'গুচ্ছ অ্যাপার্টমেন্টের এই শহরে একজনের শোবার ঘরের সঙ্গে আরেকজনের বারান্দা, নইলে একজনের রান্নাঘরের সঙ্গে আরেকজনের বাথরুম ধাক্কা খাচ্ছে। রান্নাঘরের সঙ্গে ওপাশের বারান্দা। রান্না করতে গেলে ও-বাড়ির নতুন বউয়ের ব্রা আর সদ্য বিবাহিত পুরুষের লাল, নীল জাঙ্গিয়া দেখে ডালে ফোড়ন দিতে হয়।'
মৃত অ্যালবাট্রস চোখ গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো আমাদের যাপিত জীবনের। শেষ পর্যন্ত মানুষের সম্পর্কের আখ্যান। প্রতিটি গল্পই প্রেম, গ্লানি, বিরহ, বেদনা, ঈর্ষা, ঘৃণা, মায়া, মোহ ও উন্মাদনায় পরিপূর্ণ। অতি-সমসাময়িক বিষয়ের সুতোয় বোনা। কথন-বর্ণনায় জীবনের জটিলতর গলির অন্ধকারে পড়ে থাকা সামান্য গল্পও এখানে প্রকাশিত হয়েছে অসামান্য সহজ গদ্যে। ঝরঝরে ভাষায় লেখা এই সব গল্প পাঠককে টেনে নেবে, আবিষ্ট করে রাখবে। কিছু গল্পের টুইস্ট হয়তো ভাবাবে। কিছু গল্প তাড়িয়ে বেড়াবে দীর্ঘদিন। পাঠক, চেনা জীবনের অচেনা ভুবনে, মৃত অ্যালবাট্রস চোখএর গভীরে আপনাকে স্বাগতম।
খুব খুব ভালো লেগেছে! ভাবিনি এতো ভালো হবে কারণ প্রায় কিছুই জানতাম না আগে থেকে বইটা নিয়ে। লেখনী খুব সুন্দর - সাধারণ ভাষায় লেখা কিন্তু কোথাও আবার পোয়েটিক লাগে। কিছু গল্প খুব রিলেটেবল। আশেপাশে দেখা মানুষের আর নিজের গল্পও দেখতে পেয়েছি। আবার কিছু জায়গা ছিল ওয়াইল্ডলি আনপ্রেডিক্টেবল।
ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, আস্তে আস্তে ভালো লাগা বাড়তে থাকে। প্রথম গল্পটা ভালো। পরেরটা আরেকটু বেশি ভালো। তিন নম্বরটা আরো একটু! বোঝাতে পারলাম কি, বইটা যে আমার খুব পছন্দ হয়েছে? মা আর রাঙা আর রাইয়ানকে পড়ানোর কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি! (সূচনাকে জোর করে একটা গল্প পড়ালাম! ওর-ও ভালো লেগেছে!)
পাতা উল্টেই বুজতে পারি ভীষণ যত্ন নিয়ে করা বইটা। গল্পের ভেতরেও সেই টাচটা স্পষ্ট। ছোটগল্প নিয়ে পাঠপ্রতিক্রিয়া লেখার ব্যাপারটা আমি অত পারিনা। তবুও আলাদা করে কোন গল্প কেমন লেগেছে বলি।
মৃত অ্যালবাট্রস চোখঃ বোহেমিয়ান টোনের এই গল্পটা ভীষণ স্ট্রাইক করেছে। ভাবিনি এমন হবে। তরতরিয়ে পড়ে ফেলেছি। টুইস্টটা বুঝতেই পারিনি!
বাজিঃ গায়ে কাটা দিয়েছিল শেষটায়। অথচ খেলাচ্ছলে বেশ হালকা মুডে শুরু হয়েছিল।
হ্যাভ আ ব্রেকঃ এই গল্পের দুই চরিত্রকে এমনভাবে আঁকা হয়েছে মনে হবে একজন প্রোটাগনিস্ট, অপরজন এন্টাগনিস্ট। নরমাল সেন্সে 'প্রোটাগনিস্ট-ই সদা সঠিক' আপ্ত ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লেখক এমনভাবে দুজনের জীবনচিত্র দেখিয়েছেন যে দুজনের কারো সাথেই পুরোপুরি একমত পোষণ করা সম্ভব না! শেষ লাইনটা ভীষণভাবে হিট করে!
ওপাশে কেউঃ গল্পটা ক্লিশে। এতেই দমে যাবেন না! ক্লিশে এই গল্পটাই প্রচন্ড ভাবাবে। নির্লজ্জ্বভাবে একাকীত্বের ব্যাপারটা মনে করিয়ে দিবে। আরও কিছু বলতে গেলে স্পয়লার দেয়া হবে। অথচ আরও কত কথা বলার ছিল!
হ্যাপি ইনডিপেনডেন্স ডেঃ অনুভূতি পাল্টে যাওয়ার ব্যাপারটা বিশ্বাস করি বলেই জিসানের পাল্টে যাওয়া অনুভূতির সাথে ঠিক একমত হতে পারলাম না! তবে গল্পটা বেশ ছিল।
কৃষ্ণপক্ষ অথবা আরেকটি অপেক্ষাঃ সুন্দর, সাবলীল, আর করুণ।
অসমতলঃ এই গল্পটা অদ্ভুত! এমন হয় নাকি কখনো?!
