যে প্রিয় পানীয়র গ্লাসে আপনি চুমুক দিচ্ছেন তাতে এমন কিছু নেই তো যার কথা জানলে কাঁপন ধরবে হৃদপিন্ডে? যাকে আপনি স্পর্শ করতে চলেছেন, ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে চলেছেন, আপনি নিশ্চিত কি সে ঠিক আপনার মতোই কোনও মানুষ? যে মিষ্টি গন্ধের আবেশে আপনি তলিয়ে যাচ্ছেন অচেনা কোনও জগতে, সে জায়গা থেকে আপনি আবার ফিরে আসতে পারবেন তো? কারণ, - মৃত্যুর গন্ধও অনেক সময় মিষ্টি হয়! এক মলাটে বাস্তব আর পরাবাস্তব জগতের আতঙ্ক, বীভৎস রসের কাহিনী সংকলন - মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি ।
বইয়ের ভালো মন্দ বিচারের আগে, কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল অলঙ্কারিত এই চমৎকার প্রচ্ছদটির প্রশংসা না করাটা অন্যায়। মলাট হল বইয়ের ললাট, পত্র ভারতী বরাবরই অন্য প্রকাশকদের এই ডিপার্টমেন্টে গোল দিয়ে যাচ্ছে। বইতে রয়েছে ছয়টি প্রাপ্তমনষ্ক ডার্ক ফ্যান্টাসি। অন্তত প্রাককথনে লেখকের সেটাই দাবি। তবে গতানুতিক ছন্দে বাঁধা গল্পগুলো আর পাঁচটা সাধারণ অলৌকিক গল্প সংকলনে সহজেই মানিয়ে যাবে।
প্রথম গল্প, 'কাকবাবার বামা' বেশ ভালো, গল্পটিতে একটি হালকা টুইস্ট রয়েছে, যেটা বেশ উপভোগ্য। - ৩ তারা।
দ্বিতীয় গল্প, 'ফেরা' চেনা ছকে আঁকা, আজকের প্রেক্ষাপটে বেশ প্রাসঙ্গিক। পড়তে মন্দ লাগে না। - ২.৫ তারা।
তৃতীয় গল্প, 'হেমলক' বইয়ের দুর্বলতম গল্প। রহস্যের মূল হুক সহজেই ধরে ফেলা যায়। পাতি টুইস্ট এবং নব্বুই এর দশকের কোনো হিন্দি ছবির মত ক্লাইম্যাক্স একেবারেই মনে দাগ কাটে না। - ১ তারা।
চতুর্থ গল্প, 'ওরা চারজন'। গল্পের প্লট আখেরে চেনা হলেও, শুরুটা বেশ জমিয়ে করেছিল লেখক। শেষটা একটা ত্বরান্বিত কমেডি অফ এররস হয়ে ফুরিয়ে গেল বলেই আফসোস। - ১.৫ তারা।
পঞ্চম, এবং আমার ব্যক্তিগত ফেভারিট গল্প, 'পাতাল বটুক' সংকলনের সবচেয়ে দীর্ঘ লেখা। মূল টুইস্ট দুটো আন্দাজ করতে খুব একটা মুশকিল হয় না যদিও, তবুও লেখাটি কোথায় গিয়ে তারানাথের কোনো গল্পের কথা মনে করায় যেন। - ৪ তারা।
ষষ্ঠ গল্প, 'মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি' হয়ত এ বইয়ের একমাত্র গল্প যাকে প্রকৃত ডার্ক ফ্যান্টাসির আওতায় আনা যায়। বেশ রোমাঞ্চকর কনসেপ্ট, পড়তে দিব্যি লাগে। - ৩ তারা।
সর্বসাকুল্যে লেখক যে ডার্ক বা বীভৎস রসের গপ্পো গুলো প্রমিস করেছিলেন, সেগুলো কিছুই পেলাম না। তবে বইটি খারাপ না, এক সিটিং-এ পড়ে ফেলাই যায়। মুদ্রণ, অলংকরণ এবং প্রচ্ছদও বেশ ঝা চকচকে। প্রেডিক্টেবলিটির আমেজে ওয়ান টাইম রিড হিসেবে পড়ে দেখতেই পারেন।
১৪৪ পাতার বই। অদ্ভুত সব গল্প। কাকবাবার বামা - বেশ ভালো, চমক আছে একটু। ফেরা - খুব গতানুগতিক কিন্তু ভালো ছোট গল্প। হেমলক - পাতি টুইস্ট, মাঝেই বুঝে গেছিলাম কি হবে। ওরা ৪ জন- বেশ ভালো গল্প। পাতাল বটুক - সব থেকে বড় গল্প, একটু আধটু বিভৎসতা আছে। টুইস্ট বুঝে গেছিলাম কি হবে। মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি - ভালো গল্প। ডার্ক পরিণতি আছে। তবে খুব ডার্কও নয়।
