সিলেটের গহীন বনে দীর্ঘদিন পর জ্ঞান ফিরে পাওয়া মানুষটা কে? কিয়াসু কেন সেই মানুষটার প্রতি এতো আগ্রহী? কিয়াসুর জীবনের অন্ধকার উপাখ্যান জানতে চান? ওদিকে রাজস্থানের যে ঘটনা ‘সত্য-কলামে’ ঠাই নিয়েছে, তা কি আদৌ ঘটেছিলো? কুড়িগ্রামের সীমান্ততঘেষা অঞ্চলে রাতের গভীরে নেমে আসা নিশিবু’র অভিশাপ কতোটা সত্যি? বরিশালের ঝালকাঠিতে প্রতি আমাবস্যার রাতে অজ্ঞাত আক্রমনের জন্য দায়ী কে? এর জন্য স্থানীয় মন্ত্রীর কেনো এতো মাথা ব্যথা? ওদিকে সাফওয়াত আর আইরিন সুন্দরবনের গভীরে এক চরে বন্দী। দূর থেকে ভেসে আসছে হিংস্র মায়াবাঘের হুংকার! কী করবে তারা? এমন অজস্র প্রশ্নকে পেছনে ফেলে সবার একটাই জিজ্ঞাসা। রফিক শিকদার কোথায়? ‘হার না মানা অন্ধকার’ জগতের দ্বিতীয় আখ্যান ‘ঘিরে থাকা অন্ধকার’, পাঠকদের আরেকবার নিয়ে যাবে প্রকৃতির সব অদ্ভুত আর ব্যাখ্যাতিত ঘটনার জগতে।
গত বছর হার না মানা অন্ধকার পড়ার পর থেকেই বাপ্পী ভাইয়ের প্রতি এক্সপেক্টেশন বেড়ে গিয়েছিল বহুগুণে, এবার তো আরো বেড়ে গেল। লেখা এবং বর্ণনার ধাঁচে তার উন্নতি রীতিমত ঈর্ষণীয়। অতিপ্রাকৃত জনরায় তিনি যা করতে চেয়েছেন, আমার মনে হয় পেরেছেন, বেশ ভালোভাবেই পেরেছেন ।
হার না মানা অন্ধকারে বেশ কয়েকটা প্রশ্ন থেকে যায় বইয়ের শেষে, রফিক শিকদারের কি হলো? সত্য কলামের কি হলো? সেগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে ঘিরে থাকা অন্ধকারে। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে কেস স্টাডি/ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ধাঁচে লেখা প্যারানরমাল গল্প ভালো লাগে। যেমনটা- তারানাথ তান্ত্রিক, নাবিল মুহতাসিমের শ্বাপদ সনে। ঘিরে থাকা অন্ধকারে বাপ্পী ভাইও সেই পথে হেঁটেছেন। সত্য কলামের রিপোর্টারদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বর্ণিত চারটি গল্পই ছিল আগ্রহোদ্দীপক।
তবে পুরো বইয়ে আমার পছন্দের চরিত্র খাসিয়া তান্ত্রিক কিয়াসু। খাসিয়া ফোকলোর নিয়ে লেখক বেশ ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন বোঝা যায়। এমনকি রাজস্থানের মিথের মিশেলে রেজ্জেকের যে গল্পটি বর্ণিত হয়েছে সেটিও গায়ে কাটা দেয়ার মতন। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের হরর লেখকগণ মধ্যে তন্ত্র-মন্ত্রের মিশেলে বেশ কিছু বই প্রকাশিত করেছেন। দুঃখজনকভাবে বেশিরভাগ বইয়েই ব্যাটে বলে হয়নি। কিন্তু অন্ধকার সিরিজ সেই বাঁধা নিজগুণেই উতরে গেলো।
ক্যারেক্টারাইজেশনের কথা উঠলে বলবো, আদতে উপন্যাস হলেও পুরো বই মূলত বেশ কয়েকটি সাবপ্লটে বিভক্ত- যে কারণে কোন চরিত্রের গভীরেই সেভাবে আলোকপাত করেননি এখনও লেখক। ব্যতিক্রম, কিয়াসু এবং রফিক শিকদার। বোধকরি, তাদের চরিত্রাঙ্কনেই সবচেয়ে বেশী মনোযোগ ছিল তার। বেশ কয়েকটি কবিতা ছিল, এক পর্যায়ে গিয়ে মনে হয়েছে কবিতা একটু কম থাকলেও খারাপ হতো না।
বইটিকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে এর ভেতরকার অলঙ্করন। ওয়াসিফ নূর ভাইয়ের প্রতিটি ছবিই ছিল বিষয়বস্তুর প্রতি ভীষণ রকম বিশ্বস্ত। আশা করি পরবর্তী বইয়েও তার আর্টওয়ার্ক পাবো আমরা। দেশী পটভূমিকায় ভয়ের রাজ্যে হারিয়ে যেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন রফিক শিকদার এবং কিয়াসুর সাথে, হতাশ হবেন না।
"ঘিরে থাকা অন্ধকার" সিকুয়াল হিসেবে খারাপ না, লেখক ভালোই মিল রাখার চেষ্টা করেছেন প্রথম বইয়ের সাথে। এই বইয়ের লেখনী বেশ ভালো, প্রথমটার চেয়ে। তবে গল্প গুলা আরো একটু বেটার হতে পারতো। গল্পের শেষ টাও ভালো, সাসপেন্স রেখেছেন আরেকটা বইয়ের জন্য। মোটামুটি ভালোই উপভোগ্য বইটা। 🙂 ৩.৫★
“হার না মানা অন্ধকার” বইতে যেখানটায় অসমাপ্ত হয়ে ছিল সেখান থেকেই শুরু হয়েছে “ঘিরে থাকা অন্ধকার” বইটি। প্রথমটি থেকে এটা একটু বেশিই ভালো লেগেছে। যদিও গল্প গুলো খুব বেশি ভয়ের ছিল না কিন্তু রহস্য ছিল, গল্প গুলো ছিল দ্রুত গতি সম্পন্ন। এক নিশ্বাসে শেষ করে ফেলেছি বইটি।
অতিপ্রাকৃত গল্প যারা পছন্দ করেন তারা পড়ে দেখতে পারেন। পড়তে চাইলে আপনাকে শুরু করতে হবে “হার না মানা অন্ধকার” বইটির মধ্য দিয়ে।
“আমরা দেখি, আমরা জানি, আমরাই সব বলি। প্রকৃতির সব গোপন বিষাদে মুখ লুকিয়ে রাখি।” - “ঘিরে থাকা অন্ধকার” এর শুরু সিরিজের আগের বই হার না মানা অন্ধকারের ঠিক এরপর থেকেই। হার না মানা অন্ধকারের শেষের দিকে আসা এক চরিত্র “কিয়াসু” এর জীবনের এক অধ্যায়ের খোঁজ পাওয়া যায় এতে, যে কিনা এক সময়ের খাসিয়াপল্লীর শ্র্রেষ্ঠ তান্ত্রিক হয়েও আজ বিতাড়িত নিজ পল্লী থেকে। - এদিকে রফিক শিকদারের অন্তর্ধানের পরেও বন্ধ হয়নি “সত্য কলাম” পত্রিকা। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাফওয়াত ইয়ামিনের সম্পাদনায় এ পত্রিকায় ছাপা হতে থাকে নানা ধরনের অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা। এক বৃষ্টিস্নাত দিনে তার সাথে দেখা হয় রেজ্জেক নামক এক অদ্ভুত ব্যক্তির সাথে, যার মুখ থেকে শোনা যায় ঢাকা থেকে রাজস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত অদ্ভুত এক আখ্যান। - এ সময়ে সত্য কলাম পত্রিকার আরেক লেখক নাবিদ পোদ্দার এক অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার রিপোর্ট করতে গেলে জানতে পারে “নিশিবুর অভিশাপ” নামক এক অদ্ভুত অভিশাপের্ কথা। আবার বরিশালের এক অঞ্চলে ব্যাখ্যাতীত আক্রমণের ব্যাখ্যা খুঁজতে রফিক শিকদারের খোঁজ করা শুরু করেন এক মন্ত্রী। অন্যদিকে বিবিসির সাথে এক মিথিক্যাল প্রাণীর খোঁজে ঝড়ের আগ মুহূর্তে সুন্দরবনের এক চরে আটকা পরে সাফওয়াত এবং আইরিন। - এখন এক সময়ের খাসিয়াপল্লীর শ্র্রেষ্ঠ তান্ত্রিক হয়েও কিয়াসু কেন বিতাড়িত নিজ পল্লী থেকে? রেজ্জেকের মুখে শোনা সেই ঘটনা কতটুক সত্যি? "নিশিবুর অভিশাপ" কি ধরণের অভিশাপ? বরিশালের কি এমন ঘটনা যার জন্য মন্ত্রী খোঁজ লাগিয়েছে রফিক শিকদারের? সুন্দরবনের সেই প্রাণী কি সত্যিই দেখা দিবে সাফওয়াত এবং আইরিনকে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে লেখক বাপ্পী খানের “হার না মানা অন্ধকার” এর সিক্যুয়েল “ঘিরে থাকা অন্ধকার” । - “ঘিরে থাকা অন্ধকার” মূলত লেখক বাপ্পী খানের লেখা অতিপ্রাকৃতিক ঘরানার নভেলা "হার না মানা অন্ধকার" এর সিক্যুয়েল। বইটির কথা বলতে হলে প্রথমেই বলতে হয় এর চমৎকার অন্ধকারাচ্ছন্ন আবহ এবং লেখনী। গল্প বলার বৈঠকি ধরণের কারণে কোন জায়গায় আটকানো লাগেনি, এক বসায় শেষ করা যায় এমন ধরনের মনে হয়েছে গল্পের গতি। - “ঘিরে থাকা অন্ধকার” বইয়ের ছোট ছোট সাব প্লট গুলোর এক্সিকিউশন বেশ দারুন হয়েছে, এর ভিতরে সবচেয়ে ভালো লেগেছে কিয়াসু এবং রেজ্জেকের গল্প, সে তুলনায় কিছুটা প্রেডিক্টেবল লেগেছে সুন্দরবনের গল্প। গল্পের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গা, নানা ধরণের আচার-উপাচারের বর্ণনা এবং গল্পের সাথে মানানসই কিছু কবিতা বেশ উপভোগ করেছি । চরিত্রায়নের দিক থেকে বলতে গেলে নতুন পুরাতন প্রায় প্রতিটি চরিত্রই নিজস্ব ছাপ ফেলতে পেরেছে এবং শেষের ক্লিফহ্যাঙ্গার এই সিরিজের পরবর্তী বইটিকে পড়ার আগ্রহী করে তুলেছে। - “ঘিরে থাকা অন্ধকার” বইয়ের আরেক ইন্টারেস্টিং দিক ওয়াসিফ নূরের করা চমৎকার কিছু অলংকরণ যা বইটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। বইয়ের দামের তুলনায় কাগজের মান এবং বাধাই বেশ ভালো। তবে বইতে কিছু ছোটখাট বানান ভুল, প্রিন্টিং মিসটেক(বিশেষ করে ব ফলা) এবং কিছু যায়গায় প্রিন্ট অস্পষ্ট এসেছে বলে মনে হয়েছে, যা পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করা হবে আশা করি। - এক কথায়, লেখকের এর আগের বই “হার না মানা অন্ধকার" এর স্বার্থক সিক্যুয়েল বলা যায় "ঘিরে থাকা অন্ধকার" কে। যাদের ভিন্ন ধারার সুপারন্যাচারাল কাহিনী পছন্দ তারা পরে দেখতে পারেন বইটি, তবে তার আগে অবশ্যই এ সিরিজের আগের বই “হার না মানা অন্ধকার" পরে নিতে হবে। লেখকের পরবর্তী বইয়ের জন্য শুভকামনা রইলো।