আমার প্রেমিকেরাঃ এমন এবিউজিং রিলেশনে না থাকাই উত্তম।
মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়াঃ অত দাগ কাটেনি।
শাড়িটা স্টক আউটঃ আহা, এমন কেন শেষটা! দুমড়ে দেয় একদম!
মোটামুটি আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে বইটা পড়েছি।প্রত্যাশার কিয়দংশ পূরণ হয়েছে মাত্র।গল্পগুলোর বিষয়বস্তু ভালো কিন্তু অতিনাটকীয়তার আধিক্য এবং ভাব ও ভাষার যথাযথ মেলবন্ধন না ঘটায় পাঠক হিসেবে তৃপ্তি পাইনি।স্বল্প পরিসরে বিশাল বড় বড় কাহিনি রচনা করার ফলে বর্ণনার আধিক্য এসেছে এবং একটানা বর্ণনার কারণে বেশিরভাগ গল্পের উপসংহার জোরালো নয়।বক্তব্য পড়লাম,বুঝলাম কিন্তু হৃদয়ে পৌঁছালো না।এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে "বাজি" আর "আমার প্রেমিকেরা।" বাজি-র সাথে গ্রন্থস্থ অন্যান্য গল্পের ভাবগত কোনো মিল নেই এবং বিদেশি গল্পের ছায়া অনুসরণে রচিত।এ গল্পটা বইতে বেমানান।
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, হুমায়ূন আহমেদের বই পড়া যেদিন ছেড়েছি, সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের সাথে সম্পর্কটাও চুকেবুকে গিয়েছিল সেদিন থেকেই বলা চলে। বেশিরভাগ পড়ি রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ, সর্বোচ্চ শীর্ষেন্দু - আর মনে মনে বলি, বড় ভুল সময়ে জন্ম নিয়েছ হে মন, একবিংশ শতাব্দীর বদলে উনবিংশ কিংবা বিংশ শতাব্দীতে জন্মালে মন্দ হত না।
এক বছর আগে মেদহীন, ঝরঝরে, ছোট্ট এই বইটা হাতে নিয়ে ধারণাটা বদলে গিয়েছিল আমার। এখন যে আমি দু'একটা নতুন বাংলা বই পড়ি, তার পেছনে সম্পূর্ণ অবদান আমার প্রিয় বন্ধুর দেয়া প্রিয় এই বইটার।
"মৃত অ্যালবাট্রস চোখ"। নামটাই কী অদ্ভুত সুন্দর!ততটাই সুন্দর এর নাম গল্পটা। ফাতেমা আবেদীনের অত্যন্ত সহজ সরল গদ্যে সৌভাগ্যের প্রতীক অ্যালবাট্রসের মরণই ভবিতব্য, সুবাসিনীর মায়ের আর নেওয়া হয়না ব্রেক, কৃষ্ণপক্ষের বূলে কপালে জোটে আরেকটি অপেক্ষা। "মিথিলাদের পাশে মিথ্যাগুলো দশ পিঁপড়া থেকে হাজার পিঁপড়া হয়ে ক্রমাগত ঘুরে বেড়ায়, শুধুই ঘুরে বেড়ায়.....। "
তবে দুটি গল্প আমায় অসম্ভব নাড়া দিয়েছে। "হ্যাপি ইনডিপেনডেন্স ডে" এবং "অসমতল"। বারবার জিজ্ঞেস করেছি নিজেকে, জিসানের স্থানে আমি থাকলে কী করতাম? কিংবা অতন্দ্রের স্থলে থাকলে? সদুত্তর খুঁজে পাইনি আজও।
ছোটগল্পের যে বিষয়ের প্রেমে পড়েছিলাম বনফুলের "নিমগাছ" পড়ে, তার ছায়া খুঁজে পেয়েছি এ গল্পগুলোতেও। গল্পগুলোতে লেখক যতটা লিখেছেন, তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে তিনি যতটা লেখেননি। সাধারণ লেখনীতে জীবনের অতি সাধারণ বিষয় হয়ে উঠছে অসাধারণ।
গল্পকে সহজভাবে উপস্থাপন করার একটা আলাদা আমেজ আছে পুরো বইটিতে। অনেক বেশি অতলে যাওয়ার কিছু নেই, বহুকিছু চিন্তা কিংবা স্পর্শ করারও কিছু নেই। তবে... তবুও দৈনন্দিন জীবনের নানা কথা, চরিত্র, সরলরৈখিক ভাবে উঠে আসবে; যা পড়তে যে কোনো পাঠকের হয়তো মন্দ লাগবে না।
[ If you're reading this on goodreads, I think there's enough reviews for you. Mine won't make an exception. ]
- বইটার প্রথম দুটা গল্প পড়ে ডিএনএফ করেছিলাম, আর কেনার জন্য আক্ষেপ জন্মেছিল। - মাস ছয়েক পর আবার পড়তে নিয়ে অবাক হলাম, দারুণ লাগছ�� তো! আগেরবারের গল্প দুটোও ভাল ছিল, কেন রেখে দিলাম? - আরো তিনটা গল্প পড়ে দেখতে পেলাম আর এগোনোর আগ্রহ পাচ্ছি না। তার কারণ, গল্পেও ধরে রাখার মতো কিছু নেই, সংলাপ নির্মাণ অথবা লেখনিতেও কেবল লেখিকা/কথক-কে পাচ্ছি, চরিত্ররা জীবন্ত নয়।
এখানে এসে বইটা সম্বন্ধে কেবল দু'টা কথা বলব। লেখিকার ভাষা অত্যন্ত সুন্দর, কাব্যিক, পড়তে (অথবা শুনতে) গেলে ভাল্লাগে। কিন্তু একটানা বেশিক্ষণ নেওয়া যায় না। একান্ত আমার মনে হওয়া। দিতীয়ত, চরিত্রদের গল্প লেখিকা নিজেই বলে গেছেন বেশিরভাগ সময়ে, কিন্তু সংলাপ নির্মাণে লেখিকার চেষ্টা দেখিনি। গল্পে যে সংলাপ থাকতেই হবে অথবা চরিত্রদের গল্প তাদের নিজেদেরই বলতে হবে, এমনটা মোটেও বলছি না। বরং, লেখিকা যেভাবে বর্ণনা করেছেন ঘটনাপ্রবাহগুলো, সেখানে গল্পের আবহ প্রাণ পেতে বরং চরিত্রদের আরেকটু ফুটে ওঠা দরকার ছিল। আমার মনে হয়নি সেটা ঘটেছে।
