চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশ। টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান তৈরি ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব কী ও কেন? পঞ্চম প্রজন্মের টেলিকম ব্যাংকিং ও পেমেন্ট অবকাঠামো মোবাইল ব্যাংকিং অবকাঠামো ফিনটেক, ব্লকচেইন ও ক্রিপ্টো মুদ্রা ভ্যাট সংগ্রহ ও ভাতা বরাদ্দ অবকাঠামো পরিসংখ্যান প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের যোগসূত্র!
#চতুর্থ_শিল্পবিপ্লব_ও_বাংলাদেশ অমর একুশে বইমেলা ২০২০ এর আলোচিত নতুন ধারার 'চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ' বইয়ের কয়েকটি ছোট বড় রিভিউর অংশ বিশেষ- ১। "একটি ভাল বই তার লেখকের চেয়ে আনেক বেশি ভাল কাজ করে দিতে পারে।" ''ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ ভাইয়ের "চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ" সেই কাতারের একটি বই। আমি মনে করি বইটি এদেশে প্রায় সামগ্রিক টেকসই ব্যবস্থাপনার একটি থিংকট্যাঙ্ক হিসেবে কাজ করতে পারে।যেমন এদেশের সবচাইতে অনালোকিত উপেক্ষিত সেক্টর 'কারিগরী শিক্ষা"। তিনি এর সংস্কার নিয়ে আলোচনা তুলেছেন, সংকটগুলি চিহ্নিত করেছেন এবং এর সমাধান নিরূপণের পর্যালোচনা করেছেন। পৃ২৭৯-৩০৯। বইটির বহুল পাঠ কামনা করি।'' M Arif Khan, পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক, অনুবাদক, উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী
২। 'এই বইয়ের মূল্যমান একটি জাতির জন্য, দেশের জন্য যথার্থ। বিষয়াদি এবং পড়ে যতটুকু বুঝলাম, এই বই বাংলাদেশ সরকারের জন্য বাইবেল স্বরুপ। একটি সরকারের জন্য বর্তমান সময়ের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো এত অসাধারণ দক্ষতার সাথে বিশ্লেষণ ও বাস্তবায়নের পথ বাতলে দেওয়া হয়েছে, যা গবেষণাধর্মী সংস্থা এবং পরিকল্পনা কমিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
Imrul Shahed প্রকৌশলী
৩। 'সারা বিশ্বে 3G চালু করার ১০ বছর পরে কেন বাংলাদেশে থ্রিজি চালু হল, PayPal কেন বাংলাদেশে আসছে না, দেশের ৬১% জনগণ কেন ফর্মাল ব্যাংকিং এর বাইরে, এক হাজার টাকা ক্যাশআউটে ২০ টাকা চার্জ কতটুকু যৌক্তিক, চিটাগাং পোর্ট কেন শতভাগ ডিজিটালাইজড হচ্ছে না, স্বাধীনতার অর্ধযুগ পার হলেও শিক্ষা ব্যবস্থা কেন সেকেলে, একটা দেশ কিভাবে সস্তাশ্রম এবং অদক্ষ- স্বল্প দক্ষ শ্রমিকের কাঁধে ভর করে Unsustainable ইকোনমি গড়ে তুলেছে, একটা মহামারির পর আমরা কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবো- এই প্রশ্নগুলো কখনো ভেবে দেখেছেন?
