Jump to ratings and reviews
Rate this book

অ্যানার্কিস্ট #১

দিমেন্তিয়া

Rate this book
ইট-কাঠ-পাথরের ব্যস্ত নগরী ঢাকা শহরে হঠাৎ একটি খুন। ডাক পড়লো সিআইডির ডাকসাইটে কর্মকর্তা শফির। তদন্ত কাজ শুরু হতে না হতেই নির্দিষ্ট নিয়মে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটতে লাগলো। প্রত্যেককে নির্মম নির্যাতনের পর অত্যন্ত পৈশাচিক উপায়ে হত্যা করা হতে লাগলো। লাশের ভয়াবহতা দেখে শিউরে উঠে তদন্ত কর্মকর্তা। একটা খুনের সাথে আরেকটা খুনের বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। এই জটিল রহস্য খুঁজে বের করতে গিয়ে সকলের গলদঘর্ম অবস্থা! কিছুতেই রহস্যের কোনো কূল-কিনারা মিলছে না। একের পর এক খুন হয়ে যাচ্ছে। দেশে প্রথমবারের মত সিরিয়াল কিলিং হচ্ছে। প্রত্যেকটি লাশকে দেখে শিউরে উঠছে সবাই। ঘটনাক্রমে এর সাথে দানিয়াল নামক একজন ওসি জড়িয়ে যায়। জটিল রহস্য ভেদ করে যাচ্ছে দানিয়াল যা ক্রমে ফাটল জন্ম দেয় শফী আর দানিয়ালের মধ্যে। খুনি তাদের এই বিয়োজনের সু্যোগ নিয়ে একের পর এক হত্যা করে যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে বুঝতে পারে নিছক কোন হত্যাকাণ্ড নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে বড় রহস্য। যার মায়াজালে জড়িয়ে পড়ে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সবাই। রহস্যের সূত্র ধরতে না পেরে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই তরতর করে চড়তে থাকে। কে করছে এত খুন? সে কি মানুষ না ধোঁয়াশা? লাশের মিছিল শেষ কখন? উত্তর পাওয়া এখনো বাকী।
উত্তেজনায় ঠাসা এই রহস্যময় যাত্রায় অন্ধকার জগতে আপনাকে স্বাগতম, প্রিয় পাঠক! আর ডার্ক সাইকোলজিক্যাল ফিকশনের সাথে না পরিচিত না হয়ে থাকলে নতুন এই জনরার বই নিঃসন্দেহে এক ভিন্নতার ছোঁয়া পাবেন গোয়েন্দা কাহিনীপ্রেমী পাঠকেরা। “welcome to the dark world”

272 pages, Hardcover

First published January 15, 2020

19 people are currently reading
333 people want to read

About the author

M.J. Babu

9 books341 followers
M.J. Babu is an acclaimed author born and raised in Dhaka. M.J. made a remarkable entry into the literary world with his debut book, Dimentiya, published in 2020. This gripping novel quickly became a best-seller in the Bengali language, establishing him as a prominent figure in contemporary Bengali literature.

Following the success of his debut, M.J. continued to captivate readers with his unique storytelling and thought-provoking themes. His book Pinball, published in 2022 from Kolkata, India, received critical acclaim and further solidified his reputation as a versatile and talented writer.

M.J. has authored seven books in Bengali, including the renowned Anarchist Series with titles Dimentiya, Absentiya, and Insentiya. Other notable works include Nirjon Shakkhor, Vrom, and Jinn. His literary works span various genres, showcasing his ability to weave intricate narratives that resonate deeply with readers.

Currently, M.J.'s books are being published from both Dhaka and Kolkata, broadening his reach and influence in the literary world.






Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
143 (39%)
4 stars
130 (36%)
3 stars
55 (15%)
2 stars
23 (6%)
1 star
10 (2%)
Displaying 1 - 30 of 89 reviews
Profile Image for Md. Al Fidah.
Author 126 books551 followers
Read
July 16, 2020
প্রথম কথা-বইয়ের ব্লার্ব বা কাহিনি সংক্ষেপ। অত্যন্ত আগ্রহ-জাগানিয়া। বাংলাদেশের সাহিত্যে সিরিয়াল কিলিং নিয়ে খুব বেশি কাজ হয়নি। আসলে দিবাকর দাসের ছায়াবাজি, সোহেল রানার আমর্ষ আর সালমান হকের তিন ডাহুক বাদে সমসাময়িক আর কারও কাজ মনে করতে পারছি না। তারমাঝে আবার তিন ডাহুক বাদে অন্যগুলোয় সিলিয়াল কিলিং ব্যাপারটাকে ফোকাসে আনা হয়নি। তাই অবশ্যই কাহিনি সংক্ষেপ এখানে অনেক বড় একটা প্লাস পয়েন্ট।

দ্বিতীয় প্লাস পয়েন্ট বইতে ব্যবহৃত সিরিয়াল কিলিঙের ধারণার ব্যাখ্যা। তার স্থায়িত্ব মাত্র দুই পাতা। অর্থাৎ লেখক এই জায়গাটা তথ্যের ভারে ওজনদার করেননি। তবে যেহেতু আইডিয়া পেতে অসুবিধা হয়নি, তাই এতটুকু ব্যবহার যথার্থ ছিল বলেই মনে হয়।

এরপর আশা যাক চরিত্রায়নের কথায়। বইটি ২৭২ পৃষ্ঠার হলেও, বইয়ের পাতা থেকে লাফিয়ে উঠে চোখের সামনে ভাসতে থাকে এমন চরিত্রের সংখ্যা হাতে গোণা। তার মাঝে নায়ক দানিয়াল সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠিত। তবে আফসোসের কথা, দানিয়ালের চরিত্র একেবারেই সরলরৈখিক, তাতে আপস-ডাউনস খুব একটা নজরে আসে না। অবশ্য ব্যাপারটাকে খুব একটা বড় হিসেবে দেখার উপায় নেই, এমন চরিত্রের অবস্থান আমাদের জীবনেও আছে। কম, কিন্তু আছে। এরপর সবচেয়ে বেশি ফোকাস পাওয়া চরিত্র শফি। তবে এই চরিত্রটা টালমাটাল। সেই হিসেবে স্পয়লার না দিয়ে বলা যায় যে চরিত্রায়ন ভালো হয়েছে। আছে নায়িকা-ইশিকা, অত্যন্ত লঘু এবং বিরক্তি-উদ্রেককারী একটা চরিত্র; লেখক তেমনটাই দেখাতে চাইলে একেবারে সফল। তবে তার চিত্রায়নের মূল সমস্যাটা মোডারেট মুসলিম হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা। সে নেকাব পরে ভার্সিটিতে যায়, আবার বন্ধুদের সঙ্গে নেকাব ছাড়া বসে আড্ডা দেয়, আবার চার বছর আগে দেখা দানিয়ালকে চার বছর পর দেখে প্রেমে কাতর হয়ে পড়ে; আবার যার সঙ্গে বিয়ে হবার কথা চলছে তার বাড়িতে গিয়ে রাত কাটিয়ে আসে (হবু-শাশুড়ির সঙ্গে)। বর্তমানের আধুনিকতা আর ধার্মিকতার মাঝে পড়া একটা চরিত্র, যার চিত্রায়নটা ভাল লাগেনি।

ডিটেইলিং আছে প্রচুর, তবে এখান থেকে বইটির দুর্বল দিকের শুরু। ডিটেইলিঙে হয় লেখক একটু কম মনোযোগ দিয়েছেন, নইলে তার সোর্সগুলো পুরোপুরি ভাবে তার প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না। তবে সেই বিস্তারিত বিবরণে আসছি। দিন-তারিখ-ক্ষণের হিসেবে অত্যন্ত অপটুতা দেখিয়েছেন লেখক যা বই পাঠের অনুভূতি বারংবার আন্দোলিত করেছে, বেশিরভাগ থেকে খারাপের দিকেই। কাহিনির পেসিংটা একটু অন্যরকম। বড় বইতে এই ধরনের একটু সমস্যা হয়। প্রথমে গ্রিপিং থাকে, তারপর থাকে শ্লথ অংশ। শেষে আবার গ্রিপিং। আমার কাছে বইয়ের শ্লথ অংশ বেশিই শ্লথ মনে হয়েছে।

বাঁধাই, ছাপা, পাতার মান ভালো; তবে এত দামের যোগ্য বলে মনে হয় না। প্রচ্ছদ নিয়ে আমার মাথাব্যথা কস্মিনকালেও ছিল না, এখনও নেই। শেষের দিকে ঘটনাগুলোও ঘটে গেল প্রত্যাশিত ভাবেই। ৫০ পাতা পড়ার পর কাহিনি যা মনে হয়েছিল, শেষেও তাই। তাই অন্তত আমাকে টুইস্টটা হতবাক করতে পারেনি।

এবার আসা যাক বিস্তারিত কথায়।

প্রথমত নাম নিয়ে। 'দিমেন্তিয়া' শব্দটা কৌতূহল জাগায়, যা পরবর্তীতে (বইয়ের মাঝে) লেখক পরিষ্কার করেননি। ওয়ার্ড প্লে হতে পারে, হতে পারে হয়তো চতুর ইঙ্গিত, কিন্তু বইটি থেকে তা পরিষ্কার না। প্রিন্টার্স লাইনে লেখা Dimentia by M.J. Babu তেও যে বর্ণগুলো ব্যবহার করে বইয়ের নাম লেখা হয়েছে তার উচ্চারণ যেকোনো বিচারে ডিমেনশিয়া-ই আসে। খানিকটা অসন্তুষ্টির কারণ আছে বৈকি।

আমি পুরানো দিনের মানুষ, তখনও ভাষার বানান পরিবর্তনের জোয়ার আসেনি। এখনকার অনেক বানান নিয়েই আমাকে সন্দিহান হতে হয়, বানানে আমি দক্ষও নই।। তবে মোটামুটি নিশ্চিত যে 'ওনি' (উনি) বানানটি বাংলা ভাষায় নেই। যেমন নেই- মাঝাড়ি, কাওকে, ইম্প্র্যাস (ব্যাবহারিক অর্থে), বাকী- শব্দগুলোও। বানানে ছোটখাটো ভুল হয়তো আমাদের অনেকেই নজরে আসে না, কিন্তু বড় ধরনের ভুল অগ্রাহ্য করা কঠিন হয়ে যায়।

লেখনশৈলী পরিশীলিত নয়। তবে শুরুর দিকে বিরক্তি অনেকটাই কেটে যায় পরের পাতাগুলোয়। প্রথম বই হিসেবে লেখনশৈলীর দুর্বলতাকে অবশ্যই ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা যায়। কাব্যের ধারায় লাইনের একটা শব্দকে কেন্দ্রে ধরে পরের শব্দে যাবার প্রচলন দেখলেও, গদ্য রীতিতে পরপর একাধিক লাইনে একরকমের ভাষ্য কিংবা শব্দের ব্যবহার বিরক্তির উদ্রেক করে বৈকি। যেমন প্রথম প্যারার কথা ধরা যাক:
অনেকক্ষণ যাবত 'মোবাইল'টা 'বাজছে'। 'মোবাইল' 'বাজার' শব্দে ঘুম ভাঙ্গে শফির। সেই থেকে একটু পর পর থেমে থেমে 'মোবাইল'টা 'বেজে' উঠছে। কতক্ষণ যাবত 'বেজে' চলছে সেটা খেয়াল নেই।
এরকম গদ্যরীতিকে ব্যক্তিগত মতানুসারে আমি অপরিশীলিতই বলব। পরের দিকে এই প্রবণতা কমে গেলেও, আছে বেশ কিছু স্থানেই।

ডিটেইলিং করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলাটা বইয়ের মারাত্মক একটা অসঙ্গতি। সেটা ব্যাপারে বলতে গেলে অনেক লম্বা রচনা হয়ে যাবে। লম্বা মানে...ল-ম্বা... উদাহরণ স্বরূপ বলতে গেলেও অনেক হয়ে যায়। তাও বলছি:

***স্পয়লার অ্যালার্ট***

৯-১০ পৃষ্ঠা: সাত বছর পুলিসে আছে শফি, বর্তমানে সে চিফ ইন্সপেক্টর (বইতে বানানটা প্যাক্টর হিসেবে লেখা আছে)। আবার তার বন্ধু রেজাও চিফ ইন্সপেক্টর।
পৃ. ১৪: 'ঢাকা ভার্সিটি থেকে দর্শনে পাশ করে পুলিসের এসআই পদে যোগ দেয় দানিয়াল; এখন সে ওসি।' পাঁচ বছরের মাঝে ঢাকার থানার ওসি হওয়াটা একটু বেশি দ্রুত। আবার পাঁচ বছরের মাঝে মার্ডার কেস মাত্র দুটো (পৃ. ৩৫)।
পৃ. ২২: 'স্যার ভিক্টিমকে ছয় টুকরো করা হয়, তাও আবার ছয় টুকরো করে।' প্রথম দিন পা কাটা হলে দেহের দুই টুকরো হলো-এক পা ও অবশিষ্ট দেহ। পরের দিনে আরেক পা কাটা হলে দুই দিনে তিন টুকরো। এভাবে পাঁচ দিনে ছয় টুকরো হয়। ছয় দিনে ছয় টুকরো করার মতো করে পাঁচ দিনে পাঁচ টুকরো, চার দিনে চার টুকরো টাইপের উপস্থাপনার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। যেহেতু দিন আর কর্তিতাংশের ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, তাই এখানে বইয়ের প্লট একটা বিশাল ধাক্কা খায়।
'যে অস্ত্র ব্যবহার করে হয়েছে সেটা প্রায় আধা সেন্টিমিটার পুরু, প্রস্থ প্রায় তিন সেন্টিমিটার। বলতে গেলে চাপাতি।' এখানে সম্ভবত ইঞ্চি হবে।
পৃ. ২৭: একটা ড্রাগের কথা বলা হয়েছে-বিউটিলিয়াম ৩৬, যা ভিক্টিমের দেহে প্রবেশ করাবার পর রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। ফিকশনে কিছু অস্বাভাবিক কথা থাকবেই, নইলে তো ব্যাপারটা চটকদার হলো না; কিন্তু সেই চটকদার ব্যাপারের পেছনেও খানিকটা লজিক থাকতে হয়। হ্যারি পটার জাদুর ছড়ি দুলিয়ে রক্তপাত বন্ধ করে দিতে পারে, হগওয়ার্টসের দুনিয়ায় সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পোয়ারো তা করলে তো হলো না। যে ওষুধ রক্ততঞ্চন করে ফিমোরাল আর্টারি থেকে রক্তপাত বন্ধ করতে পারে, সেটা তো শরীরের ভেতরেই রক্ত জমিয়ে দেবে! এখানে আরেকটা অসঙ্গতি-এই ড্রাগের পেছনে অনেকটা সময় দেয়া হয়েছে। কোথাও পাওয়া যায় না, শুধু আর্মির হাতে আছে ইত্যাদি। কিন্তু পরবর্তীতে একটা কথা বলে ব্যাপারটাকে উড়িয়ে দেয়া হলো-যেকোনো কেমিস্টই নাকি বানাতে পারে। ইনহ্যারেন্ট লজিক সিস্টেম ছাড়া আসলে কোনো থ্রিলারই চলে না। বুদ্ধির খেলা হয় এখানে পাঠক-লেখক-চরিত্রের। সেখানে লজিকই আসল।
পৃ. ৬২: দ্বিতীয় কেসটাও সেইম, ছয় টুকরো করে ফেলে রাখা হয়েছে। অথচ পৃষ্ঠা ৮০ অনুসারে: খুনি পাঁচ দিন আগে কাজ শুরু করেছে। ১৬২ পৃ্.তে লেখা পাঁচ টুকরার কথা।
পৃ. ৬৮: উপস্থিত রয়েছেন দুজন, একজন কেসের ইনভেস্টিগেশন অফিসার। অন্য জন তার সহকারী। আপডেট জানাবে কে? অবশ্যই অফিসার, সহকারী নন।
পৃ. ৭৭: 'প্রথম ভিক্টিমের ৬ দিনে ৬ পার্টস আলাদা করা হয়, তার মানে প্রথম ভিক্টিমকে জানুয়ারির ২৭-২৮ তারিখ থেকেই ডিসইন্ট্রিগেট করা হয়। তার মৃত্যু ঘটে ১ তারিখ। আমর��� লাশ পাই ২ তারিখ, সেক্ষেত্রে আমরা লাশ পাই খুন হবার ৬ দিন পর।' কোনো ভাবেই কোনো হিসাব মেলে না। যদি বাঁচিয়ে রাখাই হয়, তাহলে ১ তারিখের পর ২ তারিখ লাশ পেলে কীভাবে খুন হবার ৬ দিন পর হয়?
একই পৃষ্ঠায়: 'ঢাকা শহরে ৩ দিয়ে শুরু কোনো রাস্তা নেই।' প্রথমটা ছিল গ্রিন রোডের ১/ক, দ্বিতীয়টা ধানমণ্ডি ২। এমন তো বনশ্রী ৩ নম্বর রোড থেকে শুরু করে অহরহ থাকার কথা।
পৃষ্ঠা ৬৮: রুবানা জামান নিখোঁজ হয়ে ৬ জানুয়ারি, আবার পৃষ্ঠা ১০৫ নিখোঁজ হয় ৯ তারিখে।
পৃষ্ঠা. ১২১: চরিত্রের নাম সাবরিনা, ১৩৯ পৃষ্ঠায় সাবরিন।
১২২-অবন্তি, ১৫৩ অবন্তী
১৪৩-ভিক্টিমের চোখ অনুপস্থিত, ১৬৯-হৃদপিন্ড
২১৮-টাইমলাইন: 'এক জানুয়ারি খুন হয় রাজু শীল, সেদিন নিখোঁজ হয় কেয়া ইসলাম। একমাস পর, দুই ফেব্রুয়ারি প্রথম লাশ পাওয়া যায় কেয়া ইসলামের। দ্বিতীয় লাশ ৪ ফেব্রুয়ারি, সেই ভিক্টিম আবার নিখোঁজ হয় জানুয়ারি (তারিখ নেই)। তার পরের ভিক্টিম নিখোঁজ হয় একুশ জানুয়ারি আর লাশ পাওয়া যায় সাত ফেব্রুয়ারি, লাশ ডাম্প করা হয় ছয় ফেব্রুয়ারি। ছয় ফেব্রুয়ারি সকালে কিডন্যাপ হয় ইন্দ্রানি স্যানাল।...তার পরের ভিক্টিম নিখোঁজ হয় সতেরো জানুয়ারি, লাশ পাওয়া যায় আট জানুয়রি। পরের কিডন্যাপ হয় ২৬ জানুয়ারি, লাশ পাওয়া যায় দশ জানুয়ারি।
২৬৯-রেজার স্ত্রীর নাম একখানে দেয়া রেজওয়ানা (২৪২), আরেকখানে অর্পা।