এই বই দিতীয়বার হাতে নেওয়ার আগের কয়েকদিন গোগ্রাসে কিছু ছোটগল্পের বই পড়ে ভেবেছিলাম, এবারেও পারব। আপনারা এটা করতে যাবেন না। যদি মাঝেমধ্যে একেকটা গল্প পড়েন (দশটা গল্পের প্রতিটাই ব্যাপ্তিতে ছোট-ই), সম্ভবত আমার মতো অভিজ্ঞতা আপনাদের হবে না। বরং মাস ছয়েক পর বইটা আবার হাতে নিয়ে যেরকম অভিভূত হয়েছিলাম, তেমন আবেশ আপনাদেরও থেকে যাবে। গল্পগুলো এমনিতে বেশ relieving.
ফাতেমা আবেদীনকে আমি একজন সাংবাদিক এবং রান্নার মানুষ হিসেবেই চিনতাম। সুপার শেফ ২০১৬ তে যখন তৃতীয় স্থান অধিকার করলেন তখন তার সম্পর্কে জানতে পারলাম। বিচ্ছিন্ন ভাবে আগে তার কিছু লেখাও পড়া হয়েছে পত্রিকায়। তবে লেখক ফাতেমা আবেদীনকে নতুন করে জানলাম যখন ২০২০ সালে তার গল্পগ্রন্থ মৃত অ্যালবাট্রসের চোখ প্রকাশিত হয়। ছোট গল্প নেহায়েত কম পড়া হয় বলে বইখানিকে তখন খুব একটা পাত্তা দেইনি। তবে এই বইয়ের ব্যাপারে আগ্রহ জন্মে যখন এই বইটির জন্য নবীন ক্যাটাগরিতে এক্সিম ব্যাংক অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরষ্কার পান ফাতেমা আবেদীন। বাতিঘরে বিচ্ছিন্ন ভাবে কয়েকবারই বই কিনতে গিয়ে এই বইখানাও খুঁজেছি কিন্তু পাইনি কোন বারই। এবারের বই মেলায় বাতিঘরের স্টলে বইটা দেখেই লুফে নিয়েছি।
দশটি গল্পের সংকলন নিয়ে এই বই। ঝরঝরে সুন্দর লেখনীর এই বইয়ের গল্পগুলোতে পাঠক খুঁজে পাবেন জীবনের নানা রূপরেখা। প্রেম - বিরহ - বেদনা - আক্ষেপ - মায়া - ঘৃণা সব কিছুর মিশেলে অসাধারণ সব গল্প।
প্রিয় বইয়ের তালিকায় এই বইটিও যুক্ত হল। সেই সাথে আমার প্রিয় লেখকের তালিকায়ও তালিকাভুক্ত করে নিয়েছি ফাতেমা আবেদীনকে। সামনে লেখিকার নতুন বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
আমার মতে ছোটগল্পের চেয়ে ডাইভার্স সেকশন সাহিত্যে নাই! আগে একটা নাক সিঁটকানো ভাব ছিলো ছোটগল্প পড়া হলো সময় নষ্ট। ডিটেইলিং নাই, কাহিনীর গভীরতা নাই, তেলতেলে রোমান্টিক সব গল্প খালি। কিন্তু দিনকে দিন ভুলটা ভাঙছে! প্রসঙ্গটা এলো একটা অসাধারণ বইকে ঘিরে। বইয়ের নাম 'মৃত অ্যালবাট্রস চোখ'। বইটার খবর আমি প্রথম পাই গতবছর আমাদের ডাক্তার আপা হিমি আপুর বই কেনার লিস্টি থেকে। থ্যাংকস টু আপু। বইয়ের নাম শুনেই মনে হচ্ছিলো ইন্টারেস্টিং কিছু হবে। বইমেলা থেকে কেনা হয়নি সেবার বাজেট শেষ হয়ে গিয়েছিল দেখে। ইন্সটাগ্রাম পাড়ায় বইটার অনেক নামডাক দেখেছি ইদানীং। তবে 'যাহা রটে এই ক্ষেত্রে কিন্তুক তাহাই বটে!' ১০টা গল্প দিয়ে লেখিকা ফাতেমা আবেদীন আমার ছোটগল্পের প্রতি ভালোলাগার একটা ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট তৈরি করে দিলেন। প্রায় সব গুলো গল্পেই সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম সামাজিক, পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন লেখিকা। চারিত্রিক পরিবর্তন গুলো ছিলো চোখে পরবার মতো। যে কারণে পৃথক করা যাচ্ছিলো প্রতিটি কাহিনীর ফ্লো, খুব সহজেই। কয়েকটা গল্প বেশি ভালো লেগেছে, তবে সেগুলার নাম আলাদা করে তুলতে চাচ্ছিনা। বেশি ভালো লেগেছে দেখে স্তুতিবাক্যের তোড়ণে হয়তো কোনো নেগেটিভ ব্যাপার চাপা পড়ে যেতে পারে। তবে সেটা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাচ্ছিনা আপাতত। অনেক দিন যদি কোনো বই মনে রাখানোর ক্যাপাবিলিটি রাখে, আমি সেটাকে মাথায় তুলে রাখতে দ্বিধা করিনা।
যদিও অপ্রাসঙ্গিক, তবু গল্পগুলোর শিরোনাম গুলো আমি তুলে ধরতে চাই, কারণ নামগুলোও ইন্টারেস্টিং -- মৃত অ্যালবাট্রস চোখ, বাজি, হ্যাভ আ ব্রেক, ওপাশে কেউ, হ্যাপি ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে, কৃষ্ণপক্ষ অথবা আরেকটি অপেক্ষা, অসমতল, আমার প্রেমিকেরা, মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া, শাড়িটা স্টক আউট। আমি ছোটগল্পের বই সাজেশনের তালিকা করলে এটা এখন থেকে প্রথম দিকেই রাখছি। পড়বেন, রেকোমেন্ডেড কিন্তু!!
