নিয়তিতে বিশ্বাস করেন? বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন, দেশখ্যাত থৃলার লেখক নওরোজ মোস্তফা ঠিকই নিয়তিতে বিশ্বাস করে। আত্মজীবনী লিখতে গিয়ে এক পৃষ্ঠাও এগোতে পারছে না সে। বন্ধুর জিতুর রহস্যময় মৃত্যুকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবে সেখানে? পঁয়ত্রিশ বছর আগে স্মৃতির আতলে হারিয়ে যাওয়া এই মৃত্যু-রহস্য ভেদ করতে মোহনগঞ্জে ফিরে আসে সে। ওটা কি খুন নাকি আত্মহত্যা - তা এখনো অজানাই রয়ে গেছে।
ধর্ষণ মামলায় জড়িত থাকা মোল্লা, সাদেক, কাদের, শুভাশিসের সাথে জিতুর কী সম্পর্ক ছিল? ভুমিদস্যু, রাজাকার জুম্মন বেপারি কি তবে সত্যিই প্রতিশোধ নিয়েছিল?
লাশের পর লাশ আর রক্তের নদী পেরিয়ে কতদূর গেলে পাওয়া যাবে এসব প্রশ্নের উত্তর - জানা নেই তার।
নওরোজ মোস্তফা ডুবে যেতে থাকে পঁয়ত্রিশ বছর ধরে জমে থাকা রহস্যের স্তুপে... গভীর থেকে আরও গভীরে - যেখানে সত্যি মিথ্যা হয়ে যায়, আর মিথ্যা হয়ে যায় সত্যি !
নজরুল ইসলামের জন্ম চাঁদপুরে ।কিন্তু বেড়ে উঠা এবং শিক্ষাজীবন নারায়ণগঞ্জ শহরে। একটু দেরিতে বই পড়া জগতে প্রবেশ হলেও সেই জগত থেকে আর বের হতে পারেননি। বইয়ের সাগরে ডুবতে ডুবতে একেবারে ভরাডুবি ঘটেছে। বই পড়তে এবং সংগ্রহ করতে ভালবাসেন। সব ধরণের বই'ই পড়তে ভালোবাসেন। বিশেষ দূর্বলতা আছে ফোকলোর,থ্রিলার এবং ফ্যান্টাসি জনরার প্রতি। প্রিয় লেখকের তালিকায় আছে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, হারুকি মুরাকামি,শহীদুল জহির,শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায়,মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, শরীফুল হাসান, কাজী আনোয়ার হোসেন,ইসমাইল আরমান,সায়েম সোলায়মান, রবিন জামান খান,তানজীম রহমান, জে কে রাওলিং,রিক রিওর্ডান,জিম বুচার, আগাথা ক্রিস্টি,জেমস হ্যাডলি চেজ, লেইগ বারডুগো,কেইগো হিগাশিনোসহ প্রমুখ। লেখালেখি করেছেন রহস্য পত্রিকায়।এছাড়াও বিভিন্ন গল্প সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে তার বেশ কিছু অনুবাদ গল্প। ২০১৮ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম উপন্যাস "অস্পৃশ্যতা"। ২০১৯ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার মৌলিক থ্রিলার "একটি খুনের নেপথ্যে"। ২০১৯ বুক স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ "ইয়োর নেম" তার প্রকাশিত অন্যান্য বইগুলো হচ্ছে- "শেষ পান্ডুলিপি", "ওডিনের শেষ দিন"। অনুবাদ গ্রন্থ- " আউট", "দ্য ডার্ক মেইডেনস"
তার প্রকাশিতব্য মৌলিক গ্রন্থ- সোলায়মানি কিতাব, রক্তনদী, মায়ানগরী, এভাবে একদিন সবকিছু গল্প হয়ে যায়
জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক নওরোজ মোস্তফা আত্মজীবনী লিখতে গিয়ে আটকিয়ে গেলেন ৩৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা নিয়ে। বন্ধু জিতুর রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে এখনো খটকা তার মনে, আত্মজীবনী শেষ করার জন্য বন্ধুর মৃত্যুরহস্য ভেদ করতে দীর্ঘদিন পর ফিরে এলেন মোহনগঞ্জে। ছোট একটা ঘটনা কিন্তু ৩৫ বছর পরেও এসে নানা বাধার সম্মুখীন হতে লাগলেন, একের পর এক খুন হতে লাগলো রহস্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত মানুষগুলো। থ্রিলার লেখকের জন্য চ্যালেঞ্জ বাস্তব জীবনে রহস্যের সমাধান করা।