সিরিজের দ্বিতীয় বই হিসেবে বেশ ভালো লেগেছে প্রথম টার তুলনায়।রফিক শিকদার কে এবার একটু আটঘাট বেধেই নামতে দেখলাম। ফাস্ট পেজড ছিলো তবে শেষের ���িকে এসে কেমন যেন একটু স্লো হয়ে গিয়েছিলো বিশেষ করে সুন্দরবনের টা একদম সাদামাটা মনে হয়েছে। তবে লেখকের লেখনশৈলীটা বেশি টেনেছে আর বই তে বেশ কিছু অলংকরণ সংযুক্ত করায় সেটা আগ্রহের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কিয়াসু তান্ত্রিক এর টা সবথেকে বেশি উপভোগ করেছি। লেখকের জন্য শুভকামনা রইল।
অপদেবতার গ্রাস থেকে গ্রামবাসীদের বাঁচাতে তান্ত্রিক কিয়াসুর আত্মত্যাগ মুগ্ধ করেছে। ফার্মগেট পার্কের বেঞ্চে বসে সন্ধ্যায় বৃষ্টির মাঝে শোনা রাজস্থানের দেবতার গল্পটাও চমৎকার। বরিশালের প্রত্যন্ত গ্রামের অতিপ্রাকৃতিক ঘাতকের গল্পও শিহরণ যোগায়। নিশিবু মোটামুটি আর শেষের দিকে মায়াবাঘের অংশটাতে তাড়াহুড়ো ছিল। মাঝে মাঝে কবিতা আর মানানসই চমৎকার ইলাস্ট্রেশন গুলোও মনে রাখার মত।
রফিক শিকদারের পরিণতি কি হয়েছিল? বেঁচে আছে সে নাকি নেই? খাসিয়া পল্লীর তান্ত্রিক কিয়াসু কিভাবে আপদমুক্ত করেছিলেন অশুভ সত্ত্বার হাত থেকে? কি এমন জিনিস বলি দিতে হয়েছিল তাকে? রাজস্থানের প্রত্যন্ত একটা গ্রামের মানুষেরা অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে কেন? কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় কি এমন অপশক্তির বশে প্রতিনিয়ত মানুষ খুন হচ্ছে? বরিশালের অত্যাচারী জমিদার পত্নী পায়রা বেগমের অপমৃত্যুর সাথে সাথে নেমে আসা অশুভ সত্ত্বার রহস্য কি? খুলনাতে সুন্দরবনে প্রতিনিয়ত মানুষ খুন হচ্ছে বাঘের থাবায়। শুধুই বাঘ নাকি অন্য কিছু? ওপরের সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে বাপ্পী খানের হার না মানা অন্ধকারের সিক্যুয়েল ঘিরে থাকা অন্ধকারে।
বইমেলা ২০ এর বহুল প্রতীক্ষিত বই ঘিরে থাকা অন্ধকার। হার না মানা অন্ধকারের প্রত্যেকটা পাঠক অপেক্ষায় ছিল বইটার জন্য। সে অপেক্ষা ফুরিয়েছে। আমার মতে ঘিরে থাকা অন্ধকার সিক্যুয়েল হিসেবে একেবারে পরিপূর্ণ। লেখক গতবারের মতোই এফোর্ট দিয়েছেন এবারের কাহিনীতে। বইয়ের শুরু হয়েছে কিয়াসু নামক খাসিয়া তান্ত্রিকের কাহিনী দিয়ে। দারুণ ছিল অভিজ্ঞতাটা। হার না মানা অন্ধকারের কিছু প্রশ্নের উত্তর পাবেন এই অংশে। উত্তরগুলো হল একেকটা টুইস্ট। এরপর সত্য কলাম ভিত্তিক চারটি গল্প। অবরুদ্ধ, নিশিবু, মৃত্তিকার গল্প, সুন্দরবনের গল্প। প্রত্যেকটা গল্প-ই রোমাঞ্চকর। তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় অবরুদ্ধ, মৃত্তিকার গল্প। নিশিবু বুদ্ধির খেলা আর সুন্দরবনের গল্পটা অভিযান ভিত্তিক। এবারের বইয়ের বিশেষত্ত্ব হল হার না মানা অন্ধকারের তুলনায় এবার ডার্কনেস ও ক্রিপিনেস বেশি। এছাড়াও এবার টুইস্ট বেশি রয়েছে। গল্পের কাহিনী বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত। পড়তে গিয়ে মনে হবে সেসব অঞ্চলে ভ্রমন করছি। লেখক প্রত্যেক অধ্যায়ে পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে কবিতার ব্যবহার করেছেন। সেই সাথে বইয়ের ভেতরে রয়েছে ওয়াসিফ নূরের অনেকগুলো অসাধারণ চিত্রকর্ম। যেগুলা বইয়ের কালেকশন ভ্যালু বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। জাহিদুল ইসলাম রাজু অসাধারণ প্রচ্ছদ করেছেন। লেখক শেষে ভালো একটা হিন্টস দিয়েছেন পরবর্তী বই সম্পর্কে। বলা যায় যে টুইস্ট ও কাহিনীর বিচারে ঘিরে থাকা অন্ধকার পয়সা উশুল করার মত একটা বই।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ হার না মানা অন্ধকার আগে পড়ে নেয়া উচিত।
ঘিরে থাকা অন্ধকার বাপ্পী খান প্রচ্ছদ: জাহিদুল ইসলাম রাজু অলঙ্করণ: ওয়াসিফ নূর পৃষ্টা: ১৯০ বাতিঘর প্রকাশনী
⚠️ Warning ⚠️ - এটা পড়ার আগে 'হার না মানা অন্ধকার' পড়াটা বাধ্যতামূলক, কারণ এটা হচ্ছে এই সিরিসের দ্বিতীয় বই।
প্রথমত, আমার একটা ভুল ধারণা ছিল যে এই বইটা হরর/অতিপ্রাকৃত/আধিভৌতিক ঘরানার গল্প। কিন্তু আসলে রোমাঞ্চকর ও লোমহর্ষক গল্প সকলনের ছদ্মবেশে এটা একটা কমপ্লিট বই। আর সবগুলো গল্প/ঘটনা যেই সুতোয় সংযুক্ত, তার নাম হচ্ছে 'রফিক শিকদার'! দেশের যে কোনো জায়গায় যখনি সে কোনো অব্যাখ্যাত ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার খবর পায়, সে সেখানে ছুটে যায় ব্যাপারটা কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে তার পত্রিকা 'সত্য-কলাম'-এ ছাপানোর জন্য।
একেকটা ঘটনা একেক রকম ও আগেরটার থেকে রোমাঞ্চকর ও ভয়ানক! কিন্তু সবচেয়ে চমৎকার ব্যাপারটা হলো প্রত্যেকটা ঘটনার অনন্যতা। মাই গড এইসব আইডিয়া কেমনে আসে কারো মাথায়!? আর লেখনি টাও খুবী tight মনে হয়েছে যেখানে অপ্রয়োজনীয় কোনো বর্ণনা ছিলোনা। প্রথম বই 'হার না মানা অন্ধকার' যদি পড়ে থাকেন, তাহলে এই বইটা নিঃসন্দেহে আরো ভালো তো লাগবেই, আর তার সাথে প্রথম বইয়ের কয়েকটা রহস্যের উত্তরও পেয়ে যাবেন। কিন্তু এই দুই বইয়ের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যাপারটা হলো যেভাবে লেখক গল্পের বিভিন্ন জায়গায় কিছু অব্যাখ্যাত উপাদান ও ছোট ছোট খেই দিয়ে পরে সেগুলোকে গল্পের প্রবাহে খুবী সংঘটিত ভাবে যোগসূত্র মিলিয়েছেন! প্লাস পয়েন্টস - বইয়ের ভেতর দারুন কয়েকটা কবিতা ও হাতে আঁকা চিত্র।
যদি আপনার 'প্রায়-হরর-কিন্তু-আসলে-রোমাঞ্চকর-থ্রিলার' জনরা ভালো লাগে, তাহলে অবশ্যই 'হার না মানা অন্ধকার' পড়ার পর 'ঘিরে থাকা অন্ধকার' পড়লে ব্যাপকভাবে উপভোগ করবেন। অধীর আগ্রহে এই সিরিসের তৃতীয় বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।
এক কথায় বলতে গেলে "দারুণ!"। এর আগে "হার না মানা অন্ধকার" পড়েছিলাম; ভালো লেগেছিল। এই বইটা পড়ে আরও বেশি ভালো লেগেছে। গল্পের গাঁথুনি, সফল চরিত্রায়ন, উপযুক্ত সাসপেন্স পুরো বইটাকে অন্যমাত্রা দিয়েছে, নিয়ে গেছে এক অন্য উচ্চতায়। হরর জনরায় এর আগেও অনেক গল্প-উপন্যাস লেখা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু লেখক নিজস্ব লেখনীর মাধ্যমে যে ভিন্ন ধারার সূচনা করেছেন তা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। এর পরের বই "কেটে যাক অন্ধকার" বইটি প্রকাশের অপেক্ষায় আছি। লেখককে অনেক অনেক ভালোবাসা এবং সাধুবাদ জানাই <3
আমার রেটিং আসলে ৪.৫/৫। গুডরিডস রেটিং এর মারপ্যাঁচের কারণে পাঁচের মধ্যে চার দিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো :)
যারা পড়েননি, তারা সাত-পাঁচ না ভেবে পড়ে ফেলুন। আশা করি, আপনাদেরও ভালো লাগবে। ^_^
প্রথম গল্পটা যেখান থেকে শেষ হয়েছে এর সিক্যুয়েলটা সেখান থেকেই শুরু হয়েছে।একদম জবরদোস্ত বই।প্রথম বইটার মান ধরে রেখেছে সিক্যুয়েলেও।কিয়াসু তান্ত্রিকের গল্প,সাথে ভীতিকর সেই চারটে গল্প মিলে দারুণ একটা বই উপহার দিয়েছেন লেখক।শীতের মধ্যে পড়ার একদম উপযুক্ত বই এটা।