[আপনার পছন্দের ছোটগল্পের বই আমাকে সাজেস্ট করতে পারেন! খুব খুশি হবো।]
কোন রিভিউ বা recommendation ছাড়াই নতুন লেখকের বই পড়তে ভয় লাগে রীতিমতো আমার। মনে হয় এমনিতেই সারাদিনের ব্যস্ততায় বই পড়ার সময় ই পাইনা, সেখানে হুটহাট কিছু একটা পড়ে ফেলে সময় নষ্টের কোন মানে দেখিনা কারন আমার এখনো অজস্র অজস্র ভালো বই পড়া বাকী। এই বইটা সিমিন এর ইন্সটা থেকে দেখে কি মনে করে অর্ডার করছিলাম বাতিঘর থেকে। বইয়ের নামটা কি সুন্দর। আর কাভারটাও অসাধারণ। সেটা কথা না, কথা হচ্ছে উনার লেখা! আমার বরাবর ই ছোট গল্প পড়তে ভালো লাগে। প্রতিদিন অফিস যাওয়ার পথে একটা করে গল্প পড়তাম। সত্যি কথা বলতে আমি ভাবি ই নাই গল্পগুলো এত ভালো হবে। কারন আমি উনার লেখা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না প্রায়। প্রতিটা গল্প এত সহজ ভাবে লেখা কিন্তু পড়লেই কি অদ্ভুত একটা ভালোলাগা কাজ করে। এক একটা গল্প শেষ হওয়ার পর কিছুক্ষণ মনে হয় কি একটা ঘোরের মাঝে আছি! এই বইটা এত্ত সুন্দর এত্ত শান্তি। কেউ চাইলে চোখ বন্ধ করে পড়ে ফেলতে পারেন।
১. বইয়ের প্রতিটি গল্পই আধুনিক এবং গল্পগুলো আমাদের বর্তমান সময়ের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, দ্বন্দ্ব, ছোট ছোট আশা-নিরাশার কথা শোনায় নতুন করে।
২. সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে 'হ্যাভ আ ব্রেক' গল্পটি। দুজন মানুষের একই রকম জীবন কিন্তু দুই জনের দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক আমাদেরকে ভাবাবে, নতুন করেই ভাবতে শেখাবে জীবনের মানেটা কে।
৩. 'মৃত অ্যালবাট্রসের চোখ' গল্পটি মানুষের শিকড়কে ভুলতে মানা করে। 'বাজি' গল্পটি লোভ ও দুঃসময়ের অভাব অনটনে অতিপ্রাকৃত ঘটনার শিকারে পরিণত মানুষের কথা বলে। 'ওপাশে কেউ' গল্পটির কাছে গিয়ে শুনতে পাই আধুনিক কর্মব্যস্ততার আড়ালে কিভাবে আমরা অসহায় নিঃসঙ্গতায় ভুগে প্রযুক্তির হাতের ক্রীড়ানকে পরিণত হচ্ছি। 'হ্যাপি ইনডিপেনডেন্স ডে' গল্প একটি মানুষের সরল ভাষায় একটি দুবো���্ধ্য মনের কথা বলে।
৪. সর্বপরি বলব বইটিতে আছে নতুনত্বের ছোঁয়া। বাতিঘর প্রকাশনীর এই বইতে বানান ভুল খুবই কমই ছিল যা খুবই ভালো লাগার মত ব্যাপার।
৫. বইয়ের শেষ গল্পের মত 'শাড়িটা স্টক আউট' হতে পারে কিন্তু গল্পগুলোর কথা মন থেকে সহজে আউট হবে না।
"মৃত অ্যালবাট্রস" চোখ গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো আমাদের যাপিত জীবনের। শেষ পর্যন্ত মানুষের সম্পর্কের আখ্যান। প্রতিটি গল্পই প্রেম, গ্লানি, বিরহ, বেদনা, ঈর্ষা, ঘৃণা, মায়া, মোহ ও উন্মাদনায় পরিপূর্ণ। অতি-সমসাময়িক বিষয়ের সুতোয় বোনা। কথন-বর্ণনায় জীবনের জটিলতর গলির অন্ধকারে পড়ে থাকা সামান্য গল্পও এখানে প্রকাশিত হয়েছে অসামান্য সহজ গদ্যে। ঝরঝরে ভাষায় লেখা এই সব গল্প পাঠককে টেনে নেবে, আবিষ্ট করে রাখবে। কিছু গল্পের টুইস্ট হয়তো ভাবাবে। কিছু গল্প তাড়িয়ে বেড়াবে দীর্ঘদিন।
বইটি নিয়ে আমি নিজে কিছু লেখার আগে এখানে তুলে দিয়েছি ফ্ল্যাপের কিছু লেখা। যা কিছুই আমি এই বই নিয়ে বলতে চাচ্ছি সেই সবকিছুই ফ্ল্যাপের এইটুকুনের মধ্যে আছে।
