দেশের কুখ্যাত সব অপরাধীর চোখে ঘুম নেই আজ। কেন? কেননা একের-পর-এক খুন হচ্ছে তারা। শুধু তাই নয়, যারা অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও রয়ে গিয়েছে আইনের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, তাদেরও রক্ষে নেই। প্রতিটা লাশের পাশে মিলছে অদ্ভুত এক চিরকুট, সেই সঙ্গে আছে অপরাধীদের অপরাধের প্রমাণসহ তার বিবরণ! অফিসার কুশল রহমান, ডিবি পুলিসের চৌকস অফিসার। তার সঙ্গে জোড়া বাঁধল ধানমণ্ডি থানার ওসি শওকত আহমেদ। শুরু হলো তদন্ত। খুনি যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে। শুরু হলো ইঁদুর-বিড়াল...উহু, শকুন-ইঁদুর-বিড়াল খেলা। কেননা খুনি যে নিজের পরিচয় দিচ্ছে 'শকুনের চোখ' বলে! সূত্র-প্রমাণ-সাক্ষ্যের ঘোরপ্যাঁচে এক পা এগোলে, পিছিয়ে যেতে হচ্ছে দশ পা। খেলার ঘুঁটিগুলো যেন নিজের মতো করে সাজিয়েছে শকুনের চোখ। ডিবি-পুলিস আর কী চাল দেবে, তার আগেই তৈরি করে রাখছে পাল্টা চাল। কার জয় হবে শেষ পর্যন্ত? পুলিসের? নাকি শকুনের চোখের?
দেশের কুখ্যাত সব অপরাধীর চোখে ঘুম নেই আজ। কেন? কেননা একের-পর-এক খুন হচ্ছে তারা। ধর্ষণের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা হারকিউলিসের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। এবার আর হারকিউলিস নয়, অপরাধীদের ঘুম হারাম করেছে 'শকুনের চোখ'। বিভিন্ন জায়গায় লাশ মিলছে দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী, ঘুষখোর ওসি আর কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের। খুনী সাথে রেখে যাচ্ছে তাদের অপকর্মের ফিরিস্তি আর শকুনের চোখের সাবধানবাণী। শুধু তাই নয়, যারা অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও রয়ে গিয়েছে আইনের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, তাদেরও রক্ষে নেই। প্রতিটা লাশের পাশে মিলছে অদ্ভুত এক চিরকুট, সেই সঙ্গে আছে অপরাধীদের অপরাধের প্রমাণসহ তার বিবরণ!
চাপ বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর। অপরাধী টেকনোলজি আর ইলেকট্রনিকসে দারুণ দক্ষ - এটুকুই কেবল জানা। তাকে ধরা তো দূরের কথা, আর কোনো সূত্রই মেলাতে পারছে না ওসি শওকত আহমেদ ও ডিবি পুলিশের গোয়েন্দা কুশল রহমান।
অফিসার কুশল রহমান, ডিবি পুলিসের চৌকস অফিসার। তার সঙ্গে জোড়া বাঁধল ধানমণ্ডি থানার ওসি শওকত আহমেদ। শুরু হলো তদন্ত। খুনি যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে। শুরু হলো ইঁদুর-বিড়াল...উহু, শকুন-ইঁদুর-বিড়াল খেলা। কেননা খুনি যে নিজের পরিচয় দিচ্ছে 'শকুনের চোখ' বলে!
কে এই শকুনের চোখ?' পাড়া - মহল্লায় চায়ের দোকানের ধোঁয়ার সাথে ভেসে বেড়াচ্ছে প্রশ্ন। আমজনতা তার পক্ষে - শকুনের চোখ কোনো সৎ লোকের ক্ষতি করে না। এদিকে শীর্ষ অপরাধীরা এক জোট হয়েছে, পথ খুঁজছে রেহাই পাবার। কিন্তু শকুনের চোখ কী করে যেন সবই দেখে, সব টের পায়! এক ধাপ এগিয়ে আছে সে সবসময়।
সূত্র-প্রমাণ-সাক্ষ্যের ঘোরপ্যাঁচে এক পা এগোলে, পিছিয়ে যেতে হচ্ছে দশ পা। খেলার ঘুঁটিগুলো যেন নিজের মতো করে সাজিয়েছে শকুনের চোখ। ডিবি-পুলিস আর কী চাল দেবে, তার আগেই তৈরি করে রাখছে পাল্টা চাল। জাল বিছিয়ে বসে আছে পুলিশ আর অপরাধীচক্র - পাখি কি ধরা পড়বে?
কার জয় হবে শেষ পর্যন্ত? পুলিসের? নাকি শকুনের চোখের?