লেখক নজরুল ইসলামের আগের দু'টো বই অস্পৃশ্যতা এবং একটি খুনের নেপথ্যে পড়ে উনার লেখার ফ্যান হয়ে গিয়েছিলাম, এই বইটি নিয়েও বেশ আশা ছিল এবং লেখক হতাশ করেন নি। পুরো বইটি একটানা পড়ে গিয়েছি এবং সবমিলিয়ে বেশ ভালো লেগেছে। মার্ডার মিস্ট্রি নিয়ে আমার আগ্রহ বরবারই বেশি এবং লেখক সেই আগ্রহ ধরে রাখতে পুরোপুরি সফল ছিলেন। বইয়ে বেশ কিছু টুইস্ট আছে, কিছু প্রেডিক্টেবল ছিল, কিছু আনপ্রেডিক্টেবল কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগ্রহ ধরে রাখার মতো একটি বই৷ আমি আসলে গুছিয়ে রিভিউ লিখতে পারিনা, কিন্তু কোন বই যদি একটানা পড়তে পারি, তার মানে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। শেষ পান্ডুলিপি পড়লাম এবং ভালো লেগেছে, সেজন্যই লেখকের পরের বই গুলোর জন্য আরো বেশি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকবো।
যাইহোক, নজরুল ভাইয়ের প্রতি অনুরোধ থাকবে ড্রিম প্রজেক্ট যতোই থাক, মৌলিক চাই প্রতি বছর যদি সম্ভব হয়।😷
শেষ পান্ডুলিপি লেখকঃ নজরুল ইসলাম পৃষ্ঠাঃ২৮৮ মুল্যঃ ৩০০টাকা
'নিয়তিতে বিশ্বাস করেন!? বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন, দেশখ্যাত থৃলার লেখক নওরোজ মোস্তফা ঠিকই নিয়তিতে বিশ্বাস করেন। আত্মজীবনী লিখতে গিয়ে এক পৃষ্ঠাও এগোতে পারছেন না সে। বন্ধুর জিতুর রহস্যময় মৃত্যুকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবে সেখানে? . পঁয়ত্রিশ বছর আগে স্মৃতির আতলে হারিয়ে যাওয়া এই মৃত্যু-রহস্য ভেদ করতে মোহনগঞ্জে ফিরে আসে সে। ওটা কি খুন নাকি আত্নহত্যা-তা এখনো অজানাই রয়ে গেছে। ধর্ষণ মামলায় জড়িত থাকা মোল্লা, সাদেক, কাদের, শুভাশিসের সাথে জিতুর কী সম্পর্ক ছিল? . ভুমিদস্যু, রাজাকার জুম্মন বেপারি কি তবে সত্যিই প্রতিশোধ নিয়েছিল? লাশের পর লাশ আর রক্তের নদী পেরিয়ে কতদূর গেলে পাওয়ায যাবে এসব প্রশ্নের উত্তর -জানা নেই তার। . নওরোজ মোস্তফা ডুবে যেতে থাকে পঁয়ত্রিশ বছর ধরে জমে থাকা রহস্যের স্তুপে...গভীর থেকে আরও গভীরে-যেখানে সত্যি মিথ্যা হয়ে যায়, আর মিথ্যা হয়ে যায় সত্যি।'
১৯৭৫ সাল। খুব কাছাকাছি সময়ে মোহনগঞ্জে ঘটেছিলো দুইটি মৃত্যু, দুইজনই দেশসেরা থ্রিলার লেখক নওরোজ মুস্তফার খুব কাছের মানুষ। নিজের আত্মজীবনী লিখতে কিংবা বন্ধু জিতুর মৃত্যুর পেছনের কারন জানতে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে ফিরলেন লেখক। সঙ্গী হলো এককালের সহচর আলমগীর, শাহাদাত আর জাকারিয়া। কে নেই সন্দেহের তালিকায়? ধর্ষক কাদের, সাদেক, মোল্লা কিংবা শুভাশীষ? কিংবা রাজাকার জুম্মনের বাহিনীর লোকেরা? ২০১০ সালে এসে ৩৫ বছর আগের খুনের কিনারা করতে গিয়ে অকূলপাথারে পড়লেন তিনি। আদৌ কি সম্ভব আসল খুনিকে ধরা?
