আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের জীবদ্দশায় কয়েকবার রূপান্তর হয়। তেলাপোকা খোলস বদলায়, নিম্ফ থেকে পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িঙ হয়, শুঁয়োপোকা প্রজাপতি হয়। এই রূপ বদলের নামই ‘মেটামরফোসিস’। যেসব জীবের মেটামরফোসিস হয় তাদের বলা হয় ‘মেটামরফিক জীব’।
কেমন হবে যদি বলা হয়, মানুষও একটা মেটামরফিক জীব? মানুষও খোলস বদলায়, রূপ বদলায়...
অন্ধকাশপুর, লোকালয় থেকে বেশ খানিকটা দূরে নির্জন এক উপবন। এরই ঠিক মাঝামাঝি শতাব্দী পুরনো এক বাংলো, যার প্রবেশদ্বারে শ্বেতপাথরে খোদাই করা – ‘দাঁড়াও পথিকবর!’ এই বনাঞ্চলে হঠাৎ কেন বেড়ে গেল ইঁদুরের প্রকোপ? জানা যায়, এর সাথে জড়িয়ে আছে মেডিকেল কলেজের গা হিম করা এক অতীত।
সব কিছু ধোঁয়াশা হতে শুরু করে যখন কাহিনীতে যুক্ত হয় আজারবাইজানের লুপ্তপ্রায় আদিবাসী গোত্রের এক গোপন প্রথা, পারস্যের এক রহস্যময় জাদুকর আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কলঙ্কজনক এক অধ্যায়ের সূত্র ধরে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া এক গ্লোরিয়াস সাইকোপ্যাথ।
আপাতদৃষ্টে সরল মনে হলেও সময়ের সাথে গুণোত্তর প্রবৃদ্ধিতে জটিল হতে থাকা এক অগ্নিদূর্ঘটনার কেসের দায়িত্ব পায় নাম না জানা এক তরুণ ডিটেক্টিভ। সে একলব্য হয়ে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে তার দ্রোণাচার্য, ষাট থেকে আশির দশকে দেশ-মহাদেশ দাপিয়ে বেড়ানো বাংলাদেশের ইতিহাসের চৌকসতম গোয়েন্দাকে। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল সেই প্রবাদপুরুষ?
কাহিনী বাঁক নেয় যখন এই শ্বাপদ বনে পাওয়া যায় এক রূপবতী নারীর নগ্নদেহ। এই ছায়া ছায়া বনের শত শতবর্ষজীবী মহীরুহের ভিড়ে কে এই অহল্যা?
‘মেটামরফিক নিশীথে’ এমনই এক রহস্যের গল্প, রূপান্তরের গল্প, রূপ বদলের গল্প।
"The hottest places in Hell are reserved for those who in time of moral crisis preserve their neutrality." - Dante's Inferno - মেটামরফিক নিশীথে - "বৈরাগ্য ম্যানশন" - জঙ্গলে ঘেরা অন্ধকাশপুরের এক রেষ্টহাউজ। সেখানেই শাদাব, পরাগ, মুহিদ, সোহম, সুবোধ, নীরব, মুবিন,রনি আর শুভ নামের নয়জন মেডিক্যালে পড়া যাত্রীর গন্তব্য । কিন্তু নিছক ভ্রমনের উদ্দেশ্যে এ যাওয়াই বদলে দেয় তাদের সবার জীবনের গতিপথ। - রুদ্রনীল, পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের একজন সদস্য। "বৈরাগ্য ম্যানশন ফায়ার" নামের এক কেসে সে সাহায্য নেয় সোমেন শরাফত নামক এক রিটায়ার্ড অফিসারের। দুজন মিলে শুরু করে এ অগ্নিকান্ডের আসল রহস্য উদঘাটনের। - এখন "বৈরাগ্য ম্যানশন" এ কিভাবে আগুন লেগেছিল ? সেই নয়জন তরুনের ভাগ্যে সেই রাত্রে কি ঘটেছিল? রুদ্রনীল এবং সোমেন শরাফত কি পারবে এই রহস্য উদঘাটন করতে? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্য এর লেখা সাসপেন্স থ্রিলার ঘরানার প্রথম উপন্যাস "মেটামরফিক নিশীথে"। - "মেটামরফিক নিশীথে" মুলত সাসপেন্স থ্রিলার ঘরানার একটি উপন্যাস। তবে এ ধরনের উপন্যাসে যে ধরনের টানটান উত্তেজনা বা সাসপেন্স থাকে এটি ঠিক সেভাবে লেখা হয়নি। গল্পে থ্রিলারের সাথে নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা নানা এংগেলে তুলে ধরা হয়েছে এবং সেটি খুবই বোল্ড, লাউড এবং ক্লিয়ার আকারে। প্রথম উপন্যাসেই এ ধরনের বোল্ড টপিক এভাবে উপস্থাপনের জন্য লেখককে সাধুবাদ। - "মেটামরফিক নিশীথে" গল্পটি নন লিনিয়ার ভঙ্গিতে লেখা। নানা ধরনের টাইমলাইনের নানা ঘটনা ধরতে প্রথমদিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। গল্পের কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছে অতিরিক্ত বর্ণনা দেয়া হচ্ছে, একই কথার রিপিটেশন হচ্ছে আবার কিছু ক্ষেত্রে হুঠহাঠ করেই কাহিনী শেষ হয়ে গেছে যেখানে আরো বর্ণনা দেয়া উচিত ছিল বলে মনে হয়েছে। - "মেটামরফিক নিশীথে" গল্পের চরিত্র গুলো লেখক যথাসম্ভব রিয়েলিস্টিক রাখার চেস্টা করেছেন। তারপরেও কিছু চরিত্রের ব্যপারে, কিছু কাহিনীর ব্যপারে শেষ হবার পড়েও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। গল্পে নানা ধরনের