সাধারণত লেখকরা কিছু তাস হতে রেখে দেন যাতে পাঠক শেষ টুইস্টটা ধরতে না পারেন। তবে এই বইয়ের প্রতিটি গল্পতেই সব ধরে ফেলেছি। বিভৎস রসের কথা ভূমিকা তে পড়লেও কোনো গল্পটাই একটু আধটু গা ছমছমে বেশি কিছু হয়নি। ডার্ক বা উত্তেজক নয় মোদ্দা কথা। এই চলছে চলুক করে গল্প শেষ করতে হয়েছে।
সবমিলিয়ে বলবো খুব একটা ভালো লাগলো না বইটা। তবে একদম বেকার বই বলব না। 75% ভালো বলা যায়। না পড়লে নাই পড়তে পারেন তবে পড়লে সময় নষ্ট ঠিক বলা যাবে না। 🤷
প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের জন্য লেখা ছ'টি বড়োগল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে এই বইটি। তারা হল~ ১. কাকবাবা'র বামা: চমৎকার কনসেপ্ট, কিন্তু ভয়ানক শুষ্কং-কাষ্ঠং গদ্য এটিকে দুর্বল করে দিয়েছে; ২. ফেরা: ভীষণ চেনা আর ছকবন্দি গল্প; ৩. হেমলক: এই গল্পেরও শুরু থেকে শেষ— সবটাই খুব সহজে অনুমেয়; ৪. ওরা ৪ জন: একটা চমক থাকলেও এই গল্পেও নতুনত্ব কিছু নেই; ৫. পাতাল বটুক: সুন্দর, সযত্ন গল্প— এই সংকলনের সেরা লেখা; ৬. মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি: ব্যতিক্রমী থিম নিয়ে লেখা বেশ ভালো গল্প। কৃষ্ণেন্দু মণ্ডলের প্রচ্ছদ ও অলংকরণ ছ'টি লেখার সঙ্গেই ভারি চমৎকার সঙ্গত করেছে। তাই সুচারু মুদ্রণ এবং বাকি সব মিলিয়ে এই বইকে পাঁচে চার দেওয়াই যায়।
▪️সাহিত্যের বিভিন্ন জঁনরার মধ্যে ‘ডার্ক ফ্যান্টাসি’ও একটি জঁনরা, যাকে বাংলায় বলা হয় ‘বীভৎস রস’ । এই জঁনরার গল্পগুলি সাধারণত মানবমনের বিভিন্ন অন্ধকার দিক এবং বীভৎসতার ছবি ফুটিয়ে তোলে, যা কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রাপ্তমনস্ক পাঠকদের জন্য । এই জঁনরার উল্লেখযোগ্য বই - সৈকত মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘ঈশ্বরের নষ্ট ভ্রুণ’ এবং হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের লেখা ‘জীবন্ত উপবীত’ ।
▪️এই বইটি বাস্তব এবং পরাবাস্তব আধারিত ছয়টি ডার্ক ফ্যান্টাসি গল্পের সংকলন (অন্তত বইয়ের ব্লার্ব এবং লেখকের সেটাই দাবী) ।
▪️এবার গল্পগুলি নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক ।
🔹কাকবাবার বামা : যাকে আপনি স্পর্শ করতে চলেছেন, ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে চলেছেন, আপনি নিশ্চিত কি সে ঠিক আপনার মতোই কোনো মানুষ ?
গল্পটির প্লট খুবই পরিচিত, তবে পড়তে বেশ ভালোই লাগে ।
🔹ফেরা : হঠাৎ কলেজ ছেড়ে দেওয়া একটা মেয়ের কলেজে ফেরার গল্প । কেন কলেজ ছেড়ে দিয়েছিল সে ? আবার হঠাৎ ফিরেই বা এলো কেন ?
ভালো গল্প, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে খুবই প্রাসঙ্গিক ।
🔹হেমলক : যে প্রিয় পানীয়র গ্লাসে আপনি চুমুক দিচ্ছেন তাতে এমন কিছু নেই তো যার কথা জানলে কেঁপে উঠবে আপনার শরীর ?