মেডিকেল তথ্য প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ভুল:
বিউটিলিয়ামের কথা তো আগেই বললাম।
পৃ. ২৮: জরায়ু দেখে লক্ষণ বুঝবে কীভাবে? একটা যুক্তি হতে পারে-স্পার্ম দেখা। সেটার জন্য যোনিই যথেষ্ট।
পৃ. ৮১: অ্যাবোরশন করাতে গেলে লাশের তলপেটে চিকন একটা দাগ ফুটে ওঠে না।
ভিক্টিমের ব্লাড থেকে অ্যালকোহল বুঝতে হলে তাকে বারো ঘণ্টার মাঝে মদ খেতে হবে। অ্যালকোহলিক বোঝার জন্য যকৃৎ বা লিভার দেখা যেত, কিংবা ইসোফ্যাগাসের নিচের দিকে ম্যালোরি-ওয়েজ টিয়ারের উপস্থিতি।
পৃষ্ঠা ৮২: বিউটিলিয়ামের সাইড ইফেক্ট-দেহের কোষ নষ্ট করে ফেলা, সোজা কথায় ক্যান্সার। ক্যান্সার এক ধরনের অনিয়ন্ত্রিত গ্রোথ যা দেহের কোষের সংখ্যা আসলে বাড়ায়, সাধারণ কোষ নষ্ট করে। যেহেতু বইটার স্ট্রং সেলিং পয়েন্ট হিসেবে ফরেনসিককে টানা হয়েছে, তাই ছোটখাটো ভুলও নজরে পড়ে।
পৃষ্ঠা. ২০৭: আমি সাইকোলজিস্ট নই, তবে সাইকিয়াট্রির কিছু জিনিস তো আমাদেরও পড়তে হয়। অ্যাবরশনের এগেইন্সটে কেউ গেলে সে কীভাবে এতিম হয়, তা আমি মিলাতে পারিনি। এতিমখানার কথা বলা হয়েছে যদি ধরেও নেই (এই ধরনের তথ্যের দিকে পরিষ্কার করে দেয়াই ভালো, পাঠক তিলকে তালও ধরে নিতে পারে), তাহলেও মেলে না। এতিমখানায় যদি পিতৃ-পরিচয়হীন কেউ যায় তো তার সমস্যা হবে অনৈতিক আচরণে লিপ্ত নারী-পুরুষদের সঙ্গে। অ্যাবরশন কীভাবে।
২১৮-রুবানা, অবন্তি, সাবরিন আর ইন্দ্রানীর অ্যাবরশন বাহাউল্লাহ করে। বাহাউল্লাহ মেডিসিনের ডাক্তার (পৃ. ১৯৬)। বাকিদেরটা বুঝলাম, স্বনামধন্য একজন উঠতি ডাক্তার কেন মেডিসিনের ডাক্তার দিয়ে অ্যাবরশন করাতে যাবে? আর সে গেলেও, ধনীর কন্যা রুবানা কেন যাবে? সে তো বাবার সম্পত্তি নিয়েই অ্যাবরশন করিয়েছিল, ক্রিমিনাল অ্যাবরশন করায়নি। মেলে না।
***ম্যাসিভ স্পয়লার***
তবে সবচাইতে বড় অসঙ্গতি শুরু ১৮৬ পৃষ্ঠায়, যেখানে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়া।
প্রথম ভিক্টিমের নাম কেয়া ইসলাম, এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে রুবানা।
'যারা খুনগুলির শিকার তারা সেভেন কার্ডিনাল সিন করেছে, বাংলায় ষড়রিপু।' আসলে কোনটা? সাতটা কার্ডিনাল সিন? নাকি ছয়টা রিপু? কোনটা দায়ী? এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যেন ইন্টারচেঞ্জেবল। কেস দাঁড়িয়ে আছে ছয় রিপুর ওপর, কিন্তু খুন হতে যাচ্ছে সাতটা। কীভাবে?
এবার ষড়রিপুর ব্যাখ্যা। ক্রোধ, মদ, মাৎসর্য, লোভ, কাম, মোহ-ছয়টা রিপু। কিন্তু সেভেন কার্ডিনাল সিনে-ক্রোধ, লোভ, মদ, মাৎসর্য, মোহ, অতিভোজন (gluttony), আলস্য (sloth)।
ভিক্টিমদের দেখা যাক:
কেয়া-স্বেচ্ছায় বিয়ে হয়নি বলে স্বামীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেনি-ক্রোধ (মেনে নিলাম)।
রুবানা-প্রাইড (মদ অর্থ আত্মগৌরব)। কীভাবে? বড়লোকের মেয়ে, বাপের অমতে বিয়ে করেছে। আবার বাপের কথা শুনে ফিরে এসেছে, আবার অ্যাবোরশন করিয়েছে বাপের কথা শুনে। তাহলে অতিরিক্ত আত্মগৌরব কীভাবে যুক্তিযুক্ত হলো?
সাবরিন-ঈর্ষা (মাৎসর্য)। এটাও তো মেলে না। ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে যে স্বামীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, কারণ স্বামী সন্তান জন্মদানে অক্ষম। যদি ধরেও নেই যে অন্য মায়েদের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিল, তাহলে সেটা ভালোভাবে উল্লেখ করতে হবে না?
অবন্তী-লোভ। মেনে নিলাম।
ইন্দ্রানী-কাম, মেনে নিলাম।
২১৯ পৃষ্ঠায় আবার ক্যাজুয়ালি বলা হলো-খুনি ছয়টা না, সাতটা খুন করবে। কেন? বাহাউল্লাহ যদি তার টার্গেটের একজন না, সেইজন্য? তাহলে রাজু শীলকে কেন হিসেবে আনা হচ্ছে না?
আবার শেষ ভিক্টিম হিসেবে দেখানো হচ্ছে রোখসানাকে, যে নাম ভাঁড়িয়ে অ্যাবরশন করাতে যায়। এখানে এসে রিপুর খেলা পুরাই শেষ। তাহলে এখানে কোন রিপুর ব্যাখ্যা আসবে? বাকি আছে মোহ, এক্ষেত্রে ব্যাখ্যা কী। আর যদি মাঝখানে আনি বাহাউল্লাহকে, আর সে মোহ নিয়ে নেয় তো খুন হচ্ছে সাতটা। সেভেন কার্ডিনাল সিনের শেষ দুটোর সঙ্গে মিল নেই ষড়রিপুর তাহলে?
পুরো ব্যাখাই কি তাহলে একেবারে উড়ে যায় না?
২৬৩-বোঝা যায় যে শফির একধরনের অডিটরি ও ভিজুয়াল হ্যালুসিনেশন হতো। সে দেখতে পাচ্ছে আজরাঈলকে যে মৃত্যুর ফেরেশতা, আবার শুনতে পাচ্ছে তার কথা। সো তার পক্ষে সেভেন কার্ডিনাল সিন বা ছয়রিপুর দ্বারা এভাবে চালিত হওয়াটা যৌক্তিক নয়।
তাছাড়া রেজা কেমিস্ট্রিতে দক্ষ ছিল, শফি না (যতদূর মনে পড়ে)। শফির মাঝে রেজার ক্যারেক্টার গ্রো করলেও, তার জ্ঞান তো চলে আসে না। তাই বিউটিলিয়ামের জ্ঞানও শফির থাকার কথা না। শেষ কথা-রেজার স্ত্রী তো অ্যাবোরশন করেনি। তাহলে কেন অ্যাবোরশন শফির মাঝে জন্ম নেয়া রেজার কাজে ইম্পরট্যান্ট হলো? সে এতিমখানায় বড় বলে? তার সঙ্গে অ্যাবোরশনের সম্পর্ক একটু বেশিই কষ্টকল্পনা হয়ে যায় না?
রেজার জীবনের ধাক্কাগুলো-
ক. এতিম খানায় বড় হওয়া।
খ. কমবয়সে অর্থ-সংক্রান্ত বিশ্বাসঘাতকতা।
গ. স্ত্রীর কাছ থেকে প্রতারিত হওয়া।
ঘ. অন্যের ঔরসে স্ত্রীর সন্তান জন্ম দেয়া (যেটা রেজা ভাবে, কিন্তু সত্যি না)।
তো রেজার যে চরিত্র শফির মাঝে গ্রো করে, যুক্তি বলে (হ্যাঁ, মানসিক ভারসাম্যহীনদেরও একটা ইন্টারনাল লজিক থাকে; সেটা আমাদের লজিকের সঙ্গে মেলে না-এই যা): খুনি টার্গেট করবে:
যাদের চাল-চলন সুবিধার না (Sexually Promiscuous)
যাদের লেন-দেন পরিষ্কার না
যে মহিলারা স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করে, অথবা স্বামীরা স্ত্রীর সঙ্গে
এবার ভিক্টিমদের কথা ধরা যাক (বাহাউল্লাহ ছাড়া): কেয়া, সাবরিনা, ইন্দ্রানীর ক্ষেত্রে ১ আর ৩ নম্বর যুক্তি খাটলেও, ২ খাটে কিনা পরিষ্কার না। কিন্তু রুবানা আর অবন্তীর ক্ষেত্রে বলা যায়-এরা তো স্বামীর সন্তানকেই ধরেছিল গর্ভে! তাহলে>
আর রোখসানা তো বিবাহিতও না।
I can't find a pattern, and without a pattern, there can't be a definitive 'Serial Killer 'claim.

এরকম ছোটখাটো আরও অনেক অসংগতি বই পড়ার অভিজ্ঞতায় প্রায়শই তিক্ততার জন্ম দিয়েছে।
যেকোনো নতুন লেখকের প্রথম বইটা আসলে অনেক অনভিজ্ঞতার মাঝে প্রকাশ পায়। এক্ষেত্রে তার সাহায্যের দরকার হয় অনেকটাই, গুছিয়ে নেবার জন্য। থ্রিলার বই ফিকশন বলেই তাতে তথ্যগত অসঙ্গতি থাকা অনুমোদিত, আমি এই নীতিতে বিশ্বাসী নই। বরঞ্চ আমার কাছে থ্রিলারেই লজিক ও তথ্যের শক্তিশালী বুনোট দরকার বলে মনে হয়।
সেই বিশ্বাস থেকেই বলা-প্রেমিস যতটা ইন্টারেস্টিং ছিল, এক্সিকিউশন ততটাই দুর্বল। অথচ চাইলেই আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্��� করা যেত বইটি। (উল্লেখ্য, বইটি শেষ করার বেশ কিছুদিন পর রিভিউ লেখা, তারও কয়েকদিন পর পোস্ট করা। সম্ভবত ভুল করিনি, করে থাকলে অত্যন্ত দুঃখিত।)
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Aishu Rehman.
1,106 reviews1,083 followers
August 15, 2022
বাবু মশাইয়ের সাথে আমার প্রথম পরিচয় 'জ্বিন' বইটির মাধ্যমে। দারুন লেগেছিল । তাছাড়া লেখকের লেখার হাত যথেষ্ট ভালো। এই সিরিজের দুটো বই একসাথে সংগ্রহ করা। প্রথম বইটির উপর আশা কম থাকলেও তার থেকে বেশিই ভালো লেগেছে। এবার দ্বিতীয় কিস্তির পালা।
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books279 followers
September 15, 2022
বইটার নাম শুনেছি অনেক। সেই ২০২০ সাল থেকেই। পড়বো পড়বো করেও পড়া হয়ে উঠছিলো না। অবশেষে পড়েই ফেললাম।

তবে বেশ হতাশ হয়েছি বইটা পড়ে। এত বেশি প্লটহোল আর এত অপরিপক্ক লেখা বই কিভাবে এতটা হাইপড হলো আমি বুঝতে পারিনি। তবে এখানে এত বেশি প্যাঁচাল পারবো না, কারণ এত আলসেমী লাগছে যে স্রেফ রেটিং দিয়েই খালাস হবো। তবে কেউ যদি সত্যিই বইটা কেন ভালো লাগেনি জানতে চান তাহলে একটা নক দিয়েন, বলবোনে। আর এর মাঝে হাতে সময় পেলে রিভিউও লিখে ফেলবো। আর একটা সাজেশান হলো, বেশি এক্সপেক্টেশন নিয়ে এই বইয়ে হাত দেবেন না। হতাশ হবার চান্স আছে।

ও ভালো কথা, আমি বইটার সেকেন্ড এডিশন পড়েছি। উল্লেখ করার কারণ হলো, থার্ড এডিশনে নাকি অনেক কিছুই আপডেট করা হয়েছে।
Profile Image for MD Mijanor Rahman Medul  Medul .
178 reviews42 followers
March 26, 2021
অ্যানার্কিস্ট সিরিজ
- বুক নং #১।

বইয়ের নাম : দিমেন্তিয়া
লেখক : এম. জে. বাবু
প্রকাশনা : ঈহা প্রকাশ
জনরা : ডার্ক ক্রাইম / সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার।
প্রচ্ছদশিল্পী : সুজন
প্রকাশকাল : জানুয়ারী ২০২০
পৃষ্টা সংখ্যা : ২৭১ পেজ
মূল্য :৪৮০ টাকা গায়ের দাম।

" I am a forest, and a night of dark trees: but he who is not afraid of my darkness,will find banks full of roses under my cypresses."
- Friedrich Nietzsche.

কাহিনী সংক্ষেপ ::

গ্রিন রোডের১/ক রোডে পাওয়া গেলো একটি লাশ। ছয় টুকরা করা খন্ড বিখন্ডিত লাশ। খুনি শুধু খুন করেই শান্ত হয়নি, ভিক্টিম কে ছয় টুকরা করে ছয়দিনে। ষষ্ঠ দিন ভিক্টিম এর মাথা কাটা হয় আর তখন পর্যন্ত ভিক্টিম জীবিত ছিলো, আর লাশ এর জরায়ু মিসিং, ফরেনসিক রিপোর্ট এ জানা যায় রক্ত বন্ধ করার জন্য একটি বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহার করেছে বলেছে খুনি।

তদন্ত এর জন্য ডাক পরলো সিআইডি অফিসার শফি, কেস এর কূলকিনারা কিছুই সে বুঝছে না। তখন তার সাথে যোগ দেয় কলাবাগান থানার ওসি দানিয়াল। তদন্ত শুরু হতে না হতেই আরেকটা খুন। সেইম প্যাটানে আরেকটা খুন তবে এবার মিসিং জিহ্বা দাঁত, আর তা তুলে নেয়া হয় লাশটা যতক্ষন জীবিত ছিলো তখন। পুলিশ সিআইডি কর্মকর্তারা হন্য হয়ে শুরু করে দেয় তদন্য, তখন তৃতীয় লাশ পাওয়া যায়, অতপর তারা সিধান্তে আসতে পারে সিরিয়াল কিলার এর আগমন। ধীরে ধীরে তদন্ত শুরু হয় কিন্তু তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনা মোড় নেয় অন্য দিকে, যে পিস্তল খুনি ব্যবহার করছে তা একমাত্র সিআইডি ব্যবহার করে। ওসি দানিয়াল তার সর্বোচ্চ দিয়ে শুরু করে। ওদিকে শফির স্ত্রী অর্পার আচারন সন্দেহজনক। এরি মাঝে আরেকটা খুন। বিকৃত সব খুন আর খুনীর দেয়া ধোয়াজালে পরে যায় সবাই।

পাঠ প্রতিক্রিয়া ::

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ঈহা প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হয় এম জে বাবু এর প্রথম বই দিমেন্তিয়া। বিভিন্ন বই এর গ্রুপ গুলোতে এই বই এর পোস্ট কিনবা কমেন্ট এ সাজেশন এতো বেশি ছিলো যা সহজেই পাঠকের নজর কেরেছে। অর্থাৎ প্রায় বুক সাজেশড পোস্টেই দিমেন্তিয়া পেয়েছি।

লেখক এর মতে ডার্ক ফিকশন, সহমত। বইটি অনেক অনেক বেশি পরিমাণ ডার্ক ছিলো।। তো পাঠ প্রতিক্রিয়ায় প্রথমেই বলবো যে ডার্ক ফিকশন হিসাবে দিমেন্তিয়া সার্থক। আমরা যারা এসব খুনাখুনি এতো বেশি পরিমাণ পছন্দ করি তাদের জন্য বইটা আর্শিবাদ। কেননা এটায় এতো বেশি বিকৃত খুনের বর্ননা ছিলো, খুনি এতো বেশি ভায়োলেন্স করেছে, আমার কাছে জাস্ট অসাধারণ। এমন ভায়োলোন্সই আমি চাই। তবে আমি আরো চাই। আমার আরো বিকৃত খুনের বর্ননা চাই। বইটা পড়তে গিয়ে খুনের বর্ননা গুলো নিয়ে অনেকের সাথে আলোচনা করেছি, আরো বিকৃত হলে মন্দ হতো না । তো ডার্ক হিসাবে লেখক মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন।

