খুন হলো মিসেস ম্যাকগিণ্টি। খুনি—জেমস বেণ্টলি—ধরাও পড়ল। হয়ে গেল ফাঁসির রায়। কিন্তু মনের খচখচানি দূর হলো না সুপারিণ্টেণ্ডেণ্ট স্পেন্সের। সাহায্য চাইলেন পুরনো বন্ধু, এরকুল পোয়ারোর, আসল খুনিকে খুঁজে বের করবার জন্যে। সে কাজ নিয়ে ব্রডহিনিতে পা রাখলেন পোয়ারো। সঙ্গী হিসেবে পেয়ে গেলেন বিখ্যাত রহস্য-ঔপন্যাসিক আরিয়াডনে অলিভারকে। জটিল হয়ে উঠল পরিস্থিতি। ছোট্ট গ্রাম ব্রডহিনি, কিন্তু এখানকার বাসিন্দাদের প্রায় সবার অতীতই রহস্যে ঘেরা। হতবুদ্ধি হয়ে গেলেন দুঁদে গোয়েন্দা।
এদিকে হাতে সময় নেই মোটেই, ঘনিয়ে আসছে জেমস বেণ্টলির ফাঁসির তারিখ। এই কেসে শুধু খুনি নয়, সময়ও এরকুল পোয়ারোর শত্রু। সময়ের বিরুদ্ধে যে রেসে নেমেছেন, তাতে তিনি জিততে পারবেন তো? পারবেন তো বেণ্টলির ফাঁসি হওয়ার আগেই অন্তরালের হন্তারককে টেনে আলোর নিচে নিয়ে আসতে? নাকি নিছক মরীচিকার পেছনে ছুটছেন তিনি?
পাঠক, বিশ্বসেরা দুই গোয়েন্দা, শার্লক হোমস ও এরকুল পোয়ারো এবার হাজির একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, দুটি উপন্যাসিকা ও পাঁচটি চমৎকার, বৈচিত্র্যময় গল্প নিয়ে। এ দুই গোয়েন্দার তুখোড় পর্যবেক্ষণ-ক্ষমতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় পেয়ে আরও একবার চমকিত হবেন আপনি। আরও একবার প্রেমে পড়ে যাবেন বোহেমিয়ান শার্লক হোমস এবং নিখুঁত পর্যবেক্ষক এরকুল পোয়ারোর।
আগাথা ক্রিস্টি'র মিসেস ম্যাকগিন্টি'জ ডেড, সেবা রূপান্তর অন্তরালে হন্তারক। বহুদিন পর এমন একেবারে আক্ষরিকভাবেই আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত টানটান উত্তেজনার মাথায় প্যাঁচের পর প্যাঁচ লাগিয়ে দেয়া অদ্ভুত সুস্বাদু একটা মাস্টারক্লাস রহস্যোপন্যাস পড়লাম! ক্রিস্টির গড়পড়তার দারুণ রহস্যকাহিনিতেও সাধারণত দেখা যায় তদন্তের মাঝের দিকে কাহিনি কিছুটা ঝুলে পড়ে বা কেইসের একের পর এক অন্ধগলিতে বারেবারে ঠোকর খেতে খেতে পড়তে কিছুটা বিরক্তিবোধ তৈরি হয় যেখানে মূলত সমাপ্তির দুর্ধর্ষ রহস্যোন্মোচন দিয়েই স্টোরিটেলিং-এর যাবতীয় সকল ছোটখাট ত্রুটিবিচ্যুতি ঢেকে দেয়া হয়... অসাধারণভাবে এই বইতে তা একটুও হয়নি, প্রথম থেকে শেষাবধি কাহিনি কোথাও বিন্দুমাত্র ঝুলে পড়েনি, তদন্তের সর্পীল আঁকাবাঁকা উঠানামায় গল্প শুধু আরো জমেই উঠেছে, পাঠকের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সেইসাথে শেষে ক্রিস্টির যথারীতি মাথায় বাড়ি দেয়া একের পর এক অভাবিত চমক আর রহস্যভেদে পার্ফেক্ট ফিনিশিং অ্যাজ ইউজুয়াল। আরও না চাইতেই পাওয়া ছিল পুরো বই জুড়ে হালকা শুষ্ক হাস্যরস যা মাঝে মাঝেই গভীর সিরিয়াস ঘটনাবলীর মাঝেও সশব্দে হেসে ওঠতে বাধ্য করেছে (বেচারা ভোজনরসিক পোয়ারোর তদন্ত চলাকালীন প্রতিবেলার খাওয়া নিয়ে যে হ্যাপা টা পোহাতে হলো!)। সবমিলিয়ে, একজন রহস্যপাঠকের জন্য পুরোদস্তর বিন্দাস ফূর্তির পূর্ণ তৃপ্তিদায়ক সুখপাঠ্য ক্রিস্টি-মিস্ট্রি।