এই সংকলনের মধ্যে আমার প্রিয় গল্প এটিই । বেশ ভালো প্লট, বীভৎসতার ছোঁয়া আছে ।
🔹ওরা চার জন : একই দিনে ‘বন-বাংলো-ভূত’ বাংলোটির বুকিং দুটো পার্টিকে দিয়ে ফেলেছে এক ট্রাভেল এজেন্ট । এটা কি ইচ্ছাকৃত, নাকি অন্য কিছু ? ভূত কি সত্যিই দেখা যায় ঐ বাংলোয় ?
আবারও চেনা প্লট, কিন্তু গল্প হিসেবে পড়তে খারাপ লাগে না । শেষটা ঠিক জুতসই মনে হয়নি ।
🔹পাতাল বটুক : যাঁর আবাহনের প্রতীক্ষায় আপনার সাধনা, সে এমন কেউ নয়তো যে অপদেবতার চেয়েও ভয়ঙ্কর ! স্বর্গ নয়, মর্ত্য নয়, সে আসলে অন্য অচেনা পৃথিবীর বাসিন্দা ! তাকে খালি হাতে ফেরানো যায় না ।
এই সংকলনের সবচেয়ে বড়ো গল্প । একটু বীভৎসতা আছে, কিন্তু খুবই পরিচিত এবং বহুল ব্যবহৃত প্লট ।
🔹মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি : যে মিষ্টি গন্ধের আবেশে আপনি তলিয়ে যাচ্ছেন অচেনা কোনো জগতে, সে জায়গা থেকে আপনি আবার ফিরে আসতে পারবেন তো ?
এই বইয়ের আরেকটি সেরা গল্প । দারুণ প্লট, ডার্ক ফ্যান্টাসির ছোঁয়া আছে ।
▪️এই গল্পগুলি প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের জন্য ঠিকই, কিন্তু একটা দুটো গল্প ছাড়া বাকিগুলিকে ডার্ক ফ্যান্টাসি জঁনরার মধ্যে ফেলা যায় বলে আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় না । কয়েকটি গল্পের প্লট তো খুবই পরিচিত এবং গল্পের পরিণতি অনুমেয় । বীভৎস রসের গল্পের মূল ব্যাপার হলো ট্যুইস্ট বা চমক, যা পাঠক-মনকে আলোড়িত করতে পারবে... এখানে সেই মূল ব্যাপারটিই নেই ।
🍂 বই : মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি 🍂 লেখক : হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত 🍂 প্রকাশনী : পত্রভারতী 🍂 দাম : ২২৫/- 🍂 পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৪৪
#পাঠপ্রতিক্রিয়া
সদ্য পড়া শেষ করলাম বিশিষ্ট লেখক হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত বাবুর একটি প্রাপ্তমনস্ক ডার্ক ফ্যান্টাসি গল্প সংকলন "মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি" বইটি। এটা আমার পড়া লেখকের দ্বিতীয় একক গল্পসংকলন। বেশ অনেকদিন থেকেই মনে একটা সুপ্ত বাসনা ছিল বইটা পড়ার, হয়তো এটি আমার অন্যতম প্রিয় জঁর বলেই। তাই কিছুদিন আগে আরও বেশ কিছু বইয়ের সাথে এই বইটিও অর্ডার দিয়েছিলাম অনলাইনে। সবমিলিয়ে বইটা পড়ে আমার কিছু ভালো এবং খারাপ লাগা সম্পর্কে আলোচনা করবো এবার।
বইটিতে মোট ৬ টি গল্প আছে....
🍁 কাকবাবার বামা :- রুস্তম এবং পুলক শহরের ব্যস্ততাময় জীবন থেকে পালিয়ে সময় কাটাতে এসেছে শান্ত নিরিবিলি এক গ্রামে। তারা উঠেছে একটি গেস্ট হাউসে। সেই গেস্ট হাউসের ম্যানেজার তাদেরকে জানায় এই জঙ্গলে একজন সাধুবাবা থাকেন যিনি মানুষের ভাগ্য বলে দিতে পারেন। আর এই কাজে তাকে সাহায্য করে তার পোষা চারটি কাক। কৌতূহলবশত তারা যায় সেই সাধুবাবার কাছে এবং সাধুবাবার সাথে তার সাধনাসঙ্গিনী অর্থাৎ তার বামা কেও প্রত্যক্ষ করে। কিন্তু রুস্তম সেই বামাকে দেখে কামাশক্ত হয়ে পড়ে। এর পর তাদের জীবনে নেমে আসে এক ভয়াবহ বিপদ! কী হবে ওদের শেষ পরিণতি?
