রসুন চাষের ঘটনাবলী উপন্যাসে একটা চরিত্রের নাম ঝিনুক। ঝিনুক স্কুল শিক্ষিকা, আচানক বিষয় হল ঝিনুকের ভ্যাজাইনার ফুটা নাই। আচানক বলার কোন কারণ নাই, বিকজ পৃথিবীর প্রায় পাঁচ শতাংশ মহিলার এই সমস্যা আছে, এই রোগের নাম ভ্যাজাইনাল এনোম্যালিস। তো বিয়ের পর স্কুল শিক্ষিকা ঝিনুকের যৌন জীবনে কি কি জটিলতা আসে তা আমরা এই উপন্যাসে দেখতে পাই। উপন্যাসে আমরা তিনটা খুন দেখতে পাই, যাকে বলে একেবারে ঠান্ডা মাথার খুন। আর এসব হত্যার ঘটনাকে ঘিরে আমরা আরো আরো ঘটনা একের পর এক ঘটতে দেখি। রোহিত নামের এক লোক তার ওয়াইফকে গলা কেটে হত্যা করার পর লাশকে টুকরা টুকরা করে ডীপ ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখে। এই হত্যায় বাপ্পি নামের টিউশনি টিচার অংশ না নিয়েও ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে, টুকরো লাশের একটা প্যাকেট নিয়ে সেও বিপদে পড়ে। ফেরারি হয়ে পালিয়ে বেড়ায় সে। উপন্যাসের একটা সময় আমরা আবিয়ার সাথে সুমিতা দির লেসবিয়ান সম্পর্ক দেখি। পরে অবশ্য আমরা আবিয়ার বাপ্পির প্রতি ভালো লাগাও দেখি। তাহলে আবিয়া কি বাই-সেক্সুয়াল মেয়ে? পাঠক পড়তে পড়তে হয়ত আরেকটি জায়গায় ধাক্কা খাবেন সেটি হল বাচ্চা জসিম চরিত্র। জসিম নামের ছয়-সাত বছরের বাচ্চার যৌন স্পর্শে লিঙ্গ দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা আমরা দেখি। মেনোপজের জটিলতায় ভেঙে পড়া জসিমের মা একদিন দেখে বাচ্চা জসিমের নাভীর নিচে কালো কালো যৌনকেশ গজাচ্ছে! এই ঘটনায় গ্রামের মাঝবয়সী মহিলাদের জসিমকে কোলে নেয়ার আগ্রহ সাডেনলি বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারটাও আমরা দেখি। গ্রামের মানুষের মুখে মুখে মুখরোচক এই ঘটনা ছড়াতে থাকলে বাবা মকবুলের পরিবারে নেমে আসে নতুন এক জটিলতা। আমরা রসুন চাষের ঘটনাবলী উপন্যাসে দেব নামের একটি নাপিত চরিত্র দেখি, দেবের সাথে সুলাইমানের এনাল সেক্স দেখি, আর দেখি ধীরে ধীরে রিভিল হওয়া দেবের বাবাকে হত্যার রহস্য!
৩.৫/৫ লেখক মঈন উদ্দিনের গদ্যশৈলী অনন্য।খুব আয়েশ করে বৈঠকি ঢঙে বলা উপন্যাসটি আগ্রহ নিয়ে পড়লাম।বইতে অবলীলায় ও বাংলা সাহিত্যের প্রেক্ষিতে কখনো কখনো দুঃসাহসিকভাবে যৌনদৃশ্যের বর্ণনা রয়েছে।মানুষের স্বাভাবিক কিন্তু গোপন প্রবৃত্তিও লেখক স্বচ্ছন্দে তুলে ধরেছেন।মূল কাহিনিতে আলাদা আলাদাভাবে ঘটতে থাকা ঘটনাবলি শেষ পর্যন্ত জোড়া লাগবে বা অর্থবহ কিছু হবে বলে আশা করেছিলাম।সে আশা পূর্ণ হয় নি।গল্পটা ঘনীভূত হতে হতে শেষ পর্যন্ত বিশ্লিষ্ট হয়ে গেলো।তবে লেখকের স্বাদু ও অননুকরণীয় গদ্যশৈলীর জন্য বইটার কথা আমার মনে থাকবে।
weirdly humorous এক গদ্যশৈলী এই বইয়ের। পড়তে পড়তে কেমন যেনো চোরাকাঁটা বিঁধবে মনে কিন্তু তড়তড় করে এক বসাতে পড়া যাবে।আমাদের অতি ব্যক্তিগত যৌনতার এরকম খোলাসা পাবলিকলি বোধহয় বাংলায় আর কেউ করেনি। গল্প শুরু হয় দুর্দান্তভাবে,এগিয়েও যায় কিন্তু শেষে কোন মিল পেলাম না।আর ঘটনাপ্রবাহগুলো ইংরেজি 'coherence ' মানে নাই। কিন্তু উক্ত বই-পাঠের মজা এতে কোনভাবে কমেনা। ভিন্ন সাধের কিছু পড়তে চাইলে উক্ত বহি'র নাম পেশ করা যায় অনাসায়ে..