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ থ্রিলার জনরাটি বাংলাদেশে এখন জনপ্রিয়। তবে, থ্রিলার লিখতে গিয়ে অনেকেই কেমন জানি একটা বিদেশী অ্যাকশন মুভির ধাঁচে চলে যান। সে গল্পগুলো পড়লে ঠিক নিজের মনে হয় না। 'শকুনের চোখ' পড়ার সময় স্বস্তি পাচ্ছিলাম যে, এখানে পুলিশের তদন্তের ধারা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী চরিত্ররা সবকিছুই পেলাম দেশীয় আবহে। এক্ষেত্রে লেখকের যে নিজস্বতা ছিল তা উপভোগ করেছি।
মাসুম আহমেদ আদি ভাইয়ের রিভিউ এর উপর খুব নজর থাকতো যখন বই বের হলো বইটির নাম শুনেই আগ্রহী হয়ে উঠি। শুরুর দিকে কিছু শব্দচয়নে খটকা লাগছিলো, কিন্তু পরের অংশে তা কাটিয়ে উঠেছেন। থ্রিলার রচনায় যা সবচেয়ে প্রয়োজন, সেই খুঁটিনাটি বর্ণনায় তীক্ষ্ণ নজর রেখেছেন লেখক। আবহাওয়া, টাইমলাইন, পারিপার্শ্বিকতা এসব মাথায় রেখে লিখেছেন, যার কারণে প্লটটি নিশ্ছিদ্র হয়েছে।
তবে ফিনিংটা আরো ভালো হতে পারতো আমরা যারা নিয়মিত থ্রিলার পড়ি তাদের জন্য টুইস্ট সহজবোধ্য হয়ে গেলো। সামনে লেখকের কাছ থেকে বেটার কিছু আশা করছি।
উপন্যাসে অ্যাকশনের পাশাপাশি বুদ্ধির খেলাটাও সমানতালে ছিল। ক্ষুর মাশুকের ভয়ংকরত্ব, নিশাত - তানভীরের হিউমার আর শওকত - কুশলের তদন্তের টানটান উত্তেজনা মিলে থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য পরম উপাদেয় এক উপন্যাস 'শকুনের চোখ'।
আজ কাল কিছু মানুষ হুট করে লেখা শুরু করে, কারন বই ছাপানর জন্য প্রকাশনীও অনেক আছে। এই বইয়ের লেখকর সাথে পরিচয় একটা অনুবাদ বই থেকে। ক্রিস্টোফার সি ডয়েল এর দ্য মহাভারত কোয়েস্ট আলেকজান্ডার সিক্রেট বই **অনুবাদ ভালো ছিল সেই ভাললাগা থেকে বইটা কেনা।
কিন্তু এই বইয়ে কিছু নাই, শুরু হবে খুন দিয়ে এর পরে একটু গেলে বুঝা যাবে আসলে খুনি কে (শকুনের চোখ) 😝 থ্রিলার লেখকের বড় কাজ হচ্ছে তাঁর গল্পের রহস্য পাঠাক আগে বুঝতে পারবে না, কিন্তু হায় এইখানে সেটা হয় নাই।
***এইবার আসেন কথা বলি বইয়ের আসল কিছু জিনিস নিয়ে । লেখক শুরুতে বলেছেন অনেক জাগায় প্লট হোল মনে হতে পারে তাই ধৈর্য ধরতে বলেছেন আমিও তাই টাকার কষ্ট বুকে পাথার চাপা দিয়ে শেষ করলাম বইটা***। কিছু লাইন আমি তুলে ধরি নিচেঃ-
১। ওর অফিসেই বরং সাথে দেখা করি ( কি এইখানে কোন কিছু মিস মিস লাগছে ;) )
২। তিনশো জনের কাছ থেকে চার লাখ করে, মোট এক কোটি বিশ লাখ টকা হাতিয়ে নিয়ে...
আসেন অংক করিঃ ৩০০*৪০০০০০= ১২০,০০০,০০০ কত হয় ভাই গুনে দেখেন :P
৩। টাকা-পয়সা কফিনে নিয়ে কবরে যাবেন? (কথা হচ্ছে একজন মুসলিম মানুষ কে নিয়ে সে কফিনে কেন কবরে যাবে?)
৪। সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে **ভাবী**, কচি বধুর স্বপ্নে বিভোর হামিদ খান ( ও ভাই মারো মুঝে মারো, বুঝেন তাইলে!!!)
৬। এক জাগায় লেখা আছে সিম থেকে আইপি অ্যাড্রেস বের করা হবে তারপরে দেখতে হবে এই আইপি ... (SIM-এ IP কি ভাবে :O)
৭। আইপিতে **ভিডিয়ো **স্ট্রিম ... (আচ্ছা)
৮। **লোহার খাটে** পরম নিশ্চিন্তে ঘুমেয়ে আসছে হাজারি (উনি বাসায় ঘুমাই ছিল না, ছিল জেলে আর আমার জানা মতে খুব বড় কেউ না হলে জেলে তাকে ডিভিশন দেয় না মানে খাট, বালিশ এইসব)
এই জিনিস গুলা দেখে আমার মনে হয়েছে বইটা লেখার আগে লেখক কোন প্রকার পরাশুনা না করে শুরু করে দিয়েছেন।
আমি বুঝি না প্রকাশক কি বইটা একবার পড়ে ছাপাতে দিতে পারত না? কারন মানুষ টাকা দিয়ে বই কিনবে। কাভার, বাঁধাই, পেজ ভালো করলেই কি একটা ভালো বই হয়ে যায়?? যাই হোক আর কি বলবো যারা যারা বইটা কিনেছেন তাঁরা পড়েন কি আর করবেন।