ঝরঝরে জড়তাবিহীন সেবা অনুবাদ পড়ে কমবেশি তৃপ্তি পেয়েছি। কিছু কিছু জায়গায় মূল বইয়ের ক্রিস্টিসুলভ অতিরিক্ত হাবিজাবি আজাইরা প্যাচাল কমিয়ে দিয়ে কিঞ্চিত সরলীকরণ করা হয়েছে, তাতে একদিকে যেমন পাঠ-অভিজ্ঞতা একটু সাবলীল আরামদায়ক-তর হয়েছে, আবার মাঝে মাঝে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তদন্তভিত্তিক তথ্য কথাবার্তা বেমালুম 'লস্ট ইন ট্র্যান্সলেশন' হয়ে গেছে, পরবর্তীতে গল্পে সেই মিসিং বা সূক্ষ্ণ তথ্যের সূক্ষ্ণ রেফারেন্স টানা হলে দুয়েকবার খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম তখন মূল বইয়ের পাতা উল্টে বুঝে নিতে হয়েছে আদতে কী বলা ছিল। বিশালায়তন ক্লাসিক উপন্যাসের বদলে ক্রিস্টীয় জটিল গোয়েন্দা উপন্যাসের সেবামার্কা সরলভাষার 'ভাবানুবাদ' করার সুবিধার পাশাপাশি তাই বিপদও আছে। সুখের কথা এমন কাঁটছাঁটের পরিমাণ পুরো বইয়ের খুব বেশি হলে ১০% হতে পারে। অনুবাদের ভাষা পড়ে আরাম পেয়েছি, সেই ভিন্টেজ স্বর্ণযুগের মসৃণ গতিশীল লেখা।
'খুন হলো মিসেস ম্যাকগিণ্টি। খুনি - জেমস বেণ্টলি - ধরাও পড়ল। হয়ে গেল ফাঁসির রায়। কিন্তু মনের খচখচানি দূর হলো না সুপারিণ্টেণ্ডেণ্ট স্পেন্সের। সাহায্য চাইলেন পুরনো বন্ধু, এরকুল পোয়ারোর, আসল খুনিকে খুঁজে বের করবার জন্যে। সে কাজ নিয়ে ব্রডহিনিতে পা রাখলেন পোয়ারো। সঙ্গী হিসেবে পেয়ে গেলেন বিখ্যাত রহস্য-ঔপন্যাসিক আরিয়াডনে অলিভারকে। জটিল হয়ে উঠল পরিস্থিতি। ছোট্ট গ্রাম ব্রডহিনি, কিন্তু এখানকার বাসিন্দাদের প্রায় সবার অতীতই রহস্যে ঘেরা। হতবুদ্ধি হয়ে গেলেন দুঁদে গোয়েন্দা। . এদিকে হাতে সময় নেই মোটেই, ঘনিয়ে আসছে জেমস বেণ্টলির ফাঁসির তারিখ। এই কেসে শুধু খুনি নয়, সময়ও এরকুল পোয়ারোর শত্রু। সময়ের বিরুদ্ধে যে রেসে নেমেছেন, তাতে তিনি জিততে পারবেন তো? পারবেন তো বেণ্টলির ফাঁসি হওয়ার আগেই অন্তরালের হন্তারককে টেনে আলোর নিচে নিয়ে আসতে? নাকি নিছক মরীচিকার পেছনে ছুটছেন তিনি? . পাঠক, বিশ্বসেরা দুই গোয়েন্দা, শার্লক হোমস ও এরকুল পোয়ারো এবার হাজির একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, দুটি উপন্যাসিকা ও পাঁচটি চমৎকার, বৈচিত্র্যময় গল্প নিয়ে। এ দুই গোয়েন্দার তুখোড় পর্যবেক্ষণ-ক্ষমতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতার পরিচয় পেয়ে আরও একবার চমকিত হবেন আপনি। আরও একবার প্রেমে পড়ে যাবেন বোহেমিয়ান শার্লক হোমস এবং নিখুঁত পর্যবেক্ষক এরকুল পোয়ারোর। '
আগাথা ক্রিস্টির 'Mrs. McGinty's Dead' অবলম্বনে অন্তরালে হন্তারক উপন্যাস এবং 'Triangle at Rhodes' অবলম্বনে ত্রিভুজ প্রেম লেখা। এছাড়া স্যর আর্থার কোনাল ডয়েলের The Adventure of the Gloria Scott, The Adventure of the Solitary Cyclist, The Adventure of the Illustrious Client, The Adventure of the Three Students, The Adventure of the Sussex Vampire, The Adventure of the Devil's Foot এই ৫টি গল্প মিলিয়ে বইটি রচিত।
আমার কাছে সবমিলিয়ে বেশ ভাল লেগেছে। অন্তরালে হন্তারক উপন্যাসটি বেশ ভালভাবেই উপভোগ করেছি, বরাবরের মতই আগাথা ক্রিস্টির মাথা ঘুরানো একের পর এক চমক এবং বরাবরের মতোই পারফেক্ট ফিনিশিং ছিল। বেচারা ভোজনরসিক পোয়ারোর জন্য বেশ মায়া লেগেছে খাওয়া নিয়ে ঝামেলা পোহানোর জন্য। পুরো উপন্যাসে হালকা হাস্যরস বিদ্যমান ছিল যার কারনে মাঝে মধ্যেই হেসেছি বইটা পড়তে গিয়ে। সবমিলিয়ে দারুণ উপভোগ্য ছিল। আগাথা ক্রিস্টির ফ্যানরা না পড়ে থাকলে দ্রুত পড়ে ফেলবেন আশা করি।