বলছিলাম "চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ" বইটির কথা। লেখক বইটির পিছনে যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন। গবেষণাধর্মী বই বললে ভুল হবে না। 5G এবং বাংলাদেশের টেলিকম খাত, ব্যাংকিং এবং মোবাইল পেমেন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং অবকাঠামো, ফিনটেক, ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভ্যাট সংগ্রহের অবকাঠামো, পরিসংখ্যান প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা- ইত্যাদি বিষয়ের উপরে আলোকপাত করা হয়েছে বইটিতে।
বই পড়ার পরে যখন রেশ রয়ে যায়, মস্তিষ্কে অনেকগুলো ভাবনা উঁকি দেয়, তখন বলা যায় লেখকের সার্থক প্রয়াস। Industry 4.0 এর জন্য আমরা কি প্রস্তুত? অটোমেশনের ফলে শিল্প ও ব্যবসা খাতে "Return to capital" এবং "Return to labor" এর মাঝে পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকের কর্মসংস্থান কি হুমকির মুখে পড়বে? চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলে দারিদ্র এবং অসাম্য কমবে না বাড়বে? প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
এবারে বইমেলার অন্যতম সেরা বই বলতেই হবে। পড়ার সাজেশন রইলো।
Akm Mainul Hossain Economics Graduate, University of Dhaka বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
৪। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়, আসন্ন পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রস্তুতি কেমন, মূল তিন অর্থনৈতিক স্তম্ভের সাথে প্রযুক্তির সমন্বয়, অবকাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান – এসবই আলোচনার বিষয়বস্তু বইয়ের। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে টেলিকম, ব্যাংকিং, শ্রমবাজার, শিক্ষাস্তরের আন্তঃসংযোগ - মোটা দাগে এগুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। অত্যন্ত সুখপাঠ্য, পরিষ্কার ও সহজভাবে বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সমস্যা সনাক্তকরণ ও তা মোকাবেলা করার জন্য পর্যাপ্ত রসদে ভরা। এক নাগাড়ে পড়ে যেতে কোনই সমস্যা হয়নি আমার - এতোটাই প্রাঞ্জল লেখা। টেকনিক্যাল বিষয়বস্তু সম্পর্কে পূর্বধারণা সহায়ক হিসেবে ছিল তবুও আমার মনে হয়না কারোর তেমন কোন সমস্যা হবে বুঝতে। সংযুক্ত টীকা ও সংজ্ঞা সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সহায়তা করবে আমার বিশ্বাস। হাইলি রিকমেন্ডেড।
মাহমুদুল হাসান, ফ্রিল্যান্সার
৫। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে একটা ভাসা ভাসা ধারণা ছিলো। যেহেতু শব্দের সাথে বিপ্লব যুক্ত আছে, সেহেতু এটা যে একটা বিশাল ব্যাপার, সেই ব্যাপারে ধারণা ছিলো। কিন্তু কতটা বিশাল, কতটা ব্যাপক, সে ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য করলো ফাইয়েজ আহমদ তয়্যব এর চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ বইটি। কী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বইতে? তারচেয়ে বড় প্রশ্ন, কী নিয়ে আলোচনা করেননি লেখক? চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর লেখক প্রথম বিস্তারিত আলোচনা তুলেছেন বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর এবং অর্থনীতি নিয়ে। কেন বাংলাদেশের মূলধারার ব্যাংকগুলো এখনও কৃষক কিংবা নিম্নবিত্তের আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে পারেনি বরং আস্থার সংকট তৈরি করেছে এবং মোবাইল ব্যাংকিং কীভাবে সেই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেছে, সেই আলোচনা আছে। অধ্যায়ের বড় একটা অংশ জুড়েই আছে ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা সংকট, অবধারিতভাবে উদাহরণ হিসেবে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা। এগুলো অতিক্রম করে কীভাবে বাংলাদেশ পরবর্তী শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি নেবে, সেই বিষয়টিতে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যত্ অর্থনীতিতে ফিনটেক, বিটকয়েন, একক পেমেন্ট গেটওয়ে, ক্রিপ্টোকারেন্সি মেইনটেইনে কী কী প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, এই অধ্যায় আপনাকে তা জানিয়ে দেবে। গত কয়েক বছর ধরেই দেশের সকল আউটসোর্সিং কর্মীদের প্রাণের দাবি ছিলো পে পালকে দেশে নিয়ে আসা। কিন্তু পে প্যাল এর বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশে মূল বাধাটা আসলে কোথায়? এতদিন এই বিষয়ে সংশয় ছিলো, এখন পুরোপুরি ক্লিয়ার হয়েছি। পরের আলোচনা প্রবেশ করেছে দেশের কর্মসংস্থানের বর্তমান এবং ভবিষ্যতে । প্রতি বছর দেশে লাখ লাখ গ্র্যাজুয়েট যখন কর্মবাজারে প্রবেশ করছে, তখন উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র কোথায়? পুঁজি কীভাবে যুগে যুগে মেধাকে বায়াসড করেছে, কীভাবে নিজের কাজে লাগিয়েছে সেটা যেমন মনে একটা চাপ তৈরি করে, তেমনি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পর্যায়েও দেশে বিদেশে অদক্ষ শ্রমবাজার আমাদের মনে শঙ্কা জাগিয়ে যায়। কারণ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে একটা জিনিস পরিষ্কার, সেখানে অদক্ষ কর্মীর কোনো জায়গা থাকবে না, যেহেতু হাজার হাজার মানুষের জায়গা নেবে অটোমেটিক রোবট, সেহেতু তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকতে হলে স্কিলড কর্মীর কোন বিকল্প নাই। সবশেষে লেখক দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন। কারিগরি, অ্যাপ্লাইড এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মধ্যে সমতা বা চেইন সিস্টেম তৈরির চিন্তাটা আমার কাছে বেশ চমকপ্রদ মনে হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি এবং ইউনিভার্সিটির যৌথ প্রয়াসে আপডেটেড কারিকুলামের সাথে পরিচিত না হলে, শুধুমাত্র মুখস্থ এবং পূথিগত বিদ্যা দিয়ে আমাদের তরুণ সমাজ যে কর্মক্ষেত্রে টিকতে পারবেন না, এটা লেখক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।
Sadiqur Rahman Khan শিক্ষার্থী BSMRAU
৬। এবারের বইমেলায় যে কয়টা বই সংগ্রহ করেছি তারমধ্যে এ বইটার বাইন্ডিং সবচেয়ে উন্নত। বইটাতে প্রচুর তথ্য, উপাত্তের সমাহার ঘটেছে। বিস্তর পরিসংখ্যান রয়েছে। এ ধরণের বই একটানা পড়ে যাওয়া দুস্কর। যেহেতু স্কিপ করার অভ্যাস নেই, সেহেতু অল্প অল্প করে পড়ে চারদিনে শেষ করলাম বইটা। এই বই পড়ার ফাঁকেফাঁকেই অন্য দুটো বই শেষ করেছি। বইয়ের প্রথম অধ্যায়টা চমৎকার। লেখক আশংকা প্রকাশ করেছেন- চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে মানুষের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ধারণা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হওয়ার পথ তৈরি হবে। এরপর আ��োচিত হয়েছে টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে। ডাটা ও ভয়েস বিজনেস নিয়ে বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার চিত্র ও করণীয় নিয়ে আলাপ করেছেন। আমার কপাল ভাল- আইটি নিয়েও কিঞ্চিৎ একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল। নইলে অনেক কিছুই মাথার উপর দিয়ে যাইতো। পরবর্তী অধ্যায়ে ব্যাংক ব্যবস্থার সিকিউরিটি সিস্টেম ও সার্ভিস নিয়ে আলাপচারিতা ও দিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও আলোচনা এসেছে মোবাইল ব্যাংকিং নিয়েও। পেপাল না আসার হেতুও লেখক উল্লেখ করেছেন। এইখানে রিজার্ভ চুরি, ডিজিটাল সিকিউরিটি আক্ট নিয়ে যেসব আলাপ হয়েছে সেগুলো নিয়ে কিছু বলতে চাই না। ওস্তাদের নিষেধ আছে। লেখকের হিম্মতকে অভিবাদন। বইয়ের একটা করে অধ্যায় শেষ করতেছিলাম আর ভাবতেছিলাম- কৃষি নিয়ে নিয়ে কি কোনই লেখা নাই। অবশেষে দ্বাদশ অধ্যায়ে এর খোজ পাওয়া গেল।
Ahmed Rizvi ইকোনমিক্স গ্র্যাজুয়েট, পেশাজীবি
৭। বইটি অত্যন্ত সময়পোযোগী। সাবলীল বিশ্লেষনে একজন প্রকৌশলী পাঠক হিসেবে আমি মুগ্ধ। শুধুমাত্র জানার জন্য নয় বরং সময়ের সাথে নিজের প্রস্তুতির জন্যও বইটি দারুন সহায়ক।
Mohammad Imran Hossain প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা
৮।
এই মুহূর্তে জরুরী একটা বই। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে তা মোকাবিলায় আমরা কতোটা প্রস্তুত? যারা অর্থনৈতিক খাতে কাজ করতে চান তাদের জন্য আবশ্যিক পাঠ্য। যারা ব্যাংকিং সেক্টরে আছেন কিম্বা আসবেন তারাও বইটা পড়ে দেখুন। কাজে দিবে। লেখককে ধন্যবাদ আমাদের এতো গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যবহুল বইটি উপহার দেওয়ার জন্য। আবিদ আম মাহমুদ, সংগঠক- সুত্রপাঠ, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
৯। বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, বৈদেশিক শ্রমবাজার ও সার্বিক কর্মসংস্থান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অটোমেশনে পড়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, এই উপলব্ধিগুলোই এ বইয়ের আলোচ্য বিষয়। বাংলাদেশ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান প্রধান যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি সেসব এবং টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান তৈরি ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা নিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে।