'ধর্ষকরা সাবধান' চিরকুট লিখে আসামীদের খুন করতে থাকা সেই হারকিউলিসের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? গত বছরের শুরুতে আবির্ভূত হওয়া এই অজ্ঞাত আততায়ীকে পুলিশ অপরাধী তকমা দিলেও, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারানো সাধারণ মানুষ তাকে গ্রহন করেছিল রবিনহুড রূপে।
এবার আর হারকিউলিস নয়, অপরাধীদের ঘুম হারাম করেছে 'শকুনের চোখ'। বিভিন্ন জায়গায় লাশ মিলছে দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী, ঘুষখোর ওসি আর কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের। খুনী সাথে রেখে যাচ্ছে তাদের অপকর্মের ফিরিস্তি আর শকুনের চোখের সাবধানবাণী।
প্রথমে জোড়া খুন হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোখলেছুর রহমান ও তার বন্ধু চৌধুরী জাফর সালেহ। ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে গিয়ে শেষ খোদ পুলিশের এস. আই-ও! সামলে ওঠার আগেই পরের ধাক্কাটা খেলেন মালয়েশিয়া পলাতক হামিদ খান। অপ্রতিরোধ্য শকুনের চোখের শিকারের তালিকা লম্বা হতেই থাকলো।
চাপ বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর। অপরাধী টেকনোলজি আর ইলেকট্রনিকসে দারুণ দক্ষ - এটুকুই কেবল জানা। তাকে ধরা তো দূরের কথা, আর কোনো সূত্রই মেলাতে পারছে না ওসি শওকত আহমেদ ও ডিবি পুলিশের গোয়েন্দা কুশল রহমান।
'কে এই শকুনের চোখ?' পাড়া - মহল্লায় চায়ের দোকানের ধোঁয়ার সাথে ভেসে বেড়াচ্ছে প্রশ্ন। আমজনতা তার পক্ষে - শকুনের চোখ কোনো সৎ লোকের ক্ষতি করে না। এদিকে শীর্ষ অপরাধীরা এক জোট হয়েছে, পথ খুঁজছে রেহাই পাবার। কিন্তু শকুনের চোখ কী করে যেন সবই দেখে, সব টের পায়! এক ধাপ এগিয়ে আছে সে সবসময়।
জাল বিছিয়ে বসে আছে পুলিশ আর অপরাধীচক্র - পাখি কি ধরা পড়বে?
'শকুনের চোখ' বইটির জন্য আমি যতটা আগ্রহ আর উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করে ছিলাম, ততটা মনে হয় না আর কখনো অন্য কোনো বইয়ের জন্য করেছি। বইটি হাতে পাওয়ার পর পড়া শুরু করতে এক মুহুর্ত দেরী করিনি, তারপর আর থামার কোনো সুযোগও রাখেননি লেখক।
থ্রিলার জনরাটি বাংলাদেশে এখন জনপ্রিয়। তবে, থ্রিলার লিখতে গিয়ে অনেকেই কেমন জানি একটা বিদেশী অ্যাকশন মুভির ধাঁচে চলে যান। সে গল্পগুলো পড়লে ঠিক নিজের মনে হয় না। 'শকুনের চোখ' পড়ার সময় স্বস্তি পাচ্ছিলাম যে, এখানে পুলিশের তদন্তের ধারা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী চরিত্ররা সবকিছুই পেলাম দেশীয় আবহে। এক্ষেত্রে লেখকের যে নিজস্বতা ছিল তা উপভোগ করেছি।
মাসুম আহমেদ আদি ভাইয়ার লেখালেখির চুম্বকীয় গুণাবলীর সাথে পাঠক হিসেবে আমি আগে থেকেই পরিচিত। তাই পড়তে গিয়ে যে আটকাবো না, সে বিষয়ে যেমন নিশ্চিত ছিলাম, লেখকও হতাশ করেননি। শুরুর দিকে কিছু শব্দচয়নে খটকা লাগছিলো, কিন্তু পরের অংশে তা কাটিয়ে উঠেছেন। থ্রিলার রচনায় যা সবচেয়ে প্রয়োজন, সেই খুঁটিনাটি বর্ণনায় তীক্ষ্ণ নজর রেখেছেন লেখক। আবহাওয়া, টাইমলাইন, পারিপার্শ্বিকতা এসব মাথায় রেখে লিখেছেন, যার কারণে প্লটটি নিশ্ছিদ্র হয়েছে।
উপন্যাসে অ্যাকশনের পাশাপাশি বুদ্ধির খেলাটাও সমানতালে ছিল। ক্ষুর মাশুকের ভয়ংকরত্ব, নিশাত - তানভীরের হিউমার আর শওকত - কুশলের তদন্তের টানটান উত্তেজনা মিলে থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য পরম উপাদেয় এক উপন্যাস 'শকুনের চোখ'।