ৎ্রিলজির প্রথম বইটার মত দ্বিতীয়টাও দারুণ টানটান, আকারে দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও। রফিক শিকদারের গল্পগুলো��ে প্রথম বইতে মনে হয় ছাড়া ছাড়া সম্পর্কহীন স্ন্যাপশট, কিন্তু দ্বিতীয় বইতে সেগুলোর সাথে দারুণভাবে মিলিয়ে দেয়া হয়েছে, এবং আভাস দেয়া হয়েছে যে তৃতীয় বইতে বাকিগুলোও একসাথে জুড়ে যাবে। ইদানিংকার অনেক অতিপ্রাকৃত বইতে বিভিন্ন আচার-পদ্ধতি নিয়ে প্রচুর তাত্ত্বিক বকবকানি থাকে, যার ফলে বই পড়ছি নাকি নীরস তত্ত্ব পড়ছি বোঝা মুশকিল হয়ে যায়। এখানে সেসব নেই; ভয় পাওয়ানো হয়েছে গল্প দিয়ে এবং তারচেয়েও বেশি প্রকৃতির আর পরিবেশের নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে। আরো ভাল লাগে যে, এই আধুনিক সময়েও বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অন্ঞ্চলের যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সেটা খুবই বিশ্বাসযোগ্য আর সেজন্যই ভয়ের আর অস্বস্তির পরিবেশটা জমাট বেঁধে ওঠে। আগের বইটার মতই এখানেও অলৌকিক আর অপার্থিবের অভিনবত্ব আছে; একঘেয়ে কোন ভূত-প্রেত-পিশাচ হাজির করা হয়নি। সবমিলিয়ে সফল প্রচেষ্টা; পৃথিবীর সর্বাধুনিক একটা শহরে ৪০ জন মানুষের মাঝে বসেও যদি কোন গল্প পড়তে গিয়ে ঘাড়ের উপর দিয়ে ফিরে তাকাতে হয়, তাহলে স্বীকার করতেই হবে যে, লেখক একটা ভয়ের গল্প লিখেছেন। তৃতীয় বইটা কোথাও পেলাম না, এখন বসে বসে হাত কামড়াতে হবে আরো এক বছর পরে দেশে ফিরে যোগার করার জন্য।
📜 বাংলাদেশে ‘অতিপ্রাকৃত’ জঁনরা নিয়ে সম্প্রতি যেসব কাজ হয়েছে তার মধ্যে লেখক বাপ্পী খানের ‘অন্ধকার’ সিরিজটি উল্লেখযোগ্য । কিছুদিন আগেই এই সিরিজের প্রথম বই ‘হার না মানা অন্ধকার’ নিয়ে কথা বলেছিলাম । এই ‘ঘিরে থাকা অন্ধকার’ বইটি ‘অন্ধকার - ট্রিলজি’র দ্বিতীয় পর্ব ।
🔹‘হার না মানা অন্ধকার’ বইটি শেষ হয়েছিল বেশ কিছু প্রশ্ন নিয়ে । রফিক শিকদারের পরিণতি কি হয়েছিল ? সে কি আদৌ বেঁচে আছে ? ‘সত্য কলাম’ পত্রিকাটির অবস্থা কি ?
▪️ খাসিয়া পল্লীর তান্ত্রিক কিয়াসু কিভাবে সমগ্র গ্রামকে বিপদমুক্ত করেছিলেন অশুভ সত্ত্বার হাত থেকে ? কি এমন জিনিস বলি দিতে হয়েছিল তাকে ?
▪️রফিক শিকদারের অন্তর্ধানের পর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাফাওয়াত ইয়ামিনের সম্পাদনায় ছাপা হতে থাকে ‘অপ্রাকৃত’ সিরিজের ঘটনা । এক বৃষ্টিস্নাত দিনে তার সাথে দেখা হয় রেজ্জেক নামক এক ব্যক্তির সাথে, এক অদ্ভুত গল্প শোনায় সে । রাজস্থানের প্রত্যন্ত একটা গ্রামের মানুষেরা গ্রামের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে কেন ?
▪️‘সত্য কলাম’ পত্রিকার আর এক সাংবাদিক নাবিদ পোদ্দার এক অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার রিপোর্ট করতে গেলে জানতে পারে এক অদ্ভুত অভিশাপের কথা । কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় কি এমন অপশক্তি বাস করছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত মানুষ খুন হচ্ছে ?
▪️বরিশালের অত্যাচারী জমিদার-পত্নী পায়রা বেগমের অপমৃত্যুর সাথে সাথে নেমে আসা ভয়াবহ অভিশাপের রহস্য কি ?
▪️ সুন্দরবনে প্রতিনিয়ত মানুষ খুন হচ্ছে এক রহস্যময় বাঘের থাবায় । বিবিসির সাথে সেই রহস্যময় প্রাণীর খোঁজে ঝড়ের আগের মুহূর্তে সুন্দরবনের এক চরে আটকা পরে সাফওয়াত এবং আইরিন । শুধুই কি বাঘ, নাকি অন্য কিছু অশুভ শক্তি ?
.... এই সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে এই ‘ঘিরে থাকা অন্ধকার’ বইটিতে ।
📝 পাঠ-প্রতিক্রিয়া : ‘হার না মানা অন্ধকার’ বইটি পড়ার পর থেকেই ঐ প্রশ্নগুলির তাড়নায় রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়েই পড়তে শুরু করেছিলাম এই উপন্যাসটি । দুটি উপন্যাসেই গল্প বলার ধাঁচ একদম একই, কিন্তু যা বিশেষভাবে বলতে হয়... তা হলো অনেক পরিণত লেখনী । আগের উপন্যাসের মতোই এই বইটিতেও পাঁচটি ‘অতিপ্রাকৃত’ গল্প নিয়ে লেখক তৈরি করেছেন উপন্যাসের কাহিনী ।
▪️পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন জায়গার পাঁচটি ‘অপ্রাকৃত’ ঘটনা লেখক তুলে ধরেছেন ‘প্যারানর্মাল কেস স্টাডি’র ধাঁচে, যা রীতিমতো অন্ধকারের আবহ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে । গল্পগুলি যথাক্রমে ‘তান্ত্রিক কিয়াসুর গল্প’, ‘অবরুদ্ধ’, ‘নিশিবু’, ‘মৃত্তিকার গল্প’ এবং ‘সুন্দরবনের গল্প’ । গল্পগুলি ছোট ছোট প্লট, দুর্দান্ত এক্সিকিউশন এবং ‘বৈঠকি’ ভঙ্গিতে বলার কারণে.. পড়তে পড়তে বেশ অন্যরকম অনুভূতি হয় ।
🔹এই প্রসঙ্গে বলা ভালো... বৈঠকি ধাঁচে লেখা ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ বা ‘বরদা’ এবং সাম্প্রতিককালে লেখা ‘শ্বাপদ সনে’, বইগুলি আমার ভীষণ প্রিয় । স্বাভাবিক ভাবেই এই সিরিজের বইদুটিও যুক্ত হয়েছে সেই ভালোলাগার তালিকায় ।
▪️আদতে উপন্যাস হলেও বইটি মূলত পাঁচটি ছোটগল্পের সমাহার, তাই লেখক কোনো চরিত্রের গভীরেই সেভাবে আলোকপাত করেননি... গল্পের খাতিরে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই । কিন্তু তার মধ্যেও আলাদাভাবে বলতে হয় খাসিয়া তান্ত্ৰিক ‘কিয়াসু’র চরিত্রটির কথা, এই উপন্যাসে আমার প্রিয় চরিত্র এটিই । এছাড়াও গল্পের মূল চরিত্র ‘রফিক শিকদার’ সম্পর্কে আরও অনেক কথা জানা যায় এই বইটিতে ।
▪️ এই ‘অন্ধকার’ সিরিজের মূল বিশেষত্ব হলো.. সুন্দর প্রাকৃতিক বর্ণণা এবং তার সাথে প্রকৃতির মাঝে লুকিয়ে থাকা ‘অন্ধকার’এর অনুসন্ধান... যার ফলে ‘অতিপ্রাকৃত’ উপন্যাস হওয়া সত্ত্বেও, চিরাচরিত ‘অলৌকিক’ পটভূমি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই গল্পগুলি । এছাড়া বইটির অনবদ্য প্রচ্ছদ এবং ভেতরকার অলঙ্করন, বইটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে ।
📜 যেসব পাঠক দেশী প্রেক্ষাপটে ‘অতিপ্রাকৃত’ গল্প পড়তে চান, তাদের জন্য ‘অন্ধকার’ সিরিজ অবশ্যপাঠ্য । এই সিরিজের শেষ বই ‘ঘিরে থাকা অন্ধকার’ ভারতে প্রকাশিতব্য ।
সত্য-কলাম পত্রিকার সম্পাদক রফিক শিকদারকে নিয়ে সিরিজের দ্বিতীয় বই 'ঘিরে থাকা অন্ধকার'। বইমেলা'২০ এ মেলা থেকে আমার খরিদ করা দুইটি বই এর মধ্যে প্রথম বই, পড়ার সিরিয়ালে দ্বিতীয়। 'হার না মানা অন্ধকার' এর কাহিনী যেখানে শেষ হয়েছিল, তারপর পর থেকেই 'ঘিরে থাকা অন্ধকার' এর শুরু। আগের বই এর অনেকগুলো চরিত্র ফিরে এসেছে, সাথে আগের বই এর কিছু ঘটনার আরও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
মোট ৫ গল্পের সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন লেখক। শুরুর গল্পটা খুবই ভালো হয়েছে, কিয়াসুর নিজের কথার হাত ধরে পুরানো চরিত্রের প্রবেশের সাথে পুরনো ঘটনার পেছনের অংশের কাহিনী দিয়ে এতো নাটকীয় ভাবে বইটা শুরু হয়েছে যে এক বসাতেই সম্পূর্ণটা শেষ করে উঠতে হল। এটা একই সংগে সবচেয়ে বড় আর সেরা গল্প।
তারপর একে একে রেজ্জেকের ঘটনা, কুড়িগ্রামের নিশিবুর অভিশাপ, ঝালকাঠির জমিদার বাড়ির রহস্য এবং শেষে মায়াবাঘের আক্রমণ দিয়ে সমাপ্তি টানা হয়। পরের বই এর জন্য একটি আকর্ষণীয় ক্লিফ হ্যাংগার রেখে দেওয়া হয়েছে। কিয়াসুর ঘটনার পর ভালো লেগেছে নিশিবুর অভিশাপ। অভিশাপের কারণটা কিছুটা হুট করে বের হয়ে আসলেও এই বই এ এই রকম কোন ব্যাখ্যা যে দিয়েও ভয় এবং ভালো লাগার আবহ সৃষ্টি করা সম্ভব সেটা আগে চিন্তা করিনি। জমিদার বাড়ির সামনে নৃশংস হত্যাকান্ডসমূহের ঘটনা, তদন্ত, সমাধান সবই ভালো হয়েছে।
