অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান যেখানে গুড়িয়ে যায়, কাণ্ডজ্ঞান যেখানে প্রতারিত হয়,সেখানেই সক্রিয় হয়ে উঠে কোয়ান্টাম বলবিদ্যা।
কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় কেন সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান ভেঙে পড়ে, যুগযুগ ধরে চলে আসা পদার্থবিদ্যার সূত্র কে অচল হয় খুদে কণাদের জগতে, তারই বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে এই বইয়ে।কোয়ান্টাম সুপারপজিশন, শূন্যতার শক্তি, প্রতিকণা আর বোস-আইনস্টাইন কন্ডেণ্টসেট নিয়েও রয়েছে বিস্তারিত আলোচনা।পড়তে শুরু করলে একটানে পৌঁছে দেবে কোয়ান্টামের রহস্যময়,বিচিত্র আর অবিশ্বাস্য জগতে।
❛ বইয়ের নাম নিয়ে কিছু কথা – ‘বিজ্ঞানী শোডিঙ্গার একটি মানস পরিক্ষা করেন যেখানে তিনি দেখান, একটি বাক্সের ভিতর আটকে রাখা বিড়াল ও সাথে কিছু তেজস্ক্রিয় ধাতব পদার্থ একটি র্যোন্ডম টাইমে ছেড়ে দিলে বিড়ালটি ঠিক কখন মারা যাবে তা আমরা বলতে পারব না। তাই বাক্স খুলে দেখার আগ পর্যন্ত বিড়ালটি একই সাথে জীবিত এবং মৃত এই সুপারপজিশন এ থাকবে। ’ এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর একটি আশ্চর্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ পরিক্ষা ছিলো। এখান থেকেই বইয়ের নাম এলো – শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল।
বইটিতে কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিক যেমন (ক) ফোটনের ওয়েভ পার্টিকেল ডুয়েলিটি (খ) সুপারপজিশন নীতি (গ) অনিশ্চয়তা নীতি (ঘ) ওয়েভ ফাংশন (ঙ) ব্রাকেট থিওরি (চ) বোস আইন্সটাইন কন্ডেনসেট (ছ) কাসিমির ইফেক্ট (জ) ম্যগনেটিক মনোপোল ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বর্ণণা করার ভাষা ছিলো খুবই সাবলীল ও সহজপাঠ্য। নানান জায়গায় কাল্পনিক কিছু গল্পও এনেছেন সকলের বোঝার সুবিধার্থে।
এবার আসি বইয়ের একটি ভুল লেখায়, বইয়ে উল্লেখ আছে, ‘কিন্তু মাট্রিক্স গুণনে কখনই ab=ba হবে না।’ এই বর্ণণাটি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের দৃষ্টি থেকে ভুল মনে হয়। কেননা আমার জানা মতে যত অর্থোগোনাল ম্যট্রিক্স রয়েছে সব গুলোর জোড়া গুন করলে তারা এই বিধি মেনে চলে। অতএব ‘কখনই’ শব্দটি ব্যবহার করা উচিত হয় নি। তাই আমি লেখকের সাথে যোগাযোগ করি এবং তিনি তার ভুল স্বীকার করেন। আশা করি তিনি সামনের সংস্করণে এ ভুলটি বাদ দিয়ে দিবেন। এটি খুবই ক্ষুদ্র একটি ভুল ছিলো এবং এই ভুলের ফলে বাকি লেখায় কোনো ধরনের প্রভাব পরে না। তাই একে অগ্রাহ্য করা যায়। এছাড়া বইয়ের লেখায় কিছু টাইপো ছিলো। আশা করি পরবর্তী সংস্করণে তিনি সেগুলো ঠিক করে দিবেন।
সর্বসাকুল্যে আমি বলব, ‘কোয়ান্টাম মেকানিক্স’ এর পপ লেভেল নিয়ে যারা আগ্রহী তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন। আর গুডরিডস এ এই বইয়ের থ্রেডে যেহেতু মাত্র দুইটি রেটিং দেওয়া হয়েছে তাই গুডরিডস এর রেটিং টা না দেখার ভান করতে অনুরোধ রইলো। বইটি আসলেই ভালো। ❜
স্টিফেন হকিং বাজি ধরতেন নিজের তত্ত্বের বিরুদ্ধে। তাতে লাভও আছে। হকিং হারলে জিতে যায় তাঁর তত্ত্ব। আর হকিং জিতলে সান্ত্বনা হিসেবে একটা পুরস্কার তো আছেই। কিন্তু আইনস্টাইন বাজির ধার ধারেন না। তিনি নিজেই নিজের তত্ত্বের বিরুদ্ধচারন করেছেন বারবার। প্রয়োজনে বিভিন্ন জার্নালে প্রবন্ধ লিখতে ছাড়তেন না নিজের তত্ত্বের বিরুদ্ধে। আইনস্টাইন মানতে পারেননি কোয়ান্টামকেও। অথচ এই কোয়ান্টাম কিন্তু তিনিই আবিষ্কার করেছিলেন। আইনস্টাইন যেখানে কোয়ান্টামকে মানতে নারাজ, সাধারণ মানুষের কোয়ান্টাম মানতে হবে কেন? ঠেকা পড়েছে? কিন্তু কাগজে কলমে প্রমাণ থাকলে না মেনেও তো উপায় নাই। এ যেন শাখের করাত। মানলেও সমস্যা না মানলেও সমস্যা। তাহল উপায়? সেই উপায় সুন্দরভাবে বর্নণা করা হয়েছে এই বইয়ে। বইয়ে মোট ১৮টি অধ্যায়। প্রতিটি অধ্যায় পড়তে গিয়ে মনে হবে আপনার কান্ডজ্ঞানকে নাড়িয়ে দিচ্ছে, সাধারণ বিচার বুদ্ধিও লোপ পাচ্ছে। নীলস বোর তো আর এমনি এমনি বলেননি, কোয়ান্টাম তত্ত্ব পড়তে গিয়ে যে থমকে যাবেনা, সে এই তত্ত্বের কিছুই বুঝে নি। বইটি পাওয়া যাবে যেকোন অভিজাত লাইব্রেরিতে। কিনতে পারবেন অনলাইন থেকেও।