বইটি নিয়ে অভিযোগ করার মতো একটিই ব্যাপার ছিল, তা হলো ছাপার ভুল। বইমেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ পাওয়া বইগুলো সম্পাদনার সময় কম পায়, তা সহজেই অনুমেয়। তাই পরবর্তী মুদ্রণে এসব শুধরে নেওয়া হবে আশা করছি। গল্পের সাথে মিল রেখে করা দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদের জন্য প্রচ্ছদশিল্পী জান্নাতুল ফেরদৌস লুনা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
বছর বছর শত শত মানুষ পর্যাপ্ত পড়াশোনা ছাড়াই একটার পর একটা বই লিখে চলেছে। মন চাইল আর লিখে ফেলল একটা বই অবলীলায়। বইয়ের লেখা যাই হোক, লেখকের তকমা তো জুটে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে।
অন্যদিকে বইয়ের জগতের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকেও, ভাষার ব্যবহারের উপর দক্ষতা রেখেও একজন লেখক একটি বই লেখে শেষ করতে নিয়েছেন প্রায় চার চারটি বছর। কিন্তু কেন? লিখলেই তো হয়ে যেত।
বলে দেওয়াটা যতটা সহজ লেখাটা ততটা না। একজন কমিটেড লেখকের একটা পৃষ্ঠা লিখতেও কি তীব্র মনস্তাত্বিক লড়াই চলে ভেতর ভেতর সেটা আমি নিজেও মাঝে মাঝে কিছু হাবিজাবি লিখি বলে সামান্য ধারণা আছে।
অবশেষে লেখক, মাসুম আহমেদ আদি এই লড়াইতে জয়ী হয়েছে। আমাদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে। লেখক স্বস্তি পেয়েছেন আর আমরা পেয়েছি শকুনের চোখ। বইটি পড়া শেষ করার পর শুধু একটা কথাই মনে হয়েছে আদি ভাই পেরেছেন। অসামান্য হয়নি, সামান্যও হয়নি তবে স্বার্থক হয়েছে নিঃসন্দেহে।
বইটির সেরা দিক হল লেখার গ্রিপ। একবার শুরু করলে শেষ করতেই হবে। পাতার পর পাতা ফুরিয়ে যাবে অথচ পৃষ্ঠা সংখ্যার দিক চোখ ফিরে ফিরে তাকাবে না। বইটা পড়ার সময় শুরুতেই টুইস্টটা আমি মনে মনে প্রেডিক্ট করেছিলাম আবার পড়ার ফাঁকে ফাঁকে দ্বিধাও জাগে। যদিও শেষে মিলে যায়। তাই বলে বিরক্তি আসেনি। কারণ বইটি পড়ার আনন্দটা ক্ল্যাইম্যাক্সে ছিল না, ছিল টোটাল জার্নিতে।
লেখক ১৩ বছর যাবত ঢাকায় আছেন। এছাড়া শৈশবে আব্বুর সাথে ঘোরা ঢাকার অলিগলি ছাপ রেখে গিয়েছিল লেখকের স্মৃতির কুঠুরিতে। বইটিতে উনি ঢাকা শহরের ভৌগলিক জ্ঞানকে তাই বেশ ভালভাবেই ব্যবহার করেছেন। আমার মনে হয় ঢাকার অনেক স্থানীয় বাসিন্দাও কিছু জায়গা সম্পর্কে আলাদা করে জানতে আগ্রহী হতে পারেন বইটা পড়ার পর।
গ্যাজেটের ব্যাপারেও লেখকের বেশ পড়াশোনা আছে বোঝা গেছে। যদিও পেশাদার থ্রিলার লেখকদের এটা থাকা বাঞ্চনীয়। তবুও প্রযুক্তি সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য জানাটাও বইতে বেশ উপভোগ করেছি।
বইটা টিপিক্যাল ক্রাইম থ্রিলার। থ্রিল এবং সাসপেন্সের সব উপাদানে ঠাসাঠাসি একেবারে। তবে পাঠকদের জন্য সতর্কতা যে কিছুটা পড়ে পরে পড়ব বলে ফেলে রাখলেই ঝামেলায় পড়বেন। কারণ বিচিত্র স্থান কাল এবং অনেক সংখ্যক চরিত্রের উপস্থিতির কারণে বড় বিরতিতে বইটি পড়লে আবার গোঁড়া থেকে পড়া লাগতে পারে।
ভাল দিকের সাথে সাথে বইটির ত্রুটিপূর্ণ দিকগুলোও বলা উচিৎ। বইটিতে বেশ কিছু বানান ভুল আছে। আমি নিজে এক লাইনে পাঁচটা বানান ভুল করি। তাই আমাকে এই ভুল ধরা মানায় না। তবে লেখার নিরপেক্ষতার জন্য ব্যাপারটা উল্লেখ করলাম। আশা করি পরবর্তী সংস্করণে সেগুলো ঠিক করে নেয়া হবে। বইটির আরেকটি সমস্যা হলো পৃষ্ঠাসংখ্যা। আরেকটু বড় করতে পারতেন লেখক। তাড়াহুড়ো হয়েছে বলব না। তবে ক্যানভাসটাকে গল্পের পোট্রের তুলনায় একটু টাইট মনে হয়েছে।
এই বইটা আসলে ছিল একটা মনস্তাত্বিক সংগ্রামের ফসল। আর এখানে এই বইটির বিশেষত্ব এবং আর পাঁচটি থ্রিলার থেকে আলাদা। আমার প্রত্যাশা, লেখককে আর থামতে হবে না। এইবার উনার কীবোর্ডে আসবে গতি, আসবে উৎকর্ষতা। নিজের লেখাকে নিজেই ছাড়িয়ে যাবেন প্রতিটি বইটিতে।
কেউ লিখতে লিখতে পরিণত হন, কেউ পরিণত হয়ে লেখা শুরু করেন। প্রশ্ন করতে পারেন পরিণত হয়ে লেখা শুরু করার মানে কী? মানে হচ্ছে, আপনি কী লিখতে যাচ্ছেন, সেটা নিয়ে জেনে-বুঝে, ভালোভাবে রিসার্চ ওয়ার্ক করে কাজ শুরু করা। যাই হোক, ফেসবুকের কল্যাণে মাসুম আহমেদ আদির লেখালেখি কিংবা রিভিউয়ের সাথে টুকটাক পরিচয় আছে। শকুনের চোখ তার প্রথম মৌলিক থ্রিলার। পড়ে শেষ করলাম। এবার পাঠ প্রতিক্রিয়ার দিকে যাওয়া যাকঃ যা যা ভালো লেগেছেঃ ১) স্টোরি। আপনি পড়া শুরু করলে প্লট পরিচিত মনে হবে। মনে হবে এমনটা আগেও কোথাও পড়েছেন কিংবা দেখেছেন। লেখকের মুনশিয়ানার ওপর নির্ভর করে তিনি তার গল্পকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সেক্ষেত্রে আমি মাসুম আহমেদ আদিকে বাহবা দিচ্ছি। উনি সেটার প্রাপ্য। ২) কুশলের আবির্ভাবটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। ব্যক্তিগতভাবে বাইক নিয়ে আমার জানাশোনা বলতে গেলে শূন্যের কোঠায়। বইটা পড়ার সময় মাঝে মাঝে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখে নিলাম উল্লেখিত মডেলের বাইকগুলো দেখতে কেমন, কী রঙের, মাইলেজ ইত্যাদি ইত্যাদি (জ্ঞান বেড়েছে বলতে পারেন) ৩) খুনী বুদ্ধিমান, এই কথা আপনাকে মানতেই হবে। হিন্দিতে একটা কথা আছে। ‘এ দিখাকে জেড হো গায়্যা’- শওকত আর ডিবির অফিসারদের সে এভাবে নাকানি-চুবানি খাওয়াচ্ছে, পড়তে গিয়ে বেশ মজাই লেগেছে। ৪) আপনি যদি কোরি���়ান ছবির ভক্ত হন, তাহলে একটা জায়গায় এসে একটু নড়েচড়ে বসবেন। এই কনসেপ্ট এপ্লাই করতে আমি আমার পড়া কোনো থ্রিলার লেখকদের দেখিনি। মূলত গল্পের টুইস্ট শুরু হয় এখান থেকেই। এটা পড়তে গিয়ে চমৎকৃত হয়েছি। ৫) বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে ডিজিটালাইজেশন করার জন্য শওকতের চেষ্টা এবং সরকারের সমর্থন প্রদান, এই বিষয়টা বেশ কয়েকবারই উঠে এসেছে। বিষয়টা ভালো লেগেছে। ৬) বাইক চেসিং দৃশ্যগুলো স্পট অন বর্ণনা করা হয়েছে। পড়তে গেলে মনে হবে ঢাকার রাস্তায় খলের পেছনে আপনিও বাইকে চড়ে উড়ে বেড়াচ্ছেন। ৭) ডিটেকটিভ ব্র্যাঞ্চ আর ধানমণ্ডি থানার একজন ওসি যখন একজন খুনীর পেছনে লাগেন, সেখানে ইগোইস্টিক দ্বৈরথ হওয়াটা বাস্তব প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিক। আমিও আশা করেছিলাম এমন কিছু হতে পারে। লেখক সেটা করেননি। বাড়তি কিছু পৃষ্ঠা অযথা বাড়াননি উটকো দ্বৈরথের বর্ণনা করতে গিয়ে। (তবে অনেকের কাছে এই বিষয়টা চোখে লাগতে পারে। ক্ল্যাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল) ৮) আমি ব্যক্তিগতভাবে গল্পে ক্ষুর মাশুক চরিত্রটাকে খুবই পছন্দ করেছি। সুমনের আবির্ভাবের ফলেই মূলত গল্পটা শুরু হয়েছে। ক্যাট এন্ড মাউসে ক্ষুর মাশুক যা দেখিয়েছে, তা অসাধারণ। ৯) চিরকুটের প্রোডাকশন বরাবরের মতোই ভালো। বইয়ের কাভার, বাইন্ডিং, কাগজ- কোনো কিছু নিয়েই অভিযোগ করার অবকাশ নেই। এবার আসি যা যা খারাপ লেগেছেঃ ১) প্রথম পৃষ্ঠাতেই বানান ভুল। এটা একটু খারাপ লেগেছে। সাধারণত বানান ভুলের বিষয়টা নিয়ে অনেকেই অনেকভাবে অভিযোগ করেন। ব্যক্তিগতভাবে হ্রস্ব ই, হ্রস্ব উ, ও কার-জনিত বানান নিয়ে আমি খুব একটা মাথা ঘামাই না। ভুল হতেই পারে। তবে শব্দ থেকে যদি বর্ণ মিসিং হয়, সেটা দেখতে চোখে লাগে। ২) লেখক যখন আগে থেকে ডিসক্লেইমার দিয়ে দেন যে