দ্বিতীয় বিষয় হলো গল্প, পুলিশি তদন্য এবং গল্পে এগিয়ে যাওয়া ভালোই ছিলো। সেটা ভালো লেগেছে, বই এর শেষ ফিনিশিং এ লেখক ভালোই ঘোল প্যাচ খায়িয়েছে। চরিত্রায়নও ভালো ছিলো। তবে অনেক দ্রুত সবকিছু হয়ে গেলো। ধিপধাপ সব হয়ে যাচ্ছে কেন? আরো প্যাচানো দরকার ছিলো। সর্বাপরি ভালো লেগেছে।

তবে একটা জিনিশ কি সচেতন পাঠকরা আগে থেকেই খুনী কে তার একটা ইঙ্গিত পেয়ে গেছে, মানে আমি নিজেও শুরু থেকে একজনকে সন্দেহ করছি, আর যে সাইকোলজিক্যাল এফেক্টটা লেখক দেখিয়েছেন এটা নিয়ে আমার বেশ কয়েকটা বাংলা মৌলিক পড়া শেষ, তো বিষয়টা নতুন লাগেনি।।

দিমেন্তিয়া এর একদম প্রথম এডিশন আমার কেনা করোনার আগে, ২০ সালে করোনা চলে আসায় নানা কারনে পড়া হয়নি, গ্রুপগুলোতে অনেক পোস্ট দেখেছি বইটা ভালোই সুনাম কুড়িয়েছে। ভালো লেগেছে যেনে। আবার সমালোচনাও যে কম হয়নি তা নয়, এতো সমালোচনা হয়েছে এই বইটার ! যাই হোক তার পর বই এর দ্বিতীয় মুদ্রণ আসে। প্রথম মুদ্রণে ব্যাপক ভুল, যা লেখক আগেই শিকার করেছেন তাই, তা নিয়ে কথা বলছিনা, দ্বিতীয় মুদ্রণে তা ঠিক হয়ে গেছে। এছারা প্রচ্ছদও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমি আগেও বলেছিলাম প্রথম মুদ্রণ এর প্রচ্ছদটাই আমার কাছে ভালো লেগেছে।।

এই গল্পের সিকুয়েন্স হিসাবে পরবর্তী বই অ্যাবসেন্টিয়া। সেটাও আমার হাতেই আছে পড়ার অপেক্ষায় এখন।।

সর্বপারি উপসংহারে বলবো যে আমি যে রকম চাই ঠিক সেই রকম ছিলো দিমেন্তিয়া, এবং আমার ভালো লেগেছে। অন্য দিকে ডার্ক ফিকশন যারা পছন্দ করেন, কাটাকুটি যারা পছন্দ করেন তাদের জন্য মাস্ট বি রিড।।

পারসোনাল রেটিং : ৪.৫০/ ৫
গুডরিডস রেটিং : ৪.২৫/৫।

ধন্যবাদ
মিদুল
পুরাতন ঢাকা, চকবাজার।
২৬/০৩/২০২১, বেলা ১২টা।
Profile Image for Ghumraj Tanvir.
253 reviews11 followers
March 27, 2020
বই মেলার শুরু থেকেই অনেক পোস্ট দেখছি ফেসবুকে এই বই নিয়ে,এখন এত থ্রিলার বই বের হয় যে অনেক গুলা কিনেই ধরা খাইছি,তাই ভাবছিলাম এই বইও মেবি ওভার রেটেড।মার্চ মাসে ঈহা প্রকাশনীর অফার দেখে ৩টা বই অর্ডার দেই-১.কারুকারা (অফার না থাকলেও এইটা মাস্ট কিন্তাম),২.দিমেন্তিয়া,৩.জগুবুড়ি।প্রথমে ৬টা বই সিলেক্ট করেছিলাম কিন্তু পরে ৩টা অর্ডার দেই।এখন বুঝতেছি ৬টাই অর্ডার দেয়া দরকার ছিলো।
দিমেন্তিয়া সলিড থ্রিলার।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা।সাধারণত এই টাইপ কাহিনি অনুবাদ বই গুলাতে এত গুছানো থাকে,কিন্তু লেখক দারুন মুনশিয়ানার পরিচয় দিতেছেন।সিরিয়াল কিলার ধরা নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অভিযান।
অবশ্যই থ্রিলার প্রেমীরা পড়বেন।লেখক এবং প্রকাশকের জন্য শুভ কামনা।

**প্রিন্টিং মিস্টেক ছিলো কিছু
**বইয়ে লেখক পরিচিতি নাই কেনো???
Profile Image for Abu Rayhan Rathi.
108 reviews
May 26, 2022
সিরিয়াল কিলিং টাইপ বই এই প্রথম পড়া হলো। যেমনটা লেখক বলেছিলেন অনেক ডার্ক আর ভায়োলেন্সে ভরপুর ছিলো। শুরু থেকে অনেক উপভোগ করছিলাম বইটা তবে শেষের দিকে গিয়ে মনে হলো লেখক একটু তাড়াহুড়ো করে ফেলেছেন। এছাড়া বেশ কিছু বানান ভুল ও টাইপিং মিসটেইক দেখা যায় বইটাতে যেগুলো সত্যিই অপ্রত্যাশিত।

লেখনী মোটামুটি ছিলো। তবে আরো ভালো করা যেতো। এতোকিছুর পরও ব��টা ভালোই উপভোগ করেছি। এই সিরিজের দ্বিতীয় বইটাও হাতে আছে... দেখা যাক ঐটাতে কি চমক অপেক্ষা করছে ;)

রেটিং : ৪/৫
৩ জুলাই ২০২১
Profile Image for Mohaiminul Bappy.
Author 11 books124 followers
April 18, 2020
আজকাল আমার মনে হয়, আমি বই পড়তে পড়তে এতটা খুঁতখুঁতে হয়ে গেছি, আমাকে কোন থ্রিলার বই দিয়ে মুগ্ধ করা প্রায় অসম্ভব। এ বইটি সিরিয়াল কিলিং নিয়ে। ঢাকায় হঠাৎ করে এক নৃশংস সিরিয়াল কিলারের আগমন ঘটে এবং সে খুন করতে থাকে একের পর এক। পড়ে শেষ করলাম বইটি। খুবই ভাল একটি বই।

লেখক অনেক পড়াশোনা করে বইটি লিখেছেন কোন সন্দেহ নেই। সিরিয়াল কিলিং সম্পর্কে কারো জানা না থাকলে সে জানতে পারবে অনেক কিছুই। বইটি মেদ বর্জিত বই। টানবে বেশ। এক বসায় শেষ করা যাবে। এক পাতা পড়লে পরের পাতা পড়ার আগ্রহ জন্মাবে। যেভাবে গল্পটা বলা হয়েছে, এদেশের পরিচিত প্রেক্ষাপটে, গায়ে কাঁটা দেওয়া নৃশংস বর্ণনা দিয়ে, বইটা ভালো না লেগে উপায় নেই। একটা সত্যিকারের সিরিয়াল কিলিং কেস যদি কেউ সমাধান করতে চায়, এভাবেই করা উচিত। সিরিয়াল কিলিং কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী, এই প্রশ্নের আক্ষরিক উত্তর দেওয়া আছে বইটিতে। গল্পে সাসপেন্স আছে, থ্রিল আছে ও টুইস্ট আছে। একদম রেসিপি ধরে লেখক লিখেছেন বইটা। সব মাল-মশলা ম্যানুয়াল ধরে চিমটি মতো দিয়েছেন। ভাল না লেগে উপায় আছে! ২৭০+ বইটি চোখের নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে। উপভোগ্য একটি বই।

মোটা দাগে সেভাবে খারাপ লাগা নেই। অল্প দুয়েকটা দুর্বল ব্যাপার যা যাছে, তা হলো- পুরো বইতে সিরিয়াল কিলিং এর প্যাটার্ন, টাইমলাইন যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, আমার বুঝতে অসুবিধে হয়েছে একটু। ছোটখাটো বর্ণনা কম দিয়ে প্যাটার্নটা আরেকটু বিস্তারিত ও গোছালভাবে বর্ণনা করলে সুবিধে হতো। খুনির প্যাটার্ন এখনও আমার কাছে পরিষ্কার নয় পুরোপুরি। নারীদের চরিত্রগুলো একটু অবাস্তব লেগেছে, বিশেষ করে নারী-পুরুষের মধ্যকার রসায়ন বেশ পানসে মনে হয়েছে। কিছু তথ্যগত খটকা পেয়েছি পুরো বইতে, সেগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে একটি বিষয় যোগ করতে চাই। ভারতের স্টোনম্যান সিরিয়াল কিলিংকে রিচুয়াল কিলিং বলে দাবী করা হয়েছে বইয়ে, কিন্তু যতদূর মনে পড়ে বাস্তবে এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে খুনগুলো রিচুয়াল। এটা একটা অনুমান।
বইটা আমার বেশ ভালো লেগেছে। আমি বেশ মুগ্ধ, কিন্তু একটু খচখচ করছে মনের ভেতর, কেন? বলছি। খুনি সম্পর্কে বার বার এত প্রকটভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বইতে যে বইয়ের মাঝামাঝি এসে কেউ যদি বুঝতে না পারে প্রকৃত খুনি কোন লোকটি, তাহলে অবাক হবো। অনুমান করলাম, লেখক হয়তো খুনির পরিচয় নয় বরং খুনির খুনের প্রক্রিয়া, মোটিভ, প্রেক্ষাপট এসব দিয়ে পাঠককে চমকে দিতে চেয়েছেন। আমি নিশ্চিত বেশিরভাগ পাঠক চমকেছেও। আমিও চমকেছি, তবে দুর্বলভাবে। কারণ এ বইয়ের টুইস্টে আমি নতুনত্ব কম পেয়েছি। ব্যাখ্যা করছি।

(একটু স্পয়লার আছে এরপর।)

টুইস্টে আমরা দেখতে পাই-
খুনির মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার আছে, তাই নিজের অজান্তেই খুনি খুন করে। ঠিক একই রোগে ভোগা মানুষের খুনের কথা পেয়েছি কোথায়? টেল মি ইওর ড্রিমস বইয়ে, সিডনি শেলডানের লেখা।
খুনি প্রাচীন রীতিতে খুন করে, প্রাচীন টেক্সটবুক পানিশমেন্ট দিয়ে থাকে ভিক্টিমকে। এ কথা আমরা দেখেছি ভারতীয় সিনেমা ‘অপরিচিত’-এ। ‘অপরিচিত’ সিনেমাটাও সিডনি শেলডানের টেল মি ইওর ড্রিমস-থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো, এ কথা স্বীকার করেছে কুশলীরা।
আরেকটা সিনেমার ছাপ দেখেছি আমি, সিরিয়াল কিলিং নিয়ে বানানো, রাস্তাসান। খুনির কল্পনায় নারীপুরুষের প্রতিবিম্ব যেটা দেখা যায়, সে জায়গাটা রাস্তাসানের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এসব বই-সিনেমা থেকে লেখক কপি করেছেন এমনটা আমি দাবী করছি না মোটেও। সব উপন্যাসের সাথেই কিছু না কিছু এভাবে মেলানো যায়। আমি বলছি, আমি এই বইয়ের টুইস্টের জায়গাগুলোতে চমকাতে পারিনি এসব বই-সিনেমা আগে থেকে পড়ে/দেখে নেবার কারণে।

তবে বইটি বেশ রিমার্কেবল। এদেশের প্রেক্ষাপটে এমন একটি সিরিয়াল কিলিং বই খুব দরকার ছিল এ জনরাটিকে সমৃদ্ধ করতে। মৌলিক সিরিয়াল কিলিং বই ক’টা আছে বাংলায়? এছাড়া যেভাবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, ফরেনসিক ও পুলিশ নিয়ে যে সব তথ্য দেওয়া হয়েছে, বেশ চমকপ্রদ। সর্বোপরি খুবই ভাল টানটান উত্তেজনাকর একটা বই, আমি পড়তে একটুও বিরক্ত বোধ করিনি। আমি যে সমালোচনাগুলো করেছি, বেশিরভাগ পাঠকই তা টের পাবেন না। দিন শেষে অসাধারণ একটা উপন্যাস হিসেবে মনে থাকবে এটি পাঠকদের।
Profile Image for Samsudduha Rifath.
428 reviews22 followers
October 18, 2022
দিমেন্তিয়া
(৩য় সংস্করণ )
লেখক : এম. জে. বাবু
সিরিজ : অ্যানার্কিট ১
জনরাঃ ডার্ক ক্রাইম / সাইকোলজিকাল থ্রিলার
পৃষ্টা সংখ্যা: ৩৫২
মুদ্রিত মূল্য: ৬০০ টাকা
রেটিংঃ ৪.৫/৫

পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ

গতকাল বাবু ভাইয়ের দিমেন্তিয়ার ৩য় সংস্করণ হাতে পাই। সেদিনই শেষ করে ফেলি পুরো বই। প্রতি পৃষ্টায় পৃষ্টায় শুধু থ্রিল আর থ্রিল। এক বসায় আপনি বইটা শেষ করতে বাধ্য হবেন । বইয়ে এতো বেশি বিকৃত খুনের বর্ণনা ছিলো, খুনি এতো বেশি ভায়োলেন্স করছে সে দুর্বল চিত্ত পাঠকের গায়ের লোম দাড়িয়ে যাবে।

গল্পের প্লট খুব শক্তিশালী। ৩য় সংস্করণে লেখক নতুন করে ২০,০০০ শব্দ যোগ করেছেন বলে প্রতিটি চরিত্রকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। শেষের দিকের যে টুইস্ট দিয়েছেন তা পড়ে পাঠকের আগের তৈরী করা প্রেডিকশন সব ব‍‍্যার্থ হবে। কেউ আশাহত হবেন না বইটি পড়ে।

বানান :
৩য় সহস্করণেও অনেক বানান ভুল ছিলো যা দৃষ্টিকটু লেগেছে। যেমন: ক্ষমতাকালী, বেড়িয়ছে, ভলো, চিন্তিত, সাহে, বাাক, হসিপটালে ইত্যাদি। তাছাড়া কিছু শব্দে স্পেস দেওয়া হয়নি। যেমনঃ বসলমনোজু।
Profile Image for Pranta Biswas.
122 reviews4 followers
January 18, 2023
অনেকদিন পর দেশি থ্রিলার সেটাও আবার ডার্ক থ্রিলার। লাস্ট কয়েকটা বিদেশি থ্রিলার পড়তে পড়তে থ্রিলার জন্রার উপর থেকে মন উঠে যাচ্ছিল। থ্রিলার বইগুলোকে মনে হতো শুকনো মুড়ি-চানাচুরের মতো, লাস্টের মজার ১০% অংশের জন্য আগের অচর্ব্য ৯০% অংশ গলাধঃকরণ করা, যা খুবই কষ্টকর। কিন্তু 'দিমেন্তিয়া' তো শুকনো মুড়ি-চানাচুর না। এ যেন মুড়ির সাথে নুন, পেয়াজ, কাচাঁ মরিচ, সরিষার তেল, গরম চানাচুরের এক অপূর্ব মিশ্রণ! গোগ্রাসে গেলার মতো এক বই।
Long story short
হঠাৎ ঢাকার রাস্তায় পাওয়া যায় বস্তাবন্দি লাশ। সেই লাশ আবার ৭ টুকরো করা। ফরেনসিক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, প্রতি টুকরো একদিন পরপর করা, ভিক্টিমের জরায়ু মিসিং এবং শেষ টুকরো করার আগ পর্যন্ত ভিক্টিম জীবিত ছিলো। রক্তক্ষরন বন্ধের জন্য খুনী বিশেষ রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার করেছে। কেসের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি অফিসার 'শফি' ও কলাবাগান থানার ওসি 'দানিয়েল' কে। এরপর ধারাবাহিক ভাবে আরো কয়েকটি নৃশংস হত্যাকান্ডের পর পুলিশ সিরিয়াল কিলারের উপস্থিতি বুঝতে পারে।... বাকিটুকু গতানুগতিক থ্রিলারের মতোই। কিন্তু যে জিনিসটি বইকে এতো উপভোগ্য করেছে তা হচ্ছে কাহিনীর গতিময়তা। পড়ার সময় এক মূহুর্তের জন্যও ডিস্ট্রাক্ট হওয়ার কোন উপায় নেই। হাতে ঝাড়া ৫/৬ ঘন্টা থাকলে টানা পড়ে ফেলার মতো বই
Profile Image for Tusar Abdullah  Rezbi.
Author 11 books55 followers
August 27, 2022
প্রথমেই ধরে ফেলছিলাম আসল কালপ্রিট কে! তারপরও লেখকের লেখা ভালো লাগছে। আর গল্পটা সাজিয়েছে সুন্দর করে। সাবলীল লেখনি। ভালো একটা উপভোগ করার মতো বই। বোরিং লাগেনি একটুও।
Profile Image for Kowshik Debnath.
Author 1 book49 followers
May 30, 2020
এইটা রিভিউ কিনা সেটা জানি না। তবে বইটা সম্পর্কে বিস্তারিত বলব। কেমন লাগলো, কী কী সমস্যা ছিলো সেগুলো নিয়েই বিস্তারিত বলব। তাই আগাম সতর্কবার্তা। সম্পূর্ণ লেখাটিতে অনেক স্পয়লার থাকবে।


কাহিনী সংক্ষেপ বলব না। ইন্টারনেটে বইয়ের নাম লিখে সার্চ করলেই প���য়ে যাবেন। মূল কথায় আসি।

