প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর কে নিয়ে এই (উপন্যাস!?) শুরুটা হয়েছে বেশ চমকপ্রদ ভাবে।ফরাসিদের সাথে কামকেলিরত প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন দ্বারকানাথ কে দেখা যায়, যিনি দামি উপহার দিয়ে সমস্ত রমণীদের মন দেহ সব জয় করে নেন। দৃশ্য গুলোর বর্ণনা একটু বেশি ই রসালো বিশেষ করে রাণী ভিক্টোরিয়া কে মনে হয়েছে চটি গল্পের নায়িকা। কিন্তু একটু পরেই গল্পের ন্যারাটিভ চেঞ্জ হয়ে যায়, ইতিহাসের মতো দ্বারকানাথের পূর্ব পুরুষ তথা পুরো ঠাকুর বংশের কাহিনী বর্ণনায় লেখক চলে যান।এবং সেখান থেকে সরাসরি শেষাবধি আর দ্বারকানাথে ফিরে আসা হয়নি।উপন্যাস শেষ হয় রবীন্দ্রনাথ দ্বারকানাথের সমস্ত পাপ আর নোংরামি সংবলিত ফাইল গুলো পুড়িয়ে গঙ্গায় বিসর্জন দেন এই দৃশ্য দিয়ে।
লেখকের মনে হয় ঠাকুর পরিবারের সাথে কোন শত্রুতা আছে।দ্বারকানাথ কে এমনভাবে উপস্থিত করেছেন যে তার প্রতি পাঠকের ঘৃণা আসতে বাধ্য।আর ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলোর বর্ণনা প্রায় চটি গল্পের মতই।এই বই যে বানিজ্যসফল হবে তা আর বলতে হয়না।এবং মজার ব্যাপার হলো লেখক বেশ প্রাউডলি 'বাজারসফল ' কথাটা নিজের বায়ো তে লাগিয়ে রেখেছেন।
কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের দোকানে ঢুঁ দিতে গিয়ে এই বই কেনা। কেনার সময় ভেবেছিলাম থ্রিলার কিছু হবে। তার উপর ফ্লাপে লেখা বেস্ট সেলার। সে যে বিপণন কারসাজি ছাড়া কিছু নয় তা বুঝতে বইয়ের প্রথম ১০ পাতা পড়াই যথেষ্ট। চূড়ান্ত রকমের রেসিস্ট আর জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িকে প্রশ্নবিদ্ধ করাটাই বইয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সেটা বোঝা গেল। লেখার না আছে কোনো তাল না আছে গতি। রগরগে প্রশ্নবিদ্ধ কিছু বর্ণনা দিয়ে পাঠক বাড়াবার কৌশল আছে বেশ। বইটা পড়ে একটা মন্তব্যই করা যায় আর তা হল 'টাকাটাই জলে গেল'।