রেজ্জেকের গল্পটা মোটামুটি মনে হয়েছে৷ 'হার না মানা অন্ধকার' এ ঢাকা শহরকে কেন্দ্র করে একটি গল্পের প্লট রাখা হয়েছিল, রেজ্জেকেরটাও ওইরকম হবে মনে করেছিলাম কিন্তু মূল কাহিনী চলে গেল থর মরুভূমিতে। আর মায়াবাঘের ক্লাইমেক্সের ঠিক আগের ঘটনার জন্য প্লটটার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। 'ঘিরে থাকা অন্ধকার' একটি ফিকশন, বই এর জগৎ আর আমাদের বাস্তব জগতের মধ্যে পার্থক্য থাকবেই। ফিকশনাল জগতের কয়েকটি বিষয়ে একটু ধোঁয়াটে মনে হয়েছে - কিয়াসুর রহস্যের এক পর্যায়ে এক প্রহর মানে ঘন্টাখানেকের বেশি না বলা হয়েছে, রেজ্জেকের রংপুর থেকে বর্ডার পার হয়ে কলকাতা যাওয়া, মাজারের খাদেমদের সাথে দেখা হবার পর বাসে উঠে খাতা খুলে লিখতে শুরু করা -'মানি, প্রকৃতিতে রহস্যরা আজো জেগে আছে।'
বই এর বিভিন্ন অংশের ইলাস্ট্রেশনগুলো সুন্দর হয়েছে। ভেতরে বাহারি ইলাস্ট্রেশন কিন্তু মলাটের সামনের এবং পেছনের ছবি ঘোলাটে, কম রেজুলেশনের ছবি টেনে বড় করলে যেমন হয় তেমন। লেখকের ছবিরও একই অবস্থা।
যাই হোক, সিরিজের দ্বিতীয় বইটি প্রথমটির চেয়েও ভালো হয়েছে। জ্যাম আর মানুষে গিজিগিজ করা ঢাকাকে কেন্দ্র করে একটা গল্প আশা করেছিলাম। সেটা না পেলেও লেখকের বাকি চেষ্টা সফল হয়েছে। সিরিজের তৃতীয় বই এর প্রতি চাহিদা আরো বেড়ে গেল।
Genre : supernatural, horror - Rating : 🌟🌟🌟🌟.3 - Man oh man! What a read this was! Honestly, I had put down this book after reading first few pages of it two months ago. I wanted to enjoy the book thoroughly in a more suitable situation because i love the writing. As a sequal the book is as good as it's predecessor if not better. The writing has evolved in such a short time and I love the unique formatting as usual. Thinking how much engaging the first book is ..this time the writing feels much more engaging & I think pacing of the story is the reason for that. The author evokes imagery gorgeously with his prose. I love his prose always. Jumping from one perspective to another isn't an easy task. But this is a book to learn from if you want to educate yourself on this trope. I felt there were a few minor things that didn't make sense to me. Maybe they will after a reread. Though I don't know a lot about Khashia culture, it seems the author did his research. Use of cultural aspects to craft plots is something I really look for in all genres and the author has done that perfectly. The poems do an amazing job of creating the vibe for the situations. And the way all the dots connected.. I want more of this. Horror books don't interest me usually but this supernatural journey is well worth taking for any reader. It's been a while since I finished a book so fast & in one sitting.
বর্তমানে দেশিয় প্রেক্ষাপটে আধিভৌতিক কল্পকাহিনি নিয়ে গল্প তৈরির চর্চা কতটা প্রসারিত হয়েছে সেটা বাস্তবে তেমন দেখা না গেলেও বইয়ের পাতায় গা ছমছম করা গল্পগুলো পুঁজি করে যেভাবে সুন্দর রোমাঞ্চকর অনুভূতি লেখকরা দিয়ে যাচ্ছে পাঠকদের সেটার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা একান্ত কর্তব্য। আধিভৌতিক গল্পের প্রচলন সেই সৃষ্টির শুরু থেকে, মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনি ঠাঁই নিয়েছে রূপকথা নামক কাল্পনিক কাব্যে কিন্তু লেখকরা সেটাকে হারিয়ে যেতে দেয়নি। তারা চেয়েছেন বা বুঝিয়েছেন প্রত্যক মানুষের শৈশবের সাথে যে গল্পগুলোর ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে সেগুলোকে কীভাবে হারিয়ে যেতে দেওয়া যায়? যে গল্পে ভয়ের অনুভূতি অনুভব করা যায়, ঘোর লাগানো সেই অন্ধকার জগতের কথা শুনতে কে না চাইবে? অন্ধকারে থাকা নিষিদ্ধ সব রহস্য যেভাবে ঘিরে থাকে প্রকৃতি সেইসব অমীমাংসিত রহস্য নিয়ে তৈরি এই ❛ঘিরে থাকা অন্ধকার❜ বা অন্ধকার ট্রিলজির দ্বিতীয় গল্প।
সাধারণত চোখ বুলিয়ে দেখলে দেশিয় প্রেক্ষাপটে যত আধিভৌতিক গল্প, মিথ প্রচলিত রয়েছে তার চেয়ে দিগুণ রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশে। প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত বেশকিছু আধিভৌতিক গল্পকাহিনি এই মানচিত্রে বন্দি হয়ে যায়। সে থেকে প্রচলিত ও প্রসারিত হয়েছে অনেকটাই। গ্রাম বাংলার কাহিনি ডালপালা গজাতে গজাতে ঢুকে গিয়েছে কবি সাহিত্যকের গল্প উপন্যাসে। ক্ষুরধার মস্তিষ্ক ও কলমের ছোঁয়াতে রূপান্তরিত হয়েছে অসংখ্য কল্পনা ও বাস্তবের মেলবন্ধনে লোকমুখে রটানো কিছু অন্ধকারের ঘটনা।
আধিভৌতিক কাহিনির প্রেক্ষাপটের ডালপালা বেশ সুবিস্তীর্ণ। প্রতিপাদ্য কারণে বা অন্ধতমিস্রে ঘটা ঘটনাবলি নিয়ে হোক লিখিত সব উপন্যাসে কম আগ্রহ কখনও দেখা যায়নি। সেই অমোঘ আকর্ষণের ফলে অসংশয়ে টিকে রয়েছে আধিভৌতিক সভ্যতার চিরচেনা ভয়ের স্তম্ভ। কাছে ঘেঁষা ভয়ের সঙ্গে দূরে থাকার যন্ত্রণা দুইয়ের মিশ্রণে সৃষ্ট সংশয়ের বিশ্বাস অবিশ্বাসের বোধও এক সময় হারিয়ে যায় অন্ধকারে। ফিরে আসে তখনি যখন কেটে যায় সব অন্ধকার, আলোরা গ্রাস করে নিবে আধিভৌতিকের ভয়ানক দুনিয়াকে। পবিত্র গ্রন্থাবলীতে উল্লেখিত সকল ধর্মের যে অন্ধকার শক্তির কথা বর্ণনা দেওয়া রয়েছে সেসব কখনও মিছে হতে পারে না।
সব অন্ধকার রহস্যের মীমাংসা হয় না। কিছু রহস্য থেকে যায়, সেই রহস্য থেকে জন্ম হয় নতুন আরেকটি রহ্যসের। এইভাবে চলমান থাকে অন্ধকারের অতিপ্রাকৃত সত্ত্বাদের সাথে সভ্য সমাজের যোগাযোগ।
➲ আখ্যান—
সিলেটের গহীন বনে দীর্ঘদিন পর জ্ঞান ফিরে পাওয়া মানুষটা কে? কিয়াসু কেন সেই মানুষটার প্রতি এত আগ্রহী? কিয়াসুর জীবনের অন্ধকার উপাখ্যান জানতে চান? ওদিকে রাজস্থানের যে ঘটনা ‘সত্য-কলামে’ ঠাঁই নিয়েছে, তা কি আদৌ ঘটেছিল?
কুড়িগ্রামের সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে রাতের গভীরে নেমে আসা নিশিবু’র অভিশাপ কতটা সত্যি? বরিশালের ঝালকাঠিতে প্রতি আমাবস্যার রাতে অজ্ঞাত আক্রমনের জন্য দায়ী কে? এর জন্য স্থানীয় মন্ত্রীর কেন এত মাথা ব্যথা?
ওদিকে সাফওয়াত আর আইরিন সুন্দরবনের গভীরে এক চরে বন্দি। দূর থেকে ভেসে আসছে হিংস্র মায়াবাঘের হুংকার! কী করবে তারা? এমন অজস্র প্রশ্নকে পেছনে ফেলে সবার একটাই জিজ্ঞাসা। রফিক শিকদার কোথায়?
➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—
❝অন্ধকার আমার জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে সবকিছু। এবার আমার রুখে দাঁড়ানোর পালা।❞
সাগরের বয়ে চলা ঢেউয়ের তালে তাল রেখে নৌকা যেভাবে সরল গতিতে এগিয়ে যায় ঠিক লেখকের লেখনশৈলীতে এই উপন্যাস সেইভাবে এগিয়ে গিয়েছে। মাখনের মতো বর্ণনাতে কোনদিক দিয়ে সময় উবে গিয়েছে টের পায়নি। মনে হয়েছে লেখকের বইটি লেখতে কোনোপ্রকার কষ্ট হয়নি, এই লেখতে বসেছেন আর লেখা শেষ করে ওঠেছেন। অথচ এত সুন্দর সাজানো প্রত্যকটি গল্পের পেছনে যে শ্রমের বলিরেখার দাগ স্পষ্ট। লেখক বুঝিয়েছেন সকল সূত্রের সমাধান রয়েছে এই উপন্যাসে। তবে চালাকিও যে করেননি বলাটা ভুল হবে। সব রহস্য তো এক উপন্যাসে উন্মোচিত করবেন না। রেখে দিয়েছেন কিছু কিছু!