এই গল্পটা আমার মোটামুটি ভালো লেগেছে, যদিও প্রথম থেকেই প্রেডিক্ট করতে পেরেছিলাম ক্লাইম্যাক্স টা। এই গল্পের মধ্যে ডার্ক ফ্যান্টাসির কোনো এলিমেন্ট নেই, বরঞ্চ এটাকে ভৌতিক গল্প বললে বেশি ভালো হয়।
🍁 ফেরা :- সংযুক্তা তার সাথে হওয়া অন্যায়ের জবাব চাইতে গেছে তার কলেজের প্রফেসরের কাছে। প্রফেসর সংযুক্তার কাছে ক্ষমা চান এবং তার সাথে হওয়া অন্যায়ের মাশুল হিসেবে বেশ কিছু অফার দেন তাকে । সংযুক্তা সম্মত হলে তারপর ক্লাসের উদ্দেশ্যে তারা যায় কলেজের ডিসেকশন রুমে। সেখানে গিয়ে ঘটে এক আশ্চর্য ঘটনা! কী ছিল সেই ঘটনা?
এই গল্পটা বেশ ভালো লেগেছে। এই গল্পের মধ্যেও একটি ভৌতিক আবহ মিশে আছে।
🍁 হেমলক :- বাজারে নামীদামী সব সফ্ট ড্রিংক কোম্পানিকে হার মানিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছে "হেমলক" নামের একটি ক্ষুদ্র সফ্ট ড্রিংক প্রস্তুতকারক কোম্পানি। তৃষিত নামের একজন জার্নালিস্ট হেমলক প্রস্তুত পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করতে পৌঁছে যায় হেমলকের ফ্যাক্টরি তে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তৃষিত সম্মুখীন হয় অত্যাশ্চর্য এক ঘটনার। আর সেই ড্রিংকের প্রস্তুত পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে সে রীতিমতো অবাক হয়ে যায়। তাহলে হেমলক তৈরীর পিছনের আসল রহস্যটা কী?
এই গল্পটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। গল্পের শেষটা মারাত্মক!
🍁 ওরা ৪ জন :- তিন বন্ধু ঘুরতে এসেছে এক গ্রামে। তারা এসে উঠেছে একটি গেস্ট হাউসে। কিন্তু এখানে এসে তিনজনের মধ্যে দুই বন্ধু দুটি মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং তাদের সাথেই সবটা সময় কাটাতে থাকে। তাই তৃতীয় বন্ধু বাকি দুজনের উপর অভিমানবশত একাই ঘুরে দেখতে থাকে সবকিছু । এরপরেই তাদের উপর ধেয়ে আসে এক বিপদ! তৃতীয় বন্ধুটি সম্মুখীন হয় এক ভয়াবহ সত্যের। কী ছিল সেই সত্য?
এই গল্পটা একদম নিখুঁত একটি ভৌতিক গল্প। এই গল্পের শেষটাও খানিকটা আন্দাজ করতে পেরেছিলাম।
🍁 পাতাল বটুক :- বহু বছর পর জেল ফেরত জ্যেঠু কে দেখার জন্য পর্ণাভ তার স্ত্রী সেমন্তীকে নিয়ে হাজির হয় তাদের আদি ভিটেতে। পর্ণাভ আগে থেকেই জানতো যে তার জ্যেঠু তন্ত্রসাধনা করেন কিন্তু এখানে এসে তাঁর বিভিন্ন আশ্চর্য কার্যকলাপ দেখে তারা অবাক হয়ে যায়। বহু বছর থেকে নিঃসন্তান সেমন্তীর মনে আশা জাগে জ্যেঠুকে বলে কোনো তান্ত্রিক নিয়মে মা হতে। এবং এমনটাই হয়। পর্ণাভর জ্যেঠু বিভিন্ন তান্ত্রিক উপাচারের মাধ্যমে একটি যজ্ঞ শুরু করেন। কিন্তু তারপরেই শুরু হয় কিছু অপার্থিব ঘটনা। পর্ণাভ সেমন্তীর মধ্যেও বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করে। কী হবে এই যজ্ঞের শেষ পরিণতি?