গল্পে প্লটহোল থাকতে পারে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন- সেখানে আর বলার কিছু থাকে না। তবে গল্পের শেষটা পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন এখানে বইটা স্ট্যান্ড এলোন হিসেবেই লেখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে শওকত ছাড়া ডিবি পুলিশের চৌকস অফিসার কুশলকে নিয়ে আরও একটু বিস্তারিত আশা করেছিলাম। ৩) তানভীর আর নিশাতকে মনে হয়েছে এই কাহিনীর আই ক্যান্ডি। দরকার ছিল না। ৪) থ্রিলার গল্প পড়তে পড়তে আপনি এন্ডিং কেমন করে কল্পনা করেন আমি জানি না। তবে এই গল্পের সবচেয়ে দুর্বল দিক ক্লাইম্যাক্স। আমি বুঝে ফেলেছিলাম শকুনের চোখ কে হতে পারে। শুধুমাত্র ভাবনাটা একটু বর্ধিত হয়েছে আর কি। ক্লাইম্যাক্সটা যদি আর একটু বিস্তারিত করা যেত, তাহলেই এটাকে চমৎকার একটা থ্রিলার বলতে পারতাম। ক্লাইম্যাক্সে এসে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে বলে মনে হচ্ছে, এবং সেটাও দায়সারা গোছের (একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত)। ৫) শকুনের চোখের মাস্টারমাইন্ড যিনি ছিলেন, তাকে নিয়ে দুই-চার লাইনে কিছু বলে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যদি এটা ডুওলজি বা ট্রিলজি হয়, তাহলে আশা করছি তাকে নিয়ে আরও কথা পাবো। কনফিউশনঃ ১) বলা হলো শওকত বুয়েট থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করতে জার্মানী পাড়ি জমালো কিন্তু আজীবনের ইচ্ছে পুলিশ হবার। মানলাম, হতেই পারে। তবে দেশে আসবার পর সে দেখে বিসিএস দিয়ে চাকরিতে ঢোকার সময় তার আর নেই। বয়সসীমা পার হয়ে গিয়েছে। চাকরিতে ঢোকার ৩০ বছর বয়সসীমা করা হয়েছে ১৯৯১ সালে, ১৩ তম বিসিএসে। ২০১৫ সালেও একই টাইমলাইন বহাল থাকার কথা। তাহলে শওকতের গ্র্যাজুয়েশন হয়েছে কত বছরে? পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন হয়েছে কত বছরে? তার বয়স ৩০+? বিশেষ বিবেচনায় সাব ইন্সপেক্টর পদে সে যোগদান করে ৩০ বছরেরও বেশি সময়ে? আর সরকারি চাকরিতে ঢুকতে অন্তত ধরলেও দুই বছর (একচুয়ালি আরও বেশি)। সেক্ষেত্রে ব্যাপারটা একটু গোলমাল লাগে। ২) সাভারে ওসি কামরুল খুন হলেন। তদন্তে জানা যায় হাই ভেলোসিটির বুলেট থেকে কাজটা সারা হয়েছে। অর্থাৎ স্নাইপার শট। আরেক জায়গায় দেয়া ডামাডোলের মধ্যে খুনী সবার অজান্তে লাশের পাশে কাগজ আর পোস্টার রেখে যায়। মানে সে দূরের কোনো দালান থেকে খুন করে এসে পতিতাবাড়িতে এসে প্রবেশ করল। এরপর লাশের পাশে কাগজ রেখে গেল। ততক্ষণে সবাই জেনে গিয়েছে খুন একটা হয়েছে। হাউ-কাউ শুরু। শকুনের চোখকে কেউ ঢুকতে দেখল না? ৩) সুমনের স্ত্রী আর সুমনের মাঝে সমস্যা চলছে। কেন? সেটা জানলাম। এরপর কী হলো? সুমনের স্ত্রীর ভূমিকা কী? স্বামীর এমন একটা খবর পাওয়ার পরও কেন তাকে আবির্ভূত হতে দেখলাম না? সুমনের মা, সায়মা, সায়মার মা- এদেরকেও মনে হয়েছে স্রেফ কাহিনীর প্রয়োজনে পাঠকদের একটা “টুকি!” দিয়ে চলে গেল।
ওভারওল, শকুনের চোখ গ্রিপিং স্টোরি। আপনি বোরড হবেন না। একটা সময় শকুনের চোখকে আপনিও সমর্থন জানাবেন। নেসেসারি ইভিল, ভিজিল্যান্তে- এসব চরিত্রদের প্রতি পাবলিক সিমপ্যাথি থাকেই। আমার রেটিং ৩.৯/৫ (ক্লাইম্যাক্সের জন্য ০.১ কাটলাম)
দূর্নীতি বেড়াজালে আটকে পড়েছে দেশ। অন্ধকারে নিমজ্জিত দেশের প্রতিটি স্তর। রক্ষকই যেখানে ভক্ষক হয়ে ভয়াল থাবায় ক্ষতবিক্ষত করছে সোনার বাংলাকে, সেখানে সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা ছাড়া আর কি থাকতে পারে?