বইয়ের নাম কেন দিমেন্তিয়া, সেটা বই পড়ে বোধগম্য হয়নি, অর্থাৎ দিমেন্তিয়ার ব্যাখ্যা বইয়ে নেই। আমি ধরে নিচ্ছি নামটা ডিমেনশিয়া (Dementia) হওয়ার কথা, তাহলে কাহিনীর সাথে মিল পাওয়া যায়। বিশেষ্য হলেই যেকোনোভাবে উচ্চারণ করা যায়, এই ব্যাখ্যায় আমি সন্তুষ্ট নই।

এবারে প্লটের ব্যাপারে আসি। বইয়ের সবচেয়ে দারুণ জিনিসটা হলো এই বইয়ের প্লট। চমৎকার বলতেই হয়। ডার্ক সাইকোলজিক্যাল জনরার বই। তাই অধিক পরিমাণে নৃশংস খুনের ব্যাপারগুলো আছে। যেটা চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড দেখলে সঠিকই মনে হবে।
তারপর খুন যেহেতু আছে, পুলিশ তদন্ত আছে। এটাও বইয়ের সুন্দর দিক। খুব চমৎকারভাবে পুলিশ প্রসিডিওর, ফরেনসিক, ইন্টারোগেশনের ব্যাপারগুলো দেখানো হয়েছে। সাইকোলজিক্যাল ব্যাপারগুলোও ঠিকঠাকমতো দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ লেখক এ ব্যাপারে ভালো পড়াশোনা করেছেন তা বুঝা যাচ্ছে।
তবে লেখনশৈলী একটু দুর্বল লেগেছে আমার কাছে। অনেকগুলো বাক্যগঠন আরো ভালো হতে পারতো।
আরেকটা ব্যাপার খেয়াল করেছি নিম্নপদের অফিসার উঁচুপদের হর্তাকর্তাদের কথায় কথায় "স্যার স্যার" করছেন। এই ব্যাপারটা একদম বাস্তবিক। অর্থাৎ বাস্তব চিত্রটি চরিত্রগুলোর মাধ্যমে লেখক ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন দেখে ভালো লাগলো। ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট ভালো হয়েছে। ক্লাইম্যাক্সের ব্যাপারেও বলতে হয়, টুইস্টটা জেনে গেলেও ক্লাইম্যাক্স উপভোগ করেছি।

এবার বইয়ের সমস্যার দিকগুলো বলি। বইয়ের টুইস্টটা আমি ১০০ পৃষ্ঠার মধ্যেই ধরে ফেলেছি। কারণ যে ব্যাপারটার উপরে টুইস্ট নির্ভর করছে, তার উপরে বেশকিছু বই ও মুভি আমি পড়েছি ও দেখেছি। তবে অন্য কারো হয়তো মাথা ঘুরে যেতে পারে। কিন্তু চরিত্রের গতিবিধি লক্ষ্য করেই ঐ ব্যাপারটা ধরে ফেলা যায়। আর ফোরশ্যাডোও করা হয়েছে অনেকবার, তাই টুইস্ট বুঝা খুব কষ্টের ব্যাপার নয়। তবে কনফ্লিক্ট ভালোই দেখানো হয়েছে।
তবে এই যে এত চমৎকার প্লট, এটাকে তো তার প্রাপ্যটুকু বুঝিয়ে দিতে হবে। তদন্ত, ফরেনসিকের ব্যাপারগুলো ঠিক থাকলেও কিছু খাপছাড়া তথ্যের কারণে সেটা সমস্যার সৃষ্টি করেছে। যেমন :-
১. ঢাকায় ৩ দিয়ে শুরু হয় এমন রোডের নাম নেই। থাকার কথা। এই তথ্যটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বইতে।
২. সিআইডির কুমিল্লা যাওয়া দ্বিতীয় খুনের পর। এটা সিকোয়েন্সের সমস্যা, তথ্য ভুল না। সিআইডি তদন্ত করতে কুমিল্লা যাচ্ছে খুনের তদন্তের ব্যাপারে। কেন যাচ্ছে সেটা খুঁজেই পাচ্ছিলাম না। চারটা অধ্যায় পরে গিয়ে পেয়েছি, যে তথ্যটা বইতে আগে আসার কথা।
৩. দ্বিতীয় খুনের পর লাশটা পাওয়া যায় সকালে। সেটা শফি জানতে পারে সবার আগে, তারপর বাসায় এসেই তার বন্ধু রেজাকে ফোন করে সেটা জানায় ডিটেইলসে (সকালেই)। ঘটনার দিনই সন্ধ্যায় শফি আবার রেজাকে ফোন করে খুনের ব্যাপারে জানাতে। শফি বলে লাশ কোথায় ডাম্প করেছে সেটা জানলে রেজা অবাক হয়ে যাবে। রেজাও বলে সে আর উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছে না। অথচ সকালেই এটা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৪. একটা স্থানের কাদায় লেড পাওয়া যায়, ঢাকার আর কোথাও পাওয়া যায় না লেড কাদামাটিতে। একটু পরেই সেখানে লেডের স্থলে ক্যাডমিয়াম লেখা। পরে অবশ্য লেড লেখা হয়েছে, এর আগে দ্বিধায় ছিলাম।
৫. বাহাউল্লাহ নামের ব্যক্তিটির বয়স ২৭ বছর, পেশায় ডাক্তার (মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট)। খুনি তার পেশেন্টকেই টার্গেট করেছিল। তবে একজন পেশেন্টের ৩ বছর আগেই মৃত্যু হয়েছে। এই পেশেন্টের আগেও তার সাতটি পেশেন্ট ছিলো, সবগুলোই এবোরশনের জন্য এসেছিল। তো ধরে নিলাম একই সময়ে আটজনের এবোরশন হয়েছে। ডাক্তারের নিজস্ব ক্লিনিকও আছে। এবার ৩ বছর আগে ডাক্তারের বয়স হয় ২৪, এই বয়সে ডাক্তারি পড়া শেষ হয়? হলেও ইন্টার্নি করতে হয়। ঐ বয়সে এবোরশন করাবে সেই ডাক্তার? তাও এতগুলো! আমার জানায় ভুল থাকলে ভুলটা ধরিয়ে দিতে পারেন যে কেউ।
৬. বইতে এত তথ্য আর তারিখ, লেখক নিজেই গুলিয়ে ফেলেছেন। এক জায়গায় লেখা কিডন্যাপ ১৭ জানুয়ারি, লাশ পাওয়া যায় ৮ জানুয়ারি, আবার কিডন্যাপ ২৬ জানুয়ারি, লাশ পাওয়া যায় ১০ জানুয়ারি। ফেব্রুয়ারি হবে বুঝতে পারলাম। এডিটের সমস্যা।
৮. একটা জায়গায় লেখা বস্তা খুলতেই ইন্দ্রানীর মাথা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। পরে জানা গেলো লাশের মাথাই ছিলো না দেহের সাথে, পাওয়া যায়নি।
৯. সিআইডির চিফ নির্মল বাবু একবার নিজেই রেজার ব্যাপারটা গুলিয়ে ফেলেছিলেন। এটা ব্যাখ্যা করাটা সমস্যা, অনেক কিছু বলতে হবে। বাদ দেই।
১০. যতটুকু বুঝলাম বইয়ের বর্তমান ঘটনার সময়কাল ২০০৯। তাহলে আরেকটা খুন যেটা হয় পাঁচ বছর আগে। সেটা ২০০৪ এ হওয়ার কথা। লেখক বলেছেন ২০০৫ এ। ২০০৫ লিপ ইয়ার না, ২৯ ফেব্রুয়ারি থাকারই কথা না। ২০০৫ ব্যাপারটা একবার লেখা না, দুইবার। তাই বুঝলাম ভুলবশত ২০০৫ লেখা হয়নি। কী ভেবে লিখেছেন জানি না।

উপরের সবগুলোই তথ্যের ব্যবহারের ভুল। লেখক সব তথ্য ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এছাড়াও এই দোষটা এডিটিং এবং প্রুফিং-এর ভুলও বলা যায়। এডিটিং-এ যে অনেক সমস্যা রয়েছে সেটাও হাড়েমজ্জায় অনুভব করেছি বানান ভুলের জন্য। প্রায় সব বইতেই তো বানান ভুল দেখি, তাই সয়ে গেছে। তারপরও কিছু ভুল অগ্রাহ্য করা যায় না। সেগুলো এখানে বলছি।

সাসপ্যাক্ট, ইন্সপ্যাক্টর, প্র‍্যাগন্যান্সি, ইনফরম্যাশন। এই যে য-ফলা আ-কার ব্যবহার করে বানানগুলো লেখা হলো, উচ্চারণ করে দেখুন মুখ দিয়ে, উদ্ভট শোনাবে। এ-কার ব্যবহার করলেই সুন্দর হয় না? আবার এক জায়গায় এন্ট (Ant) লেখা, এটা কিন্তু আবার উচ্চারণ অনুযায়ী "অ্যান্ট" লিখতে হয়।
তারপর ন্যূনতম বানানটা হয়ে গেছে নূন্যতম। এপেন্ডিক্স বা এপেন্ডিসাইটিসকে লেখা হয়েছে এপেন্ডিস। আর ক্লান্তিকতা লেখা হয়েছে ক্লান্ত-র বিশেষ্যরূপে, যেখানে ক্লান্তি লিখলেই হয়, এটাই সঠিক। ঠিক যেমন বৈচিত্র্য শব্দটা সঠিক, বৈচিত্র্যতা শব্দটা নয়।
গাইনেকোলজিস্টকে পুরো বই গাইনোকোলজিস্ট লেখা হয়েছে।
এক জায়গায় লেখা "রহস্যময়ী পুরুষ" (?!)। স্ত্রীসূচক বিশেষণ। আমি হেসে ফেলেছি পড়ার সময়।
এবং প্রত্যেকবার "বিস্ফোরিত চোখে" লেখা। প্রথমে ভেবেছিলাম টাইপিং মিস্টেক, পরে দেখলাম সবগুলোই এমন। বিস্ফোরিত মানে ফেটে যাওয়া, যেমন বোমা বিস্ফোরণ। এখানে শব্দটা হবে " বিস্ফারিত", যার অর্থ প্রসারিত। অর্থাৎ বিস্ময়ে চোখ বড় হওয়া।
কিছুক্ষেত্রে যতিচিহ্নের সমস্যাও দেখেছি। বিবৃতিমূলক বাক্যের শেষে প্রশ্নসূচক চিহ্ন দেওয়া। সেখানে হয় দাঁড়িচিহ্ন বসবে, অথবা বিস্ময়সূচক চিহ্ন বসতে পারে যা বুঝলাম।

এই হলো বইয়ের মূল বিষয়গুলো। বইটা পড়ার জন্য হাতে নিয়েছিলাম, তার একটাই কারণ, গ্রুপভর্তি ভালো, দারুণ, চমৎকার তকমা দেওয়া বই। ভুল নাকি কারো চোখেই পড়েনি। কিন্তু মেজর ভুলগুলো যখন চোখে পড়া শুরু হলো, বিরক্ত লাগতে শুরু করলো। তবুও বলব বইয়ের যে দিকগুলো ভালো বলেছি, সেগুলো সত্যিই ভালো, কিন্তু সমস্যা তো রয়েই গেছে। আমি তো পারফেক্ট বই ভেবেছিলাম বানানের ব্যাপারগুলো বাদ দিলে।

এবার বইয়ের প্রোডাকশনের ব্যাপারে কিছু বলি, যদিও প্রোডাকশনের উপরে আমার রেটিং নির্ভর করে না, কারণ ছেঁড়া-ফাটা প্রচ্ছদ ছাড়া বইও আমার পড়া হয়। এখন যা বলব সেগুলো সব ব্যক্তিগত মতামত।
প্রচ্ছদের ব্যাপারেই প্রথমে বলি, পছন্দ হয়নি, কাহিনীর সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ না। তবে প্রচ্ছদের কাগজটা ধরে দেখলাম, কাগজটা ভালো মানের মনে হয়েছে।
বইয়ের বাইন্ডিং খুব ভালো, কাগজও খুব ভালো। কিন্তু! কিন্তু!! কিন্তু!!! কিন্তু এই ভালো কাগজটাই পড়ার সময়ে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। ৯০ গ্রামের কাগজ, এত ভারী কাগজ কি আসলেই প্রয়��জন? আমার মনে হয় না, ৭০ গ্রাম কাগজ দিলেই যথেষ্ট ছিল। কারণ বইতে আর্টওয়ার্ক নাই, ভারী কাগজ দিয়ে কী হবে? উল্টো ভারী হওয়াতে বই মেলে রাখতে, পৃষ্ঠা উল্টাতে সমস্যা হয়েছে। আর ২৭২ পৃষ্ঠার বইয়ের মুদ্রিত মূল্য হয়েছে ৪৮০ টাকা!
আমার মতে বইটা প্রোডাকশনের দিক থেকে হয়েছে ওভার ডিজাইনড, আর ইকোনোমিক্যালও হয়নি তাই। প্রকাশকের এই ব্যাপারটা ভেবেচিন্তে দেখা প্রয়োজন মনে করি।

প্লট ইন্টারেস্ট���ং সেটা তো বলেছিই। পুলিশ প্রসিডিওর আর ফরেনসিকের ব্যাপারগুলো যেভাবে লেখা হয়েছে, বাংলা বইতে সেটা এত ভালো খুব কমই দেখা যায়। টুইস্ট নিয়ে আমার খুব বেশি মাথাব্যথা নেই, অনেক বইও আমি টুইস্ট জেনেও পড়ে যাই, দেখি কাহিনী আমাকে টানছে কিনা। দিমেন্তিয়ার কাহিনী খুব ফাস্টপেসড, এধরণের বইতে যেটা দরকার। এই কারণেই আমি বইটাকে পাঁচের মধ্যে তিন দিব। কাহিনীর সিকোয়েন্সিং, আর তথ্যের ভুলগুলো না থাকলে বইটা নিয়ে সন্তুষ্ট হতাম, কিন্তু পারলাম না।
বইয়ের শেষে বোঝা গেল পুলিশ চরিত্রটিকে নতুন কোনো কেসে আবার দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। দানিয়াল-ইশিকার সম্পর্কটা ভালোই লেগেছে। আশা করি লেখক পরবর্তী বইতে আরো ভালো করবেন।

এই ছিলো আমার রিভিউ, অথবা পাঠ-প্রতিক্রিয়াও ধরে নিতে পারেন। আমি খুব বোদ্ধাজাতীয় কিছু নই। যারা বইটি পড়েছেন, এসে ভুল ধরতে পারেন আমার এই লেখার।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Wasim Mahmud.
357 reviews29 followers
September 15, 2022
ঢাকা শহর। আকস্মিকভাবে ঘটে যায় এক নৃশংস হত্যাকান্ড। উক্ত হত্যার নৃশংসতা এত‌ই ভয়াবহ যে তদন্ত কর্মকর্তাদের মনে প্রশ্ন দেখা দেয় এই কাজ কি আদৌ মানুষের না কোন পিশাচের?

তদন্তে জড়িয়ে পড়েন সিআইডির শফি এবং স্থানীয় থানার ওসি দানিয়াল। শফির আগাগোড়া রেকর্ডের কারণে তাঁকে এই ঘটনার তদন্ত ভার দেয়া হয়। প্রথমে আন্ডার‌এস্টিমেট করলেও পড়ে শফি বুঝতে পারে যে দানিয়াল‌ একজন মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা। সম্ভব হলে যেন শফিকেই টেক্কা দেয় এই অল্পবয়সি।

একের পর এক ধারাবাহিকভাবে পৈশাচিক হত্যাকান্ড ঘটে যেতে থাকে। এক‌ই ধরণের প্যাটার্নের কারণে সন্দেহ করা হয় যে বাংলাদেশে ইতিহাসে সর্বপ্রথম এক ধুরন্ধর সিরিয়াল কিলারের সাথে ডিল করতে যাচ্ছে সিআইডি এবং পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স।

এম.জে.বাবুর 'জিন' পড়ে আমি ব্যাপক হতাশ হয়েছিলাম। তাই 'দিমেন্তিয়া' হাতে তুলে নেয়ার সময় খুব বেশি প্রত্যাশা রাখিনি। তবে জিনের তুলনায় ভালো ব‌ই দিমেন্তিয়া। গল্পের প্রথম থেকেই একটি গতিময়তা আছে। সাইকোলজিক্যাল ডার্ক ফিকশন বা থ্রিলারের ক্ষেত্রে আখ্যানের বেশ কয়েক জায়গায় নারকীয় বর্ণনা আছে। এই গ্রন্থটি দূর্বল হৃদয়ের পাঠকের জন্যে নয়।

আমি রহস্যরোমাঞ্চকর কাহিনী পড়ার সময় মুদ্রণপ্রমাদ এবং প্লটহোলের দিকে খুব একটা খেয়াল রাখি না, ওরকম করলে ব‌ইটি আর এনজয় করা যায় না। তবে দিমেন্তিয়ায় প্লটহোল এত বেশি যে বারবার চোখে পড়ে যায়। বুঝতে পারছি যে ঘটনা হয়তো ২০০৫-২০০৮ সনের টাইমলাইনের। গল্পে প্রযুক্তিগত যতটুকু উৎকর্ষতা দেখানো হয়েছে সেগুলোর উপর ভিত্তি করে ধরলে। কিন্তু কোন থানার ওসি এরকম গুরুত্বপূর্ণ মামলা ডিল করার সময় মোবাইল ব্যবহার করেন না? সিআইডি এবং পুলিশের মধ্যকার যে অন্তর্দ্বন্দ্ব সেটি দেশে দেশে আছে, এই ইগো প্রব্লেমের বিষয়টা উপন্যাসে থাকাটা বাস্তবসম্মত হয়েছে। অনেক লেখক চান যাতে টুইস্ট পাঠক ধরতে পারেন। অনেকে চান না। কিন্তু রহস্যে পাঠককে ঘোল খাওয়াতে গায়ে 'ফিলার সেনটেন্স' ব্যবহার করতে করতে ৩৫২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত দিমেন্তিয়াকে টেনে লম্বা না করলে মনে হয় ভালো হত।