এই গল্পটা আমার ডার্ক ফ্যান্টাসি কম, সাধারণ তন্ত্রআশ্রিত গল্প বেশি মনে হয়েছে। মোটামুটি ভালো।
🍁 মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি :- ঈশানবাবু একজন জিওলজিস্ট, তিনি কাশ্মীরে এসেছেন একটি জিওলজিক্যাল সার্ভের জন্য। সেখানে তাঁর দেখা হয় রঘুবীর ত্রিবেদী নামে একজন স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে। সে ঈশান বাবুকে কথা দেয় রাতের বেলা কস্তুরী হরিণ দেখাবে। সেই মোতাবেক ঈশানবাবু রাতের বেলা ত্রিবেদীর কাছে গেলে সে ওঁকে তার অতীত সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলতে থাকে। তারপরই ঈশানবাবুর সাথে ঘটে যায় এক আশ্চর্যজনক ঘটনা, যেটার জন্য তিনি মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না। কী এমন ঘটে ছিল সেই রাতে ঈশান বাবুর সাথে ?
বলতে গেলে এই গল্পটি বইয়ের সবচেয়ে সেরা গল্প। আমার দারুণ লেগেছে। আর কস্তুরী হরিণ সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য পেলাম গল্পটা পড়ে। এই গল্পটা পড়লে বুঝতে পারবেন মৃত্যু সবসময় নৃশংস হয় না অনেক সময় মিষ্টি-মধুরও হয়। নামকরণের মধ্যেই এই গল্পটার বিষয়বস্তু লুকিয়ে আছে।
▪️ প্রথমত, হিমাদ্রিবাবুর লেখায় যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে সেটা হলো ওঁর লিখনশৈলী এবং অসাধারণ কাহিনী বর্ণনা। গল্পকথন এতটাই নিখুঁত যে দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ফুটে ওঠে। তাছাড়া গল্পগুলোর মধ্যে একটি স্বাভাবিক গতিময়তা আছে যার ফলে খুব কম সময়ে বইটা পড়া শেষ করেছি। বইটা পড়া শুরু করলে একটা অদৃশ্য টান বইটা শেষ না করে আপনাক উঠতে দেবে না নিশ্চিত ।
▪️ যদি গল্পগুলোর কথা বলতে হয়, তাহলে বলবো কিছু গল্পের প্লট খানিকটা দুর্বল হলেও ওভারঅল প্লট নির্বাচন বেশ ভালো। কিছু গল্পে ভৌতিক আবহ ফুটে উঠেছে তো দু-একটি গল্পের মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে তন্ত্র-মন্ত্র। তবে আমার মতে এই বইয়ের সব গল্পগুলোকে একেবরেই ডার্ক ফ্যান্টাসি বলা যায় না। তাহলে বাড়াবাড়ি হবে। ডার্ক ফ্যান্টাসি পড়ার সময় আমাদের মনের ওপর যে মানসিক চাপ পড়ে, যেমন অস্বস্তি অনুভূত হয়, তেমন কিছুই এই গল্পগুলোর মধ্যে নেই।গল্পে শুধুমাত্র অলৌকিক এলিমেন্ট বা যৌনতা অ্যাড করে দিলেই সেটা ডার্ক ফ্যান্টাসি হয়ে যায় না। আমার মতে এই বইটিকে ডার্ক ফ্যান্টাসি না বলে ভৌতিক এবং তন্ত্র-মন্ত্রের মিশ্রণ বলাটাই শ্রেয়। এমন কিছু এলিমেন্ট আছে যার জন্য গল্পগুলো অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক তবে আমার মতে প্রাপ্তমনস্ক নয়।
▪️সত্যি কথা বলতে, যতটা আশা নিয়ে বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম আমার ততটা ভালো লাগেনি। এর একটা কারণ হলো অনেক বেশি প্রত্যাশা ছিল বইটার প্রতি, যার বেশিরভাগটাই অপূরণীয় রয়ে গেছে। এর আরও একটা কারণ হয়তো, আমরা যারা সৈকতবাবুর ডার্ক ফ্যান্টাসি জঁরের গল্প পড়ে অভ্যস্ত তাদের কাছে এই সংকলনের গল্পগুলো অত্যন্ত সাধারণ মানের মনে হবে। তুলনা টানা টা আমিও পছন্দ করিনা কিন্তু এক্ষেত্রে বাধ্য হলাম।