পপ কালচারের বর্ণনা ভালো লেগেছে। বইটি পড়তে গিয়ে এ ধরনের আরেক প্রিয় বই "লর্ড অফ দ্য ফ্লাইজ" এর কথা বার বার মনে হচ্ছিল। গল্পে শেষদিকে এসে একসাথে অনেক কিছু ঘটানোর চেস্টা করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে সেগুলোর কিছু কিছু ক্লিক করেছে আবার কিছু কিছু একেবারেই ক্লিক করেনি, তাই এন্ডিংটা আরো বেটার হতে পারতো। - "মেটামরফিক নিশীথে" এর বাইন্ডিং, কাগজ প্রকাশনীটির অন্যান্য বইয়ের মতোই চলনশীল। বইটির মেকাপ আরো ভালোভাবে করা যেত, প্রচ্ছদ মানানসই লেগেছে। প্রথম উপন্যাস হিসেবে "মেটামরফিক নিশীথে" লেখকের একটি ভালো প্রচেস্টার ফলাফল বলা যায়। যারা টানটান উত্তেজনাকর থ্রিলার বাদ দিয়ে একটু অন্য ঘরানার থ্রিলার পড়তে চান তারা বইটি পড়তে পারেন।
সাইন কার্ভের মত বইটা এগালো। প্রথমে মনে হচ্ছিল প্রেম প্রীতির বাড়াবাড়ি হবে, মাঝখানে এসে বইটা কোপাকুপির দিকে দুর্দান্ত টার্ন নিল, এরপর আবার শেষে এসে হাস্যকর রকমের অবাস্তব ঘটনা শুরু হল। লেখার প্যাটার্ণ খুবই ভালো, কাহিনি যাই হোক শেষ পর্যন্ত আরামসে পড়া যায়। প্রেম প্রীতি আর ধর্ষণ নিয়ে বাড়াবাড়ি বেশি না হলে আরো এক তারা দেওয়া যেত।
বই: মেটামরফিক নিশীথে লেখক: আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্য জনরা: সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার প্রচ্ছদ: ডিলান প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২০ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯১ মুদ্রিত মূল্য: ২২০/-
জঙ্গলের মধ্যে নিস্তব্ধ নিরবতায় একটি ম্যানশন... অগ্নি দুর্ঘটনায় ম্যানশন ও বাসিন্দারা সবই শেষ। কিন্তু কাছেই পাওয়া গেছে এক রহস্য মানবীকে! বনাঞ্চলে হঠাৎ বেড়ে যায় ইঁদুরের প্রকোপ। যেন তেন ইঁদুর না, ল্যাব এক্সপেরিমেন্টাল! রহস্যমানবীর শরণাপন্ন হয় ডিটেকটিভ রুদ্রনীল, জানতে পারে বিভৎসতা সে রাতের!
যে কোনো এক্সপেরিমেন্টকে সফলতার দোরগোড়ায় পৌছুতে বহু ধাপ অতিক্রম করে যেতে হয়। এমনই একটা এক্সপেরিমেন্ট এবং তার জন্য একজন সাইকোপ্যাথের জন্মের কথা লেখক বলেছেন। টুইস্ট, মিস্ট্রি, থ্রিলার সাথে অল্পবিস্তর একশন সবই আছে তবে ক্রিপি ভাইভা বেশি অনুভব করেছি। খুনগুলোর বর্ণনা গা শিরশির করার মতো। শেষটা ভালো লেগেছে। এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে আরও ডিটেলিং থাকলে ভালো হতো। পেজ ৪৯, ১৩৯, ১৫১ আগের তিনটা ঘটনা রিপিট হয়েছে।
দুটা খটকা আছে। ঘটনা যদি তিনবছর আগের হয় তাহলে দুজনের সিমেন স্যাম্পল কীভাবে পাওয়া গেল? পঁচিশ বছর আগের ঘটনা কীভাবে কানেক্টেড?
বইটির ফ্ল্যাপের লেখা কথাগুলো দেখে পড়ার ইচ্ছে জাগল। সেই সাথে বাংলা সাহিত্যের নবীন থৃলার লেখকদের লেখা পড়ার আগ্রহও ছিল। প্রথম পরিচ্ছেদটুকু পড়ে ভেবেছিলাম বেশ একটা জম্পেশ কাহিনী হতে যাচ্ছে। তবে ফ্ল্যাপের লেখায় যেরকম থ্রিল ছিল বইয়ের ভেতরে সেরকম কিছু পাইনি। অনেকটা সিনেমায় দেখা নায়িকার ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের নায়ক কর্তৃক প্রতিশোধ নেয়ার কাহিনীতে কিছুটা বাড়তি গল্প যোগ করে সাসপেন্সের একটা রূপ দেয়া। কিছু জায়গায় বেশ বেখাপ্পা লেগেছে। দেখানো হল, হৃদিকে অনুভূতিনাশক কিছু খাওয়ানো হল যে কারণে সে আঙুলও নাড়াতে পারছে না। কিন্তু আবার সে নিজের হাতে নিজেই কামড় দিয়ে নায়ক শাদাবকে ইঙ্গিত দিয়ে বুঝিয়েও দিল। আঙুলও নাড়াতে পারে না সে আবার নিজের হাত মুখের কাছে এনে কামড় দেয়ার শক্তি কই পাবে! প্রবাদপ্রতীম গোয়েন্দা যার কথা বলা হয়েছে হঠাৎ উধাও এমন কিছু মনে হয়নি। তিন বছর আগে কবর দেয়া মৃতদেহকে বাড়ির পাশে পরে থাকতে দেখে কেউ ভীত হল না উলটো আবারও তাঁর সাথে পৈশাচিক খেলায় মেতে উঠল কিন্তু সেই দেহ শব্দ করে উঠলে সবাই এমন ভয় পেয়ে গেল সেটা একটু বিরক্তিকরই মনে হয়েছে। যাহোক, মেডিকেল সাইকো পরাগের বীভৎসতার কাহিনীগুলো একটু থ্রিলিং ছিল তাই রক্ষে! এছাড়া প্রতিটি পরিচ্ছেদের নামগুলো ভাল লেগেছিল। আর সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং লেগেছিল শুরুর কাহিনীটুকু। লেখকের মনে হয়তো প্রচ্ছন্নভাবে ধর্ষকদের শাস্তি দেবার কোন সুপ্ত ইচ্ছে থেকেই কাহিনীটি লেখা। তবে ভালো থৃলার লেখক হতে হলে আরো অনেক পরিশ্রম করতে হবে। খুব বেশি থ্রিলের কিছু পাইনি তবে প্রথম বই হ��সেবে ইট ওয়াজ ওকে।