Mohammad Sayeed Jubary Chisty বই সমালোচক, কবি ও সাংবাদিক
১০।
চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার জন্য বইটি কাজে আসবে। জুনায়েদ মুক্তাদির, সাংবাদিক, ইত্তেকাক।
১১। 'বইটি বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতের মেনিফেস্টো’
Abdur Rahman Monir, Lawyer, CEO বিপণন বিডি লিমিটেড।
বইঃ চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ প্রকাশকঃ আদর্শ প্রচ্ছদঃ সব্যসাচী মিস্ত্রী প্রাপ্তিস্থান- আদর্শ লাইব্রেরী, কনকর্ড এম্পোরিয়াম কাটাবন, ৩৮ বাংলাবাজার। পড়ুয়া- আজিজ সুপার মার্কেট, বাতিঘর।
দিন দিন কল্পবিজ্ঞান ও বাস্তবের মাঝে দূরত্ব সংকুচিত হচ্ছে - অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক অটোমেশন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পারসন অফ ইন্টারেস্টের দ্য মেশিন বা সামারিটান যেমন অবিশ্বাস্য বিষয় না তেমনই ওয়েস্টওয়ার্ল্ডের ডোলোরেস-ও ফ্যান্টাসি থাকতেছেনা আর! হার-এর থিওডোর যেমন অপারেটিং সিস্টেম সামান্থা'র সাথে সম্পর্ক করেছিলো - তেমনই আপনিও "হেই সিরি" বলে কার্যত প্রায় সেরকমই সম্পর্কে জড়াচ্ছেন! চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দ্বার-প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা – যেখানে মানুষের রিয়েলিটি নতুন করে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে, ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল ও বায়োলজিক্যাল সীমারেখা।
এমতাবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়, আসন্ন পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রস্তুতি কেমন, মূল তিন অর্থনৈতিক স্তম্ভের সাথে প্রযুক্তির সমন্বয়, অবকাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান – এসবই আলোচনার বিষয়বস্তু বইয়ের। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে টেলিকম, ব্যাংকিং, শ্রমবাজার, শিক্ষাস্তরের আন্তঃসংযোগ - মোটা দাগে এগুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
অত্যন্ত সুখপাঠ্য, পরিষ্কার ও সহজভাবে বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সমস্যা সনাক্তকরণ ও তা মোকাবেলা করার জন্য পর্যাপ্ত রসদে ভরা। এক নাগাড়ে পড়ে যেতে কোনই সমস্যা হয়নি আমার - এতোটাই প্রাঞ্জল লেখা। টেকনিক্যাল বিষয়বস্তু সম্পর্কে পূর্বধারণা সহায়ক হিসেবে ছিল তবুও আমার মনে হয়না কারোর তেমন কোন সমস্যা হবে বুঝতে। সংযুক্ত টীকা ও সংজ্ঞা সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সহায়তা করবে আমার বিশ্বাস।
বাংলাদেশে যদিও কখনো "ইউটোপিয়া" আসে তবে বোধয় এমন সিস্টেমেটিকভাবেই আসবে - বিভিন্ন মহলের মধ্যে সমন্বয়ে। কোন সেক্টরে কীরকম সমস্যা সেটা আইডেন্টিফাই করা এমন শক্ত কোন কাজ না। লেখকের বক্তব্য প্যারাফ্রেজ করলে - শনাক্তকরণ এমন কোন ধাঁধা নয় যা সমাধান করা যাবেনা না, শুধু দরকার সরকারের সদিচ্ছা। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় না আমরা যারা মেজরিটি, সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষে ব্যক্তি পর্যায়ে সিস্টেমের কোন পরিবর্তন আনা সম্ভব! সে অর্থে আমি জানিনা এই বইয়ের সাধারণ পাঠকরা নতুন করে হতাশায় পড়বেন কিনা এই ভেবে যে একটু চেষ্টা করলেই তো নীতি নির্ধারকরা পরিবর্তন আনতে পারতো! আমি জানিনা তারা কি ঘুম থেকে জাগবেন না কখনো?
This is a very good REFERENCE book on Bangladesh and its preparation for the 4th industrial revolution. There are some very good suggestions for the country's decision makers as well.
But the book is not easy to read. The writer could have spent some more time to make it a 'Reader friendly' book.
তথ্যবহুল তবে সুপাঠ্য নয়। ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে যেরকম বড় আকারে ছিল অন্য বিষয়গুলো নিয়ে সেভাবে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়নি। ব্যাংক ছাড়া অন্য পলিসিমেকার বা অন্য তথ্যপ্রযুক্তি বা শিক্ষা নিয়ে কাজ করা লোকদের জন্য আরও তথ্যবহুল বিশ্লেষণ ভিত্তিক আলোচনা দরকার ছিল। এক বইয়ে তা না করে দুই তিনটি পার্টে করতে পারতেন। পড়তে একঘেয়েমি লেগে যাচ্ছিল। যেটা মনোযোগ বিঘ্নিত করেছে। তবে লেখকের এই চেষ্টাকে স্বাগত জানাই। আশা করি পরবর্তীতে তিনি আরও সুপাঠ্য ও গভীর আলোচনা করবেন।