কাহিনির শুরু হয় গল্পে হারিয়ে যাবে পাঠক যেভাবে আমি হারিয়েছি। অতিপ্রাকৃত গল্প ভীষণ পছন্দের তার ওপরে এত সাবলীল বর্ণনাতে দ্রুত গতিতে কিয়াসুর জীবনের উপ্যাখান আর কী ঘটেছিল তার জীবনে সেইসব পড়তে পড়তে আমি পুলকিত হয়েছি ভীষণ ভাবে। শুধু কী এইখানে শেষ? লেখকের চিন্তাশক্তি মাধ্যমে প্রধান প্লটের সাথে সাথে গড়ে উঠেছে আরও কিছু সাবপ্লট। এই সাবপ্লটে রয়েছে আধিভৌতিক ও রহস্যঘেরা দারুণ সব কাহিনি। প্রচলিত কিন্তু লেখকের অন্বেষণ করার দক্ষতাকে বাহবা জানাতে হচ্ছে।
বিচ্যুতি ঘটেনি কোনোভাবে। লেখক রসদ আগে থেকেই যোগান করে রেখেছেন বলে কোনোভাবে কাহিনির গতি কমেনি। যোগসূত্র স্থাপন করেছেন বেশ সুন্দর ভাবে। ট্রিলজির পূর্বের বই ❛হার না মানা অন্ধকার❜ থেকেও এই উপন্যাসে সর্বদিকে পরিপক্বতার ছাপ স্পষ্ট। ঘটনা ঠিক যেভাবে ঘটা দরকার সেইভাবে ঘটিয়েছেন। উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পেরেছেন। গল্পের গাঁথুনি, শব্দচয়নে ছিল রসবোধের ছোঁয়া। বয়স বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে ভয় কম পেলেও মুগ্ধ হয়েছি অনেক এইখানে হয়তো লেখকের স্বার্থকতা। আদতে এইসব বই পড়া একবার শুরু করলে শুধু পড়েই যেতে ইচ্ছে ���রে।
প্রায় ছয়টি ঘটনার সমষ্টি ঘটেছে উপন্যাসে। প্রত্যকটি ঘটনার বিবরণ চমকপ্রদ। ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বা কাটখোট্টা বিবরণ খুঁজে পাওয়া যায়নি তবে একটি বিষয় খুব প্যারা দিয়েছে কী সেটা অবশ্যই বলব। বইয়ে অনেকগুলো কবিতা ছিল, লেখক প্লটের সাথে সামঞ্জস্যতা রাখার জন্য মূলত সেগুলো দিয়েছেন। সব যে ভালো হয়েছে তেমন না তবে কিছু কিছু কবিতা ছিল ঘোর লাগানো। সব মিলিয়ে সুখানুভূতি নিয়ে বইটি সমাপ্তি দিয়ে পরবর্তী বইয়ের জন্য অপেক্ষা করছি। কারণ, পিকচার যে এখনও বাকি!
উপন্যাসে লেখক বেশ কয়েকটি ম্যাজিক টার্ম ও মিথ ব্যবহার করেছেন। ম্যাজিক টার্ম বললেও সেটা ছিল মূলত তন্ত্রসাধনার একাংশ। কাহিনির সাথে সখ্যতা বজার রেখে এই টার্মগুলো ব্যবহার করেছেন। এবং যে মিথের আশ্রয় নিয়েছেন সেটি দেশিয় প্রেক্ষাপটের সাথে বেশ সম্পৃক্তা রয়েছে। বাংলিশ ব্যবহার তেমন ছিল না, যেটা পজেটিভ দিকের আরেকটি। সব মিলিয়ে কাহিনির যোগসূত্র ভালোই মেলাতে পেরেছেন।
আধিভৌতিক নিয়ে চর্চা বেশ সুন্দরভাবে অগ্রসর হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে। এগিয়ে যাক দেশিয় সাহিত্য, আমাদের আধিভৌতিক প্রেক্ষাপট হয়তো বিশাল না আবার থাকলেও সীমাবদ্ধ তবে চাইলে লেখকরা অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন বলে বিশ্বাস। দরকার শুধু সাপোর্টের।
❛ঘিরে থাকা অন্ধকার❜ বইটি পড়ার পূর্বে অবশ্যই লেখকের অন্ধকার ট্রিলজির প্রথম বই ���হার না মানা অন্ধকার❜ পড়ে নিবেন। নাহয় কাহিনির সাথে সামঞ্জস্যতা খুঁজে পেতে বেগ পাবেন।
➢ লেখক, বানান, অলঙ্করণ, প্রচ্ছদ, মলাট, বাঁধাই—
বাপ্পী ভাইয়ের ❛হার না মানা অন্ধকার❜ বই দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল। বইটি ছোটো ছিল বলে মন কিছুটা খারাপ লাগা থেকে গিয়েছিল কিন্তু ❛ঘিরে থাকা অন্ধকার❜ দিয়ে তিনি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছেন। শুনেছি ওনার বই অর্থাৎ অন্ধকার ট্রিলজির শেষ বই ❛কেটে যাক অন্ধকার❜ হবে আরও বিশাল কলেবরে। প্রায় ৩০০+ পেজের বইটিতে ফ্যান্টাসির ছোঁয়া পাবেন পাঠকরা। এরপরে আসতে পারে প্রিক্যুয়েল ট্রিলজি! ধামাকা যে উনি দিবেন সেইটা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। উনার লেখনশৈলীতে প্রমাণ করে দিচ্ছেন এই জনরাতে পাকাপোক্ত আসন দখল করে নিয়েছে ইতোমধ্যে। সে পর্যন্ত শুভকামনা রইল লেখকের জন্য। আশা করছি দ্রুত অন্ধকার ট্রিলজির শেষ বই হাতে পেয়ে যাব।
সম্পাদনা নিয়ে তেমন অভিযোগ নেই কারণ বইয়ের বর্ণনাভঙ্গি স্মুথ ছিল এবং কোন বাধাবিপত্তি ঘটেনি। পড়তে অসুবিধা হয়েছে বানানের কারণে। নেগেটিভ মার্কিং দিলে এদিকে আমি দিব। যদিও যতটুকু জেনেছি তাড়াহুড়োর কারণে সেভাবে বইয়ের প্রুফিং দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই দ্বিতীয় মুদ্রণে যত্ত বানান ভুল সব আশা করছি ঠিকঠাক করে নেওয়া হবে। তাই আগে সর্তক করে দিব, যারা বইটি পড়বেন বানান ভুলের জায়গা ইগনোর করে বইটি পড়ার চেষ্টা করবেন। বইয়ের ভালো লাগাতে এইসব ভুলে থাকা যেমন দৃষ্টিকটু তেমনি ভালো বইয়ের এই অবস্থা খারাপ লাগা সৃষ্টি করে।
অলঙ্করণ নিয়ে আলাদা ভাবে না বললেই হচ্ছে না। ওয়াসিফ নূর ভাইয়ের আঁকা ইলোস্ট্রেশন গুলো এক কথায় দুর্দান্ত। দারুণ সব আর্টওয়ার্ক বইটিকে দিয়েছে করেছে জীবন্ত। পড়তে পড়তে কাহিনির সাথে রিলেটেড ছবিগুলো আকর্ষণ বাড়িয়ে দিবে নিঃসন্দেহে। ওনার এই আর্টওয়ার্ক ব্যক্তিগত ভাবে আমার অনেক পছন্দ। আসন্ন অনেক বইতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন, আগামীতেও এই ধারা যাতে অব্যাহত থাকুক। শুভকামনা রইল।
জাহিদুল রাজু ভাইয়ের প্রচ্ছদ ছিল বেশ সাদামাটা। চাইলে আরও অনেক কিছু যুক্ত করতে পারতেন। বইয়ের ফ্রন্ট কভারে থাকা অবয়বের মালিক কে সেটা নাহয় বই পড়ে আন্দাজ করে নিবেন। আশা করছি আগামী বইগুলোতে কাজে নতুনত্ব নিয়ে আসবেন।
বাতিঘর প্রকাশনীর বইটি ছিল ক্রিম কালার পেপারের। প্রোডাকশন নিয়ে এই বইতে কোনো অভিযোগ নেই। তাই পড়তে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব হয়েছে। আশা করছি আগামী বৃহত্তর বই গুলোতে প্রকাশনীর প্রোডাকশন আরও উন্নতমানের হবে।
➠ বই : ঘিরে থাকা অন্ধকার | বাপ্পী খান ➠ জনরা : সুপারন্যাচারাল হরর ফিকশন ➠ প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২০ ➠ প্রচ্ছদ : রাজু ➠ অলঙ্করণ : ওয়াসিফ নূর ➠ প্রকাশনা : বাতিঘর প্রকাশনী ➠ মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা মাত্র
যেখানে প্রথম বইটা শেষ হয়েছিলো সেখান থেকেই শুরু হয়েছে এই বইয়ে। কিয়াসুর গল্প এতো মন খারাপের! এসব গল্প বারবার মনে করিয়ে দেয় শত চেষ্টা করে, দুনিয়ার ত্যাগ স্বীকার করেও কি সবার মন জেতা যায়? কিয়াসুর গল্প ছাড়াও আরো চারটি গল্প রয়েছে এই বইতে। টোটাল পাঁচটা, আগের বইয়ের মতোই। তবে গল্পগুলো কলেবর যেমন বড় তেমনি বেশ সাজানো গুছানো আর ওয়েল ডেভেলপড। কিয়াসুর গল্পটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমার। সুন্দরবনের গল্পের এন্ডিংটা মনঃপুত নাহলেও বই শেষ করে মনে হচ্ছে আদৌ গল্পের এন্ডিং হয়ইনি! বাকিটা তিনটা গল্প মোটামোটি। প্রথম বইটা নিয়ে যে অভিযোগ ছিলো যে তাড়াহুড়া করে এন্ডিং টানা, এ বইতে সেরকম মনে হয়নি। বরাবরের মতন লেখনী দারুণ। একদম পেইজ টার্নার। "অন্ধকার আমার জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে সবকিছু। এবার আমার রুখে দাঁড়াবার পালা।" কাটবে অন্ধকার?