অদ্ভূত এক এক্সপেরিয়েন্স হলো আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্যর 'মেটামরফিক নিশীথে' পড়ে। ক্রিপি, ইরি অনুভূতিটা ঠিক বুঝিয়ে বলার মত নয়। উপন্যাসে এমন কিছু লিখে পাঠককে এই অনুভূতিটা দেয়াটা চাট্টিখানি কথা না। আমি একটু অবাক হয়েছি এই বইটা নিয়ে এত কম কথা হওয়া দেখে। এই বইটা আরো আলোচনা ডিজার্ভ করে, নিঃসন্দেহে।
আর প্লটের কথা বললে বলতে হয়, এরকম দারুণ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের প্লট আমি খুব একটা পড়িনি। কেন্দ্রীয় চরিত্রের সাইকোলজি আমি খুব ভালো ক্যাচ করতে পেরেছি বলেই হয়তো এতটা ভালো লেগেছে। আর যে জিনিসটা বেশ ভালো লেগেছে তা হলো পরতে পরতে টুইস্টের ব্যাপারটা। টুইস্ট হলেই যে আমার খুব ভালো লাগে তা নয়, বরং টুইস্ট জায়গামতো না হলেই আমার বিরক্ত লাগে। সেই হিসেবে বলতে গেলে 'মেটামরফিক নিশীথে'র টুইস্টগুলো একদম টু দ্যা পয়েন্ট ছিলো। তবে এতদসত্ত্বেও একটা জিনিস আমার দূর্বল বলে মনে হয়েছে। তা হলো লেখকের ডেলিভারী। কিছু জিনিস রিপিট হয়েছে, কিছু খেই হারিয়েছে, কিছু ফ্লোতে যেতে যেতে হঠাৎ ধুপ করে নিচে পড়ে গেছে। মোদ্দা কথা, লিখনশৈলীতে খানিকটা অপরিপক্কতা দেখা গেছে। তবে আমার ধারণা সময়ের সাথে সাথে এই অপরিপক্কতা কেটে যাবে। লেখকের পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
লেখকের পড়া এই প্রথম বই আমার।গল্পটার প্রায় শেষ পর্যায়ে গিয়ে বারবার মনে হচ্ছিল, এই লেখকের সাথে আমার যদি কখনো দেখা হয় বা কথা হয়,আমি তাকে অবশ্যই বলবো,"আপনি ভাই লোক ভালো না।এমন মারাত্মক খুন, প্ল্যান,টর্চার আইডিয়া নিয়া ঘুমান কেমনে আপনি!!!"
এতো নিখুঁত নৃশংসতা কেউ কাগজে কলমে লিখতে পারে বলে আমার ধারনা ছিলো না।খুব হাস্যকর হলেও সত্যি,গল্পের শেষে বারবার আমার মনে হয়েছে,"ভাগ্যিস এটা গল্প,বাস্তব না!"
আমার মতে,বইটা খুব জটিল এবং নৃশংসতায় ঘেরা,আমার মতো সহজ সরল মানুষের জন্য গল্পের শেষটা অনেক বড় ধরনের ইমোশনাল ধাক্কা ছিলো।আন এক্সপেক্টেড।পরাগের পরিনতিতে খুশি হইছি।তবে সবথেকে বেশি খারাপ লাগলো বিনিতার জন্য। বেচারি.. হৃদি শেষমেশ ভালো দিন দেখলো,কিন্তু বিনিতা আর সুখ পাইলো না।
থ্রীলার লাভারদের জন্য এটা বেশ সাদরে গ্রহনযোগ্য বই।তবে বইটা পড়ার সময়, অবশ্যই মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।নাহলে তালগোল পাকিয়ে ফেলবেন কাহিনিতে।
Life lesson : ★নেভার ট্রাস্ট এনিওয়ান। "NOBODY" ★ডাক্তার মানেই সে নার্ড। পড়া ছাড়া আর কিছু বোঝে না।বিষয়টা তা না। চোখ বন্ধ করে তাকে পার্টনার বানানো যাবে না।কিছু ডাক্তার সাইকোপ্যাথ ও হয়।হতেও পারে ছুড়ি কাচি নিয়ে বাসর ঘরে ঢুকে গেলো।😉
ঘটনার সূত্রপাত একটি বিশাল ম্যানশনের অগ্নিকাণ্ড থেকে। বনের ঠিক মাঝখানে, যেখানে জনমানুষের চিহ্ন নেই, সেখানে এমন এক বিশাল ম্যানশন থাকার রহস্য কী? তাও আবার এই গভীর রাতে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের বিশাল লাভা দূর থেকে অবলোকন করা যায়। সেই ধোঁয়া দেখেই পুলিশ এসে। খুব স্বাভাবিক কেস মনে হয়। জেনারেটর বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিসংযোগ, আর তাতে পুরো ছাই হয়ে যাওয়া কিছু মানুষের লা শ খুঁজে পাওয়া। কিন্তু বাঁধ সাধে তখন, যখন ম্যানশনের ঠিক বাইরে অক্ষত অবস্থায় নগ্ন, অজ্ঞান থাকা এক নারীকে পাওয়া যায়। তখনই বদলে যায় সকল সমীকরণ। নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো রহস্য আছে। আর তার মূল খুঁজে বের করতে হবে ডিটেকটিভ রুদ্রনীল।
শাদাব খুব সাধারণ একজন ছেলে। চুপচাপ, লাজুক। খুব বেশি কথা বলে না। মেডিকেল কলেজের ছাত্র। তার সাথে বিনির পরিচয় মেডিকেল কলেজেই। মুখে না বললেও দুইজনের বন্ধুত্ব প্রণয়ে পরিণত হতে বেশি সময় লাগেনি। কিন্তু ভালোবাসার এই গল্প যেন হুট করেই থমকে যায়। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে শাদাব হারিয়ে যায়। ঠিক কোথায়? কেউ জানে না। এই শহর থেকে কেউ একবার হারালে আর ফিরে আসে না। শাদাব কি ফিরবে বিনির কাছে?
