই তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন ; তিনি মূলত বর্তমানের চরম স্বৈরতান্ত্রিক আবহকে মোকাবেলা করতে চান একটা অধিকতর ন্যায্য নিকট ভবিষ্যতের দিশা খোঁজার মাধ্যমে। তিনি তরুণ লেখক-অ্যাক্টিভিস্ট-রাজনৈতিক কর্মীদের সামনে উন্মোচন করতে চান আন্দোলন করার পাশাপাশি আন্দোলনের রূপকল্প নিয়ে ভাবার, চিন্তা করার অপরিহার্যতা। তাঁর বইয়ের নামের মধ্যেই সেই ইঙ্গিত আছে, বসন্ত মাত্রই শীতের নির্জীব, স্বৈরতান্ত্রিক রুক্ষতাকে দূর করেনা। আন্দোলন অনেক সংকটের মুশকিলের সাময়িক আসান করলেও, নেসেসারিলি তার স্থায়ীত্বের নিশ্চয়তা দেয়না। ফলে একটা ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের পরে আরো প্রবল স্বৈরতন্ত্র-ফ্যাসিবাদ জেঁকে বসতে পারে। এজন্যই কী চাই, কেন চাই তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা জরুরি। তাহলেই কেবল যেকোন গণআন্দোলন তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের রাজনীতিকে ছাপিয়ে ডিউরেবল গণতান্ত্রিক বন্দোবস্তের অভিমুখ খুঁজে পাবে। অনুপমের বইটা সেই আলাপ-আলোচনা-পর্যালোচনাকে বেগবান করার ক্ষেত্রে একটা অত্যন্ত বিনস্ত-পদ্ধতিগত সংযোজন।
The author’s framework begins strong and I think the book would’ve been a better read if it ended at a deeper dive into the Shahbagh movement. By the time the author reaches the Road Safety Movement, his theories become convoluted and confusing. Although he has mentioned at the start of the book that some of the analyses would be coming from his personal experiences while trying to mobilize forces on the field, reported facts quickly broke down into charged opinions.
He does bring a fresh perspective on how social movements can be better structured and I would recommend this book just for these structural reform recommendations alone. But, overall, it felt like the author bit off more than he should have, especially by the end. I have a lot more notes, but I’d like to end by saying this is still a great first-step read for idealist young activists in Bangladesh.
স্বৈরাচারের এই যুগে যে কয়টি সাহসী কন্ঠস্বর আমার পছন্দের, তাদের অন্যতম অনুপম দেবাশীষ রায়। তিনি একটি বই লিখেছেন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন গুলো নিয়ে। সাহসী হলেই ভাল লিখবেন, এমন কোন কথা নাই। কিন্ত বইটা পড়ে আমি চমৎকৃত হলাম। এত সহজ ভাষায় আমাদের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, নো ভ্যাট আন্দোলন নিয়ে এভাবে কেউ ব্যাখ্যা করে লিখেনি আগে। ভবিষ্যত বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা কি হবে, তৃতীয় শক্তি সহ নানা চমকপ্রদ এবং যুক্তিযুক্ত বিশ্লেষণ বইটিতে আছে।
বইটা হুট করে লিখে ফেলা হয়েছে এমন না। অনুপম দা নিজেই শাহবাগ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক আন্দোলন গুলোতে ছিলেন। আমাদের বিভিন্ন প্রতিবাদী প্রোগ্রামে এসেছেন, মিশেছেন। তার সাহসী উচ্চারণ বহু তরুণকে অনুপ্রাণিত করেছে। বহু দিন ধরে গবেষণা করে লিখেছেন এই বই, যা আমরা যারা ভবিষ্যতে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, তাদের জন্যে অবশ্য পাঠ্য। কেন শাহবাগ ব্যর্থ হয়েছিল, কেন কোটা সংস্কার আন্দোলন সফল হয়েছে বা হয়নি, এর পিছনের গল্প, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের গল্প, আন্দোলনের অনুপ্রেরণা সবকিছুই বইটিতে পেয়েছি।