বাপ্পী খানের এই সিরিজের প্রথম বইটা পড়ে বেশ ভাল লেগেছিল। এই বইটা তার চাইতেও বেশি ভাল হয়েছে। লেখকের হাত দিনদিন পরিণত হচ্ছে এটা তার প্রমাণ। কয়েকটা ছোট ছোট অভিজ্ঞতার মিশেলে লেখা বইটা রাতের বেলায় পড়তে গিয়ে বেশ কয়েকবার ভয় পেয়েছি। তৃতীয় বইটার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
'হার না মানা অন্ধকার' ভালো ছিল। এটা আরও ভালো। পড়তে যেয়ে, কোথাও আটকে যায়নি। লেখকের ন্যারেশন চমৎকার। প্রায় সব ক'টা গল্পেই যথেষ্ট 'মৌলিকত্ব' আছে, যা বেশিরভাগ দেশীয় হরর বইতে অনুপস্থিত থাকে।
লেখক হিসেবে বাপ্পী খানের ডেভেলপমেন্ট চোখে পড়ার মতো। লেখকের উপর এক্সপেক্টেশন রীতিমতো হু হু করে বাড়ছে। বাংলা হরর সাহিত্য উনাকে মনে রাখবে।
অন্ধকার সিরিজের দ্বিতীয় বই এটি। প্রথম বই আমার প্রত্যাশা অনেক গুণে বাড়িয়ে দিয়েছিলো, মনে হচ্ছিল এই বইটা হয়তো পুরোপুরি সেটা পূরণ করতে পারবে না। তবে আমি বেশ অবাক হয় খেয়াল করলাম, লেখক আমার ধারণাকে ভুল প্রমাণ করলেন। তারপরও আমি হার না মানা অন্ধকার বইটিকেই এগিয়ে রাখবো। এই বইয়ে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করলাম, যেমন ছোট ছোট কবিতা আর আধিভৌতিক কিছু অলঙ্করণ। বইয়ের প্রথমে কিয়াসুর গল্প আর শেষের মায়াবাঘের উপাখ্যান আমার কাছে বেশ ভাল লেগেছে। এছাড়াও লেখক রহস্যের সুতোগুলো যেভাবে একটার সাথে আরেকটা মিলিয়েছেন তা প্রশংসার দাবীদার। সিরিজের তৃতীয় বই কেটে যাক অন্ধকারের অপেক্ষায় রইলাম। আশা করি রফিক শিকদারের অতীত সম্পর্কে আরো আলোকপাত করা হবে পরবর্তী বইয়ে। আর অন্ধকার জগতের করাল থাবা থেকে নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হবে কিনা সেটাও দেখার বাকি।
"যাযাবরের পথের গন্তব্য জানতে চাওয়া সহজ নয়। চলার পথে সে স্বাধীন। সীমাহীন আকাশের পানে তাকিয়ে খুঁজে নেয় সে সন্ধ্যাতারার হদিস। মুছে যাওয়া সে ঠাঁই খুঁজে নেয়। লেখে নিজের ইতিহাস। পিছুটান ভুলতে পারলেই দুনিয়া সম্ভবনাময়। সে নিজেই বাড়ি ফিরতে চায় না, তার জন্য আলো আর আঁধারের বিভেদ শুধুই এক ভ্রম। সে নিজেই তো এক মরীচিকা।"
কোনো এক সময় অন্ধকারের চোরাবালিতে ডুবতে থাকলে সেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন। আলোর পথের ব্যাপ্তি বিশাল। তবুও কিছু অন্ধকার যেন তারচেয়েও শক্তিশালী। এই লড়াইয়ে অন্ধকারকে হারিয়ে আলোর পথে যাত্রা করা সহজ, কিন্তু পথ খুঁজে পাওয়া? যেখানে তাকানো যায়, শুধুই মরীচিকা।
রফিক শিকদারের জীবন যেন এমনই হয়ে গেছে। বন্ধুর পাল্লায় পড়ে জীবন খোয়াতে বসেছিল সে। ঠ���ক কতটা পথ ভেসে এসেছিল জানা নেই। কিয়াসুর মতো এক খাসিয়ার নজরে পড়ে অবশেষে প্রাণটা বেঁচে যায়। দীর্ঘ ছয় মাসের যুদ্ধ শেষে চোখের তারায় আলোর দেখা। আর আলোতেই যেন জানা যায় কিয়াসুর এক অন্ধকার জীবনের গল্প। কতটা সংগ্রাম, কতটা ত্যাগের পর জীবন যুদ্ধে পরাজিত এক সৈনিক সে। তবুও তো মনে আশা থাকে। যেই ভুল বোঝার কারণে নির্বাসনে যেতে হয়েছিল, সেই ভুল ভাঙতে যে হবেই। তান্ত্রিক জীবন বড়োই কঠিন। নানান শাপ-অভিশাপে জীবন জর্জরিত। তাই তো গোপন কথা কাউকে বলা যায় না। একবার বলে দিলে, নিঃশেষে বিদায়...
রফিক শিকদার আইরিনের আপন ভাই নয়। চাচাত ভাই। তারপরও যেন আপন ভাইয়ের চেয়েও বেশি কিছু। কেননা বাবার মৃত্যুর পর এই ভাইয়ের কাছেই বড়ো হয়েছে। নিজের সর্বস্ব দিয়ে বিয়ে দিয়েছে আদরের ছোটো বোনকে। তাই ভাইয়ের অন্তর্ধানের পর দিশেহারা ছোটো বোন একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। "সত্য-কলাম"-এর সম্পাদক না থাকলে কী হয়েছে? ভাইয়ের ইচ্ছে ও স্বপ্ন পূরণ করতে এর দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছে আইরিন ও তার স্বামী। দুজনের প্রচেষ্টায় রফিকের স্বপ্নের "অপ্রাকৃত" চালু করেছে দুইজন। যেখানে জানা অজানা অনেক অন্ধকার জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়।
কিয়াসুর দেওয়া দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে যখন রফিক শিকদার খাসিয়াদের গ্রামে উপস্থিত, জানা যায় এক অদ্ভুত গল্প। যে গল্প সত্য, না মিথ্যে জানা নেই। মিথ্যের আড়ালে অনেক সত্যিই থাকে, যা আমরা জানি না। সেই সত্য অবলোকন করে নিজের দায়িত্ব পালন করে ঢাকায় ফেরার তাড়া রফিকের। নিজ অফিসে ফিরে জানতে পারে বোন ও বোন জামাই পাড়ি জমিয়েছে সুন্দরবনে। একটি মানুষখেকো বাঘ বন্দী খেলায়। একই সাথে প্রাক্তন প্রেমিকার সাহায্যের আবেদন। না বলা কি যায়? রফিক ছুটল বরিশাল। সেখান থেকে খুলনা। সব রহস্যের জট ছাড়লেও, অন্ধকার যাকে ঘিরে ধরে তার পরিত্রাণ নেই। আবারও জীবনমৃত্যু লড়াই। এবার কার জীবনে শনির দশা? রফিক কীভাবে এই জীবন থেকে মুক্তি পাবে? না-কি মৃত্যুই একমাত্র সমাধান?
"হার না মানা অন্ধকার" ঠিক যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই শুরু "ঘিরে থাকা অন্ধকার"। যদি তুলনা করা হয়, সিরিজের দ্বিতীয় বই প্রথমটির তুলনায় অনেকাংশে উপভোগ্য। যদিও বইটিকে আমার ঠিক উপন্যাস বলে মনে হয়নি। আমার কাছে টুকরো টুকরো কিছু গল্পের এক সমাহার লেগেছে বইটিকে। আর সেই গল্পগুলোকে যুক্ত করেছে রফিক শিকদার, আইরিন অথবা সাফওয়াত।
তবে গল্পগুলো পড়া আরামদায়ক। কেননা, লেখক বাপ্পী খানের লেখা সাবলীল। খুব সহজ বাসায় তিনি লেখেন। লেখনশৈলী ও ভাষাশৈলী চমৎকার। কোনো ধরনের আড়ষ্টতা নেই। ফলে পড়তে গিয়ে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয় না। কিছু কবিতা ছিল বইয়ে। গল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমার পড়তে খারাপ লাগেনি। যদিও কবিতা খুব একটা পড়তে পছন্দ করি না। এছাড়া যে গল্পগুলো লেখক বলেছেন, সেগুলোও দারুণ লেগেছে। কিছুটা গা ছমছমে ভাব ছিল। অতিপ্রাকৃত গল্পে এমন আবহ না এলে ঠিক যেন জমে না।
তবে চরিত্রায়নের দিক দিয়ে আমার আক্ষেপ আছে। খুব বেশি মূল চরিত্রের বহর নেই বলে পার্শ্বচরিত্রগুলো ঠিক মতো যেন ফুটেও ওঠেনি। লেখক সংলাপের চেয়ে গল্প বলার দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই বিষয়টা ভালো লেগেছে। হয়তো আরেকটু ভালো হতে পারত। মোটের উপর খারাপ লাগেনি খুব একটা।
পরিশেষে, খুব অচেনা, অজানা পথে ছুটতে চলতে হয় মানুষকে। নিজেকে খুঁজে পেতে, কিংবা বাঁচার কোনো স্পৃহা! সেই পথে কতশত রহস্য। কত গোপন গল্পের ভান্ডার জমা থাকে। প্রকৃতি আপন নিয়মে তার সব গোপনীয়তা রক্ষা করে। সেই গোপনীয়তায় আঘাত হানলে, জীবন নিয়ে ফিরে আসা কঠিন। বড্ড কঠিন...
"কুয়াশারা অস্পৃশ্য। তবু তারা আছে। গত জন্মের ঘুম ভাঙা পথে নিজেকে যখন মেলাই, তখনও নিজেকে ক্লান্ত লাগে। খুব ক্লান্ত। যেন মৃত্যুর মাথা নোয়ানো অভিজ্ঞতা আকড়ে ধরেছে। কালশিটে চিহ্ন বুকে নিয়ে আমি জানি, এমনই সব হয়েছে। বিক্ষিপ্ত যাত্রাপথ, অবসর ঠিকই খুঁজে নিতে জানে। আমিও যদি না জানি পথের হদিস, তাহলে উপসংহার লেখা হবে। সব গোপনই থাকে রহস্য, আমি জানি। মানি, প্রকৃতিতে রহস্য আজো জেগে আছে।"
▪️বই : ঘিরে থাকা অন্ধকার ▪️লেখক : বাপ্পী খান ▪️ইবুক : বইঘর ▪️অধ্যায় : ২৫ ▪️মূল্য : ৯০ টাকা
ঘিরে থাকা অন্ধকার কেটে যাক অন্ধকার লেখক- বাপ্পী খান প্রকাশক - অভিযান জেনার - অতিপ্রাকৃত মূল্য - 300 এবং 350/-
ট্রিলজির ফার্স্ট পার্ট যখন পড়েছিলাম, তখন একটাই জিনিস মনে হচ্ছিলো যে গল্প বলা টা যেন থেমে না যায়। ছোটবেলায় দিদা ঠাকুমারা যেসব গল্প গুলো বলতেন সেগুলো বিশ্বাস অবিশ্বাস এর মাত্রা ছাড়িয়ে শুধু ভালো লাগাটাই আমাদের কাছে থেকে যেত। এই ট্রিলজির প্রত্যেকটি পার্টই তাই, পড়তে পড়তে শুধু মনে হবে লেখক যেন গল্প বলা থামিয়ে না দেয়। অন্ধকার ট্রিলজির সেকেন্ড পার্ট ঘিরে থাকা অন্ধকার, লেখক ফার্স্ট পার্ট যেখানে শেষ করেছিল সেখান থেকেই খুব সুন্দর মিল রেখে শুরু করেছেন।
পটভূমি -
#ঘিরে_থাকা_অন্ধকার সিলেটের গহীন বনে দীর্ঘদিন পর জ্ঞান ফিরে পাওয়া মানুষটা কে? কিয়াসু কেন সেই মানুষটার প্রতি এত আগ্রহী? কিয়াসুর জীবনের অন্ধকার উপাখ্যান জানতে চান? ওদিকে রাজস্থানের যে ঘটনা 'সত্য কলামে' ঠাঁই নিয়েছে তা কি আদৌ ঘটেছিল? কুড়িগ্রামের সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে রাতের গভীরে নেমে আসা 'নিষিবু'র অভিশাপ কতটা সত্যি? বরিশালের ঝালকাঠিতে প্রতি অমাবস্যার রাতে অজ্ঞাত আক্রমণের জন্য দায়ী কে? এর জন্য স্থানীয় মন্ত্রীর কেন এত মাথা ব্যাথা? ওদিকে সাফওয়াত ও আইরিন সুন্দরবনের গভীরে এক চরে বন্দি। দূর থেকে ভেসে আসছে হিংস্র মায়াবাঘের হুংকার। কী করবে তারা? এমন অজস্র প্রশ্নকে পেছনে ফেলে সবার একটাই জিজ্ঞাসা --- রফিক শিকদার কোথায়?