▪️হিমাদ্রিবাবুর কয়েকটা ভৌতিক এবং অ্যাডভেঞ্চারমূলক কিশোর গল্প পড়েছি যেগুলো অত্যন্ত ভালো। তাছাড়া শুনেছি উনি ঐতিহাসিক লেখাতেও বেশ পারদর্শী। কিন্তু ওঁর প্রাপ্তবয়স্ক গল্প পড়ে যেটুকু বুঝলাম উনি ডার্ক বিষয়টা গল্পের মধ্যে ঠিক ফুটিয়ে তুলতে পারেন না। এর আগেও ওঁর একটি প্রাপ্তবয়স্ক ভৌতিক গল্প সংকলন পড়ে আশাহত হয়েছিলাম।
▪️বইয়ের প্রচ্ছদটা আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। সাদামাটার উপরে বেশ আকর্ষণীয়। এই প্রচ্ছদের প্রেমে পড়েই মূলত বইটা কেনা। তাছাড়া বইয়ে ব্যবহৃত অলংকরণ গুলোও খুব সুন্দর। পৃষ্ঠা কোয়ালিটি ভালো ও বাঁধাই বেশ মজবুত। মুদ্রণ প্রমাদ চোখে পড়েনি খুব একটা।
🌿 যাইহোক, সাধারণ ভৌতিক বা তন্ত্রমন্ত্র যাঁরা ভালোবাসেন তাঁরা অবশ্যই বইটি পড়ে দেখতে পারেন। তবে একটি অভিযোগ থেকেই গেলো, যে এভাবে গল্পগুলোকে ডার্ক ফ্যান্টাসি বলে দাগিয়ে দেওয়াটা উচিত হয়নি। পুরোটাই আমার ব্যক্তিগত পাঠ অনুভূতি, আমার সাথে অনেকে একমত না হতেও পারেন। তাতে কোনো সমস্যা নেই।
ছটি ডার্ক ফ্যান্টাসির গল্প নিয়ে এই সংকলন, প্রতিটি গল্পেই উঠে এসেছে বাস্তব ও পরাবাস্তবের এক মিশ্রণ। হয়তো সব কটি গল্প পড়ার পর আপনাদের ও মনে হবে - মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টিই হয় - হয়তো।
✓কাকবাবার বামা রিপুর লোভ মানুষের যে কতবড় সর্বনাশ করতে পারে তা উঠে এসেছে এই গল্পটিতে, প্রেত সঙ্গম করে রুস্তম দাঁড়কাকে পরিবর্তিত হলো। কিন্তু কিভাবে?
✓ফেরা ডাক্তারি কলেজে শবদেহ ডিশেকশানের পর প্রফেসর মজুমদার তাঁর ছাত্রী সংযুক্তাকে অ্যান্টি চেম্বারে ধর্ষণ করেন। অপমানে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন সংযুক্তা, তারপর অশরীরী দেহে আবার ফিরে আসে প্রফেসর মজুমদারের কাছে পুরোনো কৃতকর্মের শাস্তি দিতে। সংযুক্তা কি পারলো শাস্তি দিতে?
✓হেমলক নীলকন্ঠ গুপ্ত এক বিশেষ কিছু মিশিয়ে সফ্ট ড্রিংক্স বানান, নাম দেন হেমলক, বাজারে তার চাহিদা আকাশছোঁয়া। সাংবাদিক তৃষিত জানতে পারেন সেই বিশেষ জিনিসটা হলো মানুষের রক্ত। কি হলো শেষ পর্যন্ত?
✓ওরা চারজন তিনজন ছেলে, রুদ্র+রাজর্ষি+প্রলয়, বেড়াতে যায় একটি জঙ্গলে, সেখানে একটা বাংলোর দুটি ঘর তারা বুক করেছিল দুদিনের জন্য। কিন্তু গিয়ে দেখে দুটি মেয়েও, কৃষ্ণকলি+রাধিকা, ওই দুদিনেরই বোর্ডিং পাস নিয়ে এসেছে। রাজর্ষি ও প্রলয় আসক্ত হয়ে পড়লো কৃষ্ণকলি ও রাধিকার উপর। রুদ্র একাই গেল জঙ্গল সাফারিতে। বাংলোর ঘর দুটিতে রয়ে গেল বাকি চারজন। রাতে রাজর্ষি, প্রলয়, কৃষ্ণকলি ও রাধিকা কোয়েল নদী দেখতে যায়। মারা যায় এই চারজনই। কিন্তু পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী কৃষ্ণকলি ও রাধিকা মারা গিয়েছিল তারও একদিন আগে যাদের ডেড বডি রয়েছে মর্গে। তাহলে ...?