শেষ পান্ডুলিপি আদ্যন্ত এক মিস্ট্রি থ্রিলার। বইয়ের পাতায় পাতায় ট্যুইস্ট নেই বরং পেঁয়াজের খোসার মতো স্তরে স্তরে উঠে এসেছে অতীত আর বর্তমানের একেকটা লেয়ার। সহজ সরল লেখনীর জন্য পড়তেও আরাম লাগে। উপন্যাসের দুই তৃতীয়াংশ মোটামুটি ঢিমে তালে চললেও শেষ অংশে একদম বুলেটের গতিতে এগিয়ে গেছে কাহিনী। আর শেষটা... শকিং। অস্পৃশ্যতা পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম, শেষ পান্ডুলিপি মুগ্ধতা আরো বাড়ালো।
এবার আসি যে দিকটা আমার চোখে দৃষ্টিকটু লেগেছে সে বিষয়ে। ২০১০ সালে দেশের সেরা থ্রিলার লেখক দেশে এসে এত কিছু করে বেড়াচ্ছে, অথচ কোন সাংবাদিক তা টেরও পেলো না? মফস্বলেও তো সংবাদদাতা থাকে। এটা একটা বড় প্লটহোল। এই বিষয়টা ছাড়া অভিযোগ করার মতো তেমন কিছু পাইনি।
সব কথার শেষ কথা, শেষ পান্ডুলিপি আমাকে তৃপ্তি দিয়েছে। এমন বই আরো চাই।
আমি বইটাকে তিনভাগে ভাগ করছি। প্রথম, দ্বিতীয় আর তৃতীয় অংশে।
প্রথম অংশ: রিইউনিয়ন! বিখ্যাত লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী থ্রীলার লেখক দেশে ফেরত আসেন বন্ধুর হত্যা রহস্য সমাধান করতে। দীর্ঘদিন পুরোনো বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন তিনি, তার ফিরে আসাটা এক প্রকার রিইউনিয়ন টাইপের ছিলো। সব বন্ধুরাই হত্যা রহস্য সমাধানে একমত হয় আর লেখককে সাহায্য করতে থাকে। বলতে গেলে এই গল্পের প্রথম অংশটাই আমার একটু ভালো লেগেছিলো।
দ্বিতীয় অংশ: ইন দ্য পাস্ট লেখকের বন্ধু হত্যার কিছুদিন আগেই তার প্রেমিকাও হত্যা হয়ে যায়। কিন্ত সেই ঘটনার মিমাংসা হয়েছিলো। তাই সেটা নিয়ে সে মাথা ঘামায়নি প্রথমে কিন্ত কোনোভাবে সে জানতে পারে যে ওইটা ভুল বা মিথ্যা সমাধান ছিলো। তারপর সে দুই হত্যা রহস্যের দিকেই মনোযোগ দেয়। এখানে বেশ কিছু চরিত্র ইন্ট্রিডিউস করানো হয়।
তৃতীয় অংশ: দ্য ইন্ড গেম! মৃত্যু, মৃত্যু, মৃত্যু। এত মৃত্যুর চাপে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছিলাম। জগাখিচুরি টাইপের ফিল আসছিলো। আরেকটু গোছানো হতে পারতো। আর একই ঘটনার রিপিটেশনও হয়েছে। একই আইডিয়া একই বইয়ে দুইবার।
শেষতক, বইটা শুরু করেছিলাম তখন জাপানি কিংবা ইংলিশদের থ্রীলার টাইপ লেগেছিলো। ইদানীং তো ফ্রিডা ম্যাকফ্যাডেনের প্রচুর বই পড়ছি, যার সব বইই বলতে গেলে দুই টাইমলাইনে লেখা। ভাবছিলাম ওরকম কিছু। শুরুর দিকে ভালোই লাগছিলো, কিন্তু অতিরিক্ত চরিত্র নিয়ে আসা, একই ঘটনার রিপিটেশন বিরক্ত করে ফেলেছিলো। কিন্তু এতগুলো চরিত্র নিয়েও লেখক খই হারিয়ে ফেলেন নি, এটাও একটা ভালোদিক। বহুদিন পর একটা মৌলিক মার্ডার মিস্ট্রি পড়লাম।
*কোনো এক জায়গায় লেখক বন্ধু শাহাদাতের বাসায় তার হাতের লেখা রশিদ দেখে কিছু একটা আচঁ করতে পারে, কিন্ত পরবর্তীতে কি আচঁ করলো তেমন কিছু পাইনি, মিস করে গেলাম নাকি ওইটা শাহাদাতের জায়গায় আলমগীর হওয়ার কথা ছিলো?
কেমন হবে যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতিমান কোন থ্রিলার লেখক নিজেই তদন্তের দায়িত্ব নেন? এমন কিছু নির্মম অপরাধের ইনভেস্টিগেশনে নেমেছেন নওরোজ মোস্তফা।
মেয়ের কথায় ৫৩ বছর বয়সে দেশে ফিরেন নওরোজ। উদ্দেশ্য আত্মজীবনী লিখার। কিন্তু ৩৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া কয়েকটি নারকীয় ঘটনার রহস্যের সমাধান না করে মোস্তফা তো আত্মজীবনী লিখতে পারেন না।