লেখকের ব্যাপক ফ্যান-ফলোয়ার আছেন। এম.জে.বাবুর সহজাত লেখনীর শক্তি আমার তেমন পছন্দ না হ‌ওয়া ব‌ই 'জিন' এও দেখেছি। দিমেন্তিয়ায়‌ও গল্প একটা সময় পর্যন্ত ফাস্ট রিড ছিল এবং রহস্য জমে উঠেছিল। তবে আরেকটু মিনিমালিস্ট এপ্রোচ নিতে পারতেন লেখক। আরেকটি বিষয়, এই ব‌ইয়ে তাঁর সৃজন করা বিভিন্ন চরিত্রের এরকম ক্রিঞ্জ আচরণ কি ইচ্ছেকৃত? ব‌ইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র দানিয়াল, যাকে বেশ মেধাবী দেখানো হয়েছে, অথচ সেই মেধার প্রয়োগ মুগ্ধকর করে ফুটিয়ে তোলা হয়নি। অথচ তা খুব করা যেত। বিশেষ করে এন্ডিং এসে এত প্যাঁচানোটা ভালো লাগেনি। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার অথবা ডার্ক ফিকশন মানেই পাগলামি শুধুমাত্র নয়। আমার কাছে খুনির মোটিভ দূর্বল মনে হয়েছে। লেখক বেশ কয়েক জায়গায় গল্পকথনে ভালো ঝলক দেখিয়েছিলেন তবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন নি। হাইপে থাকা ব‌ই মানেই ভালো কিছু নয় সেটি আরেকবার প্রমানিত হল আমার কাছে।

বুক রিভিউ

দিমেন্তিয়া

লেখক : এম. জে. বাবু

প্রথম গ্রন্থরাজ্য প্রকাশ : জুন ২০২২

প্রকাশনা : গ্রন্থরাজ্য

প্রচ্ছদ : সজল চৌধুরী ( দারুন কাজ করেছেন )

জনরা : থ্রিলার

রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ
Profile Image for Shahariar Ahammed.
93 reviews5 followers
September 14, 2022
লেখকের কল্পনাশক্তি প্রখর। এত জটিল কীভাবে ভাবেন ভেবে পাই না।
Profile Image for অনন্যা.
14 reviews
May 6, 2021
-
#দিমেন্তিয়াঃ

অনেক হাইপ ও নামডাক শোনার পর সংগ্রহ করে ফেলি বই দুটো। তো প্রথমে আসি দিমেন্তিয়ার ব্যাপারে৷ সত্যি বলতে দিমেন্তিয়া পড়ে আমি কিছুটা হতাশ হয়েছি। কারণ, লেখনশৈলী খুবই কাঁচা। ভাষা ও ব্যাকরণগত প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ জনিত ভুল; এসব মাঝেমাঝেই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷ এরপর আসি লজিকাল ভুলগুলো৷ উপন্যাসের মধ্যে তারিখ, চরিত্র একটার সাথে আরেকটা গুলিয়ে ফেলানো থেকে শুরু করে নানান সমস্যায় ভরা৷ এরপর আসি ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের দিকে আসি৷ মোটামুটি বড় কলেবরের বই হওয়ায় চরিত্রগুলো ভালোভাবে ফুটে উঠেছে৷ তবে উপন্যাসটিতে রোমান্টিক আবহ দিতে গিয়ে
লেখক অনেকটা কাসেম বিন আবুবাকারের ধর্মীয় আবহে রোমান্টিকতার ধারনা দিতে গিয়েছেন যা বিরক্তিকর ও হাস্যকর লেগেছিল৷ তবে সবচেয়ে খারাপ লেগেছে যা তা হলো বিদেশী নানান চলচ্চিত্রের সাথে এর মিলে যাওয়া৷ Se7en, Ratchachan, fight club সবগুলো মুভিকে একসাথে ব্লেন্ড মরে মনে হলো যেন দেশী আবহে লেখার চেষ্টা করেছেন৷ অথেনটিসিটির দিক থেকে বইটিকে কোন নাম্বার দিতে পারছি না৷ আর টুইস্ট খুব সহজেই অনুমেয়৷ ঐ যে বললাম মুভি থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ায় অল্পতেই ধরে ফেলা যায়৷ এ কারণেই বই পড়া শেষে আমি কিছুটা অবাকই হয়েছি যে এই উপন্যাসটি কেন এতো হাইপ তুলেছিল। পরে বুঝলাম আমাদের দেশের যে কিয়দংশ মানুষ পাশ্চাত্য কিংবা বিশ্বের নানা প্রান্তের সিনেমা দেখেন এর কিছু অংশই দেশীয় মৌলিক থ্রিলারের বই পড়েন৷

আমার রেটিং: F


----------------------------------------------

Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
March 17, 2022
• দিমেন্তিয়া •— এম. জে. বাবু •— ঈহা প্রকাশ •
.
.
প্রথম কোনো বই প্রকাশের চিন্তা যখন একজন নতুন লেখকের মাথায় চেপে বসে; তখন প্রথম ভাবনা আসে—সে কোন ঘরনা বেছে নিবে আর কেমন গল্প লিখে পাঠক মহলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করবে। খুব কষ্টসাধ্য না হলেও এই নিয়ে চিন্তাভাবনার কোনো ��ন্ত নেই। মন তো অনেক কিছু চাইবে। সেই শোচনীয় অবস্থা নিয়ে কয়েক দিন হয়তো মন আর মস্তিষ্কে দ্বন্দ্বযুদ্ধের দামামা বেজে চলবে। এক সময় সেই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। অতঃপর?

ভাবনার রাস্তা শেষ হলে, লেখক গল্প নির্মাণের কাজ শুরু করার জোর প্রস্তুতি নিবে। অল্প সময়ে মূলধারায় জনপ্রিয় হওয়ার জন্য থ্রিল-সাসপেন্স-টুইস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘খুনের পর খুন’ অথবা ‘সিরিয়াল কিলিং’ থেকে উৎকৃষ্ট কাহিনি সম্ভবত আর কিছু হতে পারে না! সেই ভেবে লেখক তাঁর প্রথম উপন্যাস লেখা শুরু করবে। কোন লিখনপদ্ধতি তাঁর উপন্যাসে ব্যবহার করবে; এই নিয়েও দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে লেখককে পড়তে হবে। সিরিয়াল কিলিং নিয়ে যেহেতু লিখবে তাহলে সাহিত্যের ফুলঝুরি না ছুটিয়ে, কাব্যিক বাক্যের সহায়তা না নিয়ে বরং ছোটো ছোটো বাক্য সাজিয়ে, ঘটে যাওয়া ঘটনার আলোচনা সংলাপের মাধ্যমে প্রকাশ করে মাঝে মাঝে দুয়েক প্যারা ‘ফ্যাক্ট’ নিয়ে বিস্তারিত ধারণা লিখে গল্প চালিয়ে যেতে থাকবে...

লেখক এম. জে. বাবুর ২০২০ সালে প্রকাশিত হওয়া বহুল জনপ্রিয় বই ❝দিমেন্তিয়া❞ নিয়ে সামান্য ধারণা দিচ্ছিলাম। এটা নিতান্ত আমার কল্পনা। যদিও এই কল্পনা বাস্তবে বাস্তবায়ন হয়েছে। সিরিয়াল কিলিং নির্ভর এই বইটি নিয়ে সেই শুরু থেকে কম চর্চা হয়নি। এখনও যে সেই রেশ একেবারে নিরুদ্যম তাও বলা যায় না। নতুন বই প্রকাশিত হলে, পুরাতন বই একটু নির্জীব হয়ে পড়ে; যা খুবই স্বাভাবিক।

গুডরিডসে এই বইয়ের নির্দিষ্ট দু-তিনটে রিভিউ প্রচুর আলোচনা-সমালোচনায় ভর্তি। সমালোচনা বলতে খারাপ কিছু না। একেবারে ধরে ধরে ভুলত্রুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার মতো। দু’বছর পর এসে যদি আমিও ওই একই ধারা বজায় রেখে চর্বিতচর্বণ করি; খুব একটা মানানসই হবে বলে মনে হয় না। কারণ, লেখক ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন; উপন্যাসের বিস্তারিত অংশের কমতি অধিকন্তু পদে পদে ভুল তথ্য সরবরাহ করে গল্প যে ম্যাসাকার অবস্থা তৈরি করেছেন—তা শোধনাগারে শোধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সম্পাদনা আর বানান ভুলের এলাকা কাটিয়ে আমি বরং মূল কাহিনি এবং সেখানে গড়ে ওঠা বসত-ভিটা নিয়ে সামান্য কিছু আলোচনা করি। লেখক সিরিয়াল কিলিং কেন্দ্র করে সেখানে নৃশংস ও বিভৎস পর্যায়ের খুনের বর্ণনা দিয়ে যে ‘ডার্ক’ থিমের আবহ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন; তা খুব ভালোভাবে পেরেছেন। মাথা ফুটো করে ভ্যাকিউম/ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে দিয়ে মগজ টেনে বের করার মতো চিন্তার জন্য; লেখকের ভাবনাকে সাধুবাদ জানাতে ইচ্ছা করে। যদিও এমন ভাবনা কোনোভাবে সাধুবাদ জানানোর মতো না। গল্পের খাতিরে জানিয়ে দিলাম। এমন আরও বিকৃত খুনের গল্প দিয়ে সাজানো উক্ত উপন্যাস।

খুন যখন হয়েছে পুলিশ বা সি‌আইডি তো হামলে পড়বে। তার ওপর লেখকের ভাষ্যমতে বাংলাদেশে এমন সিরিয়াল কিলিং কেস একেবারে নয়া। প্রেক্ষাপটে তখন ২০০৯ সাল দেওয়া। এর পূর্বে এমন কোনো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে কি-না ঘেঁটে দেখিনি। তদন্ত করতে মাঠে নামে সি‌আইডির ডার্কসাইট কর্মকর্তা শফি। যে আগে কখনও খুনের তদন্তে নিজেকে সামিল করেনি। ঘটনাক্রমে সেই ক্রাইম সিনে লোকাল থানার ওসি দানিয়াল হাজির থাকাতে; সে নিজ বুদ্ধিমত্তার সাথে এই তদন্তের দায়িত্ব নিজ তাগিদে এগিয়ে নিতে থাকে। কিন্তু খুন তো আর থামে না! টঙের দোকানে চায়ের কাপ টপাটপ ফেলে দেওয়ার মতোই ফটাফট লাশ পড়তে থাকে। বডি পাওয়া যায় ঢাকা শহরের কিছু নির্দিষ্ট জায়গা এবং এর বাইরে। কে করছে এই খুন; তাও এত নৃশংস প্রক্রিয়া ব্যবহার করে? উত্তর নেই। পুলিশের ওসি থেকে সি‌আইডি বড়ো কর্মকর্তা—সবাই অসহায় এবং বিধ্বস্ত। তারপর কীভাবে খুনিকে ধরপাকড় করে; সেটা উপন্যাসের নতুন সংস্করণ কিনে পড়ে নাহয় জেনে নিলেন।

হয়েছে কী, বইয়ের ১২০ পৃষ্ঠা অতিক্রম করার পরে জেনে গেলাম খুনি কে! এ-বার তো আরও উত্তেজনা ঝেঁকে বসেছে। অনেক পাঠক খুনি কে জানার পরে গল্পের খেই হারিয়ে ফেলে। আমার হয় ঠিক তার উলটো। জানতে আগ্রহী হয়ে উঠি; ঠিক কীভাবে এই খুনি—খুনিতে রূপান্তর হয়েছে। চলতে থাকলাম খুনির মানসিক টানাপোড়েনের সাথে। লেখক আবার অনেক দয়ালু। পাঠকদের জন্য বিস্তর ক্লু ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে এগোতে থাকেন গন্তব্যের দিকে। একটু চালাক পাঠক হলে সহজে টুইস্ট ধরে ফেলে জিগস পাজল মেলানোর মতো আনন্দে আটখানা হয়ে বই না পড়ে রেখেও দিতে পারেন। তবে সাবধান! এমনটা করবেন না। লেখকের অবশ্য তা নিয়ে থোড়াই কেয়ার। তিনি চলেছেন আপন গতিতে; বাধাহীন গল্পের তুবড়ি ছুটিয়ে।

লেখার গভীরতা নিয়ে নানান মতানৈক্য থাকলেও গল্প অনুযায়ী ঠিকঠাক মনে হলো। কিছু জায়গা বাদ দিয়ে। লেখক নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে যেমন চেয়েছেন; তেমন পেরেছেন। পাঠক হিসেবে সব যে নিজের বা নিজেদের মন মতো হতে হবে এমন না। এই বইয়ের নেগেটিভ পয়েন্ট অহরহ থাকলেও পজিটিভ পয়েন্ট হচ্ছে গল্প দ্রুত এগোতে থাকে লেখনশৈলী সরলরৈখিক ভাবে চলার কারণে। পারিপার্শ্বিকতা এই গল্পে ঘনঘোর বর্ষার দমকা হাওয়ায় মেঘ থেকে ছিঁটকে পড়া দুয়েক ফোঁটা বৃষ্টির মতো। উপভোগ যে খুব বেশি করা যায়; তেমনটা না। কী ঘটছে তা জানার জন্য পড়ে যাওয়া আরকি। সাহিত্যের রেষারেষি এখানে ছিল না বললে-ই চলে। খুব গম্ভীর পরিবেশ বজায় রেখে পুরো উপন্যাস লিখে শেষ করেছেন লেখক। যা কিছুটা পাণ্ডুর মনে হয়েছে বটে।

সংলাপ ভাবলেশহীন। গড়পড়তা ভাব। গল্পের ফ্যাক্ট একরোখা; কাহিনি ছাড়া। আকাশে তারা ওঠে, খসে পড়ে সমুদ্রে—এমনই; উপমা ভুল হতে পারে। চরিত্রায়নে যা অনেকটা পুষিয়ে দিয়েছি তাও সেটা টুইস্ট ধরতে সাহায্য করেছে; একই ঘটনা বারবার দেখানোর কারণে। যদিও সেটা একমাত্র বিষয় না। এবড়োখেবড়ো রাস্তায় গাড়ি চালাবেন, সামনে ঢালু দেখে ব্রেক কষতে গিয়ে উলটে পড়লেন; তাহলে তো হলো না। জোড়াতালি দিয়ে এর ঘাড়ে ওর দোষ চাপানো; লোভ কে করেছে, কামের ফাঁদে কে পড়েছে এগুলো আরেকটু ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলে ভালো হতো। আবেগের জায়গাগুলো ধূসর মনে হয়েছে। চরিত্রদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরেকটু লুকানো গেলে মন্দ হতো না। ইংরেজি আর্টিকেলকে বাংলায় অনুবাদ করে—সংলাপে তথ্যের মতো বসিয়ে দিলে সেখানে গল্প আর জীবিত থাকে না। যাহোক, অভিযোগের পসরা সাজিয়ে লাভ নেই। লেখক ইতোমধ্যে এই নিয়ে অনেক ধারণা পেয়েছেন।

তামিলের থ্রিলার, হলিউডের সিনেমার সাথে অনেক কিছু খুবই সিমিলার লেগেছে। কোন সিনেমা তা বলছি না। হয়তো এই কারণে অনেকে এই বই নিয়ে ওয়েব ফিল্ম তৈরি করার কথা অকপটে স্বীকার প্রকাশ করেছেন। ভালো, হয় ওনারা নতুন থ্রিলার বই পড়ছেন নাহয় কখনও এমন কোনো থ্রিলার সিনেমা দেখেননি; যা দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। নতুন বা সদ্য থ্রিলারে পা দেওয়া পাঠকদের নিকট বইটি অবশ্যই ভালো লাগবে এবং লেগেছেও।

লেখকের বর্তমান বইগুলো থেকে এই বইটি পাঠোপকোরণের সারিতে আমার রেটিংয়ের দিক থেকে সবচেয়ে নিচের অবস্থানে ঠাঁই পাবে। প্রথমবার একটি বই পড়ে যে প্রতিক্রিয়া যেমন জানানোর—জানিয়েছি। উপন্যাসের আনুষাঙ্গিক জায়গাগুলোতে উন্নতি করার জায়গা থাকলেও সেগুলো ফাঁকা রয়ে গেছে। বিটা রিড যারা করেছে; যদি করানো হয়ে থাকে তবে তারা সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কারণগুলো ধরতে পারিনি অথবা সম্পাদনা যে করেছে; সে উপন্যাস-ই ‘সম্ভবত’ পড়েনি। বই শেষ করার পর এমনটাই মনে হয়েছে আমার। আবার তা ভ্রান্ত ধারণা হতে পারে।

‘ডার্ক’ থিম হলেও কাহিনিতে মনস্তাত্ত্বিক মিশ্রন উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। ওই দিকটি স্নায়ুতে চাপ কিছুটা হলেও দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে খুনের প্যাটার্নের ক্ষেত্রে এত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে গুলিয়ে ফেলা মুগ্ধ করতে পারেনি। যেসব পাঠক ‘বিকৃত’ অথবা ‘পাশবিকতা’ পছন্দ করেন; তারা ���ইটি সাদরে গ্রহণ করতে পারেন। আর যারা গল্পের সম্পূর্ণ আবহকে সাহিত্যে মোড়ানো পেতে ভালোবাসেন, তারা দূরে থাকতে পারেন। সোজা-সাপটা কথা।