এই ফিকশনের পাতায় ছবি ছবিগুলি সেইরকম! প্রচুর ফানি ফানি শব্দ আছে। মানে ছড়ান আছে। ফিকশন আছে, যোগাযোগ করতে সক্ষম হইছেন মঈন উদ্দিন। ভাষাটা মাঝে মইধ্যে কাইত হয়ে যায়, সেইগুলি সহই উনার প্রতি মনোযোগ থাকলো। ফিকশন গিমিকে না হারাইলে হয়।
এইটা আসলে কেমন ফিকশন জানি না। গল্পের শুরুতেই লেখক পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটা বাক্য লেখেন, এবং সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। মনে হয় বোধহয় পুরো বই জুড়েই লেখক এমন যোগাযোগ স্থাপন করবেন, কিন্তু পাঠকদের সরাসরি ইঙ্গিত করে আর কিছু বলেন নাই। আবিয়ার পরিবার, দেবের পরিবার আর বাপ্পি- ফিকশন এর মূল ঘটনা মূলত এই তিন পরিবার/চরিত্রেই। এক চরিত্র বা এক পরিবারের ঘটনা থেকে আরেক চরিত্রের ঘটনায় গল্প যায়, গল্পগুলা টুকরা আকারেই আগাইতে থাকে। যৌনতার কিছু এলিমেন্ট আসে মাঝেমাঝে, তবে এইটা আলগা লাগে না। গল্পের সাথে মেশে।
বইটা ভালো লাগবে খারাপ লাগবে এইজন্য পড়তে বলবো না— কোনো পাঠক যদি অন্যরকম ফিকশন পড়তে চান, তবে টেস্ট কইরা দেখতে পারেন। ভালো বা খারাপ লাগার বাইরেও একটা ব্যাপার থাকে, বোধহয় এইটা টের পাওয়া যাইতে পারে।
পড়ে আনন্দ পেলাম। পড়া শেষে ভাবলাম এই ফিকশনটি অন্য কোন ভাষায় কেউ অনুবাদ করতে চাইলে তার কী দুর্গতি হবে। মঈন উদ্দিনের পরবর্তী বইয়ের ঘোষণা দেখলাম। অপেক্ষায় থাকব।
শুক্রবার বাতিঘরে গিয়েছিলাম Tharoorosaurus কিনতে। নেই। সৌবল শকুনি আছে? নেই। একাত্তরের কানাগলি আছে? আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিক ঝিক আছে? নেই। যে বই জিজ্ঞেস করি বলে নেই। রসুন চাষের ঘটনাবলী পর্যন্ত আসতে আসতে মেয়েটা কিরকম লজ্জা পেয়ে গেলো। এতোবার না বলা যায়! সম্ভবত এই বইটা চাওয়ার পর একট হাপ ছেড়ে বাঁচলো। এটা আছে।
বইটা কিনিনি। ৭১ পৃষ্ঠার বই। সাইজেও ছোট। ওখানে বসেই পড়ে শেষ করে ফেললাম।
এ বইটা আমার মোটামুটি লেগেছে। ফিকশন হিসেবে। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে মইন সাহেব লিখতে পারেন। উনার লিখা ভালো। সরল ভাবে এন্টিক্লাইমেক্সগুলো দিতে পারেন।
আসন্ন প্রাপ্তির আশাতেই জীবন এগিয়ে চলে। একটা চক্রের ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে মর্ত্যের বাসিন্দারা। ছড়ার সাথে বিষয়বস্তু মিলিয়েই যেন অদ্ভুত নামের অদ্ভুত এই বই।
৬৯ পৃষ্ঠার বইটায় শুরু থেকে একের পর চরিত্রের আবির্ভাব ঘটতে থাকে, আপাতদৃষ্টিতে যাদেরকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়। ঘটনাপ্রবাহ খাপছাড়া, ধারবাহিকতা খুঁজলে বিভ্রান্ত হয়ে যেতে হয়। ভাষার ব্যবহারও আলাদা: কখনও ক্যাজুয়াল ফেসবুকীয় প্যাটার্ন, কখনও লঘু কাব্যিক; ফাঁকফোকরে হিউমার, স্ল্যাং। সাররিয়েলিজম নেই, বরং আগাগোড়া রিয়েলিজমে ঠাসা। সাথে ব্ল্যাক কমেডির আভাস। এমন কিছু আগে পড়েছি বলে মনে হয় না।