#কেটে_যাক_অন্ধকার মিরপুরের পরিত্যাক্ত এক বাড়িতে টিভি রিপোর্টার নাফিস কী এমন খুঁজে পেল, যা তার বিশ্বাসের সব ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে? সবার অলক্ষ্যে কোন অশুভ নরখাদক হানা দিচ্ছে ব্যস্ত নগরী ঢাকায়? কেন? ওদিকে ময়মনসিংহে পা রাখতেই রফিক শিকদারের মনে জেগেছে অজস্র প্রশ্ন। অদ্ভুত সব রহস্য দেখা দিচ্ছে তার চারপাশে। অতীত-বর্তমানের কোন যোগসূত্র তাকে টেনে এনেছে এখানে, তার দাদার মাজারে? তবে কি তার জীবনে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সব এক সুতোয় গাঁথা? তিন অদ্ভুত ভাই হাবিল-নাবিল-কাবিলই বা কী চায়? হেম্মেজের রহস্যময় আচরণ বারবার সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। সব বিপত্তি পেরিয়ে মায়াবাঘের আক্রমণের জবাব খুঁজতে রফিক ছুটে গেল খুলনায়। ওদিকে রাজশাহীতে নদীর তীরে একের পর এক উধাও হচ্ছে মানুষ। হারিয়ে যাচ্ছে প্রাণীরা। সত্যকলামের ‘অপ্রাকৃত’ বিভাগেও জমা হয়েছে ময়মনসিংহের বন-পাহাড়ে ঘটে যাওয়া এক নারকীয় তাণ্ডবের ঘটনা। সাফওয়াত হাসপাতালে, আইরিনের ভাবনায় আগামীদিনে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা ৷ আর সবার প্রচেষ্টাকে বিফল করতেই হাজির হয়েছে সেই প্রাচীন অভিশাপ, যার কারণে প্রাণ হারাতে হয়েছিল অতীতের কোনো রফিক শিকদারকে। আসলেই কি তাই? না কি সবকিছুর পেছনে লুকিয়ে আছে ভিন্ন কোনো আততায়ী? কী তার উদ্দেশ্য? অন্ধকার সে রাতের যুদ্ধে রফিক কী বেঁচে ফিরতে পারবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া -
যে প্রশ্নগুলো লেখক তৈরি করেছেন বইয়ের তিনটি পার্ট ধরে, সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে কেটে যাক অন্ধকার বইটি তে, ভয়, উত্তেজনা, শিহরণ, বিষন্নতা, প্রেম, সবকিছুই লেখক পরিমাপ মতো রেখেছেন গল্প ���ুলিতে, বাপ্পী খান সাহেবের লেখনী মার্জিত এবং সুখকর। আলাদা ভাবে বলতেই হয় তার লেখা কবিতা গুলি এক আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে বইগুলিতে। প্রথম দুটো বইয়ের সব ঠিকঠাক থাকলেও শেষ ভাগে কয়েকবার কিছু নাম উল্টোপাল্টা হয়ে গেছে, বাকি আমার কোনো সমস্যা লাগেনি। যারা অলৌকিক গল্প পড়তে আমার মতই ভালোবাসেন তারা এই সিরিজটা অবশ্যই একবার পড়ে দেখুন, ভালই লাগবে। লেখক এর একটা কবিতার কয়েকটা লাইন দিয়েই এই লেখা শেষ করবো -
অদৃশ্য আততায়ীর ভয়? তাহলে জীবনে বেঁচে থেকে কী লাভ? সেটাই পরাজয়। প্রতিটা জীবনেই, প্রতি মুহূর্তেই আছে মৃত্যুরূপী আমন্ত্রণ। ফাঁকি দিয়ে কী হবে? রুখে দাঁড়িয়ে লড়তে হবে। হয়তো কঠিন, কিংবা অসম্ভব। তবুও লড়তে জানতে হয়। আপণ পর চিনে এগিয়ে যাও। নিজের যুদ্ধ নিজের শক্তিতেই হবে। অন্যের হাতে নয় নিয়ন্ত্রণ।
অন্ধকার ট্রিলজির দ্বিতীয় বই ঘিরে থাকা অন্ধকার। প্রথম বইয়ের ক্ষেত্রে যেমন বলেছি, আপনাকে অনেক অতিপ্রাকৃত কিছু একটার মুখোমুখি হতে হবে, আবার অনেক প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হবে, কিন্তু দ্বিতীয় বইতেও আপনি যেমন অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবেন, ঠিক তেমনি অনেক নতুন প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হবে! আরও একটা ব্যাপার আছে, আপনি যেমন অনেক প্রশ্নের উত্তর জানবেন, ঠিক তেমনই অনেক উত্তরও ভুল জেনে যাবেন! কারণ প্রকৃতি সব রহস্য প্রকাশ করে না! কিছু গোপন রাখে। আর এটাই বোধহয় এই সিরিজের সফলতা, অন্তত আমি মনে করি। এই যে প্রতিটা বিষয় জানার আগ্রহ!
আবার প্রকৃতির এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, বাস্তব জীবনে যেগুলো হয়ত সত্যিই এখনও অনেক জায়গায় বিশ্বাস হিসেবে টিকে আছে। কিংবা ছিল! কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য পড়ার মজা ছাড়া, জানা ছাড়া অন্য কিছু নয়।
সিরিজের দ্বিতীয় বই এর ঘটনায় ফেরা যাক,
কিয়াসু নামে এক কবিরাজের জীবনের কথা বলা হচ্ছিল! খাসিয়া পল্লীতে একে একে যুবকেরা মারা পড়ছে। হয়ত কেউ কাজে ব্যস্ত কিংবা শিকারে যাচ্ছে, এমন সময় প্রচন্ড ব্যথায় চিৎকার করে দুই হাত দিয়ে মাথাটা ধরে পড়ে গেল মাটিতে। কিছু বুঝে ওঠার আগে সবারই মৃত্যু! খাসিয়াদের প্রধান দেবতার নাম উব্লাই নাংথউ। যখন দল বেঁধে নানা উপাচার সাজিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল তার উপাসনায় ঠিক তখনই সবাইকে আতংকের কুয়াশায় ঘিরে ফেলতেই যেন আরেকজন যুবকের মৃত্যু হলো! তখনই কিয়াসু বুঝে গিয়েছিল, এই মানুষগুলোর মৃত্যুর পেছনে লৌকিকতা নয়, বরং অলৌকিক কোনো কারণ রয়েছে। কী সেই কারণ? কেনই বা তার নিজের সন্তানকে বেহুর খাদ্য হতে হলো? এখানে একটা প্রশ্ন থাকবে, 'বেহু কে?'
এবং এখানে আপনাকে অতিরিক্ত থামতে হবে! কারণ, প্রতিটা ঘটনা না মনে রাখা পর্যন্ত পরবর্তী উত্তরগুলো মেলাতে একটু কষ্ট করতে হবে! আচ্ছা, একজন বাবা কী সত্যিই তার সন্তানকে অন্যের খাদ্য হিসেবে মেনে নিতে পারে? ওয়েট অনেক বেশি বলে ফেলছি, টুইস্টটা আপাতত থাক! ছোট-বড় অনেক অনেক টুইস্ট আছে এই সিরিজে। কিন্তু আমার কাছে অন্যান্য সব টুইস্টের মাঝে এটা মনে দাগ কেটেছে!
সেই কিয়াসুর জীবনেই একদিন ফিরে আসে রফিক শিকদার, মৃতপ্রায় অবস্থায়! কিসের জন্য? কিয়াসু কেন সেই মানুষটার প্রতি এতো আগ্রহী? কিয়াসুর জীবনে অন্ধকার উপাখ্যান কী? প্রতিবার বেঁচে যাওয়া রফিক শিকদার এর জীবন থেকেও একে একে পরিচিত সবাই চলে যাচ্ছে। কিয়াসুও একদিন চলে গেল। কেন? প্রকৃতি কিসের প্রতিশোধ নিচ্ছে তাদের সাথে?
অন্যদিকে রফিক শিকদারের অনুপস্থিতিতে সত্য-কলামের হাল ধরেছে তার চাচাতো বোন আইরিন আর তার স্বামী। ততদিনে সত্য-কলাম পত্রিকা অতিপ্রাকৃত গল্প ছাপানোর জন্য এর পরিচিতিও অনেক বড়, সূদুর বিবিসি পর্যন্ত! প্রতি সংখ্যাতেই প্রকাশ হতে থাকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে উঠে আসা গা হিম করা কিছু কাহিনী! বইটা পড়ার সময় আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, প্রতিটা ঘটনা কীভাবে এক হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু কেন?
এদিকে আইরিনের স্বামী সাফওয়াত এর সাথে পরিচয় ঘটে রাজস্থান থেকে বেঁচে ফেরত আসা ডান পা'র হাঁটুর নিচ থেকে কাটা এক অদ্ভুত লোকের। কী তার পরিচয়? তার বলা ঘটনা কি সত্যিই ঘটেছিল?
এবার মৃত্যুর মুখ বেঁচে ফেরত আসা রফিক শিকদার এর সাথে যে তিনজন জমজ ভাইয়ের পরিচয় ঘটে, তারা কারা? কেনই বা তারা রফিক শিকদারকে রফিক বাবা বলে ডাকছিল? সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো তিনজন জমজ হলেও, দুইজন এর বয়স একই। কিন্তু একজন এর বয়স কীভাবে একটা নির্দিষ্ট বয়সে আটকে গেছে? এই প্রশ্নটাও আরেকটা টুইস্ট হিসেবে থাকল। আর সবচেয়ে অবাক করার মতো আরেকটা ব্যপার হলো রফিক শিকদার এর গলায় ঝুলানো তার দাদার আমলের তাবিজ। কোন শক্তির জন্য কোনো অপশক্তি কাছাকাছি এলেই সেই তাবিজ গরম হয়ে যায়? কেন হয়?