উপন্যাসটি বেশ কিছু জায়গায় দুটি টাইমলাইন ধরে এগিয়েছে। ১৯৭৫ ��ন এবং ২০১০ সন। একজন সাঁওতাল মেয়ের ধর্ষণ, বন্ধু জিতুর মৃত্যু এবং তিলোত্তমার করুন পরিণতির প্রকৃত রহস্য বুঝতে আরো গভীরতর রহস্যের জালে জড়িয়ে পড়েন নওরোজ মোস্তফা।
৩৫ বছরে অনেক কিছুই বদলেছে, আবার অনেক কিছুই হয়তো পাল্টায় নি। বন্ধু শাহাদাত, ��াকারিয়া এবং আলমগীর যেমন পাশে এসে দাড়িয়েছে বিখ্যাত এ থ্রিলার লেখকের, ঠিক তেমনি পুরনো ধর্ষক, অপরাধীরাও ঘটনা ধামাচাপা দিতে যেকোন কিছু করে বসতে উৎসুক।
নজরুল ইসলাম তাঁর লেখা 'শেষ পান্ডুলিপি' উপন্যাসটি জুড়ে এক ধরণের স্লো বার্ণ আখ্যান লিখেছেন। উক্ত নভেলে সূক্ষ্ম কিছু বিষয় লেখক দেখাতে পেরেছেন। ভালো লাগার আরেকটি কারণ হলো দুটি সময়রেখার প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক উত্থান-পতন-পরিবর্তনের দিকে হাল্কা কিন্তু ভালো নড দিয়েছেন লেখক।
নজরুল ইসলামের উপন্যাসের চরিত্রগুলোর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এবং কনভার্সেশন ভালো লেগেছে। আরো ভালো লেগেছে আনঅফিসিয়াল একজন ব্যক্তি তদন্ত কর্মে নেমে গেলে কী কী অসুবিধা এবং ঝুঁকির মুখে পড়ে যেতে পারেন সেটা দারুনভাবে ফুটিয়ে তুলাটা।
উপন্যাসটি জুড়ে সাসপেন্স ছিলো, ছিলো মিস্ট্রি। একজন সুদক্ষ থ্রিলার লেখকের দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত কর্ম এবং বাস্তব জীবনে সেসবে আনঅফিসিয়াল মানুষজনের বিভিন্ন দুর্বলতা-বিপত্তি দেখিয়েছেন লেখক।
নজরুল ইসলামের সহজাত লেখনী প্রতিভার সাথে পরিচয় ঘটলো এই প্রথম। টুইস্ট নির্ভর লিখা আমার খুব প্রিয় না। তবে উপন্যাসটি যেভাবে ক্রমান্বয়ে একটি এসেন্ডিং টোনে চলে যায় এবং দুর্দান্ত এক চমকের সৃষ্টি করে তা খুব ভালো লেগেছে।
৫৩ বছর বয়সে এসে নওরোজ মোস্তফার সামনে মস্ত চ্যালেঞ্জ চলে এসেছে। শুধুমাত্র থ্রিলার লেখক হয়ে, শারিরীকভাবে দুর্বল অবস্থায় তাঁকে মুখোমুখি হতে হবে অনেক নির্মম এবং নিষ্ঠুর সত্যের।
নওরোজ মোস্তফাকে লিখে যেতে হবে 'শেষ পান্ডুলিপি'।
বই রিভিউ
নাম : শেষ পান্ডুলিপি লেখক : নজরুল ইসলাম প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২০ প্রকাশক : বাতিঘর প্রকাশনী প্রচ্ছদ : কৌশিক জামান জনরা : থ্রিলার রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
শেষ পান্ডুলিপি শেষ করলাম। ভাল লাগল। শেষটা যদিও সেই মাসুদ রানা স্টাইলেই হয়ে গেছে। আর, বেশ খানিকটা আগেই অপরাধী কে, তাও আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। তবে ব্যাখ্যাটা এত বিস্তৃত যে, সেটা ভাবতে পারিনি।
বইটার মূল সমস্যা এক্সিকিউশনে। গল্প ডেভেলপ করার স্টাইলটা যদিও ভাল লেগেছে। একটু ধীর হলেও, এটা দরকার ছিল। পড়তেও মন্দ লাগেনি।
এক্সিকিউশনের সমস্যা বলতে দুটো জিনিসকে বুঝিয়েছি। এক, ডায়ালগ। কোথাও দেখা গেছে, ডায়ালগ কথ্য ভাষায় এসেছে সরাসরি। আবার, অনেক জায়গায় এসেছে প্রমিত ভাষায়। তাছাড়া, একইরমক শব্দ/বাক্য একই ধাঁচে একাধিক জন বলছে, এটাও চোখে লেগেছে। মূলত, পরবর্তীতে কথ্য ভাষায় ডায়ালগ আসার কারণেই লেখ্য ভাষার ডায়ালগগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। দুই, গল্পের দৈর্ঘ্য। আরেকটু সংক্ষিপ্ত হলে বোধ হয় ভালো হতো। শেষের ক্লাইমেক্স অংশটা বিশেষ করে। আর, একজন অপরাধীর গল্প তো খানিকটা স্কিপও করা হয়েছে। এটাও কেমন যেন লেগেছে।