পরাগ ছেলেটা তুখোড় মেধাবী। অ্যাকাডেমিক জিনিয়াস এই ছেলেটা নিজের কাজে মগ্ন থাকে। কী এক অদ্ভুত গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছ। এর জন্য সে সবকিছুই প্রস্তুত। তার মন মাতানো হাসিতে মজে থাকে নারীরা। বিনি তাই হয়তো শাদাবকে ভুলে গেছে। পরাগের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক কি এর বেশিকিছুতে রূপান্তরিত হবে? পরাগের শিশুসুলভ মায়াবী হাসির আড়ালে যে অন্য এক রূপ লুকিয়ে আছে তার অস্তিত্ব কি বিনি পাবে?
হৃদি একজন উঠতি অভিনেত্রী। এক অডিশনের ডাকে এমন এক জায়গায় তাকে যেতে হয়, যেখানে গা ছমছমে অনুভূতি হয়। নারীদের জন্য এ জাতীয় কাজ খুব সহজ নয়। বিশেষ করে নির্জন এক বাড়িতে প্রবেশ করলে ভয় ধরানো অনুভূতি হয়। সেদিন যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে হৃদিকে যেতে হয়েছে, হয়তো সারাজীবন তাকে এই অভিজ্ঞতা তাড়িয়ে বেড়াবে। কিংবা হতে পারে ভিন্ন কিছু ঘটতে চলেছে তার জীবনে। যার রেশ বছরের পর বছর ধরে চলবে।
একদিন এর যবনিকাপাতের সময় উপস্থিত হবে। কত বছর? ১/২/৩/৪? নাকি এর বেশি? প্রতিশোধের এক গল্প লিখে যখন মানবিক হওয়ার এই পরিস্থিতি অনেক কিছুই বলতে চায়। আইন যখন নিজের প্রক্রিয়ায় চলতে অপারগ, তখন নিজেকেই আইন হয়ে উঠতে হয়। তাই এই গল্পের শেষটা ভাবতে বাধ্য করবে। ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় অন্যায়কে রুখতে চেষ্টা করবে। কতটা পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
“মেটামরফিক নিশীথে” আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্যের প্রথম বই। আমি যদিও লেখকের দ্বিতীয় বই “অনার্য দেব” আগে পড়েছি। আমার ভীষণ পছন্দের সে বই। সে তুলনায় “মেটামরফিক নিশীথে” কেমন লাগল? লেখকের লেখনশৈলীর কথা যদি বলা যায়, তিনি খুব সাবলীল বর্ণনায় কাহিনি এগিয়ে নিয়ে যান। গল্পের গতিও আছে বেশ। প্রথম বই হিসেবে লেখার মধ্যে জড়তা একদমই ছিল না। বরং দ্রুত গতিতে কাহিনি এগিয়ে গিয়েছে। লেখকের উপমার ব্যবহার, ভাষাশৈলী ও শব্দচয়নও দারুণ।
গল্পের শুরুটা অতীতের এক ঘটনার মধ্য দিয়ে। হয়তো এর মধ্য দিয়েই একজনের মনস্তত্ত্বের যে পরিবর্তন, বড় হয়ে মনস্তত্ত্বের যে ভয়ংকর রূপ, তার আভাস পাওয়া যায়। যদিও মূল ঘটনার শুরু এক বিস্ফোরণ দিয়ে। জঙ্গলের মাঝে এক ম্যানশন জাতীয় বিশাল বাড়ি অগ্নিকুন্ডে পরিণত হওয়ার মধ্য দিয়ে। তার সামনে পাওয়া যায় অজ্ঞাত নারীর অজ্ঞান নগ্ন দেহ। ঠিক কী হয়েছিল সে বাড়িতে, এই রহস্য উদঘাটনই বইয়ের মূল উপজীব্য।
আমার বইটা ভালো লেগেছে। বিশেষ করে লেখকের গল্প বলার ধরন পছন্দ হয়েছে। সাসপেন্স ছিল বেশ ভালো মতোই। প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে লেখক যেভাবে মূল ঘটনার সাথে অতীতের বিভিন্ন সময়কাল উল্লেখ করেছেন। ঘটনার কিছু সময় পূর্বে বা তারও অনেক বছর আগের কোনো ঘটনা এখানে বর্ণিত হয়েছে। সময়কালের এই ছন্নছাড়া অবস্থা এক সুতোয় কীভাবে বাঁধে, এটাই দেখার বিষয় ছিল। আর লেখক এখানে বেশ দক্ষতার পরিচিত দিয়েছেন।
ঘটনাক্রম লেখক ন্যাচারাল রাখার চেষ্টা করেছেন। এখানে কাকতালীয় ঘটনার সমন্বয় ঘটেছে। কোনো পরিকল্পিত ঘটনা এখানে স্থান পায়নি। মানুষের বিপদ আসে আচমকা। আর এই আচমকা ঘটনার মূল ভিত্তি এই রহস্যের। তবে মনস্তাত্বিক দিক দিয়ে যদি চিন্তা করি, তাহলে এর ভিত্তি অনেক আগে কারো মনস্তত্ত্বের পরিবর্তনের কারণে হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রেম আছে। তবে প্রেমের কচকচানির আধিক্য ছিল না বলে বাঁচোয়া। চোখের আড়াল হলেই কি মনের আড়াল? নাহলে প্রেমিক হারিয়ে গেলে কেন অন্যতে মজে যাওয়া?