লেখক উক্ত উপন্যাসের সিক্যুয়েল ‘অ্যাবসেন্টিয়া’-ই অনেক উন্নত করেছেন। শুধু চরিত্র দিয়ে বিশাল ‘লেকচার’ দেওয়া সংলাপের বিষয়টি কাটিয়ে উঠলে আগামীতে পাঠ্য অনুভূতি আরও সুখকর হবে। আশা করছি ‘অ্যানার্কিস্ট ৩’ প্রথম ও দ্বিতীয় বইতে থাকা আক্ষেপগুলো নিমিষে-ই ঘুচিয়ে দিবে।

বইয়ের বাহ্যিক প্রোডাকশন ভালো হলেও ২৭২ পেজকে, ৪৭২ মনে হয়েছে বেশি গ্রাম ওজনের কাগজ ব্যবহার করার জন্য। অভ্যন্তরীণ প্রোডাকশনের যা ভুলত্রুটি আছে; আশা করছি নতুন সংস্করণে অনেকটা নির্ভুল হয়ে যাবে। বইটির দ্বিতীয় মুদ্রণের দাম ৪৮০ টাকা মাত্র; চাইলে এখনও বইটি ক্রয় করতে পারেন।
Profile Image for Safwan  Mahmood.
115 reviews5 followers
August 5, 2024
রাজধানীর গ্রিনরোডে পাওয়া যায় একটি লাশ। একজন নারীকে বিভৎসভাবে খুন করে কয়েক টুকরো করে বস্তায় করে ফেলে দেওয়া হয় রাস্তার ডাসবিনে। কেসটা চলে আসে সি.আই.ডি-এর কাছে। দায়িত্ব দেওয়া হয় চিফ ইন্সপেক্টর শফির কাছে। শফি মূলত পুরনো রহস্য সমাধান, অন্যান্য অপরাধভিত্তিক কেস সমাধান করে। সদ্য হওয়া রক্তপাত, খুনোখুনির কেস থেকে দূরে থাকতে চাই। কিন্তু সদ্য নতুন সরকার আসা আর এক মন্ত্রীর হত্যাকাণ্ডে অন্যান্য অফিসারেরা ব্যস্ত থাকার কারণে তাকেই এই কেস নিতে হয়।

এই হত্যাকাণ্ড সমাধানে শফিকে এসিস্ট করে স্থানীয় থানার ওসি দানিয়াল। শুরুতে সাধারণ এই পুলিশের ব্যাপারে নাক সিঁটকালেও পরে বুঝতে পারে এই ওসি অনেক বুদ্ধিমান আর মেধাবী। কিন্তু এই কেসটায় তাদের একসাথে কাজ করার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হতে থাকে। চলমান এই কেসের সমাধান হওয়ার আগেই দু'দিন পর আবার নৃশংসভাবে খুন হওয়া এক নারীর বস্তাবন্দি কয়েক টুকরো লাশ পাওয়া যায়।

পর্দার আড়ালে থাকা এক খুনি, প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে। এই আগুনেই পোড়াতে চাই সে পুরো শহর। কোন প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে এই ভয়ংকর খুনি যার জন্যে মরতে হচ্ছে একের পর এক মেয়েকে? কেনই বা সে শহর জুড়ে ছড়াতে চাচ্ছে নৈরাজ্যতা বা অ্যানার্কি? দু'দিন পরপর মিলছে লাশ। দেশে প্রথমবারের মতো সিরিয়াল কিলিং হচ্ছে। কিন্তু তার ব্যাপারে তদন্তে বিশেষ অগ্রগতি হচ্ছে না।

এই কেসটার জন্য সিআইডি আর লোকাল পুলিশ মিলে এক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। উপরমহল থেকেও চাপ আসতে থাকে। সকলের মাঝে থাকা এই ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারকে কি থামাতে পারবে দানিয়াল আরে শফি? আর কতগুলো প্রাণকে ভয়াবহভাবে নিঃশেষ করবে সে, থামবে কোথায় গিয়ে? এই নিয়ে এম. জে. বাবুর জনপ্রিয় থ্রিলার বই 'দিমেন্তিয়া'।

এম. জে. বাবু, ইদানীং কালের হাইপে থাকা জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক। তার লেখা দিমেন্তিয়া, জিন, পিনবল বইগুলো নিয়ে হাইপ প্রচুর। তবে বিদগ্ধ পাঠকদের মাঝে তাকে নিয়ে প্রতিক্রিয়া একটু মিশ্র পেয়েছি। এর আগে তার 'পিনবল' বইটা পড়েছিলাম, মন্দ ছিল না। লেখকের গল্পকথন বেশ স্মুথ, আর বেশ দক্ষতার সাথেই তিনি ইংল্যান্ডের এক কাল্পনিক মফস্বল শহর উইন্ডেনের প্রেক্ষাপটে গল্পটাকে গড়ে তুলে বেশ ইন্টারেস্টিংভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। তবে শেষে গিয়ে কিছু উচ্চাকাঙ্খী গাঁজাখুরি টুইস্ট দিয়ে গল্পটা নষ্ট করেন বলা যায়।

লেখকের গল্প বলার সহজ জাত দক্ষতা রয়েছে। সেই জন্যে এই 'অ্যানার্কিস্ট' সিরিজটা ধরা, যার প্রথম উপাখ্যান 'দিমেন্তিয়া'। এই বইয়ের গল্পটা বলা চলে সবদিক থেকে গতানুগতিক আর খুবই সাধারণ। তবে প্রথম বই হিসেবে সেটা মেনে নেওয়া যায়। গল্পটা আর দৃশ্যগুলো লিনিয়ারলি মোটামুটি গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন লেখক।

লেখনী এই বইয়েও বেশ সাবলীল আর ঝরঝরে। সেইসাথে গল্পের ফ্লো-টাও লেখক বেশ চমৎকারভাবে ধরে রেখেছিলেন পুরোটা সময়। এই ফ্লো এর জন্যই গল্পটা পড়ে ফেলা যায় অনায়াসে। চরিত্রায়ন দূর্বল, কোনো চরিত্রই ভালো মতো ফুটে ওঠে নি। আর প্রায় সব চরিত্রই প্রচন্ড একমাত্রিক, মূল অপরাধীরটা ছাড়া। সেই সিরিয়াল কিলারের চরিত্রকে লেখক একটু জটিল দেখানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু সেটাও খুব একটা সুবিধার হয় নাই। যথাযথ ক্যারেক্টর ডেভেলপমেন্ট না থাকায় সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার হিসেবে গল্পটাকে আমি অনেক দূর্বল বলবো।

সেইসাথে মূল প্রোটাগনিস্ট দানিয়ালের চরিত্রায়নও এই বইয়ে তেমন একটা ভালো ছিল না। আর ইশিকা চরিত্রটার সাথে তার সেই কাশেম বিন আবু বকর মার্কা রোমান্টিক সাবপ্লটটা ছিল হাস্যকর। লেখনী ভালো হলেও এই বইয়ে লেখকের বর্ণনাভঙ্গি দূর্বল ছিল একটু। 'দিমেন্তিয়া'র ঢাকা শহরটাকে লেখক বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ বলা যায়। এই জায়গাটায় বেশ হতাশ হয়েছি, কারণ লেখক 'পিনবল' বইয়ে এইক্ষেত্রে বেশ ভালো কাজ দেখিয়েছিলেন।

গল্পের পুলিশি তদন্তটা খুব একটা ভালো হয় নি। প্রথম প্রায় ২৫০ পৃষ্ঠা জুড়ে তদন্ত তেমন একটা আগায় নি, একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুধু। এরপর আস্তে আস্তে গল্পে রিভিলেশনগুলা আসতে থাকে, তবে সেগুলো প্রচুর প্রেডিক্টেবল, গতানুগতিক আর সেগুলোর উপস্থাপনাও ভালোমতো হয় নি। সবচেয়ে বড় কথা এই তদন্তকার্যটা তেমন গোছানো হয় নি, বরং তাতে ছিল অনেক অসঙ্গতি। গল্পের খুনির সিরিয়াল কিলিংয়ের প্যাটার্নটাকে এতো অসংলগ্ন বানিয়েছেন লেখক দিন-তারিখের ভুল আর তথ্যগত ভুলভাল বিষয় দিয়ে, কি আর বলব। আর শেষমেশ গতানুগতিক এক টুইস্ট দিয়ে খুনির মোটিভ আর সাইকোলজিক্যাল প্রোফাইল বানানোতেও ছিল প্রচুর ভুল।

আসলে এই গল্পের গতানুগতিক সব বিষয়গুলোকে সাধারণভাবে উপস্থাপন করলেও বইটা একটা ডিসেন্ট সিরিয়াল কিলিং-সাসপেন্স থ্রিলার হতে পারতো। কিন্তু লেখক সাধারণ বিষয়গুলোকে শুধু শুধু প্যাঁচিয়ে জটিল বানাতে চেয়েছিলেন, যেটা কিনা অসঙ্গতিপূর্ণও। এজন্য গল্পে প্রচুর লুপ হোল আছে, প্রচুর, যেগুলোকে চাইলেও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এজন্য 'দিমেন্তিয়া'কে একটা বিলো এভারেজ থ্রিলারের চেয়ে বেশী কিছু বলা যায় না। যাই হোক, দেখা যাক সিরিজের পরের বইগুলো কেমন হয়।

📚 বইয়ের নাম : দিমেন্তিয়া

📚 লেখক : এম. জে. বাবু

📚 বইয়ের ধরণ : ক্রাইম থ্রিলার, সিরিয়াল কিলিং, মিস্ট্রি থ্রিলার, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার

📚 ব্যক্তিগত রেটিং : ২.৫/৫
Profile Image for Jim Hasan.
39 reviews
August 22, 2021
কাহিনী অনেক ফাস্ট, একটানা উপভোগ করার মত বই।
19 reviews9 followers
March 25, 2020
বইয়ের নাম : দিমেন্তিয়া

লেখকের নাম : এম.জে.বাবু

ঘরানা : থৃলার

কাহিনী ধারণা : “কেউ একের পর এক খুন করে গেলেই কি সে সিরিয়াল কিলার হবে?না।খুনের মোটিভের ওপর ডিপেন্ড করে এটা।”
অভিজিৎ পাকড়াশি,দ্বিতীয় পুরুষ

শহরে চলতে থাকে একের পর এক খুন।নৃশংসভাবে।অদ্ভুত সেসব খুনের ছাঁচ।প্রতি খুনে একটি করে অঙ্গ মিসিং।দেশের পুলিশ এর আগে কখনো এমন খুন ফেইস করেনি।
তদন্ত ভার পড়লো মার্ডার কেস নিতে অনাগ্রহী সিআইডি অফিসার শফি এবং ওসি দানিয়েলের ওপর।শফির অপারদর্শিতাকে ছাপিয়ে বারবারই প্রকট হয়ে উঠতে লাগলো দানিয়েলের বুদ্ধিমত্তা।
মার্ডার উইপন সন্দেহের তীর ছুঁড়ে দিল সিআইডির প্রতি।
রিভেঞ্জ কিলিং না সিরিয���াল কিলিং?
এরকম নানা মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন মাথায় নিয়ে তদন্ত এগোতে থাকলো।
অবশেষে হত্যার প্যাটার্ন নির্ণয়ে সক্ষম হলো তারা।
প্রেম,সন্দেহ,স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপোড়েন,নিকট অতীত আর দ্বৈত জীবনের সম্মেলনে এগিয়ে যেতে থাকে গল্প।যে গল্প মানবমনের আঁধারের গহীনে নিয়ে যাবে পাঠককে।


ব্যক্তিগত মতামত : লেখক জাহিদ হোসেনের উপন্যাসগুলোর পর এটাই আমার পড়া সমসাময়িক ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থৃলার উপন্যাস।লেখায় জড়তা সেভাবে ছিল না বলে আত্মনির্বাসনের এই সময়ে টানা পড়ে যেতে বাঁধেনি কোথাও,তবে শেষ অধ্যায়গুলোতে বাক্যের গঠনগত কিছু সমস্যা ফেইস করেছি যদিও কাহিনীর উত্তেজনায় সেগুলো খুব একটা গুরুত্ব পায়নি,তবুও পড়ার ফ্লোকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করেছে সেগুলো।
ইদানীং বেশ কিছু সাইকো থৃলার উপন্যাস আর সিনেমা সিরিজে ডুবে থাকায় বইটা পড়ার ক্ষেত্রে মানসিক প্রস্তুতি ছিল বেশ।
উপন্যাসটা জাহিদ হোসেনের “ঈশ্বরের মুখোশ” এবং চাক পালাহনিউকের “ফাইট ক্লাব” বইদুটোকে মনে করিয়ে দিয়েছে।
পুলিশের তদন্তকার্যের খুঁটিনাটি ব্যাপারগুলো পড়তে ভালো লেগেছ।
শেষ অধ্যায়ের কিছু বিষয় মনে খচখচ করছে,যেগুলো হয়তো এর সিক্যুয়েলে পরিস্কার হয়ে যাবে।সেটার অপেক্ষায় থাকলাম।

বইয়ের প্রোডাকশন বেশ ভালো এবং সবচে চমৎকৃত ব্যাপার হলো বইয়ে কোনো লেখক পরিচিতি নেই!

ক্যাটাগরি : উপন্যাস

প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২০

সর্বস্বত্ত : লেখকের

প্রচ্ছদ : সুজন

ফন্ট : নর্মাল

ISBN : 978-984-93848-6-1

বাঁধাই : হার্ডবাউন্ড

পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৭২

অধ্যায় : ৫৯

প্রকাশনী : ঈহা

ই-মেইল : ihaprokash@gmail.com

মূল্য : ৪৮০

অনলাইন প্রাপ্তিস্থান : রকমারি ডট কম

পরিবেশক : গ্রন্থরাজ্য

এই বইয়ের বিক্রয়লব্ধ অর্থের অংশ পরিবেশের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হয়।
Profile Image for Farzana Tisa.
44 reviews7 followers
September 5, 2022
বইয়ের নাম : দিমেন্তিয়া (৩য় সংস্করণ )
লেখক : এম. জে. বাবু
সিরিজ : অ্যানার্কিস্ট ১
জনরাঃ ডার্ক ক্রাইম / সাইকোলজিকাল থ্রিলার
পৃষ্টা সংখ্যা: ৩৫২
প্রকাশনা : গ্রন্থরাজ্য