বানান ভুলের কথা আর না বলি। বইটার পরবর্তী কোনো সংস্করণে চাইলে এই ব্যাপারগুলো ঠিক করে নেওয়া যায়।
গল্পটা লেখক পাকিয়েছেন দারুণভাবে। বলার স্টাইলটাও বেশ ভাল ছিল। এরকম গল্প পড়তে আরাম।
শুরুটার কথা বিশেষ করে বলতে হয়। প্রথমেই, শুরু করে যে ধাক্কা খেয়েছি, কেন যেন সহ্য করতে পারিনি। রেখে দিয়েছিলাম। পুরো একমাস পরে হাতে নিয়েছিলাম পরবর্তীতে। র-সীন। নির্মম, কিন্তু বাস্তব। লেখক এজন্য প্রশংসা পাবেন।
পৃথিবীর সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ হচ্ছে ধর্ষণ। একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে ধর্ষণ করছে - এরচেয়ে নিকৃষ্ট কিছু আর হয় না। কিন্তু ধর্ষকদের মানসিকতাটা সেরকম না। সেই কালো অংশটা সহনীয়ভাবে তুলে আনার চেষ্টা করেছেন লেখক। তবু অনেক জায়গায় র ব্যাপারগুলো রেখেছেন। এই ব্যাপারগুলো ধাক্কা দিয়েছে।
থ্রিলার পাঠকরাই শুধু না, অন্য যেকোনো ঘরানার পাঠকদেরও সুযোগ পেলে এই বইটা পড়ে দেখা উচিৎ। ওয়ান টাইম রিড, বাট গুডরিড।
ছিমছাম গল্প। সব মিলিয়ে বেশ ভাল লেগেছে। গল্পটা প্রয়োজনের চেয়ে অল্প বড় মনে হইলো। একটু ছোট হলে মন্দ হতো না...নতুন বই মেলায় আসামাত্রই পড়তে দারুণ লাগে। উপভোগ করেছি।
কাহিনি সংক্ষেপঃ লন্ডনপ্রবাসী জনপ্রিয় থ্রিলার সাহিত্যিক নওরোজ মোস্তফার বর্তমান প্রকাশক তাঁকে খুব করে ধরেছেন আত্মজীবনী লেখা শুরু করার জন্য। রাজিও হলেন এই দেশসেরা থ্রিলার লেখক৷ সিদ্ধান্ত নিলেন নিজের কৈশোর ও তারুণ্য তুলে ধরবেন তাঁর আত্মজীবনীর প্রথম অংশে। কিন্তু ৩৫ বছর আগের এক অমীমাংসিত রহস্যের কিনারা যে নওরোজ মোস্তফা আজও করতে পারেননি। আর প্রশ্ন গুলোর উত্তর না পেলে যে সম্পূর্ণ হবে না তাঁর আত্মজীবনী। তাই ৩৫ বছর পর মোহনগঞ্জে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
মফস্বল শহর মোহনগঞ্জেই লেখক নওরোজ মোস্তফার শৈশব, কৈশোর ও তারুণের দিন গুলো কেটেছিলো। তিনি, আলমগীর, শাহাদাত, জাকারিয়া ও জিতু, এই পাঁচ বন্ধু ছিলো হরিহর আত্মা বলতে যা বোঝায় তাই। ৩৫ বছর আগে ঘটে গিয়েছিলো এক দুর্ঘটনা। হঠাৎ করেই পাওয়া গিয়েছিলো বন্ধু জিতু'র লাশ। পুলিশ বলেছিলো, আত্মহত্যা অথবা দুর্ঘটনা। যথাযথ তদন্ত না করেই কেসটা ক্লোজ করে দেয়া হয়েছিলো সেই সময়ে। আর আজ, জিতু'র মৃত্যুটা আসলেই স্বাভাবিক ছিলো নাকি তাকে খুন করা হয়েছিলো সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতেই মোহনগঞ্জে পা রেখেছেন নওরোজ মোস্তফা।
আলমগীর, শাহাদাত ও জাকারিয়া বন্ধু নওরোজ মোস্তফাকে নিজেদের আরেক বন্ধু জিতু'র মৃত্যুরহস্য ভেদে সাহায্য করতে রাজি হলেন। বন্ধুদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বের হয়ে আসতে লাগলো ৩৫ বছর আগে চাপা পড়ে যাওয়া একের পর এক অভাবনীয় সত্য। এক রহস্যের সাথে এসে জুটলো আরেক পুরোনো রহস্য৷ জিতু'র রহস্যময় মৃত্যুর সমসাময়িক সময়েই ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিলো তিলোত্তমা নামের এক তরুণীকে। আর সেই কেসের সূত্র ধরেই সামনে চলে এলো বেশ কিছু পরিচিত নাম। রাজাকার জুম্মন ব্যাপারি যে বারবার নওরোজ মোস্তফা ও তাঁর বন্ধুদেরকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলো, সত্যিই কি দেখে নিয়েছিলো? আলমগীর শাহ-এর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইদ্রিস জোয়াদ্দারের সাপের মতো আচরণ ওদেরকে আরো অন্ধকারে ফেলে দিলো।