প্রায় প্রতিটি ধর্মেই আছে পৃথিবীতে যখন পাপের কোটা পূর্ণ হবে অন্ধকারে ছেয়ে যাবে গোটা বিশ্ব তখন একজন নেতা বা অবতার এসে পাপে পরিপূর্ণ বিশ্বে ন্যায়ের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করবে। ইসলাম ধর্মে যেমন আছে ইমাম মাহাদী। আমরা আশার আলো দেখি ইমাম মাহাদী এসে মুসলমানদের সকল দূর্দশা দূর করবেন। হিন্দুধর্মেও এমন একজন অবতারের কথা আছে ভগবান বিষ্ণুর অবতার কল্কী। যিনি এসে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন।
এই মতবাদগুলোর উপর ভিত্তি করেই ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যানের মতো সুপার হিরোদের কনসেপ্টগুলো এসেছে বলে আমার মনে হয়। ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এমনই এক নায়কের আবির্ভাব হয় আমাদের দেশে। যিনি সুপার পাওয়ার সম্বলিত কোনো সুপারহিরো না হয়েও নিজের বুদ্ধিমত্তা আর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে, দূর্নীতিবাজ মন্ত্রী থেকে শুরু দূর্নীতিবাজ পুলিশের আসল চেহারা সকলের সামনে নিয়ে এসেছে। শুধু আসল চেহারা এনেই ক্ষান্ত হননি তাদের যথাযথ শাস্তি দিয়েছেন মৃত্যদন্ডের মাধ্যমে। মজার ব্যাপার হচ্ছে খুন হয়ে যাওয়া লাশ গুলোর পাশে তাদের পাপের ধারাবিবরণী ছাড়াও তিনি নিজের পরিচিতি দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি হলেন "শকুনের চোখ"। কে এই শকুনের চোখ? এই চিন্তায় মন্ত্রালয়, পুলিশ প্রশাসনের পাগল হবার দশা। দূর্নীতিবাজদের রাতের ঘুম হারাম তার ভয়ে। আর সাধারণ মানুষ যেনো এতো বছর পর একটা আশার আলো পেলো। কিন্তু যতই অপরাধীদের শাস্তি দিক। অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে নিজের হাতে আইন তুলে নেয়া তো প্রশাসন মেনে নিতে পারছেনা। তাই শুরু হলো শকুনের চোখের পরিচয় উদঘাটনের যাত্রা।
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ বইটার জন্য অপেক্ষায় আছি সেই চার বছর ধরে। শকুনের চোখ কে এটা জানার আগ্রহ চার বছরে একটুকুও কমেনি। এখন অবশ্য পাঁচ বছর হয়ে গেছে। বইটা হাতে পাবার পরেও অসুস্থতার জন্য পড়তে পারছিলাম না। অসুস্থতার জন্য তো নাওয়াখাওয়া বাদ যায়নি। তাহলে বই না পড়ে থাকা উচিত না ভেবেই বইটা সকালে উঠেই শুরু করলাম। বইটা আমার শ্বাসকষ্ট অনেকটাই ভুলিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। বইয়ের শেষদিকে একটা খটকা লেগেছিলো। কিন্তু মন বলছিলো না এতো বড় ভুল তো আদি ভাইয়া করবেন না। স��পয়লারের ভয়ে খটকাটা কি বললাম না। আমার মন ঠিক কথাই বলেছে এইজন্য আমি খুবই পরিতৃপ্ত। পরিশেষে "দ্য রিভিউ ম্যান" এর বইয়ের রিভিউ লেখার সাহস করতে পারায় নিজের উপরেও আমি অনেক খুশি।
লেখকের প্রথম বই হলে চমৎকার একটা প্লট সিলেক্ট করেছেন এবং পরিপাটি ভাবে লেখার চেষ্টা করেছেন। তবে শকুনের চোখ কে আগেই আন্দাজ করে ফেলায় মজা অনেকখানি কমে যায়। থ্রিলার পড়ে অভ্যস্ত বলে হয়তো ধরে ফেলতে পারছি। আশাকরি এরপরের বইগুলোতে আরও ভালো লিখবেন এবং পাঠকদের ভালোই ঘোল খাইয়ে ছাড়বেন। প্রচ্ছদটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
Having 192 pages and a beautiful cover, portraying thriller story in the context of our country and written by Masum Ahmed Adi is শকুনের চোখ (Vulture's Eye). The naming of the book is quite interesting, literally and figuratively. The author at the same time shows the reversal of the coin with equal importance where the decay of morality in every sphere of society. While reading, it may seem that vulture's eyes have appeared in society to deprive corrupted people's sleep at night. And it's wrong to think so. Because there are big surprises hidden inside the surprises. The game is about brain to brain fight.
The current home minister of the ruling party and his business friend have been killed! As to the cause of the murder next to their bodies, all the misdeeds committed during their lifetime have been left in written form with evidence. Who is this infinitely brave person behind the murder? Dhanmondi Police Station's OC Shawkat Ahmed has been given the responsibility of investigating the murder. The first thing Shawkat Ahmed realizes in the investigation is that the killer, whatever it is, is quite aware of his own work and he knows how to do it. And the proof that he is a murderer at work can be found only by looking at this murder. Due to which he is not getting any clue about the murder mystery.
Meanwhile, the underworld has also become a big mess. Notorious criminals are united but cannot stop this unseen terror. The 'vulture's eye' is also pulling out the dead person. Once someone is noticed, there is no protection! Meanwhile, when there is a lot of excitement about vulture eyes all over the country, someone is trying to take advantage of the name by breaking the name. Investigator Shawkat, on the other hand, is now completely lost in the activity of the vulture's eyes on both truth and falsehood. Will Shawkat find the true, beautiful way to solve this mystery at all?