লেখকের "জিন" বই টা পড়ার পর এই সিরিজ টা কিনি। জিন বইটা পড়ে যদিও লেখকের উপর খুব রাগ লেগেছিলো প্রথম বই এ অনেক প্রশ্ন রেখেছেন। কিন্তু তার লেখার স্টাইল,গল্প বলার ধরন, চরিত্র গঠন ই আমাকে এই ২ টা বই কিনিয়েছে।
একের পর এক মেয়েদের মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে টুকরো টুকরো বিভৎস অবস্থায়। ডাক পরলো সি আই ডি অফিসার শফি।
আর সাথে যুক্ত হলো পুলিশের ওসি দানিয়েল, লিটন, মনোজ। একের পর এক খুন। কোনো কূল কিনারা করতে পারছে না কেউ। একটা প্যাটার্ন ফলো করছে খুনি খুন করার সময়। কি সেই প্যাটার্ন। খুন হোওয়া মেয়ে গুলোর মধ্যেও কি কোনো যোগ সুত্র আছে..... এসব প্রশ্নের উত্তর পাবেন এই পুরো ৩৫২ পৃষ্ঠার বইটিতে।
এই বছরের শুরু থেকে মৌলিক থ্রিলার পড়া হচ্ছে বেশি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বই এর শুরু বা মাঝামাঝি থেকেই একটা ধারণা চলে আসে মেইন কালপ্রিট কে সে সম্পর্কে। এই বইটা আমাকে বহুত দিন পর নাকানি চুবানি খাইয়েছে। এটা যদিও সিরিয়াল একটা প্রশ্ন তো থাকবেই ২য় বই টা পড়ার জন্য। কিন্তু আপনি মোটামুটি সব প্রশ্নের উত্তর ই পাবেন এই বই য়ে। হয়তো ২য় বই এ আমার মাথা আরো ঘুরিয়ে দিবে লেখক। হয়তো আমি যা ভাবছি দিমেন্তিয়া পড়ে আমার পাঠ অনুভূতিই পরিবর্তন হয়ে যাবে।
সে যাই হোক আমি তো শুরু করছি ২য় বই। আপনারাও পড়ে ফেলুন হতাশ হবেন না। আর জিন পড়ে যে রাগ উঠেছিলো সেরকম রাগ উঠবেনা।
তবে চেষ্টা করবেন টানা পড়ে যেতে থ্রিলগুলো বেশি অনুভব করবেন। আমি পারি নি আমাকে প্রচুর দৌড়ের উপর শেষ করতে হয়েছে। তবু্ও ২১২ পৃষ্ঠা থেকে এক বসায় শেষ করেছি।
এবার আসি প্রকাশনা আমার হাতে ৩য় প্রকাশনার বই বেশকিছু বানান ভুল আছে। চরিত্রের নাম ভুল আছে। যেগুলো এরকম একটা বই পড়ার সময় বিরক্তির সৃষ্টি করে। প্রকাশনিকে অনুরোধ জানাবো এই দিকটা খেয়াল রাখার জন্য।
লেখককে ধন্যবাদ এমন চমৎকার প্লট নিয়ে আসুন আরো।
বই পড়ুন, সময়কে কাজে লাগান।
Profile Image for Parvez Alam.
307 reviews12 followers
April 30, 2020
নতুন লেখকের বই হিসেবে ভালো ছিলো। সাইকোলজি থ্রিলার বই, পড়তে শুরু করার পরে কিছু দূর যাবার পরে বুঝে গেছি খুনি কে হতে পারে আর আমার ধারণা ঠিক হয়। বইটা ২৭২ পেজের বই কিন্তু লেখক টেনে বড় করে নাই বইটা আর দ্রুত পড়া গেছে এর কারনে। কিন্তু প্রিন্টং ভুল ছিল।
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
March 25, 2020
“I am a forest, and a night of dark trees: but he who is not afraid of my darkness, will find banks full of roses under my cypresses.” ― Friedrich Nietzsche, Thus Spoke Zarathustra
-
দিমেন্তিয়া
-
শফি, সিআইডি এর চৌকষ অফিসার। হঠাৎ তার কাছে আসে এক অদ্ভুত খুনের কেস। আস্তে আস্তে সে বুঝতে পারে কোন এক সিরিয়াল কিলার ভয়াবহভাবে খুন করছে ঢাকায়। এদিকে পরিবারেও তার স্ত্রী অর্পা শুরু করে তার সাথে অদ্ভুত আচরণ। ব্যক্তিগত এবং কাজের ক্ষেত্র, দু জায়গাতেই টানাপোড়েনে পরে সে।
-
দানিয়াল, ঢাকা শহরের এক থানার ওসি। সেও তার টিম নিয়ে যুক্ত হয় এই কেসে।শফি এবং দানিয়ালের টিম সর্বশক্তি দিয়ে লেগে পড়ে এই খুনীর পেছনে। এদিকে খুনিও খুন করা থামায় না, উল্টো একটি খুনের থেকে পরবর্তী খুন করতে থাকে আরো বীভৎস উপায়ে।
-
এখন ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়ানো এই সিরিয়াল কিলার কেন এই রকম অদ্ভুত এবং বীভৎসভাবে খুন করছে? খুনির সাথে শফি এবং দানিয়ালের টিমের ইঁদুর-বিড়াল খেলার শেষ কোথায়? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক এম.জে.বাবু এর ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার "দিমেন্তিয়া"।
-
(স্পয়লার এলার্ট)
-
"দিমেন্তিয়া", লেখকের প্রথম লেখা বই। প্রথম বই হিসেবে এ ধরনের ডার্ক থিমের গল্প বেছে নেওয়া বেশ সাহসের কাজ।গল্পের প্লট আগ্রহদীপ্তক, কিন্তু লেখার স্টাইল প্লটের তুলনায় কিছুটা দুর্বল মনে হয়েছে। লেখকের প্রথম বই যেহেতু, আশা করি পরবর্তী বইগুলোতে এই দুর্বলতা তিনি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
-
"দিমেন্তিয়া" যেহেতু ডার্ক ঘরানার গল্প, তাই আশা ছিল কিছু গোর কন্টেন্ট থাকবে। সেই কন্টেন্টগুলো বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, কয়েকটি জায়গার বর্ণনায় গা গুলিয়ে উঠেছে। গল্পের ভিতরে পুলিশ এবং সিআইডির তদন্ত প্রক্রিয়া এবং ক্রিমিনাল বিহেভিয়ার সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, এ বিষয়গুলো নিয়ে যে লেখক বিস্তর স্টাডি করেছেন তা গল্পটি পড়লেই বোঝা যায়। এ বইয়ের আরেক ভালো দিক লাশগুলোর ফরেনসিক বর্ণনা বা রিপোর্ট, চমৎকারভাবে সেটি বর্ণিত হয়েছে।
-
"দিমেন্তিয়া" এর চরিত্রায়নের ভিতরে সবচেয়ে ভালোভাবে ফুটে উঠেছে ওসি দানিয়ালের চরিত্র। অস্পষ্ট চরিত্র হিসেবে সিআইডি অফিসার শফিও বেশ সফল। তবে মূল সমস্যা মনে হয়েছে চরিত্রগুলোর পারস্পরিক ইন্টারেকশনে। গল্পের মূল দুই যুগলবন্দী শফি-অর্পা এবং দানিয়াল-ইশিকার সম্পর্ক মেকি এবং মেলোড্রামাটিক মনে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত শফির ব্যাপারটা বোঝা গেলেও দানিয়ালের ক্ষেত্রে সম্পর্কটি একটু বেশিই মেলোড্রামাটিক মনে হয়েছে।
-
"দিমেন্তিয়া" বইয়ের কাহিনী প্রথম থেকেই ফাস্ট পেসড, তড়তড়িয়ে একের পর এক ঘটনা আর টুইস্ট দিয়ে কাহিনী এগিয়ে গেছে। তবে মূল যে টুইস্ট সেটাকে এতবার করে ফোরশ্যাডো করা হয়েছে যে কাহিনীর দুই তৃতীয়াংশ পড়েই অনেকটা গেস করা যায় মূল ঘটনাটি আসলে কে ঘটাচ্ছে । "দিমেন্তিয়া" বইটিতে কিছু তথ্য বিভ্রাটও চোখে পড়েছে - যেমন বইতে বলা হয়েছে ঢাকা শহরে কোন ৩ নাম্বার রোড নেই, আমার মনে হয় না এ তথ্যটি সম্পূর্ণ সঠিক। বইয়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ এ ঘটেছে, যেখানে লিপ ইয়ার নয় বলে সে বছরে ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ তারিখেই শেষ হয়েছিল। এ ধরনের কিছু তথ্যবিভ্রাট বেশ বিরক্ত লেগেছে।
-
"দিমেন্তিয়া" বইতে ছোট বড় বেশ কিছু বানান ভুল এবং প্রিন্টিং মিস্টেক চোখে পড়েছে। তার ভিতরে কিছু একদম ই দৃষ্টিকটু। (যেমন হোয়াইট বোর্ড এর জায়গায় হোয়াট বোর্ড )। কিছু যুক্তবর্ণ প্রিন্টে একেবারেই ভেঙ্গে এসেছে কিংবা অশুদ্ধ এসেছে। বইটির পরবর্তী মুদ্রণে আশা করি এ ভুলগুলো শুধরে নেয়া হবে । বইটির বাঁধাই ও কাগজের মান গতানুগতিক বইগুলোর চেয়ে উন্নত, তাই এর প্রশংসা করতেই হয়। তবে প্রচ্ছদ একেবারেই ভালো লাগেনি।
-
২৭২ পৃষ্ঠার বই হিসেবে আমার কাছে "দিমেন্তিয়া" এর মুদ্রিত মূল্য কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। আমার মনে হয় ভারী কাগজ দেয়ায় (৯০ গ্রাম/১০০ গ্রাম)বইটির দাম কিছুটা বেড়েছে। এর পরিবর্তে ৭০ গ্রাম/৮০ গ্রাম কাগজ দিলে হয়তো দামটা আরো নাগালে থাকতো, পড়তেও সুবিধা হতো। (ভারি কাগজের জন্য ২৭২ পৃষ্ঠার বই পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে ৪০০+ পৃষ্ঠার বই পড়ছি ) সামনে বইটির প্রকাশনী এ ব্যাপারে আরো খেয়াল রাখবেন, এই আশা করছি। আরো আশা করছি লেখক এ বইয়ের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে সামনে আরো ভালোমানের বই উপহার দিবেন। যাদের দেশীয় ঘরানার সিরিয়াল কিলিং নিয়ে বই পড়তে পছন্দ হয় তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
Profile Image for সা কিব.
58 reviews11 followers
September 24, 2022
এ শহর আমাদের জাদুর শহর। যার অলিগলিতে ভেসে থাকে গল্পের জাদুকরেরা। কেউ বা জাদু দিয়ে গল্পের পথই ঘুরিয়ে দিতে চায়। কেউ বা গল্প নিয়ে খেলে গল্প নিয়ে। আদিমতার গল্প। কিন্তু সে গল্প বুঝতে গিয়ে শহর থমকে যায়। শুরু হয় রক্তহীম করা রক্ত জমানো গল্পের জাদুকরের খেলা।

এ গল্পে আছে হরেক রকমের মানুষ। কেউ পুলিশ, কেউ সি আই ডি। আবার হুজুর আবার কেউ বে নামাজি। কেউ সংসারী, কেউ বা সংসারের খোজে।

পুলিশ , সি আই ডির দৌরাত্ব যেহেতু আছে ওঝা হয়ে তাহলে তারা কার বিষ নামাবে?


অন্ধকারের গল্পকে আরো লালের লেলিহান করতে উঠেপড়ে লেগেছে কে?

এ গল্প পুলিশ দানিয়ালের গল্প। নামাজি আল্লাহ ভীরু। টেবিলের তলে বোতল নিয়া পানি পানের অভ্যাস আছে। হোক চেম্বার হোক মালিবাগের সি আই আইডির হেড কোয়ার্টার। পানি খাবেই। তাই আমরা তাকে পানিবাবা নামেই ডাকবো।

আরেকজন কবর খোদক শফী। সি আই ডির একজন অফিসার। অথচ রক্তে ভয়। এজন্য পুরান কেসই পছন্দ তার। আছে তার একজন বিবি এবং একটা বেবী এই নিয়েই সংসার।

যাত্রার নায়কের বর্ণনা তো শুনলেন এবার ভিলেনের কথাও শুনেন।

কাটাকাটি করতে ভালো বাসে। তবে সময় নিয়া। এক দেহ কাটে ৬ দিনে, ৫ দিনে, আবার ৩ দিনেও।


কথাবার্তা এলোমেলো হয়ে যাসসে।


এনার্কিস্ট সিরিজের প্রথম বই দিমেন্তিয়া। গল্প হিসেবে কেমন ? বেশ ভালো ? না অনেক ভালো? বেশ ভালো।
তবে খামতি আছে।আমি খুটিনাটি এত নজরে নিই না তবে টাইমলাইন অনুযায়ী কিছু জিনিস বেশ চোখে পড়ে। কেউ আগ্রহী হলে নিচে কমেন্ট সেকশনে স্পয়লারের আন্ডারে ডিসকাস করা যাবে নাহয় ইনবক্সে।
বই যথেষ্ট ফাস্ট পেজড। জনরা সোজা থ্রিলার। আমি এত ভাগ বিচার করা পারিনা। ফাস্ট পেসড বলার কারণ দুই সিটিং এ বই শেষ দিয়ে ফেলসি😬
প্লট গতানুগতিক হলেও এক্সিকিউশনের ব্যাপারটাই বইটাকে আরেক লেভেলে নিয়ে গেসে। এজন্য খামতিকে একসাইডে রেখে বেশ এঞ্জয় করতে পেরেছি।

আমার রেটিং ৮/১০ এ+ দিবো।
Profile Image for Mohammad Kamrul Hasan.
352 reviews15 followers
February 4, 2022
লেখক এম জে বাবুর প্রথম মৌলিক উপন্যাস ছিলো এই ‘দিমেন্তিয়া’। উপন্যাসটি সিরিয়াল কিলিং কাহিনি নিয়ে রচিত হয়। লেখকের চমৎকার লেখনির জন্য বইটা পড়তে আমার ভালো লাগে। পয়েন্ট মতই টুইস্ট ছিলো। কাহিনিও অহেতুক টেনে বড় করা হয়নি। তবে কিছু জায়গায় কাহিনি অতিদ্রুত টানার ফলে শেষদিকে এসে কেমন যেনো খেই হারিয়ে ফেলে গল্পটি।
শেষদিকে যেনো অনেকটা জোর করে ঘটনা মিলিয়ে দিলো লেখক। উত্তর পাইনি অনেক কিছুর। বইটির অবশ্য দ্বিতীয় পার্ট বেরিয়েছে। তবু প্রথম পার্টে আরো ক্লিয়ার করে পরে পার্টে যাওয়া যেতো।
আর বইটিতে অসংখ্য বানান ভুল ছিলো, কিছু জায়গায় শফির ঘটনা বলার সময় দানিয়ালের নাম চলে আসে। ফলে বুঝতে সমস্যা হয়।

যাইহোক বইটা পড়ে মজা পেয়েছি এই হলো কথা। তবে আরো ভালো হতে পারতো। বইটার দ্বিতীয় পর্ব অ্যবসেন্টিয়া হাতের কাছে রেখেছি৷ দেখি এটা পড়ার পর কেমন লাগে।

ধন্যবাদ।
📚 বই হোক আপনার, আপনি বইয়ের 📚
Profile Image for Zanika Mahmud.
185 reviews9 followers
April 12, 2023
পাঁচ দেবো কেননা, প্রথম বই হিসেবে এতো চমৎকার হবে আশা করিনি। লেখকের পড়া প্রথম বই ছিল "জ্বীন"। তখনই বোঝা যায়, এর হাত শক্ত।

এই বই শুরু থেকে শেষ বিরক্ত হয়নি। দানিয়েল চরিত্রটি ভালো লেগেছে।

শুভ কামনা৷
Profile Image for Dhiman.
179 reviews14 followers
December 17, 2024
খুবই বাজে। এটা আর অ্যাবসেন্টিয়া কিনেছিলাম। পুরা টাকা জলে। ২য় টা তো ধরে দেখারও ইচ্ছে নেই।
Profile Image for Junaed Alam Niloy.
86 reviews10 followers
July 22, 2020
সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকবার বইটির পজিটিভ রিভিউ সামনে এসেছে। সেই থেকেই এই লক ডাউনে বইটি কিনে আনা। ওভারঅল খুবি ভাল লেগেছে উপন্যাসটি। আমার রিভিউটা লেখার আগে বেশ কয়েকজনের রিভিউ পড়লাম, আর দেখলাম কয়েকজনই বইয়ের রিভিউ লিখতে গিয়ে সল্পয়লার এর হুমকি দিচ্ছে। আসলে কেন যেন বইটির রিভিউ দিতে গেলে স্পয়লার এসেই যায়। বইটিকে পাঁচ তারা দিতে ইচ্ছে করছে খুব, কিন্তু বইতে এত বেশি পরিমান ভুল, তা টাইপিং মিস্টেক, নাকি প্রুফ দেখায় অবহেলা নাকি প্রিন্টিং মিস্টেক তা আল্লাহ জানে। যেমন এক জায়গায় লেখা কিছু কাহিনি ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০০৫ এ হয়েছে। ওদিকে ২০০৫ এ লিপইয়ার নেই। তারপর বললো, ফেব্রুয়ারির পর দু-মাস কেটে গেল, এখন জুন মাস চলছে। এ কেমন কথা? ফেব্রুয়ারির দু মাস পড় জুন?

যাই হোক, গল্পের প্লট খুব শক্তিসালি। কিছু চরিত্র একটু বিভ্রান্তিকর, যেমন দানিয়াল-ইশিকা এর সম্পর্ক আমার কাছে কেমন জানি বেশি ড্রামাটিক লেগেছে, কিছু কিছু অধ্যায়ে লেখক কাহিনি ঘোরালো করতে গিয়ে একেবারে বেশি পেচিয়ে ফেলেছিল। তবুও, প্লট শক্তিশালি বলে তা ছাপিয়ে গেছে।
বইয়ের ভুল গুলোর জন্যই বেশি বিরক্তিকর লাগায় এক তারা কম দিলাম, আমার কাছের খন্ডটি ছিল দ্বিতীয় মুদ্রন... দ্বিতীয় মুদ্রনে ভুল গুলো চাইলেই ঠিক করা যেত, নতুন প্রকাশনির গাফিলতি ছাড়া কিছুই না!