৩৫ বছর আগে আসলে মোহনগঞ্জে কি এমন ঘটেছিলো যার জন্য আজও একের পর এক খুন হয়েই চলেছে? এক রহস্যের সমাধানে আসা নওরোজ মোস্তফা জানতেও পারলেন না কি ভয়াবহ দুষ্টচক্রের কেন্দ্রে বন্দি হয়ে আছেন তিনি। সত্যের যে কতো চেহারা, তা বেশ ভালো ভাবেই বুঝতে পারলেন তিনি একটা সময়।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ মিস্ট্রি থ্রিলার ঘরানার 'শেষ পাণ্ডুলিপি'-এর শুরুটা হয়েছে বেশ শান্তশিষ্ট ভঙ্গিতে৷ দীর্ঘদিন আগের চাপা পড়ে যাওয়া প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুরহস্য ও তার সাথে সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন নিয়ে একজন স্বনামধন্য লেখকের উত্তেজনাকর এক জার্নি এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। কাহিনির শুরুটা একটু ধীরস্থির হলেও ধীরেধীরে জমে উঠেছে রহস্যের ভেতরে আরো রহস্য। একটা প্রশ্নের উত্তর না পেতেই এখানে জন্ম নিয়েছে আরো কিছু প্রশ্ন। অদ্ভুত আর অভাবনীয় কিছু তথ্য মাঝেমাঝেই এসে মূল রহস্যের গভীরতা বেশ খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে বারবার।
রহস্য উপন্যাস আরো জমে ওঠে যখন প্রায় সমস্ত ক্যারেক্টারকেই সন্দেহভাজন মনে হতে থাকে। 'শেষ পাণ্ডুলিপি'-এর ব্যাপারটাও অনেকটা এমনই ছিলো। একের পর এক অমীমাংসিত ব্যাপারস্যাপারের মুখোমুখি হওয়ার কারণে আমি অবচেতন মনেই নাটের গুরু কে তা বের করার চেষ্টা করছিলাম। আমার অনুমান আংশিক মিললেও পুরোটা মেলেনি। পুরোটা না মেলার কারণেই বোধহয় এই মিস্ট্রি থ্রিলারের ক্লাইম্যাক্সটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। শেষের কয়েকটা অধ্যায় এতোই উত্তেজনাকর ও নাটকীয় ছিলো যে বেশ উপভোগ করেছি। একই সাথে বেশ কিছু জায়গার বর্ণনা অতিরিক্ত সিনেম্যাটিক বলে মনে হয়েছে। তবে সর্বোপরি বেশ ভালো ছিলো উপন্যাসটা।
নজরুল ইসলামের তৃতীয় বই 'শেষ পাণ্ডুলিপি'। এর আগে বাতিঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে লেখকের 'অস্পৃশ্যতা', যা কিয়েগো হিগাশিনোর 'জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান'-এর অ্যাডাপ্টেশন ও মৌলিক থ্রিলার 'একটি খুনের নেপথ্যে'। 'শেষ পাণ্ডুলিপি'-এর মতো বাকি দুটোও পড়া হয়েছে। নজরুল ইসলামের বর্ণনার ধরণ বেশ ভালো। বেশ ধীর-স্থিরতার সাথেই গল্প বলে যান তিনি। 'শেষ পাণ্ডুলিপি'-তেও এর কোন ব্যতিক্রম হয়নি৷ তবে বেশ কিছু টাইপিং মিসটেক ছিলো এই বইয়ে৷ আরো একটা ভুল খেয়াল করেছি। সেটা হলো, সম্বোধনের ব্যাপারে লেখক নিজেই বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিলেন। একটা উদাহরণ দিলেই বুঝবেন। ২০০ তম পৃষ্ঠায় আছে - 'কতটুকু ক্লান্ত ছিল (ছিলেন হওয়ার কথা) নিজেও বলতে পারবেন না নওরোজ মোস্তফা'। এমন ভুল পুরো উপন্যাস জুড়ে অনেক আছে৷ এই ব্যাপারটা একটু চোখে লেগেছে। সম্বোধনের যেকোন এক ফর্ম ধরে নিয়ে পুরো লেখাটা কন্টিনিউ করা উচিৎ ছিলো নজরুল ইসলামের। বানান জনিত কিছু সমস্যাও ছিলো। ফুট-কে ফুঁট, কাটা-কে কাঁটা, বাধা-কে বাঁধা, খাড়া-কে খাঁড়া সহ অনেক শব্দের ক্ষেত্রেই অহেতুক চন্দ্রবিন্দুপ্রীতি দেখিয়েছেন লেখক। ভবিষ্যতে এই ভুল গুলোর প্রতি আশা করি খেয়াল রাখবেন তিনি।
'শেষ পাণ্ডুলিপি' বইটার প্রচ্ছদ করেছেন কৌশিক জামান। মোটামুটি ভালোই লেগেছে আমার কাছে।