লাইনচ্যুত ট্রেনের মতো চলতে চলতে অবশ্য কাহিনী নির্দিষ্ট গতিপথ খুঁজে পায়। তবে সেই কাহিনীতেও অস্বাভাবিকতায় মোড়ানো স্বাভাবিকতার উপস্থিতি।
পড়লাম বইটা কাউকে কাউকে পড়তে দেখে । পড়ার পর মনে হচ্ছে, সেকেন্ড টাইম বইটার কাছে আবার ফিরে আসতে ইচ্ছা করবে হয়তো । আসলে, আমার শরীরটা যখন চোখ দিয়ে পড়া বাক্যগুলোর সাথে একীভূত হওয়া শুরু করছে মাত্র, তখন বইটার টু-থার্ড মতো পড়া শেষ । সেকেন্ড টাইম পড়ার সময়, শরীরের এই সেন্সটা মনে থাকবে বিশ্বাস । শুরু থেকেই এক্সপেক্টেশনটা রাইট ওয়েতে যাবে আশা রাখি । তখন আরও কিছু লিখেটিখে, এডিটেড রিভিউ অ্যাড করা যাবে । আপাতত কোন রেটিং দিলাম না ।তবুও লাইনগুলা যারা পড়লেন, বলি, সাড়ে তিন । এমনিই দিলাম, সিরিয়াস কিছু না ।
রসুন চাষের ঘটনাবলী পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল চরিত্রগুলোর জীবনে আনঅর্থোডক্স যৌনতা ছাড়া আর কোনো এস্পেক্ট নেই। এবং সেইটা লেখক দেখছেন এক রকমের বিদ্রূপ নিয়ে, যা মূলত তাঁদের প্রতি সমাজেরই দৃষ্টি হতে পারে (হয়ে থাকে এই ধরণের কেইসগুলোয়), তো এই কারণেই মাঝেমধ্যে ওদের জন্য একটু খারাপই লাগে - এই জিনিসটা এই বইয়ের একটা উল্লেখযোগ্য দিক। এ ছাড়া আমি এই ন্যারেটিভে আর কোনো ক্যাথারসিস বা ট্রিটমেন্ট পাইনাই শেষ পর্যন্ত, খুঁজছিলাম যদিও।
পয়েন্টলেস বা ননসেন্স ফিকশন হয়ে উঠতে পারত তা হয়নাই। কিছু সেন্স মেইক করতে গিয়েই মূলত ঝামেলাটা বাঁধাল কারণ কোনো কিছুই জমে উঠল না ঐ ভাবে। অনেকগুলো অস্বাভাবিক ঘটনা, চরিত্র ও বস্তু সবাই মিলে হুড়মুড় করে একটা একরৈখিক আবহ তৈরিতে জোর সচেষ্ট ছিল যেন বা, সে কারণেই ওদের সম্ভাবনা বেশিদূর ডালপালা মেলতে পারল না মনে হয়।
তবে বাংলা ভাষায় অনেক ধরণের ফিকশন লেখা হচ্ছে এখন, ভাষার ভাঙচুর ন্যারেটিভের ভাঙচুরও চলছে, এই বই সেই যাত্রায় উল্লেখ করার মতোই একটা ঘটনা।
অসংলগ্নভাবে শুরু হইসে, ভাবসিলাম সংলগ্নতা আসবে কাহিনীতে কিছুদূর গেলে, কিন্তু আসলো না। কানেক্ট করে এন্ডিং দেওয়ার একটা চেষ্টা করসেন লেখক, কিন্তু হইতে গিয়াও হইলো না। লেখনী ভালোই, কাহিনী বলার ক্ষেত্রে এই ধরনের লেখনী অনুসরণ করা একটা casual আবহ তৈরি করে। যেটা আধুনিক সাহিত্যের বিবেচনায় বেশ ইম্প্রেসিভ। কিন্তু ওই যে, মূল কাহিনীতে গিয়ে ধরা খেয়ে গেসেন। যদিও এটা আমার ব্যক্তিগত টেস্টের কারণেও মনে হয়ে থাকতে পারে।
বছরের প্রথম বই হিসেবে এইটা পড়া, কিন্তু জমলো না। আশা করি ২০২৫ এ আরও ভালো ভালো বই পড়া হবে।