এই বইয়ের প্রধান দুই চরিত্র বলা যায়, শাদাব ও পরাগ। পরাগের মনস্তত্ত্ব এখানে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। একজন বৈজ্ঞানিক জিনিয়াস। নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশায় যে যেকোনো গভীরে যেতে পারে। কিন্তু এতে যে মানসিক অবস্থার যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়, তার পূর্ণ প্রতিফলন এই বইটি। এই আবিষ্কার ও পরীক্ষা নিরীক্ষা নিয়ে আরো বেশি বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল। লেখক কেন জানি বিষয়টা এড়িয়ে গিয়েছেন বোধগম্য নয়। অন্যদিকে শাদাব মানবিকতায় পরিপূর্ণ এক যুবক। যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের শত্রু হতেও দ্বিধা করে না।
এছাড়াও বইতে অনেকগুলো চরিত্র ছিল। বন্ধুমহলের এতগুলো চরিত্রের প্রত্যেককে গুরুত্ব দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে উপস্থাপন করা লেখকের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবুও প্রত্যেকে সমান জায়গা পেয়েছে, তাদের ভূমিকাও স্পষ্ট। কোনো জগাখিচুড়ী করে ফেলার অবস্থায় লেখক নিয়ে যায়নি বলে লেখককে ধন্যবাদ।
লেখক তার গল্পের মাধ্যমে সমাজ, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধ প্রবণতার দিকে আলোকপাত করেছেন। এই যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সিনিয়রদের জুনিয়রদের প্রতি ভদ্র দেখানোর যে ক্লাস করানো হয়, তার পরিণতি কখনও ভয়াবহ। তবে লেখক যে বিষয়কে এই বইয়ের আলোচ্য বিষয় করে তুলেছেন — ধ র্ষ ণ! এই নির্মম, নিষ্ঠুর অপরাধের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেও নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। লেখক হয়তো তার ক্ষোভ, আক্ষেপ, হতাশা থেকেই গল্পটা লিখেছেন। অক্ষম রাগে নিজের যে ইচ্ছে, তারই হয়তো প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
এই বইটিকে একাধিক জনরায় ফেলা যায়। সাসপেন্স থ্রিলার, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, রিভেঞ্জ থ্রিলার। বলা যায়, সবকিছুর মিশ্রণ এই বইয়ের ক্ষেত্রে বেশকিছু চমক ছিল। গল্পের ধারায় কখনও আয়েশি ভঙ্গিতে শ্বাস ফেলার উপায় ছিল না। একটি ঘটনা শেষ হলে, আরেকটি চমক সামনে এসে উপস্থিত। প্রতিটি ধাপে এর জনরা পাল্টেছে। আর আমিও ভিন্ন ধারার এই গল্প উপভোগ করেছি।
যদিও কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল। বর্ণনার ক্ষেত্রে লেখক সম্ভবত বুঝতে পারেননি কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, আর কোন বিষয় এড়িয়ে গেলে ক্ষতি নেই। কিছু অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা যেমন এসেছে, তেমনই যেখানে বর্ণনার প্রয়োজন সেখানে বর্ণনার ঘাটতি লক্ষ্য করেছি। যে অধ্যায় দিয়ে গল্পের শুরু, মাঝের দিকে একই অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি ছিল। আমার মতে এর প্রয়োজন ছিল না। আর যদি লেখক একান্তই উল্লেখ করতে চাইছিলেন, তাহলে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে বর্ণনা করা যেত। এমন আরও একবার লক্ষ্য করেছেন। ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলে একঘেয়ে লাগত না।
এছাড়া পরাগের মায়ের কাহিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। আরেকটু বর্ণনার প্রয়োজন ছিল। একইভাবে শাদাবের যে অতীত কাহিনি উঠে এসেছে, আমার কাছে অতিরঞ্জিত লেগেছে। লেখক হয়তো পৃষ্ঠা সংখ্যা বাড়াতে চাননি, কিন্তু আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ যে বিষয় আমার মনে হয়েছে। বইয়ে উল্লেখিত নারীর দেহে একাধিক পুরুষের সিমেন পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাক্রমে জানতে পারি, মূল ঘটনার সময়কালে এই পরিস্থিতি অসম্ভব। স্পয়লার হয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে বলে আলোচনা করলাম না। পাঠক পড়লেই বুঝতে পারবে কেন বলেছি। আমার মনে হয়েছে, শুরুর দিকে পাঠককে গল্পের সাথে সংযুক্ত করার চেষ্টায় লেখক এই ঘটনা উল্লেখ করেছেন। যদিও ঘটনাক্রম বলছে, এটা কোনোভাবেই সম্ভব না। আর যদি সম্ভবও হয়, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এই