মাসুম আহমেদ আদির রিভিউ এর সাথে পরিচয় দীর্ঘদিনের। তাই তার বই পরার ইচ্ছেও ছিল প্রথম থেকেই। কিন্তু পরীক্ষার কারণে পড়তে দেরি হয়ে গেল।
তবে বইয়ের প্রথম ৪০/৫০ পৃষ্ঠা পড়ে ম্নে হয়েছিল খুবই সাধারণ কিছু। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে এরপরই কাহিনী আমকে টানতে শুরু করেছে। তবে শেষের দিকে এসে মনে হয়েছে আবার খেই হারিয়ে ফেলেছে।
শেষের টুইস্ট যদিও আহামরি কিছু ছিল না তবুও এর চাইতে আর বেশি কিছু আশা করেছিলাম। ভবিষ্যতে তার থেকে আরো ভালো কিছুর আশায় থাকব।
নিরীহ মানুষ যখন খু*ন হয় তখন আমাদের অনেক খারাপ লাগে। কিন্তু যখন কোন ক্রি*মি*নালরা খু*ন হয় তখন কিন্তু আমাদের খারাপ লাগে না বরং আনন্দই হয় ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে করে খু*নিকে।
ঠিক এই কাজটাই করেছে 'শকুনের চোখ'। নির্দোষ কোনো মানুষকে খু*ন করার বদলে খু*ন করেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের বড় বড় সব অপরাধীদের। সাথে ফেলে রেখে গেছে তাদের সকল কুকর্মের প্রমাণ। এই 'শকুনের চোখ'কে কেউ দেখতে পায় না কিন্তু কোন অপরাধীই বাঁচতে পারে না তার চোখ থেকে। তাই পেটমোটা সব ক্রিমিনালদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আর ওদিকে ঘুম হারাম হয়ে গেছে পুলিশেরও। যতই হোক লোকটা ভালো কাজ করছে মানে অপরাধীদের উচিত শাস্তি দিচ্ছে। কিন্তু আইন তো নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না। প্রশ্ন হলো কে এই শকুনের চোখ? সকলের চোখে এড়িয়ে কিভাবে করছে এত সব কিছু?
এখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে চলে যেতে হবে বইয়ের শেষ পর্যন্ত। আর এই উত্তর না পেলে আপনার বইটা রেখে উঠতেও ইচ্ছে করবেনা। এই যেমন আমিও উঠতে পারিনি পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও। বইটার মেইন ক্যারেক্টার ছিল এই 'শকুনের চোখ' আর আশপাশ ঘিরে ছিল কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ক্যারেক্টার যেমন, ওসি শওকত আলী, ডিবি অফিসার কুশল। এছাড়াও আইন প্রতিমন্ত্রী নকিব খান। প্রত্যেকবারই শকুনের চোখ পালিয়ে যায় পুলিশের হাত থেকে। কোনো ক্লুও ছেড়ে যায় না যে পুলিশ কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারে। খুনি কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স এক্সপার্ট। এজন্য খুন করতে সরাসরি আসতেও হয় না। দূর থেকে সিস্টেম অপারেটের মাধ্যমেই করতে পারে। তারপর এই শকুনের চোখ থেকে আশেপাশে আরো অনেক ডালপালা ছড়িয়ে যায় তবু ওকে ধরা যায় না। এভাবেই চোর পুলিশ খেলতে খেলতে অনেক গলি-ঘুপচি ঘুরে শেষে জানতে পারা যায় আসল রহস্য। শকুনের চোখ কিন্তু কোনো নিন্দে কুড়ায় না বরং সকলের কাছে একটা ব্র্যান্ড হয়ে দাঁড়ায়। ইভেন আমিও শকুনের চোখকে পুরোটা সময় সাপোর্ট করছিলাম। মনে মনে বলছিলাম শকুনের চোখ যেন কোনো ভাবেই ধরা না পড়ে।
আচ্ছা বইটাকে যদি তিনটা ভাগে ভাগ করা যায় তাহলে প্রথম পার্টটা ছিল একটু বোরিং। কারণ একটার পর একটা খুনই শুধু হয়ে যাচ্ছে পুলিশ খালি বসেই আছে। দিনের পর দিন চলে যাইতেছে কিছু করতে পারতেছে না। এইজন্য পুলিশের ওপর বিরক্ত হয়ে বইটা ৩০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়ে ফেলে রাখছিলাম কয়েকদিন। তারপর একদিন আবার শুরু করলাম এবারে ৪০ পৃষ্ঠা না যেতেই খেলা আস্তে আস্তে জমে উঠছিলো। তারপর শেষ দিকে তো আমাকে টেনে উঠানো যাচ্ছিল না বই থেকে। আর একটা জিনিস ভালো লাগছে যে আদি ভাইয়া খুব বেশি তাড়াহুড়া করেন নাই। আস্তে আস্তে এক একটা টুইস্ট দিছেন এইজন্য হজম করতে সুবিধা হইছে। বিশেষ করে লাস্টের কিছু আগে ওই হিপনোটাইজেশন এর পার্টটা বেশি জোস লাগছে। সবমিলিয়ে গল্প এগোনো, চরিত্রের বিল্ডাআপ, প্লট ভালোই ছিল সবকিছু।
এবার আসি প্রোডাকশনের কথায়। চিরকুটের প্রোডাকশন তো এমনিতেই টপনচ। তার সাথে প্রচ্ছদটাও দারুণ ছিল। বানান ভুলজনিত কোন সমস্যা চোখে পড়েনি। তবে 'পুলিশ' বানানটা নিয়ে একটু আপত্তি আছে। এখানে 'পুলিশ'কে 'পুলিস'লেখা হয়েছে। যদিও বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে ইংরেজি শব্দে 'স' লিখাটই শুদ্ধ। কিন্তু তাও এতদিন 'পুলিশ' পড়ে আসায় এটা দেখতে একটু চোখে লাগছিল। তবে অনেকক্ষণ পড়ার পরে সয়ে গিয়েছিল অনেকটা। এছাড়া সবকিছু ঠিকঠাক।