এবার যেন রফিক শিকদারের জীবনের আরেকটা মোড় ঘোরাতেই হাজির হয় মৃত্তিকা নামের প্রথম জীবনের সেই প্রেমিকা! কী ছিল মৃত্তিকার জীবনের গল্প? কিন্তু এখানে আপনাকে আবারও দাঁড়াতে হবে! সুন্দরবনের মায়াবাঘের রহস্য সমাধান করার পর ফেরার পথে দেখা হয়ে গেল রাস্তায় বসে ছবি আঁকা এক লোকের সাথে! চিনতে গিয়েও চিনতে পারছে না কেন? এটা কি সেই হেম্মেজ ফকির? কীভাবে সম্ভব!
এই যে এবারও এতগুলো প্রশ্নের মুখোমুখি হবে আপনাকে! কিন্তু বইটা পড়তে গিয়ে নিজেরই মনে হবে, আমিই সেই রফিক শিকদার, যে অনেক রহস্য জানার জন্য বারবার ঘুরেফিরে মরছি। প্রথম বইটাতে যেমন বলেছিলাম প্রকৃতির এক দারুণ বর্ণনা পাবেন, এর দ্বিতীয় বইতেও তা কম নয়। নিজেরই মনে হবে, আমি নিজেই যেন এসব বন-জঙ্গলে ঘুরেফিরে মরছি রফিক শিকদার হয়ে! আর মুখোমুখি হতে হবে গা হিম করা নৃশংস অভিজ্ঞতার! তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, এই বই পড়ার মজাই হলো রাতে! সত্যি! আমি প্রতিটা বই-ই রাতে পড়ে শেষ করেছি। কারণ, এর অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতা যেন রাতে পড়লে দ্বিগুণ হয়ে যায়! এবং এই ব্যাপারাটাই তো এসব অতিপ্রাকৃত বই পড়ার ক্ষেত্রে আসল মজা এনে দেয়।
বইঃ ঘিরে থাকা অন্ধকার লেখকঃ বাপ্পি খান পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৯২ প্রকাশনীঃ বাতিঘর মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০ টাকা মাত্র . . শুরুতেই বলে রাখি দুটো কথা..!!!
১/ বাপ্পি ভাইকে আমি মন থেকে অনেক সম্মান, শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। তবে রিভিউ এর ক্ষেত্রে এসব মাথায় রাখবোনা।
২/ হরর থ্রিলারের প্রতি আমার আগ্রহ নেই খুব একটা, ছিলোওনা কোনকালে। তবে গতবছর বাপ্পি ভাইয়ের 'হার না মানা অন্ধকার' বইটা পরার পর থেকে হরর থ্রিলারের প্রতি ভালোবাসা বেড়ে গেছে। এইজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। . ও হ্যা! শুরুর আগে আরও একটা কথা বলে রাখি, যারা 'ঘিরে থাকা অন্ধকার' বইটি পড়তে আগ্রহী, তারা দয়া করে এই বইটা পড়া শুরু করার আগে, গতবছর মেলায় প্রকাশিত 'হার না মানা অন্ধকার' বইটি পড়ে নেবেন। এই বইটি 'হার না মানা অন্ধকার' বইটির দ্বিতীয় ভাগ! . . . বিস্তারিত আলোচনাঃ ক্রাইম, সাসপেন্স থ্রিলারে বরাবরই আমার আগ্রহটা বেশি। হরর থ্রিলারে আগ্রহ নেই বললেই চলে।
হ্যা কথাগুলো গতবছর বইমেলার আগ পর্যন্ত সত্যি ছিলো। বাতিঘরের শ্রদ্ধেয় এক লেখক বড় ভাই গতবছর আমাকে উপহার দিয়েছিলেন 'হার না মানা অন্ধকার' বইটি। ওই বইটা এক বসাতেই পড়ে উঠেছিলাম আমি। এরপর থেকেই ভালোবাসা এসে যায় হরর থ্রিলারের প্রতি। সে য���ই হোক! . ঘিরে থাকা অন্ধকার বইটার শুরুটা হয় প্রকৃতির কিছু দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে। শুরু করতেই ঘোরে হারিয়ে গিয়েছিলাম! মনে হচ্ছিলো সামনে থেকেই দেখছি সবটা আমি। বই পড়ার সময় এই অনুভুতিগুলো দারুন। যখন লেখকের লেখায় আপনি নিজেকে খুঁজে পান, উপস্থিতি খুঁজে পান নিজের, তার ব্যাখা করা জায়গাগুলোতে। আমিও ঠিক এমন কিছু ঘোরের মধ্য থেকে গিয়েছি। . প্রথম অধ্যায়েই কিয়াসুর জীবনের কিছু আগত সুখের সময়কার বর্ণনা হতে হতেই একটা ঝড়ের সম্ভাবনা দেখতে পাওয়া যায়! কি সেই ঝড়! কি করতে হবে সেই ঝড় পেরোতে হলে, তা বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে। . বরিশালের ঝালকাঠি এলাকায় দেখা যাচ্ছে কিছু অসংগতি। ওইদিকে স্থানীয় মন্ত্রীর সেই নিয়ে মাথা ব্যাথা। এখানে এই ঘটনায় খুঁজে পাওয়া যাবে এমন এক চরিত্র যাকে আপনারা হয়ত খুঁজে যাচ্ছেন এখনো! সেই ঘটনার সমাধান কিভাবে হবে কে জানে! বা এই সমস্যার শুরুই বা কি করে! আর যাবেই বা কে এই অজ্ঞাত আক্রমণের সমাধান করতে? জানতে হলে পড়তে হবে ঘিরে থাকা অন্ধকার বইটি। . রফিক শিকদার কোথায়! কি হতে যাচ্ছে সাফওয়াত আর আইরিনের সাথে সুন্দরবনের গভীরে থাকা চরে! দূর থেকে মায়াবাঘের যে হিংস্র হুঙ্কার আসছে তা আসছে কেনো? কোনো পাপ? নাকি কোনো ভৌতিক কারণ আছে এর পেছনে! তারা কি সমাধান করতে পারবে এই রহস্যের? তারা না পারলে কে বাঁচাবে তাদের! আদৌ কি সম্ভব তাদের বাঁচানো? নাকি হারিয়ে যাবে তারা সুন্দরবনের গভীরে থাকা চরের গভীরেই! সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে এখানে। . . . বইয়ের ভালো লাগার দিকগুলোঃ দৃশ্যের বর্ণনাগুলো সুন্দর ছিলো অত্যাধিক। মনে হচ্ছে আমি নিজেই আছি ওইসব জায়গাগুলোতে। অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রাসঙ্গিক তেমন ব্যাখা পাইনি যা বইটির প্লাস পয়েন্ট! মনে হয়েছে যেখানে যতটুকু দরকার ততটুকু উপাদান ঠিকঠাকভাবে দেয়া হয়েছে। প্রতিটা দৃশ্য এবং বর্ণনা মিলিয়ে ঘটনাগুলো উপস্থাপিত হয়েছে দারুনভাবে, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার! . . . বইয়ের খারাপ লাগার দিকগুলোঃ বানানের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ভুল চোখে পড়েছে! প্রচুর ঘোরে থাকা সময়টা হুট করেই ভেঙ্গে যাচ্ছিলো সে কারণে! . . . লেখকের উদ্দেশ্যে কিছু কথাঃ শেষ বইটা এর চাইতে বড় চাই! তবে হ্যা অবশ্যই অপ্রাসঙ্গিক কিছু দিয়ে না! এমন চমৎকার কিছু ঘটনা দিয়েই সিরিজের শেষ বইটা হোক নাহয়! যদিও জানি এমন কিছু করবেন না। ধন্যবাদ হরর থ্রিলার জনরার প্রতি ভালোবাসা জাগানোর জন্য আপনাকে। অনেক অনেক শুভকামনা রইলো। রেটিং দিচ্ছিনা! কারণ এটা দেয়া ঠিক হবেনা! উচিতও বলে মনে হয়না। এমন প্রাকৃতিক দৃশ্যের ব্যাখাগুলো চাই সবসময়, যেখানে নিজেকে খুঁজে পাবো। বানান ভুলের দিকটা বাদ দিলে এটা চমৎকার একটা বই! সব মিলিয়ে ধন্যবাদ, পাঠকদেরকে এমন একটা সিরিজ উপহার দেয়ার জন্য। পরবর্তী বইয়ের জন্য শুভ কামনা! . বইয়ের সারসংক্ষেপঃ সিলেটের গহীন বনে দীর্ঘদিন পর জ্ঞান ফিরে পাওয়া মানুষটা কে? কিয়াসু কেনো সেই মানুষটার প্রতি আগ্রহী?
কিয়াসুর জীবনের অন্ধকার উপাখ্যান জানতে চান?
ওইদিকে রাজস্থানের যে ঘটনা 'সত্য-কলামে' ঠাই নিয়েছে, তা কি আদৌ ঘটেছিলো? কুড়িগ্রামের সীমান্তঘেষা অঞ্চলে রাতের গভীরে নেমে আসা নিশিবু'র অভিশাপ কতোটা সত্যি?
বরিশালের ঝালকাঠিতে প্রতি আমাবস্যার রাতে অজ্ঞাত আক্রমনের জন্য দায়ি কে? এর জন্য স্থানীয় মন্ত্রীর কেনো এতো মাথা ব্যাথা?
ওইদিকে সাফওয়াত আর আইরিন সুন্দরবনের গভীরে এক চরে বন্দি। দূর থেকে ভেসে আসছে হিংস্র মায়াবাঘের হুঙ্কার।
রাত বিরাতে একা একা পড়ায় ভয়ের আবহটা বেশ টের পেয়েছি। যদিও অনেক ঘটনাই ছেলেমানুষী ধরনের। আগেরটার থেকে এটা বেশি ইন্টারেস্টিং। বাপ্পী খানের লেখার ধরণ আগের পড়া বইগুলায় তেমন ভালো না লাগলেও এটায় চমৎকার লেগেছে। কিয়াসু, মিশি আর নিশিবুর অংশগুলায় তো গল্পের মাঝে পুরাপুরি ছিলাম।
অন্ধকার সিরিজের শুরু টা হয়েছিল,বেশ কিছু ক্লু দিয়ে যে পরবর্তী খন্ডগুলো তে ওইসব গল্পের এন্ড গুলো জানা যাবে। এই বইয়ের রাত্রির গল্পটাই ভালো লেগেছে আমার আর চ্যাপ্টারে চ্যাপ্টারে কবিতা রাখাটাতে বিরক্ত এসেছে বেশি অনেক।