বইয়ের একজন তদন্তকারী অফিসার ছিল — রুদ্রনীল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন পুলিশ অফিসারকে ইন্সপেক্টর বলে সম্বোধন করা হয়। লেখক এখানে ডিটেকটিভ বলে উল্লেখ করেছেন। এ কারণে রুদ্রনীলকে নিয়ে আমার দ্বিধা আছে। তার ব্যাক স্টোরি সেভাবে উঠে আসেনি। তদন্ত প্রক্রিয়াও এখানে গুরুত্ব পায়নি। বরং বয়ানের মাধ্যমে এক নিকৃষ্টতম ঘটনার আলোচনায় গা শিউরে ওঠা স্বাভাবিক। এই বিষয়টা যদিও পছন্দ হয়েছে। প্রচলিত ঘটনা প্রবাহের দিকে না গিয়ে লেখক অন্যভাবে এক এক করে সকল ঘটনা ও পরিস্থিতি নিয়ে এসেছেন।
সোমেন শরাফত নামে একজন এখানে আছে। তার অতীত নিয়ে অনেক আভাস দেওয়া হলেও ঠিকঠাক ফুটিয়ে তোলা হয়নি। এখানে লেখক রহস্য করেছেন। অথচ এই বিষয়গুলো যদি লেখক আরেকটু যত্ন নিয়ে, সময় নিয়ে সাজাতে পারতেন; আরও বেশি উপভোগ করতাম। তৃপ্তি নিয়ে পড়তাম।
শেষটা বেশিই ভালো লেগেছে। যে অক্ষমতা আমাদের ঘিরে ধরে, অন্যায় দেখেও কিছু করতে না পারার হাহাকার থেকে মাঝে মাঝে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাতে হয়। আইনের দুর্বলতা বলি না, প্রভাবশালীদের কাছে মাথা নত করে বলি; আইন সবার জন্য নিজেদের বিলিয়ে দেয় না। তখন নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করতে হয়। আর আইনের রক্ষক হয়ে কখনও অনেক কিছু দেখেও চোখ বুজে রাখতে হয়। এই সমাজের আইন তো প্রয়োজনের সময়েই চোখ বুজে রাখে। আরেকটু প্রয়োজনে রাখলে ক্ষতি তো নেই।
▪️পরিশেষে, আমরা ভাবি এক, আর হয় আরেক। আমরা যখন কোনো মানুষের বয়ান শুনি, তখন এর সত্যতা বিচার করার উপায় থাকে না। বিশ্বাসের উপর ভরসা করেই চলতে হয়। কিন্তু গল্পের ভেতরে গল্প থাকে, রহস্যের ভেতরে রহস্য। তাই মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, চমকে যেতে হয়। এই সমাজের হাজারটা সমস্যা আছে। অন্যায় যেন নিত্য নৈমত্তিক বিষয়। নারীদের সম্মান হরণের মতো গর্হিত কাজের বিপরীতে আমাদের কিছু করার থাকে না। আইন থাকে অর্থের কাছে বন্দী। রাগে-দুঃখে চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করে। কিছু করতে না পারার আক্ষেপে হয়তো কোনো না কোনো সময়, নিজেরই বিচারক হিসেবে আবির্ভূত হতে হয়। হয়তো সমাজ থেকে এই অপরাধ একেবারে নির্মূল করা যায় না, তৃপ্তি তো পাওয়া যায়।
We must all ask what is actually "Metamorphic Nishiithe" about. It's about you and me? no it's about society and mankind's root and deep problems which corrupt us. but basically it's about us but in a broader perspective.
This book had the power to keep me engaged for so long, that i missed my bus stop at least 10 times -.- but in the end, the ending and climax made it worthwhile.
I always loved dark toned thrillers, and "Metamorphic Nishithe" is definitely a wonderful craft of this genre.
the pop culture references and song placements and descriptions of the scenes made the story more visible in front of the eyes.
overall i suggest all of you to read this epic dark toned thriller which will keep you hooked until you're finished
Book Review: মেটামরফিক নিশীথে Writer: Ali Wahab Showhardo প্রকাশনায়ঃ বাতিঘর প্রকাশনী
‘রক্ত! এতগুলো রক্ত এর আগে কখনো একসাথে দেখেনি।’ - এখান থেকেই বোধহয় কাহিনী ও চরিত্রের এক নতুন মোড়ের সূচনা। মা থেকে ছেলের মস্তিষ্কের সংক্রামক বিকৃতি(বোধহয়)। বিজ্ঞান, কুসংস্কার, অবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, ভার্সিটি লাইফ, র্যাগিং, বন্ধুত্ব,আড্ডা, প্��েম,ঘনিষ্টতা,বিচ্ছেদ, মানুষের বদলে যাওয়া, ভালো-মন্দের দ্বন্দ, পৈশাচিক পুরুষত্ব, ধর্ষণ, ধর্ষিতার মনোভাব, ন্যায় বিচারের অভাব, গোয়েন্দাজীবন, গুরুর সন্ধান, কিছু নৈতিক ন্যায়বিচার,গিরগিটি সমাজ, সাইকোপ্যাথ এমন আরো অনেক ছোট খাটো বিষয় এই বইয়ের প্রতিটি পাতায় হাজারো রকমের মেটাফোর দিয়ে সযতনে লেখকের মন এবং চেতনাকে আকৃষ্ট করার জন্য মুদ্রিত হয়েছে৷ বই মানে হলো একটি ঘটনা, একটি জার্নি, একটা ঘোর। সে সবই এখানে ছিল। তুলনা করাটা এখানে পাপ৷ প্রতিটি লেখকই স্বাধীন এবং স্বচিন্তায় মুখর৷ কিন্তু লেখকের মন বুঝে, লেখককে প্রতি পেইজে এবং পরের পেইজ অবধি এক অদৃশ্যভাবে বাধ্য করে নিয়ে যাওয়া লেখক হিসেবে একটা আবশ্যিক গুণ। লেখকের প্রতিটি কথা সত্য, প্রতিটি বাক্য সত্য, প্রতিটি ঘটনা সত্য, প্রতিটি চরিত্র সত্য, আবেগ,অনুভূতি, ব্যথা সত্য ঃ এইখানেই আমার মতে একজন লেখকের স্বার্থকতা৷