আগাথা ক্রিস্টির উপন্যাসিকা ছাড়াও শার্লক হোমসকে নিয়ে ছোট গল্পগুলো ভাল লেগেছে। শার্লক হোমসকে নিয়ে গল্পগুলোর মধ্যে আমার পছন্দের গল্পগুলোই ছিল বইটিতে
গল্পে আমার সবথেকে পছন্দের উক্তিটি ছিল- "কিন্তু সমস্যা ওই একটাই, দিনে খাওয়া যায় মাত্র তিনবার, তাও বেশ অনেকক্ষণ পরপর।"- গল্পের এই লাইনটি আমিও অনেক আগে থেকেই চিন্তা করি, কেন মাত্র তিনবার খাওয়া যায়, নিজের বাসায় থাকলে তাও ইচ্ছামতো খাওয়া যায় কিন্তু কোথাও বেড়াতে গেলে বেশ বিপদে পড়তে হয়😷
অন্তরালে হন্তারক আগাথা ক্রিস্টির ১টি উপন্যাস ও ১টি গল্প ও স্যার আর্থার কোনান ডয়েল এর ৬টি গল্প।
অন্তরালে হন্তারক উপন্যাস টি আগাথা ক্রিস্টির Mrs Mcgintys Murder এর অনুবাদ। এখানেও আগাথা ক্রিস্টির সেই বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র এরকুল পোয়ারো। সাধারণত আগাথা ক্রিস্টির রহস্য উপন্যাস পুরোটাই রহস্য ঘেরা।এই বইতেও শেষের আগ পর্যন্ত পুরো গল্প বোঝার চেষ্টা বৃথা। একটি খুন এবং খুনি ধরা পড়ে খুনির সাজা হওয়ার পর সুপারিন্টেন্ডেন্ট এর কথায় ���দন্তে নামেন গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো।একটা মীমাংসা হওয়া হত্যাকাণ্ডের আবার তদন্তে অনেক নতুন তথ্য বের হয়ে আসতে থাকে। এক কথায় বলতে গেলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটাই টার্নিং পয়েন্ট এ মোড়া একটি উপন্যাস।
অন্যদিকে আগাথা ক্রিস্টির গল্প তে��ন আকর্ষণীয় আমার মনে হয় নি। কিন্তু শার্লক হোমসকে নিয়ে বাকি যে গল্পগুলো সব গুলোই ছিল অসাধারণ।
খুব ছোট গ্রাম ‘ব্রডহিনি’। অল্প কিছু পরিবারই থাকেন এখানে৷ সবাই চমৎকার ভদ্রলোক। কিন্তু এই ভদ্র পাড়াতেই খুন হন এক বুড়ি মহিলা অধিবাসী। অবশ্য তার খুনিও ধরা পড়েন। খুনির ফাঁসির রায়ও হয়। কিন্তু যে পুলিশ অফিসারটি খুনিকে ধরলো, তার মন খচখচ করছে। তার মনে হচ্ছে আসল খুনি এই লোক না। খুনি অন্য কেউ। অনেক তদন্ত করে কোনো কুল-কিনারা না পেয়ে সবশেষ আসে দুঁদে গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারোর কাছে। সব শুনে তদন্তে নামেন গোয়েন্দা। তবে এই কেসে সময়টাই যেন পোয়ারোর সবচেয়ে বড় শত্রু। কারণ ফাঁসির রায় কার্যকরের বাকি আর বেশি নেই৷ হাতে গুনে কয়েকটা দিন মাত্র।
বিখ্যাত গোয়েন্দা নিজের আসল রূপেই নামলো তদন্ত কাজে। কিন্তু এ তিনি কোথায় এসে পড়লেন? পদে পদে রহস্য। প্রতিটি পরিবারের রয়েছে কোনো না কোনো রহস্য। সবাই খুব সচকিত। এর মধ্যেই একটি সূত্র পান এরকুল পোয়ারো। ভিক্টিম বুড়ি মহিলা মৃত্যুর আগে পত্রিকাতে প্রকাশিত হওয়া কোনো একটি খবর নিয়ে নিজে নিজেই মেতে ছিলো।
৩০ বছর আগে হরিয়ে যাওয়া চারজন মহিলার খবর প্রকাশিত হয় ঐখবরে। তারা বর্তমানে কোথায়। পত্রিকার ভাষ্যমতে এদের সাথে ঘটেছে অবিচার। তারা সবাই অবহেলিতা। কিন্তু এতো বছর পর ভিক্টিম কেন এটা নিয়ে মাতামাতি করতে গেলেন?