"ঝরঝরে ভাষায় লেখা এই সব গল্প পাঠককে টেনে নেবে, আবিষ্ট করে রাখবে"। ঠিক তাই। বইটা পড়তে নিয়েছি পরশু। শেষ করলাম একটু আগে। ছোট্ট একটা বই৷ তাতে কয়েকটা ছোট গল্প। কিন্তু সময় নিলাম খুব। জীবনের জটিলতর গলির অন্ধকারে পড়ে থাকা অসামান্য সহজ গদ্যের সামান্য গল্প গুলো যাতে খুব তাড়াতাড়ি শেষ না হয় তাই এতোটা সময় নিয়ে পড়া। কাল রাতে কিছুদূর পড়ে আমি ওয়ারড্রব এর গোছালো অগোছালো সব জামা-কাপড় ভাজ করতে নিলাম। শাড়িগুলো যখন ভাজ করছিলাম তখন ও একবার মনে হলো বইটা এবার শেষ করি। এরপর লিখে ফেলি কিছু কথা৷ "কিছু গল্প তাড়িয়ে বেড়াবে দীর্ঘদিন" - তখনও মাথায় এই লাইনটাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো। কিন্তু তাও বই শেষ করতে করতে আজকের দিনটা এসে পড়লো। দীর্ঘদিন বলতে কি বোঝায়? কিছু ভাবনা এমন আছে যা নিয়ে একটু ভাবলেও মনে হয় দীর্ঘদিন ভাবছি। মনে হয় যেনো চেনা সব গল্প অচেনা সুতোয় বোনা কিংবা অচেনা সব গল্প চেনা জানা সুই সুতোয় বোনা। কিছু গল্প মনে হয় হাত দিয়ে ছুঁতে পারা যায়। আর কিছু গল্পকে ছুঁতে গিয়েও ছোঁয়া যায় না। কি এক অদ্ভুত ব্যাপার।
প্রতিটি গল্প নিয়েই আলাদা আলাদা কিছু বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আলাদা করে বলার মতো আলাদা আলাদা ভাষা ও শব্দের ও তো দরকার আছে। আমি তো এতো অসামান্য সহজ গদ্যে বলতে পারিনা। বলতে গেলে যা বলা হবে তা সবকিছু হবে কঠিন। আমি কিছুই লেখিনি, তাও বিশাল এক লেখা হয়ে গেলো। বইটা মুগ্ধ হয়ে পড়া হলো। শেষ গল্পটা পড়তে গিয়ে মনে হলো এর পর তো আর কোনো গল্প নেই। শেষ তবুও যেনো শেষ নয়। অবশেষে "মৃত অ্যালবাট্রস চোখ" একটা ভালো বই। লেখককে ধন্যবাদ।❤️
ছোটগল্পের প্রতি আলাদা একটা মায়া কাজ করে।আর বাড়িয়ে বলছি-এই বইয়ের সবকটি গল্পই ভালো।পড়লে মনে হবে এ গল্প আমার তোমার খুব চেনা,জানা। শুধু তাদের শব্দের রূপ এখন পড়ে নিচ্ছো। গল্পগুলোর রচনাকাল দেখলাম ২০১১-২০২০। তার মানে অনেক দিনের জমানো ১০টি গল্প।তাই বোধহয় সব কটি এত্তো সুন্দর। *মৃত অ্যালবাট্রস চোখঃ শুরুতেই ধাক্কা খাবেন বইয়ের। গল্পটা শেষ হলে এক ধরনের বিষন্নতা ভর করবে,সেটি কাঠানোর উপায় আমার জানা নেই। *বাজিঃবিদেশি এক গল্পের ছায়া অবলম্বন করে লেখা এই গল্প। অবাক হবেন এইটা নিশ্চিত। *হ্যাভ আ ব্রেকঃ Read the story, and have a break, and give a break. *হ্যাপি ইনডিপেনডেন্স ডেঃভেবে পায়নি এই গল্প জিয়ে কী ভাবা উঠিত!অনুভূতিগুলোই ভোঁতা হয়ে গিয়েছিলো। *কৃষ্ণপক্ষ অথবা কয়েকটি অপেক্ষাঃ এ গল্পখানা ধুম করে শেষ হয়ে যায়। মনে হাহাকার সৃষ্টি করে হঠাৎ শেষ! *অসমতলঃহাসি পেয়েছে আবার কষ্টও লেগেছে এইখানা পড়ে। *আমার প্রেমিকেরাঃছোট্ট গল্প অথচ কতো যুগের কাহিনির কথা-ই যেনো বলেছে!নিগূঢ় দুঃখ মেশানো এই খানা। *মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়াঃএটা তেমন দাগ কাটেনি মনে।তবে পড়তে ভালোই লাগবে। *শাড়ীটা স্টক আউটঃএইটা পড়ে দেখবে।অবশ্যই পড়ে দেখবে🖤
বইখানা যে প্রচুর যত্ন নিয়ে লেখা তা পড়লেই বোঝা যাবে।
প্রথম দুটো গল্প বেশ ভাল। দ্বিতীয় গল্পের টুইস্টটা মারাত্বক। তৃতীয় গল্পটি যেভাবে সাজিয়েছেন লেখিকা, সেটাও বেশ ভাল লাগলো। বাকি সবগুলো গল্পের কয়েকটি তেমন জমলো না। কিছু কিছু জায়গায় বেশ বিরক্ত ও হচ্ছিলাম! তবে সব মিলিয়ে বইটা মোটামুটি ভাল লেগেছে। লেখিকার ভাষা সাবলীল, সহজ।