গতকাল লেখক ঘোষনা করেছেন এই সিরিজের দ্বিতীয় বই 'অ্যাবসেন্ট্রিয়া' আসছে। তো সেই বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম এবং আশা করছি সেটাতে এমন ভুল গুলো থাকবে না।
Profile Image for Shashoto Islam Avay.
4 reviews1 follower
June 5, 2021
ডার্ক সাইকোলজি, ভায়োলেন্স এবং গোর। সোজা কথায়, আমি যা যা ভালোবাসি তার সবই রয়েছে এই বইতে। লেখকের প্রথম থ্রিলার বই হিসেবে অনেক ভালো। সুপাঠ্য। এবং আমার মতো পাঠকদের জন্য তো অবশ্যপাঠ্য।

চমৎকার একটি প্লট। স্টোরি টেলিং বেশ গতিশীল। কোথাও অযথা সময় নষ্ট করেননি লেখক। প্রধান দুই চরিত্র তো বটেই, সাইড ক্যারেক্টরদেরও বেশ ভালো লেগেছে। (দানিয়ালের মা এবং ইশিকা বাদে) ঐ দুজনকে খুব বিরক্তিকর লেগেছে আমার কাছে।

প্রায় প্রতিটি দৃশ্যই উপভোগ্য। তবে, ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয়েছে, ভিক্টিম অথবা খুনির পার্সপেক্টিভ থেকে কিছু দৃশ্য থাকলে আরও ভালো হতো। শেষ ভিক্টিমের বেলায় খানিকটা ছিল অবশ্য। কিন্তু অন্তত একজন ভিক্টিমের, কিডন্যাপ হওয়া থেকে খুন হওয়া পর্যন্ত, দৃশ্যগুলি ভিক্টিম অথবা খুনির পার্সপেক্টিভ থেকে দেওয়া উচিৎ ছিল।

টুইস্টের ব্যাপারে বললে, শুধুমাত্র সেভেন ডেডলি সিন্স এর ব্যাপারটা বাদে, কিছুদূর পড়েই "কি হচ্ছে" ও "কে করছে" তার একটা আইডিয়া হয়ে গেছিল আমার।

সিরিয়াল কিলারদের ব্যাপারে অনেক তথ্য দিয়েছেন লেখক। সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে আমার মতো যাদের আগ্রহ রয়েছে তাদের জন্য এটা খুবই ভালো একটি বিষয়।


বইয়ের বেশকিছু জায়গায় বাক্যগঠন খাপছাড়া লেগেছে। টাইপিং মিস্টেক এর পরিমানও ভালোই ছিল। ভুল-ত্রুটি এবং অসংগতিও রয়েছে অনেক।

তবে, বেশ কিছু মিস্টেক থাকার পরেও বইটি সুপাঠ্য, অবশ্যপাঠ্য। (ব্যক্তিগত মতামত)

পরিশেষে, লেখকে ধন্যবাদ সুন্দর এই বইটি আমাদের উপহার দেয়ার জন্য।
Profile Image for Zakaria Minhaz.
261 reviews23 followers
September 19, 2022
#Book_Mortem 58

#দিমেন্তিয়া

লেখকঃ এম. জে. বাবু
প্রচ্ছদঃ সজল চৌধুরী
প্রকাশনীঃ গ্রন্থরাজ্য
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৩৫২
মূদ্রিত মূল্যঃ ৬০০ টাকা

#ব্যক্তিগত_রেটিংঃ ০৪/১০

তুমুল জনপ্রিয় এবং পাঠকপ্রিয় এই বইটি আমার একদমই ভালো লাগেনি। আমি এই বইটার আক্ষরিক অর্থেই বুক মর্টেম করলে হয়তো একটা পিচ্চি সাইজের এয়ারপোর্টে নভেলা হয়ে যাবে। কারন বইটার পদে পদে অসংখ্য ভুল। লিখনশৈলীতে দূর্বলতা, সংলাপে ভুল, চরিত্রায়নে ভুল, প্লট এক্সিকিউশানে ভুল, ডিটেইলিং এ ভুল। মানে ভুলে ভরা এই বসন্ত!! যদিও সর্বশেষ মূদ্রণে বিশালাকার প্লট হোল টাইপ কিছু ভুল ভ্রান্তি কমিয়ে আনা হয়েছে। তারপরেও লিখনশৈলীর অপরিপক্কতা আপনি কি দিয়ে ঢাকবেন? বইটা শেষ করার পর মনে হয়েছে লেখক আগে টুইস্ট চিন্তা করেছেন, এরপর বাকী গল্প লিখেছেন!! যাইই হোক বইটা নিয়ে অতো ডিটেইলে যাবো না। কারো ভুলভ্রান্তি গুলো সম্পর্কে জানার ইচ্ছা থাকলে ইনবক্সে নক দিয়েন। জাস্ট দুইটা কথা বলে শেষ করি; আমাদের ভাষায় আপনি, তুমি, তুই এই ৩টা বিশেষন ভিন্ন ভিন্ন পদমর্যাদার এবং বয়সের মানুষদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে শেখাটা অত্যন্ত জরুরী বলে আমার মনে হয়। আরেকটা কথা একটু ভয়ে ভয়েই বলি, আমার ধারণা আমাদের দেশের থ্রিলার পাঠকদের একটা অংশের আরো অনেক অনেক ম্যাচিউর হওয়া বাকী রয়ে গেছে 🤐🤐।

গ্রন্থরাজ্যের প্রোডাকশন দূর্দান্ত লেগেছে, প্রচ্ছদটাও জোশ লেভেলের। তবে সম্পাদনায় আরো অনেক কাজ করার ছিলো, কিংবা প্রুফ রিডিং এর ক্ষেত্রেও।
Profile Image for Ashikur Khan.
Author 4 books7 followers
February 28, 2023
বিভিন্ন বইপত্রে বিভিন্ন লোমহর্ষক কাহিনীর কথা আমরা হরহামেশাই পড়ে থাকি৷ কখনো কখনো সেসব কাহিনি আমাদের বাস্তব জীবনের গল্পকেও ছাড়িয়ে যায়। গল্প-উপন্যাস আমাদের বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি হলেও এসব গল্প কখনো কখনো আমাদের কল্পনাশক্তিকেও রীতিমতো হার মানায়।

আজ এমন-ই এক রহস্য উপন্যাস নিয়ে কথা বলব৷ এটাকে ঠিক রহস্য উপন্যাস না বলে ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বলা অধিকতর শ্রেয় হবে বলে আমার বিশ্বাস। সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই জনরার এক লোমহর্ষক কাহিনী নিয়ে পাঠক সমাজে হাজির হয়েছে নবীন লেখক এম.জে. বাবু। এই উপন্যাসে তিনি মূলত একজন সাইকোপ্যাথ খুনির গল্প পাঠকদের সামনে তুলে এনেছেন।

কাহিনি সংক্ষেপঃ
উপন্যাসের গল্পের শুরু হয় এক খুনের ঘটনা দিয়ে। হঠাৎ করে এক মহিলা খুন হয়ে গেল। সেটাকে শুধু খুন বললে কম হবে। কেননা, অত্যন্ত বিভৎস নির্যাতন শেষে তাকে খুন করা হয়। এ খুনের রহস্য উদঘাটনের আগেই আরেকটা খুনের ঘটনা ঘটে। রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হতে থাকে। প্রকৃত খুনিকে ধরতে একদিকে মরিয়া হয়ে ওঠে পুরো পুলিশ বাহিনী; আর অন্যদিকে নরপিশাচ খুনি সুস্থ মস্তিষ্কে ও পরিকল্পিতভাবে একের পর এক খুন করে যেতেই থাকে। রহস্যের জাল ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে। তরুণ ওসি দানিয়াল কি পারবে এই রহস্য উদঘাটন করতে? কে আছে এই খুনের পেছনে? রহস্যেঘেরা মৃত্যুপুরী দাঁড়িয়ে তরুণী ঈশিকার হৃদয়ের কথা কি কংক্রিটের দেয়াল ডিঙিয়ে পৌঁছবে তার স্বপ্ন পুরুষের কর্ণকুহরে? নাকি তার ভালবাসা নিছক অধরা স্বপ্ন-ই রয়ে যাবে? জানতে হলে পড়তে হবে তরুণ ঔপন্যাসিক এম.জে. বাবুর লেখা রহস্য উপন্যাস "দিমেন্তিয়া"।

চরিত্র বিশ্লেষণঃ
কাহিনি সংক্ষেপ তো জানা হচ্ছে গেল৷ এবার উক্ত উপন্যাসের চরিত্র চিত্রায়ণ নিয়ে কথা বলার পালা৷ এই উপন্যাসে অন্যতম প্রধান চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তা দানিয়ালকে৷ একের পর নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটতে থাকলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় দানিয়ালকে৷ কাজ-পাগল দানিয়াল নিজের নাওয়া-খাওয়া ভুলে খুনের রহস্য উদঘাটনে মরিয়া হয়ে ওঠে। নিজের সহযোগীদের সহায়তায় সে উঠে-পড়ে লাগে খুনিকে ধরতে...... এ নিয়ে আরেক চৌকস সি.আই.ডি. অফিসার শফির সাথে তার অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়৷ ব্যাপারটা অনেকটা জনপ্রিয় কার্টুন সিরিজ টম & জেরির "ইঁদুর-বিড়াল খেলা"-র অনুরূপ। পুলিশের সামান্য ওসি হয়ে দানিয়াল কি পারবে এই অসম প্রতিযোগিতায় পেরে উঠতে? এই প্রশ্নটা না হয় পাঠকদের জন্যেই আপাতত তোলা থাকুক।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রাখা হয়েছে অর্পা নামক এক নারী চরিত্রকে৷ আপাদমস্তক রহস্যে ঘেরা এই নারীকে একজন সি.আই.ডি. কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পুরো উপন্যাস জুড়েই তার আচরণ ও চলাফেরা অত্যন্ত সন্দেহজনক৷ সে কোথায় যায়, কী করে, তার কোনো সুস্পষ্ট হদিস পাওয়া যায় না৷ কর্মব্যস্ত পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর পক্ষে সেসব ব্যাপারে খোঁজ রাখা স্বভাবতই সম্ভব হয় না৷ পাঠক হিসেবে তার প্রতি সন্দেহ গাঢ় হতে শুরু করে। কিন্তু পরবর্তীতে উপন্যাসের কাহিনি হঠাৎ ইউ-টার্ন নিতে শুরু করলে তার ব্যাপারে ধারণা স্পষ্টতর হতে থাকে৷ নতুন এক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়৷ কিন্তু কী সেই প্রেক্ষাপট? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে চোখ রাখতে হবে "দিমেন্তিয়া"-র পাতায়। গল্পের প্রতিটি পরতে পরতে রহস্যে মোড়া সে অভিযাত্রায় আপনাকে স্বাগতম, প্রিয় পাঠক!

ভাষাগত বিশ্লেষণঃ
কোনো লেখকের লেখার ভাষাগত মান বা সাহিত্য মান বিশ্লেষণকে আমার কাছে সবচেয়ে জটিল ও দুঃসাধ্য কাজ বলে মনে হয়৷ দেখা যায়, কোনো বইয়ের পর্যালোচনা লিখতে গেলে এই অংশটা আমি আলাদা করে লিখি বা আলাদা সময়ে লিখি৷ কেননা, কোনো কিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করতে গেলে সেটা নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হয় তথা তার পেছনে আলাদা করে সময় দিতে হয়৷ তবুও পূর্ণাঙ্গ বইয়ের পর্যালোচনা লিখতে গেলে এই অংশটা থাকা একপ্রকার অত্যাবশ্যক বলে মনে হয় আমার। যা হোক, এবার কাজের কথায় আসা যাক। উক্ত উপন্যাসটি প্রমিত বাংলা রীতি অনুযায়ী রচিত হয়েছে। যথাসম্ভব প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য ভাষায় লেখার প্রচেষ্টা পাঠক হিসেবে বেশ ভালো লেগেছে আমার। ক্ষেত্রবিশেষে প্রাসঙ্গিক ইংরেজি শব্দের প্রয়োগকে বর্তমান যুগের বাংলাভাষী মানুষের প্রায়োগিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন বলা যেতে পারে। এর পাশাপাশি একটি ব্যাপারে কথা বলার লোভ কিছুতেই সম্বরণ করতে পারছি না। রহস্য উপন্যাস রচনার পাশাপাশি এই বইটিতে বেশ কিছু ব্যাপার মনোবিজ্ঞান ও দর্শনশাস্ত্রের জটিল তাত্ত্বিক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়েছে। এর জন্য যে লেখক মশাইকে বেশ খাটতে হয়েছে দিনের পর দিন, তা আলাদা করে বলা বাহুল্য। এছাড়া কোথাও কোথাও আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার এর ভাষারীতিকে এক আলাদা অনন্যতা দান করেছে। আশা করি, এই বিষয়টি অন্য পাঠকদের মনে বিরক্তির উদ্রেক করবে না।

তবে ভালো লেখার স্তুতি গাইতে গিয়েও কিছু কিছু খারাপ লাগার বিষয়ের কথা বলতে হচ্ছে। প্রতিটি নির্মোহ পর্যালোচনাতেই এই অংশটি থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। পুরো লেখাটি একজন গুণগ্রাহী পাঠক হিসেবে যেমন আমার ভালো লেগেছে, তেমনি একজন সচেতন পাঠক কিছু ত্রুটির বিষয় আমার নজর এড়ায়নি। কিছু কিছু জায়গায় বানান ভুল বেশ চোখে লেগেছে। এছাড়া কিছু জায়গায় ভাষাগত অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

বলতে বলতে অনেক কথা বলা হয়ে গেল। তবুও মনে হচ্ছে, কত কথা বলা বুঝি অপূর্ণ-ই রয়ে গেল। সদ্য কৈশোর পেরিয়ে তরুণীর খাতায় নাম লেখানো ঈশিকা ও তার উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা বাবা মুহিবুজ্জামানের কথা ���লা হলো না। বলা হলো না ডাকসাইটে সি.আই.ডি. কর্মকর্তা শফি ও প্রফেসর মান্নানের কথা। অব্যক্ত-ই রয়ে গেল উপন্যাসের গল্পের সাথে জড়িত মনোজ, আশিক, ফিরোজ ও লিটনের কথা। বইয়ের পর্যালোচনার এই ক্ষুদ্র পরিসরে লেখা হলো না নির্মল, মোয়াজ্জেম ও রুপন্তির গল্পগাঁথা। সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত লিখতে গেলে তা নিয়ে আরেকটা ঢাউস সাইজের উপন্যাস রচনা করা হবে বলে আমার ধারণা। অপরাহ্ন বেলায় রবি ঠাকুরের সাথে সুর মিলিয়ে বলতে হচ্ছেঃ

".......শেষ হইয়াও হইল না শেষ!"

বইয়ের পরিচিতিঃ
বইয়ের নামঃ দিমেন্তিয়া
লেখকঃ এম.জে. বাবু
বইয়ের ধরনঃ ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার
প্রচ্ছদঃ সুজন
প্রকাশনীঃ ঈহা প্রকাশ
প্রথম প্রকাশঃ জানুয়ারি, ২০২০
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৭২
মুদ্রিত মূল্যঃ ৫৪০ টাকা
Profile Image for Tashin Abdullah .
139 reviews1 follower
August 12, 2024
The most deadly thriller, I've ever read. ওহ যেনো একটা অন্ধকার জগৎ থেকে বেরোলাম। মাথা এখনো ভোঁ ভোঁ করছে। হিংস্র ভয়ংকর বর্ণনাগুলোর কথা ভাবলে এখনো গা কেমন গুলিয়ে উঠছে। এরকম অন্ধকার জগতের কাহিনি এই প্রথম পড়া। পড়া শেষ করলাম, কিন্তু কিছু ভয়ের রেশ এখনো রয়ে গেছে মনের ভিতরে।

বইয়ের নাম দিমেন্তিয়া, বেশ ইউনিক নাম। এই দিমেন্তিয়া অর্থ কি তা পুরোপুরি জানতে পারিনি। বইয়ের কোথাও এই শব্দের উল্লেখ নেই। গুগল করে যেটুকু জানতে পারলাম, তার সারমর্ম তুলে ধরছি; চিত্তভ্রংশ (ইংরেজি: Dementia, উচ্চারণঃ ডিমেনশিয়া) একটি মানসিক রোগ যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির বুদ্ধি, স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব লোপ পায় এবং রোগ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং হঠাৎ করেই অনেক কিছুই মনে করতে পারেন না। ফলে তার আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষিত হয়।
বইয়ের একেবারে শেষে গিয়ে দেখতে পাই, কাহিনির মেইন থিম উপরোক্ত সংজ্ঞার উপর আবর্তিত। এক্ষেত্রে এরকম ইউনিক নামকরণে লেখকের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিশ্রম লক্ষনীয়।

ব্যাস্ত নগরী ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় একের পর এক লাশ পাওয়া যায়।লাশগুলোর চেহারা বিকৃত ও ছিন্নভিন্ন। কেউ অমানুষিক নির্যাতন করে মেরেছে এদের। এই কেস সমাধানের দায়িত্ব পায় সিআইডির তরফ থেকে শফি আর পুলিশের তরফ থেকে দানিয়াল। শুরুতে অবশ্য দেখা যায় এই মার্ডার কেস নিতে আগ্রহী নয় সি আই ডির চিফ ইন্সপেক্টর শফি। কিন্তু সিআইডির ডিরেক্টর তাকেই কেসটা নিতে জোর করে,অগত্যা কেসটা তাকেই নিত হয়। কিন্তু কেসের অগ্রগতিতে দেখা যায় সিআইডির থেকে পুলিশের দানিয়াল এক কদম এগিয়ে থাকে। দানিয়াল আর শফির ভিতর কেস সমাধানের বেলায় এক মানসিক দ্বন্দ দেখতে পাই। কি হবে এই কেসের সমাধান? পুলিশ আর সিআইডি কি পারবে এর সমাধান করতে? জানতে হলে পড়ে ফেলুন অন্ধকার জগতের এই বইটি। তবে একটা কথা বলে রাখি, কোন দুর্বল চিত্তের মানুষের জন্য এই বই নয়, প্রথম চাপ্টারেই এত নৃশংস বর্ণনা এর আগে কখনো পড়েনি, একটা লাশকে, ৬ দিন ধরে আলাদা আলাদা অঙ্গ কেটে ৭ টুকরো করে হত্যা করা হয়। কল্পনা করলেই গা কেমন শিউরে উঠছে।

অনেক থ্রিলার বইতে আগে থেকেই কিছু প্রেডিক্ট করা যায়,এই বইটির ক্ষেত্রেও এরকম কিছু অনুমান করেছিলাম, কিন্তু শেষের টুইস্টেই সব অনুমান ওলট পালোট হয়ে যায়। শেষট পড়ে আমার ফাইট ক্লাব সিনেমার কথা মনে পড়লো, বইয়ের টুইস্টের সাথে ফাইট ক্লাবের টুইস্টের মিল আছে।

গল্প অনেক গতিশীল ছিলো, পড়ার সময় বেশি ক্লান্তি অনুভব করিনি। যতক্ষণ পড়েছি টানাই পড়ে গেছি। বইয়ের প্রধান চরিত্র দানিয়াল আর তার হবু স্ত্রী ঈশিকাকে নিয়ে লেখক কিছু বাড়তি বর্ণনা দিয়েছেন, এই বাড়তি বর্ণনাটুকু না দিলেও চলত। এছাড়া বইয়ের মাঝে মাঝে কিছু বানান আর বাক্যের সিকুয়েন্সে ভুল পেয়েছি,আশা করি পরবর্তী এডিশনে এগুলো থাকবে না। বাইন্ডিং, পেইজ কোয়ালিটি এবং প্রচ্ছদ উন্নতমানের। ভায়োলেন্স বর্ণনা এবং ডার্ক থ্রিলার পড়তে যারা পছন্দ করেন,তাদেরকে এই বইটি এক অন্যরকম অনুভূতি দেবে।
Displaying 1 - 30 of 89 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.