বইটার খোঁজ পাই নেগেটিভ মার্কেটিং এর সুবাধে। মুক্তমনা নামধারি কতিপয় লোকের লাইভে অনেকক্ষণ ধরে আলাপ দেখি, একটা লম্বা আর্টিকেলও পড়া হয়। অভিযোগ হলো - লেখক নাকি খ্রিস্টান মিশনারিদের থেকে চুরি করে বই লিখেছেন। গুরুতর অভিযোগ বটে। ভাবলাম নিজে যাচাই করে দেখি অভিযোগগুলো, কি-এমন বই যে এর জন্য এত হুলুস্থুল। লকডাউনে বইটা পড়ার পাশাপাশি ইংরেজি বইটাও নেট থেকে উল্টালাম। আমার মনে হয়েছে মূল ইংরেজি বইটা থেকে এই বই গঠনগতভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাশাপাশি যেসব আপাত মিল দেখানো হয় সেগুলো বিবর্তনের টপিক আলোচনায় আসবেই। অবাক করার মত ব্যাপার হলো লেখক বিভিন্ন স্থানে মূল তথ্যসূত্র উল্লেখ করেছেন, সেটাকে এড়িয়ে গিয়ে তার নামে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ করা হয়েছে। সম্ভবত লেখককে ইচ্ছাকৃতভাবে মানহানি করার জন্য এসব করা হয়েছে। মোটের উপর বইটি আমার ভালো লেগছে। দেশে এই ধাঁচ আর মানের বই নেই বললেই চলে। সববিষয়ে একমত না হলেও চিন্তার জগতে যে একটা শক্ত স্রোত টের পেয়েছি তার জন্য লেখককে ধন্যবাদ দেয়াই যায়।
বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানবাদ। শব্দ দুটি শুনতে প্রায় কাছাকাছি মনে হলেও পার্থক্য বিস্তর। বিজ্ঞান প্রকৃতিতে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার জাগতিক ব্যাখ্যা প্রদানের চেষ্টা করে। আর বিজ্ঞানবাদ গুটিকয়েক মতবাদ ও বিশ্বাসের সমষ্টি মাত্র। বিজ্ঞান যেহেতু পর্যবেক্ষণ নির্ভর, তাই সময়ের পরিক্রমায় বিজ্ঞানের দেয়া বিভিন্ন ত্বত্ত্ব ও ধারণা পরিবর্তিত এবং সংশোধিত হয়। একটি সহজ উদাহরণ দেই : প্রথমদিকে মনে করা হত সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু কিছুকাল পরে সে ধারণা পরিবর্তিত হয়ে নতুন ধারণা প্রবর্তিত হয় সূর্য নয় বরং পৃথিবীই সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করে এবং সূর্য স্থির থাকে। কালের আবর্তে এই ধারণাও পরিবর্তন হয়ে এমন দাঁড়ায় যে সূর্য ও পৃথিবী উভয়ই নিজ নিজ কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে আজকে যে ত্বত্ত্ব বিজ্ঞানের নামে একেবারে নির্ভুল ভেবে আমরা বসে আছি তা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু কিছু নামদারী বিজ্ঞানবাদী আমাদেরকে সেই পুরনো ক্ষয়ে যাওয়া ধ্যান-ধারণাকেই আঁকড়ে থাকতে নানা ছলে-কলে বাধ্য করানোর চেষ্টায় লিপ্ত। আমাদের দেশে প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকে এই ব্যাধির ছাপ স্পষ্টতই প্রতীয়মান। দশকের পর দশক ধরে বিজ্ঞানের নামে আমাদের এসব আবর্জনা গিলানো হচ্ছে। এসব আবর্জনা পরিষ্কার করতে, বিজ্ঞানকে বিজ্ঞানের স্বরূপে চিনতে চিন্তা করতে পাঠককে হোমো সেপিয়েন্স Retelling Our Story বইটি কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বইটি বিজ্ঞান পাঠে কষ্টিপাথর রূপে কাজ করবে। কাটা দিয়ে কাটা তোলার মতো বিজ্ঞানবাদকে বিজ্ঞানের আতশে দেখতে সাহায্য করবে। এই বইয়ের ১৮ টি অধ্যায়ে মহাবিশ্ব, প্রাণের উৎপত্তি ও বিবর্তন নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পরিশেষে বলতে চাই উন্মুক্ত হৃদয় নিয়ে পড়লে বইটি পাঠকের জন্য নতুন করে ভাবনার খোরক হবে।
অন্যের লেখা অনুবাদ করে বই ছাপিয়ে বুদ্ধিজীবী সাজার নিঞ্জা টেকনিক! একটি কথা ধার্মিকদের সাথে তর্কবিতর্ক করার সময় ধর্মহীনরা সবসময় বলে থাকে। সেটি হল, ‘ঈশ্বরের পক্ষে, ধর্মের পক্ষে বা ধর্মহীনতার বিপক্ষে, বিজ্ঞানের বিপক্ষে ধার্মিকরা যেসকল (কু)যুক্তি উপস্থাপন করে, সেগুলোতে কেবল ধর্মের নামটা পাল্টে দিলেই বা ‘x’ ব্যবহার করলেই ধর্মহীনদের কাছে বা ধর্মনিরপেক্ষদের কাছে সেগুলো সব একই শোনায়।’ এই কথাটা অন্য কেউ জানুক বা না জানুক, মানুক বা না মানুক, ধার্মিকরা কিন্তু ঠিকই জানে এবং মানে। আর তাই তো তারা একে অন্যের যুক্তি এভাবে ধার করে। সেক্ষেত্রে খ্রিস্টানরা একটু এগিয়েই বটে। হাজার বছর ধরে পিছিয়ে পড়া ধর্মের অনুসারীরা তাই তাদেরটাই ধার করে। খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা গেছে উল্টোটা ঘটতে। আর এই লেখক তো সেটিকে প্র্যাকটিক্যাল রূপ দিয়ে রীতিমত ব্যবসায় পরিণত করে ফেলেছেন। ইনি খুব ভাল করেই জানেন যে, খ্রিস্টানরা যা যা বলে, কেবল ধর্মের নাম পাল্টে দিলে, ধর্মগুরুর নাম পাল্টে দিলে, ঈশ্বরের নাম পাল্টে দিলেই নিজের ধর্মের বেলায় ইনি সেগুলো ব্যবহার করতে পারবেন আর স্বল্পশিক্ষিত পাঠকরা সেগুলো চিন্তাও করতে পারবে না, উৎস খোঁজা তো অনেক দূরের কথা। নিজেই পড়ে মিলিয়ে দেখুন! Bonus: এই লেখক তার ওয়ালে কয়েক মাস আগেও লিখতেন School Year 2017 সলিমুল্লাহ মেডিকেল। এখন সেটা পাল্টে 2018 হয়ে গেছে এবং মেডিকেলের নাম নেই। কারও মাথায় কোনো প্রশ্ন আসছে কি? https://www.shongshoy.com/archives/24...
রাফান আহমেদের এই বইটি খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা প্রকাশিত কয়েকটি বই থেকে খানিকটা এদিক সেদিক করে এবং কিছু অংশ হুবুহু কপি পেস্ট করে লেখা। প্লেজিয়ারিজম একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সভ্য কোন দেশে এই কাজ করলে তার শাস্তি হয়ে যেতো। তার প্লেজিয়ারিজমের প্রমাণ এখানে দেয়া হচ্ছে https://www.shongshoy.com/archives/24874
চুরি করে বই লেখা এবং বই বিক্রি অনৈতিক কাজ। মূল লেখকদের নাম উল্লেখ করা উচিত ছিল।