✓পাতাল বটুক পর্ণাভর জ্যেঠু ঈশান চক্রবর্তী পনেরো বছর ধরে জেল খাটার পর বেকসুর খালাস পান, আদালতের গাফিলতির জন্য পনেরো বছর লেগে যায়। তারপর পর্ণাভ তার স্ত্রী সেমন্তীকে নিয়ে জ্যেঠুর সাথে দেখা করতে। নিঃসন্তান সেমন্তীকে নিয়ে ঈশান চক্রবর্তী যজ্ঞে বসেন, কিন্তু আহ্বান করেন পাতাল বটুককে। কি হলো তারপর?
✓মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি এই গল্পের নামেই সংকলন টির নাম। কস্তুরী মৃগ বা মাস্ক ডিয়ার কে নিয়ে এই গল্পটি। জিওলজিস্ট ঈশানবাবু অফিসের কাজে পহেলগাঁওতে গিয়ে দেখা হয় ত্রিবেদী বাবুর সঙ্গে। ত্রিবেদী বাবু ঈশানবাবুকে বলেন যে কস্তুরী মৃগ দেখাবেন। কথামত ঈশানবাবু রাতে ত্রিবেদী বাবুর কাছে যান, তারপর ঘটতে থাকে নানারকম বিস্ময়কর ঘটনা। ঈশানবাবু কি শেষ পর্যন্ত কস্তুরী মৃগ দেখতে পেলেন?
মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত পত্রভারতী
সংকলনের নাম দেখে প্রত্যাশা একটু বেশিই ছিল। তবে সব গল্প পড়বার পরে এটুকু বলতে পারি, খুব একটা আহামরি কিছু লাগলো না। বইটি overall ভালো, লেখকের কলমের গুনে বেশিরভাগ গল্পই সুপাঠ্য তবে, যে জিনিসটার সবথেকে বেশি দরকার ছিল সেটারই যেন অভাব বোধ করেছি- চমক, অত্যাশ্চর্য কিছু টুইস্ট, অপ্রত্যাশিত নতুনত্বে মোড়া কনসেপ্ট... এসব এর বড্ড অভাব। গল্প গুলো নিয়ে দু এক লাইন বলি। • কাকবাবার বামা - ভাবনাতে কিঞ্চিৎ নতুনত্ব থাকলেও গল্পটি অত্যন্ত শুষ্ক গদ্যশৈলির, পড়তে বেশ অসুবিধা হয়। • ফেরা - বিন্দুমাত্র নতুনত্ব নেই। চেনা প্লট, চেনা সমাপ্তি। হতাশ হলাম পড়ে... • হেমলক - শুরুটা বেশ সুন্দর যদিও শেষটা সহজেই অনুমেয়। তবে যারা এধরনের লেখা খুব বেশি পড়েননি তাদের বেশ ভালো লাগবে। • ওরা ৪ জন - আগের গুলোর তুলনায় বেশ ভালো, শেষ টা কিছুটা হয়তো আঁচ করা যাবে। Overall চলনসই। • পাতাল বটুক - সংকলনের সব থেকে সেরা গল্প, সযত্নে গুছিয়ে লেখা। পড়ে তৃপ্তি আসে। টুইস্ট নেই খুব একটা তাও হালকা একটা চমকের আবহ অনুভূত হয়েছে। • মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি - সংকলনটি নামকরণ এই গল্পের শিরোনামে হওয়ায় এটার উপর প্রত্যাশা অন্যগুলোর থেকে বেশি ছিল। গল্পটা বেশ অন্যরকম স্বাদের তবে শেষটা কেমন যেনো গোঁজামিল দেওয়া। কার্যকারণ সম্পর্কটা যেনো ঠিক মতো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বইটি পড়ে খুব একটা আপ্লুত হতে পারিনি ঠিকই তবে, এই Genre এর লেখা আগে যাঁরা পড়েননি তারা প্রাথমিকভাবে এই বইটি তুলে নিয়ে শুরু করতেই পারেন। আমি বইটিকে ৫ এ ২.৫ এর বেশি দিতে পারছি না।
আমার মাঝে মাঝে মনে হয় বাংলা সাহিত্যের বিপুর সম্ভারের দশ শতাংশ বইও আমার পড়া নেই, এটি তেমনি একটি বই, বইটিতে মূলত ছয়টি প্রাপ্তমনস্ক ডার্ক ফাস্টাটি যুক্ত অদ্ভুত সব গল্প,
কাকবাবার বামা - বেশ ভালো, অন্যরকম চমক আছে তবে গা ছমছমে ব্যাপারটা নেই , ফেরা - আহামরি কনসেপ্ট নয়, তবে খারাপ নয় লেখক তার লেখনি দিয়ে ছোট গল্পটিকে জমিয়ে দিয়েছেন
হেমলক - এটি বেশ ভালো, তবে আমার কোথাও গিয়ে ওই হিন্দি সিনেমার ক্লাইম্যাক্স এর মত মনে হয়েছে,
