কিযী তাহ্নিন তাকিয়ে দেখতে ভালোবাসেন, চারপাশ-জংলা কিংবা পুষ্পবাগান। শ্যাওলাসবুজ ডোবা কিংবা টলটলে স্বচ্ছ পুকুর। কাছে, দূরে প্রাণ আর অপ্রাণের মাঝে তিনি খোঁজেন বেঁচে থাকার সূত্র, হৃদয়-সাগরে লুকিয়ে থাকা অমূল্য মণি-মাণিক্যের গল্প।
মধুর রবের বুঝতে না পারার সংকটের গল্প, হৃৎ জমিনে স্বপ্নের চর জেগে ওঠার গল্প কিংবা খুন্তি বুড়ির এক্কা দোক্কা তেক্কা ছকে বাঁধা জীবনের গল্প সামনে তাকানোর আশা জাগায়। শান্তি, লতা, মঈন, স্মৃতি আর শোয়েবের মতো চরিত্ররা বুনে যায় ভালোবাসার শীতলপাটি। খাইরুল জর্দা, টুকু পাগলা আর পেয়ারুদ্দিন খানের মতন মানুষেরা বড্ড ভাবায়, হাসির খোরাক হয়ে ওঠে, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জাগায়। তাঁর গল্পের স্মৃতি আর বর্তমানের সন্ধি আসলে স্বাধীনতার রঙিন সুতোয় বাঁধা সময়ের গল্প।
এমন সব আশা জাগানিয়া, তাকিয়ে দেখার, বেঁচে থাকার গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে কিযী তাহ্নীনের প্রথম গল্পগ্রন্থ ইচ্ছের মানচিত্র।
Kizzy Tahnin is a contemporary Fiction Writer currently living in Bangladesh. Kizzy is a free spirited soul who is aware of and understands the wider world - and their place in it. She writes to create the world that no one ever seen, the characters no one ever met before.
She has written 3 books and numerous stories both published and yet to be published in national and international literary magazines. Her stories are being translated and published into English.
Publications in Bangla: 1. Der Nambari 2.Budh Grohe Chad Utheche 3.. Ache Ebong Nai 4. Iccher Manchitra
She is a development worker by profession and has been working for more than 7 years to promote and safeguard Culture and Heritage. In early 2016, The Department of Foreign Affairs and Trade of Australia selected Kizzy from Bangladesh for their documentary, named “Story of My Life“ https://www.youtube.com/watch?v=eNTok....
"আজ দিনটি অন্যরকম। আজ অন্যদিনের মতন প্রতিদিন নয় । আজ পাতা পড়বার দিন। আজ পাতা নড়বার দিন। আসে পাশে জানালার কপাট লাগানাের শব্দ। আর যারা জানালা খুলে রেখেছে আজ, তারা জানে, জানালার ওপারে আছে গল্প। আছে চরিত্রেরা। প্রতিটি জানালা যেন বইয়ের মলাট। কপাট খুলে দিলে গল্পে মেলে, জানালার ওপাশে।
আজ আমি “শৈবাল রঙা জানালাকে সঙ্গে নিয়ে খেলতে বেশি। শব্দের খেলা। বহুদিনের গুমােট বাধা শব্দঘরে আজ বৃষ্টি। আমি তাই লিখি, লিখে যাই ..."