গল্প দাড় করিয়ে শেষমেশ একটা প্যাচ-ধাক্কার পর ধাক্কা । ১০টি গল্পের ৮টিরই নীল নকশা । তবে সমাজে নারীরা তাদের নিজের জীবনকে কীভাবে দেখেন, তাদের জীবনের ঘাত প্রতিঘাতের দিকে নারীর নিজের দৃষ্টি ভঙ্গী কেমন তা ছড়িয়ে আছে গল্প গুলোয় । নারীর জীবনের অন্দরমহল বা তার মনস্তত্ত্বের শুলুক সন্ধানে বাংলাদেশের সৃজনশীল সমাজে একধনের উদাসীনতা দেখা যায় । একধরনের পুরুষতান্ত্রিক ইগো কাজ করে । নারীর যৌন জীবন বা লাভ লাইফিয়ের ব্যাপারগুলো অচ্ছুতের মত এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা প্রকট । একজন নারী সামজিক দৃষ্টিকোণ থেকে কত বিচিত্র-বিভিন্ন মাত্রায় জীবনযাপন করেন তা আমাদের শুধু সাহিত্য কেন প্রায় সব রকমের শিল্প মাধ্যমে তার বিন্দুমাত্র অন্বেষণও অনুপস্থিত । সেই দশ হাজার বছর আগের কৃষিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত নারীকে সামস্টিক অর্থে দেশ-সমাজ নির্বিশেষে অবজেক্টিফাই করা হয়েছে, করা হচ্ছে- বাংলাদেশে বিশ্বায়নের যত প্রভাব পড়ুক নারীর জন্য জীবন এখনো বহুলাংশে অন্যের সত্ত্বাধীন । নারী-পুরুষের একটা বাইনারি অপজিশন তৈরি হয়ে আছে । একদিক খারাপ একদিক ভাল এই অর্থে । কিন্তু ব্যপারটা খুব জটিল । পুরুষতন্ত্র কোন ব্যক্তিগত মানসিক অবস্থা না । বরং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী । এই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর আওতায় নারী-পুরুষ উয়য়েই পড়ে । নারী-পুরুষ এখানে জেন্ডার অর্থে । কারণ এমন মানসিক অবস্থায় যেকেউ আক্রান্ত হতে পারেন । আসলে অবদমনের শিকার হয় নারীসত্তা বা ফেমিনিন । যেটা জেন্ডারে সীমাবদ্ধ না । বাংলাদেশের অবস্থা এখনো ভয়ঙ্কর । তবে এসব আলোচনা শুরু করার সময় এসে গেছে । কারণ মানুষের একটি প্রবৃত্তিই হলো ফেমিনিনকে অবদমিত করা । গল্পগুলোয় নারী-পুরুষের বাইনারি অপজিশনের অবস্থান প্রকট । দেশের সার্বিক অবস্থা আমলে নিলে সত্যিকার প্রেক্ষাপটই বটে । তবে অন্তত একটি গল্পে ইঙ্গিতে হলেও চরম পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অন্তত ছোট্ট প্রিভিলেজড অংশের একজন নারী যে বিচিত্রভাবে প্যাসিভ অবস্থান উপভোগ পারেন, প্রতিযোগিতা না করে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় জীবনযাপনের ব্যবস্থা বেছে নিতে পারেন তা শেষ গল্পটায় প্রচ্ছন্নভাবে উঠে এসেছে । বাকি গল্পগুলোতে নারীর সসম্মানে টিকে থাকার সংগ্রাম, প্রতিযোগী ছবিতো আছেই । এজন্য লেখিকাকে মোবারকবাদ ।
লাল রঙা কাভারের বইয়ের উপর কেন জানি আমার বেশ ভালো রকমের দুর্বলতা আছে। তার উপরে আবার বইয়ের টাইটেল অন্যরকম সুন্দর। দশটা ছোটগল্পের সমন্বয়ে বইটা, প্রায় সবগুলো গল্পেই টুইস্ট আছে। লেখিকা টুইস্টের মাধ্যমে পাঠককে নাড়া দিতে চেয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে হননি। টাইটেল তথা প্রথম গল্পটার কথাই ধরা যাক। এইটা একটা প্রেমের গল্পো, পদ্নপাতার জলে ভাসতে থাকা দুইটা মানুষের কান্না লুকানোর গল্পো, শেষটা বিষাদময়। আলবাট্রস দিয়ে ছোট খাটো মিথোলজিক্যাল জিনিস টেনে এনেছেন লেখিকা গল্পের তাগিদে। "হ্যাভ এ ব্রেক" ট্রেনে চলা দুইজন মানুষের গল্প প্যারালেলি বলে। এইটা