নিঃসন্দেহে এক ঘোর লাগা সেই অন্ধকাশপুরের বৈরাগ্য ম্যানশন থেকে বের হয়ে বলছি অসম্ভব ভালো লাগা ছিল গোটা বইয়ে। কোথাও কোথাও খুব হাই ক্লাস লেখা ছিল, কোথাও লেখাগুলো বাচ্চামি পর্যায়ে গিয়েছি৷ কিন্তু মোটমাট যদি কেউ অবসর কাটাতে চায় তবে তার জন্য নিঃসন্দেহে একটি ঘোর লাগা স্বপ্নের জার্নি হবে এই ‘মেটামরফিক নিশীথে’। লেখকের আগামী দিনগুলোর জন্য এবং আগামী এমন অসাধারণ বইয়ের জন্য রইল শুভকামনা। ❤
আমার মত যারা আমজনতা আছেন। মানে আপামর জনতা আরকি। বই টই পড়েন না। লাফাংগা মানুষ। তারা এটা পড়ে মনে করবেন 'ওরে সেই তো'। আর যদি ব্যাপক মাত্রায় বই এর পোকা, আলোচক, সমালোচক হন তাহলে মোটামুটি ডজন খানেক বিষয় তুলে ধরতে পারবেন যা আপনার কাছে অযৌক্তিক। তবে বলবো বই টা একদম নিজস্বতা ধারণ করে। তবে এটাও বলা যায় যে এটার লেখক অনেক অনেক থ্রিলার বই পড়ে, মুভি দেখে সেগুলো কে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে সম্পুর্ণ নিজের বানানো জগৎ থেকে একটা বই লিখেছেন। এবার আসি উপসংহার এ। আমি প্রায় ৭-৮ বছর পরে বই পড়তে বসে ১৯১ পৃষ্ঠার এই বই এক বসা তে একদিনের মধ্যে শেষ করেছি। সুতরাং নিসন্দেহে এই বই আকাঙ্ক্ষ, আসক্তি, আগ্রহ ধারণ করে। তবে বলবো এই বইয়ের পেছনের শ্রম কে জ্যামিতিক হারে বাড়িয়ে মেধা খাটিয়ে পরের বইটি লিখতে পারলে সেটা লেখকের জীবন পরিবর্তনকারী বই হতে যাচ্ছে।
সৌহার্দ্য ভাই এর প্রথম বই, এইজন্য প্রথমে এক্সপেক্টেশন কম রেখে পড়া শুরু করছিলাম। বাট ভাই, হি টুক মি বাই সারপ্রাইজ।। ওভার অল প্লট,মেটাফোর,লাস্ট এ গ্র্যান্ড রিভিল আর এন্ডিং। সব মিলায়ে মারাত্নক। তো ঘটনা একটা ম্যানশন ফায়ার কে কেন্দ্র করে।নির্জন এক পাহাড়ি এলাকায় "বৈরাগ্য" ম্যানশন এ আগুন লাগা, কয়েকজন এর দগ্ধ লাশ, ম্যানশন এর পাশে পরে থাকা এক নারীর নগ্ন দেহ আর ম্যানশন কে ঘিড়ে হাজার হাজার ইদুর। স্টোরি এর মূল এলিমেন্ট এই কয়টাই। মেডিকেল পড়ুয়া ৯ জন ছাত্র ট্যুরে যাচ্ছিলো তাদের ই এক ফ্রেন্ড এর ম্যানশন এ।ম্যানশন টা বলতে গেলে অনেক নির্জন এলাকায়।।হুট করে তাদের গাড়ির সামনে এসে ধাক্কা খায় এক নারী।এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের হাত থেকে বেঁচে ফিরেছে।কিন্তু তার ভাগ্য ততোটাও ভালো ছিলো না।এই নয়জন ডাক্তার এর দল তাকে রেস্কিউ করে ঠিক ই। কিন্তু তাদের মাঝের একজন তাকে টেস্ট সাব্জেক্ট বানানোর পরিকল্পনা করে।।টেস্ট এর উদ্দেশ্য? প্রোপার খাবার,বাসস্থান পাবার পর একজন সেক্সুয়ালি ফ্রাস্টেটেড মেয়ে রেপ এঞ্জয় করবে কিনা।বাট এই এক্সপেরিমেন্ট কন্ডাক্ট করা থেকে ম্যানশন এ আগুন লাগা, আর আসল সত্য উদঘাটন এর জার্নি টা অনেক ইন্ট্রিগিং। আই নো বই এর থিম অনেক ডার্ক। কয়েকটা জায়গায় আমার নিজের ই কষ্ট হইছে পড়া কন্টিনিউ করে যেতে।।বাট লাস্ট এ ক্লাইম্যাক্স,প্লট টুইস্ট টা অন্যরকমের।। মাঝে দিয়ে কিছু জায়গা Nolan এর The dark knight এর সাথে মিলে।কিছু ডায়লগ আরকি।মানে একদম শেষ এ পরাগ আর শাদাব এর কথোপকথন টা ডার্ক নাইটের জোকার আর ব্যাটম্যান এর কথোপকথন থেকে নেয়া। তো ওভার অল, Ali Wahab Showhardo - আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্য ভাই রক্স।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বইঃমেটামরফিক নিশীথে (থ্রিলার) লেখকঃ আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্য প্রকাশনীঃবাতিঘর মূদ্রিত মূল্যঃ ২২০ টাকা প্রচ্ছদঃ ডিলান প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ পৃষ্ঠাঃ ১৯১ “ পিচাশ পিচাশ পিচাশ ঠিক করে বল কি চাস? রক্ত খেতে ইচ্ছে হলে পিপাসা কি করে মিটাস?” বইয়ের শুরু ক্লাস থ্রিতে পড়া এক ছেলের তার মাকে উদ্দেশ্য করে উপরের চাত লাইলের ছড়া রচনার মাধ্যমে। ছেলেটা মাকে পিচাশ বলে অভিহিত করে এবং মা কতৃক প্রহৃত হয়। তারপর আমরা দেখতে পাই পুলিশ একটা নির্জন বনের মাঝে একটা বিশাল দোতালা বাড়ি খুঁজে পায় যা আগুন পুড়ে গেছে ।