টাইম ম্যাগাজিন' এর #সেরা_১০০_নভেলের তালিকায় থাকা দুটো উপন্যাসের ভাবানুবাদ
১. ড্যাশিল হ্যামেটের 'রেড হারভেস্ট' (Red Harvest): ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এই উপন্যাস। 'টাইম' ম্যাগাজিনের বিচারে ১৯২৩ থেকে ২০০৫-এর মধ্যে লেখা শ্রেষ্ঠতম ইংরেজি উপন্যাসগুলোর মধ্যে এটি আছে। লিখিত বইপত্রের ক্ষেত্রে এই বইয়ের প্রভাব প্রায় যুগান্তকারী। তার পাশাপাশি কুরোশাওয়া'র 'ইওজিম্বো', লিওনের 'আ ফিস্টফুল অফ ডলারস', কোয়েন ভাইয়েদের 'ব্লাড সিম্পল' - এমন কত ক্লাসিক সিনেমাকে যে প্রভাবিত করেছে এই উপন্যাস, তার ইয়ত্তা নেই। Red Harvest অনুবাদে এটি নাম পেয়েছে 'রক্তপাথার'।
২. রেমন্ড শ্যান্ডলারের 'দ্য বিগ স্লিপ (The Big Sleep)': ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি 'টাইম' ম্যাগাজিনের উপরোক্ত তালিকায় আছে। তার পাশাপাশি Le Monde পত্রিকা ওটিকে গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ একশো উপন্যাসের মধ্যে রেখেছে। এটির চলচ্চিত্রায়িত ও হামফ্রে বোগার্ট দ্বারা অভিনীত রূপটি সর্বজনস্বীকৃত ক্লাসিক। শ্যান্ডলারের গোয়েন্দা ফিলিপ মার্লো এখনও পাল্প গোয়েন্দাদের মধ্যে অন্যতম সেরা। The Big Sleep অনুবাদে এটি 'মরণঘুম' নাম নিয়েছে।
নিউ ওয়র্ল্ড মার্কিন মুলুকের সংস্কৃতির অবয়ব কিছুটা এসেছে পূর্বজ ইউরোপীয় অক্সিডেন্ট ছাঁচ থেকে কিন্তু ওপেন মার্কেটের গহ্বরে সেই ছাঁচটা আবার অনেকটাই বদলে গেছে চাঁদের অদেখা দিকের মত। প্রেক্ষিতটা যদি হয় গোয়েন্দা গল্প সেখানে ইউরোপীয় ধ্রুপদী ন্যারেটিভ, ভিদখ, গ্যাবোরিও, কোনান ডয়েলে, অগাথা ক্রিস্টির আখ্যান পেরিয়ে একটা বিশ্বযুদ্ধের উপান্তে আমরা পেলাম হার্ড বয়েল্ড আখ্যান। ড্যাসিল হ্যামেট, রেমন্ড শ্যান্ডলার প্রমুখেরা এই নতুন হার্ডভাষ্যের প্রবক্তা। বিশ্বযুদ্ধের হনন যজ্ঞ পেরিয়ে রক্তস্নাত পৃথিবীটা আর ছিল না আগের মত, গ্র্যান্ড ন্যারেটিভের চেম্বার অর্কেস্ট্রা ভার্সন আমাদের ডোমেস্টিক অলিগলিতেও ঢুকে পড়েছিল সেই ছায়া। লোভ, রিরংসা, ফেম ফ্যাটালের যে নতুন কাঠামোটা তৈরি হল তার খুব চমৎকার বঙ্গীকরণ হয়েছে এই অনুবাদে। অনুবাদক ঋজু গাঙ্গুলী মূল গদ্যের প্রেক্ষাপটকে, ওই সময়ের আলো আঁধারিকে অনুভব করেছেন তাঁর চেতনায় যেটা প্রতিফলিত হয়েছে বাংলা গদ্যের বহমানতায়। মূল লেখাগুলো পড়া থাকলেও নতুন করে পাবার আগ্রহ নিয়ে পাঠ করেছি এই অনুবাদ।
দুটি বিখ্যাত ইংরেজি অনুবাদ উপন্যাস নিয়ে এই বইটি।অনুবাদক ঋজু গাঙ্গুলী। ১ম উপন্যাস-মরণঘুম।এই উপন্যাসটির কেন্দ্রে আছে একটি রসকষহীন গোয়েন্দা চরিত্র, নূন্যতম টাকার বিনিময়ে জটিল থেকে জটিলতম কেস সলভ করাই যার নেশা।গোয়েন্দা ফিলিপ মালোর একদিন ডাক পড়ল একটি ধনী পরিবারের বৃদ্ধ কর্তার কাছে।উনি একটি পাতি ব্ল্যাকমেলিং এর কেস মার্লোকে সলভ করতে দিলেন। এই কেসটি সলভ করতে গিয়ে মার্লো আস্তে আস্তে পেঁয়াজের একটি করে খোলা ছাড়াতে ছাড়াতে অন্য মূল রহস্যটির কেন্দ্রবিন্দুটির খোঁজ পায়।এই উপন্যাসটি পড়ার পর অদ্ভুত এক মনখারাপের অনুভূতি আমায় ঘিরে ধরেছিল।বহুদিন পর এরকম টানটান থ্রিলার পড়ে মন ভাল হয়ে গেল। ২য় উপন্যাস-রক্তপাথার।আমার পড়া এখনও পর্যন্ত বেস্ট পলিটিক্যাল থ্রিলার এটি।এখানে গোয়েন্দা চরিত্রটির রীতিমত বুদ্ধির রাজনীতি খেলায় সবাইকে টেক্কা দিয়ে জিতে যাওয়া আমায় এককথায় মুগ্ধ করেছে।থ্রিলার প্রেমী দের মন বলে বলে জয় করবে এমন উপন্যাস এটি। অনুবাদক হিসাবে ঋজু গাঙ্গুলী ৮০শতাংশ সফল।কিছু কিছু জায়গার অনুবাদ পড়ে বেংলিশ(ইংরেজির মত বাংলা) মনে হলেও আর কোন খুঁত ধরা পড়েনি পাঠক হিসাবে।যদি বইটি এখনও না পড়ে থাকেন তাহলে একটাই কথা বলব-করেছেন কী!এক্ষুনি পড়ুন।