অদিতি ফান্ধুনীর জন্ম ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪। শৈশব কেটেছে যশাের, বরিশাল, রাঙামাটি, পাবনায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর। একাধিক সংবাদপত্রে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কিছু উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছেন। প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।
প্লট নিয়ে অদিতি ফাল্গুনীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা বরাবর আমাকে মুগ্ধ করে। শক্তিশালী প্লটের দশটি ছোট গল্প নিয়ে ১১৫ পৃষ্ঠার বই 'কমলাক্ষের অকাল বোধন'। ২০১৭ সালে আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত।
প্রথম গল্প 'কমলাক্ষ বাস্কের অকালবোধন'। কমলাক্ষ বাস্কের প্রেম, আন্দোলন, প্রেমিকা শনিচরির জন্য নীল পদ্মের মতো চোখ হারিয়ে ফেলার এই গল্পে সাঁওতাল জীবনাচরণের নিঁখুত বর্ণনা আর বিয়ের গীত গল্পকে বাস্তব করে ফেলে। 'অনন্ত সাধন স্যারের বিজ্ঞান ক্লাস' পড়লে ঘাড়ের কাছটা কেমন শিরশির করে! এই গল্পে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ক্রমশ গিলে খাওয়া ধর্মান্ধতা ভয় পাইয়ে দেয়! সম্প্রতি অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেয়া হয়েছে। তার অপরাধ সাহিত্য বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে যৌনতা বিষয়ে তুলে ধরা! হায়! এখন সাহিত্যকে পর্দা করতে হবে! ডিসটোপিয়ান বাংলাদেশের অন্ধকার সময় কি তবে চলেই এলো?
'কমলাক্ষের অকাল বোধন' বইয়ের প্লটের বৈচিত্র্য মুগ্ধ করে। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টালে কখনো সুন্দরবনের 'বাঘ বেওয়াদের' কান্না শুনতে পাবেন। কখনো হলি আর্টিজানে ফ্লোরিনা নামের সেই গর্ভবতী ইতালিয়ান নারীর শেষ নিঃশ্বাস! "ক্যান ইউ রিসাইট ফ্রম কোরান?" ধর্মরক্ষার নামে আততায়ীদের তাণ্ডব চলে যেখানে!
দাসী মন্থরার বয়ানে অন্যরকম রামায়ণ মনে করিয়ে দেয়, "কবি, তব মনোভূমি রামের জনমস্থান, অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।"
'মহেঞ্জাদারো ১৯৭১' পড়তে অতোটা ভালো লাগেনি। বইয়ের অন্য গল্পগুলোর তুলনায় এই গল্পটিকে আমার কাছে দুর্বল মনে হয়েছে। 'একরাত্রি ২০১৫' পড়ার সময়ে বেশ ভালো লেগেছিল, কিন্তু ঠিক মনে ছাপ ফেলেনি!
আমার কাছে মনে হয়, প্লট গল্পের আত্মা। আত্মায় গভীরতা না থাকলে, গল্প খুব অগভীর গাঁথুনির ওপরে দাঁড়িয়ে থাকে। আর গল্প বলার ঢং হচ্ছে গল্পের শরীর। অদিতি ফাল্গুনির গল্পের প্লট থেকে শুরু করে গল্প বলার ঢং অসাধারণ! 'কমলাক্ষ বাস্কের অকালবোধন' বইয়ের আত্মা ও শরীর আমাকে স্পর্শ করেছে। আনন্দ দিয়েছে।