ওরা ৪ জন- এটি বেশ ভালো গল্প, চমক রয়েছে অনেক তবে আমার মধ্যে শেষটা আরেকটু অন্যরকম হলে আরো ভালো হতো।
পাতাল বটুক - এটি বইটির সব থেকে বড় গল্প এবং আমার বেশ পছন্দ হয়েছে, বেশ অন্যরকম, শেষের টুইস্টটি মন্দ নয়
মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি - ভালো গল্প। তবে পরিণতি খুব ডার্কও নয়।
এই গেল বইটির কথা, এবার আসা যাক বইটি পড়ে আমার কেমন লাগে, বিভৎস রসের কথা ভূমিকা তে পড়লেও কোনো গল্পটাই একটু আধটু গা ছমছমে বেশি কিছু হয়নি। তবে সে রকম ডার্ক বা উত্তেজক নয় মোদ্দা সবমিলিয়ে বলবো খুব একটা খারাপ লাগলো না বইটা, একবারে বসে শেষ হয়ে যাবে, তবে ডার্ক ফ্যান্টাসি ব্যাপারটা মাথায় না রাখাই ভালো।
কিনলাম, পড়লাম, হতাশ হলাম । ছয়টি ডার্ক ফ্যান্টাসি বা বিভৎস রসকে কেন্দ্র করে লেখা গল্প । না পেলাম সেই বিভৎসতা না কোনো রস । প্লট সবকটাই প্রত্যেকটা থেকে আলাদা । গল্পগুলি হয় ভীষণ অনুমেয় , নইলে খুবই নিরস,,সব মিলিয়ে নিরাশাজনক । রাইটিং - ৩/৫ , হিমাদ্রী বাবুর লেখনী কিশোর অ্যাডভেঞ্চারে যেমন চলে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য চললো না এই ক্ষেত্রে , নিরস এবং একঘেয়ে।
ডার্ক ফ্যান্টাসি -২/৫ লেখক লিখতে বসেছেন, হঠাৎ মনে পড়ল ,এটা ডার্ক ফ্যান্টাসি,তাই হঠাৎ করে কাহিনীতে এসে গেল ডার্ক কনটেন্ট । কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্লট অপ্রত্যাশিত - কারণ কোনোভাবে গল্পটা তো শেষ করতেই হবে!
প্লট - প্রেডিকটেবেল , একঘেয়ে, নৈরাশ্যজনক।
গল্প - কাকবাবার বামা - ২/৫ ফেরা - ১.৫/৫ হেমলক - ১.৫/৫ ওরা চার জন - ২/৫ পাতাল বটুক - ২.৫/৫ মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি - ২.৫/৫
হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্তের ‘মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি’ একটি দুর্দান্ত ডার্ক ফ্যান্টাসি গল্পসংকলন। বিশেষ করে ‘কাকবাবার বামা’, ‘ওরা ৪ জন’ এবং ‘পাতাল বটুক’ গল্পগুলো আলাদা করে মনে দাগ কেটে যায়—ভয়, কৌতূহল আর বিস্ময় একসঙ্গে জাগিয়ে তোলে।
লেখকের ভাষা সাবলীল এবং পরিবেশ নির্মাণ অত্যন্ত শক্তিশালী। অলৌকিকতা এখানে আরোপিত নয়, বরং ধীরে ধীরে বাস্তবের সঙ্গে মিশে গিয়ে পাঠককে এক অস্বস্তিকর অথচ আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতার মধ্যে নিয়ে যায়। যারা ডার্ক ফ্যান্টাসি, হরর বা মনস্তাত্ত্বিক গল্প ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই বই নিঃসন্দেহে মাস্ট রিড।
Average with a couple of interesting short stories. Patal Batuk is sure to give you a shiver. Rest of the tales are mostly average with expected twists near the end of the tale.
মৃত্যুর গন্ধ মিষ্টি হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত পত্রভারতী মম: ১৯৯ টাকা ৬ টি হরর, মূলত ভৌতিক কাহিনী বলা চলে, নিয়ে এই সংকলন। গল্পগুলো আমার কাছে তেমন ভয় বা কৌতূহলের সঞ্চার করেনি, আমার কাছে সব গল্প গুলোই বেশ প্রেডিক্টবল লেগেছে।