“There are crimes of passion and crimes of logic. The boundary between them is not clearly defined.”― Albert Camus - শেষ পাণ্ডুলিপি - নওরোজ মোস্তফা, দেশবিখ্যাত থ্রিলার লেখক। সারাজীবন থ্রিলার লেখার পরে প্রকাশকের চাপে পড়ে শুরু করেন তার নিজের আত্মজীবনী লেখা। সে কারণেই লন্ডন থেকে আসেন তার কৈশোরের শহর মোহনগঞ্জে। - মোহনগঞ্জে এসে তিনি দেখা করেন তার তিন বন্ধু মুদি দোকানি শাহাদাত, কলেজের প্রফেসর জাকারিয়া এবং রাজনীতিবিদ আলমগীর এর সাথে। তার সাথেই জানায় এখানে আসার আসল কারণ। যা হচ্ছে ৩৫ বছর আগে তাদের বন্ধু জিতুর মারা যাবার রহস্যের কুলকিনারা করা। - এরপরই চার বন্ধু মিলে শুরু করেন ৩৫ বছর অতীতের তথ্য খোঁজা। এখন জিতু আসলে কিভাবে মারা গিয়েছিল? তা কি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি খুন? এই ঘটনার সাথে জিতু মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে খুন হওয়া তিলোত্তমা এবং এক সাঁওতাল নারীর খুনের সাথে কি কোন সম্পর্ক আছে? নওরোজ কি পারবে ৩৫ বছর আগের রহস্যের সবটুকু জানতে? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক নজরুল ইসলামের উপন্যাস "শেষ পাণ্ডুলিপি"। - "শেষ পাণ্ডুলিপি" মূলত একটি ক্রাইম থ্রিলার ভিত্তিক উপন্যাস। যদিও গতানুগতিক পুলিশ প্রসিডিওরালের বদলে মূল ইনভিস্টিগেটর ছিলেন একজন লেখক। গল্প প্রথম দিকে ধীরগতির, বেশ ধীরগতির। লেখক বেশ কিছু জায়গায় অনেক ইনফরমেশন এবং একটু বেশি ডিটেলিং দিতে চেয়েছেন যার ভিতরে কিছু জায়গা ওভার ডিটেলিং মনে হয়েছে। সে জায়গাগুলো কমাতে পারলে আরো ছোট কলেবরের টানটান উপন্যাস হতে পারতো। কিন্তু একবার মুল কাহিনীর ভিতরে ঢুকে গেলে তখন আর পড়তে তেমন অসুবিধে হয়নি। - "শেষ পাণ্ডুলিপি" বইতে সঙ্গত কারণেই চরিত্র ছিল অনেক। তার ভিতরে মূল চরিত্র নওরোজ মোস্তফা হলেও খুব কম সময়ই তাকে লেখক সুলভ আচরণ করতে দেখা গেছে। বাকি চরিত্রগুলোর ভিতরে স্বল্প উপস্থিতি হলে তিলোত্তমা চরিত্রটি ভালোভাবে বর্ণিত হয়েছে। গল্প প্রথমদিকে স্লো হলেও শেষদিকে বেশ ভালো পরিমানে স্পিড পায়।"শেষ পাণ্ডুলিপি" বইয়ের শেষটা চমকপ্রদ যদিও মূল ঘটনা অর্ধেক পড়ার পরেই ধরতে পেয়েছিলাম। - "শেষ পাণ্ডুলিপি" বইতে মফস্বল শহরের বর্ণনা এবং শেষ অর্ধেক অংশের লেখনী ভালো লেগেছে। বইয়ের কিছু ব্যাপার অবশ্য ধোঁয়াশা লেগেছে, এক জায়গায় গুলি করার উদ্দেশ্যে পিস্তলের সেফটি ক্যাচ অন করার কথা বলা হয়েছে, যা বাস্তবে হওয়ার কথা উল্টোভাবে। এবারে একাধিক মৌলিক বইতে একই তথ্যগত ভুল পাওয়াটা কিছুটা বিরক্তিকর। তবে প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে একটা মানানসই টাইটেল দেয়া বইয়ের ভালো একটি দিক। - "শেষ পাণ্ডুলিপি" বইয়ের কারিগরি দিকে আসলে প্রথমে বলতে হয় বানান ভুলের কথা। বইতে একেবারেই সিলি সিলি কিছু প্রিন্টেক মিস্টেক চোখে পড়েছে যেগুলো একটু ভালোভাবে সম্পাদনা করলেই থাকার কথা ছিল না, বিশেষ করে প্রতিবার "থামল" শব্দটি "থাএল" হয়ে গেছে। প্রচ্ছদ টাও তেমন একটা ভালো লাগেনি, কাহিনীর সাথে তেমন মানানসই মনে হয়নি। প্রচ্ছদে এবারের বইমেলায় প্রকাশিত "যে শহরে গল্প লেখা বারণ" এর কয়েকটা লাইন দেখলাম, সেগুলোও কি কারণে এসেছে বুঝতে পারলাম না। বইয়ের বাঁধাই, কাগজ, মেকআপ ইত্যাদি আনুষাঙ্গিক দিক অবশ্য ভালোই। - এক কথায়, মফস্বলের পটভূমিতে ছিমছাম, স্লো বার্ন ঘরানার একটি ক্রাইম থ্রিলার হচ্ছে "শেষ পাণ্ডুলিপি", যারা এই ধরনের থ্রিলার বই পড়তে পছন্দ করেন তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