যেই ছেলেটা মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, রাজনীতি করবে, তার বিশ্লেষণ ক্ষমতা দেখেও আমি অবাক হয়েছি। রাজনীতি ছাড়া এ জাতির মুক্তি নাই। “আই হেট পলিটিক্স” বলা প্রজন্মও এখন রাজনৈতিক ভাবে অনেক সচেতন কিন্ত সেই তরুণরা কোন পথে আগাবে, কিভাবে আগাবে? কিভাবে সামাজিক আন্দোলন হয়, কেন মানুষ রাস্তায় নামে, কেন নামে না, কোন স্বার্থে নামে, কিভাবে আন্দোলন টিকে থাকে জানতে হলে বইটি পড়তে হবে।
মূল কথাঃ এটা আমাদের বই, আন্দোলনের বই। আন্দোলনকে বুঝার বই, আলাপ আলোচনার বই। এই বই ব্যাপক প্রমোট হওয়া উচিত, সেই সাথে আলোচনা সমালোচনা হওয়া উচিত। না হলে এই বই সৃষ্টির লক্ষ্যই ব্যর্থ হবে।
বইটি পাওয়া যাবে বই মেলার ৪২১-৪২৪ নাম্বার স্টলে, “আন্দোলনের বই” বললেই পেয়ে যাবেন। ইংরেজি ভার্সন নিতে চাইলেঃ Not All Springs End Winter!
ছোট গল্পের সংজ্ঞায় রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, শেষ হয়েও যার হইলো না শেষ...আমাদের এখানে আন্দোলন শব্দটাও অনেকটা এমন। একদল আছেন, যারা রোজ আন্দোলনের হুমকি দেন, এই ঈদ সেই ঈদ কতো ঈদ যায় তাদের আন্দোলনের মৌসুম আর আসেনা। কতোশতো ন্যায্য দাবি হাস্যকর হয়ে পড়ে তাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতায়। নিকট অতীতে বাংলাদেশ দেখেছে তিনটি ঐতিহাসিক আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান, কোটা সংস্কার আর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। ইতিহাসের এই তিনটি পাতায় যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো, এই মুভমেন্টগুলোতে মধ্যবিত্তের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণ। মূলত এটিই আমাকে বাংলাদেশ নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। অনুপম রায়ের “কালকের আন্দোলন, আজকের আন্দোলন” ঠিক এই তিন উঠোনের গল্পে ভর্তি। ছোট গল্পের এই পাঠ থেকেই মানুষ জানুক, আন্দোলন কি, কি তার গুরুত্ব, কেন তার প্রয়োজন, কি তার অপরিহার্যতা। নতুন সূর্য উঠুক, কালকের সকাল হোক তারুণ্যের জয়গানের। জুবায়ের ফয়সাল গণমাধ্যমকর্মী jubayerdu@gmail.com +8801717665325
'৬৯ থেকে শুরু করে '১৮ পর্যন্ত সকল প্রায় সকল উল্লেখযোগ্য গণআন্দোলনের আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ খুবই সহজবোধ্য ভাষায় করা হয়েছে এই বইতে।
লেখক সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করেছেন ২০১৩-র শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের আলোচনায় এবং সেই আন্দোলনের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে শাহবাগ প্রভাবিত করেছে '১৫ এর নো ভ্যাট অন এডুকেশন, এরপর '১৮ এর কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে।
'কালকের আন্দোলন, আজকের আন্দোলন' আগামী দিনে ন্যায়ের পথে আন্দোলনকারীদের জন্য অবশ্যই একটি উৎকৃষ্ট দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে এবং লেখকের মত আমারও বিশ্বাস এই যে, এ ধরনের যুব আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একদিন তৃতীয় কোনো শক্তির আবির্ভাব হবে, সূর্যের দিন আসবে।
এই বইটি অসাধারণ একটি বই। আমি মনে করি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে যারা পড়বে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের পাঠ্য হবে এই বই৷ এই বইয়ে আমাদের সমসাময়িক আন্দোলন, আন্দোলনে কী ধরণের ভুল হয়, কিভাবে ভুলগুলো শুধরানো উচিত এই বিষয়গুলো নিয়ে বলা হয়েছে।