দুঁদে গোয়েন্দা যেন বার বার পড়ে যাচ্ছেন অতল গহ্বরে। পারবেন কি তিনি এই অতি ভদ্রপাড়ার রহস্য উন্মোচন করতে?
★★★
অসাধারণ গোয়েন্দা কাহিনি এই ‘অন্তরালে হন্তারক’ উপন্যাসটি। চমৎকার অনুবাদ করেছেন ‘মারুফ হোসেন’। বইটি প্রকাশ করেছেন আমার প্রিয় প্রকাশনী “সেবা প্রকাশনী”।
বইটিতে আগাথা ক্রিস্টির ও স্যর আর্থার কোনান ডয়েলের একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস, দুটি উপন্যাসিকা, ও পাঁচটি গল্প আছে। অন্তরালে হন্তারক উপন্যাসটি আগাথা ক্রিস্টির লেখা।
আমি আসলে স্যার আর্থার কোনান ডয়েল আর আগাথা ক্রিস্টির একজন ভক্ত। তাদের গল্প গুলো আমি গোগ্রাসে গিলি। এই গল্পটি পড়তে গিয়ে আমি অনেক নাকানিচুবানি খেয়ে শেষে হাল ছেড়ে দিয়েছি। কারণ আমি যাদের যাদের সন্দেহ করে আসছিলাম সব শেষে এসে পোয়ারো সাহেব আমাকে এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বলেন, মিয়াঁ খুনি এদের কেউ না। খুনি আসলে…!!!
অনেকদিন পড় সেবার গোয়েন্দা অনুবাদ পড়লাম। ভালো লেগেছে, পড়ে মনটা আনন্দিত হলো। মারুফ হোসেন সবগুলো গল্পেরই সু-অনুবাদ করেছেন। এই বইয়ের সবচেয়ে বড় গল্পটিই হলো পেয়ারোর। কিন্তু আমার সেটা ভালো লাগেনি। সবচেয়ে মজা পেয়েছি হোমস-ওয়াটসনের ‘নিষিদ্ধ ডায়েরি’ পড়ে। ব্যারন গ্রুনার ভিলেন হিসেবে দূর্দান্ত। (আমিও তার মতো হতে চাই) ব্যারন খুবই ধূর্ত ও বুদ্ধিমান একজন ব্যাক্তি। তাকে থামানোটা খুবই কঠিন ব্যাপার ছিলো। কিন্তু শার্লক হোমস তুলনাহীন। একা একাই বুদ্ধির খেলায় সে ঠিকই ব্যারনকে হারিয়ে দিলো। (কিন্তু বাস্তবে ভিলেনগুলো পার পেয়ে যায়) বইয়ে তো লিখেছেই ‘যে লোক কারো সাহায্য না নিয়ে একা-চক্রান্ত করে, সেই সেরা চক্রান্তকারী’। এজন্যই তো শার্লক হোমস আমার সবচেয়ে প্রিয় গোয়েন্দা, আর হোমস-ওয়াটসন আমার সবচেয়ে প্রিয় সাহিত্যিক জুটি! যাইহোক, বইটি অসাধারণ সময় দিয়েছে। ধন্যবাদ অনুবাদককে।
For the Sherlock stories (especially for রক্তের খেলা aka 'Gloria Scot', তাসের বাজি aka 'Solitary Cyclist' & দানব পায়ের রহস্য aka 'Adventure of Devil Foot') giving it five star! Otherwise it deserves 4.