হুমায়ূন আহমেদের ৬৪তম জন্মদিন উদ্যাপনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর স্মারকগ্রন্থ। এই বয়সে তাঁর চলে যাওয়ার কথা ছিলো না। কালান্তক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পরেও সবাই যখন আশা করছে যে, তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন আমাদের মধ্যে, তখনই তিনি চলে গেলেন। জীবনে যেমন, মরণেও তেমনি হুমায়ূন আহমেদ অসামান্য হয়ে রইলেন মানুষের হৃদয়-নিংড়ানো ভালোবাসায়, স্বতঃস্ফূর্ত শোকোচ্ছ্বাসে। তাঁর স্মৃতিচারণ করে কিংবা তাঁর সাহিত্যের আলোচনা করে নানা পত্রপত্রিকায় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন কবি ও ছড়াকার, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও সমালোচক, সাংবাদিক ও সম্পাদক, গায়ক ও সুরকার, সংগীত পরিচালক ও টেলিভিশনের প্রযোজক, নাট্যাভিনেতা ও নাট্যপরিচালক, চিকিৎসক ও স্থপতি, সহযোগী ও সহকর্মী, সহপাঠী ও আত্মীয়পরিজন। মূলত এসব লেখাই সংকলিত হয়েছে বর্তমান গ্রন্থে। বেশ কিছু নতুন লেখাও যুক্ত হয়েছে। তাঁকে হারাবার দুঃখ, তাঁর বিশালতার আভাস, তিনি কেমন করে ছুঁয়ে গেলেন আমাদের জীবন, রাঙিয়ে গেলেন, মাতিয়ে গেলেন, তারই পরিচয় এতে তুলে ধরা হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ যে কালজয়ী হবেন, সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ আমাদের নেই। এর কারণ, নিজের কালকে তিনি প্রবলভাবে আলোড়িত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। মানুষের হৃদয়ে তিনি স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। এই সংকলন একইসঙ্গে তাঁর পরিচিতি এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিস্বরূপ।
Anisuzzaman was a Bangladeshi academic of Bengali literature. He was an activist who took part in the Language Movement (1952), participated in Mass Uprising (1969), and took part in the Bangladesh Liberation War (1971).
He was a member of the Planning Commission to the Government of Bangladesh during the Bangladesh liberation war and a member of the National Education Commission set up by the government after liberation. He was inducted as a National Professor by the Government of Bangladesh in 2018.
হুমায়ূন আহমেদ তখন দশম শ্রেণিতে পড়েন। বগুড়া জেলা স্কুলের ছাত্র। রহস্যময় ও অলৌকিক যে কোনো কিছু কিশোর হুমায়ূনকে আকৃষ্ট করত। তার মতো সমমনা দুই-তিনজনকে নিয়ে রীতিমতো ভূত নামানোর জন্য প্ল্যানচেট করতেন। কখনো কখনো করতোয়া নদীর তীরে নীরব ও নির্জন শ্মশানঘাটে প্ল্যানচেট করেছেব হুমায়ূন আহমেদ। এম এ করীম বগুড়া জেলা স্কুলে হুমায়ূন আহমেদের সহপাঠী ছিলেন। তিনি এই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন।
'মাতাল হাওয়া' ছাড়াও 'জোছনা ও জননীর গল্প' উপন্যাসে ষাটের দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বর্ণনা দিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। এই বর্ণনার প্রায় সবটাই সত্য। লেখকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন শহিদ আসাদের ছোটো ভাই এইচ এম মনিরুজ্জামান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া তরুণ হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। যা পড়তে ভালো লাগে।
চার শ পাতার বই হলেও এই স্মারকগ্রন্থে হুমায়ূন আহমেদের লেখালিখির নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী রচনাই বেশি। ব্যক্তি ও কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ কেমন ছিলেন, সেই কৌতূহল সামান্যই নিবৃত্ত হয়। হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ অত্যন্ত সুন্দর ভাবে তার পুত্রকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। এটি সম্ভবত বইয়ের শ্রেষ্ঠ লেখা। এছাড়াও লেখকপত্নী শাওন, ছোটো ভাই আহসান হাবীবের লেখা পড়ে আনন্দ পেয়েছি।
বাংলা কথাসাহিত্যিক জাদুকর হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ স্মারকগ্রন্থ বের হলো না - এই আফসোস রইল।