সেই বাড়ি থেকে ৯টা ছেলের লাশ পাওয়া যায় যা সবাই মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিলো।কাহিনি আরো আকর্ষণীয় উঠে যখন ডিটেক্টিভ রুদ্রনীলের টিম অর্ধনগ্ন এক নারীকে ঐ বাড়ির কাছেই অচেতন ভাবে পড়ে থাকতে দেখে।তারপর থেকে কাহিনি বর্তমান এবং ফ্ল্যাশব্যাক এ ঘোরা ফেরা করে। কে ঐ ৯ জন ছেলের খুনী এবং ঐ মেয়ে কিভাবে গেলো ঐ বনে তা খুঁজে বের করার চেষ্টাই করে ডিটেক্টিভ রুদ্রনীল। কাহিনির খুবই গতিশীল ছিলো।কিছুটা হরর ফিল ছিলো শুরুতে,কিন্তু কাহিনি যতই এগিয়েছে হরর ভাবটা চলে গেছে।আমার কাছে এই ব্যাপারটা এই বইয়ের মাইসান পয়েন্ট লেগেছে।গল্পে হরর এড করলে আরো জমতো। সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো ডিটেক্টিভ রুদ্রনীলের ক্যারেক্টার ডেভেলাপ করা হয়নি একবারেই।না তার সম্পর্কে বা তার কাজের সম্পর্কে ডিটেইল কিছু আছে,তেমনি গল্পের রহস্য সমাধান করার ব্যাপারে তার তেমন ভূমিকা আছে। অনেকটা কষ্টহীনভাবেই সমস্যা সে সমাধান করে ফেলে।এই প্লট নিয়ে দারুন কিছু করার সুযোগ ছিলো লেখকের। আমার রেটিংঃ ২/৫ বেশি বেশি বই পড়ুন।
I for a fact didn't know this was a debut book and didn't really know what this book would be about. Tbh I bought it for that cover. Had a fresh start, some complicating and thrilling contexts were introduced, making me curious about how's the story gonna unfold. But after a certain time I was somewhat disturbed about the story. The writer had this contemporary and very essential topic in his mind and had a way of giving us thrills, conjugating creepiness along with a feeling of loathing. But at a point the whole plot change, was kinda incidental. The detective and his investigation wasn't captivating (as far as mystery/detective fiction lovers are concerned). And I was quite confused with the revenge scene(maybe I was stuck with other horror thoughts, my bad!)
But yes, I really appreciate the whole effort of upholding these brutal facts. its still ironic how our own conscience betrays us, how we are so nonchalant by any wrongdoings in our surroundings that at a point we simply annihilate our existence. Humanity is yet to be pursued...
ব্যাক্তিগত রেটিং : ★★★★ এটা লেখকের প্রথম বই। লেখকের গল্প উপস্থাপন, অধ্যায়ের নাম করন, গানের ব্যাবহার, বিভিন্ন বিষয়ের সংযোজন, প্লট, চরিত্র সবকিছুই চমকপ্রদ ছিল। লেখকের যেহেতু এটা প্রথম বই ছিল আমার মনেহয় দ্বিতীয় /তৃতীয় বই পড়েই অত পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বইয়ের সমালোচনা করা উচিত। বইটি এক বসায় শেষ করেছি, কি হচ্ছে কেন হচ্ছে এবং একেকটা অধ্যায় পড়ছিলাম আর অন্য অধ্যায়ের সাথে যোগ করছিলাম - বেশ আরামদায়ক এবং থ্রিলিং একটা ব্যাপার আমার কাছে এটা। পাঠক হিসেবে বলবো আমার মনোযোগ এবং আগ্রহ ধরে রাখার মতো একটা বই ছিল এটা।
কয়েকদিন আগে পড়ে শেষ করলাম আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্যর মিস্ট্রি-থ্রিলার "মেটামরফিক নিশীথে"
বইয়ের আদি থেকে অন্ত পর্জন্ত সাসপেন্সে পরিপূর্ণ ছিলো, বইয়ের ভাষা অত্যন্ত সাবলীল ছিলো।এন্ডিং টা মনমতো না হলেও ওভারল বই টা অত্যন্ত ইন্টারেস্টিং ছিলো।লেখককে খুব ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর গল্প বইয়ের ভাষায় ফুটিয়ে তুলার জন্য
প্রথমদিকে ভালোই আগিয়েছে। খুব দ্রুত আগ্রহের সাথে শেষ করে দেবার মতন বই। শেষ দিকে যেয়ে আমার কাছে গোলমাল লেগেছে। কিছু প্রশ্নও থেকে গেছে মনে। সুন্দর ছিলো চিন্তাটা বাট শেষের দিকে কাহিনি আরও সুন্দর হতে পারত।
আমার কাছে মোটামুটি লেগেছে। শুরুর দিকে বেশ আগ্রহ বোধ করছিলাম পড়তে। গল্পের কাহিনীবিন্যাস আরেকটু শক্তিশালী হলে ভাল লাগত। তবে মোটের উপর খারাপ লাগেনি আমার। আস্তে আস্তে ভাল করবেন আরও, আমি আশাবাদী।