“জানালার ওপাশে বৃষ্টি তুমুল। তেমন বৃষ্টি, যেমন বৃষ্টিতে। প্রশ্ন আর বিস্ময়ে কোনাে চিহ্ন থাকে না।” "
রঙ লাগানো, ঘোর ধরানো, নেশা জাগানো এক গুচ্ছ গল্পের তোড়া ইচ্ছের মানচিত্র। ঝড়ো হাওয়ার সন্ধ্যা কিংবা তপ্ত বিকেল, দিনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন ধারণ করেছেন লেখিকা তার গল্পের মধ্য দিয়ে। কিছু গল্প চোখ ভেজায়, বুকের ভেতর কেমন যেন চিনচিনে ব্যথা ধরায়..যেমন "হারাধন", "এক্কা-দোক্কা তেক্কা"। কিছু গল্প জোগায় সরস হাসির খোরাক, যেমন "চাঁপা", "গুণে আর দোষে"। আর "হৃৎজমিনে", " হৃদয় পুড়ে হৃদয়পুরে" কিংবা "অঙ্কলক্ষী"... এরকম গল্পগুলো মনে বছরের প্রথম দখিনা বাতাসের মত দোলা দিয়ে যায়, ঠোঁটের কোণে ফোটায় এক চিলতে হাসি। একটু ইতস্ততভাবে, এক পা দু পা করে সামনে আগায় ক্ষীণ কিছু আশা। কিছু কিছু প্যারাগ্রাফ গদ্যকবিতার মত ছন্দশীল। অপরিসীম মাধুর্য আর ভালোবাসা মিশে রয়েছে তাতে। লেখিকার বর্ণনা ও উপমা এত প্রাণবন্ত যেন বইয়ের পাতায় হাত দিলে ছুয়ে ফেলা যাবে চরিত্রগুলোকে, তাদের ভাবনাগুলোকে।
"মঈন আর স্মৃতির গন্তব্য রেস্টুরেন্টের থেকে দুটি বিপরীত রাস্তায়। দুজন যে যার পথে। টুপটাপ বৃষ্টি। ইটের শহরে না। মনের শহরে। ইটের শহর এখনও তপ্ত । মনের শহরে বৃষ্টির খবর। হালকা টুপটাপ, ভিজছি না। কিন্তু স্পর্শ পাচ্ছি কী ধরনের বৃষ্টি। প্রথম দেখায় একেই চাই’ অনুভূতি তৈরি না হলেও আবার দেখা হতে পারে অনুভূতি তাে তৈরি হয়েছে। ভেসে যাওয়া, ভিজে যাওয়া বৃষ্টির জন্য আবার দেখা হওয়া দরকার। এমন শুকনাে সন্ধ্যায় পথে ফিরতে ফিরতে এমন করে ভাবছে—দুজনে।"
সবচেয়ে ভালো লেগেছে ভালোবাসার গল্পগুলো। লেখিকার মন মাতানো লেখনী সবচেয়ে স্পষ্ট প্রকাশ পেয়েছে এই গল্পগুলোতে। কিছু গল্প পড়ে বই বন্ধ করে ঠায় বসে থেকেছি কিছুক্ষণ। যেন গল্পগুলো মাথা থেকে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পরে সারা শরীরে, এরপর জায়গা করে নেয় সবসময়ের জন্য। এই বইয়ের সব গল্প সমান না। তবে কোনটাই খারাপ না। আর যেগুলো ভালো সেগুলো এতটাই ভালো যে পুষিয়ে যায়।
নিঃসন্দেহে এটি আমার বছরের অন্যতম প্রিয় বই হতে যাচ্ছে। কিযী তাহনিন এই মুহূর্তে আমার বাজারের ফর্দ লিখে দিলেও উদগ্রীব হয়ে পড়বো আমি তা।
কিযী তাহনিনের গদ্যের সবচেয়ে বড় গুণ এর সাবলীলতা ও পাঠযোগ্যতা। তার যে কোনো লেখা অক্লেশে পড়া যায়।এ বইয়ের পছন্দের গল্পগুলো হচ্ছে- মধুর রব, মিরাকেল চুরি, অঙ্কলক্ষ্মী,নায়ক হয়ে ওঠার গল্প, হৃদয় পুড়ে হৃদয়পুরে ইত্যাদি। লেখিকা বিষয়বস্তু নির্বাচন ও কাহিনির পরিণতি নিয়ে আরেকটু সতর্ক থাকলে গল্পগুলো অধিকতর উপভোগ্য হতো বলে মনে হয়।