বেশ ভালো লাগছে। সবচে ভাল্লাগছে "হ্যাপি ইনডিপেনডেন্স ডে", এইটা ভালোই নাড়া দেয়। সুইসাইড করতে বসা এক মানুষ আরেকজন মানুষের জীবনের ট্রাজেডি শুনে কিরকম প্রভাবিত হয় সেটার কথাই বর্ণিত হয়েছে। "কৃষ্ণপক্ষ অথবা আরেকটি অপেক্ষা" গল্পটা আরেকটু ভালো হতে পারতো, বিশেষ করে শেষটা। "বাজি" গল্পটার টুইস্ট অবশ্য আগেই ধরে ফেলেছিলাম, এর এন্ডিংটা যুতসহ লাগেনি। সবচে বিরক্ত হইছি "ওপাশে কেউ" পড়ে, এইটার টুইস্ট পেডিক্টেবল তহ্ ছিল আর মনে হচ্ছিলো এইটা তহ্ যে কেউ ধরতে পারবে, কিন্তু গল্পের বলদ চরিত্রটা ক্যান বুঝে নাই প্রথমে।
"অসমতল", "আমার প্রেমিকেরা" এবং "শাড়িটা স্টক আউট" মোটামুটি লেগেছে। "মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া" এইটার শুরুটা বেশ মজার ছিলো, ন্যারেটিভ স্ট্যাইল চেন্জ হয়ে সিরিয়াস রূপ নেবে এইটা ধারণার বাইরে ছিল। এইটার শেষটা দাগ কাটে ভালোই।
মৃত আলবাট্রস চোখে লেখিকা মূলত যাপিত জীবনের টানাপড়েন দেখিয়েছেন। ফ্ল্যাশব্যাকে ব্র্যাক স্টোরি দেখানো কিছু গল্পে এই জাতীয় অন্তর্মিল রয়েছে। ৩.৫/৫ তারকা 🌟 দিলাম।
নামটা খুবই ইন্টারেস্টিং, তাইনা? এর থেকেও বেশি ইন্টারেস্টিং এর ভেতরের গল্পগুলো। Back to Back তিনটা বেশ ভালো ছোটগল্পের বই পড়া হলো সাম্প্রতিক! মাত্র কয়েক পাতার ছোটগল্পে একটা গোটা উপন্যাস থেকেও বেশি ডেপথ থাকতে পারে। পড়ে দেখতে পেলাম এ বইয়ের প্রতিটা গল্পেরই ভালো ডেপথ আছে।
বইটা খুললে প্রথমেই চোখে পড়বে ‘মৃত অ্যালবাট্রস চোখ' শিরোনামের গল্পটা। ‘হ্যাভ আ ব্রেক’ গল্পটা খুবই ভালো লাগলো। এ গল্পের আড়ালে Ethnocentrism ব্যাপারটার দেখা পেয়েছি বলে মনে হলো। এই টার্মটার একেবারে সহজ মানে হচ্ছে নিজের চিন্তাভাবনা, মতাদর্শই ঠিক। বাকি সব চুলোয় যাক। এরপর 'বাজি' গল্পটাও বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে আমার লেখা একটা গল্পের (একটি কাল্পনিক আত্মহত্যা) সাথে লেখিকার ‘হ্যাপি ইনডিপেনডেন্স ডে' গল্পের কিছুটা কনসেপ্ট মিলে গেছে! দুটো পার পেঁচিয়ে তৈরি একটা সুতার মধ্যে যেন আমাদের ভাবনাগুলো গাঁথা ছিলো! একদম হবুহু না হলেও প্রায় অনেকখানি মিল আছে। একেকটা গল্প একেকরকম কনসেপ্ট বেইজড। পড়তে পড়তে হুকড হয়ে গেছি। একটা মুহূর্তের জন্যও রাখতে ইচ্ছে করছিলো না। মনে হচ্ছিলো শেষ পর্যন্ত পড়েই উঠি একেবারে... রেটিং: ৪.৫/৫
গল্পেরা মৃত নাকি আমরা মৃত৷ সব কিছুই দৃশ্যমান আবার সব কিছুই ঝাপসা। কোন কোন সময় জীবন আর সত্য বিপরীত মুখী হয়। আবার মিথ্যারা সত্য হয়ে ধরা দেয়৷
জীবনের পথে মানুষ তার আমার আমিকেই শুধু খুজে ফেরে। সুখ আর সত্যের সন্ধানে মানুষ ছুটে চলে। অজানা কে জানার যে চেষ্টা কেউ কেউ সেখানে সফল আবার কেউ বা হারিয়ে যায়।
"মৃত এলব্রাটস চোখ" ফাতেমা আবেদীন এর লেখা ছোট গল্পের সংকলন। ছোট গল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা শক্তিকে নাড়া দেয়া৷ আমরা মনে হয় লেখিকা সেখানে কিছুটা হলেও সফল। যদিও আমার ছোট গল্প সম্পর্কে ধারনা কম।
তবে সম্ভবত প্রথম বারের মত বইটির নাম আমাকে আকৃষ্ট করে। এলব্রাটস পাখি সম্পর্কে মোটামুটি সবার ই ফহারণা আছে। কেন জানি নামটা আমাকে বেশ আকর্ষণ করে। তাই বইটি নিয়ে নেয়া৷