জনপ্রিয় থৃলার লেখক নওরোজ মোস্তফার বর্তমান প্রকাশক ধরেছেন আত্মজীবনী লেখার জন্য। তিনি রাজিও হলেন। লেখতে শুরু করলেন 'কৈশোর' অংশ। কিন্তু আটকে গেলেন ৩৫ বছর আগের একটি ঘটনায়। সেই ১৯৭৫ সালে বন্ধু জিতুর রহস্যময় মৃত্যুর ব্যাখ্যা জানতে অনেকদিন পর ফিরে আসেন 'মোহনগঞ্জ' এ। যেখানে কেটেছিল কৈশোরকাল ৫ বন্ধু - আলমগীর, জাকারিয়া, জিতু, শাহাদাত এবং মোস্তফার। সাদেক, মোল্লা, কাদের এবং শুভাশিস যারা ধর্ষণ মামলায় জড়িত ছিল একসময় তাদের সাথে জিতুর কি সম্পর্ক ছিল? রাজাকার জুম্মন বেপারি একবার দেখে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তাহলে কি সত্যি সত্যি দেখে নিয়েছিলেন? জিতুর মৃত্যুর ২ দিন আগে নওরোজ মোস্তফাকে কী বলতে চেয়েছিল জিতু? বইটির ঘটনা প্রথমে স্বাভাবিকভাবে এগোতে থাকে। একসময় ঘটনার মোড় ঘুরতে থাকে ভিন্ন পথে। দৃশ্যপটে আসতে থাকে অনেকে। একের পর এক হত্যা আর রহস্যের বেড়াজালে আটকে পড়েন লেখক নওরোজ মোস্তফা।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া : গতবছরের ডিসেম্বরে বইটি কিনেছিলাম, কিন্তু সময় করে পড়ার সুযোগ পাইনি। বইটি পড়ার শেষে এখন আফসোস হচ্ছে এতদিন কেন পড়লাম না! প্রথম খুন এর সময় শেষে কী ঘটতে চলেছে তা অনেকটু আঁচ করতে পেরেছিলাম। বারবার প্রার্থনা করছিলাম শেষে যেন এমনটা না হয়। তবে যা হওয়ার তা তো হয়ে গিয়েছে! তারপরও শেষে এসে অনেকটা 'ধাক্কা' খেয়েছি। সেই সাথে আমার মনোজগৎ ও যে অনেকটা ধাক্কা খেয়েছে তা অস্বীকার করব না। বইটি বেশ উপভোগ করেছি। একদম আদর্শ 'মিস্ট্রি থৃলার'। বইটির সবচেয়ে যে বিষয়টি ভালো লেগেছে তা হলো - অধ্যায় গুলোর নাম। অধ্যায়ের নাম থাকায় পড়ার সময় কল্পনা করতে ভালো লেগেছে 'এই অধ্যায়ে কী ঘটতে চলেছে'! বইটিতে অনেক বানান ভুল আছে যা একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে। প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে।
স্পয়লার এলার্ট : দুটি জায়গায় খটকা লেগেছে। এক, লেখকের পিছনে যেহেতু একজন 'টিকটিকি' লেগেছিল তাহলে সে কেন দেখতে পেল না যে, তিনি সাদেকের বন্ধুদের খুন করেননি? দুই, লেখক যখন ইদ্রিস এর বাসায় গেলেন এবং ধরা খেলেন তখন সেখান থেকে তাকে সাদেকের লোক কীভাবে নিয়ে আসলো?
বই : শেষ পাণ্ডুলিপি লেখক : নজরুল ইসলাম প্রকাশনী : বাতিঘর প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ঘরানা : মিস্ট্রি থৃলার প্রচ্ছদ : কৌশিক জামান পৃষ্টা : ২৮৮ মুদ্রিত মূল্য : ৩০০
ব্যাক্তিগত রেটিং : ৪.৬/৫ 💙 গুডরিডস রেটিং : ৩.৭৩/৫
This entire review has been hidden because of spoilers.
লেখকের আগের কোনো বই পড়া নেই। কিন্তু পড়ে দারুণ লেগেছে। মৌলিক বই হিসেবে অনেক চমক ছিল। সত্যি বলতে কাহিনির ধারা দেখে মনে হচ্ছিল যেন হারলান কোবেনের কোনো বই এর গল্প পড়ছি। দুইটা টাইমলাইন এর গল্প সুন্দর করে এগিয়ে নেয়া হয়েছে। আর শেষে সব সূত্র যেভাবে জোড়া লাগানো হয়েছে তা আসলেই ভাল্লাগসে। মাথা খাটানোর জায়গা ছিল। তবে কাহিনীতে একজন পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তির যেরকম দৌড়ঝাঁপের কথা বলা হয়েছে তা মাঝে মাঝে একটু বেখাপ্পা লেগেছে। আর শেষের দিকে কিছু কর্মকাণ্ড অদ্ভুত লেগেছে। তবে সবমিলিয়ে চমৎকার উপভোগ্য একটা বই সেটা বলাই যায়।