এখানে অনেক গুলো ছোট গল্পের সংকল করা হয়েছে। মোট ১০টি গল্প রয়েছে। প্রতিটি গল্পের প্লট এবং জনরা বা ধারা আলাদা। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে প্রতিটি গল্পের শেষ।
শেষটা এমন ভাবেই সাজানো যেন গল্পের কিছু বাকি আছে৷ যা হয়ত পাঠকেই নির্ধারণ করতে হবে। অনেক দিন পর কোন বই শেষ করে ভাল লাগল। বেশ গোছানো লেখা৷ প্রাঞ্জল বাক্যে আর কাহিনীর গভীরতা।
এক বসায় পড়ে ফেলার মত বই। গল্পের ভাষায় শেষ হয়েও যেন শেষ নয়।
আমার কাছে বেশ লেগেছে। অনেক এক্সপেক্টেশন নিয়ে পড়তে বসিনাই, হুইচ হেল্পড। গল্পগুল সুন্দর। আপুর লেখা ভাল, তবে সমস্যা হলো টানা পড়া যায়না। অনেকদিন বাদে বাদে একটা করে গল্প পড়বেন, ভাবাবে, ভাল লাগবে। অনেকগুলরোই শেষটা ভালো লাগে নাই, শুরুটা যতটা টেনেছিলো। কয়েকটা বেশ টুইস্ট দিয়েছে, সমস্যা মনে হয়েছে চরিত্রেরা সব একই ভাবে কথা বলে। মানে মনে হয়েছে, প্রতিটা গল্পে প্রতিটা চরিত্র যে খুব খুব খুব আলাদা, তা না। সবার কথা একজনই বলছে। জানিনা বুঝাতে পারলাম নাকি।
দশটি গল্প নিয়ে একটি বই।প্রতিটা গল্পের প্রেক্ষাপটই ভিন্ন তবে খুব পরিচিত।প্রতিদিনের জীবনের সাথে সহজেই মেলানো যায়,মনে হয় যেনো আমাদের চিন্তাগুলোকেই লেখিকা খুব সুন্দর করে শব্দের কারিগরিতে অসাধারণ করে তুলেছেন।গল্পগুলো শেষ হবার পরেও রেশ থেকে যায়,গল্পের পেছনের গল্পগুলো জানার ইচ্ছা হয়।
৩.৫/৫ আচ্ছা লেখিকাদের বইয়ে কি মূল মোটিভেটিং চরিত্র বেশিরভাগ সময়েই মেয়ে হয়? সেখানে কি লেখিকার ছায়া থাকে? তিনটে গল্প মন কেড়েছে। বাকিগুলো দৈনন্দিন ভালো।লাগার মত। বইটা মনে থাকলে থাকবে প্রথম গল্পের জন্য।
মৃত অ্যালবাট্রাস চোখ গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো আমাদের যাপিত জীবনের। শেষ পর্যন্ত মানুষের সম্পর্কের আখ্যান। প্রতিটি গল্পই প্রেম, গ্লানি,নিরহ,বেদনা,ঈর্ষা,ঘৃণা, মায়া,মোহ,ও উন্মাদনায় পরিপূর্ণ। অতি-সমসায়িক বিষয়ের সুতোয় বোনা।
নাম গল্পটা বাদে বাকিগুলোর কাহিনী তেমন কিছুই মনে ছিল না,প্রথমবারের মতোই ভালো লাগলো পড়ে। বয়স বেড়েছে বলেই হয়তো গল্পগুলোকে এবারে আরেকটু ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারলাম। ০১.১২.২০২৫
আমার সাধারণত গল্প সংকলন তেমন একটা পড়া হয় না। এটার বেশ কিছু রিভিউ সামনে পড়ায় বইটা কিনে রেখেছিলাম কয়েক মাস আগে। এর মাঝে কয়েকবার বইটা হাতে তুলে নিলেও কেনো যেন আর পড়া হয় নাই। শেষমেশ কী ভেবে গত পরশু আবার বইটা বের করলাম, পরের দিন পরীক্ষা ছিলো, ভেবেছিলাম একটা গল্প পড়েই পড়তে বসবো.... :3 বলাই বাহুল্য, তা আর হয় নাই! প্রথম গল্পটাই এত্তো ভালো লেগে গেল যে পরেরটায় কী হয়েছে জানার জন্য মন খুশখুশ (!) করছিলো, পরেরটা পড়েও একই অবস্থা, তার পরেরটাও! বইয়ে মোট ১০টা গল্প আছে, ১০টা গল্প ১০ রকমের, এজন্য একটানা পড়ে গেলেও আমার একটুও একঘেয়েমি লাগে নাই। তবে সবগুলো গল্পতেই কেমন যেন একটু বিষণ্নতার ছোঁয়া আছে, পড়ে ভালো লেগেছে খুউউউব!
চমৎকার একটি বই। কোন গল্প পড়ে স্তব্ধ হয়ে যেতে হয়, কোন কোন গল্প চোখে পানি এনে দেয়। গল্পগুলো আমাদের অদ্ভুত বিষাদময় বাস্তবতার সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। প্রতিটা গল্প পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে।